📄 নেকী বিক্রয়
পৃথিবী থেকে জান্নাতের প্রাসাদ দেখার গল্প।
এক শহরের কাজী ছিলেন বড় সম্পদশালী। মোহররম মাসের দশ তারিখে কাজী সাহেবের ঘরের দরজায় এক ভিক্ষুক এসে বলল, 'আল্লাহ্ পাক আপনার ইজ্জত সম্মানে বরকত দান করুন; আমি একজন গরিব মানুষ, বাল বাচ্চা নিয়ে বড় কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। আজ আশুরার দিনের উসিলায় আপনার নিকট কিছু সাহায্য চাচ্ছি। আমাকে দশ সের রুটি, পাঁচ সের গোস্ত এবং দুইটি দেরহাম দান করুন।'
কাজী সাহেব তাকে যোহরের সময় আসতে বললেন, সে যোহরের সময় এলে তাকে আবার আসরের সময় আসতে বলা হলো।
ফকির আবার আসরের সময় এলো। কিন্তু এইবারও তাকে কিছুই দেওয়া হলো না। কাজী সাহেবের এই আচরণে ফকির মনে বড় কষ্ট পেল। সে মনে মনে বলল, 'প্রথমবারেই নিষেধ করলে আমাকে বার বার কষ্ট করতে হতো না।' অতঃপর সে দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সাহায্যের আশায় পথে পথে ঘুরতে লাগল। কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরির পর সে এক খ্রিষ্টানের সাক্ষাত পেল এবং তাকে বলল, 'আশুরার দিনের বরকতে আমাকে কিছু সাহায্য কর।'
খ্রিষ্টান আশুরার দিনের বরকত জানতে চাইলে ফকির এই বিষয়ে কিছু বয়ান করল। ফকিরের বয়ান শুনে খ্রিষ্টান লোকটি খুব প্রভাবান্বিত হলো। সে বলল, 'তুমি বড় মূল্যবান দিবসের অছিলা দিয়েছ। এখন বল, তোমার কী প্রয়োজন?'
ফকির রুটি, গোস্ত ও দেরহামের আবেদন করল।
খ্রিষ্টান লোকটি তাকে দশ ধামা আটা, একশত মন গোশত এবং বিশটি দেরহাম দান করে বলল, 'তুমি যত দিন জীবিত থাকবে তোমার পরিবারের জন্য প্রতি আশুরায় এই বরাদ্দ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলো।'
এদিকে ওই কাজী সাহেব রাতে স্বপ্নে দেখলেন, কে যেন তাকে বলল, 'উপরের দিকে তাকাও।' তিনি উপরের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, একটি বিরাট সুন্দর মহল। মহলটির একটি ইট স্বর্ণের এবং একটি ইট রূপার। তার পাশেই লাল ইয়াকুত দ্বারা নির্মিত অপর মহলটি এত সুন্দর ও ঝকঝকে যে, বাহির হতে তার ভেতরের সকল বস্তু দেখা যায় এবং ভেতর হতেও বাহিরের সকল কিছু দেখা যায়।
কাজী সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, 'হে পরওয়ারদেগার! এত সুন্দর মহল তুমি কার জন্য নির্মাণ করেছ?'
বলা হলো-
"তুমি যদি ফকিরের প্রার্থনা পূরণ করতে তাহলে এই মহল তোমাকেই দান করা হতো। কিন্তু তুমি ফকিরকে বিমুখ করে ফিরিয়ে দিয়েছ। এখন এই মহল অমুক খ্রিষ্টানকে দান করা হবে।"
ঘুম হতে জাগ্রত হয়ে কাজী সাহেব বড় পেরেশান হলেন। ঘুরে ঘুরে সেই খ্রিষ্টানের বাড়ি সন্ধান করে তার বাড়ি গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি গতকাল পুণ্যের কী কাজ করেছিলে?'
খ্রিষ্টান বলল, 'তুমি আমাকে এই কথা জিজ্ঞেস করছ কেন?'
জবাবে কাজী সাহেব গতরাতের দেখা সেই স্বপ্নটি খুলে বললেন। অতঃপর তিনি প্রস্তাব দিলেন, এক লক্ষ দেরহামের বিনিময়ে তোমার সেই নেকী আমার নিকট বিক্রয় কর।
খ্রিষ্টান শান্ত কণ্ঠে জবাব দিল- 'এক লক্ষ কেন, যদি গোটা পৃথিবীর শূন্যস্থান দেরহাম দ্বারা পূর্ণ করে আমাকে তার মালিক বানিয়ে দেওয়া হয় তবুও আমি সেই নেকী বিক্রয় করব না। যে আল্লাহ্ এত বড় দয়ালু, সামান্য আমলের বিনিময়ে তিনি এত বেশি দান করেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ এক এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রসূল। আর ইসলাম আল্লাহ্ পাকের মনোনিত একমাত্র দ্বীন।'
এই বলে সেই খ্রিষ্টান সাথে সাথে মুসলমান হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ!
শিক্ষা: কোনো মনীষী বলেন,
• ভিক্ষুকের উপর কখনো বিরক্ত হবে না। কেননা, এতেই তোমার সম্মান যে, সর্বদা তোমার নিকট সাহায্য প্রার্থনা হতে থাকবে।
• কোনো ভিক্ষুকের চেহারা মলিন করে ফিরিয়ে দেবে না। যেই দিন তুমি কোনো ভিক্ষুকের চাহিদা পূরণ করবে, সে দিনটিই তোমার জীবনের "শুভ দিন।"
• স্মরণ রেখো! জীবনের সকল কিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এমন একটি সংবাদ ও কীর্তি যেন তোমার জন্য অবশিষ্ট থাকে যা তোমাকে খুশি করবে। তোমার চেহারাই তোমার দানশীলতার পরিচয় বহন করবে। আর (ভিক্ষুকের প্রার্থনায়) মুখ মলিন করা কৃপণের আলামত।
📄 শুভ্র দাড়িওয়ালা
মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের রিযিকের বিস্ময়কর ফায়সালার গল্প।
হাকীম আনসারী নামের একজন আল্লাহওয়ালা লোক ছিলেন। তিনি নক্শবন্দী তরীকার সাথে সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন সেই সুবাদে দু'আ নেওয়ার জন্য মাঝে মধ্যে তার কাছে যাওয়া হতো। একবার তিনি একটি বিস্ময়কর ঘটনা শোনান।
তিনি বলেন, ঘটনাটি আমি নিজে প্রত্যক্ষ করেছি। ঘটনাটি হলো, আমাদের এই এলাকারই এক লোকের তার স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য হয়ে গেল। পরস্পর ঝগড়া চলছিল আর এমন সময়ই তাদের বাড়িতে মেহমান এসে হাযির। স্বামী তাকে বৈঠকখানায় বসিয়ে স্ত্রীকে এসে বললেন, মেহমান এসেছে, খাবার তৈরি কর।
স্ত্রী গোস্বার হালতে ছিল। রাগে কটমট করে বলল, না তোমার জন্য খাবার রান্না হবে না মেহমানের জন্য।
স্বামী বড় পেরেশان হলেন কিন্তু কিছু না বলে নিরবে মেহমানের কাছে গিয়ে মেহমানের খোঁজখবর করলেন। এই সময় তার মনে খেয়াল এলো যে, স্ত্রী রান্না না করলেও আমদের প্রতিবেশী তো আছে আর তার মনমানসিকতাও অনেক ভালো। তার কাছে যাই না কেন? নিশ্চয় তিনি সহযোগীতা করবেন। সুতরাং তিনি তার প্রতিবেশীর কাছে গেলেন এবং বললেন, আমার স্ত্রী অসুস্থ এর মধ্যে মেহমান এসেছেন আপনি কিছু রুটি তরকারী পাকিয়ে দিন। প্রতিবেশী তার প্রস্তাব সানন্দে গ্রহণ করে নিল। সুতরাং তিনি প্রশান্ত মনে এসে মেহমানের সাথে বসে গল্পে লিপ্ত হলেন।
কিছুক্ষণ পর মেহমান ঠাণ্ডা পানি পান করতে চাইলেন। সে ঠাণ্ডা পানি আনার জন্য ঘরের ভেতরমহলে প্রবেশ করলেন। ভেতরে প্রবেশ করেই দেখলেন, স্ত্রী অঝোরে কাঁদছে। স্বামী বেচারা অবাক হলেন যে, এই বাঘিনীর চোখে আবার পানি!
শুধালেন, কী ব্যাপার? কাঁদছ কেন?
স্বামীর কণ্ঠ শুনে সে তার কান্না আরও বাড়িয়ে দিল। কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল, আমাকে ক্ষমা করে দিন।
স্বামী বুঝে নিলেন, নিশ্চয় কিছু একটা ঘটেছে নতুবা এত সহজে সে ক্ষমা চাওয়ার পাত্রী নয়।
স্বামী বললেন, আগে তো বল কী হয়েছে?
স্ত্রীর একই কথা, আগে বলুন, আপনি আমাকে ক্ষমা করেছেন কি না? তারপর আমি ঘটনা বলব।
স্বামী বেচারা অপরাগ হয়ে বলে দিলেন, ঠিক আছে যাও, যা কিছু হয়েছে আমি ওই সবকিছু মন থেকে ঝেড়ে ফেলে দিলাম এবং তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।
এবার স্ত্রী বলল, আপনি এসে যখন মেহমানের জন্য খানা পাকাতে বললেন, আর আমি বলে দিলাম 'না আপনার জন্য খানা রান্না হবে না মেহমানের জন্য।' তখন আপনি চলে গেলেন। কিন্তু পরক্ষণেই আমি চিন্তা করলাম, ঝগড়া তো আপনার আমার মাঝে মেহমানের সাথে তো এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সুতরাং তাকে কেন আমাদের কারণে খালি মুখে থাকতে হবে? এই চিন্তা করে আমি উঠে রান্নাঘরে গেলাম। সেখানে প্রবেশ করেই দেখি এক শুভ্র দাড়িওয়ালা আমাদের আটার পাত্র থেকে আটা বের করে নিচ্ছে। আমি এই দৃশ্য দেখে ভয় পেয়ে গেলাম। এমন সময় সে আমাকে অবাক করে দিয়ে বলে উঠল, 'হে গৃহিনী! পেরেশানা হয়ো না, এটা তোমাদের মেহমানের অংশ যা তোমাদের আটার মধ্যে মিলিত ছিল। কিন্তু এখন যেহেতু তা তোমাদের প্রতিবেশীর ঘরে রান্না হচ্ছে তাই তার অংশটুকু এখান থেকে নিয়ে নেওয়া হচ্ছে।' সুবহানাল্লাহ!
শিক্ষা: মনে রাখবেন, মেহমান আসার আগেই আল্লাহ তা'আলা তার রিযিক আপনার ঘরে পৌঁছে দেন।
তাই ঘরে কোনো মেহমান এলে কখনো মেহমানের আপ্যায়ন করতে অস্বীকার করা কিংবা কৃপণতা করা উচিত নয়।
📄 অমূল্য বাণী
হযরত আবু দারদা রা. আরও বলেছেন, তোমার ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি বেশি হওয়া কল্যাণের জিনিস নয়, বরং কল্যাণের জিনিস হলো:
• তোমার সহনশীলতা অধিক হওয়া।
• তোমার ইলম বৃদ্ধি পাওয়া।
• আল্লাহ তাআলার ইবাদতে লোকদের সাথে তোমার প্রতিযোগিতা করা।
• নেক কাজ করে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করা এবং গুনাহ হয়ে গেলে আল্লাহর কাছে ইসতেগফার অর্থাৎ ক্ষমাপ্রার্থনা করা।
• মানুষের এর থেকে বেঁচে থাকা উচিত যে, তার অজ্ঞাতে মুমিনদের অন্তরে তার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হবে।
এরপর বললেন, তুমি জানো কি, এরূপ কীভাবে হয়? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, বান্দা নির্জনে আল্লাহ তাআলার নাফরমানী করে। এই কারণে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অন্তরে তার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দেন। অথচ সে জানতেও পারে না।
📄 অশুভ সম্পদ
গল্পটি সাহাবায়ে কেরাম 'ও মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্যে নবীজির উপদেশ প্রদানের।
নবীজির প্রিয় সাহাবি হযরত আবু সায়ীদ খুদ্রী রাদি. বর্ণনা করেন, একদা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর উপবিষ্ট হলেন এবং আমরা তাঁর সম্মুখে একত্রিত হয়ে বসলাম।
তিনি বললেন, 'আমার ইহকাল ত্যাগ করার পর তোমাদের জন্য আমি যে বস্তুকে বিশেষরূপে ভয় ও আশঙ্কার কারণ মনে করি তা হলো- দুনিয়া তথা ধন-দৌলতের আধিক্য ও জাঁকজমক; যা তোমাদের উপর বিস্তৃত ও প্রসারিত হবে।'
এক ব্যক্তি আরয করল, 'হে আল্লাহর রসূল! (ধন-দৌলত তো) ভালো জিনিস (তা) কিরূপে মন্দের (তথা আশঙ্কা ও ভয়ের) কারণ হতে পারে?' নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো উত্তর না দিয়ে নিরব রইলেন।
কেউ কেউ প্রশ্নকারী ব্যক্তির প্রতি তিরস্কার করে বলল, 'তুমি কেন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথার উপর কথা বললে? তিনি তো তোমার কথার কোনো উত্তর দিলেন না। অতএব, অযথা এমন প্রশ্ন করার কি দরকার?'
কিছুক্ষণপর আমরা অনুভব করলাম, রাসূলের প্রতি অহী নাযিল হচ্ছে। অহী নাযিল পর্ব শেষ হলে তিনি পবিত্র কপাল থেকে ঘাম মুছে জিজ্ঞেস করলেন, 'প্রশ্নকারী কোথায়?'
এরপর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত প্রশ্নকে প্রশংসার যোগ্য গণ্য করলেন এবং বললেন, 'ভালো জিনিস (স্বভাবতঃ) মন্দের কারণ হয় না সত্য, কিন্তু একটি দৃষ্টান্ত লক্ষ করো- বসন্তকালের প্রলয় বায়ু ও তদসহ বৃষ্টিপাতের দ্বারা যে নতুন ঘাস-পাতা জন্মে থাকে, তা পশুপালের জন্য কতই না ভালো ও উত্তম বস্তু। কিন্তু কোনো (পশু যদি তাকে সুস্বাদু পেয়ে কেবল খেতেই থাকে, নিয়মানুবর্তিতার ধার না ধারে, তবে ওই উত্তম এবং ভালো ও সুস্বাদু বস্তুই সেই) পশুর জন্য পেট ফেঁপে মৃত্যু বা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অবশ্য যে পশু নিয়মমাফিক সবুজ ঘাস খায় এবং যখন পেট ভরে খায় তখন সে পশুপালের স্বভাবগত অভ্যাস অনুযায়ী সূর্যমুখী হয়ে বসে এবং রোমন্থন-চর্বিতচর্বণ করে-জাবর কেটে ভক্ষিত বস্তুসমূহ হজম করতঃ মলমূত্র ত্যাগ করে। অতঃপর পুনরায় ওই ঘাস খাওয়া আরম্ভ করে; (সেই অবস্থায় ওই পশুর জন্য ঘাস পাতা কোনো ক্ষতি ও অনিষ্ঠের কারণ হয় না)।'
স্মরণ রেখো। 'ধন-দৌলত অতিশয় লোভনীয় এবং চিত্তাকর্ষক বস্তু। যে মুসলমান ব্যক্তি এতিম, মিসকিন, অসহায় পথিককে দান করতে অভ্যস্ত তার জন্য ওই ধন-দৌলত অতি উত্তম সহায়ক ও সাথী। কিন্তু (প্রথম প্রকারের পশুর ন্যায়) যে ব্যক্তি তা অবৈধ অনিয়মিতরূপে হাসিল করবে ও পুঁজি করতে থাকবে, তার ভাগ্যে তৃপ্তি জুটবে না; (ইহকালের শান্তি হতে সে বঞ্চিত হবে) এবং পরকালে এই ধন-দৌলতই তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে।' [সহীহ আল বুখারি]
কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেন- زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ذَلِكَ مَتَاعُ الْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَاللَّهُ عِنْدَهُ حُسْنُ الْمَأْبِ ﴿۱۳﴾
"মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে প্রবৃত্তির ভালোবাসা-নারী, সন্তানাদি, রাশি রাশি সোনা-রূপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদি পশু ও শস্যক্ষেত। এগুলো দুনিয়ার জীবনের ভোগসামগ্রী। আর আল্লাহ, তাঁর নিকট রয়েছে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।" [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৪]
আলোচ্য আয়াতে প্রথমে দুনিয়ার কয়েকটি প্রধান কাম্য বস্তুর নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মানুষের দৃষ্টিতে এসব বস্তুর আকর্ষণ স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়েছে। তাই অনেক মানুষ এদের বাহ্যিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে পরকালকে ভুলে যায়। আয়াতে যেসব বস্তুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো সাধারণভাবে মানুষের স্বাভাবিক কামনা-বাসনার লক্ষ্য। তন্মধ্যে সর্বপ্রথম রমণী ও পরে সন্তান-সন্ততির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, দুনিয়াতে মানুষ যা কিছুই অর্জন করতে সচেষ্ট হয়, সবগুলোর মূল কারণ থাকে নারী অথবা সন্তান-সন্ততির প্রয়োজন। এরপর উল্লেখ করা হয়েছে সোনা, রুপা, পালিত পশু ও শস্যক্ষেতের কথা। কারণ এগুলো দ্বিতীয় পর্যায়ে মানুষের কাঙ্খিত ও প্রিয় বস্তু।
দেখুন, আলোচ্য আয়াতে পুরুষের জন্য আকর্ষণের এবং প্রবৃত্তির মোহে পড়ে আখেরাতকে ভুলে যাওয়ার প্রধান যে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো, 'নারীর প্রতি আকর্ষণ ও ভালোবাসা।' এবং বলা হয়েছে, এর কারণে মানুষ পরকালকে ভুলে যায়। তারপর বলা হয়েছে ধনসম্পদের কথা। সুতরাং ধনসম্পদও পরকালে মানুষের জন্য অশুভ হয়ে দাঁড়াবে। [তাফসীরে মা' আরেফুল কুরআন, পৃষ্ঠা: ১৬৬-১৬৭]
اِعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيُوةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهُوٌ وَزِينَةٌ وَ تَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَ تَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا وَ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَ مَغْفِرَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٌ وَمَا الْحَيُوةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ ﴿٢٠﴾
'তোমরা জেনে রেখো যে, দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া কৌতুক, শোভা-সৌন্দর্য, তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহঙ্কার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র। এর উপমা হলো বৃষ্টির মতো, যার উৎপন্ন ফসল কৃষকদেরকে আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, তখন তুমি তা হলুদ বর্ণের দেখতে পাও, তারপর তা খড়-কুটায় পরিণত হয়। আর আখেরাতে (অবাধ্যদের জন্য) আছে কঠিন আযাব এবং (সৎকর্মশীল নারী-পুরুষের জন্য আছে) আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর দুনিয়ার জীবনটা তো ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।' [সূরা হাদীদ, আয়াত: ২০]