📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 তিন কারণে কান্না আসে

📄 তিন কারণে কান্না আসে


হযরত জাফর ইবনে বুরকান রহ. বলেন, আমাদের কাছে সংবাদ • পৌঁছেছে যে, হযরত সালমান ফারসী রা. বলতেন, তিন ব্যক্তিকে দেখে আমার হাসি পায়, আর তিন বিষয়ের উপর আমার কান্না আসে।
১। সেই ব্যক্তিকে দেখে হাসি পায়, যে দুনিয়ার ব্যাপারে অনেক কিছু আশা করছে, অথচ মৃত্যু তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। ২। এমন ব্যক্তি, যে গাফেল হয়ে রয়েছে। অথচ তার ব্যাপারে গাফলতী করা হচ্ছে না (অর্থাৎ ফেরেশতাগণ সর্বদা তার মন্দ কাজ লেখায় মশগুল রয়েছেন)। ৩। যে গাল ভরে হাসে, অথচ সে জানে না, সে কি তার রবকে অসন্তুষ্ট
করেছে, না সন্তুষ্ট করেছে।
যে তিন কারণে কান্না আসে, তা হলো:
১। প্রিয় বন্ধুদের অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের বিরহের কারণে।
২। মৃত্যুর কঠিন যন্ত্রণার সময় আখেরাতের ভয়ানক দৃশ্য দেখতে হবে, এই চিন্তা করে।
৩। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সম্মুখে দণ্ডায়মান হতে হবে, অথচ আমার জানা নেই, আমি কি জাহান্নামে যাব, না জান্নাতে?।২

টিকাঃ
২. আবু নুআইম ফিল হুলইয়া, ১/২০৭, ২০৪, ২০৫।

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 এভাবেই জান্নাত পাওয়া যায়

📄 এভাবেই জান্নাত পাওয়া যায়


ক্ষমার বদলে ক্ষমার আরও একটি গল্প।
এক লোকের স্ত্রী ছিল খুবই নিবোর্ধ। সবসময় কোনো না কোনো ভুল করে বসত। স্বামী বেচারা বারবার তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। মানুষ তো মানুষই। আল্লাহ তাকে রক্ত-মাংস দিয়ে গড়েছেন এবং রাগ গোস্বাও দিয়েছেন। বেচারা স্বামীরও প্রায়-ই রাগ আসত কিন্ত সে কখনো রাগ প্রকাশ করত না। অথচ তার স্ত্রীর সবগুলো ভুলই ছিল মারাত্মক। কিন্তু সে ভাবত, যদি আমি তাকে তালাক দিয়ে দেই তাহলে সে তো পেরেশানীতে পড়ে যাবে। কে তাকে গ্রহণ করবে? এভাবে তার পুরো জীবন দুঃখ-কষ্টে কাটাতে হবে। জীবনটা নরকে পরিণত হবে। এর চেয়ে ভালো আমার কাছেই থাকুক। দুনিয়ার জীবন তো কয়েক দিনের; তা কোনোভাবে কেটে গেলেই হলো।
মোটকথা, সে এসব চিন্তা করে তাকে ক্ষমা করে দিত। কোনো ভুল হয়ে গেলে বলত, 'থাক, এসব কিছু না। এমন হয়েই থাকে।'
বারবার স্ত্রীর ভুল ক্ষমা করে করে এভাবেই সে তার জীবন পার করে দিল। একসময় মৃত্যুর ফেরেশতা তার জান কবজ করে নিল। মৃত্যুর পর কেউ তাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করল। ভাই, তোমার সাথে কেমন আচরণ করা হয়েছে?
সে বলল, আমাকে আল্লাহ তা'আলার দরবারে হাযির করা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বললেন-
میرے بندے ! تو اپنی بیوی کو میری بندی سمجھ کر معاف کیا کرتا تھا، جا، آج میں نے تجھے اپنا بندہ سمجھ کر معاف کر دیا
'হে আমার বান্দা! তুমি দুনিয়াতে তোমার স্ত্রীকে আমার বান্দী মনে করে ক্ষমা করে দিতে, যাও, আজ আমিও তোমাকে আমার বান্দা মনে করে ক্ষমা করে দিলাম।' সুবহানাল্লাহ। আল্লাহু আকবার।
এভাবেই ক্ষমার বদলে ক্ষমা পাওয়া যায় এবং ক্ষমা পাওয়ার পর জান্নাত পাওয়া যায়।
শিক্ষা:
আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা পাওয়া খুব সহজ বিষয় নয়; তবে যে-ই আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভ করতে পারবে তা যেভাবে, যে অসিলায়-ই হোক সে নিশ্চিত জান্নাতের অধিকারী হবে।
হযরত জাবের রাদি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার মধ্যে এই তিনটি গুণ বিদ্যমান থাকবে, আল্লাহ তা'আলা তার মৃত্যুকে সহজ করবেন এবং তাকে আপন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সেই গুণগুলো হলো:
১। অসহায় দুর্বলের সাথে সদ্ব্যবহার করা,
২। পিতামাতার প্রতি সদাচারণ করা এবং
৩। দাস-দাসীদের সঙ্গে (কর্মচারী ও ঘরের চাকর-বাকরদের সাথে) ভালো ব্যবহার করা। [জামেউত তিরমিযী, হাদীস নং-২৪৯৪; মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং-৩২২০]
স্ত্রীর সাথে ভালো ব্যবহার করাও এই হাদীসের অর্ন্তভুক্ত। তাই তো এসব মানুষেরা আল্লাহর কাছে ক্ষমার অধিকারী হচ্ছে।
# হযরত আনাস রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
১। যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখেন।
২। যে ব্যক্তি নিজের গোস্বা দমন করে রাখে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তার উপর থেকে আযাব সরিয়ে রাখবেন।
৩। যে ব্যক্তি নিজ অপরাধের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা চায়, আল্লাহ পাক তার ওজর কবুল করেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং-৪৮৯৪]

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 আল্লাহর ইচ্ছা

📄 আল্লাহর ইচ্ছা


হযরত সালমান ফারসী রা. লোকদেরেক উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেন:
* আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দার সাথে মন্দ ও ধ্বংসের ইচ্ছা করেন, তার ভেতর থেকে লজ্জা-শরম বের করে নেন। পরিণতিতে তুমি দেখবে, লোকজনও তার প্রতি শত্রুতা পোষণ করে আর সেও লোকদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে।
* যখন তার এরূপ অবস্থা হয়, তার অন্তর থেকে দয়ামায়া বের করে দেওয়া হয়। ফলে তুমি তাকে অত্যন্ত বদ আখলাক ও কঠিন হৃদয়ের অধিকারী দেখতে পাবে।
* যখন তার অবস্থা এরূপ হবে, তখন তার থেকে আমানতদারীর গুণ ছিনিয়ে নেওয়া হবে। পরিণামে তুমি দেখবে, সে লোকের সাথে খেয়ানত করছে আর লোকেরাও তার সাথে খেয়ানত করছে।
এরপর যখন সে এরূপ অবস্থার শিকার হবে, তখন ইসলামের রশি তার গর্দান থেকে নামিয়ে নেওয়া হবে। এরপর আল্লাহ ও তার মাখলুক সকলেই তার উপর লানত বর্ষণ করতে থাকে। আর সেও অন্যদের লানত দিতে থাকে।।৩

টিকাঃ
৩. আবু নুআইম ফিল হুলইয়া, ১/২০৭, ২০৪, ২০৫।

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 মুমিনের উদাহরণ

📄 মুমিনের উদাহরণ


হযরত সালমান ফারসী রা. লোকদেরকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেন:
• দুনিয়াতে মুমিনের উদাহরণ সেই রোগীর ন্যায়, যার সঙ্গে তার চিকিৎসক রয়েছে, যে তার রোগ ও তার চিকিৎসা উভয় সম্পর্কে অবগত। যখন তার অন্তর এমন জিনিসের আগ্রহ করে, যা তার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তখন চিকিৎসক তাকে সেই জিনিস থেকে নিষেধ করে এবং বলে, এর কাছেও যেয়ো না। কেননা, যদি তুমি এটা খাও, তবে তা তোমাকে ধ্বংস করে দেবে। এইভাবে তার চিকিৎসক তাকে ক্ষতিকর জিনিস থেকে বিরত রাখে, ফলে সে সম্পূর্ণ সুস্থতা লাভ করে এবং তার রোগ দূর হয়ে যায়।
• শোনো, এমনিভাবে মুমিনের দিল দুনিয়ার এমন অনেক জিনিসের খাহেশ করতে থাকে, যা অন্যদের তার অপেক্ষা বেশি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা মুমিনকে তার মৃত্যু পর্যন্ত তা থেকে নিষেধ করতে থাকেন এবং তা তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন। অবশেষে মৃত্যুর পর তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00