📄 সেই হুরের জন্য
হুরের সাক্ষাতে আমল বৃদ্ধির গল্প।
হযরত আবু সুলায়মান দারানী রহ. বলেন, এক বছর আমি হজ্জ ও যেয়ারতের উদ্দেশ্যে সফরে বের হলাম। পথে এক সুদর্শন ইরাকি যুবকের সাথে আমার দেখা হলো। সে একই উদ্দেশ্যে সফরে বের হয়েছে। তার আমলের অবস্থা এমন ছিল, সে হাঁটাচলা অবস্থায়ও অনবরত কুরআন তেলাওয়াত করত আর যখন কোনো মঞ্জিলে যাত্রা বিরতি করত, তখন নামাযে দাঁড়িয়ে যেত। তা ছাড়া সে দিনের বেলা রোযা রাখত আর রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে কাটিয়ে দিত। এমন কঠিন সাধনা-আরাধনা ও ইবাদত-বন্দেগী করতে করতে সফর শেষে মক্কায় গিয়ে পৌঁছাল। মক্কা শরীফে পৌঁছার পর সে আমার কাছে বিদায় চাইলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'বৎস! কোন্ বস্তু তোমাকে এত কঠোর সাধনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে?'
উত্তরে সে বলল, 'হে আবু সুলাইমান! তুমি আমাকে তিরস্কার কোরো না। আমি স্বপ্নে জান্নাতের এমন বালাখানা দেখেছি, যার-একটি ইট ছিল রূপার আর অন্যটি ছিল সোনার। আর এই বালাখানাগুলোতে আমি এমন অপরূপ সুন্দরী হুর দেখেছি, যাদের রূপ-লাবণ্য বলে প্রকাশ করার মতো নয় এবং সে ভাষাও আমার জানা নেই। ওই হুরদের একজন আমাকে দেখে মৃদু হাসছিল। তখন তাঁর উজ্জ্বল দাঁতের আলোয় গোটা জান্নাত আলোকিত হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় সে আমাকে ডেকে বলল, হে যুবক! তুমি যদি ভালোভাবে আল্লাহ পাকের আনুগত্য করো তাহলে আমাকে লাভ করতে পারবে আর আমিও তোমাকে লাভ করেত পারব। এই পর্যন্ত দেখার পর আমার ঘুম ভেঙে গেছে। তাই হে আবু সুলাইমান! তুমিও আল্লাহর পথে বেশি বেশি চেষ্টা-পরিশ্রম করো। কারণ, যে চেষ্টা করবে সে-ই সফল হবে। আমার মধ্যে তুমি যত চেষ্টা-প্রচেষ্টা দেখেছ, এগুলো সবই ওই হুর পাওয়ার জন্য করছি।
হযরত সুলাইমান বলেন, আমি তার কাছে দুআ চাইলাম, সে আমার জন্য দুআ করে বিদায় নিল। তারপর আমি নিজের আত্মার উপর অসন্তোষ প্রকাশ করে বললাম, 'হে আত্মা! কতকাল অবহেলায় পড়ে থাকবে? জাগ্রত হও, একজন হুর লাভ করার জন্য মানুষ কতো চেষ্টা পরিশ্রম করছে।
আর যিনি হুরের স্রষ্টা (আল্লাহ), তাঁকে পাবার জন্য কী পরিমাণ চেষ্টা- পরিশ্রম করা উচিত?
শিক্ষা:
চেষ্টা-প্রচেষ্টা ছাড়া, কিছু পাওয়া যায় না। জান্নাত তো সর্বোচ্চ চেষ্টার ফসল। যেহেতু জান্নাত এবং জান্নাতি হুরগণ চিরস্থায়ী নেয়ামত এবং তা কখনো শেষ হবার নয় সুতরাং তার জন্য চেষ্টাটাও করতে হবে তেমন। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বেশি থেকে বেশি মেহনত করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
📄 সেই কাগজের টুকরাটি
আমাদের বিশ্বাসের গল্প। জীবনে পরিবর্তন আনার গল্প।
প্রখ্যাত বুযুর্গ হযরত জাফর ইবনে সুলাইমান রহ. বলেন, আমি একবার হযরত মালেক ইবনে দিনার রহ.-এর সাথে বসরায় যাচ্ছিলাম। একটি বড় শানদার অট্টালিকার নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম, যার নির্মাণ কাজ চলছিল। একজন যুবক বসে রাজমিস্ত্রীদেরকে নির্দেশ দিচ্ছিল যে, এখানে এ রকম হবে, আর ওখানে এইরকম হবে।
মালেক ইবনে দিনার রহ. ওই যুবককে দেখে বলতে লাগলেন- 'এই যুবকটি কত সুন্দর ও সুশ্রী অথচ কি কাজের মধ্যে জড়িয়ে আছে, এই নির্মাণ কাজে তার কত মনোযোগ! আমার মন চাচ্ছে, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এই যুবকের জন্য দু'আ করি। তিনি যেন তাকে এই সব ঝামেলা হতে মুক্ত করে আপন মুখলেস বান্দা বানিয়ে নেন। কত ভালো হয় যদি সে জান্নাতের যুবকদের মধ্যে হয়ে যায়!'
হে জাফর! চলো আমরা ওই যুবকের কাছে যাই।
হযরত জাফর ইবনে সুলাইমান রহ বলেন, আমরা ওই যুবকের কাছে গেলাম। তাকে সালাম দিলাম। সে সালামের জবাব দিল। সে মালেক বিন দিনার রহ. সম্পর্কে জানত কিন্তু তাকে চিনত না। কিছুক্ষণ পর চিনতে পেরে দাঁড়িয়ে গেল এবং বলল, 'হযরত, কি মনে করে তাশরীফ আনলেন?'
হযরত মালেক রহ. বললেন, 'তুমি তোমার এই বাড়ির নির্মাণ কাজে কী পরিমাণ অর্থ খরচ করার ইচ্ছা করেছ?'
সে বলল, 'এক লক্ষ দেরহাম।' (তথা এক লক্ষ রৌপ্য মুদ্রা)।
হযরত মালেক রহ. বললেন, 'তুমি যদি এই এক লক্ষ দেরহাম আমাকে দিয়ে দাও তবে আমি তোমার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ির জিম্মা নিচ্ছি। আর তা এই বাড়ি হতে অনেক গুণ উত্তম হরে।
সেখানে অনেক খাদেম থাকবে। আনতনয়না হুর-পরী থাকবে। আর তাতে লাল ইয়াকুতের তাঁবু ও গম্বুজ হবে। তার উপর মুক্তা জড়ানো থাকবে। তার মাটি জাফরানের হবে। তার মসলা হবে মেশকের।
যার সুগন্ধি ছড়াতে থাকবে। তা কখনও পুরাতন হবে না। নষ্ট হবে না।
আর তা কোনো মিস্ত্রি বানাবে না; বরং আল্লাহ্ তা'আলার 'কুন' (হয়ে যাও) হুকুমের দ্বারা তৈরি হয়ে যাবে।'
যুবক বলল, 'আজ রাতটা আমাকে চিন্তা করার জন্য সময় দিন। আর আপনি আগামিকাল সকালে আসুন। তখন আমি'এ বিষয়ে আপনাকে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাব।'
হযরত মালেক রহ. তাকে সময় দিয়ে এলেন।
রাতভর ওই যুবক চিন্তায় কাটাল। শেষ রাতে খুব বিনয়ের সাথে কল্যাণকর সিদ্ধান্তের জন্য দু'আ করল।
সকাল হলে আমরা দুজন তার বাড়িতে গেলাম। যুবক দরজার বাইরে বসে আমাদের অপেক্ষা করছিল। হযরত মালেক রহ.-কে দেখে খুব খুশি হলো। হযরত মালেক রহ. বললেন, 'গতকালের বিষয় সম্পর্কে তুমি কী সিদ্ধান্ত নিয়েছ?'
যুবক বলল, 'আপনি কাল যে জিনিসের ওয়াদা করেছেন, তা কি আপনি পুরা করবেন?'
হযরত মালেক রহ. বললেন, 'অবশ্যই।'
যুবক সাথে সাথে এক লক্ষ দেরহামের থলেটি আমাদের সামনে রেখে দিল এবং দোয়াত, কলমও এনে রাখল।'
হযরত মালেক রহ. একটি চিঠি লিখলেন, তাতে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' লিখার পর লিখলেন, "এটা একটি অঙ্গীকারনামা। এই মর্মে যে, মালেক ইবনে দিনার অমুক ব্যক্তির নিকট হতে এই জিম্মা নিয়েছে যে, তার এই মহলের পরিবর্তে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এইরূপ মহল যার গুণাবলি উপরে বর্ণনা করা হয়েছে (উল্লিখিত মহলের গুণাবলি লিখার পর), সে পাবে। বরং তা হতেও অনেক বেশি উত্তম ও উন্নত মহল পাবে। যা অতি উত্তম ছায়াতে আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে হবে।'
এই চিঠি লিখে তাকে দিয়ে দিলেন এবং এক লক্ষ দেরহাম তার নিকট হতে নিয়ে চলে এলেন।
জাফর রহ. বলেন, সন্ধ্যার পর হযরত মালেক রহ.-এর নিকট সেই এক লক্ষ দিরহাম হতে এই পরিমাণও বাকি ছিল না যে, একবেলা খাওয়ার কাজ চলতে পারে। অর্থাৎ সব দিরহাম তিনি গরিব ও এতিমদের মাঝে বণ্টন করে দেন।
এই ঘটনার পর চল্লিশ দিনও অতিবাহিত হয়নি, একদিন হযরত মালেক রহ. ফজর নামাজ হতে অবসর হলেন, তখন মসজিদের মেহরাবে একটি কাগজের টুকরা পড়ে থাকতে দেখলেন। তা ওই কাগজের টুকরাই ছিল যা মালেক রহ. ওই যুবককে লিখে দিয়েছিলেন। তার অপর পৃষ্ঠায় কালি ছাড়া লিখা ছিল যে,
"এটা আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ হতে মালেক ইবনে দিনারের জিম্মার মুক্তিদান পত্র। তুমি ওই যুবকের জন্য যে বাড়ির জিম্মা নিয়েছিলে, আমি পুরাপুরিভাবে তাকে তা দান করে দিয়েছি এবং তা হতে সত্তরগুণ বেশি দিয়েছি।"
হযরত মালেক রহ. পত্রটি পড়ে আশ্চর্যান্বিত হলেন।
অতঃপর আমরা সেই যুবকের বাড়ি গেলাম। সেখানে তার বাড়ির উপর কালো পতাকা ছিল। (যা শোকের আলামত হিসাবে হয়তো লাগান হয়েছিল) এবং কান্নাকাটির আওয়াজ আসছিল। আমরা জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম, গতকাল সে যুবকের ইন্তেকাল হয়ে গেছে। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, তাকে কে গোসল দিয়েছে?
গোসলদাতাকে ডেকে আনা হলো। আমরা যুবকের গোসল ও কাফনের অবস্থা জিজ্ঞেস করলাম।
সে বলল, এই যুবক মৃত্যুর পূর্বে আমাকে একটি কাগজের টুকরা দিয়েছিল এবং বলেছিল যে, যখন তুমি আমাকে গোসল করিয়ে কাফন পরাবে, তখন এই কাগজটি তার ভেতর রেখে দিয়ো! আমি তাকে গোসল করালাম, কাফন পড়ালাম এবং সেই কাগজটি তার শরীর এবং কাফনের সাথে রেখে দিলাম। হযরত মালেক রহ. তার নিকট হতে কাগজটি বের করে তাকে দেখালেন।
সে বলল, 'এটাই ওই কাগজ। ওই মহান সত্তার কসম, যিনি তাকে মৃত্যু দিয়েছেন, এই কাগজটি আমি নিজে তার কাফনের ভেতর রেখেছিলাম।'
এই ঘটনা দেখে অন্য এক যুবক উঠল এবং বলতে লাগল, 'হে মালেক রহ.! আপনি আমার নিকট হতে দুই লক্ষ দেরহাম গ্রহণ করুন এবং আমাকেও একটি কাগজ লিখে দিন।'
হযরত মালেক রহ. বললেন, 'সেই কথা অনেক দূরে চলে গেছে। এখন হতে পারে না। আল্লাহ্ তা'আলা যা চান, তা করেন।'
এরপর যখনই মালেক রহ. ওই যুবকের আলোচনা করতেন, তখনই কাঁদতেন এবং তার জন্য দু'আ করতেন। [সূত্র: রওজ: শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.: ফাযায়েলে ছাদাকাত-২]
হযরত আনাস রাদি. বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, 'বহু এলোমেলো চুলওয়ালা ধূলি ধূসরিত, পুরাতন চাদরওয়ালা, মানুষের দরজা হতে বিতাড়িত এমন লোক রয়েছে, যদি তারা আল্লাহর উপর (ভরসা করে) কোনো কসম করে বসে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই তার কসম পূরণ করে দেন। হাদীসটির সনদ সহীহ। [তাবারানী, মাজমাউয যাওয়ায়েদ-১/৪৬৬]
সুতরাং এই হাদীসের আলোকে আলাচ্য ঘটনার বাস্তবতা দিবোলোকের ন্যায় স্পষ্ট প্রমাণীত হয়। এখন বিশ্বাসের বিষয় আমাদের।
শিক্ষা:
এই ঘটনা থেকে ধনী লোকদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। আর আখেরাতের ওই অট্টালিকাকে দুনিয়ার এই সামান্য অট্টালিকার উপর প্রাধান্য দেওয়া বুদ্ধিমান ধনীদেরই কাজ। তবে বিল্ডিং নির্মাণ করা নাজায়েয নয় বরং জায়েয। কিন্তু কেউ যদি মোটামোটি থাকার জায়গার ব্যবস্থা করে বাকি টাকা আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে গরিবদেরকে দান করে দেয়, তবে অবশ্যই আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্য জান্নাতের মধ্যে উঁচু উঁচু অট্টালিকা নির্মাণ করে রাখবেন।
বাণী:
“হে গাফেল! মৃত্যুর পূর্বে নিজ পাথেয় ও সম্বল সঞ্চয় কর এবং মৃত্যুর জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাক." [খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী রহ.]
📄 এসো জান্নাতি হই
হযরত আনাস রাদি. বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা নিজেদের ব্যাপারে আমার জন্য ছয়টি বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করো, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের দায়িত্ব গ্রহণ করছি:
১। যখন তোমাদের মধ্যে কেউ কথা বলবে, মিথ্যা বলবে না।
২। যখন ওয়াদা করবে, তা ভঙ্গ করবে না।
৩। যখন কারও নিকট আমানত রাখা হয়, খেয়ানত করবে না।
৪। নিজের দৃষ্টি অবনত রাখবে। অর্থাৎ যেসব বস্তু দেখতে নিষেধ করা হয়েছে, সেগুলোর প্রতি যেন দৃষ্টি না পড়ে।
৫। নিজ হাতকে (অন্যায় মারপিট ইত্যাদি থেকে) বিরত রাখবে।
৬। নিজের লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে। [মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ১০/৫৪১]
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কিছু শর্তের বিনিময়ে জান্নাতের জিম্মাদারী নিচ্ছেন তাহলে আসুন না, আমরা প্রতিজ্ঞা করি-
* আমরা আজ থেকে মিথ্যা বলব না। * ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করব না। * কারো সাথে কখনো খেয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতা করব না। * অপাত্রে দৃষ্টিপাত করব না। তথা নারীদের প্রতি কিংবা শশ্রুবিহীন ছেলেদের প্রতি কু-দৃষ্টি করব না। * অন্যায়ভাবে কাউকে মারপিট করব না। এবং * নিজের লজ্জাস্থানকে যিনা-ব্যভিচার থেকে পুরাপুরি হেফাযত করব।
আসুন, এসব বিধি-নিষেধ পালন করে আমরাও জান্নাতি হই। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
📄 ক্ষমার বদলে ক্ষমা
হযরত থানবি রহ. বলেন, এক লোকের স্ত্রী একটি বিরাট ভুল করে ফেলল। এতে তার এত বড় ক্ষতি হলো যে, সে ইচ্ছে করলে তাকে তালাক দিয়ে দিতে পারত এবং সে তালাকের উপযুক্তও ছিল। কিন্তু সে তাকে আল্লাহর বান্দী মনে করে ক্ষমা করে দিল এবং তাকে তালাক দেওয়া থেকে বিরত রইল।
কয়েক বছর পর সে মারা গেলে তার এক বন্ধু তাকে স্বপ্নে দেখল। স্বপ্নে দেখে বন্ধু তাকে জিজ্ঞেস করল, 'ভাই! তুমি কী অবস্থায় আছ এবং তোমার সাথে কেমন আচরণ করা হয়েছে?'
সে বলল, 'আল্লাহ তা'আলা আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।'
বন্ধু জিজ্ঞেস করল, 'কিসের অসিলায় তোমাকে ক্ষমা করা হলো?'
সে বলল, 'এমনই একটি বিষয় যা আমি ভুলেই গিয়েছিলাম।- বিষয়টি এই ছিল যে, একবার আমার স্ত্রী বিরাট এক ভুল করে ফেলল, আমি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিতে পারতাম এবং তালাকও দিতে পারতাম কিন্তু আমি তাকে আল্লাহর বান্দী মনে করে ক্ষমা করে দিলাম। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
تو نے اسے میرے بندی سمجھ کر معاف کر دیا تھا آج میں نے تجھے اپنا بندہ سمجھ کر معاف کر دیتا ہوں
'তুমি তাকে আমার বান্দী মনে করে ক্ষমা করে দিয়েছিলে আজ আমি তোমাকে আমার বান্দা মনে করে ক্ষমা করে দিলাম।' সুবহানাল্লাহ।
শিক্ষা: এটাকেই বলে ক্ষমার বদলে ক্ষমা। এমন ক্ষমা সবার ভাগ্যেই জুটতে পারে। যদি আমরা এমন হতে পারি এবং মানুষকে আল্লাহর জন্য ক্ষমা করতে পারি।
আর মহান আল্লাহর ক্ষমার অর্থই তাঁর জান্নাতের অধিকারী হওয়া। কেননা, আল্লাহ তাআলা যাকে ক্ষমা করবেন তাকেই জান্নাতে পাঠাবেন।
তাই আসুন না, আমরাও মানুষকে ক্ষমা করার মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করে জান্নাতি হই।