📘 আমরা সেই জাতি > 📄 জাদুকর জামাদের কুরআন শোনা

📄 জাদুকর জামাদের কুরআন শোনা


জামাদ নামে ইয়ামেনের একজন কুখ্যাত যাদুকর মক্কায় এলো। সে কুরাইশদের আশ্বাস দিল মুহাম্মাদ (সা)-এর উপর দুষ্ট দেবতার যে আছর তা সে ছাড়িয়ে দেবে। কুরাইশরা খুব খুশী হলো।
জামাদ মহানবী (সা)-এর কাছে গিয়ে হাযির হলো এবং বলল যে, সে তাকে ভালো করে দেবে। মহানবী (সা) তাকে বললেন, তাহলে আগে আমার কিছু কথা শুনুন। তারপর মহানবী (সা) কুরআন থেকে কয়েকটি আয়াত পাঠ করলেন। জামাদ আয়াতগুলো শুনে চমৎকৃত হলো এবং আয়াতগুলো পুনরায় পাঠ করার জন্যে অনুরোধ করল।
মহানবী (সা) আয়াতগুলো দ্বিতীয়বার যখন পাঠ সমাপ্ত করলেন, তখন জামাদ চিৎকার করে বলে উঠল, "আমি বহু ভবিষ্যদ্বক্তা, যাদুকর ও কবির কথা শুনেছি, কিন্তু আল্লাহ সাক্ষী, এই কথাগুলোর কোন তুলনা নেই। অতলগভীর এই কথাগুলো।"
তারপর সে বলল, "হে মুহাম্মাদ, আপনার হাত এগিয়ে দিন। আমি আপনার আনুগত্যের শপথ করছি।”

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 পোকা ধ্বংস করল বয়কটের দলিল

📄 পোকা ধ্বংস করল বয়কটের দলিল


নববী ষষ্ঠ সনে কুরাইশরা মহানবী ও তাঁর গোত্রকে বয়কট করে সকলকে এক সাথে ধ্বংস করে ফেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। এজন্য মক্কার সকল গোত্র একত্রিত হয়ে একটি দলিল সম্পাদন করল। দলিলে বলা হল: "মক্কার কোন ব্যক্তি বনু হাশিম গোত্রের সাথে আত্মীয়তা করবে না, তাদের কাছে কোন বস্তু ক্রয়-বিক্রয় করবে না, তাদের কাছে খাদ্য প্রেরণ করবে না। যতদিন পর্যন্ত তারা অর্থাৎ বনু হাশিম রাসূলকে (সা) হত্যার জন্য কুরাইশদের হাতে সমর্পণ না করবে ততদিন পর্যন্ত এই চুক্তি বলবৎ থাকবে।”
মহানবী বনু হাশিমের সমস্ত লোকজনসহ শি'আবে আবুতালিব গিরি- উপত্যকায় আশ্রয় গ্রহণ করলেন। সুদীর্ঘ তিন বছর তাঁরা অবরুদ্ধ অবস্থায় এই উপত্যকায় অবস্থান করলেন। এই বন্দী জীবন এত কঠোর ছিল যে, জঠরজ্বালা নিবারণের জন্য তাদেরকে গাছের পাতা খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করতে হয়েছে। সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এক দিনের ঘটনা বলেছেন: সেদিন রাত্রিতে তিনি একটি শুকনা চামড়া আগুনে ঝলসিয়ে ক্ষুধার জ্বালা নিবারণ করেছিলেন।
ছোট ছোট শিশুরা যখন ক্ষুৎপিপাসায় কাতর হয়ে চীৎকার করত, তখন বাহির থেকে কুরাইশরা তা শুনে আনন্দে নৃত্য করত। আবার কোন কোন সহৃদয় ব্যক্তি এতে দুঃখিত হত।
একদিন হযরত খাদীজার (রা) ভ্রাতুষ্পুত্র হাকিম ইবনে হিযام স্বীয় দানের মাধ্যমে হযরত খাদীজার (রা) নিকট সামান্য পরিমাণ গম পাঠাচ্ছিল। কিন্তু পথের মধ্যে আবু জাহল তা দেখতে পেয়ে ছিনিয়ে নেবার উপক্রম করলে ঘটনাক্রমে আবুল বুখতারি সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি যদিও কাফির ছিলেন, তবু অন্তরে তাঁর দয়ামায়া ছিল। তিনি বললেন, ফুফুর কাছে সামান্য খাবার পাঠাচ্ছে তাতে তুমি বাধা দিচ্ছ কেন?
ধীরে ধীরে খোদ কুরাইশদের মধ্যেই চুক্তিভঙ্গের জন্য আন্দোলন শুরু হয়ে গেল। হিশাম ইবনে আমর নামক জনৈক ব্যক্তি বনু হাশিমের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছিলেন এবং স্বীয় গোত্রের মধ্যেও অত্যন্ত বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি গোপনে গোপনে তাদের কাছে খাদ্য পাঠাতেন। তিনিই একদিন আবদুল মুত্তালিবের দৌহিত্র যুহাইরের নিকট গমন করে বললেন, "কি হে যুহাইর! তোমার কি পছন্দ হয় যে, তুমি প্রচুর পরিমাণে পানাহার করবে ও যাবতীয় আনন্দ উপভোগ করবে, আর তোমার মামার ভাগ্যে এক দানাও জুটবে না।
যুহাইর বললেন, "কি করব? আমি একা, যদি আমাকে সমর্থন করবার মত একজন লোকও পেতাম, তাহলে ঐ অন্যায় চুক্তিপত্র অবশ্যই ছিঁড়ে ফেলতাম।” হিশাম বললেন, "আমি তোমার সাথে আছি।”
অতঃপর তারা উভয়ে মিলে মুত'ইম ইবনে আদির কাছে উপস্থিত হলেন। অপরদিকে আবুল বুখতারি ইবনে হিশাম এবং যুম'আ ইবনুল আসওয়াদও তাঁদেরকে সমর্থন দান করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন। একদিন সকলে মিলে কা'বার অংগনে গমন করলেন। সেখানে যুহাইর সমবেত জনতাকে সম্বোধনপূর্বক জিজ্ঞাসা করলেন,
"হে মক্কাবাসীগণ! এটা কেমন কথা যে, আমরা সুখে-শান্তিতে দিন যাপন করব, আর বনু হাশিমদের ভাগ্যে সামান্য খাবারও জুটবে না? খোদার কসম! এই অন্যায় চুক্তিপত্র ছিঁড়ে না ফেলা পর্যন্ত আমি শান্ত হব না।” এই কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আবু জাহল দাঁড়িয়ে ঘোষণা করল, "সাবধান, এই চুক্তিপত্রের বিরুদ্ধে কাকেও কিছু করতে দেয়া হবে না।” যুম'আ দাঁড়িয়ে পড়লেন, "তুমি মিথ্যাবাদী। এই চুক্তিপত্র সম্পাদনের সময় আমরা রাজি ছিলাম না।"
ঘুম'আর কথা শেষ হতেই আবুল বুখতারি দাঁড়িয়ে বলল, "কি ছাইভস্ম লেখা হয়েছে এতে, আমরা মোটেও খুশী নই, ওসব লেখা-টেখা আমরা মানিও না।” বুখতারি থামতেই মুতইম লাফিয়ে উঠে বলল, "তোমরা দু'জন ঠিকই বলেছ। ভিন্ন কথা যে বলবে, সে-ই হবে মিথ্যাবাদী।” হিশাম তাকে সমর্থন করল।
আবু জাহল বলল, মনে হয় তোমরা আগে-ভাগে জোট বেঁধে এসেছ।
এসব বাক-বিতন্ডার মধ্যে মুতইম লাফ দিয়ে উঠে কা'বার দেওয়াল থেকে বয়কটের দলিলটি নামিয়ে আনল ছিঁড়ে ফেলার জন্যে।
কিন্তু ছিঁড়ে ফেলতে হলো না। আল্লাহর পোকা-সৈনিকরা অনেক আগেই ধ্বংস করেছিল অন্যায় দলিলটিকে। দেখা গেল দলিলের সব শব্দ, সব কথা পোকায় খেয়ে ফেলেছে, অক্ষত রয়েছে একমাত্র 'বিসমিকা আল্লাহুম্মা' শব্দ।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 মযলুম চাইলেন যালিমরা বেঁচে থাকুক

📄 মযলুম চাইলেন যালিমরা বেঁচে থাকুক


মহানবী ধর্ম প্রচারের জন্য তায়েফ গমন স্থির করলেন। মহানবী ভেবেছিলেন, সুজলা সুফলা শস্য-শ্যামলা তায়েফের মানুষের মন হয়তো আরও নরম পাওয়া যাবে।
মহানবী তায়েফ চললেন। তায়েফের প্রধান গোত্র ছিল বনু সাকিফ। আবদইয়ালিল, মাসউদ ও হাবিব নামে তিনভাই ছিল সে গোত্রের প্রধান। মহানবী প্রথমে তাদের কাছে গেলেন, আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত দিলেন তাদেরকে। তারা দাওয়াত তো গ্রহণ করলই না বরং তাকে নানা রকমের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে জর্জরিত করলো।
তারা যখন দাওয়াত কবুল করলো না, তখন মহানবী তাদেরকে নিরপেক্ষ থাকতে অনুরোধ করলেন যাতে করে তাদের মত দ্বারা সাধারণ মানুষ প্রভাবিত হতে না পারে।
কিন্তু উল্টোই করল তারা। লেলিয়ে দিল ছেলে-ছোকরা ও দাসদের। মহানবী রাস্তায় বের হলেই তারা তাঁর পেছনে পেছনে ছুটতো, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করতো, পাথর ছুড়তো।
এর মধ্যেই মহানবী সত্যের আহবান তায়েফের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে লাগলেন। পথের দু'ধার থেকে তাঁর পা লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হতে লাগলো। রক্ত রঞ্জিত হয়ে গেল তাঁর পা। চলতে না পেরে মাঝে মাঝে তিনি বসে পড়তেন। লোকরা তাঁকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে আবার সেই আগের মতই পাথর নিক্ষেপ করতো। এভাবে ক্রমে তাঁর জীবন সংশয় দেখা দিল।
অবশেষে মহানবী মক্কায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন। এই সময় অত্যাচার আরও ভীষণ আকার ধারণ করল। একদিন তারা পাথরের আঘাতে আঘাতে তাঁর দেহ জর্জরিত করে তুললো। সর্বাঙ্গ থেকে রক্তের ধারা গড়িয়ে পড়তে লাগল। এক সময় অবসন্ন হয়ে পড়ে গেলেন মহানবী। ক্লান্ত অবসন্ন দেহটা নিয়ে মহানবী ঢুকে পড়লেন একটি আংগুর বাগানে।
দেহের প্রবাহিত রক্ত জুতায় প্রবেশ করে পায়ের সাথে জমাট বেঁধে গিয়েছিল। জুতা খুলতে খুবই কষ্ট হলো তাঁর। ওযু করে মহানবী বিশ্ব-জগতের মালিক প্রভুর উদ্দেশ্যে নামাযে তন্ময় হয়ে গেলেন। নামায শেষে প্রভুর উদ্দেশ্যে তিনি দু'টি প্রার্থনার হাত উত্তোলন করলেন। কি প্রার্থনা করলেন তিনি? তিনি কি নিজের কষ্ট লাঘবের জন্য দোয়া করলেন? নাকি তিনি তায়েফবাসীদের জন্য বদদোয়া করলেন? না তিনি এ সবের কিছুই করেননি। তিনি প্রভুর সমীপে দু'টি হাত তুলে বললেন, "হে আমার আল্লাহ, তোমাকে ডাকছি। নিজের এই দুর্বলতা, নিরুপায় অবস্থা সম্বন্ধে তোমার কাছেই অভিযোগ পেশ করছি। হে পরম দয়াময়, তুমিই যে দুর্বলের বল। প্রভূহে, তোমার সন্তোষই আমার একমাত্র কাম্য। তোমার সন্তোষ পেলে এসকল বিপদ-আপদের কোন পরওয়াই করিনা।"
মহানবী মক্কায় ফিরে চলেন। যখন তিনি তায়েফ ছাড়ছিলেন, তখন আল্লাহর নির্দেশে পাহাড়ের ফিরিশতা এসে তায়েফবাসীদেরকে পাহাড় চাপা দিয়ে মেরে ফেলার অনুমতি চাইলেন। মহানবী (সা) বললেন, 'আমি চাই তারা বেঁচে থাকুক। তাদের বংশধরগণ তো ইসলাম গ্রহণ করতে পারে।'

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 মহানবীর দর্শন ঘাতককে করল বিহবল

📄 মহানবীর দর্শন ঘাতককে করল বিহবল


মহানবী হিজরাত করছেন মদীনা। চলছেন পথ ধরে। পূর্ব দিগন্ত তখনও সফেদ হয়ে উঠেনি। তিনটি উট এবং চার জন মানুষের (মহানবী, আবুবকর এবং আবদুল্লাহ ইবনে উরাইকাত ছাড়াও আমের এই কাফিলায় শামিল ছিলেন।) ছোট্ট কাফিলা মদীনার পথে চলছে। আবু বকরের কাছ থেকে কেনা 'কাছওয়া' নামক উটে মহানবী, আমের এবং হযরত আবু বকর আসীন আবু বকরের উটে এবং আবদুল্লাহ ইবনে উরাইকাত তাঁর নিজস্ব উটে। দ্রুত পথ অতিক্রম করছে কাফিলাটি। ডাইনে লোহিত সাগর, বামে অন্তহীন পাহাড়ের শ্রেণী, মাঝখানের মরুপথ ধরে এগিয়ে চলছে কাফিলা।
যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করা সত্ত্বেও মহানবীর কাফিলা সওর গিরিগুহা থেকে বের হলে যাত্রার দৃশ্য একজন পল্লীবাসী আরবের চোখে পড়ে গেল। ঐ আরব তার গোত্রের এক জমায়েতে গিয়ে এই খবর দিয়ে বলল, 'আমার মনে হচ্ছে ওদেরকেই কুরাইশরা খুঁজছে। মহানবী ও আবু বকরকে হত্যা করতে পারলে একশ' উট পাওয়া যাবে।'- এ খবর এ পল্লীতেও এসেছিল। সুতরাং ঐ খবরটি শোনার সংগে সংগে বৈঠকে উপস্থিত সুরাকা নামক জনৈק যুবক গোটা পুরস্কার নিজে হাত করার লোভে বলল, 'না না তারা সে লোক নয়। আমি জানি তারা অমুক অমুক লোক, উট খুঁজতে বেরিয়েছে।' সুরাকার কথা সকলে সত্য বলে ধরে নিয়ে যখন অন্য আলোচনায় মশুগুল হয়ে পড়ল, তখন সুরাকা ধীরে ধীরে মজলিস থেকে বের হয়ে এল। তারপর অস্ত্র-সজ্জিত হয়ে বলবান ঘোড়া নিয়ে মহানবী এবং আবু বকরকে হত্যার জন্য বেরিয়ে পড়ল।
দেরী সহ্য হচ্ছিল না সুরাকার। উঁচু নিচু পাথর পথে তীর বেগে ঘোড়া ছুটালো সুরাকা। দূরে দেখতে পেল সেই কাফিলাকে। সুরাকার ঘোড়ার গতি আরও বেড়ে গেল। কিন্তু ঘোড়া মারাত্মকভাবে পা পিছলে পড়তে পড়তে বেঁচে গেল। সুরাকার মনে ভীষণভাবে খোঁচা লাগল। লক্ষ্যের সাফল্য সম্পর্কে তার মনে সন্দেহের দোলা লাগল। সে আরবীয় রীতি অনুসারে তীর দিয়ে লটারী করল। তাতে না সূচক জবাব পেয়ে সে ভীষণ দমে গেল। কিন্তু তা মুহূর্তের জন্য। তারপর লটারী ভুল হয়েছে ধরে নিয়ে সে আবার তীরবেগে ঘোড়া ছুটিয়ে দিল।
আবু বকরের সন্ধানী চোখ এই সময় সুরাকাকে দেখতে পেল। তিনি উদ্বিগ্নভাবে নবীকে বললেন, "দেখুন, আততায়ী এবার আমাদের ধরে ফেলেছে।”
নিরুদ্বিগ্ন কণ্ঠে আবু বকরকে সান্ত্বনা দিয়ে মহানবী বললেন, "ভীত হয়ো না আবু বকর, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।”
তীর বেগে ছুটেছে সুরাকার ঘোড়া। কাফিলাকে সে ধরে ফেলেছে প্রায়। বাঁধনহীন উৎসাহ উত্তেজনায় সুরাকা তখন উন্মত্ত। চলার পথে সুরাকার ঘোড়া আবার দুর্ঘটনায় পড়ল। এবার ঘোড়ার দু'টি পা মাটিতে দেবে গেল। পা দু'টি তোলার অনেক চেষ্টা করল সুরাকা, কিন্তু পারল না। এই সময় আগের লটারীর ফল তার মনে পড়ল। মনটা তার ভীষণ দমে গেল। আবার তীর বের করে সতর্কতার সাথে সেই লটারীই পুনরায় করল। কিন্তু এবারও সেই উত্তর 'না'।
সুরাকার মন এবার ভীতি অনুভব করল। অপর দিকে মহানবীর অবিচল, নিরুদ্বিগ্ন এবং শান্ত সৌম্য অবস্থা সুরাকাকে বিহবল করে তুলল। সুরাকা নিজেই বলেছে, তখনকার অবস্থা দেখে আমার মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাল, মুহাম্মাদ নিশ্চয়ই জয়যুক্ত হবেন।
সুরাকা যখন ভীত-বিহবলতায় কাতর, তখন তার ঘোড়া নিজেকে উদ্ধারের জন্য অবিরাম চিৎকার করছে ও পা ছুড়ছে। এই অবস্থায় সুরাকা নবীর কাফিলাকে উদ্দেশ্য করে বলল, "হে মক্কার সওয়ারগণ, একটু দাঁড়াও। আমি সুরাকা, আমার কিছু কথা আছে, কোন অনিষ্টের ভয় নেই।”
সুরাকা অতঃপর নবীর কাছে পৌঁছে নিজের সব কথা খুলে বলে আরজ করল, "আমার খাদ্য সম্ভার ও অস্ত্র-শস্ত্র আপনারা গ্রহণ করুন।"
মহানবী তার দান গ্রহণ না করে মিষ্টি কথায় বললেন, 'এ সবের কোন আবশ্যকতা আমাদের নেই। আমাদের কথা কাউকে বলে না দিলেই উপকৃত হব।'
সুরাকা তখন আরজ করল, "আমার জন্য আপনি একটা পরওয়ানা লিখে দিন, যা প্রদর্শন করে আমি উপকৃত হতে পারব।” মহানবী আমেরকে বলে চামড়ায় ঐ ধরনের একটি পরওয়ানা লিখে দিলেন।
অতঃপর সুরাকা ফিরে গেল। মহানবীর কাফিলা আবার যাত্রা করল মদীনার পথে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00