📄 ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য
সাহাবি হযরত আবু দারদা রা. লোকদের উপদেশ দিতে গিয়ে বলতেন: * ঈমানের চূড়া হলো আল্লাহর হুকুমে আগত কষ্টের উপর সবর করা। * তাকদীরের উপর সন্তুষ্ট থাকা। * আল্লাহর হুকুম মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণ করা。
তিনি আরও বলতেন, ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য, যে অনেক ধনসম্পদ জমা করেছে; সম্পদের লোভে এমনভাবে হা করে থাকে, যেন একজন পাগল। লোকদের কাছে যে দুনিয়া রয়েছে, সে তার প্রতি তাকিয়ে থাকে। আর নিজের কাছে যা রয়েছে, তার প্রতি না দেখে, আর না তার উপর শোকর করে। যদি শক্তিতে কুলায়, তবে রাত-দিন এক করে ফেলে (অর্থাৎ দিনের বেলায় তো উপার্জন করেই, পারলে রাতকেও এই কাজে ব্যয় করে)। তার জন্য ধ্বংস হোক, তার হিসাবও কঠিন হবে, আর আযাবও কঠিন হবে।
📄 সদকা জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়
একটি খেজুর হতে পারে জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢালস্বরূপ। আল্লাহর দরবারে বেশি আমল বা বড় আমল কিংবা ছোট আমল ও কম আমলের কোনো ধর্তব্য নেই বরং সেখানে ধর্তব্য শুধু মনের নিখাঁদ নিয়তের ও বিশুদ্ধ ইচ্ছার। ছোট থেকে ছোট কোনো আমল কিংবা স্বল্প থেকে স্বল্প কোনো আমলও যদি তাঁর পূর্ণ সন্তুষ্টির নিয়তে করা হয় তাহলে তা-ই তাঁর রহমতের সাগরে ঢেউ তোলার এবং তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভের জন্য।
যথেষ্ট। নিম্নের হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে বুঝিয়েছেন যে, একটি খেজুর হতে পারে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপায় ও মাধ্যম।
হযরত আদী ইবনে হাতিম রাদি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, 'আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, 'তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে সামর্থ্য রাখে এক টুকরা খেজুর দিয়ে হলেও সেটা তার করা উচিত।'
অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই কথা বলবেন। আল্লাহ্ তাঁর ও বান্দার মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না। অতঃপর বান্দা তার ডান দিকে তাকাবে, কিন্তু কৃত কর্মগুলো ছাড়া আর কিছুই সে দেখবে না।
এরপর বান্দা তার বাম দিকে তাকাবে, কিন্তু কৃতকর্ম ছাড়া আর কিছুই দেখবে না।
অতঃপর সামনের দিকে তাকাবে, কিন্তু চোখের সামনে সে আগুন ছাড়া আর কিছুই দেখবে না।
সুতরাং এক টুকরা খেজুর সদকা করে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো!
অন্য বর্ণনায় আছে তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের আলোচনা করলেন, অতঃপর তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং ভ্রূকুঞ্চিত করলেন। এরপর বললেন, 'তোমরা আগুন থেকে বাঁচো!' এবারও তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং ভ্রূকুঞ্চিত করলেন। এমনকি আমাদের ধারণা হলো তিনি যেন আগুন দেখতে পাচ্ছেন। এরপর তিনি বললেন-
'এক টুকরা খেজুর দ্বারা হলেও তোমরা আগুন থেকে বাঁচো! যদি তা না পাও তাহলে একটি উত্তম কথার দ্বারা হলেও (জাহান্নাম থেকে বাঁচো।)'
অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের অগ্নি সম্পর্কে আলোচনা করলেন। এরপর তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করলেন এবং মুখমণ্ডল তিনবার ফিরিয়ে নিলেন। এরপর তিনি বললেন-
'এক টুকরা খেজুরের বিনিময়ে হলেও তোমরা অগ্নি থেকে বাঁচো। যদি তা না পাও তবে অন্ততঃ একটি ভালো কথার বিনিময়ে হলেও।"
সারকথা : এই হাদিস দ্বারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাই বুঝাতে চেয়েছেন যে, জাহান্নাম অত্যন্ত ভয়াবহ স্থান। আর সে স্থান থেকে বাঁচার অন্যতম একটি মাধ্যম হলো দান-খয়রাত। তাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী তা থেকে বাঁচার চেষ্টা করো! কেননা, যার ১০০ টাকা দান করার সামর্থ্য আছে, সে তা করলে যতটুকু সওয়াব পাবে যার ১ টাকা দান করার সামর্থ্য আছে সে ১ টাকা দান করলে ওই পরিমাণ সওয়াবই পাবে। তাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী বাঁচার চেষ্টা করা উচিত।
এজন্যই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদাহরণস্বরূপ বলেছেন, যার সামান্য কিছু করার সামর্থ্য আছে যেমন একটি খেজুর দান করার সামর্থ্য আছে তাহলে সে যেন সেই একটি খেজুরই দান করে আর এটাই তার জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপায় হতে পারে।
যার মাত্র একটি টাকা দান করার সামর্থ্য আছে সে যেন সেই একটি টাকাই দান করে, আর এটাই তার জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপায় হয়ে যেতে পারে।
আর কারো যদি এমন ধরনের কোনো সামর্থ্যই না থাকে তাহলে সে যেন কমপক্ষে লোকজনের সাথে ভালো কথা বলে এটাও তার জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচার এবং জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম হতে পারে। [সহীহ আল মুসলিম ১-৩২৬/২৭]
📄 জীবন সংগ্রহ করেছে কি?
প্রখ্যাত বুযুর্গ হযরত হাতেম রহ.-কে এক ব্যক্তি বলল, 'হযরত! অমুক ব্যক্তি বহু ধন-দৌলত সংগ্রহ করেছে। সে এখন অঢেল ধনসম্পদের মালিক।'
হযরত হাতেম রহ. বললেন 'সে ধন-দৌলতের সাথে জীবনও কি সংগ্রহ করেছে?'
সে ব্যক্তি বলল, 'না।' তিনি বললেন, 'ধন-দৌলত মৃত ব্যক্তির কি কাজে আসবে?'
মানুষ যে যত বেশি সম্পদশালীই হোক না কেন এই সম্পদ তার মৃত্যুকে তো রোধ করতে পারবে না।
কারুন বহু সম্পদের মালিক ছিল কিন্তু সম্পদ তাকে তার করুণ পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
সম্পদ তাকে কোনো নতুন জীবন দিতে পারেনি।
শিক্ষা: সুতরাং বুদ্ধিমান মানুষের কাজ হলো, সম্পদ কাজে লাগিয়ে মৃত্যুর ওপারের স্থায়ী জগতের জন্য জান্নাতে প্রাসাদ নির্মাণ করা এবং বাগ-বাগিচায় বৃক্ষরোপণ করে নিজের জান্নাতকে সুজলা-সুফলা করে গড়ে তোলা। তবেই ওখানে একটি সুন্দর ও সুখময় জীবন লাভ হবে।
📄 ঈদের দিন
হযরত আনাস রাদি. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'কদরের রাতে জিবরাইল আলাইহি সালাম ফেরেশতাদের একটি জামাত নিয়ে অবতরণ করেন এবং দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায় যারা আল্লাহর যিকির এবং বিভিন্ন ইবাদতে লিপ্ত থাকে, তাদের জন্য রহমতের দু'আ করেন। আর যখন ঈদের দিন হয়, তখন আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং ফেরেশতাদের সম্মুখে বান্দাদের ইবাদতের উপর গর্ব করেন এবং তাদের জিজ্ঞেস করেন- 'হে ফেরেশতারা! যে মজদুর নিজ কর্তব্য পূর্ণভাবে সমাধা করল, তার প্রতিদান কী?'
ফেরেশতারা বলেন, 'তার পারিশ্রমিক পরিপূর্ণ করে দেওয়া উচিত।'
তখন আল্লাহ বলেন, 'হে ফেরেশতারা! আমার বান্দা এবং বান্দীগণ পরিপূর্ণভাবে আমার ফরয পালন করেছে। অতঃপর আজ আমার নিকট দু'আ করতে করতে ঈদগাহে রওনা হয়েছে। আমার ইজ্জত ও মর্যাদার কসম! আমার মহত্ত ও বুযুর্গীর কসম! অতঃপর বান্দাদের লক্ষ্য করে বলেন, 'যাও (আমার বান্দাগণ), আমি নিশ্চয়ই আজ তোমাদের মাফ করে দিলাম এবং তোমাদের গুনাহসমূহকে পুণ্যে পরিবর্তিত করলাম।
নবীজি বলেন, অতঃপর তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে (নিষ্পাপ অবস্থায়) বাড়ি ফিরে।' [মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস ১৯৯৫)
শিক্ষা: মুমিন জীবনের বড় প্রাপ্তি হলো আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া। সুতরাং প্রত্যেক মুমিনের উচিত যেভাবে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করা যায় সেই চেষ্টা করতে থাকা। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন।