📘 আমরা সেই জাতি > 📄 প্রথম বিজয় নিশান উড়লো

📄 প্রথম বিজয় নিশান উড়লো


নবুওয়াতের গুরু দায়িত্ব নিয়ে ধীর যাত্রা শুরু হয়েছে মহানবীর(সা)। গোটা ধরণীটাই অন্ধকারে নিমজ্জিত, তিনিই মাত্র আলোর এক শিখা। সমূলে জেকে বসা ঐ অন্ধকার তার আপ্রাণ হিংস্রতা নিয়ে আলোর অস্তিত্ব বিনাশে উদ্যত। এরই মধ্যে শুরু হলো আলোর সন্তর্পণ যাত্রা। তিন বছর ধরে প্রচার চললো সংগোপনে। আলোর কাফিলায় এসে শামিল হলো খাদীজা, আলী, যায়েদ, উম্মে আয়মান, আবুবকর সিদ্দিক, উসমান, জোবায়ের, তাল্হা, আবু ওবাইদা, আব্দুল্লাহ ইবনে মসউদ (রা) প্রমুখ। কিন্তু প্রকাশের জন্যই যে আলোর আগমন তার আত্মগোপন আর কত? প্রতিক্রিয়ার মুকাবিলা এবং বাধার পাহাড় ডিঙানোই যে পথের স্বভাবধর্ম তা কি আত্মপ্রকাশ না করে পারে? পারে কি আপোষ করে চলতে? এল অবশেষে সে প্রকাশের দিন। নাযিল হলো আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ “তোমার প্রতি যে আদেশ তা তুমি স্পষ্ট করে শুনিয়ে দাও এবং মুশরিকদের প্রতি ভূক্ষেপও করো না।”
প্রকাশ্য দাওয়াতের প্রথম সম্মেলন মহানবী (সা) ডাকলেন তাঁর বাড়ীতেই। মহানবীর দাওয়াতে বনু হাশিম বংশের প্রায় ৪০ জন প্রধান ব্যক্তি হাজির হলেন তাঁর গৃহে। গোপন প্রচারের খবর কেউ কেউ জানতেন, জানতো আবু লাহাবও। সে আঁচ করতে পেরেছিলো নবী কি বলতে চান এ সম্মেলনে। তাই খাওয়া-দাওয়া শেষে মহানবী যেই বলতে শুরু করলেন, হট্টগোল বাধালো আবু লাহাব। বললো সে, "দেখ মুহাম্মাদ, তোমার চাচা, চাচাতভাই সকলেই এখানে উপস্থিত, চপলতা ত্যাগ কর। তোমার জানা উচিত, তোমার জন্য সমস্ত আরব দেশের সাথে শত্রুতা করার শক্তি আমাদের নেই। তোমার আত্মীয়- স্বজনের পক্ষে তোমাকে ধরে কারারুদ্ধ করে রাখা উচিত। তোমার ন্যায় স্ববংশের এমন সর্বনাশ কেউ করেনি।"
সেদিন সম্মেলন ভেংগে গেল। মহানবী (সা) তাঁর বাড়ীতে ইসলামের বাণী প্রচারের জন্যে আবার সম্মেলন ডাকলেন- দাওয়াতের দ্বিতীয় সম্মেলন। বনু হাশিমের প্রধানবর্গ আবার হাজির হলেন। হাজির হলেন আবু লাহাবও। এবার মহানবী (সা) আবু লাহাবকে কোন কূটনীতির সুযোগ দিলেন না। খানা-পিনার পরই উঠে দাঁড়িয়ে মহানবী তাঁর দাওয়াত পেশ করলেন। তিনি বলেন, "সমবেত ব্যক্তিগণ, আমি আপনাদের জন্য ইহকাল-পরকালের এমন কল্যাণ এনেছি যা আরবের কোন ব্যক্তি তার স্বজাতির জন্য আনেনি। আমি আল্লাহর আদেশে সেই কল্যাণের দিকে আপনাদের আহবান করছি। সত্যের এ মহা সাধনায়, কর্তব্যের কঠোর পরীক্ষায় আপনাদের মধ্য থেকে কে আমার সহায় হবেন, কে আমার সাথী হবেন?”
মজলিসে কারো মুখে কোন কথা নেই। একক এক ব্যক্তির কন্ঠ থেকে আসা সত্যের বজ্র নির্ঘোষ বনুহাশিমের শক্তিমান প্রবীণদের যেন হতবাক করে দিয়েছে। বাচাল আবু লাহাবও সে মৌনতা ভাঙতে পারলো না, পারলো না সশব্দে সে দাওয়াত প্রত্যাখ্যাত করতে। হকের এ কন্ঠের দাওয়াত যেন শত কন্ঠের শক্তি নিয়ে ছড়িয়ে পড়ল।
অবশেষে মৌনতা ভাঙল। ভাঙলেন আবু তালিব পুত্র মহানবীর চাচাতো ভাই বালক আলী। সবাইকে শুনিয়ে উদাত্ত কণ্ঠে তিনি বললেন, "এই মহাব্রত গ্রহণের জন্য আমি প্রস্তুত আছি।”
বনু হাশিমের কোনও প্রধানের মুখে কোন কথাই আর জোগাল না। শুধু আবু লাহাবই প্রকাশ্য দাওয়াতের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার প্রথম প্রকাশ ঘটিয়ে, রাসূলকে নয়, আবু তালিবকে বললেন, "দেখছেন আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রের কল্যাণে এখন আপনাকে স্বীয় বালকপুত্রের অনুগত হয়ে চলতে হবে।” কিন্তু আবু লাহাবের এ প্রতিক্রিয়া বিজয়ীর নয়, বিজিতের। দাওয়াতে হকের প্রথম বিজয় নিশান উড়ল এইভাবেই।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 জাগতিক কোন অবলম্বনই যখন আর মহানবীর রইলনা

📄 জাগতিক কোন অবলম্বনই যখন আর মহানবীর রইলনা


সব বাধা ডিঙিয়ে মহানবীর (সা) ইসলাম প্রচার চলছেই অবিরাম। সব দেখে কুরাইশ প্রধানরা অধৈর্য হয়ে উঠলো। অনেক সলাপরামর্শের পর তারা একযোগে এসে আবু তালিবকে বললো, "দেখুন, আপনার বয়স, আপনার বংশ গৌরব এবং আপনার সম্ভ্রমের প্রতি আমরা সকলেই সম্মান প্রদর্শন করি। এ জন্যই আপনার ভাতিজা সম্পর্কে আপনাকে পূর্বেই সতর্ক করে দিয়েছিলাম। আপনি নিশ্চিত থাকুন আপনার ভাতিজার অত্যাচার আর আমরা কিছুতেই নীরবে সহ্য করব না। আপনি তাকে নিবৃত্ত করুন নতুবা তার সাথে আপনাকেও আমরা একদল হিসেবে দেখব- দু'দলের মধ্যে একদল ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্ষান্ত হবো না।”
বৃদ্ধ আবু তালিব কুরাইশ প্রধানদের এই চরমপত্র নীরবে গ্রহণ করলেন। এই কুরাইশদের একজন হিসেবে তিনি সবাইকে ভালভাবেই চিনেন। জানেন তিনি তাদের হিংসার আগুন কতদূর পোড়াতে পারে। আরও তিনি বুঝলেন, তারা এবার আট-ঘাট বেঁধেই এসেছে। সান্ত্বনা দিয়ে আর তাদের ফেরানো যাবেনা। এই প্রথমবারের মত আবু তালিব সত্যই নিজেকে বিচলিত বোধ করলেন। ভাবলেন। ভেবে নিয়ে তিনি ভাতিজাকে ডেকে পাঠালেন তাঁর কাছে এই দরবারে।
দরবার নীরব নিস্তব্ধ। আবু তালিবের বিষণ্ণ মুখে চিন্তার কালো রেখা। বোধহয় কুরাইশ প্রধানদের মনের কোণায় আত্মতৃপ্তির হাসি: এবার আবু তালিবকে ওষুধে ধরেছে। সবার আক্রোশকে চ্যালেঞ্জ করার সাধ্য বুড়ো আবু তালিবের নেই। দরবারের এমন পরিবেশেই মহানবী এসে হাজির হলেন।
কুরাইশ প্রধানরা এখন উদগ্রীব আবু তালিব তার ভাতিজাকে কি বলেন তা শোনার জন্য। বৃদ্ধ আবু তালিব মহানবীকে কুরাইশদের কঠোর সংকল্প এবং ভয়াবহ পরিণতির কথা বুঝিয়ে বলার পর সস্নেহে বললেন, "বাবা একটু বিবেচনা করে কাজ কর, যে ভার বইবার শক্তি আমার নেই আমার উপর তা চাপিয়ে দিও না।”
চাচা আবু তালিব কি বলতে চান, মহানবী তা বুঝলেন। তিনি আরও বুঝলেন, জাগতিক যে আশ্রয়টুকু তাঁর ছিল তার ভিতও আজ নড়ে উঠেছে।
কিন্তু তিনি বিচলিত হলেন না একটুকুও। তিনি বললেন, “চাচা, আমার প্রতি এমন কঠোর না হয়ে এরা আমার কথা মেনে নিক তাহলে সমস্ত আরব বেহেস্তি ধর্ম বন্ধনে আবদ্ধ হবে, সমস্ত আজম আরবের পদতলে লুটিয়ে পড়বে।”
আধিপত্যের গন্ধ পেয়ে আবু লাহাব ও অন্যান্যরা একবাক্যে বলল, ‘কি, কি সে কথা, খুলে বল। একটা কেন, তোমার দশটা কথা আমরা শুনতে প্রস্তুত আছি।’ মহানবী গম্ভীর কন্ঠে বললেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলুন, এতে বিশ্বাস স্থাপন করুন।”
মহানবীর একথায় বারুদের মত জ্বলে উঠল কুরাইশ প্রধানরা। যে মুখ, যে কথা তারা বন্ধ করতে এসেছে, একেবারে তাদের মুখের উপরেই সেই কথা। অবস্থা দৃষ্টে আবু তালিবও নবীকে (সা:) কয়েকটি ভীতি ও বিষাদপূর্ণ উপদেশ দিলেন।
ভীষণ এক পরিস্থিতি তাঁর সামনে। মারমুখো কুরাইশরা একদিকে, অন্যদিকে পিতৃব্য আবু তালিবেরও আজ অসহায় সুর। জাগতিক কোন অবলম্বনই তাঁর সামনে আর থাকলো না। কিন্তু তিনি কোন দিকেই ভ্রুক্ষেপ করলেন না। পিতৃব্যের দিকে তাকিয়ে তেজোদীপ্ত কন্ঠে তিনি বললেন, “চাচা, এরা যদি আমার ডান হাতে সূর্য এবং বাম হাতে চাঁদ এনে দেয়, তাহলেও আমি এ মহাসত্য ও নিজের কর্তব্য থেকে এক মুহূর্তের জন্যেও সরে দাঁড়াব না। হয় আল্লাহ একে জয়যুক্ত করবেন, না হয় আমি ধ্বংস হয়ে যাব। কিন্তু আপনি নিশ্চিত জানুন, মুহাম্মাদ কখনই নিজের কর্তব্য পরিত্যাগ করবে না।” মহানবী থামলেন। এক পবিত্র ভাব ও আবেগে তার চোখ দু’টি অশ্রু সজল হয়ে উঠল।
কুরাইশ প্রধানদের মিশন ব্যর্থ হলো। নানা প্রকার হুমকি ধমকি দিতে দিতে তারা সদল বলে আবু তালিবের বাড়ী থেকে চলে গেল।
আবু তালিব নীরব ছিলেন। ভাতিজার তেজোদীপ্ত কথায় চোখ দু’টি তার উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। আগের সেই বিষণ্ণতা, দুর্বলতা তাঁর কেটে গেছে। তিনি ভাতিজাকে বললেন, “প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্র, নিজের কর্তব্য পালন করে যাও, আল্লাহর শপথ আমি কোন অবস্থাতেই তোমাকে পরিত্যাগ করবো না।”

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 হারিসের শাহাদাত দিয়ে শুরু হলো রক্তরঞ্জিত পথের

📄 হারিসের শাহাদাত দিয়ে শুরু হলো রক্তরঞ্জিত পথের


মক্কার ঘরে ঘরে এখন তাওহীদের দাওয়াত মুখ্য আলোচনার বিষয়। এই আলোচনার মধ্য দিয়ে ইসলামের দাওয়াত মক্কার সমাজ-জীবনের গভীর থেকে গভীরে প্রবেশ করতে লাগল। সেই সাথে বিস্তার ঘটতে লাগল প্রতিক্রিয়ারও। ইসলামের ধীরগতি বিস্তার আবু লাহাবদের দৃষ্টি এড়ালো না। শক্তির জোরে বাধা দেয়ার একটা মানসিকতা তাদের মধ্যে দানা বেঁধে উঠল। কিন্তু আল্লাহর নবী এই ইবলিসী প্রতিক্রিয়ার প্রতি ভূক্ষেপ করবেন কেন? হকের দাওয়াত অবিরাম পৌঁছিয়েই চলতে হবে- মানুষের ঘরে ঘরে প্রতিটি কানে কানে।
মহানবী সাফা পর্বতে দাঁড়িয়ে দাওয়াত দিয়েছেন। কিন্তু সমাজের মিলন কেন্দ্র আল্লাহর ঘর কা'বায় গিয়ে মানুষের কাছে তাঁর দাওয়াত পৌঁছানো হয়নি এখনও।
একদিন কতিপয় মুসলিম সাথী নিয়ে তিনি কা'বায় এলেন। সেখানে অনেক মানুষ- কা'বার চারদিকের বাসিন্দা। সবাই নবীর (সা) স্বজন-স্বগোত্র। মহানবী (সা) সেখানে হাজির হয়ে ইসলামের কথা, তাওহীদের দাওয়াত উচ্চারণ করছিলেন। প্রতিক্রিয়ার আগুন জ্বলে উঠল সংগে সংগেই।
প্রথমে কানা-কানি, তারপর শোরগোল। প্রতিক্রিয়ার শক্তি এই প্রথমবারের মত সংঘবদ্ধভাবে নবীর (সা) উপর দৈহিক আক্রমণের ঔদ্ধত্য নিয়ে ছুটে এল। খাদীজার সন্তান (পূর্বস্বামীর) তরুণ মুসলিম হারিস ইবনে আবিহালাহ তাদের সামনে দাঁড়ালেন। প্রতিবাদ করলেন। প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির সমস্ত ক্রোধ গিয়ে তাঁর উপর পড়ল। আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হলেন হারিস। তাঁর দেহের লাল রক্তের স্রোত রঞ্জিত করলো কাবার চত্বরকে। হারিস শহীদ হলেন- ইসলামের প্রথম শহীদ।
আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার ছোট্ট কাফিলা এই প্রথম এক জীবনের কুরবানী দিল। শুরু হলো প্রতিক্রিয়ার সাথে সেই চিরন্তনী সংঘাত আর রক্তরঞ্জিত পথযাত্রার।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 তাহলে মুহাম্মদের যাদু তোমাকেও ধরেছে

📄 তাহলে মুহাম্মদের যাদু তোমাকেও ধরেছে


কুরাইশ প্রধানরা শলাপরামর্শ করে ঠিক করল মুহাম্মাদকে তার বাঞ্ছিত কিছু দিয়ে নিরস্ত্র করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সকলে মিলে মক্কার বিখ্যাত ধনী ও সর্দার উৎত্তাকে দূত হিসাবে ঠিক করল।
সে সময় মহানবী (সা) কাবা গৃহে একাকী বসেছিলেন। এই সুযোগে কুরাইশ প্রধানদের দূত হিসেবে উৎবা এসে তাঁর কাছে উপবেশন করলেন। তারপর রাসূসুল্লাহকে (সা) লক্ষ্য করে নরম সুরে বলতে লাগলেন, 'দেখ বাছা, তুমি আমাদের পর নও, কিন্তু যে বিপ্লব নিয়ে আসছ তা কি, তুমি জান। পূর্ব-পুরুষের ধর্ম থেকে আমাদের বিচ্ছিন্ন করে নতুন এক অভিনব ধর্ম সৃষ্টি করছ ....। এরূপ করার উদ্দেশ্য কি আজ তুমি আমাকে খুলে বল। ধন যদি চাও তাহলে আমরা তোমার পদপ্রান্তে স্বর্ণ ও রৌপ্যের স্তূপ এনে দেব। সম্মান যদি চাও তাহলে আমরা সকলে এক বাক্যে তোমাকে প্রধান হিসাবে মেনে নেব। রাজত্ব করার আকাংখা যদি থাকে তাহলে আমাদের বল, তোমাকে গোটা আরবের অধিপতি পদে অভিষিক্ত করব। সব কিছুর বিনিময়ে তোমার কাছে আমাদের শুধু প্রার্থনা তোমার ঐ অভিনব ধর্মের কথা তুমি একেবারে তুলে যাও।”
উৎবার দীর্ঘ বক্তব্য শেষ হলে মহানবী (সা) হা-মীম আস্ সাজদাহ সূরা থেকে পাঠ করতে শুরু করলেনঃ "হা-মীম, দয়ালু করুণাময়ের পক্ষ থেকে এই গ্রন্থ, যার বাণীগুলি বিজ্ঞ লোকদের জন্য স্পষ্ট আরবী ভাষায় বিশদরূপে বিবৃত হয়েছে এবং যা (পুণ্যের পুরস্কারের) সুসংবাদ দান করে ও পাপের (দন্ড সম্বন্ধে) সতর্ক করে থাকে। অনন্তর তাদের অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে নিল, তারা (উপদেশ) শ্রবণ (গ্রহণ) করে না। তারা বলে, যে (তাওহীদের) দিকে আমাদেরকে আহবান করছে, আমরা তার ধারণা করতে পারিনা, তোমার কথা আমাদের কর্ণে প্রবেশও করে না। আর আমাদের ও তোমার মধ্যে একটা যবনিকা পড়ে আছে। অতএব তুমি চেষ্টা করতে থাক, আমরা চেষ্টায় রইলাম।"
এইভাবে মহানবী (সা) সূরার পাঁচটি রুকু তেলাওয়াত করলেন। অবশেষে সিজদার আয়াতে এসে সিজদা করে তেলাওয়াত শেষ করলেন।
উৎবা মন্ত্রমুগ্ধের মত সবকিছু শুনলেন। কুরআনের সুললিত ছন্দ ও কথা তাঁকে একেবারে অভিভূত করল। এত সম্পদ, এত সম্মান, এত বড় রাজ সিংহাসনের লোভ এমন অবলিলাক্রমে প্রত্যাখ্যান করতে দেখে উৎবা স্তম্ভিত হলেন। তিনি আনন্দ ও বিষাদে পূর্ণ এক মানসিক অবস্থা নিয়ে কুরাইশ সর্দারদের মজলিসে গিয়ে উপস্থিত হলেন। সকলের সাগ্রহ প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, "সেখানে যা' শুনলাম আল্লাহর শপথ তেমন আর কখনও শুনিনি, আল্লাহর শপথ, ভাষার দিক দিয়ে তা' কখনই কবির রচনা নয় এবং ভাবের দিক দিয়ে কখনই তা' যাদুমন্ত্র নয়। হে কুরাইশ সমাজ, আমার উপদেশ, এই ব্যক্তি যা' করে করুক তা' নিয়ে তোমরা আর গন্ডগোল করো না।"
উৎবার কথা কুরাইশ প্রধানদের চমকে দিল। তারা বলে উঠল, 'তাহলে মুহাম্মদের যাদু তোমার উপরও কাজ করতে শুরু করেছে!'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00