📘 আমরা সেই জাতি > 📄 বিলাল (রা)-এর ঘটকালি

📄 বিলাল (রা)-এর ঘটকালি


বিলাল (রা)-এর ভাই আবু রুয়াইহা আশিয়ানী।
ইয়ামেনি এক পরিবারে তিনি বিয়ে করার ইচ্ছা করলেন।
তিনি ধরলেন তাঁর ভাই বিলালকে (রা) তাঁর বিয়ের পয়গাম পৌঁছাবার জন্যে।
ভাইয়ের অনুরোধে রাজী হলেন বিলাল (রা)।
তিনি ভাইয়ের বিয়ের পয়গাম নিয়ে গেলেন সেই ইয়ামেনি পরিবারে। তিনি গিয়ে বললেন, আমি বিলাল বিন রাবাহ, আবু রুয়াইয়া আমার ভাই। তাঁর ধর্ম ও চরিত্র দুইই খারাপ। আপনাদের ইচ্ছা হয় তাঁর সাথে আত্মীয়তা করুন, না হয় করবেন না।
বিলাল (রা) ভাইয়ের পয়গাম নিয়ে গিয়েও ভাইয়ের দোষ গোপন করলেন না। অথচ কথাবার্তার মাধ্যম বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এই দোষগুলো প্রকাশ করা তাঁর জন্যে স্বাভাবিক ছিল না।
বিলাল (রা)-এর এই স্পষ্টবাদিতা ও সততায় মুগ্ধ হলো কনে পক্ষ। তারা বলল, এ রকম একজন সত্যবাদী লোক তাদের মেয়ের বিয়ের পয়গাম এনেছে, এটা তাদের সৌভাগ্য, গৌরবের বিষয়। তারা বিয়ের প্রস্তাবে রাজী হয়ে গেল।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 সা’দ জিহাদের ডাক শুনে বিয়ের কথা ভুলে গেলেন

📄 সা’দ জিহাদের ডাক শুনে বিয়ের কথা ভুলে গেলেন


হযরত সা'দ। কোন মেয়েই তাকে বিয়ে করতে রাজী হয় না। হয়ত তাঁর প্রচুর অর্থ বা দৈহিক সৌন্দর্য ছিল না। অবশেষে তিনি নবীর (সা) শরণাপন্ন হলেন। নবী (সা) তাঁর বিয়ে ঠিক করে দিলেন। মনের আনন্দে সা'দ ছুটে গেলেন বাজারে যথাশক্তি অর্থ ব্যয়ে বিয়ের জিনিসপত্র কিনতে। বাজারে গিয়েই সা'দ শুনতে পেলেন 'জিহাদ,' জিহাদে কে যোগ দেবে, সত্যের পথে, আল্লাহর পথে কে প্রাণ দেবে। সা'দ এই আহবান শুনলেন। বিবাহিত জীবনের সকল স্বপ্নসাধ তাঁর মুহূর্তে ভেঙ্গে গেল। জিহাদের আহবান এসেছে- সত্যের জন্য প্রাণ দিতে ডাক এসেছে- সা'দ অধীর হয়ে উঠলেন। বিয়ের জিনিসপত্র না কিনে তিনি খরিদ করলেন একটি ঘোড়া, বর্শা ও একটি সুদীর্ঘ তরবারি। ছুটে চললেন যুদ্ধক্ষেত্রে। অসীম সাহস, উৎসাহ ও বীর্যবত্তা দেখিয়ে সা'দ যুদ্ধ করে শহীদ হলেন। যে সা'দ চেয়েছিলেন বিবাহের রাতে কনেকে যৌতুক দেবেন, আনন্দের প্রীতি উপহার দেবেন, সেই সা'দ সূর্যাস্তের পূর্বেই আল্লাহকে তাঁর জীবন উপহার দিলেন- এক অপূর্ব যৌতুক।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 উমায়ের (রা) যুদ্ধ রেখে খেজুর খেলেন না

📄 উমায়ের (রা) যুদ্ধ রেখে খেজুর খেলেন না


বদরের যুদ্ধে নবী করীম (সা) একটি তাঁবুতে কিছুক্ষণ বিশ্রাম শেষে বাইরে এসে বললেন, 'উঠ এবং আসমান যমীনের চাইতে বড় এবং মুত্তাকীদের জন্যে তৈরী জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও।'
হযরত উমায়ের ইবনুল হাম্মাম এই কথা শুনে বলে উঠলেন, বাঃ বাঃ! নবী করীম (সা) বললেন, 'তুমি তাদের একজন।'
এরপর সাহাবী উমায়ের (রা) ঝুলি থেকে খেজুর বের করে খেতে লাগলেন। কিন্তু পর মুহূর্তেই বলতে লাগলেন, 'খেজুর খাওয়ার জন্যে অপেক্ষা! হাতে তো অনেক খেজুর রয়েছে, এতক্ষণ কে অপেক্ষা করবে?' এই বলে উমায়ের খেজুরগুলো ফেলে দিয়ে শত্রুর মধ্যে ঢুকে পড়লেন এবং যে পর্যন্ত না শহীদ হলেন সে পর্যন্ত অনবরত অসি চালনা করলেন।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 ওয়াহাবের আমল দেখে উমার (রা) ঈর্ষান্বিত হলেন

📄 ওয়াহাবের আমল দেখে উমার (রা) ঈর্ষান্বিত হলেন


ওয়াহাব ইবনে কাবুস (রা) একজন সাহাবী। তিনি একটি গ্রামে বাস করতেন এবং বকরি চরাতেন।
একদিন তিনি নিজের ভ্রাতুষ্পুত্রের ছাগলের সাথে নিজের ছাগলগুলো বেঁধে দিয়ে ছাগলগুলো ঐখানে ফেলে মদীনা শরীফ চলে গেলেন। সেখানে নবী করীম (সা) কে সন্ধান করে জানতে পারলেন, নবী করীম (সা) উহুদের যুদ্ধে চলে গেছেন। তিনি অতি দ্রুত গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে হাযির হলেন।
তিনি পৌঁছার পরই একদল কাফির নবী করীম (সা) কে আক্রমণ করল। হযরত ওয়াহাব (রা) তখন ক্ষিপ্রতার সাথে এবং অমিতবিক্রমে তরবারি চালাতে লাগলেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে শত্রুদের হটিয়ে দিলেন। একটু পর আরেক দল নবী করীম (সা) কে আক্রমণ করল। এবারও হযরত ওয়াহাব শত্রুদের হটিয়ে দিলেন। এবার তৃতীয় দল আক্রমণ করল। নবী করীম (সা) তখন হযরত ওয়াহাবকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন। বলার সাথে সাথে হযরত ওয়াহাব শত্রু দলটির উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। কিন্তু শ্রান্তক্লান্ত বীর এবার শহীদ হয়ে গেলেন।
সা'আদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস বলেন যে, ওয়াহাব (রা) সেদিন যে বীরত্ব প্রদর্শন করেছেন, কোন যোদ্ধাকে তিনি কখনও অমন সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন করতে দেখেননি।
ওয়াহাবের শাহাদাতের পর নবী করীম (সা) তাঁর মাথার কাছে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আমি তোমার উপর সন্তুষ্ট, আল্লাহও তোমার উপর সন্তুষ্ট হোন।
এরপর নবী করীম (সা) সাংঘাতিকভাবে আহত হয়ে থাকলেও নিজের পবিত্র হাতে ওয়াহাবকে দাফন করলেন। হযরত উমার (রা) বলেন, কারো আমল দেখে আমি কখনও ঈর্ষান্বিত হইনি। কিন্তু ওয়াহাবের আমল দেখে আমি বাস্তবিকই ঈর্ষান্বিত হয়েছিলাম। এমন আমলনামা নিয়ে যদি আল্লাহর নিকট যেতে পারতাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00