📄 আবু বকর উমরকে চাইলেন উসামার কাছে
মুসলিম বাহিনী যাত্রা করেছে মু'তা অভিযানে। বাহিনীর সেনাপতি উসামা বিন যায়েদ। উসামা ঘোড়ায় সওয়ার।
বাহিনীকে বিদায় দেয়ার জন্য খলিফা আবু বকর উসামার ঘোড়ার পাশাপাশি হেঁটে চলেছেন।
অস্বস্তিবোধ করছেন উসামা। মহামান্য খলিফাতুর রাসূল (সা) হাঁটবেন আর উসামা তাঁরই সামনে ঘোড়ায় বসে থাকবে।
উসামা খলিফা আবু বকর (রা)-কে বললেন, হে খলিফাতুর রাসূল, আপনি সাওয়ারিতে উঠুন, নয়তো আমি ঘোড়া থেকে নেমে পড়ব। সংগে সংগে আবু বকর (রা) বললেন, 'আল্লাহর কসম, তুমি নিচে নেমনা।' এই কথা আবু বকর (রা) তিন বার উচ্চারণ করলেন।
অথচ এই উসামা আযাদ করা দাস যায়েদের সন্তান। উসামার এই বাহিনীতে উমর ছিলেন এক সাধারণ সৈনিক। উসামার বাহিনীর সাথে উমরও যাচ্ছেন মু'তা অভিযানে।
শেষ মুহূর্তে খলিফা আবু বকরের মনে পড়ল, উমরের মদীনা থেকে অনুপস্থিত থাকা উচিত নয়। তাঁকে খলিফার দরকার হবে। কিন্তু তিনি তো উমর (রা)-কে মদীনায় থাকার নির্দেশ দিতে পারেন না। সেনাপতি উসামা তাঁর একজন সৈনিককে নিয়ে যাবেন না রেখে যাবেন, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ উসামার।
খলিফা আবু বকর উসামাকে নির্দেশ নয় অনুরোধ করলেন, 'যদি আপনি ভাল মনে করেন, তবে অনুগ্রহপূর্বক উমরকে আমার সাহায্যের জন্যে রেখে যান।' ইসলামের এই সাম্য ও গণতন্ত্রের কোন তুলনা নেই পৃথিবীতে।
📄 উমর (রা) মনিব ও চাকরকে একসাথে খাওয়ালেন
মক্কা শরীফের একটি ঘটনা। উমর (রা) তখন মক্কায়।
তিনি পথ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তাঁর চোখ গেল পাশেরই এক বাড়ীতে। বাড়ীর মালিকরা বসে খাচ্ছে আর চাকর-বাকররা পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ক্রুদ্ধ হলেন উমর (রা)। তিনি থমকে দাঁড়ালেন এবং গিয়ে উঠলেন সেই বাড়ীতে। বললেন, "ব্যাপার কি! নিজেদের চাকর-বাকরদের সাথে এই বৈষম্যমূলক ব্যবহার করছ কেন?” বাড়ীর মালিকরা লজ্জিত ও অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল।
চাকর-বাকরদের সাথে এই ব্যবহার জাহেলিয়াত যুগে চলে আসা বহু বছরের অভ্যস। এই অভ্যেস এখনও নির্মূল হয়নি!
উমর (রা) চাকর-বাকরদেরকে ডেকে মনিবদের সাথে খানায় বসিয়ে দিলেন। তারপর আবার ফিরে চললেন আপন গন্তব্যে।
📄 উমর (রা) লোকদের সামনে সা’দকে দোররা কষলেন
মদীনা শরীফ।
ইসলামী সাম্রাজ্যের রাজধানী। খলিফা উমর (রা) লোকদের মধ্যে বায়তুল মালের কিছু অর্থ বন্টন করছেন।
স্বাভাবিকভাবেই বিরাট ভিড় জমে গেছে।
এ সময় সেখানে এলেন সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস। তিনি প্রভাবশালী ও অভিজাত মায়ের সন্তান।
ভিড় দেখার পর অন্যান্যদের মত তাঁর ধৈর্য ধরার দরকার ছিল, কিন্তু তা তিনি করলেন না।
তিনি ভিড় ঠেলে, দু'হাত দিয়ে লোকদের সামনে থেকে সরিয়ে উমরের কাছে গিয়ে হাজির হলেন।
উমর (রা) ব্যাপারটা আগেই লক্ষ্য করেছিলেন।
সুতরাং সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস তাঁর সামনে হাজির হতেই উমর (রা) তাঁর হাতের দোররা কষলেন তাঁর পিঠে। উপস্থিত সবাই দেখল খলিফা একটা দোররা মেরেছেন সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসকে।
দোররা মারার পর হযরত উমর (রা) সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসকে লক্ষ্য করে বললেন, “সবার এবং সবকিছুর উপরে যে আল্লাহর আইন, তা তোমার মনে নেই। আল্লাহর আইনের মুকাবিলায় তোমার কানাকড়িও যে মূল্য নেই, এটা তোমাকে বুঝিয়ে দেয়া প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছিল।”
📄 উমর (রা) জমির মালিক হওয়ার পর
মদীনায় হিজরতের পর উমর (রা) দরিদ্রের জীবন যাপন করতেন। খাইবার যুদ্ধের পর তাঁর ভাগে পড়লো উৎকৃষ্ট এক খণ্ড জমি, যা উমরের জন্যে নিয়ে এলো সচ্ছল জীবনের এক সম্ভাবনা।
জমির মালিকানা পাওয়ার পর উমর (রা) মহানবী (সা)-এর কাছে হাজির হলেন। বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, খাইবারে আমি খানিকটা জমি পেয়েছি। এত মূল্যবান সম্পত্তি আমি কোনদিন পাইনি। এ সম্পর্কে আপনার নির্দেশ কি?'
আল্লাহর রাসূল (সা) উমরের মনোভাব বুঝলেন। তাঁকে বললেন, "যদি তোমার মন চায়, তাহলে আসল জমি নিজের অধিকারে রেখে জমির ফসল দান করে দাও।"
তাই করলেন উমর (রা)। গরীব-দুঃখী ও অভাবী আত্মীয়-স্বজনদের সাহায্য, গোলামদের আজাদ করা ও জনকল্যাণমূলক কাজের জন্যে তিনি তার প্রাপ্ত গোটা সম্পত্তি ওয়াকফ করে দিলেন।
দারিদ্র সচ্ছলতার প্রতি কোনো লোভ উমরের (রা) মধ্যে সৃষ্টি করতে পারেনি।