📘 আমরা সেই জাতি 📄 ফাতিমার আবদার, মহানবীর কম্পিত কণ্ঠস্বর

📄 ফাতিমার আবদার, মহানবীর কম্পিত কণ্ঠস্বর


সমগ্র আরব তখন মহানবীর (সা) করতলে। প্রভূত সম্পদ তখন জমা হয়েছে মদীনার নববী রাষ্ট্রে।
এমনি একদিন মহানবীর (সা) একমাত্র জীবিত সন্তান আদরের দুলালী ফাতিমা (রা) এলেন তাঁর কাছে।
মহানবী (সা) দাঁড়িয়ে দু'হাত বাড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানালেন। সস্নেহে তাঁকে পাশে বসালেন। রুমাল দিয়ে মেয়ের মুখের ঘর্মবিন্দু মুছে দিলেন। তারপর কুশল জিজ্ঞাসা করলেন মেয়ের।
কুশল বিনিময়ের পর ফাতিমা (রা) বিষণ্ণভাবে বললেন, 'আব্বাজান, অনেক লোক আমার বাড়িতে। আমরা দু'জন, তিন ছেলে, চারজন ভাতিজা এবং অতিথিদের স্রোত। আমাকে একাই রান্নাবান্না করতে হয়, সবদিক দেখাশুনা করতে হয়। আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, আমি শুনেছি, বন্দী অনেক মেয়ে এসেছে। যদি একটি মেয়ে আমাকে দেন, খুব উপকার হয় আমার।'
মহানবী (সা) কম্পিত কণ্ঠে বললেন, 'প্রিয় কন্যা আমার, যে সম্পদ এবং বন্দীদের তুমি দেখছ সবই মুসলিম জনসাধারণের। আমি এ সবের খাজাঞ্চি মাত্র। আমার কাজ হলো এগুলো সংরক্ষণ করা এবং যথার্থ প্রাপকদের তা দিয়ে দেয়া। তুমি সেই প্রাপকদের একজন নও। সুতরাং এখান থেকে আমি তোমাকে কিছুই দিতে পারি না। প্রিয় কন্যা, এই দুনিয়া কঠোর সংগ্রামের ক্ষেত্র। তুমি তোমার কাজ করে যাও। যখন ক্লান্ত হবে, আল্লাহকে স্মরণ করবে এবং তাঁর সাহায্য চাইবে। তিনিই তোমাকে শক্তি যোগাবেন।'

📘 আমরা সেই জাতি 📄 ‘আল্লাহ’ শব্দে দাসুর-এর হাত থেকে তরবারি পড়ে গেল

📄 ‘আল্লাহ’ শব্দে দাসুর-এর হাত থেকে তরবারি পড়ে গেল


মহানবী (সা) একদিন একটি গাছের তলায় ঘুমিয়েছিলেন। এই সুযোগে দাসুর নামে একজন শত্রু তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল। শোরগোল করে সে মহানবী (সা)-কে ঘুম থেকে জাগাল।
মহানবীর (সা) ঘুম ভাঙলে চোখ খুলে দেখলেন, একটা উন্মুক্ত তরবারি তাঁর উপর উদ্যত।
ভয়ানক শত্রু দাসুর চিৎকার করে উঠল, 'এখন আপনাকে কে রক্ষা করবে?'
মহানবী (সা) ধীর শান্ত কণ্ঠে বললেন, 'আল্লাহ!'
শত্রু দাসুর মহানবীর (সা) এই শান্ত গম্ভীর কণ্ঠের 'আল্লাহ' শব্দে কেঁপে উঠল। তার কম্পমান হাত থেকে খসে পড়ল তরবারি।
মহানবী (সা) তার তরবারি তুলে নিয়ে বললেন, 'এখন তোমাকে কে রক্ষা করবে, দাসুর?' সে উত্তর দিল, 'কেউ নেই রক্ষা করার।'
মহানবী (সা) বললেন, 'না, তোমাকেও আল্লাহই রক্ষা করবেন।' এই বলে মহানবী (সা) তাকে তার তরবারি ফেরত দিলেন এবং চলে যেতে বললেন।
বিস্মিত দাসুর তরবারি হাতে চলে যেতে গিয়েও পারল না। ফিরে এসে মহানবীর হাতে হাত রেখে পাঠ করল: 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।'

📘 আমরা সেই জাতি 📄 মহানবী (সা) কবি আব্বাসের জিহবা কাটার হুকুম দিলেন

📄 মহানবী (সা) কবি আব্বাসের জিহবা কাটার হুকুম দিলেন


হুনাইনের যুদ্ধে মুসলমানরা পরাজিত হবার মুখেও আল্লাহর মেহেরবানীতে বিজয় লাভ করল। প্রচুর গনীমতের মাল পাওয়া গেল যুদ্ধ থেকে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি চার-পঞ্চমাংশ মুজাহিদদের মধ্যে বিতরণ করে দিলেন। অবশিষ্ট এক-পঞ্চমাংশ প্রয়োজন অনুসারে বিতরণ করলেন।
আব্বাস নামে একজন দুর্বল চরিত্রের নও মুসলিম কবিও তার অংশ মহানবী (সা)-এর কাছ থেকে পেলেন। কিন্তু তাঁর অংশে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। তিনি একটি কবিতার মাধ্যমে তাঁর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন যাতে মহানবী (সা) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য ছিল। মহানবী (সা) তা শুনে হাসলেন এবং বললেন, "ওকে নিয়ে যাও এবং জিহবা কেটে দাও।”
আলী (রা) ভয়ে কম্পমান কবিকে মাঠে নিয়ে গেলেন যেখানে বিজিত ভেড়া ছাগল ছিল। আলী (রা) কবিকে বললেন, "ভেড়া ছাগলের পাল থেকে যত ইচ্ছা নাও।”
কবি আনন্দে চিৎকার করে উঠলেন, "মহানবী (সা) কি এভাবেই আমার জিহবা কাটতে বলেছেন? আমি আল্লাহর নামে শপথ করছি, আমি কিছুই নেব না।” এরপর কবি আব্বাস মহানবী (সা)-এর প্রশস্তিমূলক ছাড়া কোন কবিতাই আর লিখেননি।

📘 আমরা সেই জাতি 📄 রাসূলুল্লাহ (সা) কদাচিৎ দু’বেলা পেটভরে আহার করতে পেরেছেন

📄 রাসূলুল্লাহ (সা) কদাচিৎ দু’বেলা পেটভরে আহার করতে পেরেছেন


রাসূলুল্লাহর (সা) ইন্তিকালের পর একদিন এক ভিখারিণী তার দুই সন্তানসহ হযরত আয়িশার (রা) নিকট এসে কিছু খাবার প্রার্থনা করলো। এ সময় হযরত আয়িশার (রা) নিকট মাত্র তিনটি খেজুর ছিল। তিনি এই ভিখারিণী এবং দুই সন্তানকে তিনটি খেজুর প্রদান করেন। মহিলা দু'টি খেজুর তার দুই সন্তানকে দিল এবং নিজের জন্য অপরটি রেখে দিল। শিশুদ্বয় দু'টি খেজুর খাওয়ার পর তাদের মায়ের দিকে তাকালো। মা তাদের চাহনির অর্থ বুঝতে পারলো। নিজের জন্য রাখা অপর খেজুরটি অতঃপর দু'ভাগ করে দুই সন্তানকে দিল। নিজের জন্য কিছুই রইলো না। মাতৃস্নেহের এই দৃশ্য আয়িশা সিদ্দীকার (রা) হৃদয় স্পর্শ করলো। তিনি কেঁদে ফেললেন।
একদিন আয়িশা সিদ্দীকা (রা) খেতে বসে কেঁদে ফেললেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) অবশ্য জীবিত নেই। তিনি বললেন, 'আমি যখন ভরা পেটে খাই, তখন অশ্রু সংবরণ করতে পারি না।' পার্শ্বে দন্ডায়মান এক মহিলা এর কারণ কি জিজ্ঞাসা করলেন। জবাবে আয়িশা (রা) বললেন, 'রাসূলুল্লাহর (সা) কথা আমার মনে পড়ে। রাসূলুল্লাহ (সা) জীবিতাবস্থায় কদাচিৎ দু'বেলা পেট ভরে আহার করতে পেরেছেন।'

রাসূলুল্লাহর (সা) ইন্তিকালের পর একদিন এক ভিখারিণী তার দুই সন্তানসহ হযরত আয়িশার (রা) নিকট এসে কিছু খাবার প্রার্থনা করলো। এ সময় হযরত আয়িশার (রা) নিকট মাত্র তিনটি খেজুর ছিল। তিনি এই ভিখারিণী এবং দুই সন্তানকে তিনটি খেজুর প্রদান করেন। মহিলা দু'টি খেজুর তার দুই সন্তানকে দিল এবং নিজের জন্য অপরটি রেখে দিল। শিশুদ্বয় দু'টি খেজুর খাওয়ার পর তাদের মায়ের দিকে তাকালো। মা তাদের চাহনির অর্থ বুঝতে পারলো। নিজের জন্য রাখা অপর খেজুরটি অতঃপর দু'ভাগ করে দুই সন্তানকে দিল। নিজের জন্য কিছুই রইলো না। মাতৃস্নেহের এই দৃশ্য আয়িশা সিদ্দীকার (রা) হৃদয় স্পর্শ করলো। তিনি কেঁদে ফেললেন।
একদিন আয়িশা সিদ্দীকা (রা) খেতে বসে কেঁদে ফেললেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) অবশ্য জীবিত নেই। তিনি বললেন, 'আমি যখন ভরা পেটে খাই, তখন অশ্রু সংবরণ করতে পারি না।' পার্শ্বে দন্ডায়মান এক মহিলা এর কারণ কি জিজ্ঞাসা করলেন। জবাবে আয়িশা (রা) বললেন, 'রাসূলুল্লাহর (সা) কথা আমার মনে পড়ে। রাসূলুল্লাহ (সা) জীবিতাবস্থায় কদাচিৎ দু'বেলা পেট ভরে আহার করতে পেরেছেন।'

ফন্ট সাইজ
15px
17px