📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 চিরস্থায়ী সৌভাগ্য

📄 চিরস্থায়ী সৌভাগ্য


জনৈক দায়ি আমাকে বলেছেন, তিনি চিকিৎসার জন্য বৃটেন গেলেন। তিনি বলেন, আমি সেখানকার সবচেয়ে বড় হাসপাতালে গেলাম। যেখানে কেবল ভি.আই.পি এবং মন্ত্রীরাই প্রবেশ করতে পারে। ডাক্তার আমার কাছে এসে আমার বাহ্যিক অবস্থা দেখে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি মুসলমান? আমি বললাম, হ্যাঁ, তারপর ডাক্তার বলল, ইসলামে এমন কিছু কঠিন বিষয় রয়েছে, যা বুঝ হওয়ার পর থেকে আমাকে কৌতূহলী করে রেখেছে। আপনি কি সেগুলো আমার কাছ থেকে শুনতে পারবেন? আমি বললাম, হ্যাঁ, পারবো।

এবার ডাক্তার বললেন, আমার কাছে অনেক সম্পদ রয়েছে। নির্ধারিত বেতনও রয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের সার্টিফিকেটও রয়েছে। আমি সর্বপ্রকার ইনজয় করেছি, মদপান করেছি, ব্যভিচার করেছি, অনেক দেশ ভ্রমণ করেছি, কিন্তু এত কিছুর পরও সবসময় সংকীর্ণতা অনুভব করি এবং এই এখন ভোগ-বিলাস অসহনীয় মনে হয়। ফলে আমি বড় বড় ডাক্তারের কাছে, মনোবিজ্ঞানীর কাছে নিজের চিকিৎসাও করিয়েছি। এমনকি পরবর্তী জীবন পাওয়ার জন্য আত্মহত্যার কথাও ভেবেছি। এই দুনিয়ার ভোগবিলাসের প্রতি কোনো আকর্ষণই আমার নেই।

আচ্ছা, আপনার কি এমন অনুভূত হয় না? আমি বললাম, না, বরং আমরা স্থায়ী সৌভাগ্যবান। দ্রুতই আপনাকে আপনার সমস্যার সমাধান জানাব; কিন্তু তার আগে আমাকে একটি কথা বলতে হবে; যখন আপনি আপনার দু'চোখ দিয়ে মজা উপভোগ করতে চাইবেন তখন কী করবেন? ডাক্তার সাহেব বললেন, কোনো সুন্দরী নারী বা অন্য কোনো সুন্দর দৃশ্যের দিকে তাকাব। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, যখন কান দ্বারা স্বাদ উপভোগ করতে চাইবেন, তখন কী করবেন? ডাক্তার সাহেব বললেন, সুন্দর সুন্দর গান-বাজনা শুনবো। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, যদি আপনার নাক দ্বারা ভালো ঘ্রাণ উপভোগ করতে চান, তাহলে কী করবেন? ডাক্তার সাহেব বললেন, আতরসেন্টের ঘ্রাণ নেবো, কিংবা কোনো বাগানে যাবো।

আমি বললাম, আপনি খুব সুন্দর জবাব দিয়েছেন। আচ্ছা, চোখের স্বাদ উপভোগের জন্য গানবাজনা শুনতে যান না কেন? আমার এমন প্রশ্ন শুনে ডাক্তার সাহেব এবার বিস্মিত হলেন এবং বললেন, এটা তো কানের সাথে নির্ধারিত, অন্য কোনো অঙ্গের মাধ্যমে এই স্বাদ গ্রহণ করা সম্ভব নয়। আবার জিজ্ঞেস করলাম, যখন নাক দ্বারা সুন্দর ঘ্রাণ নিতে চান, তখন সুন্দর দৃশ্যের দিকে তাকান না কেন? তিনি আরও বিস্মিত হয়ে বললেন, নাক দ্বারা সুন্দর দৃশ্য দেখা সম্ভব নয়, এটা চোখের সাথে নির্ধারিত উপভোগ। আমি বললাম, আপনি খুব সুন্দর বলেছেন, আপনার কাছে আমি যা চাচ্ছি সে পর্যন্ত আপনি পৌঁছে গেছেন।

আপনি কি পার্থিব ভোগ বিলাসের প্রতি এই অনাসক্তি চোখ দ্বারা বুঝতে পারেন? তিনি বললেন, না। আপনি কি সেটা আপনার কান, নাক, মুখ, লজ্জাস্থান বা অন্যকোনো অঙ্গ দ্বারা বুঝতে পারেন? তিনি বললেন, না, বরং আমি হৃদয় দিয়ে অনুভব করি। আমি বললাম, এই সংকীর্ণতা আপনি হৃদয় দিয়ে অনুভব করেন। হৃদয়েরও বিশেষ স্বাদ-সম্ভোগ আছে, যা অন্যকোনো অঙ্গের মাধ্যমে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। আপনাকে সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে হবে, যেগুলো দ্বারা কলবহৃদয় শান্তি পায়। কানের জন্য গান, মুখের জন্য মদ, চোখের জন্য দৃষ্টি এবং ব্যভিচারের জন্য গুপ্তাঙ্গ নির্ধারিত। এক অঙ্গের মাধ্যমে আরেক অঙ্গের কাজ করা সম্ভব নয়।

ঠিক তেমনিভাবে আপনার হৃদয়ের স্বাদ গ্রহণের জন্য, হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য নির্ধারিত খাবার ও সম্ভোগের বস্তু রয়েছে, যা অন্যকোনো বস্তুর মাধ্যমে সম্ভব নয়। আমার কথা শুনে ডাক্তার সাহেব বিস্মিত হলেন এবং বললেন, আপনি ঠিক বলেছেন তাহলে! হৃদয়ের প্রশান্তির উপকরণ কী? আমি বললাম, এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। সাথে সাথে আপনার সৃষ্টিকর্তাকে সিজদা করবেন, আল্লাহর কাছে নিজের অনুযোগ ও অভিযোগ উপস্থাপন করবেন। এতে আপনি তার ছায়াতেই যাপন করতে পারবেন আনন্দময় প্রশান্তিকর জীবন, অনুভব করতে পারবেন সৌভাগ্যের পরশ। এবার ডাক্তার সাহেব মাথা নেড়ে বললেন, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে একটি কিতাব দিন, এবং আমার জন্য দোয়া করুন, আমি শিগগিরই ইসলাম গ্রহণ করবো। আল্লাহ তাআলা সত্যিই বলেছেন-
يَأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَ شِفَاءٌ لَّمَا فِي الصُّدُورِ. وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ. قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَ بِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْইَفْرَحُوْا، هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُوْনَ .
'হে লোকসকল, তোমাদের কাছে উপদেশবাণী এসেছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়াত ও রহমত মুসলমানদের জন্য। বলো, আল্লাহর দয়া ও মেহেরবানিতে। সুতরাং এরই প্রতি তাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিত। এটিই উত্তম সে সমুদয় থেকে, যা সঞ্চয় করছে।' [সুরা ইউসুফ, আয়াত ১৭-১৮]

তাই অবাক হতে হয় তাদের জন্য, যারা প্রবৃত্তির দাসত্বে প্রশান্তি খোঁজে এবং ইসলামের পথ ব্যতীত ভিন্ন কোনো পথে সৌভাগ্যের সন্ধানে ঘোরে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ يَعْمَلُوْنَ السَّيَّاتِ أَنْ يَسْبِقُوْنَا، سَاءَ مَا يَحْكُمُوْনَ .
'যারা মন্দ কাজ করে তারা কি মনে করে, তারা আমার হাত থেকে বেঁচে যাবে? তাদের ফায়সালা খুবই মন্দ।' [সুরা আনকাবুত, আয়াত ৪]

আল্লাহ তাআলা সৌভাগ্যবান এবং হতভাগাদের জীবনযাপনের মাঝে ব্যবধান স্থাপন করেছেন, পার্থক্য করেছেন জীবন ও মরণের মাঝে। বরং নেককার যখন পৃথিবীতে অধিকহারে নেককাজ করে, তার স্বাদ ও সৌভাগ্য বৃদ্ধি পেতে থাকে, আল্লাহ তাআলা তার রিজিকের মাঝে বরকত দান করেন, তার সন্তানের মাঝে বরকত দান করেন, তার উপার্জনের মাঝে বরকত দান করেন, তার বাসস্থানে বরকত দান করেন, মোটকথা প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বরকত দান করেন। কুরআন কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
قُلْ يُعِبَادِ الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوْا رَبَّكُمْ، لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ، وَأَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةُ، إِنَّمَا يُوَفَّى الصُّبِرُوْنَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ .
'বলো, হে মুমিন বান্দারা, যারা ইমান এনেছ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো। যারা এই দুনিয়ায় ভালো কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ। আর আল্লাহর জমিন প্রশস্ত, কেবল ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেওয়া হবে কোনো হিসাব ছাড়াই।' [সুরা যুমার, আয়াত ১০]

জনৈক দায়ি আমাকে বলেছেন, তিনি চিকিৎসার জন্য বৃটেন গেলেন। তিনি বলেন, আমি সেখানকার সবচেয়ে বড় হাসপাতালে গেলাম। যেখানে কেবল ভি.আই.পি এবং মন্ত্রীরাই প্রবেশ করতে পারে। ডাক্তার আমার কাছে এসে আমার বাহ্যিক অবস্থা দেখে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি মুসলমান? আমি বললাম, হ্যাঁ, তারপর ডাক্তার বলল, ইসলামে এমন কিছু কঠিন বিষয় রয়েছে, যা বুঝ হওয়ার পর থেকে আমাকে কৌতূহলী করে রেখেছে। আপনি কি সেগুলো আমার কাছ থেকে শুনতে পারবেন? আমি বললাম, হ্যাঁ, পারবো।

এবার ডাক্তার বললেন, আমার কাছে অনেক সম্পদ রয়েছে। নির্ধারিত বেতনও রয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের সার্টিফিকেটও রয়েছে। আমি সর্বপ্রকার ইনজয় করেছি, মদপান করেছি, ব্যভিচার করেছি, অনেক দেশ ভ্রমণ করেছি, কিন্তু এত কিছুর পরও সবসময় সংকীর্ণতা অনুভব করি এবং এই এখন ভোগ-বিলাস অসহনীয় মনে হয়। ফলে আমি বড় বড় ডাক্তারের কাছে, মনোবিজ্ঞানীর কাছে নিজের চিকিৎসাও করিয়েছি। এমনকি পরবর্তী জীবন পাওয়ার জন্য আত্মহত্যার কথাও ভেবেছি। এই দুনিয়ার ভোগবিলাসের প্রতি- কোনো আকর্ষণই আমার নেই।

আচ্ছা, আপনার কি এমন অনুভূত হয় না? আমি বললাম, না, বরং আমরা স্থায়ী সৌভাগ্যবান। দ্রুতই আপনাকে আপনার সমস্যার সমাধান জানাব; কিন্তু তার আগে আমাকে একটি কথা বলতে হবে; যখন আপনি আপনার দু'চোখ দিয়ে মজা উপভোগ করতে চাইবেন তখন কী করবেন? ডাক্তার সাহেব বললেন, কোনো সুন্দরী নারী বা অন্য কোনো সুন্দর দৃশ্যের দিকে তাকাব। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, যখন কান দ্বারা স্বাদ উপভোগ করতে চাইবেন, তখন কী করবেন? ডাক্তার সাহেব বললেন, সুন্দর সুন্দর গান-বাজনা শুনবো। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, যদি আপনার নাক দ্বারা ভালো ঘ্রাণ উপভোগ করতে চান, তাহলে কী করবেন? ডাক্তার সাহেব বললেন, আতরসেন্টের- ঘ্রাণ নেবো, কিংবা কোনো বাগানে যাবো।

আমি বললাম, আপনি খুব সুন্দর জবাব দিয়েছেন। আচ্ছা, চোখের স্বাদ উপভোগের জন্য গানবাজনা শুনতে যান না কেন-? আমার এমন প্রশ্ন শুনে ডাক্তার সাহেব এবার বিস্মিত হলেন এবং বললেন, এটা তো কানের সাথে নির্ধারিত, অন্য কোনো অঙ্গের মাধ্যমে এই স্বাদ গ্রহণ করা সম্ভব নয়। আবার জিজ্ঞেস করলাম, যখন নাক দ্বারা সুন্দর ঘ্রাণ নিতে চান, তখন সুন্দর দৃশ্যের দিকে তাকান না কেন? তিনি আরও বিস্মিত হয়ে বললেন, নাক দ্বারা সুন্দর দৃশ্য দেখা সম্ভব নয়, এটা চোখের সাথে নির্ধারিত উপভোগ। আমি বললাম, আপনি খুব সুন্দর বলেছেন, আপনার কাছে আমি যা চাচ্ছি সে পর্যন্ত আপনি পৌঁছে গেছেন।

আপনি কি পার্থিব ভোগ বিলাসের প্রতি এই অনাসক্তি চোখ দ্বারা বুঝতে পারেন? তিনি বললেন, না। আপনি কি সেটা আপনার কান, নাক, মুখ, লজ্জাস্থান বা অন্যকোনো অঙ্গ দ্বারা বুঝতে পারেন? তিনি বললেন, না, বরং আমি হৃদয় দিয়ে অনুভব করি। আমি বললাম, এই সংকীর্ণতা আপনি হৃদয় দিয়ে অনুভব করেন। হৃদয়েরও বিশেষ স্বাদ-সম্ভোগ আছে, যা অন্যকোনো অঙ্গের মাধ্যমে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তাই আপনাকে সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে হবে, যেগুলো দ্বারা কলবহৃদয় শান্তি পায়। কেননা-, কানের জন্য গান, মুখের জন্য মদ, চোখের জন্য দৃষ্টি এবং ব্যভিচারের জন্য গুপ্তাঙ্গ নির্ধারিত। এক অঙ্গের মাধ্যমে আরেক অঙ্গের কাজ করা সম্ভব নয়।

ঠিক তেমনিভাবে আপনার হৃদয়ের স্বাদ গ্রহণের জন্য, হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য নির্ধারিত খাবার ও সম্ভোগের বস্তু রয়েছে, যা অন্যকোনো বস্তুর মাধ্যমে সম্ভব নয়। আমার কথা শুনে ডাক্তার সাহেব বিস্মিত হলেন এবং বললেন, আপনি ঠিক বলেছেন তাহলে! হৃদয়ের প্রশান্তির উপকরণ কী? আমি বললাম, এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

সাথে সাথে আপনার সৃষ্টিকর্তাকে সিজদা করবেন, আল্লাহর কাছে নিজের অনুযোগ ও অভিযোগ উপস্থাপন করবেন। এতে আপনি তার ছায়াতেই যাপন করতে পারবেন আনন্দময় প্রশান্তিকর জীবন, অনুভব করতে পারবেন সৌভাগ্যের পরশ। এবার ডাক্তার সাহেব মাথা নেড়ে বললেন, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে একটি কিতাব দিন, এবং আমার জন্য দোয়া করুন, আমি শিগগিরই ইসলাম গ্রহণ করবো। আল্লাহ তাআলা সত্যিই বলেছেন-

يَأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَ شِفَاءٌ لَّمَا فِي الصُّدُورِ. وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ. قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَ بِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا، هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُوْنَ .

'হে লোকসকল, তোমাদের কাছে উপদেশবাণী এসেছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়াত ও রহমত মুসলমানদের জন্য। বলো, আল্লাহর দয়া ও মেহেরবানিতে। সুতরাং এরই প্রতি তাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিত। এটিই উত্তম সে সমুদয় থেকে, যা সঞ্চয় করছে।' [সুরা ইউসুফ, আয়াত ১৭-১৮]

তাই অবাক হতে হয় তাদের জন্য, যারা প্রবৃত্তির দাসত্বে প্রশান্তি খোঁজে এবং ইসলামের পথ ব্যতীত ভিন্ন কোনো পথে সৌভাগ্যের সন্ধানে ঘোরে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-

أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ يَعْمَلُوْনَ السَّيَّاتِ أَنْ يَسْبِقُوْনَا، سَاءَ مَا يَحْكُمُوْনَ .

'যারা মন্দ কাজ করে তারা কি মনে করে, তারা আমার হাত থেকে বেঁচে যাবে? তাদের ফায়সালা খুবই মন্দ।' [সুরা আনকাবুত, আয়াত ৪]

আল্লাহ তাআলা সৌভাগ্যবান এবং হতভাগাদের জীবনযাপনের মাঝে ব্যবধান স্থাপন করেছেন, পার্থক্য করেছেন জীবন ও মরণের মাঝে। বরং নেককার যখন পৃথিবীতে অধিকহারে নেককাজ করে, তার স্বাদ ও সৌভাগ্য বৃদ্ধি পেতে থাকে, আল্লাহ তাআলা তার রিজিকের মাঝে বরকত দান করেন, তার সন্তানের মাঝে বরকত দান করেন, তার উপার্জনের মাঝে বরকত দান করেন, তার বাসস্থানে বরকত দান করেন, মোটকথা প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বরকত দান করেন। কুরআন কারিমে ইরশাদ হয়েছে-

قُلْ يُعِبَادِ الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوْا رَبَّكُمْ، لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ، وَأَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةُ، إِنَّمَا يُوَفَّى الصُّبِرُوْন أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ .

'বলো, হে মুমিন বান্দারা, যারা ইমান এনেছ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো। যারা এই দুনিয়ায় ভালো কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ। আর আল্লাহর জমিন প্রশস্ত, কেবল ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেওয়া হবে কোনো হিসাব ছাড়াই।' [সুরা যুমার, আয়াত ১০]

📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 জাবের বিন আবদুল্লাহর ঘটনা

📄 জাবের বিন আবদুল্লাহর ঘটনা


সিরাত রচয়িতাগণ উল্লেখ করেছেন এবং মূল ঘটনাটি মুসলিম শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশিষ্ট সাহাবি হজরত জাবের বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু। তার পিতা উহুদ যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। হজরত জাবেরের সাত জন বোন ছিল, তিনি ছাড়া তাদের অন্যকোনো অভিভাবক ছিল না। এই যুবকের মাথায় যৌবনের শুরুতেই ঋণের অনেক বোঝা চাপে। ফলে হজরত জাবের সর্বদাই চিন্তিত থাকতেন। ঋণ এবং বোনদের চিন্তা তাকে মূর্ষে ফেলেছিল। ঋণদাতারা সকালসন্ধ্যা তাকে ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করত।

গাজওয়ায়ে জাতুর রিকার সময় হজরত জাবের নবিজির সাথে যুদ্ধে গেলেন। অভাবের কারণে অত্যন্ত দুর্বল একটি উট নিয়ে যাত্রা করছিলেন, যা ভালোভাবে চলতে পারে না। ভালো উট ক্রয় করার মতো অর্থ তার কাছে ছিল না। ফলে কাফেলার সবাই আগে চলে গেল, তিনি পেছনে পড়ে থাকলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেনাদলের একেবারে পেছনে ছিলেন। নবিজি হজরত জাবেরকে এমন অবস্থায় পেলেন যে, তিনি উট নিয়ে খুব কষ্ট করে সামনে এগুচ্ছেন, কাফেলা তাকে পিছে ফেলে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

নবিজি জিজ্ঞেস করলেন, জাবের কী হয়েছে তোমার? হজরত জাবের বললেন, উট আমাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। নবিজি বললেন, উট হাঁকাও, সুতরাং হজরত জাবের উট হাঁকালেন, নবিজিও তার উটনি হাঁকালেন, তারপর বললেন, তোমার হাত থেকে লাঠিটা আমাকে দাও, অথবা গাছ থেকে আমাকে একটি লাঠি ভেঙে দাও। হজরত জাবের নবিজিকে লাঠি দিলেন। নবিজি লাঠি দিয়ে উটকে কয়েকটি খোঁচা দিলেন, তারপর বললেন, জাবের উঠে বসো। সুতরাং আমি উটে চড়ে বসলাম। আল্লাহর শপথ, তিনি তার উটনিকে দ্রুত হাঁকাতে লাগলেন। আমি নবিজির সাথে কথাবার্তা বলছিলাম; নবিজি আমাকে বললেন, হে জাবের, তুমি কি তোমার উটটি আমার কাছে বিক্রি করবে? আমি বললাম, না, বরং আমি আপনাকে এটি উপহার দেব। নবিজি বললেন, না, তুমি আমার কাছে বিক্রি করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি চাইলে তাই হবে।

নবিজি বললেন, কতটুকু খাবার রান্না করেছ? আমি বললাম, আমার যা প্রয়োজন। নবিজি বললেন, এক দিরহাম। আমি বললাম, আমি এত কমমূল্যে দেব না। এভাবে দামাদামি করতে করতে এর মূল্য ৪০ দিরহামে পৌঁছুল। তখন হজরত জাবের বললেন, হ্যাঁ, এই মূল্যে বিক্রি করতে আমি প্রস্তুত। কিন্তু আমার একটি শর্ত আছে হে আল্লাহর রাসুল। কী শর্ত? আমি মদিনা পর্যন্ত তাতে আরোহণ করবো। নবিজি বললেন, ঠিক আছে।

যখন মদিনায় পৌঁছুলেন, হজরত জাবের বাড়ি গেলেন ও আসবাবপত্র উট থেকে নামিয়ে নবিজির সাথে নামাজ পড়ার জন্য গেলেন এবং উট মসজিদের কাছে বেঁধে রাখলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদ থেকে বের হলে হজরত জাবের বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, এই যে আপনার উট, নবিজি হজরত বেলালকে বললেন, জাবেরকে ৪০ দিরহাম দিয়ে দাও, সাথে কিছু বাড়িয়ে দাও। নবিজি হজরত জাবেরকে বললেন, তুমি কি ভেবেছিলে আমি দাম কমানোর জন্য তোমার সাথে দর কষাকষি করছিলাম? বরং আমি চাচ্ছিলাম, তোমার প্রয়োজন বুঝে নিয়ে সে পরিমাণ মূল্য দিয়ে তোমাকে সহযোগিতা করতে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
وَ مَنْ يَتَّقِ اللهَ يَجْعَلْ لَّهُ مَخْرَجًا، وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ .
'যে আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তাআলা তার উপায় বের করে দেন এবং এমন স্থান থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।' [সুরা তালাক, আয়াত ২-৩]

সিরাত রচয়িতাগণ উল্লেখ করেছেন এবং মূল ঘটনাটি মুসলিম শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশিষ্ট সাহাবি হজরত জাবের বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু। তার পিতা উহুদ যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। হজরত জাবেরের সাত জন বোন ছিল, তিনি ছাড়া তাদের অন্যকোনো অভিভাবক ছিল না। এই যুবকের মাথায় যৌবনের শুরুতেই ঋণের অনেক বোঝা চাপে। ফলে হজরত জাবের সর্বদাই চিন্তিত থাকতেন। ঋণ এবং বোনদের চিন্তা তাকে মূর্ষে ফেলেছিল। ঋণদাতারা সকালসন্ধ্যা- তাকে ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করত।

gাজওয়ায়ে জাতুর রিকার সময়-হজরত জাবের নবিজির সাথে যুদ্ধে গেলেন। অভাবের কারণে অত্যন্ত দুর্বল একটি উট নিয়ে যাত্রা করছিলেন, যা ভালোভাবে চলতে পারে না। ভালো উট ক্রয় করার মতো অর্থ তার কাছে ছিল না। ফলে কাফেলার সবাই আগে চলে গেল, তিনি পেছনে পড়ে থাকলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেনাদলের একেবারে পেছনে ছিলেন। নবিজি হজরত জাবেরকে এমন অবস্থায় পেলেন যে, তিনি উট নিয়ে খুব কষ্ট করে সামনে এগুচ্ছেন, কাফেলা তাকে পিছে ফেলে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

নবিজি জিজ্ঞেস করলেন, জাবের কী হয়েছে তোমার? হজরত জাবের বললেন, উট আমাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। নবিজি বললেন, উট হাঁকাও, সুতরাং হজরত জাবের উট হাঁকালেন, নবিজিও তার উটনি হাঁকালেন, তারপর বললেন, তোমার হাত থেকে লাঠিটা আমাকে দাও, অথবা গাছ থেকে আমাকে একটি লাঠি ভেঙে দাও। হজরত জাবের নবিজিকে লাঠি দিলেন। নবিজি লাঠি দিয়ে উটকে কয়েকটি খোঁচা দিলেন, তারপর বললেন, জাবের উঠে বসো। সুতরাং আমি উটে চড়ে বসলাম। আল্লাহর শপথ, তিনি তার উটনিকে দ্রুত হাঁকাতে লাগলেন। আমি নবিজির সাথে কথাবার্তা বলছিলাম; নবিজি আমাকে বললেন, হে জাবের, তুমি কি তোমার উটটি আমার কাছে বিক্রি করবে? আমি বললাম, না, বরং আমি আপনাকে এটি উপহার দেব। নবিজি বললেন, না, তুমি আমার কাছে বিক্রি করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি চাইলে তাই হবে।

নবিজি বললেন, কত মূল্য নেবে? আমি বললাম, আমার যা প্রয়োজন। নবিজি বললেন, এক দিরহাম। আমি বললাম, আমি এত কমমূল্যে দেব না। এভাবে দামাদামি করতে করতে এর মূল্য ৪০ দিরহামে পৌঁছুল। তখন হজরত জাবের বললেন, হ্যাঁ, এই মূল্যে বিক্রি করতে আমি প্রস্তুত। কিন্তু আমার একটি শর্ত আছে হে আল্লাহর রাসুল। কী শর্ত? আমি মদিনা পর্যন্ত তাতে আরোহণ করবো। নবিজি বললেন, ঠিক আছে।

যখন মদিনায় পৌঁছুলেন, হজরত জাবের বাড়ি গেলেন ও আসবাবপত্র উট থেকে নামিয়ে নবিজির সাথে নামাজ পড়ার জন্য গেলেন এবং উট মসজিদের কাছে বেঁধে রাখলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদ থেকে বের হলে হজরত জাবের বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, এই যে আপনার উট, নবিজি হজরত বেলালকে বললেন, জাবেরকে ৪০ দিরহাম দিয়ে দাও, সাথে কিছু বাড়িয়ে দাও। নবিজি হজরত জাবেরকে বললেন, তুমি কি ভেবেছিলে আমি দাম কমানোর জন্য তোমার সাথে দর কষাকষি করছিলাম? বরং আমি চাচ্ছিলাম, তোমার প্রয়োজন বুঝে নিয়ে সে পরিমাণ মূল্য দিয়ে তোমাকে সহযোগিতা করতে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-

وَ مَنْ يَتَّقِ اللهَ يَجْعَلْ لَّهُ مَخْرَجًا، وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ .

'যে আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তাআলা তার উপায় বের করে দেন এবং এমন স্থান থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।' [সুরা তালাক, আয়াত ২-৩]

📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 কা’নাবির তাওবা

📄 কা’নাবির তাওবা


ইমাম এবং মুহাদ্দিস কা'নাবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তার যৌবনই ছিল মদ এবং গল্পগুজব। একদিন সাথিরা তাকে ডাকল। তিনি দরজায় তাদের অপেক্ষায় বসে ছিলেন। সেখান দিয়ে ইমাম ও মুহাদ্দিস শোবা ইবনুল হাজ্জাজ গমন করছিলেন। তার পেছনে পেছনে চলছিল অনেক ভক্ত অনুরক্তগণ। কা'নাবি জিজ্ঞেস করলেন, লোকটি কে? বলা হলো, শোবা। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, কোন শোবা সাথীগণ বলল? মুহাদ্দিস শোবা। তৎক্ষণাৎ তিনি হজরত শোবার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন, তখন কা'নাবির পরনে ছিল লাল লুঙ্গি।

কা'নাবি : আমাকে হাদিস শোনান, আমি মুহাদ্দিস হবো।
শোবা : তুমি তো আসহাবুল হাদিস নও যে, আমি তোমাকে হাদিস শুনাবো।
কা'নাবি : হাদিস শোনাবেন নাকি আপনাকে আঘাত করবো?

এবার হজরত শোবা তার দিকে তাকিয়ে হাদিস বর্ণনা শুরু করলেন, আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন মানসুর, তিনি বর্ণনা করেছেন রাবয়ি থেকে, তিনি আবু মাসউদ থেকে, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- إِذَا لَمْ تَسْتَحِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ .
'যখন তোমার লজ্জা থাকবে না, যা ইচ্ছে তাই করতে পারবে।'

কা'নাবির অন্তরে এই হাদিস প্রভাব সৃষ্টি করল। এত দিন তার প্রতিপালকের সাথে যে যুদ্ধ করেছে, নাফরমানি করেছে তা মনে হতে লাগল। সাথে সাথে বাড়ি ফিরে গেলেন। বাড়িতে থাকা সমস্ত মদ ঢেলে ফেলে দিলেন। তারপর মায়ের কাছে ইলম শিক্ষার জন্য মদিনা সফরের অনুমতি চাইলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি যাত্রা করলেন এবং হজরত ইমাম মালেক বিন আনাসের সান্নিধ্য গ্রহণ করলেন। তার কাছে হাদিস হিফজ করলেন। একসময় বড় মুহাদ্দিস আলেম হিসেবে গণ্য হলেন। তার হেদায়াতের উপকরণ ছিল শিক্ষণীয় ওয়াজ, কিন্তু তার কলব পরিস্কার ছিল। অন্তর পরিষ্কার থাকলে আল্লাহ তাআলা হেদায়াতের পথ খুলে দেন।

টিকাঃ
৪৫. মুসনাদে আহমদ : ৪৫/৩২৭।

ইমাম এবং মুহাদ্দিস কা'নাবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তার যৌবনই ছিল মদ এবং গল্পগুজব। একদিন সাথিরা তাকে ডাকল। তিনি দরজায় তাদের অপেক্ষায় বসে ছিলেন। সেখান দিয়ে ইমাম ও মুহাদ্দিস শোবা ইবনুল হাজ্জাজ গমন করছিলেন। তার পেছনে পেছনে চলছিল অনেক ভক্ত অনুরক্তগণ। কা'নাবি জিজ্ঞেস করলেন, লোকটি কে? বলা হলো, শোবা। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, কোন শোবা সাথিগণ বলল?, মুহাদ্দিস শোবা। তৎক্ষণাৎ তিনি হজরত শোবার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন, তখন কা'নাবির পরনে ছিল লাল লুঙ্গি।

কা'নাবি : আমাকে হাদিস শোনান, আমি মুহাদ্দিস হবো।

শোবা : তুমি তো আসহাবুল হাদিস নও যে, আমি তোমাকে হাদিস শুনাবো।

কা'নাবি : হাদিস শোনাবেন নাকি আপনাকে আঘাত করবো?

এবার হজরত শোবা তার দিকে তাকিয়ে হাদিস বর্ণনা শুরু করলেন, আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন মানসুর, তিনি বর্ণনা করেছেন রাবয়ি থেকে, তিনি আবু মাসউদ থেকে, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- إِذَا لَمْ تَسْتَحِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ .

'যখন তোমার লজ্জা থাকবে না, যা ইচ্ছে তাই করতে পারবে।' [৪৫]

কা'নাবির অন্তরে এই হাদিস প্রভাব সৃষ্টি করল। এত দিন তার প্রতিপালকের সাথে যে যুদ্ধ করেছে, নাফরমানি করেছে তা মনে হতে লাগল। সাথে সাথে বাড়ি ফিরে গেলেন। বাড়িতে থাকা সমস্ত মদ ঢেলে ফেলে দিলেন। তারপর মায়ের কাছে ইলম শিক্ষার জন্য মদিনা সফরের অনুমতি চাইলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি যাত্রা করলেন এবং হজরত ইমাম মালেক বিন আনাসের সান্নিধ্য গ্রহণ করলেন। তার কাছে হাদিস হিফজ করলেন। একসময় বড় মুহাদ্দিস আলেম হিসেবে গণ্য হলেন। তার হেদায়াতের উপকরণ ছিল শিক্ষণীয় ওয়াজ, কিন্তু তার কলব পরিস্কার ছিল। অন্তর পরিষ্কার থাকলে আল্লাহ তাআলা হেদায়াতের পথ খুলে দেন।

সমাপ্ত

টিকাঃ
৪৫. মুসনাদে আহমদ : ৪৫/৩২৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px