📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 এভাবেই জান্নাত পাওয়া যায়

📄 এভাবেই জান্নাত পাওয়া যায়


ক্ষমার বদলে ক্ষমার আরও একটি গল্প।
এক লোকের স্ত্রী ছিল খুবই নিবোর্ধ। সবসময় কোনো না কোনো ভুল করে বসত। স্বামী বেচারা বারবার তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। মানুষ তো মানুষই। আল্লাহ তাকে রক্ত-মাংস দিয়ে গড়েছেন এবং রাগ গোস্বাও দিয়েছেন। বেচারা স্বামীরও প্রায়-ই রাগ আসত কিন্ত সে কখনো রাগ প্রকাশ করত না। অথচ তার স্ত্রীর সবগুলো ভুলই ছিল মারাত্মক। কিন্তু সে ভাবত, যদি আমি তাকে তালাক দিয়ে দেই তাহলে সে তো পেরেশানীতে পড়ে যাবে। কে তাকে গ্রহণ করবে? এভাবে তার পুরো জীবন দুঃখ-কষ্টে কাটাতে হবে। জীবনটা নরকে পরিণত হবে। এর চেয়ে ভালো আমার কাছেই থাকুক। দুনিয়ার জীবন তো কয়েক দিনের; তা কোনোভাবে কেটে গেলেই হলো।
মোটকথা, সে এসব চিন্তা করে তাকে ক্ষমা করে দিত। কোনো ভুল হয়ে গেলে বলত, 'থাক, এসব কিছু না। এমন হয়েই থাকে।'
বারবার স্ত্রীর ভুল ক্ষমা করে করে এভাবেই সে তার জীবন পার করে দিল। একসময় মৃত্যুর ফেরেশতা তার জান কবজ করে নিল। মৃত্যুর পর কেউ তাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করল। ভাই, তোমার সাথে কেমন আচরণ করা হয়েছে?
সে বলল, আমাকে আল্লাহ তা'আলার দরবারে হাযির করা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বললেন-
میرے بندے ! تو اپنی بیوی کو میری بندی سمجھ کر معاف کیا کرتا تھا، جا، آج میں نے تجھے اپنا بندہ سمجھ کر معاف کر دیا
'হে আমার বান্দা! তুমি দুনিয়াতে তোমার স্ত্রীকে আমার বান্দী মনে করে ক্ষমা করে দিতে, যাও, আজ আমিও তোমাকে আমার বান্দা মনে করে ক্ষমা করে দিলাম।' সুবহানাল্লাহ। আল্লাহু আকবার।
এভাবেই ক্ষমার বদলে ক্ষমা পাওয়া যায় এবং ক্ষমা পাওয়ার পর জান্নাত পাওয়া যায়।
শিক্ষা:
আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা পাওয়া খুব সহজ বিষয় নয়; তবে যে-ই আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভ করতে পারবে তা যেভাবে, যে অসিলায়-ই হোক সে নিশ্চিত জান্নাতের অধিকারী হবে।
হযরত জাবের রাদি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার মধ্যে এই তিনটি গুণ বিদ্যমান থাকবে, আল্লাহ তা'আলা তার মৃত্যুকে সহজ করবেন এবং তাকে আপন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সেই গুণগুলো হলো:
১। অসহায় দুর্বলের সাথে সদ্ব্যবহার করা,
২। পিতামাতার প্রতি সদাচারণ করা এবং
৩। দাস-দাসীদের সঙ্গে (কর্মচারী ও ঘরের চাকর-বাকরদের সাথে) ভালো ব্যবহার করা। [জামেউত তিরমিযী, হাদীস নং-২৪৯৪; মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং-৩২২০]
স্ত্রীর সাথে ভালো ব্যবহার করাও এই হাদীসের অর্ন্তভুক্ত। তাই তো এসব মানুষেরা আল্লাহর কাছে ক্ষমার অধিকারী হচ্ছে।
# হযরত আনাস রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
১। যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখেন।
২। যে ব্যক্তি নিজের গোস্বা দমন করে রাখে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তার উপর থেকে আযাব সরিয়ে রাখবেন।
৩। যে ব্যক্তি নিজ অপরাধের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা চায়, আল্লাহ পাক তার ওজর কবুল করেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং-৪৮৯৪]

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 আল্লাহর ইচ্ছা

📄 আল্লাহর ইচ্ছা


হযরত সালমান ফারসী রা. লোকদেরেক উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেন:
* আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দার সাথে মন্দ ও ধ্বংসের ইচ্ছা করেন, তার ভেতর থেকে লজ্জা-শরম বের করে নেন। পরিণতিতে তুমি দেখবে, লোকজনও তার প্রতি শত্রুতা পোষণ করে আর সেও লোকদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে।
* যখন তার এরূপ অবস্থা হয়, তার অন্তর থেকে দয়ামায়া বের করে দেওয়া হয়। ফলে তুমি তাকে অত্যন্ত বদ আখলাক ও কঠিন হৃদয়ের অধিকারী দেখতে পাবে।
* যখন তার অবস্থা এরূপ হবে, তখন তার থেকে আমানতদারীর গুণ ছিনিয়ে নেওয়া হবে। পরিণামে তুমি দেখবে, সে লোকের সাথে খেয়ানত করছে আর লোকেরাও তার সাথে খেয়ানত করছে।
এরপর যখন সে এরূপ অবস্থার শিকার হবে, তখন ইসলামের রশি তার গর্দান থেকে নামিয়ে নেওয়া হবে। এরপর আল্লাহ ও তার মাখলুক সকলেই তার উপর লানত বর্ষণ করতে থাকে। আর সেও অন্যদের লানত দিতে থাকে।।৩

টিকাঃ
৩. আবু নুআইম ফিল হুলইয়া, ১/২০৭, ২০৪, ২০৫।

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 মুমিনের উদাহরণ

📄 মুমিনের উদাহরণ


হযরত সালমান ফারসী রা. লোকদেরকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেন:
• দুনিয়াতে মুমিনের উদাহরণ সেই রোগীর ন্যায়, যার সঙ্গে তার চিকিৎসক রয়েছে, যে তার রোগ ও তার চিকিৎসা উভয় সম্পর্কে অবগত। যখন তার অন্তর এমন জিনিসের আগ্রহ করে, যা তার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তখন চিকিৎসক তাকে সেই জিনিস থেকে নিষেধ করে এবং বলে, এর কাছেও যেয়ো না। কেননা, যদি তুমি এটা খাও, তবে তা তোমাকে ধ্বংস করে দেবে। এইভাবে তার চিকিৎসক তাকে ক্ষতিকর জিনিস থেকে বিরত রাখে, ফলে সে সম্পূর্ণ সুস্থতা লাভ করে এবং তার রোগ দূর হয়ে যায়।
• শোনো, এমনিভাবে মুমিনের দিল দুনিয়ার এমন অনেক জিনিসের খাহেশ করতে থাকে, যা অন্যদের তার অপেক্ষা বেশি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা মুমিনকে তার মৃত্যু পর্যন্ত তা থেকে নিষেধ করতে থাকেন এবং তা তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন। অবশেষে মৃত্যুর পর তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেন।

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 পাথরের পোকা

📄 পাথরের পোকা


আল্লাহর কুদরত এবং তাঁর বিস্ময়কর ক্ষমতা প্রকাশের গল্প। আমাদের বোধ ও বিশ্বাসকে শানিত করার গল্প।
রিযিকের মালিক আল্লাহ। তিনি তাঁর মাখলুককে যে কোনো জায়গায় বসিয়ে রিযিক পৌঁছাতে পারেন। এটা তাঁর কুদরত এবং ক্ষমতার আয়ত্বে। নিম্নের গল্পটি আমাদের ঈমানকে তাজা করবে আশা করি।
আমাদের এক বন্ধু ভ্রমণে বের হলেন। সাথে তার স্ত্রী-সন্তানদেরও নিলেন। এক জায়গায় এক পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছে পাহাড়ে চড়লেন। পাহাড়ের উপর এক গোলাকৃতির সুন্দর মসৃণ পাথর দেখে খুবই বিস্মিত ও চমকিত হলেন। হাতে উঠিয়ে দেখেন, তা অত্যন্ত মসৃণ এবং মোলায়েম। রংটাও খুব চমৎকার। কেউ যেন তা নিজ হাতে সযত্নে গড়ে রেখেছে। বাচ্চারা পীড়াপীড়ি করল তা নিয়ে নেওয়ার জন্য। অবশেষে ভ্রমণের স্মৃতি স্বরূপ নিয়ে নিলেন। এবং তা এনে ঘরের শো-কেসে সাজিয়ে রাখলেন।
দুই বছর পরের কথা। আমাদের বন্ধু পাথরটি হাতে নিয়ে পরখ করছিলেন এবং বিস্মিত হচ্ছিলেন যে, পাথরটি দুবছর পূর্বে যেমন ছিল এখনো তেমনই আছে। এতে কোনো ধরনের কোনো পরিবর্তন আসেনি।
না ময়লা হয়েছে।
না পুরাতন ভাব ধরেছে।
তিনি মনে মনে বলতে লাগলেন, 'হে আল্লাহ তুমি কেমন পাথর বানিয়ে রেখেছ! সত্যিই তুমি অসীম ক্ষমতার মালিক।'
তিনি পাথরটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন আর আল্লাহর কুদরত নিয়ে ভাবছেন। এমন সময় হঠাৎ পাথরটি তার হাত থেকে নিচে পড়ে গেল। ফ্লোরে পড়ার সাথে সাথে পাথরটি ভেঙ্গে গেল এবং কয়েক টুকরা হয়ে গেল। তিনি এতে খুব বিমর্ষ হলেন কিন্তু পরক্ষণেই আবার একটি দৃশ্য দেখে অবাক বিস্ময়ে তার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল।
তিনি দেখতে পেলেন, পাথরটির মাঝখানে একটি ছিদ্র মতো ছিল তা থেকে একটি পোকা বের হয়ে হেঁটে যাচ্ছে। যে হয়তো দীর্ঘ দিন যাবত পাথরের ভেতর জীবন কাটাচ্ছিল। সুবহানাল্লাহ!
শিক্ষা:
বলুন তো, বন্ধ পাথরের ভেতর কোন্ সত্ত্বা তাকে রিযিক দিচ্ছিলেন?
একটি বন্ধ পাথর যার চার পাশে কোনো ছিদ্র নেই, ভেতরে প্রবেশের কোনো রাস্তা নেই কিন্তু মাঝখানে একটি ফাঁকা জায়গা সেখানে একটি পোকা বসে বসে রিযিক পাচ্ছে, বছরের পর বছর যাবৎ বসবাস করছে, বের হওয়ারও কোনো পথ নেই। আলো-বাতাস ঢোকারও কোনো রাস্তা নেই। তবুও সে জীবিত এবং সুস্থ। পাথর ভেঙ্গে যাওয়াতে বের হয়েছে এবং দিব্যি হেঁটে চলে গেল।
এটা কোন্ সত্ত্বার কাজ?
তিনিই আমাদের স্রষ্টা মহান আল্লাহ।
অতএব, তাঁকে চিনুন এবং তাঁর ক্ষমতা সম্পর্কে চিন্তা করে তাঁর কাছে নিজেকে সর্মপণ করুন। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন।

একটি ঘোষণা
হযরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, রসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করে দেবে যে, বুদ্ধিমান লোকেরা কোথায়?
মানুষ জিজ্ঞেস করবে, 'বুদ্ধিমান কারা?'
উত্তর দেওয়া হবে, 'ওই সমস্ত লোক বুদ্ধিমান, যারা দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহর যিকির করত (অর্থাৎ সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করত) এবং যারা আসমান ও জমিনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-ফিকির করত এবং বলত, “হে পরওয়ারদেগার, তুমি এইসব অনর্থক সৃষ্টি করোনি। আমরা তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করি। সুতরাং তুমি আমাদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করো।'
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর তাদের জন্য একটি ঝাণ্ডা তৈরি করা হবে, যার পেছনে তারা যেতে থাকবে এবং তাদের বলা হবে যে, অনন্তকালের জন্য তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো। [আত-তারগীব ওয়াত তারহীব]

শিক্ষা:
একবার হযরত আবু যর রাদি. রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপদেশ চাইলে তিনি তঁকে উপদেশ হিসেবে বলেন, 'যতক্ষণ না বুদ্ধিমান লোকের বুদ্ধি লোপ পায়, সে নিজের সময়কে ভাগ করে নেয় :
* এক ভাগ তার পালনকর্তার ইবাদত ও মুনাজাতের জন্য।
* এক ভাগ নফসের মুহাসাবা ও আত্মসমালোচনার জন্য।
* এক ভাগ আল্লাহ তাআলার কারিগরী ও তার সৃষ্টির মধ্যে চিন্তা-ভাবনার জন্য।
* এক ভাগ খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য প্রয়োজনের জন্য হওয়া চাই।
# বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিত, সে যেন শুধু তিনটি কাজের উদ্দেশ্যে সফর করে :
* আখেরাতের সম্বল জমা করার উদ্দেশ্যে।
* অথবা জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে।
* অথবা কোনো হালাল আনন্দ উপভোগের উদ্দেশ্যে।
# বুদ্ধিমান ব্যক্তির আরও তিনটি কাজ করা উচিত :
* সমসাময়িক পরিস্থিতির প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা
* নিজের অবস্থার প্রতি মনোযোগী থাকা।
* আপন জিহ্বাকে হেফাযত করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে এমন বুদ্ধিমান হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00