📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 সুরাকা বিন মালেকের ঘটনা

📄 সুরাকা বিন মালেকের ঘটনা


কুরাইশরা ঘোষণা করল, যে ব্যক্তি মুহাম্মদ বা তার সাথি আবু বকরকে পাকড়াও করে আনতে পারবে, তাকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হবে। মানুষের মন পুরস্কার পাওয়ার লোভে উতলা হয়ে উঠল। যারা পুরস্কারের লোভে নবিজির পিছুধাওয়া করেছে, সুরাকা বিন মালেকও তাদের একজন। সুরাকা বিন মালেক নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আবু বকরের নাগাল পেতে সফল হয়। ধীরে ধীরে তাঁদের নিকটবর্তী হতে থাকে। সে ছিল ঘোড় সওয়ারি। আবু বকর নবিজিকে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের কাছকাছি চলে এসেছে।' নবিজি বললেন, 'চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন।' এরপর নবিজি সুরাকার বিরুদ্ধে বদদুআ করলেন। ফলে সুরাকার ঘোড়ার পা দুটি মাটিতে দেবে গেল। এমনকি ঘোড়া পেট পর্যন্ত জমিনে ঢুকে পড়ল। সুরাকা মুক্তি পাওয়ার জন্য খুব চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না।

সুরাকা চিৎকার করে নবিজিকে ডেকে বলল, 'আমি নিশ্চিত, তোমরা দুজন আমার বিরুদ্ধে বদদুআ করেছ। এবার আমার মুক্তির জন্য দুআ করো। অন্য কেউ তোমাদের খোঁজে এলে আমি তাদের ফিরিয়ে দেব।' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মুক্তির জন্য দুআ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেল। সুরাকা মক্কার দিকে ফিরে গেল। কুরাইশ গোত্রের যাকেই নবিজির খোঁজে যেতে দেখত তাকেই বলত, 'এ দিকে অনেক হয়েছে, অন্যদিকে যাও।' আল্লাহ তাআলা তাঁর নবিকে মুক্তি দিলেন এবং তাঁর ওয়াদা সত্য প্রমাণিত করলেন- وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ 'আল্লাহ তাআলা তোমাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন।' [সুরা মায়েদা : ৩৭]

টিকাঃ
৩৯. সহিহ বুখারি: ১১/৪৪৭১।

কুরাইশরা ঘোষণা করল, যে ব্যক্তি মুহাম্মদ বা তার সাথি আবু বকরকে পাকড়াও করে আনতে পারবে, তাকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হবে। মানুষের মন পুরস্কার পাওয়ার লোভে উতলা হয়ে উঠল। যারা পুরস্কারের লোভে নবিজির পিছুধাওয়া করেছে, সুরাকা বিন মালেকও তাদের একজন। সুরাকা বিন মালেক নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আবু বকরের নাগাল পেতে সফল হয়। ধীরে ধীরে তাঁদের নিকটবর্তী হতে থাকে। সে ছিল ঘোড় সওয়ারি। আবু বকর নবিজিকে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের কাছকাছি চলে এসেছে।' নবিজি বললেন, 'চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন।' এরপর নবিজি সুরাকার বিরুদ্ধে বদদুআ করলেন। ফলে সুরাকার ঘোড়ার পা দুটি মাটিতে দেবে গেল। এমনকি ঘোড়া পেট পর্যন্ত জমিনে ঢুকে পড়ল। সুরাকা মুক্তি পাওয়ার জন্য খুব চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না।

সুরাকা চিৎকার করে নবিজিকে ডেকে বলল, 'আমি নিশ্চিত, তোমরা দুজন আমার বিরুদ্ধে বদদুআ করেছ। এবার আমার মুক্তির জন্য দুআ করো। অন্য কেউ তোমাদের খোঁজে এলে আমি তাদের ফিরিয়ে দেব।' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মুক্তির জন্য দুআ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেল। সুরাকা মক্কার দিকে ফিরে গেল। কুরাইশ গোত্রের যাকেই নবিজির খোঁজে যেতে দেখত তাকেই বলত, 'এ দিকে অনেক হয়েছে, অন্যদিকে যাও।' আল্লাহ তাআলা তাঁর নবিকে মুক্তি দিলেন এবং তাঁর ওয়াদা সত্য প্রমাণিত করলেন- وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ 'আল্লাহ তাআলা তোমাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন।' [সুরা মায়েদা : ৩৭]

টিকাঃ
৩৯. সহিহ বুখারি: ১১/৪৪৭১।

কুরাইশরা ঘোষণা করল, যে ব্যক্তি মুহাম্মদ বা তার সাথি আবু বকরকে পাকড়াও করে আনতে পারবে, তাকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হবে। মানুষের মন পুরস্কার পাওয়ার লোভে উতলা হয়ে উঠল। যারা পুরস্কারের লোভে নবিজির পিছুধাওয়া করেছে, সুরাকা বিন মালেকও তাদের একজন।

সুরাকা বিন মালেক নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আবু বকরের নাগাল পেতে সফল হয়। ধীরে ধীরে তাঁদের নিকটবর্তী হতে থাকে। সে ছিল ঘোড় সওয়ারি। আবু বকর নবিজিকে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের কাছকাছি চলে এসেছে।' নবিজি বললেন, 'চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন।' এরপর নবিজি সুরাকার বিরুদ্ধে বদদুআ করলেন। ফলে সুরাকার ঘোড়ার পা দুটি মাটিতে দেবে গেল। এমনকি ঘোড়া পেট পর্যন্ত জমিনে ঢুকে পড়ল। সুরাকা মুক্তি পাওয়ার জন্য খুব চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না।

সুরাকা চিৎকার করে নবিজিকে ডেকে বলল, 'আমি নিশ্চিত, তোমরা দুজন আমার বিরুদ্ধে বদদুআ করেছ। এবার আমার মুক্তির জন্য দুআ করো। অন্য কেউ তোমাদের খোঁজে এলে আমি তাদের ফিরিয়ে দেব।' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মুক্তির জন্য দুআ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেল। সুরাকা মক্কার দিকে ফিরে গেল। কুরাইশ গোত্রের যাকেই নবিজির খোঁজে যেতে দেখত তাকেই বলত, 'এ দিকে অনেক হয়েছে, অন্যদিকে যাও।

আল্লাহ তাআলা তাঁর নবিকে মুক্তি দিলেন এবং তাঁর ওয়াদা সত্য প্রমাণিত করলেন- وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ 'আল্লাহ তাআলা তোমাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন।' [সুরা মায়েদা : ৩৭]

টিকাঃ
৩৯. সহিহ বুখারি: ১১/৪৪৭১।

📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 তোমাকে কে বাঁচাবে?

📄 তোমাকে কে বাঁচাবে?


নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে নিয়ে একযুদ্ধে গেলেন। যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে তাঁরা একটি উপত্যকায় যাত্রাবিরতি করলেন। সাহাবিগণ আলাদা আলাদা হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গাছের ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়লেন। নবিজিও একটি গাছের ছায়ায় গিয়ে শয়ন করলেন এবং তাঁর তলোয়ারটি গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখলেন। নবিজি ঘুমিয়ে আছেন; ইতোমধ্যেই একমুশরিক তাঁদের অনুসরণ করতে করতে এখানে পৌঁছে গেল। সে নবিজির কাছে চলে এল এবং শিয়রের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। নবিজি তখনো ঘুমিয়ে আছেন। সে গাছে ঝুলানো নবিজির তলোয়ারটি হাতে নিল এবং খাপ থেকে বের করে নবিজির মাথার ওপর উঁচু করে বিজয়ী হওয়ার নেশায় চিৎকার করে বলে উঠল— مَنْ يَمْنَعُكَ مِنِّي؟ 'আমার থেকে কে তোমাকে বাঁচাবে?'

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চোখ খুললেন। হঠাৎ দেখতে পেলেন একলোক তলোয়ার নিয়ে তাঁর শিয়রে দাঁড়িয়ে আছে আর সাহাবিগণ বিভিন্ন স্থানে বিশ্রাম করছেন। লোকটি নিশ্চিত ছিল, তার হাত থেকে নবিজি মুক্তি পাবেন না, মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ তার সামনে খোলা নেই। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মুখ থেকে কেবল তিনটি কথাই শুনেছেন— 'কে, তোমাকে বাঁচাবে, আমার থেকে?' নবিজি একেবারে প্রশান্তভাবে পূর্ণ আস্থা নিয়ে বললেন, 'আল্লাহ, আল্লাহ, আল্লাহ!' নবিজির এমন কথা শোনামাত্র লোকটি কেঁপে উঠল এবং তার হাত থেকে তলোয়ার পড়ে গেল।

এবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে তলোয়ার হাতে নিয়ে বললেন, 'তোমাকে আমার থেকে কে বাঁচাবে?' লোকটি হতভম্ব হয়ে গেল। কী বলবে বুঝতে পারছিল না। লাত, উজ্জা! লাত ও উজ্জা কীভাবে বাঁচাবে? তাই লোকটি একেবারে নিরুপায় হয়ে বলল, 'কেউ নেই। আপনিই ভালো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।' নবিজি বললেন, 'ইসলাম গ্রহণ করবে?' সে বলল, 'না; কিন্তু প্রতিজ্ঞা করছি, কখনো আপনার সাথে যুদ্ধ করব না এবং সেই কওমের সাথেও থাকব না, যারা আপনার সাথে যুদ্ধ করে।' লোকটি ছিল তার কওমের সর্দার। নবিজি তাকে ক্ষমা করে দিলেন। সে তার কওমের কাছে চলে গেল, তবে অল্প কিছুদিন পরই সে ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হলো।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে নিয়ে একযুদ্ধে গেলেন। যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে তাঁরা একটি উপত্যকায় যাত্রাবিরতি করলেন। সাহাবিগণ আলাদা আলাদা হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গাছের ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়লেন। নবিজিও একটি গাছের ছায়ায় গিয়ে শয়ন করলেন এবং তাঁর তলোয়ারটি গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখলেন। নবিজি ঘুমিয়ে আছেন; ইতোমধ্যেই একমুশরিক তাঁদের অনুসরণ করতে করতে এখানে পৌঁছে গেল। সে নবিজির কাছে চলে এল এবং শিয়রের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। নবিজি তখনো ঘুমিয়ে আছেন। সে গাছে ঝুলানো নবিজির তলোয়ারটি হাতে নিল এবং খাপ থেকে বের করে নবিজির মাথার ওপর উঁচু করে বিজয়ী হওয়ার নেশায় চিৎকার করে বলে উঠল— مَنْ يَمْنَعُكَ مِنِّي؟ 'আমার থেকে কে তোমাকে বাঁচাবে?'

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চোখ খুললেন। হঠাৎ দেখতে পেলেন একলোক তলোয়ার নিয়ে তাঁর শিয়রে দাঁড়িয়ে আছে আর সাহাবিগণ বিভিন্ন স্থানে বিশ্রাম করছেন। লোকটি নিশ্চিত ছিল, তার হাত থেকে নবিজি মুক্তি পাবেন না, মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ তার সামনে খোলা নেই। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মুখ থেকে কেবল তিনটি কথাই শুনেছেন— 'কে, তোমাকে বাঁচাবে, আমার থেকে?' নবিজি একেবারে প্রশান্তভাবে পূর্ণ আস্থা নিয়ে বললেন, 'আল্লাহ, আল্লাহ, আল্লাহ!' নবিজির এমন কথা শোনামাত্র লোকটি কেঁপে উঠল এবং তার হাত থেকে তলোয়ার পড়ে গেল।

এবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে তলোয়ার হাতে নিয়ে বললেন, 'তোমাকে আমার থেকে কে বাঁচাবে?' লোকটি হতভম্ব হয়ে গেল। কী বলবে বুঝতে পারছিল না। লাত, উজ্জা! লাত ও উজ্জা কীভাবে বাঁচাবে? তাই লোকটি একেবারে নিরুপায় হয়ে বলল, 'কেউ নেই। আপনিই ভালো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।' নবিজি বললেন, 'ইসলাম গ্রহণ করবে?' সে বলল, 'না; কিন্তু প্রতিজ্ঞা করছি, কখনো আপনার সাথে যুদ্ধ করব না এবং সেই কওমের সাথেও থাকব না, যারা আপনার সাথে যুদ্ধ করে।' লোকটি ছিল তার কওমের সর্দার। নবিজি তাকে ক্ষমা করে দিলেন। সে তার কওমের কাছে চলে গেল, তবে অল্প কিছুদিন পরই সে ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হলো।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে নিয়ে একযুদ্ধে গেলেন। যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে তাঁরা একটি উপত্যকায় যাত্রাবিরতি করলেন। সাহাবিগণ আলাদা আলাদা হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গাছের ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়লেন। নবিজিও একটি গাছের ছায়ায় গিয়ে শয়ন করলেন এবং তাঁর তলোয়ারটি গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখলেন। নবিজি ঘুমিয়ে আছেন; ইতোমধ্যেই একমুশরিক তাঁদের অনুসরণ করতে করতে এখানে পৌঁছে গেল।

সে নবিজির কাছে চলে এল এবং শিয়রের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। নবিজি তখনো ঘুমিয়ে আছেন। সে গাছে ঝুলানো নবিজির তলোয়ারটি হাতে নিল এবং খাপ থেকে বের করে নবিজির মাথার ওপর উঁচু করে বিজয়ী হওয়ার নেশায় চিৎকার করে বলে উঠল—
مَنْ يَمْنَعُكَ مِنِّي؟
'আমার থেকে কে তোমাকে বাঁচাবে?'

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চোখ খুললেন। হঠাৎ দেখতে পেলেন একলোক তলোয়ার নিয়ে তাঁর শিয়রে দাঁড়িয়ে আছে আর সাহাবিগণ বিভিন্ন স্থানে বিশ্রাম করছেন। লোকটি নিশ্চিত ছিল, তার হাত থেকে নবিজি মুক্তি পাবেন না, মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ তার সামনে খোলা নেই। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মুখ থেকে কেবল তিনটি কথাই শুনেছেন— 'কে, তোমাকে বাঁচাবে, আমার থেকে?'

নবিজি একেবারে প্রশান্তভাবে পূর্ণ আস্থা নিয়ে বললেন, 'আল্লাহ, আল্লাহ, আল্লাহ!' নবিজির এমন কথা শোনামাত্র লোকটি কেঁপে উঠল এবং তার হাত থেকে তলোয়ার পড়ে গেল।

এবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে তলোয়ার হাতে নিয়ে বললেন, 'তোমাকে আমার থেকে কে বাঁচাবে?' লোকটি হতভম্ব হয়ে গেল। কী বলবে বুঝতে পারছিল না। লাত, উজ্জা! লাত ও উজ্জা কীভাবে বাঁচাবে? তাই লোকটি একেবারে নিরুপায় হয়ে বলল, 'কেউ নেই। আপনিই ভালো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।' নবিজি বললেন, 'ইসলাম গ্রহণ করবে?'
সে বলল, 'না; কিন্তু প্রতিজ্ঞা করছি, কখনো আপনার সাথে যুদ্ধ করব না এবং সেই কওমের সাথেও থাকব না, যারা আপনার সাথে যুদ্ধ করে।' লোকটি ছিল তার কওমের সর্দার। নবিজি তাকে ক্ষমা করে দিলেন। সে তার কওমের কাছে চলে গেল, তবে অল্প কিছুদিন পরই সে ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হলো।

📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 মেয়েটির কোনো সন্তান নেই

📄 মেয়েটির কোনো সন্তান নেই


যেসব গণক, জ্যোতিষী এবং ভাগ্যবর্ণনাকারী দাবি করে, তারা অদৃশ্যের সংবাদ জানে; একবার একখলিফার দরবারে তাদের একজন গেল। সেখানে প্রবেশ করেই দেখল, খলিফার কোলে একটি শিশু। জ্যোতিষী কোনোভাবে খলিফার দৃষ্টি আকর্ষণ করার ইচ্ছা করল। সে সামনে এগিয়ে গিলে বলল, 'হে খলিফা' খলিফা : হ্যাঁ। জ্যোতিষী : আমি কি এই শিশুর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলব? খলিফা : হ্যাঁ, বলো। জ্যোতিষী তারকার দিকে তাকিয়ে আঙুল গণনা করতে শুরু করল এবং বিস্ময়কর সব কথাবার্তা বলতে লাগল। পরে বলল, 'হায়, শিশুটি খুব দ্রুত বড় হবে, একজন বিচক্ষণ অশ্বারোহী হবে এবং একই সাথে দুই তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধকারী হবে। এমনকি সে যুদ্ধ করার সময় লাগাম ধরে বসে থাকার প্রয়োজন বোধ করবে না। সে অতিসত্বর অমুক দেশের অমুক রাজার মেয়েকে বিয়ে করবে এবং সেখানকারও রাজা হবে।' জ্যোতিষী আরও বলল, 'শিশুটি এই এই রিজিক পাবে, এতগুলো ছেলেমেয়ে পাবে, তার জীবদ্দশাতেই রাষ্ট্র অনেক বড় হবে।' এভাবে সে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকল। মোটকথা, শিশুকে সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বানিয়ে দিলো। পরিশেষে বখশিশের অপেক্ষায় থাকল।

খলিফা : হে মিথ্যুক, এটা কন্যাসন্তান, পুত্রসন্তান নয়! মূলত এসব জ্যোতিষরা অনুমান করে ঢিল মারে এবং অধিকাংশ সময় মানুষের বুদ্ধি নিয়ে খেলা করে।

যেসব গণক, জ্যোতিষী এবং ভাগ্যবর্ণনাকারী দাবি করে, তারা অদৃশ্যের সংবাদ জানে; একবার একখলিফার দরবারে তাদের একজন গেল। সেখানে প্রবেশ করেই দেখল, খলিফার কোলে একটি শিশু। জ্যোতিষী কোনোভাবে খলিফার দৃষ্টি আকর্ষণ করার ইচ্ছা করল। সে সামনে এগিয়ে গিলে বলল, 'হে খলিফা' খলিফা : হ্যাঁ। জ্যোতিষী : আমি কি এই শিশুর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলব? খলিফা : হ্যাঁ, বলো। জ্যোতিষী তারকার দিকে তাকিয়ে আঙুল গণনা করতে শুরু করল এবং বিস্ময়কর সব কথাবার্তা বলতে লাগল। পরে বলল, 'হায়, শিশুটি খুব দ্রুত বড় হবে, একজন বিচক্ষণ অশ্বারোহী হবে এবং একই সাথে দুই তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধকারী হবে। এমনকি সে যুদ্ধ করার সময় লাগাম ধরে বসে থাকার প্রয়োজন বোধ করবে না। সে অতিসত্বর অমুক দেশের অমুক রাজার মেয়েকে বিয়ে করবে এবং সেখানকারও রাজা হবে।' জ্যোতিষী আরও বলল, 'শিশুটি এই এই রিজিক পাবে, এতগুলো ছেলেমেয়ে পাবে, তার জীবদ্দশাতেই রাষ্ট্র অনেক বড় হবে।' এভাবে সে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকল। মোটকথা, শিশুকে সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বানিয়ে দিলো। পরিশেষে বখশিশের অপেক্ষায় থাকল।

খলিফা : হে মিথ্যুক, এটা কন্যাসন্তান, পুত্রসন্তান নয়! মূলত এসব জ্যোতিষরা অনুমান করে ঢিল মারে এবং অধিকাংশ সময় মানুষের বুদ্ধি নিয়ে খেলা করে।

যেসব গণক, জ্যোতিষী এবং ভাগ্যবর্ণনাকারী দাবি করে, তারা অদৃশ্যের সংবাদ জানে; একবার একখলিফার দরবারে তাদের একজন গেল। সেখানে প্রবেশ করেই দেখল, খলিফার কোলে একটি শিশু। জ্যোতিষী কোনোভাবে খলিফার দৃষ্টি আকর্ষণ করার ইচ্ছা করল। সে সামনে এগিয়ে গিলে বলল, 'হে খলিফা'

খলিফা : হ্যাঁ।

জ্যোতিষী : আমি কি এই শিশুর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলব?

খলিফা : হ্যাঁ, বলো।

জ্যোতিষী তারকার দিকে তাকিয়ে আঙুল গণনা করতে শুরু করল এবং বিস্ময়কর সব কথাবার্তা বলতে লাগল। পরে বলল, 'হায়, শিশুটি খুব দ্রুত বড় হবে, একজন বিচক্ষণ অশ্বারোহী হবে এবং একই সাথে দুই তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধকারী হবে। এমনকি সে যুদ্ধ করার সময় লাগাম ধরে বসে থাকার প্রয়োজন বোধ করবে না। সে অতিসত্বর অমুক দেশের অমুক রাজার মেয়েকে বিয়ে করবে এবং সেখানকারও রাজা হবে।' জ্যোতিষী আরও বলল, 'শিশুটি এই এই রিজিক পাবে, এতগুলো ছেলেমেয়ে পাবে, তার জীবদ্দশাতেই রাষ্ট্র অনেক বড় হবে।' এভাবে সে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকল। মোটকথা, শিশুকে সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বানিয়ে দিলো। পরিশেষে বখশিশের অপেক্ষায় থাকল।

খলিফা : হে মিথ্যুক, এটা কন্যাসন্তান, পুত্রসন্তান নয়!

মূলত এসব জ্যোতিষরা অনুমান করে ঢিল মারে এবং অধিকাংশ সময় মানুষের বুদ্ধি নিয়ে খেলা করে।

📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 বিনোদন ছাড়ুন

📄 বিনোদন ছাড়ুন


কখনো দেখা যায়, কিছু মানুষ রাশিবিষয়ক লেখা পত্রিকাগুলো পড়ে এবং বলে, আমি বিনোদনের জন্য এগুলো পড়ি। প্রকৃত অবস্থা জানার অধ্যায়, অমুক অধ্যায় ইত্যাদি। সে জানে, তার জন্ম অমুক মাসে। আর অমুক মাসে জন্ম হলে অমুক রাশির সাথে মিলে যায়। সে এই উদ্দেশ্যে পড়ে যে, অতিসত্বর সে ভালো কোনো সংবাদ পাবে। এটা কার্যত বাস্তব হবে।

অথবা তার মা বলে, তুমি অমুক স্থানে যাবে। অথবা তার স্ত্রী তার কাছে এ রকম আবেদন করবে অথবা এমন কোনো জিনিসের কথা বলবে, যা সাধারণত মানুষের জীবনে ঘটেই থাকে। কিন্তু জ্যোতিষী তার চিন্তা-চেতনা একটি সময়ের সাথে বেঁধে দিয়েছে। তো সেই ক্ষেত্রে সে মিথ্যাবাদী হওয়ার বদলে ৯০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে। তারপর এই অবস্থান থেকে নেমে ৮০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে। তারপর এই অবস্থান থেকে নেমে ৭০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে। এরপর সেখান থেকে নেমে শতকরা ১০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে।

তারপর রাশি নিয়ে লেখা পত্রিকাগুলো অনুসন্ধান করে সেখানে আশার আলো খোঁজার চেষ্টা করে। যখন সে একশতে একশ ভাগ ব্যর্থ হয় এবং ধারণাগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তখন অন্তরে একপ্রকার সত্যায়ন সৃষ্টি হয়। এজন্যই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
মَنْ أَتَى كَاهِنًا أَوْ عَرَّافًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
'যে ব্যক্তি জ্যোতিষী বা গণকের কাছে গেল এবং তার কথাকে সত্যায়ন করল; সে মুহাম্মদের প্রতি প্রেরিত দ্বীন অস্বীকারকারী কাফির হয়ে গেল'।

যদি কেউ এ বিশ্বাস রাখে যে, জ্যোতিষী হলো মিথ্যাবাদী, তারপরও তাকে জিজ্ঞেস করা বৈধ নয়। কোনো কোনো পর্যটক কেবল পর্যটনের উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন শহরে সফর করে; হোক তারা আরব বা অনারব। রাস্তায় তাদের কাছে এসে কেউ বলে, 'আপনি যদি চান আপনার হাত দেখে ভাগ্য গণনা করব।' অনেকেই তখন বলে, 'ঠিক আছে, আমার হাত দেখে ভাগ্য গণনা করো।'

এরপর গণক হাত দেখে ভাগ্য গণনা শুরু করে এবং তার কাছে এমন সব সংবাদ পরিবেশন করে, সেগুলো সাধারণত সেই শহরে ঘটে থাকে অথবা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনাও উপস্থাপন করে। এরপর বলে, 'আপনি আগামী দুই বছরের মাঝে বিয়ে করবেন। আমি কি আপনার হবু স্ত্রীর গুণগুলো বলব?'

অনেকে জ্যোতিষীর নিকট গিয়ে বলে 'আমার করণীয়-বর্জনীয় বলো।' তখন গণক তাকে বলে, 'এই এই করো। কেননা, এই কাজ তোমার অমুক কাজ দ্রুত সফল হতে সহায়তা করবে।' এই মিথ্যাবাদী গণকরা কখনো কখনো মানুষের মাঝে গ্রহণযোগ্যও হয়ে যায়। ফলে সে ব্যক্তি গণকের কথামতো কাজগুলো করা শুরু করে। তার অন্তরে এ ব্যাপারে একপ্রকার ক্ষীণ বিশ্বাসও সৃষ্টি হয়। অথচ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের এটা নিষেধ করে বলেছেন-
مَنْ أَتَى كَاهِنًا أَوْ عَرَّافًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
'যে ব্যক্তি জ্যোতিষী বা গণকের কাছে গেল এবং তার কথা সত্যায়ন করল; সে মুহাম্মদের প্রতি প্রেরিত দ্বীন অস্বীকারকারী কাফির হয়ে গেল'।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এগুলো থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। কেননা, এটা সবকিছুর আগে আকিদাকে নষ্ট করে দেয়।

টিকাঃ
৪০. মুসনাদে আহমদ: ১৯/২১৪।
৪১. মুসনাদে আহমদ: ১৯/২১৪।

কখনো দেখা যায়, কিছু মানুষ রাশিবিষয়ক লেখা পত্রিকাগুলো পড়ে এবং বলে, আমি বিনোদনের জন্য এগুলো পড়ি। প্রকৃত অবস্থা জানার অধ্যায়, অমুক অধ্যায় ইত্যাদি। সে জানে, তার জন্ম অমুক মাসে। আর অমুক মাসে জন্ম হলে অমুক রাশির সাথে মিলে যায়। সে এই উদ্দেশ্যে পড়ে যে, অতিসত্বর সে ভালো কোনো সংবাদ পাবে। এটা কার্যত বাস্তব হবে।

অথবা তার মা বলে, তুমি অমুক স্থানে যাবে। অথবা তার স্ত্রী তার কাছে এ রকম আবেদন করবে অথবা এমন কোনো জিনিসের কথা বলবে, যা সাধারণত মানুষের জীবনে ঘটেই থাকে। কিন্তু জ্যোতিষী তার চিন্তা-চেতনা একটি সময়ের সাথে বেঁধে দিয়েছে। তো সেই ক্ষেত্রে সে মিথ্যাবাদী হওয়ার বদলে ৯০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে। তারপর এই অবস্থান থেকে নেমে ৮০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে। তারপর এই অবস্থান থেকে নেমে ৭০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে। এরপর সেখান থেকে নেমে শতকরা ১০ ভাগ নিশ্চিত হতে চাইছে।

তারপর রাশি নিয়ে লেখা পত্রিকাগুলো অনুসন্ধান করে সেখানে আশার আলো খোঁজার চেষ্টা করে। যখন সে একশতে একশ ভাগ ব্যর্থ হয় এবং ধারণাগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তখন অন্তরে একপ্রকার সত্যায়ন সৃষ্টি হয়। এজন্যই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন—

মَنْ أَتَى كَاهِنًا أَوْ عَرَّافًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

'যে ব্যক্তি জ্যোতিষী বা গণকের কাছে গেল এবং তার কথাকে সত্যায়ন করল; সে মুহাম্মদের প্রতি প্রেরিত দ্বীন অস্বীকারকারী কাফির হয়ে গেল'। [৪০]

যদি কেউ এ বিশ্বাস রাখে যে, জ্যোতিষী হলো মিথ্যাবাদী, তারপরও তাকে জিজ্ঞেস করা বৈধ নয়। কোনো কোনো পর্যটক কেবল পর্যটনের উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন শহরে সফর করে; হোক তারা আরব বা অনারব। রাস্তায় তাদের কাছে এসে কেউ বলে, 'আপনি যদি চান আপনার হাত দেখে ভাগ্য গণনা করব।' অনেকেই তখন বলে, 'ঠিক আছে, আমার হাত দেখে ভাগ্য গণনা করো।'

এরপর গণক হাত দেখে ভাগ্য গণনা শুরু করে এবং তার কাছে এমন সব সংবাদ পরিবেশন করে, যেগুলো সাধারণত সেই শহরে ঘটে থাকে অথবা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনাও উপস্থাপন করে। এরপর বলে, 'আপনি আগামী দুই বছরের মাঝে বিয়ে করবেন। আমি কি আপনার হবু স্ত্রীর গুণগুলো বলব?'

অনেকে জ্যোতিষীর নিকট গিয়ে বলে 'আমার করণীয়-বর্জনীয় বলো।' তখন গণক তাকে বলে, 'এই এই করো। কেননা, এই কাজ তোমার অমুক কাজ দ্রুত সফল হতে সহায়তা করবে।' এই মিথ্যাবাদী গণকরা কখনো কখনো মানুষের মাঝে গ্রহণযোগ্যও হয়ে যায়। ফলে সে ব্যক্তি গণকের কথামতো কাজগুলো করা শুরু করে। তার অন্তরে এ ব্যাপারে একপ্রকার ক্ষীণ বিশ্বাসও সৃষ্টি হয়। অথচ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের এটা নিষেধ করে বলেছেন-

مَنْ أَتَى كَاهِنًا أَوْ عَرَّافًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

'যে ব্যক্তি জ্যোতিষী বা গণকের কাছে গেল এবং তার কথা সত্যায়ন করল; সে মুহাম্মদের প্রতি প্রেরিত দ্বীন অস্বীকারকারী কাফির হয়ে গেল'। [৪১]

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এগুলো থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। কেননা, এটা সবকিছুর আগে আকিদাকে নষ্ট করে দেয়।

টিকাঃ
৪০. মুসনাদে আহমদ: ১৯/২১৪।
৪১. মুসনাদে আহমদ: ১৯/২১৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px