📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 ঈদের দিন

📄 ঈদের দিন


হযরত আনাস রাদি. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'কদরের রাতে জিবরাইল আলাইহি সালাম ফেরেশতাদের একটি জামাত নিয়ে অবতরণ করেন এবং দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায় যারা আল্লাহর যিকির এবং বিভিন্ন ইবাদতে লিপ্ত থাকে, তাদের জন্য রহমতের দু'আ করেন। আর যখন ঈদের দিন হয়, তখন আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং ফেরেশতাদের সম্মুখে বান্দাদের ইবাদতের উপর গর্ব করেন এবং তাদের জিজ্ঞেস করেন- 'হে ফেরেশতারা! যে মজদুর নিজ কর্তব্য পূর্ণভাবে সমাধা করল, তার প্রতিদান কী?'
ফেরেশতারা বলেন, 'তার পারিশ্রমিক পরিপূর্ণ করে দেওয়া উচিত।'
তখন আল্লাহ বলেন, 'হে ফেরেশতারা! আমার বান্দা এবং বান্দীগণ পরিপূর্ণভাবে আমার ফরয পালন করেছে। অতঃপর আজ আমার নিকট দু'আ করতে করতে ঈদগাহে রওনা হয়েছে। আমার ইজ্জত ও মর্যাদার কসম! আমার মহত্ত ও বুযুর্গীর কসম! অতঃপর বান্দাদের লক্ষ্য করে বলেন, 'যাও (আমার বান্দাগণ), আমি নিশ্চয়ই আজ তোমাদের মাফ করে দিলাম এবং তোমাদের গুনাহসমূহকে পুণ্যে পরিবর্তিত করলাম।
নবীজি বলেন, অতঃপর তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে (নিষ্পাপ অবস্থায়) বাড়ি ফিরে।' [মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস ১৯৯৫)
শিক্ষা: মুমিন জীবনের বড় প্রাপ্তি হলো আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া। সুতরাং প্রত্যেক মুমিনের উচিত যেভাবে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করা যায় সেই চেষ্টা করতে থাকা। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন।

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 নির্জান জঙ্গলে

📄 নির্জান জঙ্গলে


আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে সামান্য রুটি সদকা করার পুরস্কারের বিস্ময়কর গল্প।
বনি ইসরাঈলের এক নারী নিজ শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে জঙ্গল পাড়ি দিচ্ছিল। হঠাৎ একটি নেকড়ে এসে তার উপর আক্রমণ করল। মহিলাটি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে এক পাশে সরে গেল এবং সে এমনভাবে কেঁপে উঠল যে, তার কোল থেকে শিশুটি মাটিতে পড়ে গেল। নেকড়েটি তখন তার শিশুকে মুখে নিয়ে নিল এবং দৌড়ে জঙ্গলের ভেতর চলে যেতে উদ্যত হলো। এই দৃশ্য দেখে মহিলাটির হৃদয় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাওয়ার অবস্থা হলো সে তখন চিৎকার জুড়ে দিল। তার আহাজারিতে পুরো জঙ্গল যেন কেঁপে উঠল। এমন সময় হঠাৎ বৃক্ষের আড়াল থেকে এক সুঠাম যুবক নেকড়ের সামনে এসে দাঁড়াল। হঠাৎ কোনো লোক সামনে চলে আসায় নেকড়েটিও ঘাবড়ে গেল ফলে তার মুখ থেকে শিশুটি পড়ে গেল। সুঠাম দেহের বিরাট আকারের এক যুবককে দেখে নেকড়েটি যেন খুব ভয়-ই পেয়ে গেল এবং বাচ্চাটি রেখেই সে জঙ্গলে পালিয়ে গেল।
যুবক বাচ্চাটাকে উঠিয়ে মায়ের কোলে তুলে দিল।
মা তখন জিজ্ঞেস করল, 'কে তুমি, বাবা? এই নির্জন অরণ্যে আমাকে এভাবে আচানক সাহায্য করতে এলে?'
যুবক বলল, 'আমি একজন ফেরেশতা। আল্লাহ তা'আলা আমাকে তোমার সহযোগীতা করার জন্য পাঠিয়েছেন। আর তার কারণ হলো, একদিন তুমি তোমার ঘরে বসে রুটি খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলে এবং রুটি হাতে নিয়ে তা মুখে দিতে উদ্যত হয়েছিলে ঠিক এমন সময় একজন ভিক্ষুক তোমার কাছে আল্লাহর ওয়াস্তে রুটি চাইল। অথচ তোমার কাছে খাওয়ার জন্য ওই একটি রুটিই ছিল কিন্তু তুমি চিন্তা করলে, 'আল্লাহর নামের প্রার্থীকে আমি কিভাবে ফিরিয়ে দেব?'
সুতরাং তুমি ওই রুটিটি নিজে না খেয়ে ভিক্ষুককে দিয়ে দিয়েছিলে। ওই দানের বরকতে আল্লাহ তা'আলা আজ তোমার সাহায্যের জন্য আমাকে পাঠিয়েছেন।' সুবহানাল্লাহ!
শিক্ষা:
দান-সদকা একটা মহৎ আমল। এর বিনিময় দুনিয়াতেও পাওয়া যায় আবার পরকালেও পাওয়া যায়।
১। তাই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তোমরা দানের ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করবে। কেননা, বিপদাপদ দানকে অতিক্রম করতে পারে না।' (অর্থাৎ দান বিপদাপদকে দূর করে দেয়।) (মেশকাতুল মাসাবীহ-১৬৭ পৃঃ)
২। হযরত আবু হুরায়রা রাদি. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দাতা ব্যক্তি আল্লাহরও নিকটে, জান্নাতেরও নিকটে, মানুষেরও নিকটে অথচ জাহান্নাম থেকে দূরে এবং কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ থেকেও দূরে, জান্নাত থেকেও দূরে, মানুষ থেকেও দূরে অথচ জাহান্নামের নিকটে। নিশ্চয় মূর্খ দাতা কৃপণ সাধক অপেক্ষা আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। [তিরমিযী: মেশকাত হাদীস-১৭৭৫]
৩। হযরত আবু হুরায়রা রাদি. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দানশীলতা জান্নাতের একটি বৃক্ষস্বরূপ। যে ব্যক্তি দানশীল সে যেন তার একটি শাখা ধরেছে আর শাখা তাকে ছাড়বে না, যে পর্যন্ত না তাকে জান্নাতে পৌঁছে দেয়। আর কৃপণতা হচ্ছে দোযখের একটি বৃক্ষ। যে ব্যক্তি কৃপণ সে যেন তার একটি শাখা ধরেছে আর শাখা তাকে ছাড়বে না, যে পর্যন্ত না তাকে দোযখে পৌছে দেয়। [বায়হাকী শোআবুল ঈমান: মেশকাত হাদীস-১৭৯২]
৪। হযরত আবু হুরায়রা রাদি. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো জিনিসের এক জোড়া আল্লাহর রাস্তায় দান করবে, তাকে (কিয়ামতের দিন) জান্নাতের সকল দরজা থেকে আহ্বান করা হবে অথচ জান্নাতের দরজা রয়েছে অনেক। [কিয়দাংশ বুখারী, মুসলিম: মেশকাত হাদীস-১৭৯৬]

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 পরের কল্যাণে

📄 পরের কল্যাণে


প্রত্যেক মুসলিম যেন পরের কল্যাণে দান করে নিজ ধন আনন্দিত প্রাণে। দানের সামর্থ্য যদি না-ই থাকে তার, আয় করে করবে সে নিজ উপকার; বাকিটা করবে দান প্রার্থীদের মাঝে, এভাবে সে-ধন যেন লাগে হীত-কাজে। এমন সামর্থ্য যদি সে ব্যক্তি না রাখে- নিজ খরচের পর কিছুই না থাকে; তাহলে অভাবী আর নিপীড়িত জনে, সহায়তা করবে সে হৃষ্ট-ফুল্ল মনে। তা-ও যদি করতে সে না হয় সক্ষম, করবে না কারো ক্ষতি-সেটাই উত্তম; তার জন্য তা-ই হবে সাদকার সমান- সূক্ষ্ণ বিচারক আল্লাহ বড় দয়াবান! ইনসাফ কায়েম করা দু'জনের মাঝে, সত্যকথা বলা-যাতে পুরস্কার আছে; বিষাক্ত কন্টক আর পাথরের কণা, রাস্তা থেকে দূর করা ময়লা-আবর্জনা; প্রশ্নের জবাব দেওয়া বিনম্র শদ্ধায়, অথবা মদদ করা সামান তোলায়- এ-সকলই গণ্য হয় আমলে সাদকায়। [একাধিক হাদীস অবলম্বনে : কবি ফররুখ আহমদ]

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 বাগানের ভেতর কুকুর

📄 বাগানের ভেতর কুকুর


কুকুরের প্রতি দয়ার একটি অসাধারণ গল্প।
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে জাফর রাদি. একবার একটি ময়দান দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথে একটি বাগান পড়ল। একজন হাবশী গোলাম সে বাগানে কাজ করছিল। তার জন্য রুটি আনা হলো এবং তার সঙ্গে একটি কুকুরও বাগানে চলে এলো। কুকুরটি ওই গোলামের নিকট এসে দাঁড়াল। গোলাম কাজ করতে করতে একটি রুটি ওই কুকুরের সামনে ফেলে দিল। কুকুর
রুটিটি খেয়ে দাঁড়িয়ে রইল। গোলাম দ্বিতীয় এবং পরবর্তীতে তৃতীয় রুটিটিও কুকুরের সামনে ফেলে দিল। সর্বমোট তিনটি রুটি ছিল আর তিনটি রুটিই কুকুরকে খেতে দিয়ে দিল।
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে জাফর রাদি, দাঁড়িয়ে গভীর দৃষ্টিতে তা দেখছিলেন। যখন তিনটি রুটিই শেষ হয়ে গেল, তখন হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে জাফর রাদি. গোলামকে জিজ্ঞেস করলেন, 'প্রতিদিন তোমার জন্য কয়টি রুটি আসে?'
সে আরজ করল, 'আপনি তো দেখলেনই; তিনটি রুটি আসে।'
তিনি বললেন, 'তবে তিনটি রুটিই কেন কুকুরকে দিয়ে দিলে?'
গোলাম বলল, 'জনাব! এখানে কোনো কুকুর নেই। এই অসহায় ক্ষুধার্ত কুকুরটি কোথাও দূর হতে অনেক পথ অতিক্রম করে হয়তো এসেছে। এজন্য আমার ভালো লাগল না যে, তাকে খালি ফিরিয়ে দেই।'
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাদি. এবার গোলামকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তাহলে আজ তুমি কী খাবে?'
গোলাম বলল, 'একদিন না খেয়ে থাকব, এটা তো তেমন বড় কোনো ব্যাপার নয়।'
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে জাফর রাদি. মনে মনে চিন্তা করলেন, লোকেরা আমাকে তিরস্কার করে যে, 'তুমি অনেক বেশি দান কর।" অথচ এই গোলাম তো আমার চেয়েও অনেক বেশি দানশীল। এই চিন্তা করে তিনি শহরে ফিরে গেলেন এবং ওই বাগান, গোলাম এবং যে সমস্ত সাজ-সরঞ্জাম বাগানে ছিল সম্পূর্ণকিছু মালিকের নিকট হতে ক্রয় করলেন। সবকিছু ক্রয় করে গোলামকে আজাদ করে দিলেন আর বাগানটি ওই গোলামকে দান করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
শিক্ষা:
বন্ধুরা! লক্ষ্য করুন, সাধারণ একজন গোলাম হয়েও মানুষ যে প্রাণীটিকে (কুকুরকে) নিকৃষ্ট মনে করে, তার প্রতি সে কতটা দয়ার্দ্র? তিনটি রুটিই নিজে না খেয়ে কুকুরকে দিয়ে দিলেন। অথচ আজ আমাদের চারপাশে কত দরিদ্র এতিম শিশু আমাদের খাদ্যের দিকে চেয়ে থাকে আমরা কি তাদের প্রতি এতটা দয়ার্দ্র হতে পেরেছি?
তাদের অসহায় অবস্থা দেখে কি আমাদের হৃদয় আত্মা সামান্যও কেঁপেছে?"
আমাদের এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত এবং অসহায় এতিমদের প্রতি লক্ষ্য রাখা আমাদের মানবিক ও ইমানি দায়িত্ব।
আর হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে জাফর রাদি.-এর ওই বাগান ক্রয় করা, গোলাম আজাদ করা এবং বাগান দান করে দেওয়া কত বড় দানশীল ব্যক্তির পরিচয়-এর প্রতি দৃষ্টি দিলেও আজ আমরা তাদের তুলনায় অনেক অনেক কৃপণ,।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00