📄 উপযুক্ত খাজনা আদায়কারী
তখন নবম হিজরী সাল।
মহানবী বিভিন্ন অঞ্চলে যাকাত ও খারাজ আদায়কারী নিয়োগ করছেন। যারা গোত্রে গোত্রে ঘুরে যাকাত ও খারাজ আদায় করে মহানবীর বাইতুলমালে জমা দেবেন।
যাকাত ও খারাজ আদায়কারী নিয়োগের লক্ষ্যে মহানবী (সা) ডেকে পাঠালেন খাজরাজ গোত্রের বনু সালেমের নব্য যুবক উবাদাহ বিন সামিতকে।
দীর্ঘদেহী ও দোহারা গড়নের উবাদাহ হাজির হলেন মহানবীর দরবারে।
মহানবী (সা) তাঁকে পদ ও দায়িত্বের কথা বুঝিয়ে বললেন, “নিজের দায়িত্ব পালন-কালে আল্লাহকে ভয় করবে। কিয়ামতের দিন কোন চতুষ্পদ জন্তুও যেন তোমার বিরুদ্ধে কোন ফরিয়াদ নিয়ে না আসে।”
শুনে হযরত উবাদাহ (রা) বিন সামিত কেঁদে ফেললেন। বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোন। আল্লাহর কসম, দু'জন মানুষের শাসক বা রাজস্ব আদায়কারী হওয়ারও ইচ্ছা আমার নেই।”
কেউ কোন পদ চাইলে রাসূলুল্লাহ সেই পদ তাকে দিতেন না।
উবাদাহর কথায় তিনি খুশী হলেন। এই পদের জন্যে তাকেই উপযুক্ত মনে করলেন।
📄 উমর (রা) নিজের অহংকারকে শাস্তি দিলেন
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) তখন আমীরুল মুমিনীন, অর্ধ পৃথিবীর শাসক। ইনসাফের ব্যাপারে আপোষহীন উমারের (রা) শাসনদণ্ডকে ভয় না করেন এমন মানুষ নেই।
একদিন দেখা গেল সেই উমর ইবনুল খাত্তাব ভারি একটি পানির মশক ঘাড়ে নিয়ে হাঁটছেন।
বিস্মিত, বিক্ষুব্ধ তাঁর পুত্র তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "কেন আপনি এরূপ করছেন?"
উমর (রা) বললেন, "আমার মন অহংকার ও আত্মগরিমায় লিপ্ত হয়েছিল, তাই ওকে আমি শায়েস্তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
উমর (রা) ন্যায়দণ্ডের রক্ষায় মানুষের ব্যাপারে যেমন কঠোর ছিলেন, তেমনি কঠোর ছিলেন নিজের ব্যাপারেও।
📄 আবু বকর উমরকে চাইলেন উসামার কাছে
মুসলিম বাহিনী যাত্রা করেছে মু'তা অভিযানে। বাহিনীর সেনাপতি উসামা বিন যায়েদ। উসামা ঘোড়ায় সওয়ার।
বাহিনীকে বিদায় দেয়ার জন্য খলিফা আবু বকর উসামার ঘোড়ার পাশাপাশি হেঁটে চলেছেন।
অস্বস্তিবোধ করছেন উসামা। মহামান্য খলিফাতুর রাসূল (সা) হাঁটবেন আর উসামা তাঁরই সামনে ঘোড়ায় বসে থাকবে।
উসামা খলিফা আবু বকর (রা)-কে বললেন, হে খলিফাতুর রাসূল, আপনি সাওয়ারিতে উঠুন, নয়তো আমি ঘোড়া থেকে নেমে পড়ব। সংগে সংগে আবু বকর (রা) বললেন, 'আল্লাহর কসম, তুমি নিচে নেমনা।' এই কথা আবু বকর (রা) তিন বার উচ্চারণ করলেন।
অথচ এই উসামা আযাদ করা দাস যায়েদের সন্তান। উসামার এই বাহিনীতে উমর ছিলেন এক সাধারণ সৈনিক। উসামার বাহিনীর সাথে উমরও যাচ্ছেন মু'তা অভিযানে।
শেষ মুহূর্তে খলিফা আবু বকরের মনে পড়ল, উমরের মদীনা থেকে অনুপস্থিত থাকা উচিত নয়। তাঁকে খলিফার দরকার হবে। কিন্তু তিনি তো উমর (রা)-কে মদীনায় থাকার নির্দেশ দিতে পারেন না। সেনাপতি উসামা তাঁর একজন সৈনিককে নিয়ে যাবেন না রেখে যাবেন, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ উসামার।
খলিফা আবু বকর উসামাকে নির্দেশ নয় অনুরোধ করলেন, 'যদি আপনি ভাল মনে করেন, তবে অনুগ্রহপূর্বক উমরকে আমার সাহায্যের জন্যে রেখে যান।' ইসলামের এই সাম্য ও গণতন্ত্রের কোন তুলনা নেই পৃথিবীতে।
📄 উমর (রা) মনিব ও চাকরকে একসাথে খাওয়ালেন
মক্কা শরীফের একটি ঘটনা। উমর (রা) তখন মক্কায়।
তিনি পথ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তাঁর চোখ গেল পাশেরই এক বাড়ীতে। বাড়ীর মালিকরা বসে খাচ্ছে আর চাকর-বাকররা পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ক্রুদ্ধ হলেন উমর (রা)। তিনি থমকে দাঁড়ালেন এবং গিয়ে উঠলেন সেই বাড়ীতে। বললেন, "ব্যাপার কি! নিজেদের চাকর-বাকরদের সাথে এই বৈষম্যমূলক ব্যবহার করছ কেন?” বাড়ীর মালিকরা লজ্জিত ও অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল।
চাকর-বাকরদের সাথে এই ব্যবহার জাহেলিয়াত যুগে চলে আসা বহু বছরের অভ্যস। এই অভ্যেস এখনও নির্মূল হয়নি!
উমর (রা) চাকর-বাকরদেরকে ডেকে মনিবদের সাথে খানায় বসিয়ে দিলেন। তারপর আবার ফিরে চললেন আপন গন্তব্যে।