📄 গভর্ণরদের প্রতি উমার (রা)
প্রাদেশিক গভর্ণরদের প্রতি খলীফা উমার বলেন :
“হে লোকেরা! আল্লাহর নাফরমানীর কাজে আনুগত্যের দাবী করার অধিকার কারো নেই। এমন ব্যক্তির আনুগত্য করা কিছুতেই বৈধ নয়, যে আল্লাহর নাফরমানীমূলক কাজের নির্দেশ দেয়। একজনকে অপর জনের উপর যুগ্ম করার কোন সুযোগ আমি দেবো না। কেউ যদি এমনটি করে তবে তার মুখমণ্ডল পদাঘাতে ধূলোমলিন করে ছাড়বো। যাতে করে সে সঠিক পথ অবলম্বনে বাধ্য হয়। ভালো করে শুনে নাও, আমি তোমাদের যালেম ও জাববার বানিয়ে পাঠাইনি। তোমাদের পাঠিয়েছি জনগণের হেদায়েত লাভের পথপ্রদর্শক হিসেবে। জনগণ যাতে তোমাদের দ্বারা স্বঠিক পথের সন্ধান লাভ করে। তোমরা মহানুভবতার সাথে জনগণের হক আদায় করবে। তাদের উপর অত্যাচার করবে না। তাদের প্রশংসায়ও মুখরিত হবে না, যাতে তোমাদের সাথে তাদের বিশেষ সম্পর্ক গড়ে উঠে। তোমাদের দুয়ার তাদের জন্য বন্ধ রাখবে না... যার ফলে শক্তিমানেরা দুর্বলদের উপর প্রভাব বিস্তারে সুযোগ পায়। নিজেকে তাদের উপর অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের প্রতি যুগ্ম করো না। অজ্ঞতা ও কঠোরতার আচরণ তাদের সাথে করবে না। তাদের দ্বারা কাফিরদের সঙ্গে লড়াই করবে কিন্তু সামর্থের চেয়ে বেশী বোঝা তাদের উপর চাপাবে না, যা তাদের ক্লান্তিতে অবশ করে দেবে। হে মুসলামানগণ, তোমরা সাক্ষী থাকো, আমি গভর্ণরদের শুধু এ জন্যে পাঠাচ্ছি, যেনো তারা শিক্ষা দেয়, গনীমতের মাল বন্টন করে, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করে, জনগণের মুকাদ্দামার ফায়সালা করে এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা যেনো আমার সামনে উপস্থাপন করে।”
📄 বড় উমারের ছোট অতীতকে স্মরণ করা
"এমন এক সময় ছিল আমার জীবনে, যখন আমি খালাম্মার ছাগল চরাতাম। পরিবর্তে তিনি আমাকে দিতেন মুষ্টিতে করে খেজুর। আর আজ সেই আমি এই অবস্থায় উপনীত হয়েছি।” একদিন মসজিদের মিম্বরে উঠে হযরত উমার (রা) শুধু একথা কয়টি বলেই নেমে পড়লেন।
ঐ কথাগুলো এবং এই ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে সবাই অবাক হলেন। আবদুর রহমান ইবন আউফ বলেই ফেললেন, "আমীরুল মুমিনীন, এর দ্বারা তো আপনি লোকদের সামনে নিজেকে ছোট করলেন।"
হযরত উমার (রা) বললেন, "ঘটনা হলো, একাকীত্বের সময় আমার মনে একথা জেগেছিল যে, তুমি আমীরুল মুমিনীন, তোমার চেয়ে বড় কে হতে পারে। তাই আমি প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করে দিলাম যেন ভবিষ্যতে এমন কথা মনে আর না জাগে।"
📄 খলীফার ছেলের বিস্ময়কর বিয়ে
মদীনার এক পল্লী। তখন রাত।
খলীফা উমার (রা) নাগরিকদের অবস্থা জানার জন্যে মদীনার রাস্তায় ঘুরছিলেন। হঠাৎ এক বাড়ীতে এক বৃদ্ধা ও তাঁর কন্যার কথোপকথন শুনে দাঁড়ালেন। কান পাতলেন তিনি। বৃদ্ধা মেয়েকে বলছেন, "মা, দুধে পানি মিশিয়ে বিক্রি করলে হয় না? তাহলে আমাদের অবস্থা আরও সচ্ছল হয়।”
কন্যা তার উত্তরে বলল, "তা কি করে হয়, মা। খলীফার হুকুম, কেউ দুধে পানি মেশাতে পারবে না।”
বৃদ্ধা বলল, "হোক না খলীফার আদেশ, কেউ তো আর দেখছে না।”
কন্যা প্রতিবাদ করে বলল, "না মা তা হয় না। প্রত্যেক বিশ্বাসী মুসলমানের কর্তব্য খলীফার আদেশ মেনে চলা। খলীফা না দেখতে পান কিন্তু আল্লাহ তো সর্বব্যাপী, তার চোখে ধূলো দেব কি করে?"
খলীফা উমার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব কথা শুনলেন। খলীফা উমার (রা) বাড়ীতে ফিরে এলেন।
তিনি ঘটনাটা ভুলতে পারলেন না। ভাবলেন, অজানা ঐ মেয়েটিকে কি পুরস্কার দেয়া যায়। অনেক ভেবে একটা সিদ্ধান্ত নিলেন।
পরদিন দরবারে এসে খলীফা সেই অজানা মেয়েটিকে ডাকলেন। আহুত হয়ে মা ও মেয়ে ভীতত্রস্ত কম্পিত পদে খলীফার দরবারে এসে উপস্থিত হলো।
তারা উপস্থিত হলে খলীফা তাঁর পুত্রদের ডাকলেন। পুত্রদের নিকট গত রাতের সমস্ত বিবরণ দিয়ে তিনি তাদের আহবান করে বললেন, "কে রাযী হবে এই কন্যাকে গ্রহণ করতে? এর চেয়ে উপযুক্ত কন্যা আর আমি খুঁজে পাইনি।”
পুত্রদের একজন তৎক্ষণাৎ রাযী হলো। কন্যাও সম্মতি দিল। খলীফার ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে গেল মেয়েটির।
📄 রোমক সৈন্যরা পাখির ঝাঁকের বেশী কিছু নয়
সম্রাট হিরাক্লিয়াসের দামেস্ক নগরী। সম্রাটের সেনাপতি ক্লিভাস অগণ্য সৈন্য নিয়ে অবস্থান করছেন দুর্ভেদ্য দুর্গ- নগরী দামেস্কে।
সেনাপতি ক্লিভাস সৈন্য সংখ্যার অহংকারে অন্ধ। জানবাজ মুসলিম বাহিনী নিয়ে সেনাপতি খালিদ অবরোধ করেছেন দামেস্ক নগরী।
প্রথা অনুসারে সেনাপতি খালিদ ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গেলেন ক্লিভাসের দরবারে।
সম্রাট হিরাক্লিয়াসের শক্তিমদ-মত্ত সেনাপতি ক্লিভাস। তার দো-ভাষী জারজিস-এর মাধ্যমে সে বিশ্ব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ বীর সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদকে নানা ভয়-ভীতি দেখাতে লাগল।
খালিদ এসেছেন দামেস্ক জয় করতে। দো-ভাষীর সব কথা শুনে বীরশ্রেষ্ঠ খালিদ বললেন, 'আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, তোমাদেরকে আমরা সেইসব ক্ষুদ্র পাখির ঝাঁকের মতো মনে করি, শিকারীরা যাদের জাল পেতে ধরে খায়। শিকারী কোন দিনই পাখির সংখ্যাধিক্যে ঘাবড়ায় না বরং তাতে শিকারী আরো খুশী হয়। চতুর্দিকে জালের বেড়া দিয়ে সে অনায়াসেই ধরে ফেলে। হে জারজিস, তুমি জেনে রাখ, আমার সৈন্যগণ আল্লাহর পথে জিহাদে নেমেছে। তারা মৃত্যুকে মনে করে নিয়ামত। সেই নিয়ামতের জন্য তারা কতো ব্যাকুল তা স্বচক্ষে দেখতে পাবে। তারা এমন মৃত্যুর মাঝেই অমর জীবনের সাক্ষাৎ পায়। শহীদ হওয়ার সিদ্ধান্ত যাদের, তাদের কাছে বেঁচে থাকা একটা আযাব। যাও তুমি তোমার সম্রাটকে এ কথা বলে দাও।'