📘 আমরা অজেয় অনিবার্য বিজয়ের হাতছানি > 📄 ষষ্ঠ বাস্তবতা : বিরাজমান বাস্তবতা

📄 ষষ্ঠ বাস্তবতা : বিরাজমান বাস্তবতা


আমার কেবল ইতিহাসেরই ওপর চোখ বুলাচ্ছি কেন? বর্তমান বিরাজমান বাস্তবতায় কি এমন কিছু নেই, যা আমাদের সামনে আল্লাহর ওয়াদাকে সত্যায়ন করে?
আছে, অবশ্যই আছে, আল্লাহর কসম! বিগত চল্লিশ বছর থেকে বর্তমান পর্যন্ত পৃথিবীর ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে দেখুন, আশার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে আপনার মন!
• মসজিদে মসজিদে নামাজরত লোকদের ওপর দৃষ্টিপাত করুন। কারা ওরা? সংখ্যায় তারা কতজন? একটা সময় ছিল, যখন আমরা শুধু জীবিকার পেছনে ছুটে চলা লোকদের দেখতাম। কিন্তু মসজিদের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, বেড়েছে মুসল্লিদের সংখ্যাও—যাদের অধিকাংশই তরুণ, যুবক! এ দৃশ্য কি ইসলামের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বার্তা বহন করে না?
• হজ ও উমরার দিকে চোখ ফেরান। প্রতিবছর পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে কোটি কোটি মুসলিম হজ-উমরা করতে মক্কায় আসছেন! জানেন কি, দর্শনার্থী ও তাওয়াফকারী ছাড়া কাবাকে দেখা যাওয়া এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে? বর্তমানে মুসলিম নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধ হজ-উমরার জন্য কতটা পাগলপারা তা নিশ্চয় না জানার কথা নয়!
• মুসলিম মহিলাদের অবস্থার ওপর নজর দিন। বিগত ষাট বছর থেকে তাদের মাঝে পর্দাপ্রিয়তা ও পর্দাপ্রবণতা দারুণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একটা সময় ছিল, যখন মিশরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হিজাব-পরিহিতা কোনো ছাত্রী দেখা যেত না। সে সময় এখন অতীত হয়ে গেছে। এখন যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখবেন, অর্ধেকের বেশি ছাত্রী হিজাব পরে আছে! খোঁজ নিলে দেখতে পাবেন, লাখ লাখ মুসলিম তরুণী কঠিনভাবে ইসলামের সকল অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করছে। এ দৃশ্য দেখে আপনার অন্তর থেকে হতাশার কালো মেঘ সরে যাবে।
• লাইব্রেরি, প্রকাশনী ও বইমেলাসমূহে খোঁজ নিন। দেখবেন, এখন ইসলামি বই-পুস্তকই মানুষ বেশি কিনছে! বেস্ট সেলার বইয়ের তালিকায় এখন স্থান পাচ্ছে ইসলামি বই! এভাবে চারিদিকে দ্রুতগতিতে ভিড় জমে উঠছে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে!
• বরং সবখানে ইসলামের প্রভাব এতটা বেড়ে গেছে যে, এখন প্রায় সকল মতের দলসমূহ অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইসলামের নাম ব্যবহার করে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করে। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে যে, এখন সাধারণ মানুষের মন ইসলাম ও শরিয়াহর দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
• এখন ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো তাদের কর্মসূচিতে ইসলামিক থিসিস থাকার ঘোষণা দেয়!!
• সুদভিত্তিক ব্যাংকগুলোও এখন ইসলামি শাখা খুলে বসেছে!
• বিউটি পার্লারগুলোও পর্দানশিন মেয়েদের জন্য আলাদা বিভাগ খুলেছে!
• যে টিভি চ্যানেলগুলো একসময় কেবল নায়ক-নায়িকা ও নৃত্যশিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করত, এখন সেসব চ্যানেলে ইসলামি স্কলারদের আয়োজনে ইসলামি অনুষ্ঠান প্রচার করতে দেখা যায়!

এখন আমরা যতটুকু দেখতে পাচ্ছি, সামনে তা বাড়বে বৈ কমবে না। এবার একটু সামরিক পরিবর্তনের ওপর চোখ বুলাই:
• রাশানদের বিরুদ্ধে আফগান মুসলিমদের বিজয়ের কথা নিশ্চয় শুনেছেন।
فِي بِضْعِ سِنِينَ لِلَّهِ الْأَمْرُ مِنْ قَبْلُ وَمِنْ بَعْدُ وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ - بِنَصْرِ اللَّهِ يَنْصُرُ مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ - وَعْدَ اللَّهِ لَا يُخْلِفُ اللهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
'কয়েক বছরের মধ্যেই। পূর্বের ও পরের ফয়সালা আল্লাহরই। আর সেই দিন মুমিনগণ হর্ষোৎফুল্ল হবে, আল্লাহর সাহায্যে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন; তিনি পরাক্রমশালী, দয়ালু। এটা আল্লাহরই প্রতিশ্রুতি; আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না; কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না।'
কক্ষনো মনে করবেন যে, রুশ বাহিনী আফগানিস্তানের দুর্গম ও রুক্ষ পাহাড়ের কারণে পরাজিত হয়েছে। বরং তাদের পরাজয়ের কারণ হলো, আল্লাহই তাদের পরাজিত করেছেন। তারা ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছে, কারণ আল্লাহ তাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। তবে আফগান বাহিনী আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার কারণ হলো, তারা আল্লাহকে দৃঢ়তা ও অবিচলতা দেখাতে পেরেছেন।
• আপনারা কি দেখেননি, ইসরাইলের সৈন্যরা হতদরিদ্র দেশ লেবাননে 'হিজবুল্লাহ'র নেতৃত্বে জনপ্রতিরোধের সামনে থেকে ইঁদুরের পালের মতো পালিয়ে গিয়ে কীভাবে আনন্দে নেচেছে!? গৃহযুদ্ধের এই পরাজয় তাদেরকে অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দেয়।
• একসময় কয়েকটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ দখল করে নিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বলশেভিক কমিউনিস্টরা। তিনশ বছরের অধিক সময় ধরে তারা মুসলিমদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালায়। কুরআন বহন করা অপরাধ বিবেচিত হতো তাদের কাছে। আল্লাহ ও রাসুলের ওপর ইমান আনার 'অপরাধে' তারা যুদ্ধ করত শান্তিপ্রিয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তাদের সে দাপট স্থায়ী হয়নি। জুলুমের অন্ধকার রজনী কেটে গিয়ে ইনসাফের সূর্য হেসে উঠল। তেজোদীপ্ত মুসলিমরা প্রাণপণ লড়াই করে ডেকে আনে কমিউনিস্ট কাফিরদের চূড়ান্ত পতন! কে করেছেন এসব? নিশ্চয়ই সে আল্লাহই করেছেন, যিনি মুসলিমদের সাহায্য করার ওয়াদা দিয়েছেন।

আরও নিকট অতীতের ওপর চোখ বুলাই এবার...
• আমেরিকার দিকে দেখুন। ষাটের দশকে সেখানে মুসলিমের সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েক হাজার। এখন সে সংখ্যা আট মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে! সত্তরের দশকে আমি একটি আমেরিকান শহরে একটি অ্যাপার্টমেন্টকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখেছিলাম। ওই একটি মসজিদই ছিল সে শহরে। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, সেখানে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে মসজিদের সংখ্যা। বর্তমান ওই একটি শহরেই দশটি মসজিদ আছে!!
• পাশ্চাত্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের দিকে তাকান। বর্তমানে সেখানে তাদের নিজস্ব স্কুল আছে, মসজিদ আছে, কেন্দ্র আছে, সংবাদপত্র আছে, একাধিক সংগঠন ও কোম্পানি আছে!
• বর্তমান বিশ্বে দ্রুতগতিতে যে ধর্ম প্রসার লাভ করছে, তা হচ্ছে ইসলাম!
• বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটে ইসলামি ওয়েবসাইট ভিজিট করে কয়েক মিলিয়ন মানুষ! শুধু আমেরিকা থেকেই এক মিলিয়নের বেশি মানুষ ইসলামি ওয়েবসাইট ভিজিট করে!
প্রিয় বন্ধুগণ, এসব কি চূড়ান্ত বিজয়ের পূর্বাভাস নয়? এসব কি আমাদের পুনর্জাগরণের স্বপ্ন দেখার জন্য যথেষ্ট নয়?

টিকাঃ
২৮. আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমরা আমেরিকার বিরুদ্ধে আফগান মুজাহিদদের বিজয়ও দেখেছি। -অনুবাদক।
২৯. সূরা আর-রুম, ৩০ : ৪-৬।

আমার কেবল ইতিহাসেরই ওপর চোখ বুলাচ্ছি কেন? বর্তমান বিরাজমান বাস্তবতায় কি এমন কিছু নেই, যা আমাদের সামনে আল্লাহর ওয়াদাকে সত্যায়ন করে?
আছে, অবশ্যই আছে, আল্লাহর কসম! বিগত চল্লিশ বছর থেকে বর্তমান পর্যন্ত পৃথিবীর ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে দেখুন, আশার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে আপনার মন!
• মসজিদে মসজিদে নামাজরত লোকদের ওপর দৃষ্টিপাত করুন। কারা ওরা? সংখ্যায় তারা কতজন? একটা সময় ছিল, যখন আমরা শুধু জীবিকার পেছনে ছুটে চলা লোকদের দেখতাম। কিন্তু মসজিদের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, বেড়েছে মুসল্লিদের সংখ্যাও—যাদের অধিকাংশই তরুণ, যুবক! এ দৃশ্য কি ইসলামের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বার্তা বহন করে না?
• হজ ও উমরার দিকে চোখ ফেরান। প্রতিবছর পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে কোটি কোটি মুসলিম হজ-উমরা করতে মক্কায় আসছেন! জানেন কি, দর্শনার্থী ও তাওয়াফকারী ছাড়া কাবাকে দেখা যাওয়া এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে? বর্তমানে মুসলিম নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধ হজ-উমরার জন্য কতটা পাগলপারা তা নিশ্চয় না জানার কথা নয়!
• মুসলিম মহিলাদের অবস্থার ওপর নজর দিন। বিগত ষাট বছর থেকে তাদের মাঝে পর্দাপ্রিয়তা ও পর্দাপ্রবণতা দারুণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একটা সময় ছিল, যখন মিশরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হিজাব-পরিহিতা কোনো ছাত্রী দেখা যেত না। সে সময় এখন অতীত হয়ে গেছে। এখন যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখবেন, অর্ধেকের বেশি ছাত্রী হিজাব পরে আছে! খোঁজ নিলে দেখতে পাবেন, লাখ লাখ মুসলিম তরুণী কঠিনভাবে ইসলামের সকল অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করছে। এ দৃশ্য দেখে আপনার অন্তর থেকে হতাশার কালো মেঘ সরে যাবে।
• লাইব্রেরি, প্রকাশনী ও বইমেলাসমূহে খোঁজ নিন। দেখবেন, এখন ইসলামি বই-পুস্তকই মানুষ বেশি কিনছে! বেস্ট সেলার বইয়ের তালিকায় এখন স্থান পাচ্ছে ইসলামি বই! এভাবে চারিদিকে দ্রুতগতিতে ভিড় জমে উঠছে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে!
• বরং সবখানে ইসলামের প্রভাব এতটা বেড়ে গেছে যে, এখন প্রায় সকল মতের দলসমূহ অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইসলামের নাম ব্যবহার করে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করে। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে যে, এখন সাধারণ মানুষের মন ইসলাম ও শরিয়াহর দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
• এখন ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো তাদের কর্মসূচিতে ইসলামিক থিসিস থাকার ঘোষণা দেয়!!
• সুদভিত্তিক ব্যাংকগুলোও এখন ইসলামি শাখা খুলে বসেছে!
• বিউটি পার্লারগুলোও পর্দানশিন মেয়েদের জন্য আলাদা বিভাগ খুলেছে!
• যে টিভি চ্যানেলগুলো একসময় কেবল নায়ক-নায়িকা ও নৃত্যশিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করত, এখন সেসব চ্যানেলে ইসলামি স্কলারদের আয়োজনে ইসলামি অনুষ্ঠান প্রচার করতে দেখা যায়!

এখন আমরা যতটুকু দেখতে পাচ্ছি, সামনে তা বাড়বে বৈ কমবে না। এবার একটু সামরিক পরিবর্তনের ওপর চোখ বুলাই:
• রাশানদের বিরুদ্ধে আফগান মুসলিমদের বিজয়ের কথা নিশ্চয় শুনেছেন।
فِي بِضْعِ سِنِينَ لِلَّهِ الْأَمْرُ مِنْ قَبْلُ وَمِنْ بَعْدُ وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ - بِنَصْرِ اللَّهِ يَنْصُرُ مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ - وَعْدَ اللَّهِ لَا يُخْلِفُ اللهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
'কয়েক বছরের মধ্যেই। পূর্বের ও পরের ফয়সালা আল্লাহরই। আর সেই দিন মুমিনগণ হর্ষোৎফুল্ল হবে, আল্লাহর সাহায্যে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন; তিনি পরাক্রমশালী, দয়ালু। এটা আল্লাহরই প্রতিশ্রুতি; আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না; কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না।'
কক্ষনো মনে করবেন যে, রুশ বাহিনী আফগানিস্তানের দুর্গম ও রুক্ষ পাহাড়ের কারণে পরাজিত হয়েছে। বরং তাদের পরাজয়ের কারণ হলো, আল্লাহই তাদের পরাজিত করেছেন। তারা ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছে, কারণ আল্লাহ তাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। তবে আফগান বাহিনী আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার কারণ হলো, তারা আল্লাহকে দৃঢ়তা ও অবিচলতা দেখাতে পেরেছেন।
• আপনারা কি দেখেননি, ইসরাইলের সৈন্যরা হতদরিদ্র দেশ লেবাননে 'হিজবুল্লাহ'র নেতৃত্বে জনপ্রতিরোধের সামনে থেকে ইঁদুরের পালের মতো পালিয়ে গিয়ে কীভাবে আনন্দে নেচেছে!? গৃহযুদ্ধের এই পরাজয় তাদেরকে অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দেয়।
• একসময় কয়েকটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ দখল করে নিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বলশেভিক কমিউনিস্টরা। তিনশ বছরের অধিক সময় ধরে তারা মুসলিমদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালায়। কুরআন বহন করা অপরাধ বিবেচিত হতো তাদের কাছে। আল্লাহ ও রাসুলের ওপর ইমান আনার 'অপরাধে' তারা যুদ্ধ করত শান্তিপ্রিয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তাদের সে দাপট স্থায়ী হয়নি। জুলুমের অন্ধকার রজনী কেটে গিয়ে ইনসাফের সূর্য হেসে উঠল। তেজোদীপ্ত মুসলিমরা প্রাণপণ লড়াই করে ডেকে আনে কমিউনিস্ট কাফিরদের চূড়ান্ত পতন! কে করেছেন এসব? নিশ্চয়ই সে আল্লাহই করেছেন, যিনি মুসলিমদের সাহায্য করার ওয়াদা দিয়েছেন।

আরও নিকট অতীতের ওপর চোখ বুলাই এবার...
• আমেরিকার দিকে দেখুন। ষাটের দশকে সেখানে মুসলিমের সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েক হাজার। এখন সে সংখ্যা আট মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে! সত্তরের দশকে আমি একটি আমেরিকান শহরে একটি অ্যাপার্টমেন্টকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখেছিলাম। ওই একটি মসজিদই ছিল সে শহরে। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, সেখানে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে মসজিদের সংখ্যা। বর্তমান ওই একটি শহরেই দশটি মসজিদ আছে!!
• পাশ্চাত্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের দিকে তাকান। বর্তমানে সেখানে তাদের নিজস্ব স্কুল আছে, মসজিদ আছে, কেন্দ্র আছে, সংবাদপত্র আছে, একাধিক সংগঠন ও কোম্পানি আছে!
• বর্তমান বিশ্বে দ্রুতগতিতে যে ধর্ম প্রসার লাভ করছে, তা হচ্ছে ইসলাম!
• বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটে ইসলামি ওয়েবসাইট ভিজিট করে কয়েক মিলিয়ন মানুষ! শুধু আমেরিকা থেকেই এক মিলিয়নের বেশি মানুষ ইসলামি ওয়েবসাইট ভিজিট করে!
প্রিয় বন্ধুগণ, এসব কি চূড়ান্ত বিজয়ের পূর্বাভাস নয়? এসব কি আমাদের পুনর্জাগরণের স্বপ্ন দেখার জন্য যথেষ্ট নয়?

টিকাঃ
২৮. আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমরা আমেরিকার বিরুদ্ধে আফগান মুজাহিদদের বিজয়ও দেখেছি। -অনুবাদক।
২৯. সূরা আর-রুম, ৩০ : ৪-৬।

📘 আমরা অজেয় অনিবার্য বিজয়ের হাতছানি > 📄 সপ্তম বাস্তবতা : শত্রুদের বাস্তবতা

📄 সপ্তম বাস্তবতা : শত্রুদের বাস্তবতা


প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ,
কারা আপনাদের প্রতিপক্ষ? কাদের বিরুদ্ধে আপনারা জিহাদ করেন? তারা কি ইহুদি ও তাদের সহযোগী নয়? তাহলে আর ভয় কীসের? কারণ তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
ضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ أَيْنَ مَا ثُقِفُوا
‘যেখানেই তাদের পাওয়া গিয়েছে, সেখানেই তারা লাঞ্ছিত হয়েছে।’
لَا يُقَاتِلُونَكُمْ جَمِيعًا إِلَّا فِي قُرًى مُحَصَّنَةٍ أَوْ مِنْ وَرَاءِ جُدُرٍ
‘এরা সকলে সংঘবদ্ধভাবেও তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সমর্থ হবে না; কিন্তু কেবল সুরক্ষিত জনপদের অভ্যন্তরে অথবা দুর্গ-প্রাচীরের অন্তরালে থেকে।’
وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيَاةٍ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا
‘তুমি নিশ্চয় তাদেরকে জীবনের প্রতি সকল মানুষ, এমনকি মুশরিক অপেক্ষা অধিক লোভী দেখতে পাবে।’
এই হচ্ছে ইহুদিদের অবস্থা, যাদের আমরা ভয় পাচ্ছি!
أَتَخْشَوْنَهُمْ فَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَوْهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ - قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنْصُرُكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ - وَيُذْهِبْ غَيْظَ قُلُوبِهِمْ وَيَتُوبُ اللهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
'তোমরা কি তাদেরকে ভয় করো? আল্লাহকে ভয় করাই তোমাদের পক্ষে অধিক সমীচীন, যদি তোমরা মুমিন হও। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো। তোমাদের হাতে আল্লাহ ওদের শাস্তি দেবেন, ওদের লাঞ্ছিত করবেন, ওদের ওপর তোমাদের বিজয়ী করবেন, মুমিনদের চিত্ত প্রশান্ত করবেন এবং তাদের অন্তরের ক্ষোভ দূর করবেন। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তার প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। '

• ইহুদিরা যদি সংখ্যায় অনেক হয় এবং সকল কাফির বাহিনী একযোগ হয়ে তাদের সাহায্য করে, তবুও ভয়ের কোনো কারণ নেই। কারণ তাদের সম্বোধন করে আল্লাহ বলেছেন:
وَلَنْ تُغْنِيَ عَنْكُمْ فِئَتُكُمْ شَيْئًا وَلَوْ كَثُرَتْ وَأَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ
'আর সংখ্যায় তোমাদের দল অধিক হলেও তোমাদের কোনো কাজে আসবে না। নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের সঙ্গেই রয়েছেন।'
• তাদের সমরপ্রস্তুতি দেখে ভয় পাচ্ছেন? তাদের ব্যাপারে আল্লাহ কী বলেছেন, দেখুন :
قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا سَتُغْلَبُونَ وَتُحْشَرُونَ إِلَى جَهَنَّمَ وَبِئْسَ الْمِهَادُ
'যারা কুফরি করে তাদের বলুন, “তোমরা শীঘ্রই পরাভূত হবে এবং তোমাদেরকে একত্রিত করে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। আর তা কত নিকৃষ্ট আবাসস্থল!”
• তাদের ধনসম্পদ দেখে ঘাবড়ে যাচ্ছেন? তাহলে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ কী বলেছেন, দেখুন :
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ فَسَيُنْفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ وَالَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ يُحْشَرُونَ
'আল্লাহর পথ থেকে লোকদের নিবৃত্ত করার জন্য কাফিররা তাদের ধনসম্পদ ব্যয় করে, তারা ধনসম্পদ ব্যয় করতেই থাকবে; অতঃপর তা তাদের মনস্তাপের কারণ হবে, এর পর তারা পরাভূত হবে এবং যারা কুফরি করেছে, তাদেরকে জাহান্নামে একত্র করা হবে। '
তাদের বুদ্ধি ও শারীরিক গঠন দেখে ভীত হয়ে পড়েছেন? তাহলে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ কী বলেছেন, শুনুন :
لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ
'তাদের হৃদয় আছে, কিন্তু তা দ্বারা তারা উপলব্ধি করে না; তাদের চক্ষু আছে, কিন্তু তা দ্বারা তারা দেখে না এবং তাদের কান আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তার চেয়েও অধিক বিভ্রান্ত। তারাই গাফিল। '

তবুও কি হে মুসলিমগণ, এই কাফিরদের তোমরা অজেয় মনে করো? তাহলে কয়েকটি চাক্ষুষ প্রমাণ দেখে নাও :
• আমরা তথাকথিত পরাশক্তি অহংকারী আমেরিকাকে ভিয়েতনাম—যা আয়তনে ছোট হওয়ার কারণে মানচিত্রে ঠিকভাবে দেখা যায় না—থেকে ৫৯ হাজার সেনার প্রাণ হারিয়ে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে আসতে দেখেছি। এভাবে সোমালিয়া ও লেবানন থেকেও দখলদারী কাফির বাহিনীকে লাঞ্ছনাকর পরাজয় নিয়ে পালিয়ে আসতে দেখেছি।
• আমরা শক্তিশালী রাশিয়ার চেরনোবিল চুল্লি বিস্ফোরিত হয়ে হাজার হাজার একর ভূমি দূষিত হতে দেখেছি।
• কাফিররা চ্যালেঞ্জার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার পর গর্বভরে বলেছিল, এর মাধ্যমে তারা পূর্ণতার স্তরে পৌঁছে গিয়েছে! কিন্তু তা দ্বারা উপকৃত হওয়ার আগেই আমরা তা বিস্ফোরিত হতে দেখেছি। পুরো ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই (টার্গেটে আঘাত হানার পূর্বে) তাদেরই চোখের সামনে তা বিস্ফোরিত হয়!
تَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
'তারা যাকে শরিক করে, আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।'
وَظَنَّ أَهْلُهَا أَنَّهُمْ قَادِرُونَ عَلَيْهَا أَتَاهَا أَمْرُنَا لَيْلًا أَوْ نَهَارًا فَجَعَلْنَاهَا حَصِيدًا كَأَنْ لَمْ تَغْنَ بِالْأَمْسِ
'আর জমিনের অধিকর্তারা ভাবতে লাগল, এগুলো আমাদের হাতে আসবে, হঠাৎ করে তার ওপর আমার নির্দেশ এসে পড়ে রাত্রে কিংবা দিনে। আর আমি তাকে কর্তিত ফসলের এমন শূন্য ভূমিতে পরিণত করি, যেন কালও এখানে কোনো আবাদ ছিল না।'
অনুরূপভাবে আমরা দেখেছি, কীভাবে কাফিররা আল্লাহর কুদরতের সামনে সম্পূর্ণ নিস্তেজ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। কিছুই করার ছিল না তাদের...
• আমরা মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই পুরো একটি শহর বন্যায় প্লাবিত হতে দেখেছি। ঘটনাটি ঘটেছিল আমেরিকার বিখ্যাত শহর নিউ অরলিন্সে। ১৯৯৫ সালের মে মাসে।
فَفَتَحْنَا أَبْوَابَ السَّمَاءِ بِمَاءٍ مُنْهَمِرٍ - وَفَجَّرْنَا الْأَرْضَ عُيُونًا فَالْتَقَى الْمَاءُ عَلَى أَمْرٍ قَدْ قُدِرَ
'তখন আমি খুলে দিলাম আকাশের দ্বার প্রবল বারিবর্ষণের মাধ্যমে। এবং ভূমি থেকে প্রবাহিত করলাম প্রস্রবণ। অতঃপর সমুদয় পানি মিলে গেল এক স্থিরীকৃত কাজের জন্য।'
• আমরা দেখেছি, একটি তুষার ঝড় আমেরিকার উন্নত ও আধুনিক শহর নিউইয়র্কে আঘাত হেনে গাড়িসমূহ দাফন করে দিয়েছিল, রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়েছিল এবং টানা তিন দিন জীবনযাত্রা বন্ধ করে রেখেছিল!!
• আমরা দেখেছি, একটি হারিকেন বিশাল বিশাল পরিবহন উড়িয়ে তাদের বাড়িঘরের ওপর নিক্ষেপ করছে!! আমরা দেখেছি ঝঞ্ঝাবায়ু নিরবচ্ছিন্ন দুর্ভাগ্যের দিনে, যা মানুষকে উৎখাত করেছিল উন্মূলিত খেজুর কাণ্ডের মতো। বনে-জঙ্গলে গাছপালা উড়তে দেখেছি। নিমিষের মধ্যেই শত শত তাজা প্রাণ ঝরে যেতে দেখেছি। সবই দেখেছি; কিন্তু আফসোস! এসব দেখে আমরা শিক্ষা লাভ করতে পারিনি!

আপনারা কি কাফির সমাজের ভেতরের অবস্থা দেখেছেন? ভেতর থেকে তাদের সমাজ জীর্ণ, অধঃপতিত। তাদের জীবনযাপন খুবই লাঞ্ছনাকর। কেলেঙ্কারিকে তারা পরোয়া করে না। যা ইচ্ছা তা-ই করে বেড়ায়। কামনা তাদের চালিত করে। প্রবৃত্তির বাসনা তাদের নীতিবোধ ও নৈতিকতাকে পরাভূত করে রাখে।
চলুন, একটা জরিপ দেখে নিই, যেখানে আঠারো বছরের নিচের মার্কিন তরুণদের—যারা আর দশ বছর পর তাদের দেশের নেতৃত্বের আসনে বসবে—অবস্থা চিত্রায়িত হয়েছে...
• এই তরুণদের ৫৫% ব্যভিচারের অপরাধে জড়িত। আমেরিকার প্রধান প্রধান শহরে এই হার ৮০% এবং গ্রামাঞ্চলে ৩৩%! তার মানে হলো, আমেরিকার সবচেয়ে সভ্য পরিবেশেও ৩৩% তরুণ ব্যভিচারের অপরাধের সাথে জড়িত! এই জরিপ কেবল অনুর্ধ্ব-১৮ তরুণদের নিয়ে। সব বয়সের মানুষকে নিয়ে করা জরিপে ব্যভিচারীদের হার প্রায় ৯০%!!
• সেখানে প্রতিবছর ৩ লাখ ৫০ হাজার অনুর্ধ্ব-১৮ তরুণী বিয়ে ছাড়াই গর্ভবতী হয়! এটা আনুমানিক ধারণা। বাস্তবে বিয়েবহির্ভূত গর্ভপাতের ঘটনা এর চেয়ে বেশি!
• ২৪% মার্কিন পরিবারে পিতা বলতে কেউ নেই! কারণ মা একাধিক পুরুষের সাথে জিনা করার কারণে কোন সন্তান কার তা জানেই না! অথবা বিবাহ-বিচ্ছেদের কারণে পরিবার পিতাহীন হয়ে পড়েছে।
• ৪০% তরুণ মাদকাসক্ত। অ্যালকোহল সেখানে পানির মতো সহজলভ্য। তাই অ্যালকোহলসেবীদের সংখ্যা গণনা করা মানে কেমন যেন আদমশুমারি করা!!
• মার্কিন শহর ডালাসে মাত্র এক বছরে (১৯৯৮-১৯৯৯) অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭০ গুণ!!
• আমেরিকায় যেসব কারণে তরুণদের মৃত্যু হয়, তার তৃতীয় স্থানে রয়েছে আত্মহত্যা! অর্থাৎ আগামীর আমেরিকা যাদের হাতে পরিচালিত হবে, তাদের বড় একটি অংশ আত্মহত্যা করে দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছে! হিসাব করে দেখা গেছে, শুধু আমেরিকাতেই প্রতিবছর প্রায় ৩২ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে দুনিয়া ত্যাগ করে!
• সেখানে প্রতি সাত জনের একজন তরুণ জুয়ায় আসক্ত—যাকে রীতিমতো একটি ভয়ংকর রোগ মনে করা হয়।
এই হচ্ছে বর্তমান তথাকথিত পরাশক্তি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অবস্থা, যার ভয়ে আমরা বিনা কারণে তটস্থ হয়ে আছি!!

প্রিয় দ্বীনি ভাই, বন্ধু...
এখনো কি ভেতর থেকে পচে যাওয়া ওই জাতির বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ রয়ে গেছে? নিঃসন্দেহে আমরা সে জাতির বিরুদ্ধে হেসেখেলে জয়লাভ করব, যাদের অধিকাংশই ব্যভিচারী অথবা সমকামী। যে জাতির হৃদয়ে আছে মদ ও নোংরামির প্রতি ভালোবাসা, সে জাতি কোনোভাবেই ইমানি বলে বলীয়ান মুসলিম বাহিনীর সাথে পেরে উঠবে না ইনশাআল্লাহ। দরকার শুধু সাহসের। আমার বিশ্বাস, এতক্ষণে সেই সাহস তোমার হয়েছে।
প্রিয় দ্বীনি ভাই, বন্ধু...
لَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي الْبِلَادِ - مَتَاعٌ قَلِيلٌ ثُمَّ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمِهَادُ
'নগরীতে কাফিরদের চালচলন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয়। এটা হলো সামান্য ফায়দা—এরপর তাদের ঠিকানা হবে দোজখ। আর সেটি হলো অতি নিকৃষ্ট অবস্থান।'
وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَبَقُوا إِنَّهُمْ لَا يُعْجِزُونَ
'আর কাফিররা যেন কখনো মনে না করে যে, তারা বেঁচে গেছে; কখনো এরা আমাকে পরিশ্রান্ত করতে পারবে না।'

টিকাঃ
৩০. সুরা আলি ইমরান, ৩: ১১২।
৩১. সুরা আল-হাশর, ৫৯: ১৪।
৩২. সুরা আল-বাকারা, ২: ৯৬।
৩৩. সুরা আত-তাওবা, ৯ : ১৩-১৫।
৩৪. সুরা আল-আনফাল, ৮: ১৯।
৩৫. সুরা আলি ইমরান, ৩: ১২।
৩৬. সুরা আল-আনফাল, ৮: ৩৬।
৩৭. সুরা আল-আরাফ, ৭: ১৭৯।
৩৮. সুরা আন-নামল, ২৭: ৬৩।
৩৯. সুরা ইউনুস, ১০ : ২৪।
৪০. সুরা আল-কমার, ৫৪: ১১-১২।
৪১. সুরা আলি ইমরান, ৩: ১৯৬-১৯৭।
৪২. সুরা আল-আনফাল, ৮: ৫৯।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ,
কারা আপনাদের প্রতিপক্ষ? কাদের বিরুদ্ধে আপনারা জিহাদ করেন? তারা কি ইহুদি ও তাদের সহযোগী নয়? তাহলে আর ভয় কীসের? কারণ তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
ضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ أَيْنَ مَا ثُقِفُوا
‘যেখানেই তাদের পাওয়া গিয়েছে, সেখানেই তারা লাঞ্ছিত হয়েছে।’
لَا يُقَاتِلُونَكُمْ جَمِيعًا إِلَّا فِي قُرًى مُحَصَّنَةٍ أَوْ مِنْ وَرَاءِ جُدُرٍ
‘এরা সকলে সংঘবদ্ধভাবেও তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সমর্থ হবে না; কিন্তু কেবল সুরক্ষিত জনপদের অভ্যন্তরে অথবা দুর্গ-প্রাচীরের অন্তরালে থেকে।’
وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيَاةٍ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا
‘তুমি নিশ্চয় তাদেরকে জীবনের প্রতি সকল মানুষ, এমনকি মুশরিক অপেক্ষা অধিক লোভী দেখতে পাবে।’
এই হচ্ছে ইহুদিদের অবস্থা, যাদের আমরা ভয় পাচ্ছি!
أَتَخْشَوْنَهُمْ فَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَوْهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ - قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنْصُرُكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ - وَيُذْهِبْ غَيْظَ قُلُوبِهِمْ وَيَتُوبُ اللهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
'তোমরা কি তাদেরকে ভয় করো? আল্লাহকে ভয় করাই তোমাদের পক্ষে অধিক সমীচীন, যদি তোমরা মুমিন হও। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো। তোমাদের হাতে আল্লাহ ওদের শাস্তি দেবেন, ওদের লাঞ্ছিত করবেন, ওদের ওপর তোমাদের বিজয়ী করবেন, মুমিনদের চিত্ত প্রশান্ত করবেন এবং তাদের অন্তরের ক্ষোভ দূর করবেন। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তার প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। '

• ইহুদিরা যদি সংখ্যায় অনেক হয় এবং সকল কাফির বাহিনী একযোগ হয়ে তাদের সাহায্য করে, তবুও ভয়ের কোনো কারণ নেই। কারণ তাদের সম্বোধন করে আল্লাহ বলেছেন:
وَلَنْ تُغْنِيَ عَنْكُمْ فِئَتُكُمْ شَيْئًا وَلَوْ كَثُرَتْ وَأَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ
'আর সংখ্যায় তোমাদের দল অধিক হলেও তোমাদের কোনো কাজে আসবে না। নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের সঙ্গেই রয়েছেন।'
• তাদের সমরপ্রস্তুতি দেখে ভয় পাচ্ছেন? তাদের ব্যাপারে আল্লাহ কী বলেছেন, দেখুন :
قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا سَتُغْلَبُونَ وَتُحْشَرُونَ إِلَى جَهَنَّمَ وَبِئْسَ الْمِهَادُ
'যারা কুফরি করে তাদের বলুন, “তোমরা শীঘ্রই পরাভূত হবে এবং তোমাদেরকে একত্রিত করে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। আর তা কত নিকৃষ্ট আবাসস্থল!”
• তাদের ধনসম্পদ দেখে ঘাবড়ে যাচ্ছেন? তাহলে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ কী বলেছেন, দেখুন :
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ فَسَيُنْفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ وَالَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ يُحْشَرُونَ
'আল্লাহর পথ থেকে লোকদের নিবৃত্ত করার জন্য কাফিররা তাদের ধনসম্পদ ব্যয় করে, তারা ধনসম্পদ ব্যয় করতেই থাকবে; অতঃপর তা তাদের মনস্তাপের কারণ হবে, এর পর তারা পরাভূত হবে এবং যারা কুফরি করেছে, তাদেরকে জাহান্নামে একত্র করা হবে। '
তাদের বুদ্ধি ও শারীরিক গঠন দেখে ভীত হয়ে পড়েছেন? তাহলে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ কী বলেছেন, শুনুন :
لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ
'তাদের হৃদয় আছে, কিন্তু তা দ্বারা তারা উপলব্ধি করে না; তাদের চক্ষু আছে, কিন্তু তা দ্বারা তারা দেখে না এবং তাদের কান আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তার চেয়েও অধিক বিভ্রান্ত। তারাই গাফিল। '

তবুও কি হে মুসলিমগণ, এই কাফিরদের তোমরা অজেয় মনে করো? তাহলে কয়েকটি চাক্ষুষ প্রমাণ দেখে নাও :
• আমরা তথাকথিত পরাশক্তি অহংকারী আমেরিকাকে ভিয়েতনাম—যা আয়তনে ছোট হওয়ার কারণে মানচিত্রে ঠিকভাবে দেখা যায় না—থেকে ৫৯ হাজার সেনার প্রাণ হারিয়ে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে আসতে দেখেছি। এভাবে সোমালিয়া ও লেবানন থেকেও দখলদারী কাফির বাহিনীকে লাঞ্ছনাকর পরাজয় নিয়ে পালিয়ে আসতে দেখেছি।
• আমরা শক্তিশালী রাশিয়ার চেরনোবিল চুল্লি বিস্ফোরিত হয়ে হাজার হাজার একর ভূমি দূষিত হতে দেখেছি।
• কাফিররা চ্যালেঞ্জার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার পর গর্বভরে বলেছিল, এর মাধ্যমে তারা পূর্ণতার স্তরে পৌঁছে গিয়েছে! কিন্তু তা দ্বারা উপকৃত হওয়ার আগেই আমরা তা বিস্ফোরিত হতে দেখেছি। পুরো ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই (টার্গেটে আঘাত হানার পূর্বে) তাদেরই চোখের সামনে তা বিস্ফোরিত হয়!
تَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
'তারা যাকে শরিক করে, আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।'
وَظَنَّ أَهْلُهَا أَنَّهُمْ قَادِرُونَ عَلَيْهَا أَتَاهَا أَمْرُنَا لَيْلًا أَوْ نَهَارًا فَجَعَلْنَاهَا حَصِيدًا كَأَنْ لَمْ تَغْنَ بِالْأَمْسِ
'আর জমিনের অধিকর্তারা ভাবতে লাগল, এগুলো আমাদের হাতে আসবে, হঠাৎ করে তার ওপর আমার নির্দেশ এসে পড়ে রাত্রে কিংবা দিনে। আর আমি তাকে কর্তিত ফসলের এমন শূন্য ভূমিতে পরিণত করি, যেন কালও এখানে কোনো আবাদ ছিল না।'
অনুরূপভাবে আমরা দেখেছি, কীভাবে কাফিররা আল্লাহর কুদরতের সামনে সম্পূর্ণ নিস্তেজ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। কিছুই করার ছিল না তাদের...
• আমরা মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই পুরো একটি শহর বন্যায় প্লাবিত হতে দেখেছি। ঘটনাটি ঘটেছিল আমেরিকার বিখ্যাত শহর নিউ অরলিন্সে। ১৯৯৫ সালের মে মাসে।
فَفَتَحْنَا أَبْوَابَ السَّمَاءِ بِمَاءٍ مُنْهَمِرٍ - وَفَجَّرْنَا الْأَرْضَ عُيُونًا فَالْتَقَى الْمَاءُ عَلَى أَمْرٍ قَدْ قُدِرَ
'তখন আমি খুলে দিলাম আকাশের দ্বার প্রবল বারিবর্ষণের মাধ্যমে। এবং ভূমি থেকে প্রবাহিত করলাম প্রস্রবণ। অতঃপর সমুদয় পানি মিলে গেল এক স্থিরীকৃত কাজের জন্য।'
• আমরা দেখেছি, একটি তুষার ঝড় আমেরিকার উন্নত ও আধুনিক শহর নিউইয়র্কে আঘাত হেনে গাড়িসমূহ দাফন করে দিয়েছিল, রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়েছিল এবং টানা তিন দিন জীবনযাত্রা বন্ধ করে রেখেছিল!!
• আমরা দেখেছি, একটি হারিকেন বিশাল বিশাল পরিবহন উড়িয়ে তাদের বাড়িঘরের ওপর নিক্ষেপ করছে!! আমরা দেখেছি ঝঞ্ঝাবায়ু নিরবচ্ছিন্ন দুর্ভাগ্যের দিনে, যা মানুষকে উৎখাত করেছিল উন্মূলিত খেজুর কাণ্ডের মতো। বনে-জঙ্গলে গাছপালা উড়তে দেখেছি। নিমিষের মধ্যেই শত শত তাজা প্রাণ ঝরে যেতে দেখেছি। সবই দেখেছি; কিন্তু আফসোস! এসব দেখে আমরা শিক্ষা লাভ করতে পারিনি!

আপনারা কি কাফির সমাজের ভেতরের অবস্থা দেখেছেন? ভেতর থেকে তাদের সমাজ জীর্ণ, অধঃপতিত। তাদের জীবনযাপন খুবই লাঞ্ছনাকর। কেলেঙ্কারিকে তারা পরোয়া করে না। যা ইচ্ছা তা-ই করে বেড়ায়। কামনা তাদের চালিত করে। প্রবৃত্তির বাসনা তাদের নীতিবোধ ও নৈতিকতাকে পরাভূত করে রাখে।
চলুন, একটা জরিপ দেখে নিই, যেখানে আঠারো বছরের নিচের মার্কিন তরুণদের—যারা আর দশ বছর পর তাদের দেশের নেতৃত্বের আসনে বসবে—অবস্থা চিত্রায়িত হয়েছে...
• এই তরুণদের ৫৫% ব্যভিচারের অপরাধে জড়িত। আমেরিকার প্রধান প্রধান শহরে এই হার ৮০% এবং গ্রামাঞ্চলে ৩৩%! তার মানে হলো, আমেরিকার সবচেয়ে সভ্য পরিবেশেও ৩৩% তরুণ ব্যভিচারের অপরাধের সাথে জড়িত! এই জরিপ কেবল অনুর্ধ্ব-১৮ তরুণদের নিয়ে। সব বয়সের মানুষকে নিয়ে করা জরিপে ব্যভিচারীদের হার প্রায় ৯০%!!
• সেখানে প্রতিবছর ৩ লাখ ৫০ হাজার অনুর্ধ্ব-১৮ তরুণী বিয়ে ছাড়াই গর্ভবতী হয়! এটা আনুমানিক ধারণা। বাস্তবে বিয়েবহির্ভূত গর্ভপাতের ঘটনা এর চেয়ে বেশি!
• ২৪% মার্কিন পরিবারে পিতা বলতে কেউ নেই! কারণ মা একাধিক পুরুষের সাথে জিনা করার কারণে কোন সন্তান কার তা জানেই না! অথবা বিবাহ-বিচ্ছেদের কারণে পরিবার পিতাহীন হয়ে পড়েছে।
• ৪০% তরুণ মাদকাসক্ত। অ্যালকোহল সেখানে পানির মতো সহজলভ্য। তাই অ্যালকোহলসেবীদের সংখ্যা গণনা করা মানে কেমন যেন আদমশুমারি করা!!
• মার্কিন শহর ডালাসে মাত্র এক বছরে (১৯৯৮-১৯৯৯) অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭০ গুণ!!
• আমেরিকায় যেসব কারণে তরুণদের মৃত্যু হয়, তার তৃতীয় স্থানে রয়েছে আত্মহত্যা! অর্থাৎ আগামীর আমেরিকা যাদের হাতে পরিচালিত হবে, তাদের বড় একটি অংশ আত্মহত্যা করে দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছে! হিসাব করে দেখা গেছে, শুধু আমেরিকাতেই প্রতিবছর প্রায় ৩২ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে দুনিয়া ত্যাগ করে!
• সেখানে প্রতি সাত জনের একজন তরুণ জুয়ায় আসক্ত—যাকে রীতিমতো একটি ভয়ংকর রোগ মনে করা হয়।
এই হচ্ছে বর্তমান তথাকথিত পরাশক্তি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অবস্থা, যার ভয়ে আমরা বিনা কারণে তটস্থ হয়ে আছি!!

প্রিয় দ্বীনি ভাই, বন্ধু...
এখনো কি ভেতর থেকে পচে যাওয়া ওই জাতির বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ রয়ে গেছে? নিঃসন্দেহে আমরা সে জাতির বিরুদ্ধে হেসেখেলে জয়লাভ করব, যাদের অধিকাংশই ব্যভিচারী অথবা সমকামী। যে জাতির হৃদয়ে আছে মদ ও নোংরামির প্রতি ভালোবাসা, সে জাতি কোনোভাবেই ইমানি বলে বলীয়ান মুসলিম বাহিনীর সাথে পেরে উঠবে না ইনশাআল্লাহ। দরকার শুধু সাহসের। আমার বিশ্বাস, এতক্ষণে সেই সাহস তোমার হয়েছে।
প্রিয় দ্বীনি ভাই, বন্ধু...
لَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي الْبِلَادِ - مَتَاعٌ قَلِيلٌ ثُمَّ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمِهَادُ
'নগরীতে কাফিরদের চালচলন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয়। এটা হলো সামান্য ফায়দা—এরপর তাদের ঠিকানা হবে দোজখ। আর সেটি হলো অতি নিকৃষ্ট অবস্থান।'
وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَبَقُوا إِنَّهُمْ لَا يُعْجِزُونَ
'আর কাফিররা যেন কখনো মনে না করে যে, তারা বেঁচে গেছে; কখনো এরা আমাকে পরিশ্রান্ত করতে পারবে না।'

টিকাঃ
৩০. সুরা আলি ইমরান, ৩: ১১২।
৩১. সুরা আল-হাশর, ৫৯: ১৪।
৩২. সুরা আল-বাকারা, ২: ৯৬।
৩৩. সুরা আত-তাওবা, ৯ : ১৩-১৫।
৩৪. সুরা আল-আনফাল, ৮: ১৯।
৩৫. সুরা আলি ইমরান, ৩: ১২।
৩৬. সুরা আল-আনফাল, ৮: ৩৬।
৩৭. সুরা আল-আরাফ, ৭: ১৭৯।
৩৮. সুরা আন-নামল, ২৭: ৬৩।
৩৯. সুরা ইউনুস, ১০ : ২৪।
৪০. সুরা আল-কমার, ৫৪: ১১-১২।
৪১. সুরা আলি ইমরান, ৩: ১৯৬-১৯৭।
৪২. সুরা আল-আনফাল, ৮: ৫৯।

📘 আমরা অজেয় অনিবার্য বিজয়ের হাতছানি > 📄 অষ্টম বাস্তবতা : বিজয় আসে সংগ্রামের সবচেয়ে কঠিনতম মুহূর্ত অতিক্রম করার পর

📄 অষ্টম বাস্তবতা : বিজয় আসে সংগ্রামের সবচেয়ে কঠিনতম মুহূর্ত অতিক্রম করার পর


হে বিজয় বিলম্বিত হওয়ায় আশা হারিয়ে ফেলা আমার ভাই...
জেনে রাখুন, বিজয় আসে সংগ্রামের সবচেয়ে কঠিনতম মুহূর্ত অতিক্রম করার পর। আল্লাহর এই বাণী কি আপনি শোনেননি:
حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا جَاءَهُمْ نَصْرُنَا فَنُجِّيَ مَنْ نَشَاءُ وَلَا يُرَدُّ بَأْسُنَا عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ
‘এমনকি যখন পয়গম্বরগণ নৈরাশ্যে পতিত হয়ে যেতেন, এমনকি এরূপ ধারণা করতে শুরু করতেন যে, তাঁদের অনুমান বুঝি মিথ্যায় পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন তাঁদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে। অতঃপর আমি যাদের চেয়েছি, তারা উদ্ধার পেয়েছে। আমার শান্তি অপরাধী সম্প্রদায় থেকে প্রতিহত হয় না।’
সংগ্রামের কঠিন মুহূর্ত সেটাই, যখন রাসুলসহ জাতির সকল লোক মনে করেছিল যে, সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছে। এই মিথ্যা সাব্যস্তকরণ, জুলুম, বিমুখতা ও সন্দেহ বুঝি আর শেষ হবে না। কিন্তু তবুও তাঁরা নিজেদের আদর্শ ও মূলনীতি ত্যাগ করেননি। তাই আল্লাহর সাহায্য এসে পৌঁছেছে তাঁদের নিকট। অনুরূপভাবে সর্বযুগে হকের ঝান্ডাবাহীদের সামনে এমন একটি সময় উপস্থিত হয়, যখন নৈরাশ্য চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে। এমন কঠিন মুহূর্তে যদি ইমানের ওপর অটল থাকা যায়, সঠিক আদর্শ ও মানহাজের ওপর অবিচল থাকা যায়, তবেই আসে কাঙ্ক্ষিত আল্লাহর মদদ।

আরেকটি আয়াতের প্রতি গভীরভাবে মনোযোগ দিন:
أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُمْ مَثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে; অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি, যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের ওপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনিভাবে শিহরিত হতে হয়েছে, যাতে নবি ও তাঁর সঙ্গের মুমিনগণকে পর্যন্ত এ কথা বলতে হয়েছে যে, “কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য!” তোমরা শুনে নাও, আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী।'
হ্যাঁ, এভাবেই সময়ের কঠিন মুহূর্তে যখন ধৈর্য তার শেষ সীমায় পৌঁছে যায়, তখনই আল্লাহ ঘোষণা দেন, 'শুনে নাও, আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী।'
খন্দকের যুদ্ধে মুমিনরা সম্মুখীন হয়েছিলেন এক কঠিন মুহূর্তের। পবিত্র কুরআনে রব্বুল আলামিন সেই দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে:
إِذْ جَاءُوكُمْ مِنْ فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا - هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالًا شَدِيدًا
'যখন তারা তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল উচ্চ ভূমি ও নিম্নভূমি থেকে এবং যখন তোমাদের দৃষ্টিভ্রম হচ্ছিল, প্রাণ কণ্ঠাগত হয়েছিল এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা বিরূপ ধারণা পোষণ করতে শুরু করছিলে। সে সময়ে মুমিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিল এবং ভীষণভাবে প্রকম্পিত হচ্ছিল।
কিন্তু এরপর কী হয়েছিল? মুসলিমরা অর্জন করল একের পর এক বিজয়। হুদাইবিয়া, মক্কা, তায়িফ... এভাবে একনাগাড়ে বিজয় অর্জন করতে করতে গোটা আরব উপদ্বীপে প্রতিষ্ঠিত হলো ইসলামের কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্ব।

টিকাঃ
৪৩. সুরা ইউসুফ, ১২: ১১০।
৪৪. সুরা আল-বাকারা, ২: ২১৪।
৪৫. সুরা আল-আহজাব, ৩৩: ১০-১১।

হে বিজয় বিলম্বিত হওয়ায় আশা হারিয়ে ফেলা আমার ভাই...
জেনে রাখুন, বিজয় আসে সংগ্রামের সবচেয়ে কঠিনতম মুহূর্ত অতিক্রম করার পর। আল্লাহর এই বাণী কি আপনি শোনেননি:
حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا جَاءَهُمْ نَصْرُنَا فَنُجِّيَ مَنْ نَشَاءُ وَلَا يُرَدُّ بَأْسُنَا عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ
‘এমনকি যখন পয়গম্বরগণ নৈরাশ্যে পতিত হয়ে যেতেন, এমনকি এরূপ ধারণা করতে শুরু করতেন যে, তাঁদের অনুমান বুঝি মিথ্যায় পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন তাঁদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে। অতঃপর আমি যাদের চেয়েছি, তারা উদ্ধার পেয়েছে। আমার শান্তি অপরাধী সম্প্রদায় থেকে প্রতিহত হয় না।’
সংগ্রামের কঠিন মুহূর্ত সেটাই, যখন রাসুলসহ জাতির সকল লোক মনে করেছিল যে, সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছে। এই মিথ্যা সাব্যস্তকরণ, জুলুম, বিমুখতা ও সন্দেহ বুঝি আর শেষ হবে না। কিন্তু তবুও তাঁরা নিজেদের আদর্শ ও মূলনীতি ত্যাগ করেননি। তাই আল্লাহর সাহায্য এসে পৌঁছেছে তাঁদের নিকট। অনুরূপভাবে সর্বযুগে হকের ঝান্ডাবাহীদের সামনে এমন একটি সময় উপস্থিত হয়, যখন নৈরাশ্য চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে। এমন কঠিন মুহূর্তে যদি ইমানের ওপর অটল থাকা যায়, সঠিক আদর্শ ও মানহাজের ওপর অবিচল থাকা যায়, তবেই আসে কাঙ্ক্ষিত আল্লাহর মদদ।

আরেকটি আয়াতের প্রতি গভীরভাবে মনোযোগ দিন:
أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُمْ مَثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে; অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি, যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের ওপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনিভাবে শিহরিত হতে হয়েছে, যাতে নবি ও তাঁর সঙ্গের মুমিনগণকে পর্যন্ত এ কথা বলতে হয়েছে যে, “কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য!” তোমরা শুনে নাও, আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী।'
হ্যাঁ, এভাবেই সময়ের কঠিন মুহূর্তে যখন ধৈর্য তার শেষ সীমায় পৌঁছে যায়, তখনই আল্লাহ ঘোষণা দেন, 'শুনে নাও, আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী।'
খন্দকের যুদ্ধে মুমিনরা সম্মুখীন হয়েছিলেন এক কঠিন মুহূর্তের। পবিত্র কুরআনে রব্বুল আলামিন সেই দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে:
إِذْ جَاءُوكُمْ مِنْ فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا - هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالًا شَدِيدًا
'যখন তারা তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল উচ্চ ভূমি ও নিম্নভূমি থেকে এবং যখন তোমাদের দৃষ্টিভ্রম হচ্ছিল, প্রাণ কণ্ঠাগত হয়েছিল এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা বিরূপ ধারণা পোষণ করতে শুরু করছিলে। সে সময়ে মুমিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিল এবং ভীষণভাবে প্রকম্পিত হচ্ছিল।
কিন্তু এরপর কী হয়েছিল? মুসলিমরা অর্জন করল একের পর এক বিজয়। হুদাইবিয়া, মক্কা, তায়িফ... এভাবে একনাগাড়ে বিজয় অর্জন করতে করতে গোটা আরব উপদ্বীপে প্রতিষ্ঠিত হলো ইসলামের কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্ব।

টিকাঃ
৪৩. সুরা ইউসুফ, ১২: ১১০।
৪৪. সুরা আল-বাকারা, ২: ২১৪।
৪৫. সুরা আল-আহজাব, ৩৩: ১০-১১।

📘 আমরা অজেয় অনিবার্য বিজয়ের হাতছানি > 📄 নবম বাস্তবতা : আল্লাহ তাড়াহুড়া করেন না

📄 নবম বাস্তবতা : আল্লাহ তাড়াহুড়া করেন না


হে বিজয় বিলম্বিত হওয়ায় অস্থির হয়ে পড়া ভাই...
জেনে রাখুন, আল্লাহর প্রতি বান্দার আদবের দাবি হলো, তাঁর কাছ থেকে তাড়াতাড়ি পেতে না চাওয়া। কেননা, আল্লাহ তাআলা স্বীয় হিকমাহ ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা করেন। অতঃপর যথোপযুক্ত সময়ে তাদের পুরস্কার দান করেন। সুতরাং বিজয় আসতে দেরি হচ্ছে মনে করে হতাশ হবেন না। যে সময় বিজয় অর্জিত হলে মুমিনদের জন্য কল্যাণকর হবে, তা তিনি খুব ভালো করেই জানেন। সে অনুযায়ী যথাযথ সময়ে বিজয় আসবে ইনশাআল্লাহ। কাজেই বিজয়ের অপেক্ষায় অস্থির হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সহিহ বুখারিতে খাব্বাব বিন আরাত থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, 'আমরা রাসুল ﷺ-এর কাছে অভিযোগ উত্থাপন করলাম। তখন তিনি তাঁর চাদরকে বালিশ বানিয়ে কাবা শরিফের ছায়ায় বিশ্রাম করছিলেন। আমরা তাঁকে বললাম, “আপনি কি আমাদের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করবেন না? আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করবেন না?” তিনি বললেন:
كَانَ الرَّجُلُ فِيمَنْ قَبْلَكُمْ يُحْفَرُ لَهُ فِي الْأَرْضِ، فَيُجْعَلُ فِيهِ، فَيُجَاءُ بِالْمِنْشَارِ فَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ فَيُشَقُّ بِاثْنَتَيْنِ، وَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ، وَيُمْشَطُ بِأَمْشَاطِ الحَدِيدِ مَا دُونَ لَحْمِهِ مِنْ عَظْمٍ أَوْ عَصَبٍ، وَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ، وَاللَّهِ لَيُتِمَّنَّ هَذَا الأَمْرَ، حَتَّى يَسِيرَ الرَّاكِبُ مِنْ صَنْعَاءَ إِلَى حَضْرَمَوْتَ، لَا يَخَافُ إِلَّا اللَّهَ ، أَوِ الذَّنْبَ عَلَى غَنَمِهِ، وَلَكِنَّكُمْ تَسْتَعْجِلُونَ
“তোমাদের আগের লোকদের অবস্থা এই ছিল যে, তাদের জন্য মাটিতে গর্ত খোঁড়া হতো এবং ওই গর্তে তাকে পুঁতে রেখে করাত দিয়ে তার মাথা দ্বিখণ্ডিত করা হতো। এটা তাদেরকে দ্বীন থেকে টলাতে পারত না। লোহার চিরুনি দিয়ে শরীরের হাড়, মাংস ও শিরা-উপশিরা সবকিছু ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হতো। এটাও তাদেরকে দ্বীন থেকে বিরত রাখতে পারত না। আল্লাহর কসম, আল্লাহ এই দ্বীনকে অবশ্যই পূর্ণতা দান করবেন। তখন একজন উষ্ট্রারোহী সানা থেকে হাজারামাওত পর্যন্ত সফর করবে, আল্লাহ ছাড়া এবং নেকড়ের পালের জন্য বাঘের ভয় ছাড়া অন্য কিছুর সে ভয় করবে না। কিন্তু তোমরা বড্ড তাড়াহুড়া করছ!”
সুবহানাল্লাহ! খাব্বাব বিন আরাত (রাঃ)-এর মক্কায় কী কী বিপদ বয়ে গিয়েছে, তা সত্ত্বেও রাসুল ﷺ তাঁকে বললেন, ‘তোমরা বড্ড তাড়াহুড়া করছ!’ আমরা এখনো এমন কী বিপদের সম্মুখীন হয়েছি যে, বিজয় বিলম্বিত হচ্ছে বলে অস্থির হওয়ার অধিকার পাই!?
বিজয়ের আগে আমাদের অনেক দায়িত্ব আছে। সম্পদের মায়া ত্যাগ করে তা দান করতে হবে আল্লাহর রাস্তায়। প্রিয়তমা স্ত্রী, আদরের ছেলেমেয়ে, ঘরবাড়ি সব ফেলে ছুটে আসতে হবে জিহাদের ময়দানে। জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে হবে কুফফার বাহিনীর বিরুদ্ধে। পেশ করতে হবে রক্তের নজরানা। পান করতে হবে শাহাদাতের অমীয় সুধা। তার পরেই তো আসবে কাঙ্ক্ষিত বিজয়।
মনে রাখতে হবে, বিজয় ওই সময়েই আসবে, যা খালিক নির্ধারণ করে রেখেছেন। সে সময়ে নয়, যে সময়ে মাখলুক কামনা করে।

টিকাঃ
৪৬. সহিহুল বুখারি: ৩৬১২।

হে বিজয় বিলম্বিত হওয়ায় অস্থির হয়ে পড়া ভাই...
জেনে রাখুন, আল্লাহর প্রতি বান্দার আদবের দাবি হলো, তাঁর কাছ থেকে তাড়াতাড়ি পেতে না চাওয়া। কেননা, আল্লাহ তাআলা স্বীয় হিকমাহ ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা করেন। অতঃপর যথোপযুক্ত সময়ে তাদের পুরস্কার দান করেন। সুতরাং বিজয় আসতে দেরি হচ্ছে মনে করে হতাশ হবেন না। যে সময় বিজয় অর্জিত হলে মুমিনদের জন্য কল্যাণকর হবে, তা তিনি খুব ভালো করেই জানেন। সে অনুযায়ী যথাযথ সময়ে বিজয় আসবে ইনশাআল্লাহ। কাজেই বিজয়ের অপেক্ষায় অস্থির হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সহিহ বুখারিতে খাব্বাব বিন আরাত থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, 'আমরা রাসুল ﷺ-এর কাছে অভিযোগ উত্থাপন করলাম। তখন তিনি তাঁর চাদরকে বালিশ বানিয়ে কাবা শরিফের ছায়ায় বিশ্রাম করছিলেন। আমরা তাঁকে বললাম, “আপনি কি আমাদের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করবেন না? আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করবেন না?” তিনি বললেন:
كَانَ الرَّجُلُ فِيمَنْ قَبْلَكُمْ يُحْفَرُ لَهُ فِي الْأَرْضِ، فَيُجْعَلُ فِيهِ، فَيُجَاءُ بِالْمِنْشَارِ فَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ فَيُشَقُّ بِاثْنَتَيْنِ، وَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ، وَيُمْشَطُ بِأَمْشَاطِ الحَدِيدِ مَا دُونَ لَحْمِهِ مِنْ عَظْمٍ أَوْ عَصَبٍ، وَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ، وَاللَّهِ لَيُتِمَّنَّ هَذَا الأَمْرَ، حَتَّى يَسِيرَ الرَّاكِبُ مِنْ صَنْعَاءَ إِلَى حَضْرَمَوْتَ، لَا يَخَافُ إِلَّا اللَّهَ ، أَوِ الذَّنْبَ عَلَى غَنَمِهِ، وَلَكِنَّكُمْ تَسْتَعْجِلُونَ
“তোমাদের আগের লোকদের অবস্থা এই ছিল যে, তাদের জন্য মাটিতে গর্ত খোঁড়া হতো এবং ওই গর্তে তাকে পুঁতে রেখে করাত দিয়ে তার মাথা দ্বিখণ্ডিত করা হতো। এটা তাদেরকে দ্বীন থেকে টলাতে পারত না। লোহার চিরুনি দিয়ে শরীরের হাড়, মাংস ও শিরা-উপশিরা সবকিছু ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হতো। এটাও তাদেরকে দ্বীন থেকে বিরত রাখতে পারত না। আল্লাহর কসম, আল্লাহ এই দ্বীনকে অবশ্যই পূর্ণতা দান করবেন। তখন একজন উষ্ট্রারোহী সানা থেকে হাজারামাওত পর্যন্ত সফর করবে, আল্লাহ ছাড়া এবং নেকড়ের পালের জন্য বাঘের ভয় ছাড়া অন্য কিছুর সে ভয় করবে না। কিন্তু তোমরা বড্ড তাড়াহুড়া করছ!”
সুবহানাল্লাহ! খাব্বাব বিন আরাত (রাঃ)-এর মক্কায় কী কী বিপদ বয়ে গিয়েছে, তা সত্ত্বেও রাসুল ﷺ তাঁকে বললেন, ‘তোমরা বড্ড তাড়াহুড়া করছ!’ আমরা এখনো এমন কী বিপদের সম্মুখীন হয়েছি যে, বিজয় বিলম্বিত হচ্ছে বলে অস্থির হওয়ার অধিকার পাই!?
বিজয়ের আগে আমাদের অনেক দায়িত্ব আছে। সম্পদের মায়া ত্যাগ করে তা দান করতে হবে আল্লাহর রাস্তায়। প্রিয়তমা স্ত্রী, আদরের ছেলেমেয়ে, ঘরবাড়ি সব ফেলে ছুটে আসতে হবে জিহাদের ময়দানে। জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে হবে কুফফার বাহিনীর বিরুদ্ধে। পেশ করতে হবে রক্তের নজরানা। পান করতে হবে শাহাদাতের অমীয় সুধা। তার পরেই তো আসবে কাঙ্ক্ষিত বিজয়।
মনে রাখতে হবে, বিজয় ওই সময়েই আসবে, যা খালিক নির্ধারণ করে রেখেছেন। সে সময়ে নয়, যে সময়ে মাখলুক কামনা করে।

টিকাঃ
৪৬. সহিহুল বুখারি: ৩৬১২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00