📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 বাগানের ভেতর কুকুর

📄 বাগানের ভেতর কুকুর


কুকুরের প্রতি দয়ার একটি অসাধারণ গল্প।
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে জাফর রাদি. একবার একটি ময়দান দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথে একটি বাগান পড়ল। একজন হাবশী গোলাম সে বাগানে কাজ করছিল। তার জন্য রুটি আনা হলো এবং তার সঙ্গে একটি কুকুরও বাগানে চলে এলো। কুকুরটি ওই গোলামের নিকট এসে দাঁড়াল। গোলাম কাজ করতে করতে একটি রুটি ওই কুকুরের সামনে ফেলে দিল। কুকুর
রুটিটি খেয়ে দাঁড়িয়ে রইল। গোলাম দ্বিতীয় এবং পরবর্তীতে তৃতীয় রুটিটিও কুকুরের সামনে ফেলে দিল। সর্বমোট তিনটি রুটি ছিল আর তিনটি রুটিই কুকুরকে খেতে দিয়ে দিল।
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে জাফর রাদি, দাঁড়িয়ে গভীর দৃষ্টিতে তা দেখছিলেন। যখন তিনটি রুটিই শেষ হয়ে গেল, তখন হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে জাফর রাদি. গোলামকে জিজ্ঞেস করলেন, 'প্রতিদিন তোমার জন্য কয়টি রুটি আসে?'
সে আরজ করল, 'আপনি তো দেখলেনই; তিনটি রুটি আসে।'
তিনি বললেন, 'তবে তিনটি রুটিই কেন কুকুরকে দিয়ে দিলে?'
গোলাম বলল, 'জনাব! এখানে কোনো কুকুর নেই। এই অসহায় ক্ষুধার্ত কুকুরটি কোথাও দূর হতে অনেক পথ অতিক্রম করে হয়তো এসেছে। এজন্য আমার ভালো লাগল না যে, তাকে খালি ফিরিয়ে দেই।'
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাদি. এবার গোলামকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তাহলে আজ তুমি কী খাবে?'
গোলাম বলল, 'একদিন না খেয়ে থাকব, এটা তো তেমন বড় কোনো ব্যাপার নয়।'
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে জাফর রাদি. মনে মনে চিন্তা করলেন, লোকেরা আমাকে তিরস্কার করে যে, 'তুমি অনেক বেশি দান কর।" অথচ এই গোলাম তো আমার চেয়েও অনেক বেশি দানশীল। এই চিন্তা করে তিনি শহরে ফিরে গেলেন এবং ওই বাগান, গোলাম এবং যে সমস্ত সাজ-সরঞ্জাম বাগানে ছিল সম্পূর্ণকিছু মালিকের নিকট হতে ক্রয় করলেন। সবকিছু ক্রয় করে গোলামকে আজাদ করে দিলেন আর বাগানটি ওই গোলামকে দান করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
শিক্ষা:
বন্ধুরা! লক্ষ্য করুন, সাধারণ একজন গোলাম হয়েও মানুষ যে প্রাণীটিকে (কুকুরকে) নিকৃষ্ট মনে করে, তার প্রতি সে কতটা দয়ার্দ্র? তিনটি রুটিই নিজে না খেয়ে কুকুরকে দিয়ে দিলেন। অথচ আজ আমাদের চারপাশে কত দরিদ্র এতিম শিশু আমাদের খাদ্যের দিকে চেয়ে থাকে আমরা কি তাদের প্রতি এতটা দয়ার্দ্র হতে পেরেছি?
তাদের অসহায় অবস্থা দেখে কি আমাদের হৃদয় আত্মা সামান্যও কেঁপেছে?"
আমাদের এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত এবং অসহায় এতিমদের প্রতি লক্ষ্য রাখা আমাদের মানবিক ও ইমানি দায়িত্ব।
আর হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে জাফর রাদি.-এর ওই বাগান ক্রয় করা, গোলাম আজাদ করা এবং বাগান দান করে দেওয়া কত বড় দানশীল ব্যক্তির পরিচয়-এর প্রতি দৃষ্টি দিলেও আজ আমরা তাদের তুলনায় অনেক অনেক কৃপণ,।

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 তারপরও লজ্জাবোধ

📄 তারপরও লজ্জাবোধ


বড় মনের মানুষের গল্প।
হযরত ইমাম হাসান রাদি.-এর দরবারে এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে নিজের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে কিছু সাহায্য চাইল।
তিনি বললেন, 'তোমার চাওয়ার কারণে আমার উপর যে হক কায়েম হয়ে গেছে তা আমার দৃষ্টিতে অনেক উঁচু। আর তোমাকে আমার যেরূপ সাহায্য করা উচিত তার পরিমাণ আমার দৃষ্টিতে অনেক বেশি। কিন্তু আমার আর্থিক অবস্থা ওই পরিমাণ দান করতে অক্ষম, যা তোমার মর্যাদা উপযোগী হতে পারে। আর আল্লাহ্র রাস্তায় মানুষ যত বেশি হতে বেশি খরচ করে, তা কমই। কিন্তু আমি কি করব, আমার নিকট এত পরিমাণ নেই যা দ্বারা তোমার সওয়ালের শুকরিয়া আদায় হতে পারে। যদি তুমি এর জন্য প্রস্তুত থাক যে, এই মুহূর্তে যা-ই আমার নিকট বিদ্যমান আছে, তা-ই তুমি খুশি মনে কবুল করে নেবে এবং আমাকে এর উপর বাধ্য করবে না যে, আমি ওই পরিমাণ কোথাও হতে সংগ্রহ করি; যা তোমার মর্যাদা উপযোগী হয়, এবং যা তোমার হক হিসাবে আমার উপর ওয়াজিব হয়ে গেছে; তা পূরণ করতে পারি, তাহলে আমি আনন্দের সাথে এখন যা আছে তা সাহায্য করতে রাজি আছি।'
সওয়ালকারী বলল, 'হে আল্লাহ্ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেটা! আপনি আমাকে যা কিছু দেবেন আমি তা-ই কবুল করে নেব, তার উপর শোকর আদায় করব এবং তা হতে বেশি করতে না পারার কারণে আপনাকে অক্ষম মনে করব।'
একথা শুনে হযরত হাসান রাদি. নিজের খাদেমকে বললেন, 'সেই তিন লক্ষ দেরহামের মধ্যে হতে যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা নিয়ে আস।'
সে পঞ্চাশ হাজার দেরহাম নিয়ে এলো, বাকি সব খরচ হয়ে গিয়েছিল। হযরত হাসান রাদি. বললেন, 'পাঁচশত দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) আরও তো কোথাও ছিল।'
খাদেম আরজ করল, 'তা-ও বিদ্যমান আছে।' তিনি বললেন, 'সেগুলোও নিয়ে আস!' যখন এসব আনা হলো তখন সেই সওয়ালকারীকে বললেন, 'কোনো কুলি- মজদুর নিয়ে আস। যে এইগুলিকে তোমার ঘরে পৌঁছে দেবে।' সে দুইজন মজদুর নিয়ে এলো।
হযরত হাসান রাদি. সবকিছু তাদের হাওয়ালা করে দিলেন এবং নিজের শরীরের চাদর খুলে দিয়ে বললেন, এই মজদুরদের তোমার ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দেবার পারিশ্রমিকও আমারই দায়িত্ব। সুতরাং এই চাদর বিক্রি করে তাদের পারিশ্রমিক দিয়ে দেবে।
হযরত হাসান রাদি.-এর খাদেমগণ আরজ করল, 'আমাদের নিকট তো এখন খাওয়ার জন্য একটি দেরহামও বাকি নেই। আপনি সবকিছুই দিয়ে দিলেন।'
হযরত হাসান রাদি, বললেন, 'আল্লাহ্ তা'আলার মহান সত্তার নিকট আমি দৃঢ় আশা রাখি যে, তিনি নিজ দয়া ও রহমতে আমাকে এর অনেক সওয়াব দেবেন।' [এহইয়া]
সবকিছু দিয়ে দেওয়ার পর যখন নিজের কাছে কিছুই বাকি রইল না এবং পরিমাণও অত্যন্ত বেশি ছিল এতদসত্ত্বেও এই ব্যাপারে পেরেশানি ও লজ্জা ছিল যে, সওয়ালকারীর হক আদায় হয়নি। [ফাযায়েলে ছাদাকাত-২]
শিক্ষা: সুবহানাল্লাহ্! কেমন ছিল এই মহান ব্যক্তিদের মন, হৃদয়। সামান্য কিছু চাওয়ার বদলে ৫০ হাজার দিরহাম পাঁচশত স্বর্ণমুদ্রা সহসা দান করে দিলেন। আর আজ আমাদের নিকট ভিক্ষুক দশটি টাকা চেয়ে আধাঘণ্টা বা তার কম সময় দাঁড়িয়ে থাকে, অনেকে পেছনে পেছনে ঘুরে, পায়ে ধরে, কিন্তু আমরা কি তাদের হক আদায় করি? হক আদায় করতে না পারলে কি লজ্জিত হই?
হে আল্লাহ্! আমাদেরকে সঠিক জ্ঞান দান করুন। দান করার মনোবল তৈরি করে দিন। আমাদের দরিদ্রতা দূর করে দিন। আর্থিক সংকট দূর করে দিন। আমীন।

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 নবীজীর দরবারে অভিযোগ

📄 নবীজীর দরবারে অভিযোগ


একটি অপচয়ের গল্প। নিজের জীবনকে সাজানোর উপমাময় গল্প। বিখ্যাত সাহাবি হযরত কায়েস আনসারী রাদি.। তিনি বেশি বেশি খরচ করতেন।
বন্ধুদেরকে হাদিয়া দিতেন। আল্লাহ্র রাস্তায় অকাতরে ব্যয় করতেন। তাঁর মধ্যে কৃপণতার লেশমাত্র ছিল না।
একদিন তাঁর মেয়েরা রসূলের দরবারে উপস্থিত হলো। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করল। বললো, 'হে আল্লাহ্র রসূল! কায়েস অপচয় করে। বেশি পরিমাণে খরচ করে।' রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত কায়েস রাদি.-কে ডাকলেন। জিজ্ঞেস করলেন, 'কায়েস! তুমি নাকি অপচয় করো? অপরিমিত মাল খরচ করো?'
হযরত কায়েস রাদি. জবাবে বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল। বাগানের ফসল বণ্টন হওয়ার সময় আমার অংশ আমি বুঝে নেই। তারপর তা নিজে খাই, আল্লাহ্র রাস্তায় দান করি এবং যেসব বন্ধু দেখা করতে আসে তাদেরকে উপহার দেই।' এ কথা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত কায়েস রাদি.- এর বুকে হাত রাখলেন। অতঃপর তিনবার বললেন- 'কায়েস! খরচ করতে থাক, আল্লাহ্ও তোমার উপর খরচ করবেন।
দান করতে থাক, আল্লাহ্ তোমাকে দান করবেন। (উপহার দিতে থাক আল্লাহ্ও তোমাকে উপহার দেবেন।) হযরত কায়েস রাদি. রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা অনুযায়ী আগের মতোই খরচ করতে থাকলেন। বরং খরচের পরিমাণটা আরেকটু বাড়িয়ে দিলেন। এর ফল এই দাঁড়াল যে, কিছুদিন পর তার ভাইদের সাথে তিনি যখন সফরে বের হলেন, তখন দেখা গেল, তাঁর নিজস্ব সওয়ারী আছে। আছে বিপুল পরিমাণ সম্পদও। কিন্তু তার ভাইদের তা ছিল না। অথচ তারা ছিলেন মিতব্যয়ী। মাপ-ঝোপ করে ব্যয় করতেন। হিসেব করে চলতেন।
শিক্ষা: অপচয় মানে অপ্রয়োজনীয় খরচ। পক্ষান্তরে-
বন্ধুদেরকে উপহার দেওয়া, আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় করা, অসহায় দুস্থ মানুষদের পেছনে ব্যয় করা।
নিজের কিংবা পরিবারের প্রয়োজনে খরচ করা- এসব অপচয় নয়, বরং এগুলো তো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও বিপুল সাওয়াব অর্জনের মাধ্যম। আল্লাহ্ পাক এমন লোকদের সম্পদ দুনিয়াতেই বাড়িয়ে দেন। তাই বন্ধুরা! প্রয়োজনীয় খরচ করতে কখনোই আমরা কৃপণতা করব না। যেখানে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু খরচ করে ফেলব। আল্লাহ্ পাক আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন।

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 চার কাজে জান্নাত

📄 চার কাজে জান্নাত


হযরত আবু হুরায়রা রাদি. বলেন-
১। রসূলে আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, আজকে তোমাদের মধ্য থেকে কে রোযা রেখেছে? হযরত আবু বকর রাদি. বলেন, আমি রোযা রেখেছি।
২। জিজ্ঞেস করলেন, আজকে তোমাদের মধ্য থেকে কে জানাযায় শরিক হয়েছে? হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি শরিক হয়েছি।
৩। জিজ্ঞেস করলেন, আজকে তোমাদের মধ্য থেকে কে মিসকীনকে খানা খাইয়েছে? হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি।
৪। জিজ্ঞেস করলেন, আজকে তোমাদের মধ্য থেকে কে অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গিয়েছে? হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি দেখতে গিয়েছি।
রাসূলে আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে কোনো ব্যক্তির মধ্যে এই বিষয়গুলো জমা হবে সে অবশ্যই জান্নাতে দাখেল হবে।' [সহীহ-মুসলিম, হাদীস-৬৩৩৩] আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকেও একই দিনে এমন চারটি কাজ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00