📘 আমরা অজেয় অনিবার্য বিজয়ের হাতছানি > 📄 অষ্টম বাস্তবতা : বিজয় আসে সংগ্রামের সবচেয়ে কঠিনতম মুহূর্ত অতিক্রম করার পর

📄 অষ্টম বাস্তবতা : বিজয় আসে সংগ্রামের সবচেয়ে কঠিনতম মুহূর্ত অতিক্রম করার পর


হে বিজয় বিলম্বিত হওয়ায় আশা হারিয়ে ফেলা আমার ভাই...
জেনে রাখুন, বিজয় আসে সংগ্রামের সবচেয়ে কঠিনতম মুহূর্ত অতিক্রম করার পর। আল্লাহর এই বাণী কি আপনি শোনেননি:
حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا جَاءَهُمْ نَصْرُنَا فَنُجِّيَ مَنْ نَشَاءُ وَلَا يُرَدُّ بَأْسُنَا عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ
‘এমনকি যখন পয়গম্বরগণ নৈরাশ্যে পতিত হয়ে যেতেন, এমনকি এরূপ ধারণা করতে শুরু করতেন যে, তাঁদের অনুমান বুঝি মিথ্যায় পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন তাঁদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে। অতঃপর আমি যাদের চেয়েছি, তারা উদ্ধার পেয়েছে। আমার শান্তি অপরাধী সম্প্রদায় থেকে প্রতিহত হয় না।’
সংগ্রামের কঠিন মুহূর্ত সেটাই, যখন রাসুলসহ জাতির সকল লোক মনে করেছিল যে, সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছে। এই মিথ্যা সাব্যস্তকরণ, জুলুম, বিমুখতা ও সন্দেহ বুঝি আর শেষ হবে না। কিন্তু তবুও তাঁরা নিজেদের আদর্শ ও মূলনীতি ত্যাগ করেননি। তাই আল্লাহর সাহায্য এসে পৌঁছেছে তাঁদের নিকট। অনুরূপভাবে সর্বযুগে হকের ঝান্ডাবাহীদের সামনে এমন একটি সময় উপস্থিত হয়, যখন নৈরাশ্য চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে। এমন কঠিন মুহূর্তে যদি ইমানের ওপর অটল থাকা যায়, সঠিক আদর্শ ও মানহাজের ওপর অবিচল থাকা যায়, তবেই আসে কাঙ্ক্ষিত আল্লাহর মদদ।

আরেকটি আয়াতের প্রতি গভীরভাবে মনোযোগ দিন:
أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُمْ مَثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে; অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি, যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের ওপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনিভাবে শিহরিত হতে হয়েছে, যাতে নবি ও তাঁর সঙ্গের মুমিনগণকে পর্যন্ত এ কথা বলতে হয়েছে যে, “কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য!” তোমরা শুনে নাও, আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী।'
হ্যাঁ, এভাবেই সময়ের কঠিন মুহূর্তে যখন ধৈর্য তার শেষ সীমায় পৌঁছে যায়, তখনই আল্লাহ ঘোষণা দেন, 'শুনে নাও, আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী।'
খন্দকের যুদ্ধে মুমিনরা সম্মুখীন হয়েছিলেন এক কঠিন মুহূর্তের। পবিত্র কুরআনে রব্বুল আলামিন সেই দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে:
إِذْ جَاءُوكُمْ مِنْ فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا - هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالًا شَدِيدًا
'যখন তারা তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল উচ্চ ভূমি ও নিম্নভূমি থেকে এবং যখন তোমাদের দৃষ্টিভ্রম হচ্ছিল, প্রাণ কণ্ঠাগত হয়েছিল এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা বিরূপ ধারণা পোষণ করতে শুরু করছিলে। সে সময়ে মুমিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিল এবং ভীষণভাবে প্রকম্পিত হচ্ছিল।
কিন্তু এরপর কী হয়েছিল? মুসলিমরা অর্জন করল একের পর এক বিজয়। হুদাইবিয়া, মক্কা, তায়িফ... এভাবে একনাগাড়ে বিজয় অর্জন করতে করতে গোটা আরব উপদ্বীপে প্রতিষ্ঠিত হলো ইসলামের কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্ব।

টিকাঃ
৪৩. সুরা ইউসুফ, ১২: ১১০।
৪৪. সুরা আল-বাকারা, ২: ২১৪।
৪৫. সুরা আল-আহজাব, ৩৩: ১০-১১।

হে বিজয় বিলম্বিত হওয়ায় আশা হারিয়ে ফেলা আমার ভাই...
জেনে রাখুন, বিজয় আসে সংগ্রামের সবচেয়ে কঠিনতম মুহূর্ত অতিক্রম করার পর। আল্লাহর এই বাণী কি আপনি শোনেননি:
حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا جَاءَهُمْ نَصْرُنَا فَنُجِّيَ مَنْ نَشَاءُ وَلَا يُرَدُّ بَأْسُنَا عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ
‘এমনকি যখন পয়গম্বরগণ নৈরাশ্যে পতিত হয়ে যেতেন, এমনকি এরূপ ধারণা করতে শুরু করতেন যে, তাঁদের অনুমান বুঝি মিথ্যায় পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন তাঁদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে। অতঃপর আমি যাদের চেয়েছি, তারা উদ্ধার পেয়েছে। আমার শান্তি অপরাধী সম্প্রদায় থেকে প্রতিহত হয় না।’
সংগ্রামের কঠিন মুহূর্ত সেটাই, যখন রাসুলসহ জাতির সকল লোক মনে করেছিল যে, সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছে। এই মিথ্যা সাব্যস্তকরণ, জুলুম, বিমুখতা ও সন্দেহ বুঝি আর শেষ হবে না। কিন্তু তবুও তাঁরা নিজেদের আদর্শ ও মূলনীতি ত্যাগ করেননি। তাই আল্লাহর সাহায্য এসে পৌঁছেছে তাঁদের নিকট। অনুরূপভাবে সর্বযুগে হকের ঝান্ডাবাহীদের সামনে এমন একটি সময় উপস্থিত হয়, যখন নৈরাশ্য চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে। এমন কঠিন মুহূর্তে যদি ইমানের ওপর অটল থাকা যায়, সঠিক আদর্শ ও মানহাজের ওপর অবিচল থাকা যায়, তবেই আসে কাঙ্ক্ষিত আল্লাহর মদদ।

আরেকটি আয়াতের প্রতি গভীরভাবে মনোযোগ দিন:
أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُمْ مَثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে; অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি, যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের ওপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনিভাবে শিহরিত হতে হয়েছে, যাতে নবি ও তাঁর সঙ্গের মুমিনগণকে পর্যন্ত এ কথা বলতে হয়েছে যে, “কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য!” তোমরা শুনে নাও, আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী।'
হ্যাঁ, এভাবেই সময়ের কঠিন মুহূর্তে যখন ধৈর্য তার শেষ সীমায় পৌঁছে যায়, তখনই আল্লাহ ঘোষণা দেন, 'শুনে নাও, আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী।'
খন্দকের যুদ্ধে মুমিনরা সম্মুখীন হয়েছিলেন এক কঠিন মুহূর্তের। পবিত্র কুরআনে রব্বুল আলামিন সেই দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে:
إِذْ جَاءُوكُمْ مِنْ فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا - هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالًا شَدِيدًا
'যখন তারা তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল উচ্চ ভূমি ও নিম্নভূমি থেকে এবং যখন তোমাদের দৃষ্টিভ্রম হচ্ছিল, প্রাণ কণ্ঠাগত হয়েছিল এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা বিরূপ ধারণা পোষণ করতে শুরু করছিলে। সে সময়ে মুমিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিল এবং ভীষণভাবে প্রকম্পিত হচ্ছিল।
কিন্তু এরপর কী হয়েছিল? মুসলিমরা অর্জন করল একের পর এক বিজয়। হুদাইবিয়া, মক্কা, তায়িফ... এভাবে একনাগাড়ে বিজয় অর্জন করতে করতে গোটা আরব উপদ্বীপে প্রতিষ্ঠিত হলো ইসলামের কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্ব।

টিকাঃ
৪৩. সুরা ইউসুফ, ১২: ১১০।
৪৪. সুরা আল-বাকারা, ২: ২১৪।
৪৫. সুরা আল-আহজাব, ৩৩: ১০-১১।

📘 আমরা অজেয় অনিবার্য বিজয়ের হাতছানি > 📄 নবম বাস্তবতা : আল্লাহ তাড়াহুড়া করেন না

📄 নবম বাস্তবতা : আল্লাহ তাড়াহুড়া করেন না


হে বিজয় বিলম্বিত হওয়ায় অস্থির হয়ে পড়া ভাই...
জেনে রাখুন, আল্লাহর প্রতি বান্দার আদবের দাবি হলো, তাঁর কাছ থেকে তাড়াতাড়ি পেতে না চাওয়া। কেননা, আল্লাহ তাআলা স্বীয় হিকমাহ ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা করেন। অতঃপর যথোপযুক্ত সময়ে তাদের পুরস্কার দান করেন। সুতরাং বিজয় আসতে দেরি হচ্ছে মনে করে হতাশ হবেন না। যে সময় বিজয় অর্জিত হলে মুমিনদের জন্য কল্যাণকর হবে, তা তিনি খুব ভালো করেই জানেন। সে অনুযায়ী যথাযথ সময়ে বিজয় আসবে ইনশাআল্লাহ। কাজেই বিজয়ের অপেক্ষায় অস্থির হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সহিহ বুখারিতে খাব্বাব বিন আরাত থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, 'আমরা রাসুল ﷺ-এর কাছে অভিযোগ উত্থাপন করলাম। তখন তিনি তাঁর চাদরকে বালিশ বানিয়ে কাবা শরিফের ছায়ায় বিশ্রাম করছিলেন। আমরা তাঁকে বললাম, “আপনি কি আমাদের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করবেন না? আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করবেন না?” তিনি বললেন:
كَانَ الرَّجُلُ فِيمَنْ قَبْلَكُمْ يُحْفَرُ لَهُ فِي الْأَرْضِ، فَيُجْعَلُ فِيهِ، فَيُجَاءُ بِالْمِنْشَارِ فَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ فَيُشَقُّ بِاثْنَتَيْنِ، وَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ، وَيُمْشَطُ بِأَمْشَاطِ الحَدِيدِ مَا دُونَ لَحْمِهِ مِنْ عَظْمٍ أَوْ عَصَبٍ، وَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ، وَاللَّهِ لَيُتِمَّنَّ هَذَا الأَمْرَ، حَتَّى يَسِيرَ الرَّاكِبُ مِنْ صَنْعَاءَ إِلَى حَضْرَمَوْتَ، لَا يَخَافُ إِلَّا اللَّهَ ، أَوِ الذَّنْبَ عَلَى غَنَمِهِ، وَلَكِنَّكُمْ تَسْتَعْجِلُونَ
“তোমাদের আগের লোকদের অবস্থা এই ছিল যে, তাদের জন্য মাটিতে গর্ত খোঁড়া হতো এবং ওই গর্তে তাকে পুঁতে রেখে করাত দিয়ে তার মাথা দ্বিখণ্ডিত করা হতো। এটা তাদেরকে দ্বীন থেকে টলাতে পারত না। লোহার চিরুনি দিয়ে শরীরের হাড়, মাংস ও শিরা-উপশিরা সবকিছু ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হতো। এটাও তাদেরকে দ্বীন থেকে বিরত রাখতে পারত না। আল্লাহর কসম, আল্লাহ এই দ্বীনকে অবশ্যই পূর্ণতা দান করবেন। তখন একজন উষ্ট্রারোহী সানা থেকে হাজারামাওত পর্যন্ত সফর করবে, আল্লাহ ছাড়া এবং নেকড়ের পালের জন্য বাঘের ভয় ছাড়া অন্য কিছুর সে ভয় করবে না। কিন্তু তোমরা বড্ড তাড়াহুড়া করছ!”
সুবহানাল্লাহ! খাব্বাব বিন আরাত (রাঃ)-এর মক্কায় কী কী বিপদ বয়ে গিয়েছে, তা সত্ত্বেও রাসুল ﷺ তাঁকে বললেন, ‘তোমরা বড্ড তাড়াহুড়া করছ!’ আমরা এখনো এমন কী বিপদের সম্মুখীন হয়েছি যে, বিজয় বিলম্বিত হচ্ছে বলে অস্থির হওয়ার অধিকার পাই!?
বিজয়ের আগে আমাদের অনেক দায়িত্ব আছে। সম্পদের মায়া ত্যাগ করে তা দান করতে হবে আল্লাহর রাস্তায়। প্রিয়তমা স্ত্রী, আদরের ছেলেমেয়ে, ঘরবাড়ি সব ফেলে ছুটে আসতে হবে জিহাদের ময়দানে। জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে হবে কুফফার বাহিনীর বিরুদ্ধে। পেশ করতে হবে রক্তের নজরানা। পান করতে হবে শাহাদাতের অমীয় সুধা। তার পরেই তো আসবে কাঙ্ক্ষিত বিজয়।
মনে রাখতে হবে, বিজয় ওই সময়েই আসবে, যা খালিক নির্ধারণ করে রেখেছেন। সে সময়ে নয়, যে সময়ে মাখলুক কামনা করে।

টিকাঃ
৪৬. সহিহুল বুখারি: ৩৬১২।

হে বিজয় বিলম্বিত হওয়ায় অস্থির হয়ে পড়া ভাই...
জেনে রাখুন, আল্লাহর প্রতি বান্দার আদবের দাবি হলো, তাঁর কাছ থেকে তাড়াতাড়ি পেতে না চাওয়া। কেননা, আল্লাহ তাআলা স্বীয় হিকমাহ ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা করেন। অতঃপর যথোপযুক্ত সময়ে তাদের পুরস্কার দান করেন। সুতরাং বিজয় আসতে দেরি হচ্ছে মনে করে হতাশ হবেন না। যে সময় বিজয় অর্জিত হলে মুমিনদের জন্য কল্যাণকর হবে, তা তিনি খুব ভালো করেই জানেন। সে অনুযায়ী যথাযথ সময়ে বিজয় আসবে ইনশাআল্লাহ। কাজেই বিজয়ের অপেক্ষায় অস্থির হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সহিহ বুখারিতে খাব্বাব বিন আরাত থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, 'আমরা রাসুল ﷺ-এর কাছে অভিযোগ উত্থাপন করলাম। তখন তিনি তাঁর চাদরকে বালিশ বানিয়ে কাবা শরিফের ছায়ায় বিশ্রাম করছিলেন। আমরা তাঁকে বললাম, “আপনি কি আমাদের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করবেন না? আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করবেন না?” তিনি বললেন:
كَانَ الرَّجُلُ فِيمَنْ قَبْلَكُمْ يُحْفَرُ لَهُ فِي الْأَرْضِ، فَيُجْعَلُ فِيهِ، فَيُجَاءُ بِالْمِنْشَارِ فَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ فَيُشَقُّ بِاثْنَتَيْنِ، وَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ، وَيُمْشَطُ بِأَمْشَاطِ الحَدِيدِ مَا دُونَ لَحْمِهِ مِنْ عَظْمٍ أَوْ عَصَبٍ، وَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ، وَاللَّهِ لَيُتِمَّنَّ هَذَا الأَمْرَ، حَتَّى يَسِيرَ الرَّاكِبُ مِنْ صَنْعَاءَ إِلَى حَضْرَمَوْتَ، لَا يَخَافُ إِلَّا اللَّهَ ، أَوِ الذَّنْبَ عَلَى غَنَمِهِ، وَلَكِنَّكُمْ تَسْتَعْجِلُونَ
“তোমাদের আগের লোকদের অবস্থা এই ছিল যে, তাদের জন্য মাটিতে গর্ত খোঁড়া হতো এবং ওই গর্তে তাকে পুঁতে রেখে করাত দিয়ে তার মাথা দ্বিখণ্ডিত করা হতো। এটা তাদেরকে দ্বীন থেকে টলাতে পারত না। লোহার চিরুনি দিয়ে শরীরের হাড়, মাংস ও শিরা-উপশিরা সবকিছু ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হতো। এটাও তাদেরকে দ্বীন থেকে বিরত রাখতে পারত না। আল্লাহর কসম, আল্লাহ এই দ্বীনকে অবশ্যই পূর্ণতা দান করবেন। তখন একজন উষ্ট্রারোহী সানা থেকে হাজারামাওত পর্যন্ত সফর করবে, আল্লাহ ছাড়া এবং নেকড়ের পালের জন্য বাঘের ভয় ছাড়া অন্য কিছুর সে ভয় করবে না। কিন্তু তোমরা বড্ড তাড়াহুড়া করছ!”
সুবহানাল্লাহ! খাব্বাব বিন আরাত (রাঃ)-এর মক্কায় কী কী বিপদ বয়ে গিয়েছে, তা সত্ত্বেও রাসুল ﷺ তাঁকে বললেন, ‘তোমরা বড্ড তাড়াহুড়া করছ!’ আমরা এখনো এমন কী বিপদের সম্মুখীন হয়েছি যে, বিজয় বিলম্বিত হচ্ছে বলে অস্থির হওয়ার অধিকার পাই!?
বিজয়ের আগে আমাদের অনেক দায়িত্ব আছে। সম্পদের মায়া ত্যাগ করে তা দান করতে হবে আল্লাহর রাস্তায়। প্রিয়তমা স্ত্রী, আদরের ছেলেমেয়ে, ঘরবাড়ি সব ফেলে ছুটে আসতে হবে জিহাদের ময়দানে। জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে হবে কুফফার বাহিনীর বিরুদ্ধে। পেশ করতে হবে রক্তের নজরানা। পান করতে হবে শাহাদাতের অমীয় সুধা। তার পরেই তো আসবে কাঙ্ক্ষিত বিজয়।
মনে রাখতে হবে, বিজয় ওই সময়েই আসবে, যা খালিক নির্ধারণ করে রেখেছেন। সে সময়ে নয়, যে সময়ে মাখলুক কামনা করে।

টিকাঃ
৪৬. সহিহুল বুখারি: ৩৬১২।

📘 আমরা অজেয় অনিবার্য বিজয়ের হাতছানি > 📄 দশম বাস্তবতা : প্রতিদান বিজয়লাভের সাথে সংযুক্ত নয়, আমলের সাথে সংযুক্ত

📄 দশম বাস্তবতা : প্রতিদান বিজয়লাভের সাথে সংযুক্ত নয়, আমলের সাথে সংযুক্ত


হে বিজয় বিলম্বিত হওয়ায় অস্থির হয়ে পড়া ভাই...
মনে রাখবেন, সাওয়াব বা প্রতিদান লাভের জন্য সফলতা অর্জনের প্রয়োজন নেই। একনিষ্ঠভাবে আমল করাই যথেষ্ট। আল্লাহ বলেন:
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'যে সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং সে ইমানদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং প্রতিদানে তাদেরকে তাদের উত্তম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরস্কার দেবো, যা তারা করত।'
জেনে রাখুন, আপনি যদি সুন্দরভাবে আপনার দায়িত্ব পালন করে যান, সফলতা আসুক বা না আসুক, আপনি আপনার বিনিময় পেয়ে যাবেন। আপনার চেষ্টা-সাধনা যত বেশি উন্নত হবে, আপনার সাওয়াবও ততটা উন্নত হবে। সফলতা ও বিজয় একদিন আসবেই আসবে। আপনি দেখে যেতে না পারলেও আপনার সন্তান ও ভাই-বন্ধুরা তার সুফল ভোগ করবে।
এ জন্য চেষ্টা করতে করতে কখনো বিজয়ের ব্যাপারে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেন না। ভুলেও এমনটি করবেন না। তাহলে আপনার সাওয়াব বিনষ্ট হয়ে যাবে। বিশ্বাস হারিয়ে ফেললে বিজয়ও বিলম্বিত হবে। কারণ বিশ্বাসই বিজয়কে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে আসে। বিজয়ের ব্যাপারে সন্দেহ-সংশয় থাকলে বিজয় সহজে ধরা দিতে চায় না। আল্লাহ বলেন:
مَنْ كَانَ يَظُنُّ أَنْ لَنْ يَنْصُرَهُ اللهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ فَلْيَمْدُدْ بِسَبَبٍ إِلَى السَّمَاءِ ثُمَّ لْيَقْطَعْ فَلْيَنْظُرْ هَلْ يُذْهِبَنَّ كَيْدُهُ مَا يَغِيظُ
‘যে ধারণা করে যে, আল্লাহ কখনোই ইহকালে ও পরকালে রাসুলকে সাহায্য করবেন না, সে একটি রশি আকাশ পর্যন্ত ঝুলিয়ে নিক; এরপর কেটে দিক; অতঃপর দেখুক, তার এই কৌশল তার আক্রোশ দূর করে কি না।'

খন্দক যুদ্ধের ওপর দৃষ্টিপাত করুন। রাসুল ﷺ-এর সাহাবিগণ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়ে গেলেন। চারিদিক থেকে শত্রুরা ঘেরাও করে নিল। এক্ষুনি শত্রুদল হানা দিয়ে সবকিছু শেষ করে দেবে এমন কঠিন অবস্থা। এমন সংকটজনক মুহূর্তে তাঁরা শুনতে পেলেন রাসুল ﷺ-এর মুখ থেকে কল্পনার ভিত নাড়িয়ে দেওয়া আজব ভবিষ্যদ্বাণী! সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা বিশ্বাস স্থাপন করলেন প্রিয় নেতার অবিশ্বাস্য সুসংবাদের ওপর!
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বারা (রাঃ)-এর মুখ থেকেই শুনুন সেই ঘটনা :
'...রাসুল বিসমিল্লাহ বলে পাথরটিতে কোদাল দিয়ে আঘাত হানলেন। তাতে তার একাংশ ভেঙে পড়ল। তখন তিনি বলে উঠলেন, “আল্লাহু আকবার! আমাকে শামের চাবিসমূহ দান করা হয়েছে! আল্লাহর কসম, আমি এখন তাদের লাল প্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি!” অতঃপর দ্বিতীয়বার আঘাত করলেন এবং বললেন, “আল্লাহু আকবার! আমাকে পারস্য সাম্রাজ্য দান করা হয়েছে! আল্লাহর কসম, আমি এখন মাদায়েনের শ্বেত-শুভ্র প্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি!” অতঃপর তৃতীয়বার বিসমিল্লাহ বলে আঘাত করলে পাথরটির বাকি অংশ ভেঙে পড়ল। তখন তিনি বললেন, “আল্লাহু আকবার! আমাকে ইয়ামেনের চাবিসমূহ দেওয়া হয়েছে! আল্লাহর কসম, আমি এখান থেকে সানার দরজাসমূহ দেখতে পাচ্ছি!””
চতুর্দিক থেকে শত্রুবেষ্টিত সাহাবিগণ শুনলেন শাম, পারস্য ও ইয়ামেন বিজয়ের সুসংবাদ! কিন্তু তাঁদের বিশ্বাসের দৃঢ়তা দেখুন। বিরাজমান নাজুক পরিস্থিতিতেও তাঁরা বিশ্বাস স্থাপন করতে এতটুকু দ্বিধা করেননি। যেন রাসুল ﷺ-এর মতো তাঁরাও দেখতে পাচ্ছিলেন ভবিষ্যৎ বিজয়ের সে দৃশ্যাবলি! এ জন্যই তো খন্দক যুদ্ধের পর মুসলিমদের বিজয়ঘোড়া বাধাহীনভাবে ছুটে চলেছিল!

টিকাঃ
৪৭. সুরা আন-নাহল, ১৬: ৯৭।
৪৮. সুরা আল-হাজ, ২২: ১৫।
৪৯. সুনানুন নাসায়ি: ৩১৭৬।

হে বিজয় বিলম্বিত হওয়ায় অস্থির হয়ে পড়া ভাই...
মনে রাখবেন, সাওয়াব বা প্রতিদান লাভের জন্য সফলতা অর্জনের প্রয়োজন নেই। একনিষ্ঠভাবে আমল করাই যথেষ্ট। আল্লাহ বলেন:
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'যে সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং সে ইমানদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং প্রতিদানে তাদেরকে তাদের উত্তম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরস্কার দেবো, যা তারা করত।'
জেনে রাখুন, আপনি যদি সুন্দরভাবে আপনার দায়িত্ব পালন করে যান, সফলতা আসুক বা না আসুক, আপনি আপনার বিনিময় পেয়ে যাবেন। আপনার চেষ্টা-সাধনা যত বেশি উন্নত হবে, আপনার সাওয়াবও ততটা উন্নত হবে। সফলতা ও বিজয় একদিন আসবেই আসবে। আপনি দেখে যেতে না পারলেও আপনার সন্তান ও ভাই-বন্ধুরা তার সুফল ভোগ করবে।
এ জন্য চেষ্টা করতে করতে কখনো বিজয়ের ব্যাপারে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেন না। ভুলেও এমনটি করবেন না। তাহলে আপনার সাওয়াব বিনষ্ট হয়ে যাবে। বিশ্বাস হারিয়ে ফেললে বিজয়ও বিলম্বিত হবে। কারণ বিশ্বাসই বিজয়কে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে আসে। বিজয়ের ব্যাপারে সন্দেহ-সংশয় থাকলে বিজয় সহজে ধরা দিতে চায় না। আল্লাহ বলেন:
مَنْ كَانَ يَظُنُّ أَنْ لَنْ يَنْصُرَهُ اللهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ فَلْيَمْدُدْ بِسَبَبٍ إِلَى السَّمَاءِ ثُمَّ لْيَقْطَعْ فَلْيَنْظُرْ هَلْ يُذْهِبَنَّ كَيْدُهُ مَا يَغِيظُ
‘যে ধারণা করে যে, আল্লাহ কখনোই ইহকালে ও পরকালে রাসুলকে সাহায্য করবেন না, সে একটি রশি আকাশ পর্যন্ত ঝুলিয়ে নিক; এরপর কেটে দিক; অতঃপর দেখুক, তার এই কৌশল তার আক্রোশ দূর করে কি না।'

খন্দক যুদ্ধের ওপর দৃষ্টিপাত করুন। রাসুল ﷺ-এর সাহাবিগণ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়ে গেলেন। চারিদিক থেকে শত্রুরা ঘেরাও করে নিল। এক্ষুনি শত্রুদল হানা দিয়ে সবকিছু শেষ করে দেবে এমন কঠিন অবস্থা। এমন সংকটজনক মুহূর্তে তাঁরা শুনতে পেলেন রাসুল ﷺ-এর মুখ থেকে কল্পনার ভিত নাড়িয়ে দেওয়া আজব ভবিষ্যদ্বাণী! সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা বিশ্বাস স্থাপন করলেন প্রিয় নেতার অবিশ্বাস্য সুসংবাদের ওপর!
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বারা (রাঃ)-এর মুখ থেকেই শুনুন সেই ঘটনা :
'...রাসুল বিসমিল্লাহ বলে পাথরটিতে কোদাল দিয়ে আঘাত হানলেন। তাতে তার একাংশ ভেঙে পড়ল। তখন তিনি বলে উঠলেন, “আল্লাহু আকবার! আমাকে শামের চাবিসমূহ দান করা হয়েছে! আল্লাহর কসম, আমি এখন তাদের লাল প্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি!” অতঃপর দ্বিতীয়বার আঘাত করলেন এবং বললেন, “আল্লাহু আকবার! আমাকে পারস্য সাম্রাজ্য দান করা হয়েছে! আল্লাহর কসম, আমি এখন মাদায়েনের শ্বেত-শুভ্র প্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি!” অতঃপর তৃতীয়বার বিসমিল্লাহ বলে আঘাত করলে পাথরটির বাকি অংশ ভেঙে পড়ল। তখন তিনি বললেন, “আল্লাহু আকবার! আমাকে ইয়ামেনের চাবিসমূহ দেওয়া হয়েছে! আল্লাহর কসম, আমি এখান থেকে সানার দরজাসমূহ দেখতে পাচ্ছি!””
চতুর্দিক থেকে শত্রুবেষ্টিত সাহাবিগণ শুনলেন শাম, পারস্য ও ইয়ামেন বিজয়ের সুসংবাদ! কিন্তু তাঁদের বিশ্বাসের দৃঢ়তা দেখুন। বিরাজমান নাজুক পরিস্থিতিতেও তাঁরা বিশ্বাস স্থাপন করতে এতটুকু দ্বিধা করেননি। যেন রাসুল ﷺ-এর মতো তাঁরাও দেখতে পাচ্ছিলেন ভবিষ্যৎ বিজয়ের সে দৃশ্যাবলি! এ জন্যই তো খন্দক যুদ্ধের পর মুসলিমদের বিজয়ঘোড়া বাধাহীনভাবে ছুটে চলেছিল!

টিকাঃ
৪৭. সুরা আন-নাহল, ১৬: ৯৭।
৪৮. সুরা আল-হাজ, ২২: ১৫।
৪৯. সুনানুন নাসায়ি: ৩১৭৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00