📄 মেয়েটির কোনো সন্তান নেই
যেসব গণক, জ্যোতিষী এবং ভাগ্যবর্ণনাকারী দাবি করে, তারা অদৃশ্যের সংবাদ জানে; একবার একখলিফার দরবারে তাদের একজন গেল। সেখানে প্রবেশ করেই দেখল, খলিফার কোলে একটি শিশু। জ্যোতিষী কোনোভাবে খলিফার দৃষ্টি আকর্ষণ করার ইচ্ছা করল। সে সামনে এগিয়ে গিলে বলল, 'হে খলিফা' খলিফা : হ্যাঁ। জ্যোতিষী : আমি কি এই শিশুর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলব? খলিফা : হ্যাঁ, বলো। জ্যোতিষী তারকার দিকে তাকিয়ে আঙুল গণনা করতে শুরু করল এবং বিস্ময়কর সব কথাবার্তা বলতে লাগল। পরে বলল, 'হায়, শিশুটি খুব দ্রুত বড় হবে, একজন বিচক্ষণ অশ্বারোহী হবে এবং একই সাথে দুই তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধকারী হবে। এমনকি সে যুদ্ধ করার সময় লাগাম ধরে বসে থাকার প্রয়োজন বোধ করবে না। সে অতিসত্বর অমুক দেশের অমুক রাজার মেয়েকে বিয়ে করবে এবং সেখানকারও রাজা হবে।' জ্যোতিষী আরও বলল, 'শিশুটি এই এই রিজিক পাবে, এতগুলো ছেলেমেয়ে পাবে, তার জীবদ্দশাতেই রাষ্ট্র অনেক বড় হবে।' এভাবে সে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকল। মোটকথা, শিশুকে সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বানিয়ে দিলো। পরিশেষে বখশিশের অপেক্ষায় থাকল।
খলিফা : হে মিথ্যুক, এটা কন্যাসন্তান, পুত্রসন্তান নয়! মূলত এসব জ্যোতিষরা অনুমান করে ঢিল মারে এবং অধিকাংশ সময় মানুষের বুদ্ধি নিয়ে খেলা করে।
যেসব গণক, জ্যোতিষী এবং ভাগ্যবর্ণনাকারী দাবি করে, তারা অদৃশ্যের সংবাদ জানে; একবার একখলিফার দরবারে তাদের একজন গেল। সেখানে প্রবেশ করেই দেখল, খলিফার কোলে একটি শিশু। জ্যোতিষী কোনোভাবে খলিফার দৃষ্টি আকর্ষণ করার ইচ্ছা করল। সে সামনে এগিয়ে গিলে বলল, 'হে খলিফা' খলিফা : হ্যাঁ। জ্যোতিষী : আমি কি এই শিশুর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলব? খলিফা : হ্যাঁ, বলো। জ্যোতিষী তারকার দিকে তাকিয়ে আঙুল গণনা করতে শুরু করল এবং বিস্ময়কর সব কথাবার্তা বলতে লাগল। পরে বলল, 'হায়, শিশুটি খুব দ্রুত বড় হবে, একজন বিচক্ষণ অশ্বারোহী হবে এবং একই সাথে দুই তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধকারী হবে। এমনকি সে যুদ্ধ করার সময় লাগাম ধরে বসে থাকার প্রয়োজন বোধ করবে না। সে অতিসত্বর অমুক দেশের অমুক রাজার মেয়েকে বিয়ে করবে এবং সেখানকারও রাজা হবে।' জ্যোতিষী আরও বলল, 'শিশুটি এই এই রিজিক পাবে, এতগুলো ছেলেমেয়ে পাবে, তার জীবদ্দশাতেই রাষ্ট্র অনেক বড় হবে।' এভাবে সে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকল। মোটকথা, শিশুকে সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বানিয়ে দিলো। পরিশেষে বখশিশের অপেক্ষায় থাকল।
খলিফা : হে মিথ্যুক, এটা কন্যাসন্তান, পুত্রসন্তান নয়! মূলত এসব জ্যোতিষরা অনুমান করে ঢিল মারে এবং অধিকাংশ সময় মানুষের বুদ্ধি নিয়ে খেলা করে।
যেসব গণক, জ্যোতিষী এবং ভাগ্যবর্ণনাকারী দাবি করে, তারা অদৃশ্যের সংবাদ জানে; একবার একখলিফার দরবারে তাদের একজন গেল। সেখানে প্রবেশ করেই দেখল, খলিফার কোলে একটি শিশু। জ্যোতিষী কোনোভাবে খলিফার দৃষ্টি আকর্ষণ করার ইচ্ছা করল। সে সামনে এগিয়ে গিলে বলল, 'হে খলিফা'
খলিফা : হ্যাঁ।
জ্যোতিষী : আমি কি এই শিশুর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলব?
খলিফা : হ্যাঁ, বলো।
জ্যোতিষী তারকার দিকে তাকিয়ে আঙুল গণনা করতে শুরু করল এবং বিস্ময়কর সব কথাবার্তা বলতে লাগল। পরে বলল, 'হায়, শিশুটি খুব দ্রুত বড় হবে, একজন বিচক্ষণ অশ্বারোহী হবে এবং একই সাথে দুই তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধকারী হবে। এমনকি সে যুদ্ধ করার সময় লাগাম ধরে বসে থাকার প্রয়োজন বোধ করবে না। সে অতিসত্বর অমুক দেশের অমুক রাজার মেয়েকে বিয়ে করবে এবং সেখানকারও রাজা হবে।' জ্যোতিষী আরও বলল, 'শিশুটি এই এই রিজিক পাবে, এতগুলো ছেলেমেয়ে পাবে, তার জীবদ্দশাতেই রাষ্ট্র অনেক বড় হবে।' এভাবে সে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকল। মোটকথা, শিশুকে সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বানিয়ে দিলো। পরিশেষে বখশিশের অপেক্ষায় থাকল।
খলিফা : হে মিথ্যুক, এটা কন্যাসন্তান, পুত্রসন্তান নয়!
মূলত এসব জ্যোতিষরা অনুমান করে ঢিল মারে এবং অধিকাংশ সময় মানুষের বুদ্ধি নিয়ে খেলা করে।
📄 বিনোদন ছাড়ুন
কখনো দেখা যায়, কিছু মানুষ রাশিবিষয়ক লেখা পত্রিকাগুলো পড়ে এবং বলে, আমি বিনোদনের জন্য এগুলো পড়ি। প্রকৃত অবস্থা জানার অধ্যায়, অমুক অধ্যায় ইত্যাদি। সে জানে, তার জন্ম অমুক মাসে। আর অমুক মাসে জন্ম হলে অমুক রাশির সাথে মিলে যায়। সে এই উদ্দেশ্যে পড়ে যে, অতিসত্বর সে ভালো কোনো সংবাদ পাবে। এটা কার্যত বাস্তব হবে।
অথবা তার মা বলে, তুমি অমুক স্থানে যাবে। অথবা তার স্ত্রী তার কাছে এ রকম আবেদন করবে অথবা এমন কোনো জিনিসের কথা বলবে, যা সাধারণত মানুষের জীবনে ঘটেই থাকে। কিন্তু জ্যোতিষী তার চিন্তা-চেতনা একটি সময়ের সাথে বেঁধে দিয়েছে। তো সেই ক্ষেত্রে সে মিথ্যাবাদী হওয়ার বদলে ৯০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে। তারপর এই অবস্থান থেকে নেমে ৮০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে। তারপর এই অবস্থান থেকে নেমে ৭০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে। এরপর সেখান থেকে নেমে শতকরা ১০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে।
তারপর রাশি নিয়ে লেখা পত্রিকাগুলো অনুসন্ধান করে সেখানে আশার আলো খোঁজার চেষ্টা করে। যখন সে একশতে একশ ভাগ ব্যর্থ হয় এবং ধারণাগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তখন অন্তরে একপ্রকার সত্যায়ন সৃষ্টি হয়। এজন্যই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
মَنْ أَتَى كَاهِنًا أَوْ عَرَّافًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
'যে ব্যক্তি জ্যোতিষী বা গণকের কাছে গেল এবং তার কথাকে সত্যায়ন করল; সে মুহাম্মদের প্রতি প্রেরিত দ্বীন অস্বীকারকারী কাফির হয়ে গেল'।
যদি কেউ এ বিশ্বাস রাখে যে, জ্যোতিষী হলো মিথ্যাবাদী, তারপরও তাকে জিজ্ঞেস করা বৈধ নয়। কোনো কোনো পর্যটক কেবল পর্যটনের উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন শহরে সফর করে; হোক তারা আরব বা অনারব। রাস্তায় তাদের কাছে এসে কেউ বলে, 'আপনি যদি চান আপনার হাত দেখে ভাগ্য গণনা করব।' অনেকেই তখন বলে, 'ঠিক আছে, আমার হাত দেখে ভাগ্য গণনা করো।'
এরপর গণক হাত দেখে ভাগ্য গণনা শুরু করে এবং তার কাছে এমন সব সংবাদ পরিবেশন করে, সেগুলো সাধারণত সেই শহরে ঘটে থাকে অথবা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনাও উপস্থাপন করে। এরপর বলে, 'আপনি আগামী দুই বছরের মাঝে বিয়ে করবেন। আমি কি আপনার হবু স্ত্রীর গুণগুলো বলব?'
অনেকে জ্যোতিষীর নিকট গিয়ে বলে 'আমার করণীয়-বর্জনীয় বলো।' তখন গণক তাকে বলে, 'এই এই করো। কেননা, এই কাজ তোমার অমুক কাজ দ্রুত সফল হতে সহায়তা করবে।' এই মিথ্যাবাদী গণকরা কখনো কখনো মানুষের মাঝে গ্রহণযোগ্যও হয়ে যায়। ফলে সে ব্যক্তি গণকের কথামতো কাজগুলো করা শুরু করে। তার অন্তরে এ ব্যাপারে একপ্রকার ক্ষীণ বিশ্বাসও সৃষ্টি হয়। অথচ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের এটা নিষেধ করে বলেছেন-
مَنْ أَتَى كَاهِنًا أَوْ عَرَّافًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
'যে ব্যক্তি জ্যোতিষী বা গণকের কাছে গেল এবং তার কথা সত্যায়ন করল; সে মুহাম্মদের প্রতি প্রেরিত দ্বীন অস্বীকারকারী কাফির হয়ে গেল'।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এগুলো থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। কেননা, এটা সবকিছুর আগে আকিদাকে নষ্ট করে দেয়।
টিকাঃ
৪০. মুসনাদে আহমদ: ১৯/২১৪।
৪১. মুসনাদে আহমদ: ১৯/২১৪।
কখনো দেখা যায়, কিছু মানুষ রাশিবিষয়ক লেখা পত্রিকাগুলো পড়ে এবং বলে, আমি বিনোদনের জন্য এগুলো পড়ি। প্রকৃত অবস্থা জানার অধ্যায়, অমুক অধ্যায় ইত্যাদি। সে জানে, তার জন্ম অমুক মাসে। আর অমুক মাসে জন্ম হলে অমুক রাশির সাথে মিলে যায়। সে এই উদ্দেশ্যে পড়ে যে, অতিসত্বর সে ভালো কোনো সংবাদ পাবে। এটা কার্যত বাস্তব হবে।
অথবা তার মা বলে, তুমি অমুক স্থানে যাবে। অথবা তার স্ত্রী তার কাছে এ রকম আবেদন করবে অথবা এমন কোনো জিনিসের কথা বলবে, যা সাধারণত মানুষের জীবনে ঘটেই থাকে। কিন্তু জ্যোতিষী তার চিন্তা-চেতনা একটি সময়ের সাথে বেঁধে দিয়েছে। তো সেই ক্ষেত্রে সে মিথ্যাবাদী হওয়ার বদলে ৯০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে। তারপর এই অবস্থান থেকে নেমে ৮০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে। তারপর এই অবস্থান থেকে নেমে ৭০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে। এরপর সেখান থেকে নেমে শতকরা ১০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে।
তারপর রাশি নিয়ে লেখা পত্রিকাগুলো অনুসন্ধান করে সেখানে আশার আলো খোঁজার চেষ্টা করে। যখন সে একশতে একশ ভাগ ব্যর্থ হয় এবং ধারণাগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তখন অন্তরে একপ্রকার সত্যায়ন সৃষ্টি হয়। এজন্যই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
মَنْ أَتَى كَاهِنًا أَوْ عَرَّافًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
'যে ব্যক্তি জ্যোতিষী বা গণকের কাছে গেল এবং তার কথাকে সত্যায়ন করল; সে মুহাম্মদের প্রতি প্রেরিত দ্বীন অস্বীকারকারী কাফির হয়ে গেল'। [৪০]
যদি কেউ এ বিশ্বাস রাখে যে, জ্যোতিষী হলো মিথ্যাবাদী, তারপরও তাকে জিজ্ঞেস করা বৈধ নয়। কোনো কোনো পর্যটক কেবল পর্যটনের উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন শহরে সফর করে; হোক তারা আরব বা অনারব। রাস্তায় তাদের কাছে এসে কেউ বলে, 'আপনি যদি চান আপনার হাত দেখে ভাগ্য গণনা করব।' অনেকেই তখন বলে, 'ঠিক আছে, আমার হাত দেখে ভাগ্য গণনা করো।'
এরপর গণক হাত দেখে ভাগ্য গণনা শুরু করে এবং তার কাছে এমন সব সংবাদ পরিবেশন করে, যেগুলো সাধারণত সেই শহরে ঘটে থাকে অথবা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনাও উপস্থাপন করে। এরপর বলে, 'আপনি আগামী দুই বছরের মাঝে বিয়ে করবেন। আমি কি আপনার হবু স্ত্রীর গুণগুলো বলব?'
অনেকে জ্যোতিষীর নিকট গিয়ে বলে 'আমার করণীয়-বর্জনীয় বলো।' তখন গণক তাকে বলে, 'এই এই করো। কেননা, এই কাজ তোমার অমুক কাজ দ্রুত সফল হতে সহায়তা করবে।' এই মিথ্যাবাদী গণকরা কখনো কখনো মানুষের মাঝে গ্রহণযোগ্যও হয়ে যায়। ফলে সে ব্যক্তি গণকের কথামতো কাজগুলো করা শুরু করে। তার অন্তরে এ ব্যাপারে একপ্রকার ক্ষীণ বিশ্বাসও সৃষ্টি হয়। অথচ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের এটা নিষেধ করে বলেছেন-
مَنْ أَتَى كَاهِنًا أَوْ عَرَّافًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
'যে ব্যক্তি জ্যোতিষী বা গণকের কাছে গেল এবং তার কথা সত্যায়ন করল; সে মুহাম্মদের প্রতি প্রেরিত দ্বীন অস্বীকারকারী কাফির হয়ে গেল'। [৪১]
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এগুলো থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। কেননা, এটা সবকিছুর আগে আকিদাকে নষ্ট করে দেয়।
টিকাঃ
৪০. মুসনাদে আহমদ: ১৯/২১৪।
৪১. মুসনাদে আহমদ: ১৯/২১৪।
📄 আঙুল যখন পানির ফোয়ারা
ইমাম বুখারি জাবের বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আমরা হুদাইবিয়াতে নবিজির সাথে ছিলাম। অজু করার জন্য নবিজির সামনে একটি পানপাত্র এগিয়ে দেয়া হলো।
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সাহাবিগণ নবিজির সামনে গিয়ে ভীড় করল। নবিজি জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমাদের কী হয়েছে?' তাঁরা বললেন, 'পুরো এলাকায় পান করা এবং অজু করার জন্য কেবল আপনার সামনে রাখা পানিটুকুই রয়েছে।' কারণ, তখন ছিল শীতকাল। তাঁদের মক্কায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাত পাত্রে প্রবেশ করালেন। জাবের বলেন, আল্লাহর কসম, আমি দেখলাম যে, নবিজির আঙুলের মাঝ দিয়ে পানির ফোয়ারা ছুটেছে। আল্লাহর কসম, আমরা ময়দানের সমস্ত পাত্র পূর্ণ করে নিলাম, পান করলাম, অজু করলাম। বলা হলো, 'আপনারা কত জন ছিলেন?' তিনি বললেন, 'আমরা ছিলাম ১৪০০ জন।'
টিকাঃ
৪২. সহিহ বুখারি: ১৩/৫৬; মিশকাত: ৩/২৭৯১।
ইমাম বুখারি জাবের বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আমরা হুদাইবিয়াতে নবিজির সাথে ছিলাম। অজু করার জন্য নবিজির সামনে একটি পানপাত্র এগিয়ে দেয়া হলো।
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সাহাবিগণ নবিজির সামনে গিয়ে ভীড় করল। নবিজি জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমাদের কী হয়েছে?' তাঁরা বললেন, 'পুরো এলাকায় পান করা এবং অজু করার জন্য কেবল আপনার সামনে রাখা পানিটুকুই রয়েছে।' কারণ, তখন ছিল শীতকাল। তাঁদের মক্কায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাত পাত্রে প্রবেশ করালেন। জাবের বলেন, আল্লাহর কসম, আমি দেখলাম যে, নবিজির আঙুলের মাঝ দিয়ে পানির ফোয়ারা ছুটেছে। আল্লাহর কসম, আমরা ময়দানের সমস্ত পাত্র পূর্ণ করে নিলাম, পান করলাম, অজু করলাম।
বলা হলো, 'আপনারা কত জন ছিলেন?'
তিনি বললেন, 'আমরা ছিলাম ১৪০০ জন।' [৪২]
টিকাঃ
৪২. সহিহ বুখারি: ১৩/৫৬; মিশকাত: ৩/২৭৯১।
📄 রোগের শিফা
ইমাম বুখারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি সহিহ বুখারি শরিফে বর্ণনা করেছেন, ইহুদি আবু রাফে তার দুর্ভেদ্য দুর্গে অবস্থান করত। সে সর্বদা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নানাভাবে কষ্ট দিত। কখনো ঘাতক পাঠিয়ে হত্যা করার অপচেষ্টা করত, কখনো গায়িকা-নর্তকী কিনে এনে তাদের দিয়ে নবিজির কুৎসা রটনা করে, তাঁকে তুচ্ছ করে এবং গালি দিয়ে গান গাওয়ার জন্য নিযুক্ত করত। এভাবে সর্বপ্রকার কষ্টই সে নবিজির প্রতি প্রয়োগ করার অপচেষ্টা করত।
একদিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবিদের বললেন, 'আবু রাফে থেকে কে আমাকে মুক্ত করবে?' তখন আবদুল্লাহ ইবনে আতিক বললেন, 'আমি, হে আল্লাহর রাসুল।'
আবদুল্লাহ বিন আতিক বলেন, আমি তাকে হত্যা করতে গেলাম। আমরা রাতের বেলা চলতাম এবং দিনের বেলা আত্মগোপন করে থাকতাম। আমরা সবার অগোচরে দুর্গের নিকট পৌঁছে গেলাম। এই দুর্ভেদ্য দুর্গের কেবল একটি গেট ছিল, যা দিনে মাত্র দু-বার খোলা হতো। একবার সকালে, যেন কৃষক এবং রাখালেরা বের হয়ে যেতে পারে, তারপর বন্ধ করা হতো। দ্বিতীয়বার সন্ধ্যায়, যেন তারা প্রবেশ করতে পারে। প্রহরী তাদের একেকজন করে পরিচয় নিয়ে বের করত এবং প্রবেশ করাত। প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অচেনা কারও প্রবেশ করা অসম্ভব। সাহাবিগণ সেখানে গিয়ে পেরেশান হয়ে গেলেন, কীভাবে ভেতরে প্রবেশ করবেন!
আবদুল্লাহ বিন আতিক তাঁর সাথিদের বললেন, 'তোমাদের অবস্থানে বসে থাকো। আমি এগিয়ে গিয়ে দারোয়ানকে খুঁজে ভেতরে প্রবেশ করার কোনো উপায় অন্বেষণ করি।' সুতরাং আবদুল্লাহ দরজার কাছে চলে গেলেন। প্রহরী ছিল খুব চতুর ও সতর্ক। কেউ ভেতরে ঢুকলেই তাকে দেখত এবং চেনার চেষ্টা করত, কে সে!
আবদুল্লাহ ভেতরে প্রবেশ করার জন্য সুযোগের সন্ধানে থাকলেন। সূর্যাস্তের সময় লোকজন তাদের জীবজন্তু এবং প্রাণীগুলো নিয়ে ফিরে এল এবং সেগুলো দুর্গের গোয়ালে ঢুকিয়ে দিয়ে গেল। দুর্গবাসী কয়েকজন ইহুদি তাদের একটি গাধা খুঁজে পাচ্ছিল না। তাই গাধা খোঁজার জন্য আগুনের মশাল নিয়ে বের হলো। এটা ছিল সূর্য অস্ত যাওয়ার পরের ঘটনা। তারা গাধাটি খুঁজছিল।
আবদুল্লাহ দুর্গের নিকটেই ছিলেন। তিনি বলেন, ভয় লাগছিল, হয়তো প্রহরী চিনে ফেলবে। তাই এমনভাবে মাথা নিচু করলেন, যেন তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারছেন। ইহুদিরা তাদের গাধাটি খুঁজে পেয়ে দুর্গের দিকে ফিরে চলল। তারপর দারোয়ান ডাকল, 'যে ঢুকতে চাও ঢুকে পড়ো।'
এরপর প্রহরী চিৎকার করে আবদুল্লাহকে বলল, 'তুমিও ঢুকলে ঢুকে পড়ো, আমি গেট লাগিয়ে দেবো। আবদুল্লাহ ইহুদিদের দুর্গে ঢুকে পড়লেন। তারপর লুকানোর জন্য ভেতরে নিরাপদ স্থান খুঁজতে থাকলেন। গেটের কাছেই গাধার আস্তাবল পেলেন, তিনি সেখানেই লুকিয়ে থাকলেন।
যখন লোকজন আপন আপন স্থানে চলে গেল, আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু খুঁজতে শুরু করলেন, প্রহরী দুর্গের চাবিগুলো কোথায় রেখেছে। প্রহরী চাবিগুলো নির্ধারিত স্থানে লুকিয়ে রাখার কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকজন বাতিগুলো নিভিয়ে নীরব হয়ে গেল। আবদুল্লাহ চাবিগুলো হাতে নিয়ে ভেতর থেকে দুর্গের গেট খুললেন এবং সামান্য অংশ খোলা রাখলেন।
চাঁদনি রাত ছিল। দুর্গের অভ্যন্তরীণ মানুষের ঘরগুলোর দরজার কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং সবগুলো ঘরের দরজা বাহির থেকে বন্ধ করে দিলেন। এগুলো ছিল আবু রাফে ইহুদির সাথিদের ঘর।
আবদুল্লাহ বলেন, একপর্যায়ে আমি আবু রাফের ঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম। তার ঘর ছিল উঁচুতে। মই বা সিঁড়ি ছাড়া সেখানে উঠা যেত না। আমি আবু রাফের আওয়াজ শুনতে পেলাম। সে তার কিছু সাথির সাথে গল্প করছিল। আমার মনে হলো, তাদের সংখ্যা ১০-১৫ জন হবে। বিভিন্ন বিষয়ে পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করছিল। বাতিগুলো জ্বলছিল। এতগুলো মানুষের সাথে মোকাবিলা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমি এমন স্থানে বসে পড়লাম, যেখানে তারা দেখতে পায়নি এবং বাতিগুলো নেভানোর প্রতিক্ষায় থাকলাম।
আবু রাফে তার সাথিদের সাথে দীর্ঘরাত পর্যন্ত গল্প করল। একসময় তার সাথিরা আপন আপন ঘরে ফিরে গেল। আমি যখন এটা দেখলাম, সেখানে উঠলাম এবং খুব সন্তর্পণে আগের ঘরের দরজাগুলো খুলতে খুলতে আবু রাফের ঘরের দিকে এগিয়ে চললাম। যখনই আমি কোনো দরজা খুলেছি ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দিয়েছি। যেন রক্ষীরা জানতে পারলেও তাদের এখানে পৌঁছতে বিলম্ব হয়ে যায়।
আমি সিঁড়ি দিয়ে উঠে যখন আবু রাফের ঘরের দরজার কাছে এলাম এবং আলতোভাবে দরজাটা খুললাম। তখন ভেতর ছিল পুরো আঁধারে ঢাকা, বাতিগুলো ছিল নির্বাপিত। ইতিহাসবিদদের বর্ণনামতে, আবদুল্লাহ ইবনে আতিকের দৃষ্টিশক্তি ছিল দুর্বল। তাই তিনি বুঝতে পারলেন না যে, আবু রাফে কোথায়? চোখ ছিল দুর্বল আর আঁধার ছিল কঠিন! আবদুল্লাহ বিন আতিক বলেন, আমি কৌশল করে তাকে ডাক দিলাম, 'আবু রাফে!'
আবু রাফে ডাকের সাথে সর্তক হয়েই জিজ্ঞেস করল, 'কে?' আবু রাফের আওয়াজকে টার্গেট করে আমি এগিয়ে গেলাম এবং তলোয়ার দিয়ে আঘাত করলাম। আবু রাফে আহত হলো; কিন্তু তলোয়ার তাকে পূর্ণরূপে ঘায়েল করতে পারেনি। তাই সে মরেনি। আবু রাফে এই বলে চিৎকার দিলো, 'ঘরের ভেতর একটি লোক আমাকে তলোয়ার দ্বারা আঘাত করেছে।' আমি তলোয়ার হাতে আবারও এগিয়ে গেলাম এবং তলোয়ার দিয়ে দ্বিতীয়বার হামলা করলাম। কিন্তু এবারও সে নিহত হলো না। আবু রাফে আবারও খুব জোরে চিৎকার করল। আমি খুব দ্রুত দরজার দিকে এগিয়ে গেলাম।
বাড়ির ভেতর নড়াচড়া শুরু হয়ে গেছে। রক্ষীরাও জাগ্রত হয়েছে। আবু রাফে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমি আবারও তার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং আওয়াজ পরিবর্তন করে মৃদু স্বরে তাকে বললাম, 'কী হয়েছে আবু রাফে, আমরা কি প্রহরীকে ডাকব?' আবু রাফে বলল, 'হ্যাঁ।'
আবু রাফের আওয়াজ লক্ষ করে আমি আবারও এগিয়ে গেলাম এবং তলোয়ার এবার তার বুকের ওপর রেখে চাপ দিলাম। যার কারণে তলোয়ার তার পিঠ ভেদ করে বের হয়ে গেল। আবদুল্লাহ বলেন, আমি তার পিঠের হাড়ের শব্দ শুনতে পেলাম, যাতে বুঝতে পারলাম যে, সে মারা গেছে।
এবার আঁধারের মাঝেই আমি দরজার দিকে মনোনিবেশ করলাম। রক্ষীরাও সতর্ক হয়ে গেছে, লোকজন চলাফেরা শুরু করেছে। আবদুল্লাহ দরজা পেয়েই দ্রুত একটার পর একটা দরজা খুলে সিঁড়ির কাছে চলে এলেন এবং খুব দ্রুত নামতে আরম্ভ করলেন। একসময় ধারণা করলেন, সিঁডি শেষ হয়ে গেছে, তাই লাফ দিলেন, কিন্তু পড়ে গেলেন মাটিতে। ফলে তাঁর পায়ের নলা ভেঙে গেল। পাগড়ি খুলে পায়ের নলা বাঁধলেন এবং এক পায়ে ভর করে দুর্গের দরজার দিকে চলতে লাগলেন। তিনি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দুর্গ থেকে বের হয়ে সাথিদের পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। তাঁরা অস্থির হয়ে আবদুল্লাহর অপেক্ষা করছিলেন।
তাঁদের বললেন, 'তোমরা গিয়ে নবিজিকে সুসংবাদ দাও; আমি আবু রাফের মৃত্যুর ঘোষণা হওয়ার আগ পর্যন্ত এখান থেকে যাব না।' জাহালাতের যুগে নিয়ম ছিল, তাদের বংশের সম্ভ্রান্ত কোনো লোক যখন মারা যেত, সকালবেলা কোনো উঁচু ঘরের ছাদে উঠে একজন ঘোষক ঘোষণা করত, 'অমুক মারা গেছে।' সেই সাথে মৃতের শানে কিছু কবিতাও আবৃত্তি করা হতো। আবদুল্লাহ মূলত এমন ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, 'আবু রাফে সত্যিই নিহত হয়েছে।'
আবদুল্লাহর সাথিরা চলে গেলেন এবং আবদুল্লাহর জন্য একটি বাহন রেখে গেলেন। সকাল হলে ঠিকই একজন ঘোষক উঁচু ঘরের ছাদে উঠল। আবদুল্লাহ দুর্গের বাইরে থেকে ঘোষকের সেখানে উঠা দেখছিলেন। ঘোষক ঘোষণা করল, 'হে লোকসকল, আমি তোমাদের হিজাজের ব্যবসায়ী আবু রাফের মৃত্যুর সংবাদ দিচ্ছি।' আবদুল্লাহ ঘোষণা শোনে খুশি হলেন এবং তাঁর সাথিদের পিছু পিছু রওয়ানা করলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পৌঁছার পূর্বেই তিনি সাথিদের পেয়ে গেলেন। যখন তাঁরা নবিজির দরবারে পৌঁছলেন, আবদুল্লাহ চিৎকার করে বলে উঠলেন, 'মুক্তি! মুক্তি! আল্লাহ তাআলা আবু রাফেকে হত্যা করেছেন।'
আবদুল্লাহর পায়ের নলা ভাঙা ছিল। তাই তিনি খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর পা ভাঙা দেখলেন, বললেন, 'তোমার পা এগিয়ে দাও।' আবদুল্লাহ পা এগিয়ে দিলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পায়ে হাতের ছোঁয়া দিলেন। তিনি ভাঙা রোগের পূর্ণ শিফা পেয়ে গেলেন। লোকজন তাকিয়ে এই দৃশ্য দেখছিল। নবিজির হাত তখনো আবদুল্লাহর পা থেকে পৃথক হয়নি, তিনি এমনভাবে দাঁড়ালেন, যেন কখনো কোনো সমস্যাই হয়নি। এটা ছিল নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের একটি প্রমাণ।
ইমাম বুখারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি সহিহ বুখারি শরিফে বর্ণনা করেছেন, ইহুদি আবু রাফে তার দুর্ভেদ্য দুর্গে অবস্থান করত। সে সর্বদা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নানাভাবে কষ্ট দিত। কখনো ঘাতক পাঠিয়ে হত্যা করার অপচেষ্টা করত, কখনো গায়িকা-নর্তকী কিনে এনে তাদের দিয়ে নবিজির কুৎসা রটনা করে, তাঁকে তুচ্ছ করে এবং গালি দিয়ে গান গাওয়ার জন্য নিযুক্ত করত। এভাবে সর্বপ্রকার কষ্টই সে নবিজির প্রতি প্রয়োগ করার অপচেষ্টা করত।
একদিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবিদের বললেন, 'আবু রাফে থেকে কে আমাকে মুক্ত করবে?'
তখন আবদুল্লাহ ইবনে আতিক বললেন, 'আমি, হে আল্লাহর রাসুল।'
আবদুল্লাহ বিন আতিক বলেন, আমি তাকে হত্যা করতে গেলাম। আমরা রাতের বেলা চলতাম এবং দিনের বেলা আত্মগোপন করে থাকতাম। আমরা সবার অগোচরে দুর্গের নিকট পৌঁছে গেলাম। এই দুর্ভেদ্য দুর্গের কেবল একটি গেট ছিল, যা দিনে মাত্র দু-বার খোলা হতো। একবার সকালে, যেন কৃষক এবং রাখালেরা বের হয়ে যেতে পারে, তারপর বন্ধ করা হতো। দ্বিতীয়বার সন্ধ্যায়, যেন তারা প্রবেশ করতে পারে। প্রহরী তাদের একেকজন করে পরিচয় নিয়ে বের করত এবং প্রবেশ করাত। প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অচেনা কারও প্রবেশ করা অসম্ভব। সাহাবিগণ সেখানে গিয়ে পেরেশান হয়ে গেলেন, কীভাবে ভেতরে প্রবেশ করবেন!
আবদুল্লাহ বিন আতিক তাঁর সাথিদের বললেন, 'তোমাদের অবস্থানে বসে থাকো। আমি এগিয়ে গিয়ে দারোয়ানকে খুঁজে ভেতরে প্রবেশ করার কোনো উপায় অন্বেষণ করি।'
সুতরাং আবদুল্লাহ দরজার কাছে চলে গেলেন। প্রহরী ছিল খুব চতুর ও সতর্ক। কেউ ভেতরে ঢুকলেই তাকে দেখত এবং চেনার চেষ্টা করত, কে সে!
আবদুল্লাহ ভেতরে প্রবেশ করার জন্য সুযোগের সন্ধানে থাকলেন। সূর্যাস্তের সময় লোকজন তাদের জীবজন্তু এবং প্রাণীগুলো নিয়ে ফিরে এল এবং সেগুলো দুর্গের গোয়ালে ঢুকিয়ে দিয়ে গেল। দুর্গবাসী কয়েকজন ইহুদি তাদের একটি গাধা খুঁজে পাচ্ছিল না। তাই গাধা খোঁজার জন্য আগুনের মশাল নিয়ে বের হলো। এটা ছিল সূর্য অস্ত যাওয়ার পরের ঘটনা। তারা গাধাটি খুঁজছিল।
আবদুল্লাহ দুর্গের নিকটেই ছিলেন। তিনি বলেন, ভয় লাগছিল, হয়তো প্রহরী চিনে ফেলবে। তাই এমনভাবে মাথা নিচু করলেন, যেন তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারছেন। ইহুদিরা তাদের গাধাটি খুঁজে পেয়ে দুর্গের দিকে ফিরে চলল। তারপর দারোয়ান ডাকল, 'যে ঢুকতে চাও ঢুকে পড়ো।'
এরপর প্রহরী চিৎকার করে আবদুল্লাহকে বলল, 'তুমিও ঢুকলে ঢুকে পড়ো, আমি গেট লাগিয়ে দেবো। আবদুল্লাহ ইহুদিদের দুর্গে ঢুকে পড়লেন। তারপর লুকানোর জন্য ভেতরে নিরাপদ স্থান খুঁজতে থাকলেন। গেটের কাছেই গাধার আস্তাবল পেলেন, তিনি সেখানেই লুকিয়ে থাকলেন।
যখন লোকজন আপন আপন স্থানে চলে গেল, আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু খুঁজতে শুরু করলেন, প্রহরী দুর্গের চাবিগুলো কোথায় রেখেছে। প্রহরী চাবিগুলো নির্ধারিত স্থানে লুকিয়ে রাখার কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকজন বাতিগুলো নিভিয়ে নীরব হয়ে গেল। আবদুল্লাহ চাবিগুলো হাতে নিয়ে ভেতর থেকে দুর্গের গেট খুললেন এবং সামান্য অংশ খোলা রাখলেন। চাঁদনি রাত ছিল। দুর্গের অভ্যন্তরীণ মানুষের ঘরগুলোর দরজার কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং সবগুলো ঘরের দরজা বাহির থেকে বন্ধ করে দিলেন। এগুলো ছিল আবু রাফে ইহুদির সাথিদের ঘর।
আবদুল্লাহ বলেন, একপর্যায়ে আমি আবু রাফের ঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম। তার ঘর ছিল উঁচুতে। মই বা সিঁড়ি ছাড়া সেখানে উঠা যেত না। আমি আবু রাফের আওয়াজ শুনতে পেলাম। সে তার কিছু সাথির সাথে গল্প করছিল। আমার মনে হলো, তাদের সংখ্যা ১০-১৫ জন হবে। বিভিন্ন বিষয়ে পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করছিল। বাতিগুলো জ্বলছিল। এতগুলো মানুষের সাথে মোকাবিলা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমি এমন স্থানে বসে পড়লাম, যেখানে তারা দেখতে পায়নি এবং বাতিগুলো নেভানোর প্রতিক্ষায় থাকলাম।
আবু রাফে তার সাথিদের সাথে দীর্ঘরাত পর্যন্ত গল্প করল। একসময় তার সাথিরা আপন আপন ঘরে ফিরে গেল। আমি যখন এটা দেখলাম, সেখানে উঠলাম এবং খুব সন্তর্পণে আগের ঘরের দরজাগুলো খুলতে খুলতে আবু রাফের ঘরের দিকে এগিয়ে চললাম। যখনই আমি কোনো দরজা খুলেছি ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দিয়েছি। যেন রক্ষীরা জানতে পারলেও তাদের এখানে পৌঁছতে বিলম্ব হয়ে যায়।
আমি সিঁড়ি দিয়ে উঠে যখন আবু রাফের ঘরের দরজার কাছে এলাম এবং আলতোভাবে দরজাটা খুললাম। তখন ভেতর ছিল পুরো আঁধারে ঢাকা, বাতিগুলো ছিল নির্বাপিত। ইতিহাসবিদদের বর্ণনামতে, আবদুল্লাহ ইবনে আতিকের দৃষ্টিশক্তি ছিল দুর্বল। তাই তিনি বুঝতে পারলেন না যে, আবু রাফে কোথায়? চোখ ছিল দুর্বল আর আঁধার ছিল কঠিন! আবদুল্লাহ বিন আতিক বলেন, আমি কৌশল করে তাকে ডাক দিলাম, 'আবু রাফে!'
আবু রাফে ডাকের সাথে সর্তক হয়েই জিজ্ঞেস করল, 'কে?'
আবু রাফের আওয়াজকে টার্গেট করে আমি এগিয়ে গেলাম এবং তলোয়ার দিয়ে আঘাত করলাম। আবু রাফে আহত হলো; কিন্তু তলোয়ার তাকে পূর্ণরূপে ঘায়েল করতে পারেনি। তাই সে মরেনি। আবু রাফে এই বলে চিৎকার দিলো, 'ঘরের ভেতর একটি লোক আমাকে তলোয়ার দ্বারা আঘাত করেছে।' আমি তলোয়ার হাতে আবারও এগিয়ে গেলাম এবং তলোয়ার দিয়ে দ্বিতীয়বার হামলা করলাম। কিন্তু এবারও সে নিহত হলো না। আবু রাফে আবারও খুব জোরে চিৎকার করল। আমি খুব দ্রুত দরজার দিকে এগিয়ে গেলাম।
বাড়ির ভেতর নড়াচড়া শুরু হয়ে গেছে। রক্ষীরাও জাগ্রত হয়েছে। আবু রাফে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমি আবারও তার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং আওয়াজ পরিবর্তন করে মৃদু স্বরে তাকে বললাম, 'কী হয়েছে আবু রাফে, আমরা কি প্রহরীকে ডাকব?'
আবু রাফে বলল, 'হ্যাঁ।'
আবু রাফের আওয়াজ লক্ষ করে আমি আবারও এগিয়ে গেলাম এবং তলোয়ার এবার তার বুকের ওপর রেখে চাপ দিলাম। যার কারণে তলোয়ার তার পিঠ ভেদ করে বের হয়ে গেল। আবদুল্লাহ বলেন, আমি তার পিঠের হাড়ের শব্দ শুনতে পেলাম, যাতে বুঝতে পারলাম যে, সে মারা গেছে।
এবার আঁধারের মাঝেই আমি দরজার দিকে মনোনিবেশ করলাম। রক্ষীরাও সতর্ক হয়ে গেছে, লোকজন চলাফেরা শুরু করেছে। আবদুল্লাহ দরজা পেয়েই দ্রুত একটার পর একটা দরজা খুলে সিঁড়ির কাছে চলে এলেন এবং খুব দ্রুত নামতে আরম্ভ করলেন। একসময় ধারণা করলেন, সিঁডি শেষ হয়ে গেছে, তাই লাফ দিলেন, কিন্তু পড়ে গেলেন মাটিতে। ফলে তাঁর পায়ের নলা ভেঙে গেল। পাগড়ি খুলে পায়ের নলা বাঁধলেন এবং এক পায়ে ভর করে দুর্গের দরজার দিকে চলতে লাগলেন। তিনি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দুর্গ থেকে বের হয়ে সাথিদের পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। তাঁরা অস্থির হয়ে আবদুল্লাহর অপেক্ষা করছিলেন।
তাঁদের বললেন, 'তোমরা গিয়ে নবিজিকে সুসংবাদ দাও; আমি আবু রাফের মৃত্যুর ঘোষণা হওয়ার আগ পর্যন্ত এখান থেকে যাব না।' জাহালাতের যুগে নিয়ম ছিল, তাদের বংশের সম্ভ্রান্ত কোনো লোক যখন মারা যেত, সকালবেলা কোনো উঁচু ঘরের ছাদে উঠে একজন ঘোষক ঘোষণা করত, 'অমুক মারা গেছে।' সেই সাথে মৃতের শানে কিছু কবিতাও আবৃত্তি করা হতো। আবদুল্লাহ মূলত এমন ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, 'আবু রাফে সত্যিই নিহত হয়েছে।'
আবদুল্লাহর সাথিরা চলে গেলেন এবং আবদুল্লাহর জন্য একটি বাহন রেখে গেলেন। সকাল হলে ঠিকই একজন ঘোষক উঁচু ঘরের ছাদে উঠল। আবদুল্লাহ দুর্গের বাইরে থেকে ঘোষকের সেখানে উঠা দেখছিলেন। ঘোষক ঘোষণা করল, 'হে লোকসকল, আমি তোমাদের হিজাজের ব্যবসায়ী আবু রাফের মৃত্যুর সংবাদ দিচ্ছি।' আবদুল্লাহ ঘোষণা শোনে খুশি হলেন এবং তাঁর সাথিদের পিছু পিছু রওয়ানা করলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পৌঁছার পূর্বেই তিনি সাথিদের পেয়ে গেলেন। যখন তাঁরা নবিজির দরবারে পৌঁছলেন, আবদুল্লাহ চিৎকার করে বলে উঠলেন, 'মুক্তি! মুক্তি! আল্লাহ তাআলা আবু রাফেকে হত্যা করেছেন।'
আবদুল্লাহর পায়ের নলা ভাঙা ছিল। তাই তিনি খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর পা ভাঙা দেখলেন, বললেন, 'তোমার পা এগিয়ে দাও।' আবদুল্লাহ পা এগিয়ে দিলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পায়ে হাতের ছোঁয়া দিলেন। তিনি ভাঙা রোগের পূর্ণ শিফা পেয়ে গেলেন। লোকজন তাকিয়ে এই দৃশ্য দেখছিল। নবিজির হাত তখনো আবদুল্লাহর পা থেকে পৃথক হয়নি, তিনি এমনভাবে দাঁড়ালেন, যেন কখনো কোনো সমস্যাই হয়নি। এটি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের একটি প্রমাণ। [৪৩]
টিকাঃ
৪৩. সহিহ বুখারি: ৫/৩৭৩।