📄 জাবের বিন আবদুল্লাহর ঘটনা
সিরাত রচয়িতাগণ উল্লেখ করেছেন এবং মূল ঘটনাটি মুসলিম শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশিষ্ট সাহাবি হজরত জাবের বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু। তার পিতা উহুদ যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। হজরত জাবেরের সাত জন বোন ছিল, তিনি ছাড়া তাদের অন্যকোনো অভিভাবক ছিল না। এই যুবকের মাথায় যৌবনের শুরুতেই ঋণের অনেক বোঝা চাপে। ফলে হজরত জাবের সর্বদাই চিন্তিত থাকতেন। ঋণ এবং বোনদের চিন্তা তাকে মূর্ষে ফেলেছিল। ঋণদাতারা সকালসন্ধ্যা তাকে ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করত।
গাজওয়ায়ে জাতুর রিকার সময় হজরত জাবের নবিজির সাথে যুদ্ধে গেলেন। অভাবের কারণে অত্যন্ত দুর্বল একটি উট নিয়ে যাত্রা করছিলেন, যা ভালোভাবে চলতে পারে না। ভালো উট ক্রয় করার মতো অর্থ তার কাছে ছিল না। ফলে কাফেলার সবাই আগে চলে গেল, তিনি পেছনে পড়ে থাকলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেনাদলের একেবারে পেছনে ছিলেন। নবিজি হজরত জাবেরকে এমন অবস্থায় পেলেন যে, তিনি উট নিয়ে খুব কষ্ট করে সামনে এগুচ্ছেন, কাফেলা তাকে পিছে ফেলে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
নবিজি জিজ্ঞেস করলেন, জাবের কী হয়েছে তোমার? হজরত জাবের বললেন, উট আমাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। নবিজি বললেন, উট হাঁকাও, সুতরাং হজরত জাবের উট হাঁকালেন, নবিজিও তার উটনি হাঁকালেন, তারপর বললেন, তোমার হাত থেকে লাঠিটা আমাকে দাও, অথবা গাছ থেকে আমাকে একটি লাঠি ভেঙে দাও। হজরত জাবের নবিজিকে লাঠি দিলেন। নবিজি লাঠি দিয়ে উটকে কয়েকটি খোঁচা দিলেন, তারপর বললেন, জাবের উঠে বসো। সুতরাং আমি উটে চড়ে বসলাম। আল্লাহর শপথ, তিনি তার উটনিকে দ্রুত হাঁকাতে লাগলেন। আমি নবিজির সাথে কথাবার্তা বলছিলাম; নবিজি আমাকে বললেন, হে জাবের, তুমি কি তোমার উটটি আমার কাছে বিক্রি করবে? আমি বললাম, না, বরং আমি আপনাকে এটি উপহার দেব। নবিজি বললেন, না, তুমি আমার কাছে বিক্রি করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি চাইলে তাই হবে।
নবিজি বললেন, কতটুকু খাবার রান্না করেছ? আমি বললাম, আমার যা প্রয়োজন। নবিজি বললেন, এক দিরহাম। আমি বললাম, আমি এত কমমূল্যে দেব না। এভাবে দামাদামি করতে করতে এর মূল্য ৪০ দিরহামে পৌঁছুল। তখন হজরত জাবের বললেন, হ্যাঁ, এই মূল্যে বিক্রি করতে আমি প্রস্তুত। কিন্তু আমার একটি শর্ত আছে হে আল্লাহর রাসুল। কী শর্ত? আমি মদিনা পর্যন্ত তাতে আরোহণ করবো। নবিজি বললেন, ঠিক আছে।
যখন মদিনায় পৌঁছুলেন, হজরত জাবের বাড়ি গেলেন ও আসবাবপত্র উট থেকে নামিয়ে নবিজির সাথে নামাজ পড়ার জন্য গেলেন এবং উট মসজিদের কাছে বেঁধে রাখলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদ থেকে বের হলে হজরত জাবের বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, এই যে আপনার উট, নবিজি হজরত বেলালকে বললেন, জাবেরকে ৪০ দিরহাম দিয়ে দাও, সাথে কিছু বাড়িয়ে দাও। নবিজি হজরত জাবেরকে বললেন, তুমি কি ভেবেছিলে আমি দাম কমানোর জন্য তোমার সাথে দর কষাকষি করছিলাম? বরং আমি চাচ্ছিলাম, তোমার প্রয়োজন বুঝে নিয়ে সে পরিমাণ মূল্য দিয়ে তোমাকে সহযোগিতা করতে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
وَ مَنْ يَتَّقِ اللهَ يَجْعَلْ لَّهُ مَخْرَجًا، وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ .
'যে আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তাআলা তার উপায় বের করে দেন এবং এমন স্থান থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।' [সুরা তালাক, আয়াত ২-৩]
সিরাত রচয়িতাগণ উল্লেখ করেছেন এবং মূল ঘটনাটি মুসলিম শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশিষ্ট সাহাবি হজরত জাবের বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু। তার পিতা উহুদ যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। হজরত জাবেরের সাত জন বোন ছিল, তিনি ছাড়া তাদের অন্যকোনো অভিভাবক ছিল না। এই যুবকের মাথায় যৌবনের শুরুতেই ঋণের অনেক বোঝা চাপে। ফলে হজরত জাবের সর্বদাই চিন্তিত থাকতেন। ঋণ এবং বোনদের চিন্তা তাকে মূর্ষে ফেলেছিল। ঋণদাতারা সকালসন্ধ্যা- তাকে ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করত।
gাজওয়ায়ে জাতুর রিকার সময়-হজরত জাবের নবিজির সাথে যুদ্ধে গেলেন। অভাবের কারণে অত্যন্ত দুর্বল একটি উট নিয়ে যাত্রা করছিলেন, যা ভালোভাবে চলতে পারে না। ভালো উট ক্রয় করার মতো অর্থ তার কাছে ছিল না। ফলে কাফেলার সবাই আগে চলে গেল, তিনি পেছনে পড়ে থাকলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেনাদলের একেবারে পেছনে ছিলেন। নবিজি হজরত জাবেরকে এমন অবস্থায় পেলেন যে, তিনি উট নিয়ে খুব কষ্ট করে সামনে এগুচ্ছেন, কাফেলা তাকে পিছে ফেলে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
নবিজি জিজ্ঞেস করলেন, জাবের কী হয়েছে তোমার? হজরত জাবের বললেন, উট আমাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। নবিজি বললেন, উট হাঁকাও, সুতরাং হজরত জাবের উট হাঁকালেন, নবিজিও তার উটনি হাঁকালেন, তারপর বললেন, তোমার হাত থেকে লাঠিটা আমাকে দাও, অথবা গাছ থেকে আমাকে একটি লাঠি ভেঙে দাও। হজরত জাবের নবিজিকে লাঠি দিলেন। নবিজি লাঠি দিয়ে উটকে কয়েকটি খোঁচা দিলেন, তারপর বললেন, জাবের উঠে বসো। সুতরাং আমি উটে চড়ে বসলাম। আল্লাহর শপথ, তিনি তার উটনিকে দ্রুত হাঁকাতে লাগলেন। আমি নবিজির সাথে কথাবার্তা বলছিলাম; নবিজি আমাকে বললেন, হে জাবের, তুমি কি তোমার উটটি আমার কাছে বিক্রি করবে? আমি বললাম, না, বরং আমি আপনাকে এটি উপহার দেব। নবিজি বললেন, না, তুমি আমার কাছে বিক্রি করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি চাইলে তাই হবে।
নবিজি বললেন, কত মূল্য নেবে? আমি বললাম, আমার যা প্রয়োজন। নবিজি বললেন, এক দিরহাম। আমি বললাম, আমি এত কমমূল্যে দেব না। এভাবে দামাদামি করতে করতে এর মূল্য ৪০ দিরহামে পৌঁছুল। তখন হজরত জাবের বললেন, হ্যাঁ, এই মূল্যে বিক্রি করতে আমি প্রস্তুত। কিন্তু আমার একটি শর্ত আছে হে আল্লাহর রাসুল। কী শর্ত? আমি মদিনা পর্যন্ত তাতে আরোহণ করবো। নবিজি বললেন, ঠিক আছে।
যখন মদিনায় পৌঁছুলেন, হজরত জাবের বাড়ি গেলেন ও আসবাবপত্র উট থেকে নামিয়ে নবিজির সাথে নামাজ পড়ার জন্য গেলেন এবং উট মসজিদের কাছে বেঁধে রাখলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদ থেকে বের হলে হজরত জাবের বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, এই যে আপনার উট, নবিজি হজরত বেলালকে বললেন, জাবেরকে ৪০ দিরহাম দিয়ে দাও, সাথে কিছু বাড়িয়ে দাও। নবিজি হজরত জাবেরকে বললেন, তুমি কি ভেবেছিলে আমি দাম কমানোর জন্য তোমার সাথে দর কষাকষি করছিলাম? বরং আমি চাচ্ছিলাম, তোমার প্রয়োজন বুঝে নিয়ে সে পরিমাণ মূল্য দিয়ে তোমাকে সহযোগিতা করতে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
وَ مَنْ يَتَّقِ اللهَ يَجْعَلْ لَّهُ مَخْرَجًا، وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ .
'যে আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তাআলা তার উপায় বের করে দেন এবং এমন স্থান থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।' [সুরা তালাক, আয়াত ২-৩]
📄 কা’নাবির তাওবা
ইমাম এবং মুহাদ্দিস কা'নাবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তার যৌবনই ছিল মদ এবং গল্পগুজব। একদিন সাথিরা তাকে ডাকল। তিনি দরজায় তাদের অপেক্ষায় বসে ছিলেন। সেখান দিয়ে ইমাম ও মুহাদ্দিস শোবা ইবনুল হাজ্জাজ গমন করছিলেন। তার পেছনে পেছনে চলছিল অনেক ভক্ত অনুরক্তগণ। কা'নাবি জিজ্ঞেস করলেন, লোকটি কে? বলা হলো, শোবা। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, কোন শোবা সাথীগণ বলল? মুহাদ্দিস শোবা। তৎক্ষণাৎ তিনি হজরত শোবার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন, তখন কা'নাবির পরনে ছিল লাল লুঙ্গি।
কা'নাবি : আমাকে হাদিস শোনান, আমি মুহাদ্দিস হবো।
শোবা : তুমি তো আসহাবুল হাদিস নও যে, আমি তোমাকে হাদিস শুনাবো।
কা'নাবি : হাদিস শোনাবেন নাকি আপনাকে আঘাত করবো?
এবার হজরত শোবা তার দিকে তাকিয়ে হাদিস বর্ণনা শুরু করলেন, আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন মানসুর, তিনি বর্ণনা করেছেন রাবয়ি থেকে, তিনি আবু মাসউদ থেকে, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- إِذَا لَمْ تَسْتَحِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ .
'যখন তোমার লজ্জা থাকবে না, যা ইচ্ছে তাই করতে পারবে।'
কা'নাবির অন্তরে এই হাদিস প্রভাব সৃষ্টি করল। এত দিন তার প্রতিপালকের সাথে যে যুদ্ধ করেছে, নাফরমানি করেছে তা মনে হতে লাগল। সাথে সাথে বাড়ি ফিরে গেলেন। বাড়িতে থাকা সমস্ত মদ ঢেলে ফেলে দিলেন। তারপর মায়ের কাছে ইলম শিক্ষার জন্য মদিনা সফরের অনুমতি চাইলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি যাত্রা করলেন এবং হজরত ইমাম মালেক বিন আনাসের সান্নিধ্য গ্রহণ করলেন। তার কাছে হাদিস হিফজ করলেন। একসময় বড় মুহাদ্দিস আলেম হিসেবে গণ্য হলেন। তার হেদায়াতের উপকরণ ছিল শিক্ষণীয় ওয়াজ, কিন্তু তার কলব পরিস্কার ছিল। অন্তর পরিষ্কার থাকলে আল্লাহ তাআলা হেদায়াতের পথ খুলে দেন।
টিকাঃ
৪৫. মুসনাদে আহমদ : ৪৫/৩২৭।
ইমাম এবং মুহাদ্দিস কা'নাবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তার যৌবনই ছিল মদ এবং গল্পগুজব। একদিন সাথিরা তাকে ডাকল। তিনি দরজায় তাদের অপেক্ষায় বসে ছিলেন। সেখান দিয়ে ইমাম ও মুহাদ্দিস শোবা ইবনুল হাজ্জাজ গমন করছিলেন। তার পেছনে পেছনে চলছিল অনেক ভক্ত অনুরক্তগণ। কা'নাবি জিজ্ঞেস করলেন, লোকটি কে? বলা হলো, শোবা। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, কোন শোবা সাথিগণ বলল?, মুহাদ্দিস শোবা। তৎক্ষণাৎ তিনি হজরত শোবার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন, তখন কা'নাবির পরনে ছিল লাল লুঙ্গি।
কা'নাবি : আমাকে হাদিস শোনান, আমি মুহাদ্দিস হবো।
শোবা : তুমি তো আসহাবুল হাদিস নও যে, আমি তোমাকে হাদিস শুনাবো।
কা'নাবি : হাদিস শোনাবেন নাকি আপনাকে আঘাত করবো?
এবার হজরত শোবা তার দিকে তাকিয়ে হাদিস বর্ণনা শুরু করলেন, আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন মানসুর, তিনি বর্ণনা করেছেন রাবয়ি থেকে, তিনি আবু মাসউদ থেকে, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- إِذَا لَمْ تَسْتَحِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ .
'যখন তোমার লজ্জা থাকবে না, যা ইচ্ছে তাই করতে পারবে।' [৪৫]
কা'নাবির অন্তরে এই হাদিস প্রভাব সৃষ্টি করল। এত দিন তার প্রতিপালকের সাথে যে যুদ্ধ করেছে, নাফরমানি করেছে তা মনে হতে লাগল। সাথে সাথে বাড়ি ফিরে গেলেন। বাড়িতে থাকা সমস্ত মদ ঢেলে ফেলে দিলেন। তারপর মায়ের কাছে ইলম শিক্ষার জন্য মদিনা সফরের অনুমতি চাইলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি যাত্রা করলেন এবং হজরত ইমাম মালেক বিন আনাসের সান্নিধ্য গ্রহণ করলেন। তার কাছে হাদিস হিফজ করলেন। একসময় বড় মুহাদ্দিস আলেম হিসেবে গণ্য হলেন। তার হেদায়াতের উপকরণ ছিল শিক্ষণীয় ওয়াজ, কিন্তু তার কলব পরিস্কার ছিল। অন্তর পরিষ্কার থাকলে আল্লাহ তাআলা হেদায়াতের পথ খুলে দেন।
সমাপ্ত
টিকাঃ
৪৫. মুসনাদে আহমদ : ৪৫/৩২৭।