📘 আমি তাওবা করতে চাই কিন্ত > 📄 খারাপ লোকেরা আমাকে তাড়া করে চলেছে

📄 খারাপ লোকেরা আমাকে তাড়া করে চলেছে


আপনি হয়তো বলবেন, আমি তাওবা করতে চাই কিন্তু আমার সঙ্গী-সাথী খারাপ লোকেরা সর্বত্র আমাকে তাড়া করে চলেছে। তারা আমার মধ্যে সামান্য পরিবর্তনের কথা জেনেই প্রচন্ড চাপ ও আক্রমণ শুরু করেছে এবং আমি নিজেকে খুব অসহায় মনে করছি। এখন আমি কি করবো?
আমি আপনাকে বলছি, আপনি সবর (ধৈর্যধারণ) করুন। এটিই হচ্ছে সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলার পদ্ধতি যেন তিনি সত্যবাদীদেরকে মিথ্যাবাদীদের মধ্যে থেকে পৃথক করে দেন এবং ভাল ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করেদেন।
আপনি যেহেতু পথের শুরুতে পা রেখেছেন, সেহেতু মজবুত থাকুন। এসব মানুষ ও জিন শয়তান একে অপরকে প্ররোচিত করে, যেন আপনাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারে। সুতরাং আপনি তাদের আনুগত্য করবেন না। তারা আপনাকে বলবে, এ একটু আবেগী হয়ে উঠেছে, কয়েক দিনের মধ্যে এসব দূর হয়ে যাবে। এটা সাময়িক ব্যাপার। আশ্চর্যের বিষয় হলো তাওবা করার প্রথম দিকে কেউ কেউ তার সঙ্গীকে বলে, খুব সহজেই আবার খারাপ পথে ফিরে আসবে!!
এক ব্যক্তি এক মহিলার মুখের উপর টেলিফোন বন্ধ করে দেয় যেহেতু সে তাওবা করেছে, আর পাপ করতে চায়না। সে মহিলা বেশ কিছু দিন পর আবার যোগাযোগ করে বলে, আশা করি তোমার ঐসব নাক সিটকানো দূর হয়ে গেছে? এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন:
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ * مَلِكِ النَّاسِ * إِلَهِ النَّاسِ * مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ * الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ * مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ) (سورة الناس)
“বলুন! আমি আশ্রয় চাচ্ছি মানুষের প্রভূর নিকট, মানুষের মালিকের নিকট, মানুষের মাবুদের নিকট খান্নাস শয়তানের কুমন্ত্রণা হতে। যারা মানুষের বক্ষে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষ ও জিনদের মধ্যে থেকে। (সূরা আন্নাস: ১-৬)
সুতরাং আপনার প্রভূই কি উত্তম নন আনুগত্যের দিক থেকে, নাকি খারাপ লোকদের অনুশোচনা?!
আপনাকে অবশ্যই জেনে রাখতে হবে যে; তারা আপনাকে সর্বত্র তাড়া করে বেড়াবে। তারা সর্বদাই আপনাকে যে কোন ভাবেই হোক খারাপ পথে ফিরয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে।
আমাকে এক ব্যক্তি বলে যে, সে তাওবা করার পর তার এক সময়কার দুষ্ট বান্ধবীটি তার ড্রাইভারকে বলতো তুমি ওর পিছনে পিছনে গাড়ী নিয়ে যাও। সে মসজিদে যাবার পথে ঐ বান্ধবী গাড়ীর জানালা দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করতো।
তবে ঈমানদার ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ রক্ষা করবেন; এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন:
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ ءَامَنُواْ بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَة (سورة إبراهيم: ٢٧)
“আল্লাহ তাদেরকে দৃঢ় পদ রাখবেন যারা ঈমান এনেছে পবিত্র তাওহীদের বাণীর প্রতি দুনিয়ার ও আখেরাতের জীবনে।” (সূরা ইবরাহীম: ২৭)
তারা চেষ্টা করবে আপনাকে অতীতের কথা স্মরণ করাতে এবং পূর্বের গুনাহকে চাকচিক্যময় করে তুলতে সব রকমের পন্থায়, স্মরণ করে ... ছবি ... চিঠিপত্র ... ইত্যাদির মাধ্যমে। আপনি তাদের কথা শুনবেন না। আপনি সতর্ক থাকবেন যেন তারা আপনাকে ফেতনায় না ফেলতে পারে।
আপনি এখানে বিখ্যাত সাহাবী কা'ব ইবনে মালেকের ঘটনা স্মরণ করুন। তিনি তাবুকের যুদ্ধে না যাওয়ার কারণে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমস্ত সাহাবীকে তাকে বয়কট করে চলতে বলে ছিলেন, যতক্ষণ না আল্লাহর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে অনুমতি আসে। তার নিকট গাস্সানের বাদশা চিঠি লিখে এ বলে, 'আমি জানতে পেরেছি যে, আপনার সাথী আপনার সাথে রুঢ় ব্যবহার করেছে। আল্লাহ আপনাকে অপমানিত করবেন না এবং শেষ করেও দিবেন না। সুতরাং আপনার উচিৎ আমাদের সাথে মিলে যাওয়া।' সে কাফের চেয়েছিল এ মুসলমানকে মদীনা থেকে বের করে নিয়ে নিজের দলে টেনে নিতে এবং সে যেন কাফেরের দেশে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।
এখানে সম্মানিত সাহাবীর ভূমিকা কি? কা'ব বলেন, আমি তা পাঠ করে বললাম এটিও একটি পরীক্ষা, আমি সে চিঠিটি দলা পাকিয়ে চুলার মধ্যে ছুড়ে ফেলে পুড়িয়ে ফেললাম।
আপনিও এই রকম শক্ত হবেন, যে পুরুষ বা মহিলাই আপনাকে লিখবে তা পুড়িয়ে ফেলবেন, যেন তা ছাই হয়ে যায় এবং আপনি স্মরণ করবেন কিভাবে জাহান্নামে পুড়তে হবে সে কথা:
فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَا يَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ ﴾ (سورة الروم : ٦٠)
“অতএব, আপনি ধৈর্যধারণ করুন, নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য, আর এই অবিশ্বাসীরা যেন আপনাকে বিপথগামী করতে না পারে।” (আর-রূম: ৬০)

📘 আমি তাওবা করতে চাই কিন্ত > 📄 তাওবা করা থেকে ফিরানোর হুমকি

📄 তাওবা করা থেকে ফিরানোর হুমকি


আমি তাওবা করতে চাই কিন্তু আমার পুরাতন বন্ধুরা আমাকে হুমকি দিচ্ছে, তারা আমার কুকীর্তি মানুষের সামনে প্রকাশ করে দিবে এবং আমার গোপনীয় কার্যক্রম প্রকাশ করে দিবে। তাদের নিকট প্রমাণপত্র ও ছবি রয়েছে। আমি আমার মর্যাদার ব্যাপারে ভীত, শংকিত।
আমি বলছি, আপনি শয়তানদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করুন। নিশ্চয় শয়তানদের চক্রান্ত খুবই দুর্বল। যারা আজ আপনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ এসব শয়তান ও তার দোসরদের চাপ থেমে যাবে অতঃপর খুব শীঘ্রই তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং মুমিনের ধৈর্য ও দৃঢ়তার সামনে তারা পরাজিত হবেই।
আপনি নিশ্চিত থাকুন যে, আপনি যদি তাদের কথা মত চলেন, তাদের কাছে মাথা নত করেন তাহলে তারা আরো বেশী বেশী প্রমাণ আপনার বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে চেষ্টা করবে। সুতরাং পূর্বে ও পরে সর্বাবস্থায় আপনিই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অতএব তাদের অনুসরণ না করে আল্লাহর সাহায্য চান এবং বলুন:
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ (سورة آل عمران: ۱۷۳)
“আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম অভিভাবক।” (সূরা আলে ইমরান: ১৭৩) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতির আশংকা করতেন তখন বলতেন:
((اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنَعُوذُبِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ)) (مسند أحمد، أبو داود، صحيح الجامع)
“হে আল্লাহ! আমি আপনাকে তাদের গলার উপর ছেড়ে দিচ্ছি এবং আপনার নিকট পরিত্রাণ চাচ্ছি তাদের খারাপী থেকে।” (আহমাদ, আবু দাউদ, জামে' সহীহ ৪৫৮২)
একথা সত্য যে, অবস্থানটি খুবই কঠিন ঐ বেচারার জন্য যে তাওবা করেছে, তার সাথে তার খারাপ বন্ধুরা যোগাযোগ করে তাকে হুমকি দিয়ে বলে তোমার কথা আমরা রেকর্ড করে রেখেছি, তোমার ছবিও আমাদের নিকট রয়েছে, তুমি যদি আমাদের সাথে বের না হও তাহলে তোমার পরিবারের নিকট সব ফাঁস করে দিবো! একথা সঠিক যে, আপনার অবস্থান খুবই নাজুক।
দেখুন শয়তানের দোসরদের যুদ্ধ সেই সব গায়ক গায়িকা, নায়িকাদের বিরুদ্ধে যারা তাওবা করেছে। তারা তাদের খারাপ প্রোডাক্টগুলোকে বাজারজাত করে তাদের উপর চাপ দেয়ার জন্য এবং মানসিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে। কিন্তু আল্লাহ মুত্তাকিদের সাথে রয়েছেন, তাওবাকারীদের সাথে রয়েছেন এবং তিনি মুমিনদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না এবং তাদেরকে ছেড়ে দিবেন না। তাঁর নিকট কোন বান্দা আশ্রয় নেয়ার পর কখনো অপমানিত হয়না। আপনি জেনে রাখুন, নিশ্চয় কঠিন অবস্থার সাথেই সহজ অবস্থা আসে এবং সংকীর্ণতার পরেই প্রশস্ততা আসে।

📘 আমি তাওবা করতে চাই কিন্ত > 📄 পাপ আমার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে

📄 পাপ আমার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে


হে তাওবাকারী ভাই!
আপনার জন্য এই ঘটনাটি উল্লেখ করছি যা আমাদের কথার যথার্থতা প্রমাণ করবে। ঘটনাটি হলো, প্রখ্যাত ফেদায়ী (গেরিলা) সাহাবী মারসাদ বিন আবিল মারসাদ আল গানাবীর, যিনি দুর্বল মুসলমানদেরকে মক্কা থেকে গোপনে মদীনায় নিয়ে আসতেন। তিনি মক্কা থেকে দুর্বল বন্দী লোকদের গোপনে মদীনায় পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা করতেন।
মক্কায় একজন নষ্টা মহিলা ছিল যার নাম আনাক এবং সে ছিল তার বান্ধবী। তিনি মক্কার একজন বন্দী লোককে ওয়াদা দিয়েছিলেন মদীনায় পৌছে দেয়ার। তিনি বলেন, এক চাঁদনী রাতে আমি মক্কার এক দেয়ালের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। আনাক আমার ছায়া দেখে এগিয়ে আসে এবং বলে, মারসাদ? আমি বললাম হাঁ, মারসাদ। সে বললো, মারহাবা, স্বাগতম, এস আমার কাছে রাত কাটাও। আমি বললাম, হে আনাক! আল্লাহ ব্যভিচারকে হারাম করেছেন। সে তখন চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো, হে তাবুবাসীরা! এই লোকটি তোমাদের বন্দীদেরকে নিয়ে ভাগতে চায়।
তিনি বলেন, আটজন লোক আমার পিছু নেয় এবং আমি তখন খান্দামা পাহাড়ে (মক্কার প্রবেশ পথের একটি পাহাড়) ঢুকে পড়ে এক গুহায় লুকিয়ে যায়, এরা আমার সন্ধানে আমার কাছে এসে পড়ে, কিন্তু আল্লাহ আমাকে এদের থেকে আড়াল করে রাখেন। তিনি বলেন, এরপর তারা ফিরে যায় এবং আমিও ঐ লোকটির নিকট গিয়ে তাকে বহন করে নিয়ে আসি। লোকটি ছিল বেশ ভারী, আমার অনেক কষ্ট হয়ে ছিল। তাকে কিছু দূরে বয়ে নিয়ে গিয়ে তার হাত পায়ের বাঁধন খুলে ফেলি। আমি অনেক কষ্টে তাকে মদীনায় নিয়ে আসি। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আনাককে বিয়ে করতে পারি? (কথাটি দুবার বললাম) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ করে থাকলেন কোন জবাব দিলেন না। তখন এ আয়াত নাযিল হয়:
الزَّانِي لَا يَنكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالَّزَانِيَةُ لَا يَنكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِك ﴾ (سورة النور : ٣)
“ব্যভিচারী পুরুষ ব্যভিচারিণী মহিলাকেই বিয়ে করে অথবা মুশরিকা মহিলাকে এবং ব্যভিচারিণী মহিলা ব্যভিচারী পুরুষ অথবা মুশরিক লোককেই বিয়ে করে থাকে।” (সূরা আনূর: ৩)
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে মারসাদ! ব্যভিচারী পুরুষই কেবল ব্যভিচারিণীকে অথবা মুশরিকা মহিলাকে বিয়ে করে থাকে এবং ব্যভিচারিণী মহিলাও একমাত্র ব্যভিচারী পুরুষ অথবা মুশরিক লোককে বিয়ে করে থাকে, সুতরাং তুমি তাকে বিয়ে করো না। (তিরমিযী ৩/৮০)
আপনি দেখলেন কিভাবে আল্লাহ তা'আলা ঈমানদারের পক্ষে প্রতিরোধ গড়লেন এবং তিনি মুহসিনদের (সৎকর্ম পরায়ণদের অথবা সৎকর্মশীল লোকদের) সাথে কি আচরণ করলেন? অবস্থা যদি খুবই খারাপ হয় যে, আপনি যা আশংকা করছেন তাই ঘটে আর এর ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন পড়ে তাহলে আপনি আপনার অবস্থান বর্ণনা করুন, স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন এবং বলুন, হ্যাঁ, আমি পাপ করতাম। এখন আল্লাহর নিকট তাওবা (প্রত্যাবর্তন) করেছি? এখন তোমরা কি চাও?
আমাদেরকে স্মরণ রাখতে হবে যে, প্রকৃত কেলেঙ্কারী তো হলো আল্লাহর সামনে কিয়ামতের দিনের কেলেঙ্কারী। সেই ভয়ানক দিনে যেদিন একশ, দু'শ, হাজার, দু'হাজার লোকের সমানে নয় বিশ্বের মানুষের সামনে, সমস্ত সৃষ্টিকুলের সামনে, ফেরেশতা, জিন ও ইনসান সবার সামনে হযরত আদম থেকে শুরু করে দুনিয়ার সর্বশেষ মানুষের সামনে।
আসুন আমরা হযরত ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লামের দু'আ পাঠ করি:
وَلَا تُخْزِنِى يَوْمَ يُبْعَثُونَ يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ ) (سورة الشعراء: ۸۷-۸۹)
“যেদিন সকলকে উত্থাপিত করা হবে সেদিন আমাকে লাঞ্ছিত করো না। যেদিন কোন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কাজে আসবে না। একমাত্র কাজে আসবে যে সঠিক অন্তঃকরণ নিয়ে উপস্থিত হবে।” (সূরা আশশুয়ারা: ৮৭-৮৯)
সংকট মুহূর্তে নবীর শেখানো দু'আ পড়ে নিজেকে হেফাজত করুন:
((اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِنَا وَآمِنْ رَوْعَاتِنَا اللَّهُمَّ اجْعَلْ ثَأْرَنَا عَلَى مَنْ ظَلَمَنَا، وَانْصُرْنَا عَلَى مَنْ بَغَى عَلَيْنَا ، اللَّهُمَّ لَا تُشْمِتْ بِنَا الأَعْدَاءَ وَلَا الْحَاسِدِينَ))
“হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ইজ্জত রক্ষা করুন এবং আমাদের নিরাপদ রাখুন। হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিশোধ তাদের উপর ফেলুন যারা আমাদের উপর জুলুম করেছে এবং আমাদেরকে সাহায্য করুন তাদের বিরুদ্ধে যারা আমাদের উপর চড়াও করেছে। হে আল্লাহ! আমাদের শত্রুদেরকে ও হিংসুকদেরকে আমাদের বিরুদ্ধে খুশি হতে দিয়েন না।”
আপনি হয়তো বলতে পারেন, আমি অনেক পাপ করেছি এবং আল্লাহর কাছে তাওবা করেছি। কিন্তু আমার পাপ আমাকে তাড়া করে চলেছে। যখন এসব পাপের কথা মনে পড়ে তখন আমার দম বন্ধ হয়ে আসে, আমার জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে, আরামদায়ক বিছানাও কষ্টদায়ক মনে হয়, চিন্তায় রাত কাটে না, কোন কিছুতেই শান্তি পাই না, আমার শান্তির পথ কোন দিকে?
হে মুসলিম ভাই! আপনাকে বলছি, এই অনুভূতিই সত্যিকার তাওবারই প্রমাণ বহন করে এবং এটিই হলো প্রকৃত পক্ষে অনুতপ্ত হওয়া। অনুতপ্ত হওয়াটাই হলো তাওবা। সুতরাং যা ঘটে গেছে, সে ব্যাপারে আশাবাদী হোন যে, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে নিরাশ হবেন না, তার করুণার ব্যাপারে হতাশ হবেন না। মহান আল্লাহ বলেন:
وَمَنَ يَقْنَطُ مِن رَّحْمَةِ رَبِّهِ إِلَّا الضَّالُونَ ﴾ (الحجر: ٥٦)
“পথভ্রষ্ট ব্যক্তিরা ব্যতীত অন্য কেউ আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয় না।” (সূরা আল-হিজর: ৫৬)

📘 আমি তাওবা করতে চাই কিন্ত > 📄 আমি কি পাপের স্বীকারোক্তি করবো?

📄 আমি কি পাপের স্বীকারোক্তি করবো?


হযরত ইবনে মাসউদ রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন:
((أَكْبَرُ الْكَبَائِرِ الإِشْرَاكُ بِاللَّهِ، وَالأَمْنُ مِنْ مَكْرِ اللَّهِ، وَالْقُنُوطُ مِنْ رَحْمَةِ اللهِ، وَالْيَأْسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ)) (رواه عبد الرزاق وصححه الهيثمي وابن كثير)
“সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং আল্লাহর কৌশল থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করা, আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে নিরাশ হওয়া এবং আল্লাহর দয়ার ব্যাপারে হতাশ হওয়া।” (আবদুর রাজ্জাক, হায়সামী এবং ইবনে কাসীর এটিকে সহীহ বলেছেন)
একজন মুমিন বান্দা ভয় ও আশার মধ্যে থাকবে। কখনো হয়তো এর কোনটি প্রাধান্য পাবে। বিশেষ অবস্থায় যখন পাপ করবে তখন ভয়ের দিকটা বেশী হবে তাওবা করার জন্য এবং যখন তাওবা করবে তখন আশার দিকটা প্রধান্য পাবে, আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করবে।
আমি কি পাপের স্বীকারোক্তি করবো?
একজন চিন্তিত স্বরে প্রশ্ন করলো, আমি তাওবা করতে চাই কিন্তু আমার উপর কি এটা ওয়াজিব যে, আমি গিয়ে স্বীকার করবো যা কিছু পাপ করেছি এবং আমার তাওবার কি এটা শর্ত যে, আমি বিচারকের সামনে গিয়ে কোর্টে দাঁড়িয়ে সব কিছু স্বীকার করবো, আমার উপর শাস্তি বিধান কার্যকর করতে বলবো?
আমি বলবো যে ইতিপূর্বে মায়েয ও জনৈকা মহিলা এবং সেই ব্যক্তির ঘটনা যে এক মহিলাকে বাগানের ভিতর একাকী পেয়ে চুমু খেয়েছিল এর অর্থই বা কি?
হে মুসলিম ভাই! আপনার উদ্দেশ্যে বলছি, আল্লাহর সাথে কোন রকম মাধ্যম ছাড়াই বান্দার যোগাযোগ এই একত্ববাদী ইসলামের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য যা আল্লাহ পছন্দ করেন। তিনি বলেন:
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبādīʿannīfa-innīqarībun ʾujībudaʿwataddāʿi ʾidhādaʿāni ﴾ (البقرة: ١٨٦)
“এবং যখন আপনাকে আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, (তখন বলবেন) আমি তাদের খুবই নিকটে রয়েছি, প্রার্থনাকারীর প্রার্থনায় সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে।” (সূরা আল বাকারা: ১৮৬)
আমরা যখন বিশ্বাস করি যে, তাওবা হলো একমাত্র আল্লাহর জন্য তখন স্বীকারোক্তিও একমাত্র আল্লাহর নিকট করতে হবে। ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দু'আতে বলা হয়েছে, “আমি আপনার দেয়া আমার উপর নেয়ামতের স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহেরও স্বীকারোক্তি দিচ্ছি।” অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনার নিকট আমার অপরাধ স্বীকার করছি। আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা যে, আমরা খৃষ্টানদের মত নই, পাদ্রী ও স্বীকারোক্তির চেয়ার এবং ক্ষমার দলীল ... (তারাই ক্ষমা করে দিবে) ইত্যাদি যত সব হাস্যকর বিষয়। বরং মহান আল্লাহ্ বলেন:
أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ هُوَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ ﴾ (التوبة: ١٠٤)
“তারা কি জানেনা যে, আল্লাহই একমাত্র তার বান্দাদের তাওবা কবুল করেন।” (সূরা আত্তাওবা: ১০৪)
কোন রকমের মাধ্যম ছাড়াই। শাস্তির বিধান কায়েম করার ব্যাপারটি হলো, যদি বিষয়টি বিচারক অথবা কাজীর নিকট পর্যন্ত না পৌছে তাহলে জরুরী নয় যে কেউ এসে স্বীকারোক্তি দিবে। যার দোষ আল্লাহ গোপন রেখেছেন সে যেন নিজের দোষ গোপন রাখে। তার জন্য যথেষ্ট হবে সে তার রবের নিকট তাওবা করবে। মহান আল্লাহ বান্দাদের দোষত্রুটি গোপন করতে ভালবাসেন। তবে সেই সব সাহাবী যেমন মায়েয এবং মহিলা সাহাবী যারা ব্যভিচার করেছিলেন এবং যে ব্যক্তি বাগানে জনৈকা মহিলাকে চুমু খেয়েছিলেন, এবং তারা আপন আপন কর্মের কথা নিজ নিজ ইচ্ছায় প্রকাশ করেছিলেন অথচ তা তাদের উপর ওয়াজিব ছিলনা। এটা হয়েছিল তাদের নিজেদেরকে পবিত্র করার প্রবল ইচ্ছার কারণে। এর প্রমাণ হলো, যখন মায়েয এবং মহিলাটি প্রথমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসেন তখন তিনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তেমনিভাবে হযরত উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য সেই ব্যক্তির ব্যাপারে যে বাগানের ভিতর জনৈক মহিলাকে চুমু খায়, আল্লাহ এর দোষ গোপন করে রেখেছেন, যদি সে নিজের দোষ নিজে ঢেকে রাখত তাহলে কতই না ভাল হতো, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ করে থেকে এটাকে সমর্থন করেন। এর উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, কোর্টে গিয়ে লিপিবদ্ধ করে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকারীভাবে স্বীকারোক্তি দেয়ার প্রয়োজন নেই, যখন আল্লাহ তার বান্দার দোষ ত্রুটিকে গোপন রেখেছেন। তেমনিভাবে মসজিদের ইমামের নিকট গিয়ে হদ কায়েম করার জন্য নিবেদন করাও জরুরী নয় এবং বন্ধু বান্ধবের সহযোগিতা নেয়ারও প্রয়োজন নেই যেমন ঘরের মধ্যে তাকে বেত্রাঘাত করবে, যেমনটি অনেকের মনেই এসব চিন্তার উদয় হয়ে থাকে।
এ থেকেই বুঝা যায় কতিপয় জাহেল লোকের জঘন্যতম অবস্থানের কথা যা তাওবাকারীদের সাথে ঘটিয়েছে, এর সার-সংক্ষেপ হলো নিম্নোক্ত ঘটনা:
এক গুনাহগার মসজিদের জনৈক জাহেল ইমামের নিকট গিয়ে স্বীকার করে যে, সে এসব পাপ করেছে এবং তার নিকট এর সমাধান চায়। তখন তাকে সে ইমাম বলে, অবশ্যই প্রথমে তোমাকে কোর্টে যেতে হবে এবং শরীয়ত মোতাবেক স্বীকারোক্তি প্রদান করতে হবে। এরপর তোমার উপর হদ কায়েম করা হবে, তারপর তোমার অন্যান্য বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া হবে। যখন এই বেচারা দেখলো যে এসব কাজ করতে সে সক্ষম নয় তখন তাওবা থেকে ফিরে গেল এবং পূর্বের অবস্থায় চলে গেল। আমি এ সুযোগে একটি কথা বলতে চাই, হে মুসলমান ভাইয়েরা! দ্বীনের বিধান সম্পর্কে অবগত হওয়া আমাদের উপর পবিত্র আমানত এবং এটি তার সঠিক মূল উৎস থেকে গ্রহণ করাটাও পবিত্র আমানত। আল্লাহ বলেন:
فَسْئَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ﴾ [النحل: ٤٣]
“তোমরা বিজ্ঞলোকদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জান।” (সূরা আন্নহল: ৪৩) তিনি আরো বলেন:
الرَّحْمَنُ فَسْئَلَ بِهِ خَبِيرًا ﴾ (الفرقان: ٥٩)
“তিনি অতীব দয়ালু সুতরাং এ ব্যাপারে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস কর।” (সূরা আল-ফুরকান: ৫৯)
প্রত্যেক ওয়ায়েজই ফাতওয়া দেয়ার জন্য উপযুক্ত নয় এবং প্রত্যেক ইমাম মুয়াজ্জিনই মানুষকে শারীয়তের হুকুম আহকাম বলে দেয়ার যোগ্যতা রাখে না এবং প্রত্যেক গল্পকার বা সাহিত্যিকই ফাল্গুয়া সংগ্রহ করে দেয়ার যোগ্যতা রাখেনা। একজন মুসলমান অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে যে, সে কার নিকট থেকে ফাতওয়া গ্রহণ করেছে এবং এটি একটি তাআব্বুদী (শরয়ী) বিষয়।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য পথভ্রষ্ট আলেম ওলামার ব্যাপারে আশংকা করেছেন। একজন সালাফ বলেন, এই ইলম হচ্ছে দ্বীনের অন্ত র্গত, সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করবে যে, কার নিকট থেকে তোমাদের এই দ্বীন গ্রহণ করছ। অতএব হে আল্লাহর বান্দারা! এই দুস্কর পথের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং জ্ঞানবানদের কাছে পথের দিশা সন্ধান করুন সেসব বিষয়ে যা আপনার নিকট অস্পষ্ট থেকে যায়। আল্লাহই আমাদের সর্বাত্মক সাহায্যকারী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00