📄 ভালোবাসার প্রমাণ
ভালোবাসার প্রমাণ : ভালোবাসি বল্লেই ভালোবাসা হয় না। আল্লাহ ভালোবাসার প্রমাণ চান
আল্লাহ বলেন-“লোকেরা কি মনে করে নিয়েছে আমরা ঈমান এনেছি। এইটুকু বল্লেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে? আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? অথচ আমি তো তাদের পূর্বে অতিক্রান্ত সকল লোককেই পরীক্ষা করেছি। আল্লাহকে তো অবশ্যই দেখে নিতে হবে, কে সত্যবাদী আর কে মিথ্যাবাদী।
হযরত কা’ব আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে মনে-প্রাণেই ভালোবাসতেন। শুধু একবার প্রকাশ্য জিহাদে হাজির হতে গাফলতি করেছিলেন তাই তাকে পঞ্চাশ দিনের এক কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। হযরত কা’ব মুমিন ছিলেন বলেই দুনিয়াতেই তাকে পরীক্ষা এবং শাস্তি দিয়ে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তার তাওবা কবুল করে নিয়েছেন। হযরত কা’বের মতো একই অপরাধ আরও কয়েক জনেই করেছিলেন। যারা মুনাফিক তারা বিভিন্ন মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে দুনিয়াতে রেহাই পেয়েছিল ঠিকই কিন্তু আখেরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
📄 হযরত কা'ব (রাঃ)-এর ঘটনা
হযরত কা’বের মতো আরও দুইজন সাচ্চা দিল সাহাবী দুনিয়ার শাস্তি মাথা পেতে নিয়েছিলেন। হযরত কা’ব বিন মালিক (রাঃ) ভাষাতে সেই কাহিনী নিম্নরূপ :
হযরত কা’ব-এর ঘটনা
হযরত মুহাম্মদ (সঃ) যখন তাবুক অভিযানের উদ্দেশ্যে মুসলমানদেরকে তৈরি করছিলেন তখন আমি তাঁর সাথে চলার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু তারপর গাফলতি করতে লাগলাম। মনে মনে ভাবলাম “এতো তাড়াহুড়ার কি আছে? সময় যখন আসবে তৈরি হতে দেরী হবে না।” এইভাবে ব্যাপারটা পিছিয়ে যেতে লাগলো। এমন কি যখন সবাই রওনা হলো, তখন আমি সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিলাম। ভাবলাম সৈন্যরা চলে যাক, আমি দু’ একদিনের মধ্যে রওনা করেও কাফেলার সঙ্গে গিয়ে মিলিত হতে পারব। মোটকথা এমনি গাফলতির মধ্যেই সময় চলে গেলো। আমিও আর যেতে পারলাম না।
অবশেষে যখন দেখতে পেলাম যে, যাদের সাথে আমি পেছনে পড়ে রয়েছি, তারা হয় মুনাফিক আর না হয় এমন দুর্বল যে আল্লাহই তাদের অক্ষম করে রেখেছেন। তখন আমার অসম্ভব খারাপ লাগতে লাগলো। নিজের সম্পর্কে আমার অত্যন্ত আফসোস হলো।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অভিযান থেকে ফিরে এসেই অভ্যাস মতো মসজিদে গিয়ে দু’রাকায়াত নামায পড়লেন। অতঃপর লোকেদের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বসলেন। এবার মুনাফিরা এসে তাদের ওজর পেশ করতে লাগলো। তারা কসম করে তাদের অক্ষমতা সম্পর্কে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) নিশ্চয়তা প্রদান করতে লাগলো। এরূপ লোকের সংখ্যা আশির চেয়েও কিছু বেশি ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সমস্ত মনগড়া কথা শুনলেন এবং তাদের প্রকাশ্য ওজর কবুল করে তার গোপন রহস্য আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলেন। এভাবে তাদের মাফ করে দেওয়া হলো।
এরপর এলো আমার পালা। আমি সামনে গিয়ে সালাম নিবেদন করলাম আল্লাহর রাসূল আমার দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হাসলেন এবং বললেন-“বলো কি জিনিস তোমাকে বিরত রেখেছিল? আমি বললাম-আল্লাহর কসম, আমি যদি কোনো দুনিয়ারের সামনে হাযির হতাম তো অবশ্যই কোনো না কোনো মনগড়া কথা বলে তাকে রাজী করিয়ে নিতাম। কিন্তু আপনার সম্পর্কে তো এই ঈমান পোষণ করি যে এখন যদি কোনো বানোয়াট কথা বলে আপনাকে রাজী করিয়ে নেই তাহলে আল্লাহ অবশ্যই আমার প্রতি আপনাকে নারাজ করে দেবেন। কাজেই সত্য কথা বললে আপনি যদি অসন্তুষ্টও হন তবুও আশা করবো আল্লাহ আমার ক্ষমার জন্য কোনো না কোনো উপায় বের করে দেবেনই। সত্য কথা এই যে, আপনার কাছে উপস্থাপন করার মতো কোনো ওজরই আমার নেই। আমি অভিযানে যেতে পুরোপুরি সমর্থ ছিলাম।
এরপর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-“এ লোকটি নিশ্চয়ই সত্য বলেছে। আচ্ছা উঠে যাও এবং আল্লাহ তা’য়ালা তোমাদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত করা পর্যন্ত অপেক্ষা করো।”
আমি উঠে গিয়ে আপন গোত্রের লোকেদের সাথে বসলাম। অতঃপর আমার ন্যায় আরো দু’ব্যক্তি মুরারা বিন রাবী এবং হিলাল বিন উমাইয়াও একই রূপে সত্য কথা বললো।
এরপর আমাদের সাথে কারো কথাবার্তা না বলার জন্য নবী (সঃ) নির্দেশ দিলেন। এর ফলে অপর দুই ব্যক্তি ঘরেই বসে রইল। কিন্তু আমি বাইরে বের হতাম। জামায়াতের সাথে নামাজ পড়তাম, বাজারে চলাফেরা করতাম। কিন্তু কেউ আমার সাথে কথা বলত না। আমার মনে হতো দুনিয়াটা যেন একদম বদলে গেছে। আমি একজন নবাগত, এখানে আমার কেউ পরিচিত নয়। মসজিদে নামাজ পড়তে এলে নবী করীম (সঃ)-কে সালাম করতাম এবং জবাবের জন্যে তাঁর ওষ্ঠদ্বয় নড়ে কিনা, তা দেখবার জন্য শুধু ইন্তেজার করতাম। রাসূল (সঃ) আমার দিকে কিরূপ দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন তা দেখার জন্য নামাজের মধ্যে আড়চোখে দেখতাম। আমি যতক্ষণ নামাজ পড়তাম রাসূল (সঃ) আমার দিকে চেয়ে থাকতেন। যখনই আমি সালাম ফিরাতাম তখন আমার দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতেন।
একদিন আমি ভয়ে ভয়ে চাচাত ভাই ও বাল্য বন্ধু আবু কাতাদার কাছে গেলাম। তার বাগানের প্রাচীরের উপর ওঠে তাকে সালাম করলাম। কিন্তু আল্লাহর এই বান্দা সালামের জবাবটি পর্যন্ত দিলো না। আমি বললাম-আবু কাতাদাহ আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি-আমি কি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি না? সে নিরুত্তর রইল। আবার জিজ্ঞেস করলাম। এবারও সে নিরুত্তর রইল। তৃতীয়বারে শুধু এটুকু বলল-“আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।
এতে আমার চক্ষু দিয়ে অশ্রু বেরিয়ে এল। প্রাচীর থেকে নেমে এলাম।
একদিন বাজারের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলাম। এ সময় সিরিয়ার একটি লোক আমাকে শাহ গাসবানের খামে পোরা একটি চিঠি দিলো, আমি খুলে পড়লাম। তাতে লেখা ছিলো-আমরা শুনেছি তোমাদের সাহেব তোমার উপর ভীষণ উৎপীড়ন চালাচ্ছে। তুমি কোনো ইতর লোক নও অথবা নষ্ট করে ফেলার উপযোগী লোকও নও। তুমি আমাদের কাছে এসো, আমরা তোমার কদর করবো।
আমি বললাম-এ আর এক বিপদ দেখছি। তক্ষুণি চিঠিখানি চুলায় নিক্ষেপ করলাম।
চল্লিশ দিন এমনিভাবে অতিক্রম করার পর নবী করীম (সঃ) এর আদেশ এলো-“আপন স্ত্রী থেকে আলাদা হয়ে যাও।’ জিজ্ঞেস করলাম তাকে কি তালাক দিয়ে দেব?
জবাব পেলাম-‘না শুধু আলাদা থাকো’ আমি আমার স্ত্রীকে তার পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দিলাম এবং বললাম, এ ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলার কোনো সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত ইন্তেজার করো।
পঞ্চাশতম দিন সকালে নামাযের পর আমি আপন গৃহের ছাদের ওপর বসেছিলাম এবং নিজের জীবনকে ধিক্কার দিচ্ছিলাম, এমনি সময় এক ব্যক্তি আমায় উপর্যুপরি ডেকে ডেকে বলল-“মুবারক হোক কাব বিন মালিক।’ আমি একথা শুনেই সিজদায় গেলাম। তারপর জানতে পারলাম আমার জন্য ক্ষমার হুকুম এসেছে। এরপর দলে দলে লোক ছুটে আসতে লাগলো এবং একজন অন্যজনের আরো আগে এসে আমায় এই বলে মুবারকবাদ দিতে লাগলো যে, তোমার তওবা কবুল হয়েছে। আমি উঠে সোজা মসজিদে নববীর দিকে গেলাম। দেখলাম নবী করীম (সঃ)-এর মুখমণ্ডল খুশিতে ঝলমল করছে।
আমি সালাম করতেই তিনি বললেন-“তোমার মোবারক হোক, এই দিনটি তোমার জীবনের সবচেয়ে উত্তম দিন। আমি জিজ্ঞেস করলাম-“এই ক্ষমা কি হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর তরফ থেকে না আল্লাহর তরফ থেকে? তিনি বললেন, আল্লাহর তরফ থেকে। সেই সঙ্গে আল-কুরআনের তওবা সংক্রান্ত আয়াতটিও পড়ে শোনালেন।
আমি বললাম-“হে আল্লাহর রাসূল! আমার তওবার মধ্যে আমার সমস্ত ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে সদকা করে দেওয়ার কথাও শামিল রয়েছে। তিনি বললেন, “কিছু রেখে দাও এটা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি তার নির্দেশ মতো খায়বরের অংশটি রেখে বাকী সব সদকা করে দিলাম। অতঃপর আমি আল্লাহর কাছে এই মর্মে প্রতিজ্ঞা করলাম যে সত্যের বদলে আল্লাহ আমায় ক্ষমা করলেন তার উপর সারা জীবন আমি অবিচল থাকব।”
📄 ভালোবাসার পরীক্ষা
ভালোবাসার পরীক্ষা
ভালোবাসার এই পরীক্ষা কম-বেশি করে আল্লাহর সব বান্দাকেই দিতে হয়েছে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ, স্ত্রী-পুত্র পরিত্যাগ, কিশোর পুত্রকে কুরবানী করার নির্দেশ দানের মাধ্যমে আল্লাহ ইব্রাহিম (আঃ)-কে পরীক্ষা করেছেন। বিভিন্ন পদ্ধতিতে নবী-রাসূল সবাইকেই ভালোবাসার পরীক্ষা দিতে হয়েছে। সাহাবীদের দিতে হয়েছে। যেই আল্লাহ এবং তার রাসূলকে ভালোবাসার দাবী করবে, তাকেই পরীক্ষা দিতে হবে।
ভালোবাসার তিনটি পর্যায়-অন্তরে ভালোবাসা, মুখে স্বীকার করা আর কার্যে তার প্রমাণ দেয়া। অন্তরে ভালোবাসলে আর মুখে স্বীকার করলেই আল্লাহ সেই ভালোবাসা কবুল করেন না। রাসূল (সঃ) এর পূর্ণ আনুগত্য এবং জিহাদ ফি-সাবিলিল্লাহ বা ইসলামী আন্দোলনে পরিপূর্ণ শরীক হয়ে সেই ভালোবাসার প্রমাণ দিতে হবে।
হযরত কা’ব অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসতেন মুখে স্বীকার করতেন শুধু বাস্তবে প্রমাণ দিতে একবার গাফলতি করেছিলেন। তারপরই তার উপর আসে কঠিন পরীক্ষা। বুদ্ধিমান বিচক্ষণ হযরত কা’ব (রাঃ) বুঝতে পেরেছিলেন একবার গাফলতি করে যে সর্বনাশ করেছি-সেই সর্বনাশের মাত্রা আর বৃদ্ধি করা যাবে না। তাই তো নিজের ভুল স্বীকার করে মাথা পেতে নিয়েছেন কঠিন দণ্ড। এক চুলও বিচ্যুতি হননি আদর্শ থেকে। নিজের ধন-সম্পদ নজরানা দিয়েছেন কাফফারা স্বরূপ।
📄 ইবলিশের ধোকা
ইবলিশের ধোকা : আমাদের জন্য শত্রু, চিরশত্রু ইবলিশ
ইবলিশের একমাত্র কাজই হলো আদম সন্তানকে পথভ্রষ্ট করা। সে তার দায়িত্ব পালনে কখনো গাফলতি করে না। সেই ইবলিশ শয়তান আমাদের ইবাদাতকে বিদ’আতে পরিণত করার জন্য সর্বক্ষণ সচেষ্ট।
রাসূল (সঃ) বলেছেন-“তোমরা সকল নতুন সৃষ্ট বিষয়সমূহ থেকে দূরে থাকবে। কারণ সকল নতুন সৃষ্ট বিষয়ই বিদ’আত। আর প্রতিটি বিদ’আতই হচ্ছে পথ ভ্রষ্টতা।” (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)
ইবলিশের ধোকার পদ্ধতিই হলো মানুষকে জান্নাতের লোভ দেখিয়ে এমন কাজ করার প্ররোচনা দেয় যা তাকে জাহান্নামে নিয়ে ছাড়ে।
হযরত আদম ও হাওয়া (আঃ)-কে সে জান্নাতে থাকার লোভ দেখিয়েই আল্লাহর হুকুম অমান্য করিয়ে ছিল। সেই শয়তানের ওয়াসওয়াসায় আজও আদম হাওয়ার সন্তানেরা শিরক বিদ’আতীতে জড়িয়ে যায়। শয়তান তো দুই প্রকার। জ্বীন শয়তান আর মানুষ শয়তান। উভয় শয়তানই এই কাজে তৎপর। যেসব কাজ রাসূল (সঃ) করেন নি সেই সব কাজকে সওয়াবের কাজ হিসাবে প্রচার করে মুসলিম সমাজকে বিদ’আতের জালে এমনভাবে জড়িয়ে ফেলেছে যে এর বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে এক শ্রেণীর মুসলমান নামধারি মানুষই হইচৈ করে ওঠে।
শয়তান বিদ’আতীতে তাদেরই জড়াতে পারে যারা রাসূল (সঃ)-এর রেখে যাওয়া ‘দুটি জিনিস’ যা তিনি শক্ত করে ধরে রাখতে বলেছিলেন তা শক্ত করে ধরে রাখে নি। কুরআন ও সুন্নাহ থেকে তারা বহুদূরে সরে গেছে।
রাসূল (সঃ) যেভাবে কুরআন পড়তে বলেছেন সেভাবে কুরআন পড়ে না। তারা না বুঝে সুর করে দুলে দুলে কুরআন তেলাওয়াত করে আর খতমের পর খতম করে। আর বখসে দেয় কবরবাসী আত্মীয়-স্বজনের প্রতি।
আর রাসূল (সঃ) বলেছেন-“কুরআনে পাঁচ ধরনের আয়াত আছে। হালাল, হারাম, মুহকাম মুতাশাবিহ ও আমছাল।
তোমরা হালালকে হালাল জেনে গ্রহণ করবে। হারামকে বর্জন করবে। মুহকাম অনুযায়ী আমল করবে। মুতাশাবিহের ওপর ঈমান আনবে। আর আমছাল থেকে উপদেশ গ্রহণ করবে। লোকেরা বলল-হে আল্লাহর রাসূল! মুহকাম, মুতাশাবিহ ও আমছাল আমাদের বুঝিয়ে দিন। রাসূল (সঃ) বললেন-“মুহকাম আয়াত ঐসব আয়াত যা স্পষ্ট হুকুম-আহকাম সম্বলিত পড়লেই বুঝা যায়। অতএব তোমরা সেই অনুযায়ী কাজ করবে। মুতাশাবিহ হচ্ছে ঐসব রূপক আয়াত যা স্পষ্ট বুঝা যায় না। যেমন-আরশ, কুরসি, ফেরেশতা এমনি আরো যেসব কথা আমাদের বুঝে আসে না তার উপর ঈমান আনবে।
আমছাল হচ্ছে ঐসব আয়াত পুরানো দিনের ঘটনা তুলে উপদেশ দেয়া হয়েছে। যেমন-আদজাতি, সামুদ জাতির কাহিনী। ফেরাউনের স্ত্রী খাঁটি মুমিন আর লুত (আঃ) স্ত্রী পাক্কা কাফের। এমনি আরো অনেক উপদেশমূলক কাহিনী আছে। এইসব আমছাল আয়াত। এইসব আয়াত থেকে উপদেশ নিতে হবে।” রাসূল (সঃ)এর উপরোক্ত হাদিস অনুযায়ী কুরআন পড়লে কুরআন থেকে হেদায়েত পাওয়া সম্ভব। ইবলিশ শয়তান আর মানুষ শয়তান কোনো শয়তানই তাকে গোমরাহ করতে পারবে না।
কিন্তু ইবলিশ অনেক মানুষকেই তার অনুসারী করে ফেলেছে। তারা অর্থসহ বুঝে-সুঝে কুরআন পড়তে চায় না। এদেরই শয়তান বিদ’আতীতে জড়াতে পারে। কুফরি করাতে পারে।
বুখারী শরীফের একদম শেষ হাদিসটি হলো “এমন একটি বাক্য আছে যা রাব্বুল আলামীনের কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয়। মুখে উচ্চারণ করতে সহজ কিন্তু মিজানে সবচেয়ে ভারী হবে। বাক্যটি হলো সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।” (এই দোয়াটি বেশি বেশি করে পড়া উচিত।)
এই হাদিসটির আগের হাদিস হলো, রাসূল (সঃ) বলেছেন-“আমার উম্মাতের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছে যারা কুরআন সুললিত কণ্ঠে পড়বে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। (অর্থাৎ অন্তরে প্রবেশ করবে না) এরা আমার দ্বীন থেকে বের হয়ে গেছে।”
যারা কুরআনের অর্থ বুঝে পড়ে না তাদেরই তো অন্তরে প্রবেশ করে না কুরআনের বাণী। আর ইবলিশ তাদেরকেই দিয়েই পারে একটার পর একটা বিদ’আতী করাতে। তা আবার ইবাদতের নামে। (আমার লেখা বিদ’আতের বেড়াজালে ইবাদাত’ বইটি পড়ার অনুরোধ করছি।