📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 সদকা জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়

📄 সদকা জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়


একটি খেজুর হতে পারে জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢালস্বরূপ। আল্লাহর দরবারে বেশি আমল বা বড় আমল কিংবা ছোট আমল ও কম আমলের কোনো ধর্তব্য নেই বরং সেখানে ধর্তব্য শুধু মনের নিখাঁদ নিয়তের ও বিশুদ্ধ ইচ্ছার। ছোট থেকে ছোট কোনো আমল কিংবা স্বল্প থেকে স্বল্প কোনো আমলও যদি তাঁর পূর্ণ সন্তুষ্টির নিয়তে করা হয় তাহলে তা-ই তাঁর রহমতের সাগরে ঢেউ তোলার এবং তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভের জন্য।
যথেষ্ট। নিম্নের হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে বুঝিয়েছেন যে, একটি খেজুর হতে পারে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপায় ও মাধ্যম।
হযরত আদী ইবনে হাতিম রাদি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, 'আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, 'তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে সামর্থ্য রাখে এক টুকরা খেজুর দিয়ে হলেও সেটা তার করা উচিত।'
অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই কথা বলবেন। আল্লাহ্ তাঁর ও বান্দার মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না। অতঃপর বান্দা তার ডান দিকে তাকাবে, কিন্তু কৃত কর্মগুলো ছাড়া আর কিছুই সে দেখবে না।
এরপর বান্দা তার বাম দিকে তাকাবে, কিন্তু কৃতকর্ম ছাড়া আর কিছুই দেখবে না।
অতঃপর সামনের দিকে তাকাবে, কিন্তু চোখের সামনে সে আগুন ছাড়া আর কিছুই দেখবে না।
সুতরাং এক টুকরা খেজুর সদকা করে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো!
অন্য বর্ণনায় আছে তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের আলোচনা করলেন, অতঃপর তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং ভ্রূকুঞ্চিত করলেন। এরপর বললেন, 'তোমরা আগুন থেকে বাঁচো!' এবারও তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং ভ্রূকুঞ্চিত করলেন। এমনকি আমাদের ধারণা হলো তিনি যেন আগুন দেখতে পাচ্ছেন। এরপর তিনি বললেন-
'এক টুকরা খেজুর দ্বারা হলেও তোমরা আগুন থেকে বাঁচো! যদি তা না পাও তাহলে একটি উত্তম কথার দ্বারা হলেও (জাহান্নাম থেকে বাঁচো।)'
অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের অগ্নি সম্পর্কে আলোচনা করলেন। এরপর তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করলেন এবং মুখমণ্ডল তিনবার ফিরিয়ে নিলেন। এরপর তিনি বললেন-
'এক টুকরা খেজুরের বিনিময়ে হলেও তোমরা অগ্নি থেকে বাঁচো। যদি তা না পাও তবে অন্ততঃ একটি ভালো কথার বিনিময়ে হলেও।"
সারকথা : এই হাদিস দ্বারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাই বুঝাতে চেয়েছেন যে, জাহান্নাম অত্যন্ত ভয়াবহ স্থান। আর সে স্থান থেকে বাঁচার অন্যতম একটি মাধ্যম হলো দান-খয়রাত। তাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী তা থেকে বাঁচার চেষ্টা করো! কেননা, যার ১০০ টাকা দান করার সামর্থ্য আছে, সে তা করলে যতটুকু সওয়াব পাবে যার ১ টাকা দান করার সামর্থ্য আছে সে ১ টাকা দান করলে ওই পরিমাণ সওয়াবই পাবে। তাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী বাঁচার চেষ্টা করা উচিত।
এজন্যই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদাহরণস্বরূপ বলেছেন, যার সামান্য কিছু করার সামর্থ্য আছে যেমন একটি খেজুর দান করার সামর্থ্য আছে তাহলে সে যেন সেই একটি খেজুরই দান করে আর এটাই তার জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপায় হতে পারে।
যার মাত্র একটি টাকা দান করার সামর্থ্য আছে সে যেন সেই একটি টাকাই দান করে, আর এটাই তার জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপায় হয়ে যেতে পারে।
আর কারো যদি এমন ধরনের কোনো সামর্থ্যই না থাকে তাহলে সে যেন কমপক্ষে লোকজনের সাথে ভালো কথা বলে এটাও তার জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচার এবং জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম হতে পারে। [সহীহ আল মুসলিম ১-৩২৬/২৭]

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 জীবন সংগ্রহ করেছে কি?

📄 জীবন সংগ্রহ করেছে কি?


প্রখ্যাত বুযুর্গ হযরত হাতেম রহ.-কে এক ব্যক্তি বলল, 'হযরত! অমুক ব্যক্তি বহু ধন-দৌলত সংগ্রহ করেছে। সে এখন অঢেল ধনসম্পদের মালিক।'
হযরত হাতেম রহ. বললেন 'সে ধন-দৌলতের সাথে জীবনও কি সংগ্রহ করেছে?'
সে ব্যক্তি বলল, 'না।' তিনি বললেন, 'ধন-দৌলত মৃত ব্যক্তির কি কাজে আসবে?'
মানুষ যে যত বেশি সম্পদশালীই হোক না কেন এই সম্পদ তার মৃত্যুকে তো রোধ করতে পারবে না।
কারুন বহু সম্পদের মালিক ছিল কিন্তু সম্পদ তাকে তার করুণ পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
সম্পদ তাকে কোনো নতুন জীবন দিতে পারেনি।
শিক্ষা: সুতরাং বুদ্ধিমান মানুষের কাজ হলো, সম্পদ কাজে লাগিয়ে মৃত্যুর ওপারের স্থায়ী জগতের জন্য জান্নাতে প্রাসাদ নির্মাণ করা এবং বাগ-বাগিচায় বৃক্ষরোপণ করে নিজের জান্নাতকে সুজলা-সুফলা করে গড়ে তোলা। তবেই ওখানে একটি সুন্দর ও সুখময় জীবন লাভ হবে।

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 ঈদের দিন

📄 ঈদের দিন


হযরত আনাস রাদি. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'কদরের রাতে জিবরাইল আলাইহি সালাম ফেরেশতাদের একটি জামাত নিয়ে অবতরণ করেন এবং দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায় যারা আল্লাহর যিকির এবং বিভিন্ন ইবাদতে লিপ্ত থাকে, তাদের জন্য রহমতের দু'আ করেন। আর যখন ঈদের দিন হয়, তখন আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং ফেরেশতাদের সম্মুখে বান্দাদের ইবাদতের উপর গর্ব করেন এবং তাদের জিজ্ঞেস করেন- 'হে ফেরেশতারা! যে মজদুর নিজ কর্তব্য পূর্ণভাবে সমাধা করল, তার প্রতিদান কী?'
ফেরেশতারা বলেন, 'তার পারিশ্রমিক পরিপূর্ণ করে দেওয়া উচিত।'
তখন আল্লাহ বলেন, 'হে ফেরেশতারা! আমার বান্দা এবং বান্দীগণ পরিপূর্ণভাবে আমার ফরয পালন করেছে। অতঃপর আজ আমার নিকট দু'আ করতে করতে ঈদগাহে রওনা হয়েছে। আমার ইজ্জত ও মর্যাদার কসম! আমার মহত্ত ও বুযুর্গীর কসম! অতঃপর বান্দাদের লক্ষ্য করে বলেন, 'যাও (আমার বান্দাগণ), আমি নিশ্চয়ই আজ তোমাদের মাফ করে দিলাম এবং তোমাদের গুনাহসমূহকে পুণ্যে পরিবর্তিত করলাম।
নবীজি বলেন, অতঃপর তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে (নিষ্পাপ অবস্থায়) বাড়ি ফিরে।' [মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস ১৯৯৫)
শিক্ষা: মুমিন জীবনের বড় প্রাপ্তি হলো আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া। সুতরাং প্রত্যেক মুমিনের উচিত যেভাবে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করা যায় সেই চেষ্টা করতে থাকা। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন।

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 নির্জান জঙ্গলে

📄 নির্জান জঙ্গলে


আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে সামান্য রুটি সদকা করার পুরস্কারের বিস্ময়কর গল্প।
বনি ইসরাঈলের এক নারী নিজ শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে জঙ্গল পাড়ি দিচ্ছিল। হঠাৎ একটি নেকড়ে এসে তার উপর আক্রমণ করল। মহিলাটি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে এক পাশে সরে গেল এবং সে এমনভাবে কেঁপে উঠল যে, তার কোল থেকে শিশুটি মাটিতে পড়ে গেল। নেকড়েটি তখন তার শিশুকে মুখে নিয়ে নিল এবং দৌড়ে জঙ্গলের ভেতর চলে যেতে উদ্যত হলো। এই দৃশ্য দেখে মহিলাটির হৃদয় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাওয়ার অবস্থা হলো সে তখন চিৎকার জুড়ে দিল। তার আহাজারিতে পুরো জঙ্গল যেন কেঁপে উঠল। এমন সময় হঠাৎ বৃক্ষের আড়াল থেকে এক সুঠাম যুবক নেকড়ের সামনে এসে দাঁড়াল। হঠাৎ কোনো লোক সামনে চলে আসায় নেকড়েটিও ঘাবড়ে গেল ফলে তার মুখ থেকে শিশুটি পড়ে গেল। সুঠাম দেহের বিরাট আকারের এক যুবককে দেখে নেকড়েটি যেন খুব ভয়-ই পেয়ে গেল এবং বাচ্চাটি রেখেই সে জঙ্গলে পালিয়ে গেল।
যুবক বাচ্চাটাকে উঠিয়ে মায়ের কোলে তুলে দিল।
মা তখন জিজ্ঞেস করল, 'কে তুমি, বাবা? এই নির্জন অরণ্যে আমাকে এভাবে আচানক সাহায্য করতে এলে?'
যুবক বলল, 'আমি একজন ফেরেশতা। আল্লাহ তা'আলা আমাকে তোমার সহযোগীতা করার জন্য পাঠিয়েছেন। আর তার কারণ হলো, একদিন তুমি তোমার ঘরে বসে রুটি খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলে এবং রুটি হাতে নিয়ে তা মুখে দিতে উদ্যত হয়েছিলে ঠিক এমন সময় একজন ভিক্ষুক তোমার কাছে আল্লাহর ওয়াস্তে রুটি চাইল। অথচ তোমার কাছে খাওয়ার জন্য ওই একটি রুটিই ছিল কিন্তু তুমি চিন্তা করলে, 'আল্লাহর নামের প্রার্থীকে আমি কিভাবে ফিরিয়ে দেব?'
সুতরাং তুমি ওই রুটিটি নিজে না খেয়ে ভিক্ষুককে দিয়ে দিয়েছিলে। ওই দানের বরকতে আল্লাহ তা'আলা আজ তোমার সাহায্যের জন্য আমাকে পাঠিয়েছেন।' সুবহানাল্লাহ!
শিক্ষা:
দান-সদকা একটা মহৎ আমল। এর বিনিময় দুনিয়াতেও পাওয়া যায় আবার পরকালেও পাওয়া যায়।
১। তাই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তোমরা দানের ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করবে। কেননা, বিপদাপদ দানকে অতিক্রম করতে পারে না।' (অর্থাৎ দান বিপদাপদকে দূর করে দেয়।) (মেশকাতুল মাসাবীহ-১৬৭ পৃঃ)
২। হযরত আবু হুরায়রা রাদি. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দাতা ব্যক্তি আল্লাহরও নিকটে, জান্নাতেরও নিকটে, মানুষেরও নিকটে অথচ জাহান্নাম থেকে দূরে এবং কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ থেকেও দূরে, জান্নাত থেকেও দূরে, মানুষ থেকেও দূরে অথচ জাহান্নামের নিকটে। নিশ্চয় মূর্খ দাতা কৃপণ সাধক অপেক্ষা আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। [তিরমিযী: মেশকাত হাদীস-১৭৭৫]
৩। হযরত আবু হুরায়রা রাদি. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: দানশীলতা জান্নাতের একটি বৃক্ষস্বরূপ। যে ব্যক্তি দানশীল সে যেন তার একটি শাখা ধরেছে আর শাখা তাকে ছাড়বে না, যে পর্যন্ত না তাকে জান্নাতে পৌঁছে দেয়। আর কৃপণতা হচ্ছে দোযখের একটি বৃক্ষ। যে ব্যক্তি কৃপণ সে যেন তার একটি শাখা ধরেছে আর শাখা তাকে ছাড়বে না, যে পর্যন্ত না তাকে দোযখে পৌছে দেয়। [বায়হাকী শোআবুল ঈমান: মেশকাত হাদীস-১৭৯২]
৪। হযরত আবু হুরায়রা রাদি. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো জিনিসের এক জোড়া আল্লাহর রাস্তায় দান করবে, তাকে (কিয়ামতের দিন) জান্নাতের সকল দরজা থেকে আহ্বান করা হবে অথচ জান্নাতের দরজা রয়েছে অনেক। [কিয়দাংশ বুখারী, মুসলিম: মেশকাত হাদীস-১৭৯৬]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00