📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 অশুভ সম্পদ

📄 অশুভ সম্পদ


গল্পটি সাহাবায়ে কেরাম 'ও মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্যে নবীজির উপদেশ প্রদানের।
নবীজির প্রিয় সাহাবি হযরত আবু সায়ীদ খুদ্রী রাদি. বর্ণনা করেন, একদা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর উপবিষ্ট হলেন এবং আমরা তাঁর সম্মুখে একত্রিত হয়ে বসলাম।
তিনি বললেন, 'আমার ইহকাল ত্যাগ করার পর তোমাদের জন্য আমি যে বস্তুকে বিশেষরূপে ভয় ও আশঙ্কার কারণ মনে করি তা হলো- দুনিয়া তথা ধন-দৌলতের আধিক্য ও জাঁকজমক; যা তোমাদের উপর বিস্তৃত ও প্রসারিত হবে।'
এক ব্যক্তি আরয করল, 'হে আল্লাহর রসূল! (ধন-দৌলত তো) ভালো জিনিস (তা) কিরূপে মন্দের (তথা আশঙ্কা ও ভয়ের) কারণ হতে পারে?' নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো উত্তর না দিয়ে নিরব রইলেন।
কেউ কেউ প্রশ্নকারী ব্যক্তির প্রতি তিরস্কার করে বলল, 'তুমি কেন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথার উপর কথা বললে? তিনি তো তোমার কথার কোনো উত্তর দিলেন না। অতএব, অযথা এমন প্রশ্ন করার কি দরকার?'
কিছুক্ষণপর আমরা অনুভব করলাম, রাসূলের প্রতি অহী নাযিল হচ্ছে। অহী নাযিল পর্ব শেষ হলে তিনি পবিত্র কপাল থেকে ঘাম মুছে জিজ্ঞেস করলেন, 'প্রশ্নকারী কোথায়?'
এরপর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত প্রশ্নকে প্রশংসার যোগ্য গণ্য করলেন এবং বললেন, 'ভালো জিনিস (স্বভাবতঃ) মন্দের কারণ হয় না সত্য, কিন্তু একটি দৃষ্টান্ত লক্ষ করো- বসন্তকালের প্রলয় বায়ু ও তদসহ বৃষ্টিপাতের দ্বারা যে নতুন ঘাস-পাতা জন্মে থাকে, তা পশুপালের জন্য কতই না ভালো ও উত্তম বস্তু। কিন্তু কোনো (পশু যদি তাকে সুস্বাদু পেয়ে কেবল খেতেই থাকে, নিয়মানুবর্তিতার ধার না ধারে, তবে ওই উত্তম এবং ভালো ও সুস্বাদু বস্তুই সেই) পশুর জন্য পেট ফেঁপে মৃত্যু বা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অবশ্য যে পশু নিয়মমাফিক সবুজ ঘাস খায় এবং যখন পেট ভরে খায় তখন সে পশুপালের স্বভাবগত অভ্যাস অনুযায়ী সূর্যমুখী হয়ে বসে এবং রোমন্থন-চর্বিতচর্বণ করে-জাবর কেটে ভক্ষিত বস্তুসমূহ হজম করতঃ মলমূত্র ত্যাগ করে। অতঃপর পুনরায় ওই ঘাস খাওয়া আরম্ভ করে; (সেই অবস্থায় ওই পশুর জন্য ঘাস পাতা কোনো ক্ষতি ও অনিষ্ঠের কারণ হয় না)।'
স্মরণ রেখো। 'ধন-দৌলত অতিশয় লোভনীয় এবং চিত্তাকর্ষক বস্তু। যে মুসলমান ব্যক্তি এতিম, মিসকিন, অসহায় পথিককে দান করতে অভ্যস্ত তার জন্য ওই ধন-দৌলত অতি উত্তম সহায়ক ও সাথী। কিন্তু (প্রথম প্রকারের পশুর ন্যায়) যে ব্যক্তি তা অবৈধ অনিয়মিতরূপে হাসিল করবে ও পুঁজি করতে থাকবে, তার ভাগ্যে তৃপ্তি জুটবে না; (ইহকালের শান্তি হতে সে বঞ্চিত হবে) এবং পরকালে এই ধন-দৌলতই তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে।' [সহীহ আল বুখারি]
কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেন- زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ذَلِكَ مَتَاعُ الْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَاللَّهُ عِنْدَهُ حُسْنُ الْمَأْبِ ﴿۱۳﴾
"মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে প্রবৃত্তির ভালোবাসা-নারী, সন্তানাদি, রাশি রাশি সোনা-রূপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদি পশু ও শস্যক্ষেত। এগুলো দুনিয়ার জীবনের ভোগসামগ্রী। আর আল্লাহ, তাঁর নিকট রয়েছে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।" [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৪]
আলোচ্য আয়াতে প্রথমে দুনিয়ার কয়েকটি প্রধান কাম্য বস্তুর নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মানুষের দৃষ্টিতে এসব বস্তুর আকর্ষণ স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়েছে। তাই অনেক মানুষ এদের বাহ্যিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে পরকালকে ভুলে যায়। আয়াতে যেসব বস্তুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো সাধারণভাবে মানুষের স্বাভাবিক কামনা-বাসনার লক্ষ্য। তন্মধ্যে সর্বপ্রথম রমণী ও পরে সন্তান-সন্ততির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, দুনিয়াতে মানুষ যা কিছুই অর্জন করতে সচেষ্ট হয়, সবগুলোর মূল কারণ থাকে নারী অথবা সন্তান-সন্ততির প্রয়োজন। এরপর উল্লেখ করা হয়েছে সোনা, রুপা, পালিত পশু ও শস্যক্ষেতের কথা। কারণ এগুলো দ্বিতীয় পর্যায়ে মানুষের কাঙ্খিত ও প্রিয় বস্তু।
দেখুন, আলোচ্য আয়াতে পুরুষের জন্য আকর্ষণের এবং প্রবৃত্তির মোহে পড়ে আখেরাতকে ভুলে যাওয়ার প্রধান যে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো, 'নারীর প্রতি আকর্ষণ ও ভালোবাসা।' এবং বলা হয়েছে, এর কারণে মানুষ পরকালকে ভুলে যায়। তারপর বলা হয়েছে ধনসম্পদের কথা। সুতরাং ধনসম্পদও পরকালে মানুষের জন্য অশুভ হয়ে দাঁড়াবে। [তাফসীরে মা' আরেফুল কুরআন, পৃষ্ঠা: ১৬৬-১৬৭]
اِعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيُوةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهُوٌ وَزِينَةٌ وَ تَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَ تَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا وَ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَ مَغْفِرَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٌ وَمَا الْحَيُوةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ ﴿٢٠﴾
'তোমরা জেনে রেখো যে, দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া কৌতুক, শোভা-সৌন্দর্য, তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহঙ্কার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র। এর উপমা হলো বৃষ্টির মতো, যার উৎপন্ন ফসল কৃষকদেরকে আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, তখন তুমি তা হলুদ বর্ণের দেখতে পাও, তারপর তা খড়-কুটায় পরিণত হয়। আর আখেরাতে (অবাধ্যদের জন্য) আছে কঠিন আযাব এবং (সৎকর্মশীল নারী-পুরুষের জন্য আছে) আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর দুনিয়ার জীবনটা তো ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।' [সূরা হাদীদ, আয়াত: ২০]

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 তিন জান্নাতি লোক

📄 তিন জান্নাতি লোক


হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদি. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
১। যে ব্যক্তি হালাল খাবে, ২। যে ব্যক্তি সুন্নতের সাথে আমল করবে, ৩। যার অনিষ্ট থেকে লোক নিরাপদ থাকবে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।
তখন এক লোক বলে উঠল, 'হুযুর, এমন লোক তো আজকাল অনেক?' নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, '(ইনশাআল্লাহ) আমার পরবর্তী যুগসমূহেও এমন লোক থাকবে।' [মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদিস নং-১৬৯] প্রতিজ্ঞা:
আসুন না, আমরাও আজ থেকে হালাল কামাইয়ের এবং হালাল খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করি এবং জান্নাতী হই।
আসুন না, আজ থেকে সুন্নতের উপর চলার প্রতিজ্ঞা করি আর জান্নাতী হই।
আসুন না, আজ থেকে আমার দ্বারা কেউ কষ্ট পাবে না এবং আমি কাউকে কোনো ধরনের কষ্ট দেব না বলে প্রতিজ্ঞা করি আর জান্নাতী হই।

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 তুমি জান্নাতে প্রবেশ করবে

📄 তুমি জান্নাতে প্রবেশ করবে


একজন নেককার স্ত্রীর স্বামীকে উপদেশ প্রদানের অভিনব কৌশলের গল্প।
ফায়সালাবাদ (পাকিস্তানের একটি এলাকার নাম) রোডের ধারে এক গ্রামে একজন নেককার দরদী নারী ছিলেন। তিনি অনেক দানশীল ছিলেন। তিনি এতটা ভালোমনের, এতটা অতিথিপরায়ণ এবং গরিবদের উপর এত অধিক ব্যয়কারী ছিলেন যে, লোকজন তাকে হাতেম তাই-এর মেয়ে বলত।
সেই গ্রামটি একেবারে সড়কের নিকটবর্তী ছিল। প্রথমে সেখানে কোনো বাসস্টপ ছিল না; কিন্তু গ্রাম্যলোকদের আসা-যাওয়ার কারণে ধীরে ধীরে সেই সড়কে একটি বাসস্টপ গড়ে উঠে। গ্রামের ভেতরের দূর-দূরান্ত থেকে প্রায় পাঁচ-দশ মাইল পায়ে হেঁটে গরিব কৃষকেরা সেখানে এই উদ্দেশ্যে আসত যে, তারা বিভিন্ন বস্তু ক্রয় করার জন্য বাসে চড়ে শহরে যাবে। কখনো এমন হতো যে, বাস চলার সময় শেষ হয়ে যেত কিন্তু সেই গ্রাম্য বেচারাদের সেখানে থাকার কোনো ব্যবস্থা থাকত না। তখন তারা না বাড়ি ফিরে যেতে পারত না শহরে যেতে পারত। ফলে তারা খুব কষ্টে পড়ত এবং সারা রাত সেখানেই বসে কাটাত। ক্ষুধা, পিপাসা সহ্য করত। যদি সাথে কোনো মহিলা থাকত তাহলে কষ্ট আরও বেড়ে যেত।
সুতরাং এমন অবস্থায় সেই দরদী নারী চিন্তা করলেন এখানে এই গ্রাম্য গরিব বেচারাদের জন্য কিছু একটা ব্যবস্থা করা উচিত। বহু চিন্তা করে তিনি তার স্বামীকে প্রস্তাব দিলেন, 'এখানে গ্রামের গরিব লোকেরা এসে খোলা ময়দানে রাত যাপন করে, কোনো সময় স্ত্রী-সন্তান নিয়েও বসে থাকে এতে তাদের অনেক কষ্ট পোহাতে হয় সুতরাং আমরা যদি একটি মেহমানখানা বানিয়ে দিই যাতে যে সকল লোক সামনে পেছনে কোথাও যেতে পারে না তারা আরামে রাত যাপন করতে পারে এবং পরের দিন নিজ নিজ কাজে ফিরে যেতে পারে। এতে আমাদের বিরাট নেকীও লাভ হবে।'
স্বামীর কাছেও প্রস্তাবটি খুব পছন্দ হলো।
সুতরাং তারা সেখানে সেই রোডের পাশে একটি মেহমানখানা বানিয়ে দিলেন সাথে সাথে একজন লোক রেখে খানা পাকানোরও ব্যবস্থা করে দিলেন।
এখন লোকেরা আস-যাওয়া করতে লাগল। যে সামনে পেছনে কোথাও যেতে পারে না সে মেহমানখানায় থেকে যায়; রাতে সেখানেই খেয়ে আরামে শুয়ে পড়ে অতঃপর সকাল হলে যার যার গন্তব্যে চলে যায়।
এভাবেই চলছিল, সেই মেহমানখানা। কিছুদিন পর কয়েকজন হিতাকাঙ্খী বন্ধু তার স্বামীকে এই পরামর্শ দিল যে, 'তোমার স্ত্রী তো তোমাকে কাঙ্গাল বানিয়ে ছাড়বে। দৈনিক এত এত খানা পাকাতে হচ্ছে আর ফালতু সব লোক এসে খেয়ে যাচ্ছে। এমন দানশীলতায় কী লাভ!'
বন্ধুরা যখন বার বার এমন পরামর্শ দিচ্ছিল তখন স্বামীর মনেও এই খেয়াল এসে গেল যে, আসলেই তো লোকজন এটাকে একটা তামাশাখানা বানিয়ে ফেলেছে। আসছে খাচ্ছে চলে যাচ্ছে। কী লাভ এতে?
সুতরাং সে একদিন মেহমানখানা বন্ধ করে দিল।
স্ত্রী জানতে পেরে অত্যন্ত পেরেশান ও চিন্তাগ্রস্ত হলো যে, আল্লাহ তা'আলা যখন আমাদেরকে এত সম্পদ দান করেছেন যে, নিজেদের উৎপাদিত গম থেকেই রুটি পাকানো যাচ্ছে এবং সারা বছর মেহমানদারী করার সওয়াবও পাওয়া যাচ্ছে অথচ আমাদের সম্পদে কোনো কমতি হচ্ছে না। এখন এই নেকী লাভের মাধ্যমটি বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু স্বামী যখন নিষেধ করল স্ত্রী আর কোনো বাড়াবাড়ি করল না।
স্ত্রী খুব নেককার ছিলেন এবং মানুষের প্রতি দরদী ছিলেন তাই তিনি স্বামীর সাথে কৌশলে কথা বলার সুযোগ খুজছিলেন। কোনো সময় ঝগড়ায় লিপ্ত হলেন না; বরং সুযোগের অপেক্ষায় রইলেন।
একদিন স্বামীকে বললেন, আজ আমার মনটা বড় উদাস উদাস লাগছে, চলুন না একটু ফসলের সবুজ শ্যামল মাঠ থেকে ঘুরে আসি।
স্বামী বলল, খুব ভালো, চলো ঘুরে আসি। ফলে স্বামী তাকে ফসলের খেত- খামার দেখানোর জন্য নিয়ে গেল। সেখানে কুপ, বিভিন্ন ফলের বাগান ও ফসলের যমিন ছিল।
স্ত্রী কিছুক্ষণ এদিক সেদিক ঘুরাফেরা করার পর কুপের পাশে এসে বসে, পড়ল এবং বার বার কুপের ভেতর দেখতে লাগল।
স্বামীও এদিক সেদিক ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল। বেশ কিছুক্ষণ পর স্ত্রীকে বলল, প্রিয়তমা! চলো অনেক সময় হয়ে গেছে।
এই তো আসছি, স্ত্রী বলল।
এই বলে পুনরায় কুপের ভেতর দেখতে লাগল।
অবশেষে স্বামী বলল, আল্লাহর বান্দী! কুপে কী দেখছ?
স্ত্রী বলল, আমি দেখছি, খালি বালতি কুপের ভেতর যাচ্ছে কিন্তু ভরে ভরে ফিরে আসছে। অথচ কুপের পানি যেমন ছিল তেমনই থাকছে।
স্বামী তখন বলল, আল্লাহর বান্দী! তুমি যদি সারাদিন এবং সারা রাত দেখতে থাক তবুও এই পানি এমনই থাকবে। বালতি খালি যাবে আর ভরে ভরে আসবে কিন্তু কুপের পানিতে কোনো ঘাটতি পরবে না।
স্বামী যখন এমন মন্তব্য করল তখন এই সুযোগে স্ত্রী বলে উঠল, আচ্ছা, কুপের পানি কি শেষ হয় না?
স্বামী বলল, না, আসলেই কুপের পানি কখনো শেষ হয় না।
একথা শুনে স্ত্রী পুনরায় বলল, আল্লাহ তা'আলা আমাদের ঘরের ভেতরও একটি কুপ জারি করেছিলেন, লোকেরা খালি পেটে আসত আর ভরা পেটে যেত তোমার এই ভয় হলো কেন যে, আল্লাহ তা'আলা তোমার ওই কুপের পানি কমিয়ে দেবেন?
স্ত্রীর কথা শুনে স্বামীর মনে প্রভাব তৈরি হলো ফলে সে ওয়াদা করল, ঠিক আছে, আমি কাল থেকে আবার মেহমানখানা চালু করে দেব।
সুতরাং মেহমানখানা আবার চালু হয়ে গেল এবং ওই স্ত্রী লোকটি যত দিন জীবিত ছিলেন ততদিন সেই মেহমানখানা জারি থাকল। সুবহানাল্লাহ!
শিক্ষা:
# হাদীস শরীফে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- 'তোমরা রাহমানের ইবাদত করতে থাক, খানা খাওয়াতে থাক এবং সালামের প্রসার করতে থাক, (এই সমস্ত আমলের কারণে) নিরাপদে জান্নাতে দাখেল হয়ে যাবে।' [তিরমিযী, হাদীস-১৮৫৫]
# অন্য হাদীসে বলেন, 'যে ব্যক্তি আপন মুসলমান ভাইকে পেট ভরে খানা খাওয়ায় ও পানি পান করায়, আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নাম হতে সাত খন্দক দূরে সরিয়ে দেন। দুই খন্দকের মাঝখানের দূরত্ব হলো পাঁচশত বছরের পথ।' [মুস্তাদরাকে হাকেম-৪/১২৯]
# আরেক হাদীসে বলেন, 'ক্ষুধার্ত মুসলমানকে খানা খাওয়ানো মাগফেরাত ওয়াজেবকারী আমলসমূহের মধ্য হতে একটি।' (বায়হাকী-৩২১৭]
# হযরত হানী রাদি, বলেন, তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাযির হয়ে আবেদন করলেন, 'হে আল্লাহর রসূল! কোন্ আমল জান্নাত ওয়াজিব করে দেয়?'
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তুমি ভালো কথা বলা এবং খানা খাওয়ানোকে জরুরি করে নাও।' (মুস্তাদরাকে হাকেম-১/২৩]

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য

📄 ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য


সাহাবি হযরত আবু দারদা রা. লোকদের উপদেশ দিতে গিয়ে বলতেন: * ঈমানের চূড়া হলো আল্লাহর হুকুমে আগত কষ্টের উপর সবর করা। * তাকদীরের উপর সন্তুষ্ট থাকা। * আল্লাহর হুকুম মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণ করা。
তিনি আরও বলতেন, ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য, যে অনেক ধনসম্পদ জমা করেছে; সম্পদের লোভে এমনভাবে হা করে থাকে, যেন একজন পাগল। লোকদের কাছে যে দুনিয়া রয়েছে, সে তার প্রতি তাকিয়ে থাকে। আর নিজের কাছে যা রয়েছে, তার প্রতি না দেখে, আর না তার উপর শোকর করে। যদি শক্তিতে কুলায়, তবে রাত-দিন এক করে ফেলে (অর্থাৎ দিনের বেলায় তো উপার্জন করেই, পারলে রাতকেও এই কাজে ব্যয় করে)। তার জন্য ধ্বংস হোক, তার হিসাবও কঠিন হবে, আর আযাবও কঠিন হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00