📘 আমরা সেই জাতি 📄 মহানবী (সা) কবি আব্বাসের জিহবা কাটার হুকুম দিলেন

📄 মহানবী (সা) কবি আব্বাসের জিহবা কাটার হুকুম দিলেন


হুনাইনের যুদ্ধে মুসলমানরা পরাজিত হবার মুখেও আল্লাহর মেহেরবানীতে বিজয় লাভ করল। প্রচুর গনীমতের মাল পাওয়া গেল যুদ্ধ থেকে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি চার-পঞ্চমাংশ মুজাহিদদের মধ্যে বিতরণ করে দিলেন। অবশিষ্ট এক-পঞ্চমাংশ প্রয়োজন অনুসারে বিতরণ করলেন।
আব্বাস নামে একজন দুর্বল চরিত্রের নও মুসলিম কবিও তার অংশ মহানবী (সা)-এর কাছ থেকে পেলেন। কিন্তু তাঁর অংশে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। তিনি একটি কবিতার মাধ্যমে তাঁর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন যাতে মহানবী (সা) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য ছিল। মহানবী (সা) তা শুনে হাসলেন এবং বললেন, "ওকে নিয়ে যাও এবং জিহবা কেটে দাও।”
আলী (রা) ভয়ে কম্পমান কবিকে মাঠে নিয়ে গেলেন যেখানে বিজিত ভেড়া ছাগল ছিল। আলী (রা) কবিকে বললেন, "ভেড়া ছাগলের পাল থেকে যত ইচ্ছা নাও।”
কবি আনন্দে চিৎকার করে উঠলেন, "মহানবী (সা) কি এভাবেই আমার জিহবা কাটতে বলেছেন? আমি আল্লাহর নামে শপথ করছি, আমি কিছুই নেব না।” এরপর কবি আব্বাস মহানবী (সা)-এর প্রশস্তিমূলক ছাড়া কোন কবিতাই আর লিখেননি।

📘 আমরা সেই জাতি 📄 রাসূলুল্লাহ (সা) কদাচিৎ দু’বেলা পেটভরে আহার করতে পেরেছেন

📄 রাসূলুল্লাহ (সা) কদাচিৎ দু’বেলা পেটভরে আহার করতে পেরেছেন


রাসূলুল্লাহর (সা) ইন্তিকালের পর একদিন এক ভিখারিণী তার দুই সন্তানসহ হযরত আয়িশার (রা) নিকট এসে কিছু খাবার প্রার্থনা করলো। এ সময় হযরত আয়িশার (রা) নিকট মাত্র তিনটি খেজুর ছিল। তিনি এই ভিখারিণী এবং দুই সন্তানকে তিনটি খেজুর প্রদান করেন। মহিলা দু'টি খেজুর তার দুই সন্তানকে দিল এবং নিজের জন্য অপরটি রেখে দিল। শিশুদ্বয় দু'টি খেজুর খাওয়ার পর তাদের মায়ের দিকে তাকালো। মা তাদের চাহনির অর্থ বুঝতে পারলো। নিজের জন্য রাখা অপর খেজুরটি অতঃপর দু'ভাগ করে দুই সন্তানকে দিল। নিজের জন্য কিছুই রইলো না। মাতৃস্নেহের এই দৃশ্য আয়িশা সিদ্দীকার (রা) হৃদয় স্পর্শ করলো। তিনি কেঁদে ফেললেন।
একদিন আয়িশা সিদ্দীকা (রা) খেতে বসে কেঁদে ফেললেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) অবশ্য জীবিত নেই। তিনি বললেন, 'আমি যখন ভরা পেটে খাই, তখন অশ্রু সংবরণ করতে পারি না।' পার্শ্বে দন্ডায়মান এক মহিলা এর কারণ কি জিজ্ঞাসা করলেন। জবাবে আয়িশা (রা) বললেন, 'রাসূলুল্লাহর (সা) কথা আমার মনে পড়ে। রাসূলুল্লাহ (সা) জীবিতাবস্থায় কদাচিৎ দু'বেলা পেট ভরে আহার করতে পেরেছেন।'

রাসূলুল্লাহর (সা) ইন্তিকালের পর একদিন এক ভিখারিণী তার দুই সন্তানসহ হযরত আয়িশার (রা) নিকট এসে কিছু খাবার প্রার্থনা করলো। এ সময় হযরত আয়িশার (রা) নিকট মাত্র তিনটি খেজুর ছিল। তিনি এই ভিখারিণী এবং দুই সন্তানকে তিনটি খেজুর প্রদান করেন। মহিলা দু'টি খেজুর তার দুই সন্তানকে দিল এবং নিজের জন্য অপরটি রেখে দিল। শিশুদ্বয় দু'টি খেজুর খাওয়ার পর তাদের মায়ের দিকে তাকালো। মা তাদের চাহনির অর্থ বুঝতে পারলো। নিজের জন্য রাখা অপর খেজুরটি অতঃপর দু'ভাগ করে দুই সন্তানকে দিল। নিজের জন্য কিছুই রইলো না। মাতৃস্নেহের এই দৃশ্য আয়িশা সিদ্দীকার (রা) হৃদয় স্পর্শ করলো। তিনি কেঁদে ফেললেন।
একদিন আয়িশা সিদ্দীকা (রা) খেতে বসে কেঁদে ফেললেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) অবশ্য জীবিত নেই। তিনি বললেন, 'আমি যখন ভরা পেটে খাই, তখন অশ্রু সংবরণ করতে পারি না।' পার্শ্বে দন্ডায়মান এক মহিলা এর কারণ কি জিজ্ঞাসা করলেন। জবাবে আয়িশা (রা) বললেন, 'রাসূলুল্লাহর (সা) কথা আমার মনে পড়ে। রাসূলুল্লাহ (সা) জীবিতাবস্থায় কদাচিৎ দু'বেলা পেট ভরে আহার করতে পেরেছেন।'

📘 আমরা সেই জাতি 📄 মহানবীর (সা) দৌহিত্রী কাপড় পেলেন না

📄 মহানবীর (সা) দৌহিত্রী কাপড় পেলেন না


উমার (রা) কে মহানবী (সা) উপাধি দিয়েছিলেন 'আল-ফারুক'। সত্যিই তিনি ছিলেন 'আল-ফারুক'- সত্য ও মিথ্যার সুস্পষ্ট প্রভেদকারী। বিচারের ক্ষেত্রে, সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রীতি বা অন্যকোন বিবেচনায় সামান্য পক্ষপাতিত্ব তিনি যেমন করতেন না, তেমনি কারও তিলমাত্র অধিকারকেও তিনি উপেক্ষা করতেন না।
একদা হযরত উমার (রা) কর্তৃক মদীনায় মহিলাদের মধ্যে কিছু কাপড় বন্টন শেষে একখানা উত্তম চাদর অবশিষ্ট রয়ে গেল। তখন তাঁর কাছে উপস্থিত কেউ তাঁকে বললেন, 'হে আমীরুল মুমিনীন, আপনার কাছে আল্লাহর রাসূলের যে দৌহিত্রী রয়েছেন এ চাদরখানা তাকে দিয়ে দিন।' দৌহিত্রী বলতে এখানে আলী (রা)-এর কন্যা উম্মে কুলসুমকে বুঝাচ্ছিলেন।
উমার (রা) জবাব দিলেন, 'উম্মে সুলাইমই তা পাওয়ার অধিক উপযুক্ত। অধিক উপযুক্ত হবার কারণ হচ্ছে, সে উহুদ যুদ্ধের দিনে আমাদের জন্য তরবারির খাপ তৈরি করত।'

উমার (রা) কে মহানবী (সা) উপাধি দিয়েছিলেন 'আল-ফারুক'। সত্যিই তিনি ছিলেন 'আল-ফারুক'- সত্য ও মিথ্যার সুস্পষ্ট প্রভেদকারী। বিচারের ক্ষেত্রে, সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রীতি বা অন্যকোন বিবেচনায় সামান্য পক্ষপাতিত্ব তিনি যেমন করতেন না, তেমনি কারও তিলমাত্র অধিকারকেও তিনি উপেক্ষা করতেন না।
একদা হযরত উমার (রা) কর্তৃক মদীনায় মহিলাদের মধ্যে কিছু কাপড় বন্টন শেষে একখানা উত্তম চাদর অবশিষ্ট রয়ে গেল। তখন তাঁর কাছে উপস্থিত কেউ তাঁকে বললেন, 'হে আমীরুল মুমিনীন, আপনার কাছে আল্লাহর রাসূলের যে দৌহিত্রী রয়েছেন এ চাদরখানা তাকে দিয়ে দিন।' দৌহিত্রী বলতে এখানে আলী (রা)-এর কন্যা উম্মে কুলসুমকে বুঝাচ্ছিলেন।
উমার (রা) জবাব দিলেন, 'উম্মে সুলাইমই তা পাওয়ার অধিক উপযুক্ত। অধিক উপযুক্ত হবার কারণ হচ্ছে, সে উহুদ যুদ্ধের দিনে আমাদের জন্য তরবারির খাপ তৈরি করত।'

📘 আমরা সেই জাতি 📄 নববী এক মোজেজা

📄 নববী এক মোজেজা


রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস, আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাসীর কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর পর পারস্যের সম্রাট খসরু পারভেজের দরবারে চিঠি দিয়ে দূত প্রেরণ করলেন মহানবী (সা)।
মহানবীর চিঠি কোন সম্রাটের দরবারে যে অমর্যাদার শিকার হয়নি, সেটাই ঘটল পারস্যে। সম্রাট খসরু চিঠি পেয়ে ক্রোধে জ্বলে উঠলেন এবং চিঠি ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেললেন। শুধু তাই নয়, ইয়ামেনে তাঁর শাসনকর্তাকে লিখে পাঠালেন, চিঠি পাওয়া মাত্র মদীনায় গিয়ে মুহাম্মাদকে গ্রেফতার করে পারস্য সম্রাটের দরবারে পাঠানো হোক।
চিঠি পেয়ে ইয়ামেনের শাসনকর্তা 'বাজান' গ্রেফতারী পরওয়ানা ও উপযুক্ত সৈন্যসহ দু'জন রাজ-কর্মচারীকে মদীনা পাঠালেন।
রাজকর্মচারীদ্বয় যথাসময়ে মদীনায় মহানবীর দরবারে পৌঁছলেন। গ্রেফতারী পরওয়ানা দেখিয়ে তাদের একজন মহানবীকে বললেন, স্বেচ্ছায় ত্বরিত হাজির হলে গভর্নর সাহেব তার পক্ষে ভাল সুপারিশ করতে পারেন। মহানবী (সা) তাদের সাথে কিছু কথাবার্তা বলে তাদেরকে পরদিন সকালে আসতে বললেন।
পরদিন সকালে ওরা এলেন।
মহানবী ওদের বললেন, 'খসরু পারভেজ নিহত। তাঁর ছেলে শেরওয়াহ তাকে হত্যা করে সিংহাসন দখল করেছে। যাও, তোমরা ফিরে গিয়ে 'বাজান'-কে এই সংবাদ দাও। নিশ্চয় জেন, ইসলাম শীঘ্রই খসরু পারভেজের সিংহাসনের উপর অধিকার বিস্তার করবে। আর 'বাজান'-কে বলো, সে ইসলাম গ্রহণ করলে তাকে তার পদে বহাল রাখব।
রাজকর্মচারীদ্বয় এই অবিশ্বাস্য সংবাদ শুনে স্তম্ভিত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ছুটল ইয়ামেনে তাদের শাসনকর্তা 'বাজান'-এর কাছে।
ইয়ামেনের শাসনকর্তা 'বাজান' তাঁর কর্মচারীর কাছে সবশুনে উদ্বেগ ও বিস্ময় ভরা কণ্ঠে বলল, এমন স্পষ্ট অনাবিল ভবিষ্যদ্বাণী তো বাইবেলে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। এ ভবিষ্যদ্বাণী যদি সত্য হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে বুঝব যে, মুহাম্মাদ যথার্থই আল্লাহর নবী। ঠিক আছে কয়দিন অপেক্ষা করা যাক, পারস্য থেকে কোন খবর আসে কিনা।
খুব শীঘ্রই 'বাজান'-এর উন্মুখ অপেক্ষার অবসান ঘটল। 'বাজান'-এর কাছে পারস্যের নতুন সম্রাট শেরওয়াহের ফরমান এল। যাতে বলা হলো- 'খসরুকে তার অন্যায় আচরণের জন্যে হত্যা করে আমি সিংহাসনে অধিপতি হয়েছি। ইয়ামেনবাসীকে আমার আনুগত্য স্বীকারে বাধ্য করবে। আর মক্কার সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আমার দ্বিতীয় আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত কিছু করবে না।'
ফরমান পড়ার পর আর কালবিলম্ব না করে ইয়ামেনের শাসনকর্তা 'বাজান' ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং অল্পকাল পরেই ছুটলেন মদীনায় মহানবীর মহাদর্শন লাভের আকুল বাসনায়। কিন্তু তাঁর বাসনা অতৃপ্তই রয়ে গেল। পথিমধ্যে তিনি শহীদ হলেন গুপ্ত ঘাতকের হাতে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px