📄 প্রথম দিগ্বিজয়ী বাহিনীর প্রতি মহানবী
বাসরার রাজার কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে দূত উমাইর ইবনে হারেসকে প্রেরণ করেন মহানবী (সা)।
পথে 'মুতা' নামক স্থানে একজন খৃস্টান আঞ্চলিক শাসনকর্তা শুরাহবিল উমাইরকে বন্দী করে তাকে হাত-পা কেটে অশেষ কষ্ট দিয়ে হত্যা করল। শুধু 'দূত' হত্যাই নয়, সে লক্ষাধিক সৈন্য যোগাড় করে মদীনা আক্রমণের দুরভিসন্ধি আঁটতে লাগল। রোম সম্রাটের কাছ থেকেও আশু সাহায্যের ঘোষণা সে পেয়ে গেল।
'দূত' হত্যার খবর এবং খৃস্টানদের সমরায়োজনের কথা মহানবীর কাছে পৌঁছলে মহানবী (সা) সঙ্গে সঙ্গেই তিন হাজার সৈন্যের একটা বাহিনী মুতায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।
এই বাহিনীর সেনাপতির দায়িত্ব দিলেন যায়েদ ইবনে হারেসাকে। তিনি বলে দিলেন, যায়েদ নিহত হলে আলীর ভাই বীরবর জাফর সেনাপতি হবেন। আর জাফর নিহত হলে সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। মহানবীর আশংকা শুধু আশংকা নয়, এক দেদীপ্যমান সত্য। সুতরাং বাহিনীটি যে কি ভয়াবহ এক যুদ্ধের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তা আঁচ করা বাকী রইল না মহানবীর কথা থেকে।
তাই বোধ হয় মদীনার অধিবাসীরা এই যুদ্ধযাত্রাকে খুবই গুরুত্ব দিল। সেনাদলের যাত্রার সময় মহানবী (সা) স্বয়ং এবং মদীনার অধিবাসী মুসলমানরা মদীনার বাইরে 'বিদা উপত্যকা' পর্যন্ত বাহিনীটির সাথে সাথে হেঁটে এল।
বিদায়ের প্রাক্কালে মহানবী (সা) মুসলিম বাহিনী যাতে কোন অবস্থাতেই নীতিভ্রষ্ট না হয়, কোন বাড়াবাড়ির আশ্রয় যাতে না নেয়, আল্লাহর উপর ভয় ও ভরসাকেই যাতে সর্বাবস্থায় পাথেয় মনে করে, সে জন্যে বিদায়ী উপদেশ হিসেবে বললেন: 'আমি তোমাদেরকে সর্বদা আল্লাহকে ভয় করে চলবার উপদেশ দিচ্ছি। প্রত্যেক সহচর মুসলমানের সাথে সদ্ব্যবহার করার উপদেশ দান করছি। আল্লাহর নামে যুদ্ধযাত্রা কর এবং সিরিয়ায় তোমাদের ও আল্লাহর শত্রুদের মুকাবিলা কর।
তোমরা যে দেশে যাচ্ছ সেখানকার মাঠে সাধু-সন্ন্যাসীদেরকে নিভৃত সাধনায় মগ্ন থাকতে দেখবে। সাবধান! তাদের কাজে কোন প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি করবে না। সাবধান! একটি স্ত্রীলোক, একটি বালক বা বালিকা, একজন বৃদ্ধও যেন কোনক্রমে তোমাদের হাতে নিহত না হয়। সাবধান! শত্রুপক্ষের একটি বৃক্ষও ছেদন করবে না, একটি বাড়ীও নষ্ট করবে না।'
এই প্রথমবারের মত মুসলিমরা আরব ভূখণ্ডের বাইরে যুদ্ধযাত্রা করছে। যাদের বিরুদ্ধে তাদের এই যুদ্ধযাত্রা তারা সংখ্যা ও সজ্জায় অনেক বড়। কিন্তু তবু সৈনিকরা বুঝল, যথেচ্ছা চলার এক ইঞ্চি সুযোগও তাদের থাকল না। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সাহায্য লাভের এই তো উপায়!
📄 মহানবীর চিঠি পড়ে কেঁদে ফেললেন মানজার
আরব উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলে পারস্য উপসাগরের পানির উপর দাঁড়ানো বাহরাইন।
বাহরাইনের শাসক তখন মানজার ইবনে ছাভী।
ইসলামের দাওয়াত নিয়ে মহানবী (সা)-এর একটা চিঠি তাঁর কাছে পৌঁছল।
ইসলামের উত্থান ও এর গতিধারা সম্পর্কে আগে থেকেই খবর রাখছিলেন তিনি। ইয়ামেনের শাসনকর্তা 'বাজান'-এর খবরও তাঁর কাছে ছিল। পারস্য সম্রাট মহানবী (সা)-কে ধরতে পাঠিয়ে নিজেই ধরাধাম থেকে বিদায় নিলেন, তাও তিনি জানতেন।
মহানবীর চিঠি পেয়ে মানজার সঙ্গে সঙ্গেই ইসলাম গ্রহণ করলেন। বাহরাইনের আরব বাসিন্দারাও তাঁর সাথে সাথে ইসলাম গ্রহণ করলো।
কিন্তু রাজ্যের ইহুদী ও অগ্নিপূজকরা ইসলাম গ্রহণ করলো না।
বাহরাইনের শাসক মানজার ইবনে ছাভী একে ভালোভাবে নিলেন না। শাসক যাকে ভালো মনে করলেন, প্রজা তাকে ভালো মনে করলো না। এটা সেই যুগের শাসকদের হজম করা কঠিন ছিল। মানজারও কিছু প্রজার এই ঔদ্ধত্য হজম করতে পারলেন না। তবে মহানবীর হুকুম ছাড়া কিছু না করার সিদ্ধান্ত তিনি নিলেন।
প্রয়োজনীয় নির্দেশ লাভের জন্যে মানজার লিখলেন মহানবীর (সা) কাছে।
মানজারের সিদ্ধান্ত এবং মহানবীর কাছে তাঁর লিখার বিষয়টা ইহুদী ও অগ্নিপূজকরা জানতে পারলো। তারা উদ্বিগ্ন হলো তাদের ভবিষ্যত নিয়ে।
যথাসময়ে মহানবী (সা)-এর চিঠি এলো মানজারের কাছে। অত্যন্ত আদবের সাথে চিঠি খুলে পড়তে লাগলেন তিনি
"ধর্ম সম্বন্ধে কোন জোর-জবরদস্তি করা অধর্ম। যে ব্যক্তি উপদেশ গ্রহণ করে, সে তো কেবল নিজেরই কল্যাণ সাধন করে থাকে। যারা ইহুদী বা পারসিক ধর্মে থাকতে চায়, তাদেরকে যিজিয়া দিতে হবে মাত্র। এর অতিরিক্ত অন্য কোন বিষয়ে তাদের উপর তোমার আর কোন অধিকার থাকবে না।"
চিঠি পড়ে মহানবী (সা)-এর দয়া ও মহানুভবতায় কেঁদে ফেললেন মানজার। কত বড় দয়ার সাগর তিনি? বিধর্মী প্রজাদের পক্ষ হয়ে মানজারকেই তিনি শাসন করেছেন।
এই খবর ইহুদী এবং অগ্নিপূজক প্রজাদেরকেও অভিভূত করলো। এতদিন তারা পারস্য সম্রাট ও তাদের কর্মচারীদের অমানুষিক অত্যাচারে একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। এক যিজিয়ার বিনিময়ে সব কর ও যুলুম থেকে রেহাই পেয়ে তারা মহানবী (সা)-এর নামে সকলে জয়ধ্বনি করতে লাগলো। ইসলাম গ্রহণের হার তাদের মধ্যে দ্রুত বেড়ে চললো।
📄 মহানবী আবারও অভয় দিলেন
রাহমাতুল্লিল আলামীন মহানবী (সা) রক্তপাত চান না। মক্কা প্রবেশেও তিনি রক্তপাত এড়াতে চাইলেন।
এ লক্ষ্যেই তিনি একটা পাহাড়ের শীর্ষে বসে চারদিকে নজর রাখলেন কোথায় কি ঘটে তা দেখার জন্যে।
হঠাৎ মক্কার এক উপত্যকা-পথে সকালের রোদে উত্তোলিত তরবারির ঝিলিক দেখতে পেলেন মহানবী (সা)। ঐ উপত্যকা পথে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনীর একটা দল মক্কায় প্রবেশ করছে। মহানবী (সা) উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন।
সঙ্গে সঙ্গেই তিনি খালিদকে হাজির করার নির্দেশ দিলেন কৈফিয়ত দেয়ার জন্যে।
খালিদ হাজির হলেন। নিবেদন করলেন বিনীতিভাবে, 'আমি আপনার আদেশ পালনে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু কুরাইশদের দলটাকে কোনোভাবেই নিরস্ত্র করা যায়নি। তারা আমাদেরকে আক্রমণ করে এবং দু'জন মুসলিম সৈন্যকে হত্যা করে। তখন বাধ্য হয়ে আমাদেরকেও অস্ত্র বের করতে হয়।'
এই সময় মহানবী (সা) আরও খবর পেলেন, কুরাইশ-প্রধানরা পরামর্শ করে কুরাইশ ও অন্যান্য অনুগত গোত্রের দুর্দান্ত ও গুণ্ডা শ্রেণীর বহুসংখ্যক লোকদের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। ঠিক হয় যে, তারা সুবিধা করতে পারলে সবাই একযোগে মুসলমানদের আক্রমণ করবে। আর যদি তারা ব্যর্থ হয়, তাহলে যে অভয় তারা মহানবীর কাছ থেকে পেয়েছে, তার অধীনে তারা আত্মরক্ষা করবে।
কুরাইশদের অকারণ সৈন্য সমাবেশের মধ্যেও মহানবী এরই প্রমাণ পেলেন। কুরাইশদের এই ষড়যন্ত্র টের পেয়ে মহানবী (সা) আনসার রেজিমেন্টকে সতর্ক থাকতে এবং সকালে ছাফা পর্বতের পাদমূলে সমবেত হতে আদেশ দিলেন।
মহানবী (সা) দেখাতে চাইলেন মুসলমানরা প্রস্তুত আছে, অতএব কুরাইশদের কোন ষড়যন্ত্র কাজে আসবে না।
কুরাইশরাও শীঘ্র এটা বুঝতে পারলো এবং ষড়যন্ত্র বাদ দিয়ে নিজেদের ভবিষ্যত ভেবে ব্যাকুল হয়ে উঠলো।
আবু সুফিয়ান আবার ছুটলো মহানবীর (সা) কাছে। আর্তনাদ করে আবার সেই আগের মতই বলল, 'মুহাম্মাদ, কুরাইশদের এই দলকে তুমি যদি ধ্বংস কর, তাহলে আজ থেকে কুরাইশদের নাম-নিশানা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।'
কুরাইশরা সর্বশেষেও যে অপরাধ করলো তাতেও মহানবী (সা) তাদের জন্যে ভয়াবহ শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারতেন। কিন্তু মহানবী (সা) তো এসেছেন মানুষকে মানুষ বানাবার জন্যে, তাদের শাস্তি দেবার জন্য নয়।
মহানবী (সা) আবু সুফিয়ানকে বললেন, যাও, আবার অভয় দিলাম, তোমাদের পুনরায় ক্ষমা করলাম। যা বলেছিলাম সেই অনুসারে কাজ কর গিয়ে।
📄 ‘আনান্নাবী লা কাজেব’
হুনাইনের যুদ্ধ।
ওহোদ যুদ্ধের মতই এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি। ছড়ানো-ছিটানো বিশাল রণাঙ্গনের এক স্থানে মহানবী তাঁর শ্বেত অশ্বের উপর বসে।
মুসলিম পতাকাগুলো ভূলুণ্ঠিত। মুসলিম বাহিনী সম্পূর্ণ বিশৃংখল হয়ে পড়েছে। ওহোদ যুদ্ধে বিপর্যয় হয়েছিল মহানবীর যুদ্ধ-সংক্রান্ত একটা আদেশ থেকে সরে আসার কারণে। আর হুনাইন যুদ্ধে বিপর্যয়ের কারণ কারো কারো মধ্যে সংখ্যাধিক্যের উপর নির্ভরতা এবং মুসলিম সেনাদলের অংশ হিসেবে আসা পৌত্তলিক সৈন্যদল ও সদ্য ইসলাম গ্রহণকারী মুসলমানদের অতি উৎসাহ ও অপরিণামদর্শিতা এবং তাদের কারো কারো ষড়যন্ত্রও।
হুনাইন যুদ্ধের দু'টি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল। এক. এ যুদ্ধে মুসলিম পক্ষের সৈন্য সংখ্যা ছিল বার হাজার, যা তখন পর্যন্ত সংঘটিত যুদ্ধের মধ্যে সর্বোচ্চ (বদরে সৈন্য সংখ্যা ছিল ৩১৩, ওহোদ যুদ্ধে এক হাজার এবং খন্দক যুদ্ধে তিন হাজার)। দুই. এই যুদ্ধে প্রায় দুই হাজার পৌত্তলিক সৈন্য মুসলমানদের পক্ষে যোগদান করে। এ যুদ্ধে মুসলমানদের প্রতিপক্ষ ছিল আরবের সুদক্ষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ তীরন্দাজ যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত হাওয়াজিন, সাকিফ এবং তাদের মিত্র গোত্রসমূহের বিশাল বাহিনী।
হুনাইন প্রান্তরে আগে থেকেই হাওয়াজিন ও সাকিফরা সুকৌশলে সৈন্য মোতায়েন করে ওত পেতে ছিল।
মুসলিম বাহিনীর অগ্রভাগে ছিল পৌত্তলিক সৈন্য ও নব্য মুসলমানরা। তাদের উৎসাহ-আস্ফালন যতটা আকাশস্পর্শী ছিল, তার স্থায়িত্ব ততটাই ছিল পাতালস্পর্শী।
অগ্রভাগে থাকার কারণে হাওয়াজিন ও সাকিফদের পরিকল্পিত প্রচণ্ড ও অব্যাহত আক্রমণ তাদের উপর প্রথম আসে। আক্রান্ত হয়ে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য অবস্থায় তারা পালাতে শুরু করে। ভয়ানক বিশৃংখল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শুরুতেই ভেঙে পড়ে মুসলিম বাহিনীর গোটা শৃংখলা। এই শৃংখলা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মহানবী (সা) স্থিরভাবে বসেছিলেন তাঁর ঘোড়ার পিঠে। হযরত আব্বাস (রা) দাঁড়িয়েছিলেন ঘোড়ার লাগাম ধরে, আর আবু সুফিয়ান ধরেছিলেন ঘোড়ার রেকাব। আশেপাশে ছিল দু'তিনজন মাত্র মুসলিম সৈনিক।
মহানবী (সা)-কে একা দেখে ছুটে আসছে শত্রু-বাহিনী মহা সোরগোল তুলে, আর আস্ফালন করতে করতে।
এই ঘোরতর বিপদ মুহূর্তে মহানবীর মুখে ভয় বা ভাবনার কোন চিহ্ন নেই। এ সময় মহানবী (সা) ধীর-স্থিরভাবে ঘোড়া থেকে মাটিতে অবতরণ করলেন এবং নতজানু হয়ে পরম প্রভু রাব্বুল আলামিনের কাছে একান্ত প্রার্থনা জানালেন।
তারপর উঠে দাঁড়িয়ে আরোহণ করলেন ঘোড়ায় এবং দ্রুত ছুটলেন অগ্রসরমান সহস্র শত্রুসেনার দিকে।
হযরত আব্বাস ও আবু সুফিয়ান আতংকিত হয়ে মহানবীকে বাধা দেবার চেষ্টা করলেন।
মহানবী (সা) দৃঢ়কণ্ঠে, গম্ভীর স্বরে বললেন, 'আনান্নাবী লা কাজেব, আনা ইবন আবদুল মোত্তালেব' (আমি নবী, আমাতে মিথ্যার লেশমাত্র নেই, আমি আবদুল মোত্তালিব বংশের সন্তান)।
মহানবী (সা)-এর মুখমণ্ডল তখন বিশ্বাসের প্রভায় অপরূপ, দীপ্ত। মহানবীর দিকে তাকিয়ে এবং তাঁর তেজোদীপ্ত ঘোষণা শুনে হযরত আব্বাস এবং আবু সুফিয়ান বিহ্বল হয়ে পড়লেন এবং তাঁকে বাধা দেবার আর শক্তি পেলেন না।
একদল শত্রু মহানবীর (সা) একদম সামনে এসে পড়েছিল। মহানবী তাদের বিরুদ্ধে কোন অস্ত্র ব্যবহার করলেন না। তিনি এক মুষ্ঠি ধুলা মাটি তুলে নিয়ে ছুড়ে মারলেন তাদের দিকে।
দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়া ধুলাক্রান্ত সৈনিকরা চোখ মুছতে মুছতে পেছনে হটে গেল। ইতোমধ্যে মহানবী (সা) একা একা ছুটে যাবার দৃশ্য দেখে এখানে-সেখানে বিক্ষিপ্ত মুসলিম সৈনিকরা ছুটে আসতে লাগল মহানবীর দিকে।
অন্যদিকে হযরত আব্বাস উঠেছেন এক পাহাড় টিলায়। সেখান থেকে হযরত আব্বাসের স্বভাবসিদ্ধ দরাজ কণ্ঠে ধ্বনিত হলো "হে আনসার বীরগণ, হে শাজরার বাইয়াত গ্রহণকারীগণ, হে মুসলিম বীরবৃন্দ। হে মুহাজিরগণ কোথায় তোমরা? এদিকে ছুটে এসো।"
বিক্ষিপ্ত, বিশৃংখল সৈনিকরা সমবেত হবার জন্যে একটা কেন্দ্রের সন্ধান করছিল। এই আহ্বানের সাথে সাথে মুসলিম সৈনিকরা বিশাল যুদ্ধক্ষেত্রের যে যেখানে ছিল সেখান থেকে দলে দলে ছুটে আসতে লাগল। শত শত কণ্ঠে আওয়াজ উঠল, 'ইয়া লাব্বায়েক, ইয়া লাব্বায়েক' (এই যে হাজির, হাজির)।
হযরত আব্বাসের ভাষায় "সদ্যপ্রসূত গাভী যেমন তার বাছুরের বিপদ দর্শনে চিৎকার করতে করতে ছুটে আসে, আমার আহ্বান শুনে মুসলমানরা সেভাবে ছুটে আসতে লাগল।"
মুসলিম বাহিনীর ব্যূহ আবার নতুন করে রচিত হলো। পতাকাগুলো আবার তুলে ধরা হয়েছে।
মহানবী (সা) এক মুঠো কংকর শত্রুর দিকে নিক্ষেপ করে বললেন, 'শত্রু পরাস্ত, যাও অগ্রসর হও।'
মুসলিম বাহিনী বন্যাবেগের মতো আপতিত হলো শত্রু সৈন্যের উপর।
প্রচণ্ড যুদ্ধ চলল।
অবশেষে হাওয়াজিন ও সাকিফদের অজেয় বলে কথিত বাহিনী স্ত্রী-পুত্র, রণসম্ভার ও সমস্ত ধনদৌলত যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে রেখে পালিয়ে বাঁচল।