📄 উমার (রা) প্রাসাদ প্রত্যাখ্যান করলেন
অর্ধেক জাহানের পরাক্রমশালী শাসক উমার (রা) গেছেন জেরুসালেমে। পরাজিত রোমান গভর্ণর তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন রোমান নগরী। এর আগেই জেরুসালেম নগরীর পতন ঘটে, মুসলিম বাহিনীর হাতে। রোমান গভর্ণর মহা আড়ম্বরে স্বাগত জানিয়ে উমার (রা)কে নিয়ে গেলেন নগরীর ভেতরে।
রোমান গভর্ণর সুন্দর সুসজ্জিত বিলাসবহুল প্রাসাদে খলীফার থাকার ব্যবস্থা করলেন। হযরত উমার (রা) সবিনয়ে এই ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করে বললেন, "আমার ভাইদের সাথে সাধারণ তাঁবুতে থাকাই আমার জন্য বেশী আরামদায়ক হবে।”
ইসলামের শাসক ও নেতারা এমনিই ছিলেন। তাঁরা ছিলেন সাধারণের সাথে একাত্ম। আলাদা প্রাসাদ নয়, সাধারণের সাথেই তাঁরা বাস করতেন。
📄 ওয়াদা পালনের অনুপম নমুনা
মুসলমানরা আদর্শ জাতি। নীতি-নিষ্ঠতা এই জাতির প্রাণ।
ওয়াদা পালন ও শপথ রক্ষা মুসলমানদের অনঢ় একটা নীতি। এমনকি কোন চুক্তি বা ওয়াদা পরোক্ষ বা প্রকৃত দায়িত্বশীলের পক্ষ থেকে না হলেও তাকে মুসলমানরা সম্মান দেখায়।
খলীফা উমার (রা) এর শাসনকালের একটি ঘটনা। মুসলিম বাহিনী পারস্যের শুহরিয়াজ নামক একটি শহর অবরোধ করে। নগরটির পতন নিশ্চিত হয়ে ওঠে। ঠিক সেই সময় মুসলিম বাহিনীর একজন গোলাম শহরবাসীর নামে নিরাপত্তা সনদ লিখে তীরের সাথে বেঁধে শহরে ছুঁড়ে দেয়।
পরদিন যখন মুসলিম বাহিনী আক্রমণ চালায়, তখন শহরবাসী দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ে এবং বলে, 'একজন মুসলিম আমাদের নিরাপত্তা দিয়েছে, এখন তোমরা কি জন্য যুদ্ধ করছ?' নিরাপত্তা সনদটি পড়ে দেখা গেল একজন গোলামের লিখা। এ সম্পর্কে খলীফা উমারের (রা) মতামত চেয়ে তাঁকে জানানো হলো যে, 'নিরাপত্তা সনদটি গ্রহণযোগ্য কিনা?' জবাবে খলীফা লিখলেন, 'সনদটি নিরাপত্তার বৈধ দলিল, শহরবাসীকে নিরাপত্তা দিতে হবে।'
📄 আলী (রা) পথিককে পাশাপাশি হাঁটতে বাধ্য করলেন
চতুর্থ খলীফা হযরত আলী (রা)। তাঁকে জ্ঞানের দরওয়াজা বলা হতো। সরলতার তিনি ছিলেন মূর্ত প্রতীক।
খলীফা হওয়ার পরও সাধারণ মানুষ এবং তাঁর মধ্যে কোন পার্থক্যই তিনি বরদাশত করতেন না।
একদিনের ঘটনা। খলীফা আলী (রা) প্রায়ই জনগণের অবস্থা স্বচক্ষে দেখার জন্য বাজারে যেতেন। একদিন তিনি বাজারে যাচ্ছেন। পথিমধ্যে এক ব্যক্তি. তাঁকে দেখেই তাঁর সম্মানার্থে থেমে যায় এবং তাঁর পিছু পিছু চলতে থাকে।
খলীফা বললেন। “আমার পাশাপাশি চলো।"
"আমীরুল মুমিনীন! আপনার মর্যাদা ও সম্মানার্থে পিছে হাঁটছি"—লোকটি বলল।
খলীফা বললেন, "সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের এ পন্থা ঠিক নয়। এতে শাসকদের জন্যে ফিতনা ও মুমিনদের জন্য অপমান রয়েছে।” বলে তিনি তাকে পাশাপাশি চলতে বাধ্য করলেন।
📄 আলীর (রা) কাছে একটি প্রশ্ন দশটি উত্তর
একদা ১০ জন লোক হযরত আলীর (রা) নিকট হাযির হলো এবং বলল, 'আমরা আপনাকে একটা প্রশ্ন করার অনুমতি চাচ্ছি।' হযরত আলী (রা) বললেন, 'স্বাধীনভাবে আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন।'
তারা প্রশ্ন করল, "জ্ঞান ও সম্পদের মধ্যে কোনটা ভাল এবং কেন ভাল? অনুগ্রহ করে আমাদের প্রত্যেকের জন্যে একটি করে জবাব দিন।” জবাবে হযরত আলী (রা) নিম্নলিখিত ১০টি উত্তর দিলেন:
(১) জ্ঞান হলো মহানবীর (সা) নীতি, আর সম্পদ ফেরাউনের উত্তরাধিকার। সুতরাং জ্ঞান সম্পদের চেয়ে উত্তম।
(২) তোমাকে সম্পদ পাহারা দিতে হয়, কিন্তু জ্ঞান তোমাকে পাহারা দেয়। সুতরাং জ্ঞান উত্তম।
(৩) একজন সম্পদশালীর যেখানে শত্রু থাকে অনেক, সেখানে একজন জ্ঞানীর অনেক বন্ধু থাকে। অতএব জ্ঞান উত্তম।
(৪) জ্ঞান উত্তম, কারণ এটা বিতরণে বেড়ে যায়, অথচ সম্পদ বিতরণে কমে যায়।
(৫) জ্ঞান উত্তম, কারণ একজন জ্ঞানী লোক দানশীল হয়, অন্যদিকে সম্পদশালী ব্যক্তি হয় কৃপণ।
(৬) জ্ঞান চুরি করা যায় না, কিন্তু সম্পদ চুরি হতে পারে। অতএব জ্ঞান উত্তম।
(৭) সময় জ্ঞানের কোন ক্ষতি করে না, কিন্তু সম্পদ সময়ের পরিবর্তনে ক্ষয় পেয়ে যায়, নষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং জ্ঞান উত্তম।
(৮) জ্ঞান সীমাহীন, কিন্তু সম্পদ সীমাবদ্ধ এবং গোণা যায়। অতএব জ্ঞান উত্তম।
(৯) জ্ঞান হৃদয়-মনকে জ্যোতির্ময় করে, কিন্তু সম্পদ একে মসিলিপ্ত করার মত। সুতরাং জ্ঞান উত্তম।
(১০) জ্ঞান উত্তম। কারণ জ্ঞান মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ করে যেমন আমাদের মহানবী (সা) আল্লাহকে বলেছেন: "আমরা আপনার উপাসনা করি, আমরা আপনারই দাস।” অন্যদিকে সম্পদ ফেরাউন ও নমরুদকে বিপদগ্রস্ত করেছে। যারা দাবী করে যে তারাই ইলাহ।'