📘 আমরা সেই জাতি > 📄 দূত উটের পিঠে, খলীফা পায়ে হেঁটে

📄 দূত উটের পিঠে, খলীফা পায়ে হেঁটে


৬৩৫ খৃষ্টাব্দ। তখন কাদেসিয়ায় যুদ্ধ চলছিল। খলীফা উমার (রা) উদ্বিগ্ন ছিলেন ফলাফল জানার জন্যে। সেদিন মদীনার বাইরে তিনি পায়চারি করছিলেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কোন দূতের প্রতীক্ষায়।
এমন সময় তিনি দেখলেন অনেক দূরে ধূলি উড়িয়ে একজন ঘোড়সওয়ার ছুটে আসছেন মদীনার দিকে। ঘোড়সওয়ার কাছে আসতেই খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারলেন কাদেসিয়া থেকে সেনাপতি সা'দ তাকে পাঠিয়েছেন। খলীফার কাছে যুদ্ধের বিজয়বার্তা তিনি বয়ে এনেছেন।
দূত সাধারণ পোশাক পরিহিত খলীফাকে চিনল না। খলীফা তাঁর উটের পাশ ঘেঁষে হেঁটে হেঁটে মদীনার দিকে চললেন। দূত উটের পিঠে আর খলীফা উটের পাশে পায়ে হেঁটে। সামান্য অহমিকাও খলীফার মধ্যে নেই।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 উমার (রা) প্রাসাদ প্রত্যাখ্যান করলেন

📄 উমার (রা) প্রাসাদ প্রত্যাখ্যান করলেন


অর্ধেক জাহানের পরাক্রমশালী শাসক উমার (রা) গেছেন জেরুসালেমে। পরাজিত রোমান গভর্ণর তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন রোমান নগরী। এর আগেই জেরুসালেম নগরীর পতন ঘটে, মুসলিম বাহিনীর হাতে। রোমান গভর্ণর মহা আড়ম্বরে স্বাগত জানিয়ে উমার (রা)কে নিয়ে গেলেন নগরীর ভেতরে।
রোমান গভর্ণর সুন্দর সুসজ্জিত বিলাসবহুল প্রাসাদে খলীফার থাকার ব্যবস্থা করলেন। হযরত উমার (রা) সবিনয়ে এই ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করে বললেন, "আমার ভাইদের সাথে সাধারণ তাঁবুতে থাকাই আমার জন্য বেশী আরামদায়ক হবে।”
ইসলামের শাসক ও নেতারা এমনিই ছিলেন। তাঁরা ছিলেন সাধারণের সাথে একাত্ম। আলাদা প্রাসাদ নয়, সাধারণের সাথেই তাঁরা বাস করতেন。

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 ওয়াদা পালনের অনুপম নমুনা

📄 ওয়াদা পালনের অনুপম নমুনা


মুসলমানরা আদর্শ জাতি। নীতি-নিষ্ঠতা এই জাতির প্রাণ।
ওয়াদা পালন ও শপথ রক্ষা মুসলমানদের অনঢ় একটা নীতি। এমনকি কোন চুক্তি বা ওয়াদা পরোক্ষ বা প্রকৃত দায়িত্বশীলের পক্ষ থেকে না হলেও তাকে মুসলমানরা সম্মান দেখায়।
খলীফা উমার (রা) এর শাসনকালের একটি ঘটনা। মুসলিম বাহিনী পারস্যের শুহরিয়াজ নামক একটি শহর অবরোধ করে। নগরটির পতন নিশ্চিত হয়ে ওঠে। ঠিক সেই সময় মুসলিম বাহিনীর একজন গোলাম শহরবাসীর নামে নিরাপত্তা সনদ লিখে তীরের সাথে বেঁধে শহরে ছুঁড়ে দেয়।
পরদিন যখন মুসলিম বাহিনী আক্রমণ চালায়, তখন শহরবাসী দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ে এবং বলে, 'একজন মুসলিম আমাদের নিরাপত্তা দিয়েছে, এখন তোমরা কি জন্য যুদ্ধ করছ?' নিরাপত্তা সনদটি পড়ে দেখা গেল একজন গোলামের লিখা। এ সম্পর্কে খলীফা উমারের (রা) মতামত চেয়ে তাঁকে জানানো হলো যে, 'নিরাপত্তা সনদটি গ্রহণযোগ্য কিনা?' জবাবে খলীফা লিখলেন, 'সনদটি নিরাপত্তার বৈধ দলিল, শহরবাসীকে নিরাপত্তা দিতে হবে।'

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 আলী (রা) পথিককে পাশাপাশি হাঁটতে বাধ্য করলেন

📄 আলী (রা) পথিককে পাশাপাশি হাঁটতে বাধ্য করলেন


চতুর্থ খলীফা হযরত আলী (রা)। তাঁকে জ্ঞানের দরওয়াজা বলা হতো। সরলতার তিনি ছিলেন মূর্ত প্রতীক।
খলীফা হওয়ার পরও সাধারণ মানুষ এবং তাঁর মধ্যে কোন পার্থক্যই তিনি বরদাশত করতেন না।
একদিনের ঘটনা। খলীফা আলী (রা) প্রায়ই জনগণের অবস্থা স্বচক্ষে দেখার জন্য বাজারে যেতেন। একদিন তিনি বাজারে যাচ্ছেন। পথিমধ্যে এক ব্যক্তি. তাঁকে দেখেই তাঁর সম্মানার্থে থেমে যায় এবং তাঁর পিছু পিছু চলতে থাকে।
খলীফা বললেন। “আমার পাশাপাশি চলো।"
"আমীরুল মুমিনীন! আপনার মর্যাদা ও সম্মানার্থে পিছে হাঁটছি"—লোকটি বলল।
খলীফা বললেন, "সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের এ পন্থা ঠিক নয়। এতে শাসকদের জন্যে ফিতনা ও মুমিনদের জন্য অপমান রয়েছে।” বলে তিনি তাকে পাশাপাশি চলতে বাধ্য করলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00