📄 ওহোদ গিরিপথের দৃষ্টান্ত
ওহোদ যুদ্ধের এক মহা সন্ধিক্ষণ। মুসলিম বাহিনীর জয় বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। মুসলিম বাহিনীর পেছনে ওহোদ পাহাড়ের এক গলিপথে মহানবী (সা) ৫০ জনের একটি ক্ষুদ্র দলকে পাহারায় রেখেছিলেন। তাদের উপর নির্দেশ ছিল, তাদের শরীরের গোস্ত পাখিরা ঠুকরে যদিও খায় এবং রণাঙ্গনের মুসলিম সৈন্য সবাই যদি মরেও যায় তবু তারা যেন নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত গলিপথ ত্যাগ না করে। সুদক্ষ সেনাপতি মহানবী (সা) নিশ্চিতই বুঝেছিলেন যে, মুসলিম বাহিনীকে পেছন থেকে আক্রমণের জন্য মক্কার মুশরিক বাহিনী অবশ্যই কিছু লোক এ গলিপথের পেছনে রাখবে।
যুদ্ধ জয়ের আনন্দে পাহাড়ের এই গলিপথে মোতায়েন সৈন্যদের অধিকাংশ গলিপথ ত্যাগ করে শত্রুমুক্ত রণক্ষেত্রের দিকে ছুটতে শুরু করেছিল।
মোতায়েন এই ক্ষুদ্র দলের সেনাপতি আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের প্রাণপণ চেষ্টা করলেন মহানবীর (সা) আদেশ স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওদের নিবৃত্ত করতে। 'আমাদের সম্পূর্ণ জয় হয়েছে, এখন এখানে আর বসে থাকব কেন'- এই যুক্তি তুলে তারা দলনেতা আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের নিষেধ উপেক্ষা করল।
কিন্তু আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের কয়েকজন সাথী নিয়ে মহানবী (সা) নির্দেশিত স্থান থেকে এক ইঞ্চি পরিমাণও নড়লেন না।
পাহাড়ের সেই গলিপথে খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে পাহাড়ের পেছনে ওত পেতে থাকা মুশরিক সৈন্যের দু'শ' অশ্বারোহীর একটা বাহিনী এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের এবং তাঁর কয়েকজন সাথীর উপর। তাঁরা কয়েকজন প্রথমে তীর ছুড়ে, তারপর তলোয়ার দিয়ে শত্রুদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলো। তাদের আপ্রাণ চেষ্টা ব্যর্থ হলো। তারা আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে এক এক করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অক্ষত থাকা অবস্থায় একজন শত্রু সৈন্যকেও তাদেরকে অতিক্রম করতে দেয়নি।
📄 দেহ যাদের ঢাল হল
ওহোদ যুদ্ধের মর্মন্তুদ ও মহোত্তম দৃশ্য। যুদ্ধে বিপর্যয় ঘটেছে। বিপর্যয়ের মধ্যে বিপর্যয়। খবর রটল যে, মহানবী (সা) নিহত হয়েছেন।
মুসলিম বাহিনীর পতাকাধারী মুছআব নিহত হওয়ার থেকেই এই খবর রটে। রাসূলুল্লাহর (সা) চেহারার সাথে তাঁর চেহারার বাহ্যিক কিছুটা সাদৃশ্য দর্শনে মক্কার মুশরিক ইবনে কামিয়া এই খবর রটিয়ে দেয়।
মুহূর্তেই খবরটি যুদ্ধক্ষেত্রে আগুনের মত ছড়িয়ে পড়ল। বিশাল যুদ্ধক্ষেত্রের এই খবরটি যাচাই করা অধিকাংশের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে এই খবর মক্কার মুশরিক সৈন্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও নতুন শক্তির সঞ্চার করলো। বিপর্যয়ের মধ্যে মুসলিম বাহিনীকে ধ্বংসের জন্যে তারা বন্যার তীব্র স্রোতের মত ঝাঁপিয়ে পড়ল। অন্যদিকে বিপর্যয় ও মহা দুঃসংবাদ একসাথে হয়ে অনেক মুসলিম সৈন্যের সব শক্তি ও সাহস কেড়ে নিল। তারা হতাশ হয়ে পড়ল যে, মহানবী (সা) না থাকলে কি হবে এই যুদ্ধ দিয়ে।
যুদ্ধের এক পর্যায়ে মক্কার মুশরিক সৈন্যরা যখন জানতে পারল যে, মহানবী (সা) জীবিত আছেন, তখন তাদের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ালেন মহানবী (সা)।
মুসলিম বাহিনীর বিশৃঙ্খল ও বিপর্যয়কর অবস্থায় পরিস্থিতিটা অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে দাঁড়াল।
যুদ্ধক্ষেত্রের একটি স্থানে সাহাবীদের একটি ক্ষুদ্র দল তাদের দেহ দিয়ে মহানবীকে আড়াল করে চারদিক থেকে বন্যাবেগের মত ছুটে আসা মুশরিক সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করছিল। আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে এক এক করে তারা ঢলে পড়ল। অবশিষ্ট থাকলো মাত্র তালহা এবং সা'আদ।
দু'জনেই মদীনার অব্যর্থ-লক্ষ্য তীরন্দাজ। তাঁরা ঘুরে ঘুরে তাঁদের দেহ দিয়ে মহানবীর দেহকে আড়াল করে অবিরাম তীর ছুড়ে কাফেরদের হত্যা করছিল ও তাদের ঠেকিয়ে রাখছিল। সা'আদ একাই সেদিন দু'খানা ধনুক ভেঙ্গেছিলেন এবং সহস্রাধিক তীর ছুড়েছিলেন। এক কঠিন মুহূর্তে তালহা তীর ধনুক বাদ দিয়ে নিজের ঢাল ও নিজের দেহ দিয়ে মহানবীকে আচ্ছাদন করতে লাগলেন। আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে পড়ল তাঁর দেহ। এ সময় দূর থেকে আবু দোজানা ছুটে এলেন এ দৃশ্য দেখে। যোগ দিলেন তিনি তালহা ও সা'আদের সাথে। দেখলেন আবু দোজানা শত্রুর একটা বর্শা ছুটে আসছে মহানবীকে লক্ষ্য করে। আবু দোজানা বুক দিয়ে মহানবীকে আচ্ছাদন করে পৃষ্ঠদেশ এগিয়ে দিলেন বর্শার দিকে। বর্শা তার পৃষ্ঠদেশ বিদ্ধ করল।
উম্মে আমারা আহত মুসলিম সৈন্যদের পানি পান করাচ্ছিলেন। তিনি শুনতে পেলেন মহানবী (সা)-এর আক্রান্ত হওয়ার কথা। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পানির মশক ফেলে দিয়ে ছুটলেন মহানবীর কাছে। যোগ দিলেন মহানবীর কয়েকজন সাথীর দলে। প্রথমে অবিরাম তীর বর্ষণ। তীরে যখন কুলালো না, তখন তিনি তলোয়ার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন শত্রুর উপর। আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হচ্ছে তাঁর দেহ, কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্রও ভ্রূক্ষেপ নেই তাঁর। এ সময়ের অবস্থা সম্পর্কে স্বয়ং মহানবী (সা) বলেছেন, "সেই বিপদের সময় দক্ষিণে, বামে যেদিকে তাকাই সেদিকেই দেখি উম্মে আমারা আমাকে রক্ষার জন্যে যুদ্ধ করছে।"
সোনার মানুষেরা যখন তাঁকে ঘিরে এভাবে লড়াই করছেন, তখন এই সোনার মানুষগুলো যাঁর হাতে গড়া সেই মহানবী (সা) অচঞ্চল পর্বতের মত দণ্ডায়মান। ভয় নেই, ভীতি নেই, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নেই, শোচনীয় অবস্থা দর্শনে অবসাদ নেই, বিষণ্ণতা নেই। পর্বতের মত দাঁড়িয়ে ক্ষুদ্র বাহিনীকে তিনি নির্দেশ দিচ্ছেন, পরিচালনা করছেন।
এক শত্রুর আঘাতে তার লৌহ শিরস্ত্রাণের দুই কড়া যখন তার মাথায় ঢুকে গেল, রক্তের দরবিগলিত ধারায় তাঁর মুখমণ্ডল ও দেহ যখন রঞ্জিত হচ্ছিল তখন তিনি প্রার্থনা করলেন, “হে আমার প্রভু, আমার জাতিকে তুমি ক্ষমা কর। কারণ তারা অজ্ঞ।"
সেদিন মুসলিম বাহিনীর বিপর্যয় পরাজয় পর্যন্ত পৌঁছেনি অকুতোভয় ঐ সব সোনার মানুষদের কারণেই। মুসলিম বাহিনী হামজা, মুছআব প্রমুখের মত ৭০ জনের জীবন বিসর্জনের বিনিময়ে বিপর্যয় রোধ করেছিল। ৩ হাজার সৈন্যের বিশাল মুশরিক বাহিনীকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল মক্কায়。
📄 সহস্র জীবন দিয়েও চাই যে মরণ
ওহোদ যুদ্ধ। মুসলমানদের জয় বিপর্যয়ে পরিণত হবার পরের মুহূর্ত। মহানবী (সা) তখন যুদ্ধের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছেন। পেছন থেকে শত্রুর আকস্মিক আক্রমণে বিজয়-আনন্দরত মুসলিম সৈন্যরা একত্রিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে পারল না। বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে তারা।
মুষ্টিমেয় মুসলিম সৈন্যদের ছোট্ট একটি দল মহানবী (সা)-কে কেন্দ্র করে দাঁড়িয়ে। মক্কার মুশরিক সৈন্যরা একে মহা সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করল। মহা আস্ফালনে চারদিক কাঁপিয়ে মুশরিক সৈন্যরা ঝড়ের বেগে অগ্রসর হলো মহানবী (সা)-কে লক্ষ্য করে। এই ঝড় প্রতিহত করতে হলে এর চেয়েও দুরন্ত গতির আরেক ঝড় প্রয়োজন। মহানবী (সা) তাকালেন তাঁর চারদিকের সাথীদের দিকে। ধ্বনিত হলো তার তেজদীপ্ত গম্ভীর কণ্ঠ, 'নিজের প্রাণ উৎসর্গ করে শত্রুর গতিরোধ করতে পারে, এমন কে আছে?' মহানবীর (সা) ঠোঁটের শেষ শব্দ বাতাসে মিলিয়ে যাবার আগেই আনসার যুবক জিয়াদ তেজদীপ্ত কণ্ঠে হুংকার দিয়ে বলে উঠল, 'আমি আমি'।
কণ্ঠে তার সেকি তেজ! দু'চোখে তার ভক্তির কি অপূর্ব বিচ্ছুরণ!
মহানবীর (সা) আদেশ নিয়েই জিয়াদ পাঁচ-সাতজন আনসার যুবককে সাথে নিয়ে ভীষণ গতির এক ঝড় তুলে ঝাঁপিয়ে পড়ল শত্রুর উপর।
এ যেন বেগ-এর উপর এক মহাবেগ-এর আঘাত। শত্রুর গতি স্তব্ধ হয়ে গেল। চলল মরণপণ ক্ষুদ্র একটি দলের সাথে আক্রমণকারী বাহিনীর লড়াই। পেছনে হটে গেল মুশরিক বাহিনী অনেক ক্ষতি স্বীকার করে। শত্রু সরে গেলে দেখা গেল, জিয়াদ-এর ক্ষুদ্র বাহিনীর কেউ দাঁড়িয়ে নেই। শহীদ হয়েছেন বেশিরভাগ। জিয়াদ তখন মুমূর্ষু। মহানবী (সা) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে জিয়াদকে তুলে আনার নির্দেশ দিলেন।
মুমূর্ষু জিয়াদের মাথা মহানবী (সা) নিজের পদযুগলের উপর রাখলেন। প্রার্থনা করতে লাগলেন জিয়াদের জন্যে। জিয়াদের প্রাণটা যেন এ মহাসৌভাগ্যেরই অপেক্ষা করছিল।
মুমূর্ষু জিয়াদের মুখটি গড়িয়ে গিয়ে তার গণ্ড মহানবী (সা)-এর পদযুগল স্পর্শ করল। পর মুহূর্তেই তার প্রাণপাখি উড়ে গেল। উড়ে গেল যেন জান্নাতের উদ্দেশ্যে।
কবির ভাষায় একি মরণ! সহস্র জীবন উৎসর্গ করেও এমন জীবনের সাক্ষাত পাওয়া যায় না。
📄 বে-নজীর অগ্নি-পরীক্ষা
ওহোদ যুদ্ধের দিবাগত রাত। রাত তখন গভীর।
বনি খোজায়া গোত্রের প্রধান মা'বাদ এলেন মদীনায়। বনি খোজায়া মুসলমানদের মিত্র গোত্র। ওহোদ যুদ্ধে মুসলমানদের অসুবিধার খবর পেয়ে মুসলমানদের সমবেদনা জানাবার জন্যে রাতেই মা'বাদ মদীনা যাত্রা করেছিলেন। আসার পথে হামরাউল আসাদ স্থানে এসে দেখলেন, মক্কার আবু সুফিয়ানের বাহিনী মক্কার পথ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার মদীনা আক্রমণের জন্যে অগ্রসর হচ্ছে। শুনলেন তিনি, মুসলমানদের অনেকে নিহত, আহত অধিকাংশ সাহাবী রাসূলুল্লাহসহ। এই সুযোগে মদীনার মুসলমানদের ধ্বংস না করে ফিরে গেলে এই সুবর্ণ সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। এই চিন্তা করেই তারা মদীনা ধ্বংসের জন্যে অগ্রসর হচ্ছে। মা'বাদ এই খবর নিয়ে দ্রুত মদীনা এসেছেন মুসলমানদের সাবধান করার জন্যে।
মহানবী (সা) মা'বাদের কাছ থেকে সব শুনলেন।
ডাকলেন তিনি হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর (রা)-কে পরামর্শের জন্যে। পরামর্শে ঠিক হলো, ফজরেই যুদ্ধযাত্রা করতে হবে। বেলাল (রা)-কে মহানবী (সা) নির্দেশ দিলেন ফজরের আযানের সময় যুদ্ধযাত্রার ঘোষণা ও অন্যান্য আদেশ সকলকে জানিয়ে দেবার জন্যে।
বেলাল (রা) ফজরের আযান দিলেন এবং সেই সাথে ঘোষণা দিলেন : 'মুসলিম বীরবৃন্দ প্রস্তুত হও, এখনই যুদ্ধযাত্রা করতে হবে। কুরাইশ বাহিনী মদীনা আক্রমণের জন্যে অগ্রসর হচ্ছে।' এই সাথে বেলাল মহানবীর (সা)-এর পক্ষ থেকে আরও ঘোষণা করলেন, "গতকালের যুদ্ধে যারা উপস্থিত হয়েছিলেন, অদ্য কেবল তারাই যুদ্ধে যেতে পারবেন।"
মদীনার ঘরগুলো তখন বিপর্যস্ত। অধিকাংশ আহত সাহাবীর আহত স্থানের রক্ত তখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ৭০ জন শহীদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের কান্না তখনও প্রশমিত হয়নি। ক্লান্তি ও অবসাদে ভেঙ্গে পড়া সকলের দেহ। স্বয়ং মহানবী (সা) আহত। তাঁর কপালে গভীর দু'টি ক্ষত। তাঁর সামনের চারটি দাঁত পাথরের আঘাতে নড়ে যাওয়া।
কিন্তু বেলালের আহ্বান যখন তাদের সকলের কানে গেল, মুহূর্তেই আহত স্থানের বেদনা-যন্ত্রণা কোথায় চলে গেল, শরীরের ক্লান্তি-অবসাদ কোথায় যেন ভেসে গেল। নতুন জীবন নিয়ে মদীনার গোটা মুসলিম পল্লী জেগে উঠলো। চারদিকের শত কণ্ঠের আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে উৎসবের জোয়ার জাগলো মদীনায়।
আগের দিনের রক্ত-রঞ্জিত পোশাক ও রক্তে গোসল করা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ছুটলো সকলে মদীনার মসজিদে নববীর দিকে।
নামায শেষে মহানবী (সা) যুদ্ধ সাজে সজ্জিত হয়ে ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে সকলের আগে যাত্রা করলেন। তাঁর পেছনে পায়েহাঁটা ছ'শ' মুসলমানের বাহিনী। মুসলমানদের এই যুদ্ধ-যাত্রার খবর মদীনামুখী কুরাইশ সৈন্যের প্রধান আবু সুফিয়ান পেলে স্তম্ভিত হলো সে। তার মনে হলো মুসলমানরাই যেন কুরাইশদের ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে আসছে। ভয় পেয়ে গেল আবু সুফিয়ান। আহত সিংহ আরও ভয়াবহ হয়ে থাকে।
সঙ্গে সঙ্গেই আবু সুফিয়ান তার বাহিনীর গতি মদীনার দিক থেকে মক্কার দিকে ঘুরিয়ে দিলেন।
মক্কার মুশরিক বাহিনীর পলায়নের খবর মহানবী (সা) পেলেন। তবু তিনি হামরাউল আসাদ প্রান্তরে ক'দিন অপেক্ষা করে ফিরে গেলেন মদীনায়।