📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 ক্ষমার বদলে ক্ষমা

📄 ক্ষমার বদলে ক্ষমা


হযরত থানবি রহ. বলেন, এক লোকের স্ত্রী একটি বিরাট ভুল করে ফেলল। এতে তার এত বড় ক্ষতি হলো যে, সে ইচ্ছে করলে তাকে তালাক দিয়ে দিতে পারত এবং সে তালাকের উপযুক্তও ছিল। কিন্তু সে তাকে আল্লাহর বান্দী মনে করে ক্ষমা করে দিল এবং তাকে তালাক দেওয়া থেকে বিরত রইল।
কয়েক বছর পর সে মারা গেলে তার এক বন্ধু তাকে স্বপ্নে দেখল। স্বপ্নে দেখে বন্ধু তাকে জিজ্ঞেস করল, 'ভাই! তুমি কী অবস্থায় আছ এবং তোমার সাথে কেমন আচরণ করা হয়েছে?'
সে বলল, 'আল্লাহ তা'আলা আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।'
বন্ধু জিজ্ঞেস করল, 'কিসের অসিলায় তোমাকে ক্ষমা করা হলো?'
সে বলল, 'এমনই একটি বিষয় যা আমি ভুলেই গিয়েছিলাম।- বিষয়টি এই ছিল যে, একবার আমার স্ত্রী বিরাট এক ভুল করে ফেলল, আমি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিতে পারতাম এবং তালাকও দিতে পারতাম কিন্তু আমি তাকে আল্লাহর বান্দী মনে করে ক্ষমা করে দিলাম। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
تو نے اسے میرے بندی سمجھ کر معاف کر دیا تھا آج میں نے تجھے اپنا بندہ سمجھ کر معاف کر دیتا ہوں
'তুমি তাকে আমার বান্দী মনে করে ক্ষমা করে দিয়েছিলে আজ আমি তোমাকে আমার বান্দা মনে করে ক্ষমা করে দিলাম।' সুবহানাল্লাহ।
শিক্ষা: এটাকেই বলে ক্ষমার বদলে ক্ষমা। এমন ক্ষমা সবার ভাগ্যেই জুটতে পারে। যদি আমরা এমন হতে পারি এবং মানুষকে আল্লাহর জন্য ক্ষমা করতে পারি।
আর মহান আল্লাহর ক্ষমার অর্থই তাঁর জান্নাতের অধিকারী হওয়া। কেননা, আল্লাহ তাআলা যাকে ক্ষমা করবেন তাকেই জান্নাতে পাঠাবেন।
তাই আসুন না, আমরাও মানুষকে ক্ষমা করার মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করে জান্নাতি হই।

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 সত্যের জয়

📄 সত্যের জয়


আমাদের এক বন্ধু ছিল উকিল। ওকালতি এমন এক পেশা যে, সারা দুনিয়ার যত ধরনের মিথ্যা আছে তা সেখানে প্রয়োগ করা হয়।
কিন্তু বিশ্বাস করুন, তিনি ওকালতিও অব্যাহত রেখেছেন আবার জীবনের গতিও বদলে দিয়েছেন।
তার স্ত্রী ছিল একজন ডাক্তার। উকিল সাহেব আল্লাহওয়ালাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে নিলেন আর আল্লাহ তা'আলাও তার মনের অবস্থা বদলে দিলেন।
তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন, 'আমি আজকের পর কখনো মিথ্যা বলব না।' অথচ মিথ্যা ছাড়া ওকালতিতে কোনো পয়সা নেই। কিন্তু তার দৃঢ় বিশ্বাস আমার আল্লাহ আমাকে সত্যের উপরই রিযিক দেবেন।
লোকেরা বলল, 'তোমার মাথা ঠিক আছে কি? সত্য কথায় তোমার ওকালতি চলবে না।'
তিনি বলতেন, 'ওকালতি চলুক আর না চলুক কিন্তু সত্য ঠিকই চলবে। আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছি, আর কখনো মিথ্যা বলব না।'
সুতরাং তিনি একদিন তার অফিসে এসে লোকদের সাথে একথা বলে দিলেন যে, 'আমি শুধু ওই মামলা-ই গ্রহণ করব যা সত্য; মিথ্যা কোনো মামলা গ্রহণ করব না।'
লোকদেরকে এটাও বলে দিলেন যে, মামলা মিথ্যা হলে আমাকে জানাবেন অন্যথায় শুনানির সময় যদি আমি জানতে পারি মামলা মিথ্যা তাহলে আমি তখন আপনার বিরুদ্ধাচরণ করব। আর যদি সত্য হয় তাহলে দৃঢ়তার সাথে আপনার পক্ষপাতিত্ব করব।
লোকেরা তখন তার থেকে আল্লাহর পানাহ চেয়ে দৌড়ে পালাল এবং অন্য উকিলদের কাছে চলে গেল।
এখন এই উকিল সাহেবের অফিস খালি, সারাদিন তিনি একা একা বসে থাকছেন; কোনো কাজ আসছে না। এভাবে কয়েকমাস কেটে গেল। লোকদের মধ্যে চর্চা হতে লাগল যে- অমুক উকিল পাগল হয়ে গেছে।
তার বুদ্ধিসুদ্ধি সব উড়ে গেছে।
হয়তো কোনো মোল্লারা তার মাথা নষ্ট করে দিয়েছে।
ভালো একজন উকিল ছিল; কিন্তু তার মাথা নষ্ট করে দিয়েছে।
আল্লাহর বান্দা দৃঢ় ও সত্য ছিল। বলত, 'আমি মিথ্যা বলে রুজি উপার্জন করব না। মহান আল্লাহ আমাকে সত্যের উপরই রিযিক দেবেন।'
এভাবে একবছর কেটে গেল কিন্তু কোনো কাজ তার হাতে এলো না। যেহেতু স্ত্রী ডাক্তার ছিলেন তাই তার বেতনে সংসার কোনো রকম চলতে লাগল। স্ত্রীও জ্ঞানী এবং দ্বীনি বোধসম্পন্ন ছিল।
একদিন স্ত্রী স্বামীকে বলল, 'আপনি যখন মিথ্যা বলা ছেড়ে দিয়েছেন তাহলে ওকালতি পেশাও ছেড়ে দিন এবং ব্যবসাকে পেশা হিসেবে ধরে নিন। আপনি সত্যই বলবেন এবং সততার সাথে যতটুকু সম্ভব ব্যবসা করবেন। আল্লাহ তার মধ্যেই বরকত দেবেন।'
উকিল সাহেব বললেন, 'না, বলবও সত্য এবং করবও ওকালতি।'
খুব ভালো এবং আমার দু'আ ও সহযোগীতা রইল আপনার জন্য; আল্লাহ তা'আলা আপনাকে সফলতা দান করুন, এই বলে স্ত্রী ক্ষ্যান্ত হয়ে গেল।
ওকিল সাহেব এক বছর পর্যন্ত দৈনিক অফিসে আসতেন আর পাখার নিচে বসে পত্রিকা পড়ে দিন কাটিয়ে সন্ধ্যায় বাসায় চলে যেতেন।
একবার জজের কাছে এই সংবাদ পৌঁছল যে, অমুক উকিল মিথ্যা মামলা গ্রহণ করে না এবং সে মিথ্যা মামলা নেবে না বলে প্রতিজ্ঞা করেছে। দরিদ্রতা সহ্য করছে এবং বলছে, 'মরে যাব তবু সত্য ছাড়ব না।'
সকল জজ তার এমন প্রতিজ্ঞায় খুবই প্রভাবিত হলো। সময়ের সাথে সাথে লোকদের অন্তরে তার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হতে লাগল। সে নিজেই বলেছে, 'আমার এক বছর পরীক্ষার ছিল।'
দ্বিতীয় বছর শুরু হলো তো তাবলীগ জামাতের লোকেরা, তাসাউফ ও সুলুকের লোকেরা এবং মাদরাসাওয়ালারাও জানতে পারল যে, অমুক উকিল মিথ্যা মামলা নেয় না শুধু সত্য মামলাই গ্রহণ করে। সুতরাং তারা চিন্তা করতে লাগল যে, আমাদের মামলা তো সত্য সুতরাং টাকা-পয়সা যা-ই লাগুক আমরা তার কাছেই আমাদের মামলা নিয়ে যাব। এভাবে তার কাছে মামলা আসতে শুরু করল। যে-ই আসত সত্য মামলা নিয়ে আসত। উকিল সাহেব মামলা নিয়ে কোর্টে হাযির হতেন আর তা পক্ষে ফায়সালা হয়ে যেত। তৃতীয় মামলা এলো তো তা-ও তার পক্ষে ফায়সালা হয়ে গেল। কিছুদিন গত হওয়ার পর জজ সাহেবরা পরস্পর মিলে পরামর্শ করলেন যে, এই উকিল যেই মামলাই নিয়ে আসেন তা তো সত্য সুতরাং তাকে আমাদের বেশি প্রশ্ন না করাই ভালো। সুতরাং উকিল সাহেব মামলা নিয়ে আদালতে যেতেন আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই জজ তার পক্ষে ফায়সালা দিয়ে দিতেন।
এবার ধনী ও সম্পদশালীদের যাদের মামলা সত্য তারাও চিন্তা করতে লাগল, আমাদের মামলাও তো সত্য সুতরাং আমরাও তার কাছেই যাচ্ছি না কেন। এখন ধনী ও সম্পদশালীরাও আসতে লাগল। ফলে তার টাকাও বেশি উপার্জন হতে লাগল।
যখন উকিল সাহেব মিথ্যা বলতেন তখন এক মাসে তার আয় ছিল বিশ হাজার টাকা আর এখন যখন মিথ্যা ছেড়ে সত্য বলতে লাগলেন তো তার প্রতি মাসে আয় হতে লাগল চল্লিশ হাজার টাকা।
সত্য বলার কারণে আল্লাহ তা'আলা তাকে দ্বিগুণ রিযিকের ব্যাবস্থা করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ।
কিছুদিন পূর্বে কয়েকজন উকিলের জজ হওয়ার পরীক্ষা হলো এতে আমাদের ওই বন্ধু উকিল সফল হলেন এবং এখন জজ হয়ে গেলেন।
একদিন এমন ছিল যে, এই উকিল সাহেবই জজের সামনে দাঁড়িয়ে মিথ্যা বলতে থাকতেন আর আজ যখন সত্য বলা শুরু করলেন তো আল্লাহ তা'আলা তাকে বিচারকের চেয়ারে বসিয়ে দিলেন।
প্রথমে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে যেতেন আজ আল্লাহ তা'আলা তাকে আরাম চেয়ারে বসিয়ে দিলেন। এখন চেয়ারে আরামে বসে হুকুম জারি করেন আর তা মানুষ সাগ্রহে মেনে নেয়।
শিক্ষা:
আমার বন্ধুগণ! আসুন, আমরা সমস্ত সৃষ্টিজীব থেকে আমাদের দৃষ্টি সরিয়ে এক আল্লাহর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করি।
উকিল সাহেব যেভাবে আল্লাহর উপর ভরসা করে কাজ শুরু করেছেন এভাবে আমরাও আল্লাহর উপর ভরসা করে সত্যের উপর চলার প্রতিজ্ঞা করি। হাদীস শরীফে এসেছে-
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'নিশ্চয় সত্যবাদিতা পুণ্য ও কল্যাণের পথপ্রদর্শন করে। আর পুণ্য জান্নাতে নিয়ে যায়। মানুষ সত্য বলতে থাকে। অবশেষে সে আল্লাহর কাছে সিদ্দীক হিসেবে গণ্য হয়। মিথ্যা পাপাচারের পথ দেখায়। পাপাচার জাহান্নামে নিয়ে যায়। মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে। অবশেষে আল্লাহর কাছে সে মিথ্যাবাদী হিসেবে গণ্য হয়।' [সহীহ বুখারী হাদীস নং-৬০৯৩; সহীহ মুসলিম হাদীস নং-২৬০৭]
আজ কোনো মাকে জিজ্ঞেস করুন, 'আপনার সন্তান কি হবে?' কোনো মা বলবেন, 'আমার ছেলে ডাক্তার হবে।' কোনো মা বলবেন, 'আমার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে।' কোনো মা বলবেন, 'আমার ছেলে পাইলট হবে।' কোনো মা বলবেন, 'আমার ছেলে ব্যরিস্টার হবে।' কোনো মা বলবেন, 'আমার ছেলে সচিব হবে।' কোনো মা বলবেন, 'আমার ছেলে সৈনিক হবে।' কিন্তু কোনো মা কি এমন আছেন যিনি বলবেন- আমার ছেলে বড় আলেম হবে। আমার ছেলে মুহাদ্দিস হবে। আমার ছেলে হাদীসের ইমাম হবে। আমার ছেলে বড় মুফতি হবে। আমার ছেলে কুরআনের তাফসীরকারক বা মুফাস্স্সির হবে। আমার ছেলে মুবাল্লিগ হবে। দেশ-বিদেশে দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে ঘুরে বেড়াবে। আমার ছেলে দ্বীনের মুজাহিদ হবে?
আমি আপনাদের একটি প্রশ্ন করছি, মনোযোগ দিয়ে শুনুন। পরে বলতে পারবেন না যে, আমাদেরকে কেউ বুঝায়নি। রসূলের মিম্বরে বসে আছি। আল্লাহর কিতাব আমার হাতে। আল্লাহর ঘরে বসে আছি। আমাকে একটি কথা বলুন-
আপনারা কখনো দেখেছেন-কি? কোনো আলেম যার ইলম অনুযায়ী আমলও আছে এমন কেউ ক্ষুধা, পীপাসায় কাতরাতে কাতরাতে মারা গেছে? কিংবা খাবারের অভাবে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে? কিংবা কেউ বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে? শুনুন, বহু পিএইচডিওয়ালা, বহু ডিগ্রিওয়ালা এবং বহু ইঞ্জিনিয়ারিং পড়নেওয়ালাকে চাকরীর অভাবে, টাকা-পয়সা ও খাবারের অভাবে পেরেশানী হয়ে ঘুরতে দেখা গেছে এবং মরতেও দেখা গেছে।
আমাদের ছেলেরা আলেম হলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সেখান থেকে রিযিক দেবেন যেখান থেকে নবী আলাইহিস সালামগণকে রিযিক দেওয়া হতো। আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ 'যে আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহ্-ই তার জন্য যথেষ্ট।' [সূরা তালাক, আয়াত: ৩]

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 তিন কারণে কান্না আসে

📄 তিন কারণে কান্না আসে


হযরত জাফর ইবনে বুরকান রহ. বলেন, আমাদের কাছে সংবাদ • পৌঁছেছে যে, হযরত সালমান ফারসী রা. বলতেন, তিন ব্যক্তিকে দেখে আমার হাসি পায়, আর তিন বিষয়ের উপর আমার কান্না আসে।
১। সেই ব্যক্তিকে দেখে হাসি পায়, যে দুনিয়ার ব্যাপারে অনেক কিছু আশা করছে, অথচ মৃত্যু তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। ২। এমন ব্যক্তি, যে গাফেল হয়ে রয়েছে। অথচ তার ব্যাপারে গাফলতী করা হচ্ছে না (অর্থাৎ ফেরেশতাগণ সর্বদা তার মন্দ কাজ লেখায় মশগুল রয়েছেন)। ৩। যে গাল ভরে হাসে, অথচ সে জানে না, সে কি তার রবকে অসন্তুষ্ট
করেছে, না সন্তুষ্ট করেছে।
যে তিন কারণে কান্না আসে, তা হলো:
১। প্রিয় বন্ধুদের অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের বিরহের কারণে।
২। মৃত্যুর কঠিন যন্ত্রণার সময় আখেরাতের ভয়ানক দৃশ্য দেখতে হবে, এই চিন্তা করে।
৩। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সম্মুখে দণ্ডায়মান হতে হবে, অথচ আমার জানা নেই, আমি কি জাহান্নামে যাব, না জান্নাতে?।২

টিকাঃ
২. আবু নুআইম ফিল হুলইয়া, ১/২০৭, ২০৪, ২০৫।

📘 আমিও হবো জান্নাতি > 📄 এভাবেই জান্নাত পাওয়া যায়

📄 এভাবেই জান্নাত পাওয়া যায়


ক্ষমার বদলে ক্ষমার আরও একটি গল্প।
এক লোকের স্ত্রী ছিল খুবই নিবোর্ধ। সবসময় কোনো না কোনো ভুল করে বসত। স্বামী বেচারা বারবার তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। মানুষ তো মানুষই। আল্লাহ তাকে রক্ত-মাংস দিয়ে গড়েছেন এবং রাগ গোস্বাও দিয়েছেন। বেচারা স্বামীরও প্রায়-ই রাগ আসত কিন্ত সে কখনো রাগ প্রকাশ করত না। অথচ তার স্ত্রীর সবগুলো ভুলই ছিল মারাত্মক। কিন্তু সে ভাবত, যদি আমি তাকে তালাক দিয়ে দেই তাহলে সে তো পেরেশানীতে পড়ে যাবে। কে তাকে গ্রহণ করবে? এভাবে তার পুরো জীবন দুঃখ-কষ্টে কাটাতে হবে। জীবনটা নরকে পরিণত হবে। এর চেয়ে ভালো আমার কাছেই থাকুক। দুনিয়ার জীবন তো কয়েক দিনের; তা কোনোভাবে কেটে গেলেই হলো।
মোটকথা, সে এসব চিন্তা করে তাকে ক্ষমা করে দিত। কোনো ভুল হয়ে গেলে বলত, 'থাক, এসব কিছু না। এমন হয়েই থাকে।'
বারবার স্ত্রীর ভুল ক্ষমা করে করে এভাবেই সে তার জীবন পার করে দিল। একসময় মৃত্যুর ফেরেশতা তার জান কবজ করে নিল। মৃত্যুর পর কেউ তাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করল। ভাই, তোমার সাথে কেমন আচরণ করা হয়েছে?
সে বলল, আমাকে আল্লাহ তা'আলার দরবারে হাযির করা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বললেন-
میرے بندے ! تو اپنی بیوی کو میری بندی سمجھ کر معاف کیا کرتا تھا، جا، آج میں نے تجھے اپنا بندہ سمجھ کر معاف کر دیا
'হে আমার বান্দা! তুমি দুনিয়াতে তোমার স্ত্রীকে আমার বান্দী মনে করে ক্ষমা করে দিতে, যাও, আজ আমিও তোমাকে আমার বান্দা মনে করে ক্ষমা করে দিলাম।' সুবহানাল্লাহ। আল্লাহু আকবার।
এভাবেই ক্ষমার বদলে ক্ষমা পাওয়া যায় এবং ক্ষমা পাওয়ার পর জান্নাত পাওয়া যায়।
শিক্ষা:
আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা পাওয়া খুব সহজ বিষয় নয়; তবে যে-ই আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভ করতে পারবে তা যেভাবে, যে অসিলায়-ই হোক সে নিশ্চিত জান্নাতের অধিকারী হবে।
হযরত জাবের রাদি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার মধ্যে এই তিনটি গুণ বিদ্যমান থাকবে, আল্লাহ তা'আলা তার মৃত্যুকে সহজ করবেন এবং তাকে আপন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সেই গুণগুলো হলো:
১। অসহায় দুর্বলের সাথে সদ্ব্যবহার করা,
২। পিতামাতার প্রতি সদাচারণ করা এবং
৩। দাস-দাসীদের সঙ্গে (কর্মচারী ও ঘরের চাকর-বাকরদের সাথে) ভালো ব্যবহার করা। [জামেউত তিরমিযী, হাদীস নং-২৪৯৪; মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং-৩২২০]
স্ত্রীর সাথে ভালো ব্যবহার করাও এই হাদীসের অর্ন্তভুক্ত। তাই তো এসব মানুষেরা আল্লাহর কাছে ক্ষমার অধিকারী হচ্ছে।
# হযরত আনাস রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
১। যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখেন।
২। যে ব্যক্তি নিজের গোস্বা দমন করে রাখে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তার উপর থেকে আযাব সরিয়ে রাখবেন।
৩। যে ব্যক্তি নিজ অপরাধের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা চায়, আল্লাহ পাক তার ওজর কবুল করেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং-৪৮৯৪]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00