📄 তিন জান্নাতি লোক
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদি. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
১। যে ব্যক্তি হালাল খাবে, ২। যে ব্যক্তি সুন্নতের সাথে আমল করবে, ৩। যার অনিষ্ট থেকে লোক নিরাপদ থাকবে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।
তখন এক লোক বলে উঠল, 'হুযুর, এমন লোক তো আজকাল অনেক?' নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, '(ইনশাআল্লাহ) আমার পরবর্তী যুগসমূহেও এমন লোক থাকবে।' [মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদিস নং-১৬৯] প্রতিজ্ঞা:
আসুন না, আমরাও আজ থেকে হালাল কামাইয়ের এবং হালাল খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করি এবং জান্নাতী হই।
আসুন না, আজ থেকে সুন্নতের উপর চলার প্রতিজ্ঞা করি আর জান্নাতী হই।
আসুন না, আজ থেকে আমার দ্বারা কেউ কষ্ট পাবে না এবং আমি কাউকে কোনো ধরনের কষ্ট দেব না বলে প্রতিজ্ঞা করি আর জান্নাতী হই।
📄 তুমি জান্নাতে প্রবেশ করবে
একজন নেককার স্ত্রীর স্বামীকে উপদেশ প্রদানের অভিনব কৌশলের গল্প।
ফায়সালাবাদ (পাকিস্তানের একটি এলাকার নাম) রোডের ধারে এক গ্রামে একজন নেককার দরদী নারী ছিলেন। তিনি অনেক দানশীল ছিলেন। তিনি এতটা ভালোমনের, এতটা অতিথিপরায়ণ এবং গরিবদের উপর এত অধিক ব্যয়কারী ছিলেন যে, লোকজন তাকে হাতেম তাই-এর মেয়ে বলত।
সেই গ্রামটি একেবারে সড়কের নিকটবর্তী ছিল। প্রথমে সেখানে কোনো বাসস্টপ ছিল না; কিন্তু গ্রাম্যলোকদের আসা-যাওয়ার কারণে ধীরে ধীরে সেই সড়কে একটি বাসস্টপ গড়ে উঠে। গ্রামের ভেতরের দূর-দূরান্ত থেকে প্রায় পাঁচ-দশ মাইল পায়ে হেঁটে গরিব কৃষকেরা সেখানে এই উদ্দেশ্যে আসত যে, তারা বিভিন্ন বস্তু ক্রয় করার জন্য বাসে চড়ে শহরে যাবে। কখনো এমন হতো যে, বাস চলার সময় শেষ হয়ে যেত কিন্তু সেই গ্রাম্য বেচারাদের সেখানে থাকার কোনো ব্যবস্থা থাকত না। তখন তারা না বাড়ি ফিরে যেতে পারত না শহরে যেতে পারত। ফলে তারা খুব কষ্টে পড়ত এবং সারা রাত সেখানেই বসে কাটাত। ক্ষুধা, পিপাসা সহ্য করত। যদি সাথে কোনো মহিলা থাকত তাহলে কষ্ট আরও বেড়ে যেত।
সুতরাং এমন অবস্থায় সেই দরদী নারী চিন্তা করলেন এখানে এই গ্রাম্য গরিব বেচারাদের জন্য কিছু একটা ব্যবস্থা করা উচিত। বহু চিন্তা করে তিনি তার স্বামীকে প্রস্তাব দিলেন, 'এখানে গ্রামের গরিব লোকেরা এসে খোলা ময়দানে রাত যাপন করে, কোনো সময় স্ত্রী-সন্তান নিয়েও বসে থাকে এতে তাদের অনেক কষ্ট পোহাতে হয় সুতরাং আমরা যদি একটি মেহমানখানা বানিয়ে দিই যাতে যে সকল লোক সামনে পেছনে কোথাও যেতে পারে না তারা আরামে রাত যাপন করতে পারে এবং পরের দিন নিজ নিজ কাজে ফিরে যেতে পারে। এতে আমাদের বিরাট নেকীও লাভ হবে।'
স্বামীর কাছেও প্রস্তাবটি খুব পছন্দ হলো।
সুতরাং তারা সেখানে সেই রোডের পাশে একটি মেহমানখানা বানিয়ে দিলেন সাথে সাথে একজন লোক রেখে খানা পাকানোরও ব্যবস্থা করে দিলেন।
এখন লোকেরা আস-যাওয়া করতে লাগল। যে সামনে পেছনে কোথাও যেতে পারে না সে মেহমানখানায় থেকে যায়; রাতে সেখানেই খেয়ে আরামে শুয়ে পড়ে অতঃপর সকাল হলে যার যার গন্তব্যে চলে যায়।
এভাবেই চলছিল, সেই মেহমানখানা। কিছুদিন পর কয়েকজন হিতাকাঙ্খী বন্ধু তার স্বামীকে এই পরামর্শ দিল যে, 'তোমার স্ত্রী তো তোমাকে কাঙ্গাল বানিয়ে ছাড়বে। দৈনিক এত এত খানা পাকাতে হচ্ছে আর ফালতু সব লোক এসে খেয়ে যাচ্ছে। এমন দানশীলতায় কী লাভ!'
বন্ধুরা যখন বার বার এমন পরামর্শ দিচ্ছিল তখন স্বামীর মনেও এই খেয়াল এসে গেল যে, আসলেই তো লোকজন এটাকে একটা তামাশাখানা বানিয়ে ফেলেছে। আসছে খাচ্ছে চলে যাচ্ছে। কী লাভ এতে?
সুতরাং সে একদিন মেহমানখানা বন্ধ করে দিল।
স্ত্রী জানতে পেরে অত্যন্ত পেরেশান ও চিন্তাগ্রস্ত হলো যে, আল্লাহ তা'আলা যখন আমাদেরকে এত সম্পদ দান করেছেন যে, নিজেদের উৎপাদিত গম থেকেই রুটি পাকানো যাচ্ছে এবং সারা বছর মেহমানদারী করার সওয়াবও পাওয়া যাচ্ছে অথচ আমাদের সম্পদে কোনো কমতি হচ্ছে না। এখন এই নেকী লাভের মাধ্যমটি বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু স্বামী যখন নিষেধ করল স্ত্রী আর কোনো বাড়াবাড়ি করল না।
স্ত্রী খুব নেককার ছিলেন এবং মানুষের প্রতি দরদী ছিলেন তাই তিনি স্বামীর সাথে কৌশলে কথা বলার সুযোগ খুজছিলেন। কোনো সময় ঝগড়ায় লিপ্ত হলেন না; বরং সুযোগের অপেক্ষায় রইলেন।
একদিন স্বামীকে বললেন, আজ আমার মনটা বড় উদাস উদাস লাগছে, চলুন না একটু ফসলের সবুজ শ্যামল মাঠ থেকে ঘুরে আসি।
স্বামী বলল, খুব ভালো, চলো ঘুরে আসি। ফলে স্বামী তাকে ফসলের খেত- খামার দেখানোর জন্য নিয়ে গেল। সেখানে কুপ, বিভিন্ন ফলের বাগান ও ফসলের যমিন ছিল।
স্ত্রী কিছুক্ষণ এদিক সেদিক ঘুরাফেরা করার পর কুপের পাশে এসে বসে, পড়ল এবং বার বার কুপের ভেতর দেখতে লাগল।
স্বামীও এদিক সেদিক ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল। বেশ কিছুক্ষণ পর স্ত্রীকে বলল, প্রিয়তমা! চলো অনেক সময় হয়ে গেছে।
এই তো আসছি, স্ত্রী বলল।
এই বলে পুনরায় কুপের ভেতর দেখতে লাগল।
অবশেষে স্বামী বলল, আল্লাহর বান্দী! কুপে কী দেখছ?
স্ত্রী বলল, আমি দেখছি, খালি বালতি কুপের ভেতর যাচ্ছে কিন্তু ভরে ভরে ফিরে আসছে। অথচ কুপের পানি যেমন ছিল তেমনই থাকছে।
স্বামী তখন বলল, আল্লাহর বান্দী! তুমি যদি সারাদিন এবং সারা রাত দেখতে থাক তবুও এই পানি এমনই থাকবে। বালতি খালি যাবে আর ভরে ভরে আসবে কিন্তু কুপের পানিতে কোনো ঘাটতি পরবে না।
স্বামী যখন এমন মন্তব্য করল তখন এই সুযোগে স্ত্রী বলে উঠল, আচ্ছা, কুপের পানি কি শেষ হয় না?
স্বামী বলল, না, আসলেই কুপের পানি কখনো শেষ হয় না।
একথা শুনে স্ত্রী পুনরায় বলল, আল্লাহ তা'আলা আমাদের ঘরের ভেতরও একটি কুপ জারি করেছিলেন, লোকেরা খালি পেটে আসত আর ভরা পেটে যেত তোমার এই ভয় হলো কেন যে, আল্লাহ তা'আলা তোমার ওই কুপের পানি কমিয়ে দেবেন?
স্ত্রীর কথা শুনে স্বামীর মনে প্রভাব তৈরি হলো ফলে সে ওয়াদা করল, ঠিক আছে, আমি কাল থেকে আবার মেহমানখানা চালু করে দেব।
সুতরাং মেহমানখানা আবার চালু হয়ে গেল এবং ওই স্ত্রী লোকটি যত দিন জীবিত ছিলেন ততদিন সেই মেহমানখানা জারি থাকল। সুবহানাল্লাহ!
শিক্ষা:
# হাদীস শরীফে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- 'তোমরা রাহমানের ইবাদত করতে থাক, খানা খাওয়াতে থাক এবং সালামের প্রসার করতে থাক, (এই সমস্ত আমলের কারণে) নিরাপদে জান্নাতে দাখেল হয়ে যাবে।' [তিরমিযী, হাদীস-১৮৫৫]
# অন্য হাদীসে বলেন, 'যে ব্যক্তি আপন মুসলমান ভাইকে পেট ভরে খানা খাওয়ায় ও পানি পান করায়, আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নাম হতে সাত খন্দক দূরে সরিয়ে দেন। দুই খন্দকের মাঝখানের দূরত্ব হলো পাঁচশত বছরের পথ।' [মুস্তাদরাকে হাকেম-৪/১২৯]
# আরেক হাদীসে বলেন, 'ক্ষুধার্ত মুসলমানকে খানা খাওয়ানো মাগফেরাত ওয়াজেবকারী আমলসমূহের মধ্য হতে একটি।' (বায়হাকী-৩২১৭]
# হযরত হানী রাদি, বলেন, তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাযির হয়ে আবেদন করলেন, 'হে আল্লাহর রসূল! কোন্ আমল জান্নাত ওয়াজিব করে দেয়?'
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তুমি ভালো কথা বলা এবং খানা খাওয়ানোকে জরুরি করে নাও।' (মুস্তাদরাকে হাকেম-১/২৩]
📄 ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য
সাহাবি হযরত আবু দারদা রা. লোকদের উপদেশ দিতে গিয়ে বলতেন: * ঈমানের চূড়া হলো আল্লাহর হুকুমে আগত কষ্টের উপর সবর করা। * তাকদীরের উপর সন্তুষ্ট থাকা। * আল্লাহর হুকুম মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণ করা。
তিনি আরও বলতেন, ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য, যে অনেক ধনসম্পদ জমা করেছে; সম্পদের লোভে এমনভাবে হা করে থাকে, যেন একজন পাগল। লোকদের কাছে যে দুনিয়া রয়েছে, সে তার প্রতি তাকিয়ে থাকে। আর নিজের কাছে যা রয়েছে, তার প্রতি না দেখে, আর না তার উপর শোকর করে। যদি শক্তিতে কুলায়, তবে রাত-দিন এক করে ফেলে (অর্থাৎ দিনের বেলায় তো উপার্জন করেই, পারলে রাতকেও এই কাজে ব্যয় করে)। তার জন্য ধ্বংস হোক, তার হিসাবও কঠিন হবে, আর আযাবও কঠিন হবে।
📄 সদকা জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়
একটি খেজুর হতে পারে জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢালস্বরূপ। আল্লাহর দরবারে বেশি আমল বা বড় আমল কিংবা ছোট আমল ও কম আমলের কোনো ধর্তব্য নেই বরং সেখানে ধর্তব্য শুধু মনের নিখাঁদ নিয়তের ও বিশুদ্ধ ইচ্ছার। ছোট থেকে ছোট কোনো আমল কিংবা স্বল্প থেকে স্বল্প কোনো আমলও যদি তাঁর পূর্ণ সন্তুষ্টির নিয়তে করা হয় তাহলে তা-ই তাঁর রহমতের সাগরে ঢেউ তোলার এবং তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভের জন্য।
যথেষ্ট। নিম্নের হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে বুঝিয়েছেন যে, একটি খেজুর হতে পারে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপায় ও মাধ্যম।
হযরত আদী ইবনে হাতিম রাদি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, 'আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, 'তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে সামর্থ্য রাখে এক টুকরা খেজুর দিয়ে হলেও সেটা তার করা উচিত।'
অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই কথা বলবেন। আল্লাহ্ তাঁর ও বান্দার মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না। অতঃপর বান্দা তার ডান দিকে তাকাবে, কিন্তু কৃত কর্মগুলো ছাড়া আর কিছুই সে দেখবে না।
এরপর বান্দা তার বাম দিকে তাকাবে, কিন্তু কৃতকর্ম ছাড়া আর কিছুই দেখবে না।
অতঃপর সামনের দিকে তাকাবে, কিন্তু চোখের সামনে সে আগুন ছাড়া আর কিছুই দেখবে না।
সুতরাং এক টুকরা খেজুর সদকা করে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো!
অন্য বর্ণনায় আছে তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের আলোচনা করলেন, অতঃপর তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং ভ্রূকুঞ্চিত করলেন। এরপর বললেন, 'তোমরা আগুন থেকে বাঁচো!' এবারও তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং ভ্রূকুঞ্চিত করলেন। এমনকি আমাদের ধারণা হলো তিনি যেন আগুন দেখতে পাচ্ছেন। এরপর তিনি বললেন-
'এক টুকরা খেজুর দ্বারা হলেও তোমরা আগুন থেকে বাঁচো! যদি তা না পাও তাহলে একটি উত্তম কথার দ্বারা হলেও (জাহান্নাম থেকে বাঁচো।)'
অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের অগ্নি সম্পর্কে আলোচনা করলেন। এরপর তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করলেন এবং মুখমণ্ডল তিনবার ফিরিয়ে নিলেন। এরপর তিনি বললেন-
'এক টুকরা খেজুরের বিনিময়ে হলেও তোমরা অগ্নি থেকে বাঁচো। যদি তা না পাও তবে অন্ততঃ একটি ভালো কথার বিনিময়ে হলেও।"
সারকথা : এই হাদিস দ্বারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাই বুঝাতে চেয়েছেন যে, জাহান্নাম অত্যন্ত ভয়াবহ স্থান। আর সে স্থান থেকে বাঁচার অন্যতম একটি মাধ্যম হলো দান-খয়রাত। তাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী তা থেকে বাঁচার চেষ্টা করো! কেননা, যার ১০০ টাকা দান করার সামর্থ্য আছে, সে তা করলে যতটুকু সওয়াব পাবে যার ১ টাকা দান করার সামর্থ্য আছে সে ১ টাকা দান করলে ওই পরিমাণ সওয়াবই পাবে। তাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী বাঁচার চেষ্টা করা উচিত।
এজন্যই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদাহরণস্বরূপ বলেছেন, যার সামান্য কিছু করার সামর্থ্য আছে যেমন একটি খেজুর দান করার সামর্থ্য আছে তাহলে সে যেন সেই একটি খেজুরই দান করে আর এটাই তার জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপায় হতে পারে।
যার মাত্র একটি টাকা দান করার সামর্থ্য আছে সে যেন সেই একটি টাকাই দান করে, আর এটাই তার জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপায় হয়ে যেতে পারে।
আর কারো যদি এমন ধরনের কোনো সামর্থ্যই না থাকে তাহলে সে যেন কমপক্ষে লোকজনের সাথে ভালো কথা বলে এটাও তার জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচার এবং জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম হতে পারে। [সহীহ আল মুসলিম ১-৩২৬/২৭]