📄 দশম বাস্তবতা : প্রতিদান বিজয়লাভের সাথে সংযুক্ত নয়, আমলের সাথে সংযুক্ত
হে বিজয় বিলম্বিত হওয়ায় অস্থির হয়ে পড়া ভাই...
মনে রাখবেন, সাওয়াব বা প্রতিদান লাভের জন্য সফলতা অর্জনের প্রয়োজন নেই। একনিষ্ঠভাবে আমল করাই যথেষ্ট। আল্লাহ বলেন:
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'যে সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং সে ইমানদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং প্রতিদানে তাদেরকে তাদের উত্তম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরস্কার দেবো, যা তারা করত।'
জেনে রাখুন, আপনি যদি সুন্দরভাবে আপনার দায়িত্ব পালন করে যান, সফলতা আসুক বা না আসুক, আপনি আপনার বিনিময় পেয়ে যাবেন। আপনার চেষ্টা-সাধনা যত বেশি উন্নত হবে, আপনার সাওয়াবও ততটা উন্নত হবে। সফলতা ও বিজয় একদিন আসবেই আসবে। আপনি দেখে যেতে না পারলেও আপনার সন্তান ও ভাই-বন্ধুরা তার সুফল ভোগ করবে।
এ জন্য চেষ্টা করতে করতে কখনো বিজয়ের ব্যাপারে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেন না। ভুলেও এমনটি করবেন না। তাহলে আপনার সাওয়াব বিনষ্ট হয়ে যাবে। বিশ্বাস হারিয়ে ফেললে বিজয়ও বিলম্বিত হবে। কারণ বিশ্বাসই বিজয়কে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে আসে। বিজয়ের ব্যাপারে সন্দেহ-সংশয় থাকলে বিজয় সহজে ধরা দিতে চায় না। আল্লাহ বলেন:
مَنْ كَانَ يَظُنُّ أَنْ لَنْ يَنْصُرَهُ اللهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ فَلْيَمْدُدْ بِسَبَبٍ إِلَى السَّمَاءِ ثُمَّ لْيَقْطَعْ فَلْيَنْظُرْ هَلْ يُذْهِبَنَّ كَيْدُهُ مَا يَغِيظُ
‘যে ধারণা করে যে, আল্লাহ কখনোই ইহকালে ও পরকালে রাসুলকে সাহায্য করবেন না, সে একটি রশি আকাশ পর্যন্ত ঝুলিয়ে নিক; এরপর কেটে দিক; অতঃপর দেখুক, তার এই কৌশল তার আক্রোশ দূর করে কি না।'
খন্দক যুদ্ধের ওপর দৃষ্টিপাত করুন। রাসুল ﷺ-এর সাহাবিগণ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়ে গেলেন। চারিদিক থেকে শত্রুরা ঘেরাও করে নিল। এক্ষুনি শত্রুদল হানা দিয়ে সবকিছু শেষ করে দেবে এমন কঠিন অবস্থা। এমন সংকটজনক মুহূর্তে তাঁরা শুনতে পেলেন রাসুল ﷺ-এর মুখ থেকে কল্পনার ভিত নাড়িয়ে দেওয়া আজব ভবিষ্যদ্বাণী! সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা বিশ্বাস স্থাপন করলেন প্রিয় নেতার অবিশ্বাস্য সুসংবাদের ওপর!
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বারা (রাঃ)-এর মুখ থেকেই শুনুন সেই ঘটনা :
'...রাসুল বিসমিল্লাহ বলে পাথরটিতে কোদাল দিয়ে আঘাত হানলেন। তাতে তার একাংশ ভেঙে পড়ল। তখন তিনি বলে উঠলেন, “আল্লাহু আকবার! আমাকে শামের চাবিসমূহ দান করা হয়েছে! আল্লাহর কসম, আমি এখন তাদের লাল প্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি!” অতঃপর দ্বিতীয়বার আঘাত করলেন এবং বললেন, “আল্লাহু আকবার! আমাকে পারস্য সাম্রাজ্য দান করা হয়েছে! আল্লাহর কসম, আমি এখন মাদায়েনের শ্বেত-শুভ্র প্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি!” অতঃপর তৃতীয়বার বিসমিল্লাহ বলে আঘাত করলে পাথরটির বাকি অংশ ভেঙে পড়ল। তখন তিনি বললেন, “আল্লাহু আকবার! আমাকে ইয়ামেনের চাবিসমূহ দেওয়া হয়েছে! আল্লাহর কসম, আমি এখান থেকে সানার দরজাসমূহ দেখতে পাচ্ছি!””
চতুর্দিক থেকে শত্রুবেষ্টিত সাহাবিগণ শুনলেন শাম, পারস্য ও ইয়ামেন বিজয়ের সুসংবাদ! কিন্তু তাঁদের বিশ্বাসের দৃঢ়তা দেখুন। বিরাজমান নাজুক পরিস্থিতিতেও তাঁরা বিশ্বাস স্থাপন করতে এতটুকু দ্বিধা করেননি। যেন রাসুল ﷺ-এর মতো তাঁরাও দেখতে পাচ্ছিলেন ভবিষ্যৎ বিজয়ের সে দৃশ্যাবলি! এ জন্যই তো খন্দক যুদ্ধের পর মুসলিমদের বিজয়ঘোড়া বাধাহীনভাবে ছুটে চলেছিল!
টিকাঃ
৪৭. সুরা আন-নাহল, ১৬: ৯৭।
৪৮. সুরা আল-হাজ, ২২: ১৫।
৪৯. সুনানুন নাসায়ি: ৩১৭৬।
হে বিজয় বিলম্বিত হওয়ায় অস্থির হয়ে পড়া ভাই...
মনে রাখবেন, সাওয়াব বা প্রতিদান লাভের জন্য সফলতা অর্জনের প্রয়োজন নেই। একনিষ্ঠভাবে আমল করাই যথেষ্ট। আল্লাহ বলেন:
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'যে সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং সে ইমানদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং প্রতিদানে তাদেরকে তাদের উত্তম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরস্কার দেবো, যা তারা করত।'
জেনে রাখুন, আপনি যদি সুন্দরভাবে আপনার দায়িত্ব পালন করে যান, সফলতা আসুক বা না আসুক, আপনি আপনার বিনিময় পেয়ে যাবেন। আপনার চেষ্টা-সাধনা যত বেশি উন্নত হবে, আপনার সাওয়াবও ততটা উন্নত হবে। সফলতা ও বিজয় একদিন আসবেই আসবে। আপনি দেখে যেতে না পারলেও আপনার সন্তান ও ভাই-বন্ধুরা তার সুফল ভোগ করবে।
এ জন্য চেষ্টা করতে করতে কখনো বিজয়ের ব্যাপারে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেন না। ভুলেও এমনটি করবেন না। তাহলে আপনার সাওয়াব বিনষ্ট হয়ে যাবে। বিশ্বাস হারিয়ে ফেললে বিজয়ও বিলম্বিত হবে। কারণ বিশ্বাসই বিজয়কে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে আসে। বিজয়ের ব্যাপারে সন্দেহ-সংশয় থাকলে বিজয় সহজে ধরা দিতে চায় না। আল্লাহ বলেন:
مَنْ كَانَ يَظُنُّ أَنْ لَنْ يَنْصُرَهُ اللهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ فَلْيَمْدُدْ بِسَبَبٍ إِلَى السَّمَاءِ ثُمَّ لْيَقْطَعْ فَلْيَنْظُرْ هَلْ يُذْهِبَنَّ كَيْدُهُ مَا يَغِيظُ
‘যে ধারণা করে যে, আল্লাহ কখনোই ইহকালে ও পরকালে রাসুলকে সাহায্য করবেন না, সে একটি রশি আকাশ পর্যন্ত ঝুলিয়ে নিক; এরপর কেটে দিক; অতঃপর দেখুক, তার এই কৌশল তার আক্রোশ দূর করে কি না।'
খন্দক যুদ্ধের ওপর দৃষ্টিপাত করুন। রাসুল ﷺ-এর সাহাবিগণ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়ে গেলেন। চারিদিক থেকে শত্রুরা ঘেরাও করে নিল। এক্ষুনি শত্রুদল হানা দিয়ে সবকিছু শেষ করে দেবে এমন কঠিন অবস্থা। এমন সংকটজনক মুহূর্তে তাঁরা শুনতে পেলেন রাসুল ﷺ-এর মুখ থেকে কল্পনার ভিত নাড়িয়ে দেওয়া আজব ভবিষ্যদ্বাণী! সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা বিশ্বাস স্থাপন করলেন প্রিয় নেতার অবিশ্বাস্য সুসংবাদের ওপর!
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বারা (রাঃ)-এর মুখ থেকেই শুনুন সেই ঘটনা :
'...রাসুল বিসমিল্লাহ বলে পাথরটিতে কোদাল দিয়ে আঘাত হানলেন। তাতে তার একাংশ ভেঙে পড়ল। তখন তিনি বলে উঠলেন, “আল্লাহু আকবার! আমাকে শামের চাবিসমূহ দান করা হয়েছে! আল্লাহর কসম, আমি এখন তাদের লাল প্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি!” অতঃপর দ্বিতীয়বার আঘাত করলেন এবং বললেন, “আল্লাহু আকবার! আমাকে পারস্য সাম্রাজ্য দান করা হয়েছে! আল্লাহর কসম, আমি এখন মাদায়েনের শ্বেত-শুভ্র প্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি!” অতঃপর তৃতীয়বার বিসমিল্লাহ বলে আঘাত করলে পাথরটির বাকি অংশ ভেঙে পড়ল। তখন তিনি বললেন, “আল্লাহু আকবার! আমাকে ইয়ামেনের চাবিসমূহ দেওয়া হয়েছে! আল্লাহর কসম, আমি এখান থেকে সানার দরজাসমূহ দেখতে পাচ্ছি!””
চতুর্দিক থেকে শত্রুবেষ্টিত সাহাবিগণ শুনলেন শাম, পারস্য ও ইয়ামেন বিজয়ের সুসংবাদ! কিন্তু তাঁদের বিশ্বাসের দৃঢ়তা দেখুন। বিরাজমান নাজুক পরিস্থিতিতেও তাঁরা বিশ্বাস স্থাপন করতে এতটুকু দ্বিধা করেননি। যেন রাসুল ﷺ-এর মতো তাঁরাও দেখতে পাচ্ছিলেন ভবিষ্যৎ বিজয়ের সে দৃশ্যাবলি! এ জন্যই তো খন্দক যুদ্ধের পর মুসলিমদের বিজয়ঘোড়া বাধাহীনভাবে ছুটে চলেছিল!
টিকাঃ
৪৭. সুরা আন-নাহল, ১৬: ৯৭।
৪৮. সুরা আল-হাজ, ২২: ১৫।
৪৯. সুনানুন নাসায়ি: ৩১৭৬।