📄 ‘আল্লাহ’ শব্দে দাসুর-এর হাত থেকে তরবারি পড়ে গেল
মহানবী (সা) একদিন একটি গাছের তলায় ঘুমিয়েছিলেন। এই সুযোগে দাসুর নামে একজন শত্রু তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল। শোরগোল করে সে মহানবী (সা)-কে ঘুম থেকে জাগাল।
মহানবীর (সা) ঘুম ভাঙলে চোখ খুলে দেখলেন, একটা উন্মুক্ত তরবারি তাঁর উপর উদ্যত।
ভয়ানক শত্রু দাসুর চিৎকার করে উঠল, 'এখন আপনাকে কে রক্ষা করবে?'
মহানবী (সা) ধীর শান্ত কণ্ঠে বললেন, 'আল্লাহ!'
শত্রু দাসুর মহানবীর (সা) এই শান্ত গম্ভীর কণ্ঠের 'আল্লাহ' শব্দে কেঁপে উঠল। তার কম্পমান হাত থেকে খসে পড়ল তরবারি।
মহানবী (সা) তার তরবারি তুলে নিয়ে বললেন, 'এখন তোমাকে কে রক্ষা করবে, দাসুর?' সে উত্তর দিল, 'কেউ নেই রক্ষা করার।'
মহানবী (সা) বললেন, 'না, তোমাকেও আল্লাহই রক্ষা করবেন।' এই বলে মহানবী (সা) তাকে তার তরবারি ফেরত দিলেন এবং চলে যেতে বললেন।
বিস্মিত দাসুর তরবারি হাতে চলে যেতে গিয়েও পারল না। ফিরে এসে মহানবীর হাতে হাত রেখে পাঠ করল: 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।'
📄 মহানবী (সা) কবি আব্বাসের জিহবা কাটার হুকুম দিলেন
হুনাইনের যুদ্ধে মুসলমানরা পরাজিত হবার মুখেও আল্লাহর মেহেরবানীতে বিজয় লাভ করল। প্রচুর গনীমতের মাল পাওয়া গেল যুদ্ধ থেকে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি চার-পঞ্চমাংশ মুজাহিদদের মধ্যে বিতরণ করে দিলেন। অবশিষ্ট এক-পঞ্চমাংশ প্রয়োজন অনুসারে বিতরণ করলেন।
আব্বাস নামে একজন দুর্বল চরিত্রের নও মুসলিম কবিও তার অংশ মহানবী (সা)-এর কাছ থেকে পেলেন। কিন্তু তাঁর অংশে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। তিনি একটি কবিতার মাধ্যমে তাঁর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন যাতে মহানবী (সা) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য ছিল। মহানবী (সা) তা শুনে হাসলেন এবং বললেন, "ওকে নিয়ে যাও এবং জিহবা কেটে দাও।”
আলী (রা) ভয়ে কম্পমান কবিকে মাঠে নিয়ে গেলেন যেখানে বিজিত ভেড়া ছাগল ছিল। আলী (রা) কবিকে বললেন, "ভেড়া ছাগলের পাল থেকে যত ইচ্ছা নাও।”
কবি আনন্দে চিৎকার করে উঠলেন, "মহানবী (সা) কি এভাবেই আমার জিহবা কাটতে বলেছেন? আমি আল্লাহর নামে শপথ করছি, আমি কিছুই নেব না।” এরপর কবি আব্বাস মহানবী (সা)-এর প্রশস্তিমূলক ছাড়া কোন কবিতাই আর লিখেননি।
📄 রাসূলুল্লাহ (সা) কদাচিৎ দু’বেলা পেটভরে আহার করতে পেরেছেন
রাসূলুল্লাহর (সা) ইন্তিকালের পর একদিন এক ভিখারিণী তার দুই সন্তানসহ হযরত আয়িশার (রা) নিকট এসে কিছু খাবার প্রার্থনা করলো। এ সময় হযরত আয়িশার (রা) নিকট মাত্র তিনটি খেজুর ছিল। তিনি এই ভিখারিণী এবং দুই সন্তানকে তিনটি খেজুর প্রদান করেন। মহিলা দু'টি খেজুর তার দুই সন্তানকে দিল এবং নিজের জন্য অপরটি রেখে দিল। শিশুদ্বয় দু'টি খেজুর খাওয়ার পর তাদের মায়ের দিকে তাকালো। মা তাদের চাহনির অর্থ বুঝতে পারলো। নিজের জন্য রাখা অপর খেজুরটি অতঃপর দু'ভাগ করে দুই সন্তানকে দিল। নিজের জন্য কিছুই রইলো না। মাতৃস্নেহের এই দৃশ্য আয়িশা সিদ্দীকার (রা) হৃদয় স্পর্শ করলো। তিনি কেঁদে ফেললেন।
একদিন আয়িশা সিদ্দীকা (রা) খেতে বসে কেঁদে ফেললেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) অবশ্য জীবিত নেই। তিনি বললেন, 'আমি যখন ভরা পেটে খাই, তখন অশ্রু সংবরণ করতে পারি না।' পার্শ্বে দন্ডায়মান এক মহিলা এর কারণ কি জিজ্ঞাসা করলেন। জবাবে আয়িশা (রা) বললেন, 'রাসূলুল্লাহর (সা) কথা আমার মনে পড়ে। রাসূলুল্লাহ (সা) জীবিতাবস্থায় কদাচিৎ দু'বেলা পেট ভরে আহার করতে পেরেছেন।'
রাসূলুল্লাহর (সা) ইন্তিকালের পর একদিন এক ভিখারিণী তার দুই সন্তানসহ হযরত আয়িশার (রা) নিকট এসে কিছু খাবার প্রার্থনা করলো। এ সময় হযরত আয়িশার (রা) নিকট মাত্র তিনটি খেজুর ছিল। তিনি এই ভিখারিণী এবং দুই সন্তানকে তিনটি খেজুর প্রদান করেন। মহিলা দু'টি খেজুর তার দুই সন্তানকে দিল এবং নিজের জন্য অপরটি রেখে দিল। শিশুদ্বয় দু'টি খেজুর খাওয়ার পর তাদের মায়ের দিকে তাকালো। মা তাদের চাহনির অর্থ বুঝতে পারলো। নিজের জন্য রাখা অপর খেজুরটি অতঃপর দু'ভাগ করে দুই সন্তানকে দিল। নিজের জন্য কিছুই রইলো না। মাতৃস্নেহের এই দৃশ্য আয়িশা সিদ্দীকার (রা) হৃদয় স্পর্শ করলো। তিনি কেঁদে ফেললেন।
একদিন আয়িশা সিদ্দীকা (রা) খেতে বসে কেঁদে ফেললেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) অবশ্য জীবিত নেই। তিনি বললেন, 'আমি যখন ভরা পেটে খাই, তখন অশ্রু সংবরণ করতে পারি না।' পার্শ্বে দন্ডায়মান এক মহিলা এর কারণ কি জিজ্ঞাসা করলেন। জবাবে আয়িশা (রা) বললেন, 'রাসূলুল্লাহর (সা) কথা আমার মনে পড়ে। রাসূলুল্লাহ (সা) জীবিতাবস্থায় কদাচিৎ দু'বেলা পেট ভরে আহার করতে পেরেছেন।'
📄 মহানবীর (সা) দৌহিত্রী কাপড় পেলেন না
উমার (রা) কে মহানবী (সা) উপাধি দিয়েছিলেন 'আল-ফারুক'। সত্যিই তিনি ছিলেন 'আল-ফারুক'- সত্য ও মিথ্যার সুস্পষ্ট প্রভেদকারী। বিচারের ক্ষেত্রে, সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রীতি বা অন্যকোন বিবেচনায় সামান্য পক্ষপাতিত্ব তিনি যেমন করতেন না, তেমনি কারও তিলমাত্র অধিকারকেও তিনি উপেক্ষা করতেন না।
একদা হযরত উমার (রা) কর্তৃক মদীনায় মহিলাদের মধ্যে কিছু কাপড় বন্টন শেষে একখানা উত্তম চাদর অবশিষ্ট রয়ে গেল। তখন তাঁর কাছে উপস্থিত কেউ তাঁকে বললেন, 'হে আমীরুল মুমিনীন, আপনার কাছে আল্লাহর রাসূলের যে দৌহিত্রী রয়েছেন এ চাদরখানা তাকে দিয়ে দিন।' দৌহিত্রী বলতে এখানে আলী (রা)-এর কন্যা উম্মে কুলসুমকে বুঝাচ্ছিলেন।
উমার (রা) জবাব দিলেন, 'উম্মে সুলাইমই তা পাওয়ার অধিক উপযুক্ত। অধিক উপযুক্ত হবার কারণ হচ্ছে, সে উহুদ যুদ্ধের দিনে আমাদের জন্য তরবারির খাপ তৈরি করত।'
উমার (রা) কে মহানবী (সা) উপাধি দিয়েছিলেন 'আল-ফারুক'। সত্যিই তিনি ছিলেন 'আল-ফারুক'- সত্য ও মিথ্যার সুস্পষ্ট প্রভেদকারী। বিচারের ক্ষেত্রে, সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রীতি বা অন্যকোন বিবেচনায় সামান্য পক্ষপাতিত্ব তিনি যেমন করতেন না, তেমনি কারও তিলমাত্র অধিকারকেও তিনি উপেক্ষা করতেন না।
একদা হযরত উমার (রা) কর্তৃক মদীনায় মহিলাদের মধ্যে কিছু কাপড় বন্টন শেষে একখানা উত্তম চাদর অবশিষ্ট রয়ে গেল। তখন তাঁর কাছে উপস্থিত কেউ তাঁকে বললেন, 'হে আমীরুল মুমিনীন, আপনার কাছে আল্লাহর রাসূলের যে দৌহিত্রী রয়েছেন এ চাদরখানা তাকে দিয়ে দিন।' দৌহিত্রী বলতে এখানে আলী (রা)-এর কন্যা উম্মে কুলসুমকে বুঝাচ্ছিলেন।
উমার (রা) জবাব দিলেন, 'উম্মে সুলাইমই তা পাওয়ার অধিক উপযুক্ত। অধিক উপযুক্ত হবার কারণ হচ্ছে, সে উহুদ যুদ্ধের দিনে আমাদের জন্য তরবারির খাপ তৈরি করত।'