📄 সুলতান সালাহউদ্দিন এবং এক শত্রুশিশু
মুসলিম এবং খৃষ্টান ক্রুসেডারদের মধ্যে আক্রায় তখন ঘোরতর যুদ্ধ চলছিল। এ সময় একদিন একজন খৃষ্টান মহিলা কাঁদতে কাঁদতে তাঁবু থেকে বেরিয়ে সুলতান সালাহ উদ্দীনের তাঁবুর দিকে ধাবিত হলো। কিন্তু তাঁবুতে পৌঁছার আগেই প্রহরীরা তাকে থামিয়ে দিল। মহিলাটি প্রহরীর প্রতি করুণ আবেদন জানিয়ে বলল, 'আমাকে সুলতানের নিকট নিয়ে চলুন।' প্রহরী মহিলার আবেদনে নরম হয়ে সুলতানের কাছে নিয়ে গেল।
ক্রন্দনরত মহিলাকে সুলতান জিজ্ঞেস করলেন, তার কি হয়েছে। মহিলাটি অশ্রুরুদ্ধ কণ্ঠে বলল, "আমার শিশু সন্তানকে মুসলিম সৈন্যরা ধরে এনেছে।” এ কথা শুনে সুলতান খুব ব্যথিত হলেন এবং শিশুটিকে খুঁজে এনে দেয়ার জন্য তৎক্ষণাৎ নির্দেশ দিলেন। সহজে শিশুটি পাওয়া গেল। সন্তানকে ফেরত পেয়ে মা আনন্দিত হলো। প্রহরীরা তখন সন্তানসহ মহিলাকে খৃষ্টান তাঁবুতে পৌঁছে দিল।
📄 সুলতান মাহমুদ বাতি নিভিয়ে অপরাধীর শিরচ্ছেদ করলেন
সুলতান মাহমুদ ছিলেন পরাক্রমশালী শাসক এবং অতুলনীয় বিত্তবৈভবের মালিক।
কিন্তু শক্তি ও বিত্ত তাঁকে স্বেচ্ছাচারী করে তোলেনি। ন্যায়বিচারকে তিনি ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার উর্ধে স্থান দিতেন।
একবার এক ব্যক্তি সুলতান মাহমুদের কাছে এসে নালিশ করল, তার সুন্দরী স্ত্রীর প্রতি আসক্ত হয়ে সুলতানের ভ্রাতুষ্পুত্র প্রায়ই তার গৃহে হানা দেয় এবং তাকে প্রহার করে বের করে দিয়ে তার স্ত্রীর উপর অবৈধ কামনা চরিতার্থ করে।
অভিযোগ শুনে ক্রোধে সুলতানের চোখ থেকে অশ্রুপাত হতে লাগল। তিনি বললেন, 'আবার যখন সে যাবে আমাকে খবর দিও।'
তিন দিন পর এক রাতে লোকটি ছুটে এসে খবর দিল সুলতানকে। সুলতান একাই তার সাথে ছুটলেন।
গিয়ে দেখলেন, ঘরে একটা মোমবাতি জ্বলছে আর তার ভ্রাতুষ্পুত্র লোকটির স্ত্রীর পাশে ঘুমিয়ে। সুলতান মোমবাতি নিভিয়ে দিয়ে তলোয়ারের এক কোপে তার ভ্রাতুষ্পুত্রের শিরচ্ছেদ করলেন। তারপর সুলতান আলো আনিয়ে দ্রুত এক গ্লাস পানি ঢক ঢক করে পান করে ফেললেন।
লোকটি বিস্ময়ে সুলতানের কাছে জানতে চাইলেন কেন তিনি বাতি নিভিয়ে ছিলেন এবং কেনইবা পানি পানের জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন।
সুলতান বললেন, 'ঐ যুবককে আমি খুব স্নেহ করতাম। ভয় হয়েছিল তার মুখ দেখলে আমি তার প্রতি স্নেহ প্রবণ হয়ে পড়ব। তাই বাতি নিভিয়ে ছিলাম। আর পানি পান করলাম কারণ, তোমার অভিযোগ পেয়ে শপথ করেছিলাম, অপরাধীকে শাস্তি না দিয়ে আমি আহার করবনা। আমি তিন দিন ধরে আহার করিনি।'
📄 সুলতান মাহমুদ মূর্তি বিক্রেতা নয়
সুলতান মাহমুদ সতেরবার ভারতে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। তিনি যেমন জয় করেছিলেন বহু রাজ্য, তেমনি প্রভূত সম্পদও সংগ্রহ করেছিলেন। অনেকেই তাঁকে সম্পদ লোলুপ বলে অভিযুক্ত করেন। কিন্তু সম্পদের জন্যই তিনি অভিযানগুলো পরিচালনা করেছিলেন তা প্রমাণ হয়না।
সোমনাথ মন্দিরের ঘটনা। সোমনাথ জয়ের পর সুলতান মাহমুদ সোমনাথ মন্দিরে প্রবেশ করলেন। বিশাল সোমনাথ মন্দির।
পাঁচশ' নর্তকী, তিনশ' গায়ক এবং মন্দিরে প্রবেশের পূর্বে ভক্তদের মাথা মুন্ডনের জন্যেই ৩০০ নাপিত ছিল এ মন্দিরে।
সুলতান মন্দিরে প্রবেশের পর পাঁচ গজ দীর্ঘ বিশাল সোমনাথ মূর্তির নাক ভেঙে দিলেন এক আঘাতে। তারপর মূর্তিটি গুঁড়িয়ে দিতে উদ্যত হলে ব্রাহ্মণরা প্রস্তাব করল মূর্তিটি না ভাঙলে সুলতানকে তারা প্রচুর স্বর্ণ উপহার দেবে।
সুলতানের কতিপয় কর্মচারীও সুলতানকে বুঝাল, মূর্তি ভেঙে কি লাভ। তার চেয়ে স্বর্ণ পেলে তা দান করে দিলেও প্রচুর পুণ্য হবে।
সুলতান মাহমুদ হাসলেন তাদের প্রস্তাব শুনে। তারপর গম্ভীর কন্ঠে বললেন, 'সুলতান মাহমুদ মূর্তি বিক্রেতা নয়, মূর্তি ধ্বংসকারী।'
মূর্তি ভাঙা হলো। মূর্তির বিশাল পেট থেকে বের হলো প্রচুর হিরা, পদ্মরাগ মণি, অঢেল মুক্তা যার মূল্য ছিলো ব্রাহ্মণদের প্রতিশ্রুত উপহারের চেয়ে বহু বহু গুণ বেশী।
📄 সুলতান মালিক শাহের প্রার্থনা
আফগানিস্তান, পারস্যসহ মধ্য এশিয়ার বিশাল অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত সেলজুক সুলতানদের শাসন।
১০৭২ সাল।
সেলজুক বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ সুলতান মালিক শাহ তখন ক্ষমতায়।
ছোট ভায়ের সাথে বিরোধ চলছিল মালিক শাহের। সিংহাসনের দাবী করে বিদ্রোহ করেছিল তাঁর ছোট ভাই। সে সময়ের একটি ঘটনা।
সেলজুক সুলতান মালিক শাহ একদিন তাউস-এর একটা সমজিদ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। মসজিদ থেকে বের হবার পথে তিনি প্রধান উজির নিজামুল মুলককে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি মসজিদে যে দোয়া করেছেন সেটা কি?'
নিজামুল মুলক বললেন, 'আমি দোয়া করেছি আল্লাহ যাতে আপনাকে আপনার ভাইয়ের উপর বিজয় দান করেন।'
মালিক শাহ বললেন, 'আর আমি কি দোয়া করেছি জানেন?' জিজ্ঞেস করার পর তিনিই উত্তরে বললেন, 'আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে আমি এটুকুই বলেছি, হে আল্লাহ। জনগণের জন্য যার শাসন মঙ্গলকর হবে, তাকেই আপনি শাসন ক্ষমতা দান করুন।'