📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 এত দুধ!

📄 এত দুধ!


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ওই আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি ক্ষুধার জ্বালায় মাটিতে ভর করে চলতাম। ক্ষুধার তাড়নায় পেটে অনেক বড় পাথর বেঁধে রেখেছিলাম। আমি একদিন ক্ষুধার তাড়নায় সাহাবিগণের চলার পথে বসে থাকলাম। আমার পাশ দিয়ে আবু বকর যেতে লাগলেন। আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমি তাঁকে কেবল এ জন্যই জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তিনি আমার অবস্থা জিজ্ঞেস করবেন; কিন্তু তিনি এমন কিছুই করলেন না। এরপর আমার পাশ দিয়ে উমর যেতে লাগলেন। আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমি তাঁকে কেবল এ জন্যই জিজ্ঞেস করছিলাম যে, তিনি আমার অবস্থা জিজ্ঞেস করবেন; কিন্তু তিনিও এমন কিছু করলেন না।

এরপর আমার পাশ দিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাচ্ছিলেন। আমাকে দেখে তিনি মুচকি হাসলেন এবং আমার চেহারার ও মনের ভাব বুঝে ফেললেন। তারপর বললেন, ‘হে আবু হুরাইরা,’ আমি বললাম, ‘জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি হাজির।’ নবিজি বললেন, ‘চলো আমার সাথে।’ নবিজি চলতে লাগলেন। আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। নবিজি বাড়িতে প্রবেশ করলেন, আমাকে প্রবেশের অনুমতি দিলে আমিও প্রবেশ করলাম। বাটিতে কিছু দুধ পেলেন। নবিজি পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘দুধ কোথা থেকে এসেছে?’ বাড়ির লোকজন বলল, ‘অমুক আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছে।’ নবিজি বললেন, ‘হে আবু হুরাইরা,’ আমি বললাম, ‘জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ,’ নবিজি বললেন, ‘আহলুস-সুফফাদের কাছে গিয়ে তাঁদের ডেকে আনো।’

আবু হুরাইরা বলেন, আহলুস-সুফফা হলো ইসলামের মেহমান। তাঁরা পরিবার বা সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। যখন তাঁদের কাছে সদকার কিছু আসে, তখন সেখান থেকে আহার করেন। যখন নবিজির কাছে কোনো হাদিয়া আসে তাঁদের জন্য পাঠিয়ে দেন এবং তাঁদের হাদিয়ার মধ্যে শরিক করেন। যখন নবিজি তাঁদের ডাকতে পাঠালেন, আমার কাছে খারাপ লাগল। মনে মনে বললাম, এই অল্প দুধে আহলে সুফফার কী হবে! আমি এই দুধের অধিক হকদার, যেন তা পান করে একটু শক্তি সঞ্চয় করব। যখন আহলে সুফফা আসবে, নবিজি আমাকে নির্দেশ করবেন সকলকে পান করাতে। আমি তাঁদের পান করাব। আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে, দুধ আমার পর্যন্ত পৌঁছবে!

কিন্তু আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের আনুগত্য না করেও কোনো উপায় ছিল না। আমি তাঁদের ডাকলাম। তাঁরা এলেন। নবিজি অনুমতি দিলে তাঁরা ঘরে আপন আপন স্থান গ্রহণ করলেন। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'আবু হুরাইরা,' আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমি হাজির।' নবিজি বললেন, 'ধরো এবং সকলকে পান করাও।' সুতরাং আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং সকলের সামনে উপস্থাপন করতে থাকলাম। একজন পরিতৃপ্ত হয়ে পান করল। আমি পেয়ালাটি আরেকজনকে দিলাম, সে-ও পরিতৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলো। আমি আরেকজনকে পেয়ালাটি দিলাম। সে-ও পরিতৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলো। পরিশেষে নবিজির কাছে আসলাম। কওমের সকলেই পরিতৃপ্ত হয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাত্রটি নিয়ে নিজ হাতে রাখলেন, তারপর আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, 'আবু হুরাইরা' আমি বললাম, 'হাজির, হে আল্লাহর রাসুল।' নবিজি বললেন, 'আমি আর তুমি রয়ে গেছি।' বললাম, 'সত্যিই বলেছেন, হে আল্লাহর রাসুল।' নবিজি বললেন, 'বসে পান করা শুরু করো।' সুতরাং আমি বসে পান করলাম। নবিজি বললেন, 'আরও পান করো।' আমি আরও পান করলাম। নবিজি বলতে থাকলেন, 'আরও পান করো।' আমি পান করতে থাকলাম। শেষপর্যন্ত বলতে বাধ্য হলাম, 'ওই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আর পারছি না!'

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ওই আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি ক্ষুধার জ্বালায় মাটিতে ভর করে চলতাম। ক্ষুধার তাড়নায় পেটে অনেক বড় পাথর বেঁধে রেখেছিলাম। আমি একদিন ক্ষুধার তাড়নায় সাহাবিগণের চলার পথে বসে থাকলাম। আমার পাশ দিয়ে আবু বকর যেতে লাগলেন। আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমি তাঁকে কেবল এ জন্যই জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তিনি আমার অবস্থা জিজ্ঞেস করবেন; কিন্তু তিনি এমন কিছুই করলেন না। এরপর আমার পাশ দিয়ে উমর যেতে লাগলেন। আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমি তাঁকে কেবল এ জন্যই জিজ্ঞেস করছিলাম যে, তিনি আমার অবস্থা জিজ্ঞেস করবেন; কিন্তু তিনিও এমন কিছু করলেন না।

এরপর আমার পাশ দিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাচ্ছিলেন। আমাকে দেখে তিনি মুচকি হাসলেন এবং আমার চেহারার ও মনের ভাব বুঝে ফেললেন। তারপর বললেন, ‘হে আবু হুরাইরা,’ আমি বললাম, ‘জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি হাজির।’ নবিজি বললেন, ‘চলো আমার সাথে।’ নবিজি চলতে লাগলেন। আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। নবিজি বাড়িতে প্রবেশ করলেন, আমাকে প্রবেশের অনুমতি দিলে আমিও প্রবেশ করলাম। বাটিতে কিছু দুধ পেলেন। নবিজি পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘দুধ কোথা থেকে এসেছে?’ বাড়ির লোকজন বলল, ‘অমুক আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছে।’ নবিজি বললেন, ‘হে আবু হুরাইরা,’ আমি বললাম, ‘জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ,’ নবিজি বললেন, ‘আহলুস-সুফফাদের কাছে গিয়ে তাঁদের ডেকে আনো।’

আবু হুরাইরা বলেন, আহলুস-সুফফা হলো ইসলামের মেহমান। তাঁরা পরিবার বা সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। যখন তাঁদের কাছে সদকার কিছু আসে, তখন সেখান থেকে আহার করেন। যখন নবিজির কাছে কোনো হাদিয়া আসে তাঁদের জন্য পাঠিয়ে দেন এবং তাঁদের হাদিয়ার মধ্যে শরিক করেন। যখন নবিজি তাঁদের ডাকতে পাঠালেন, আমার কাছে খারাপ লাগল। মনে মনে বললাম, এই অল্প দুধে আহলে সুফফার কী হবে! আমি এই দুধের অধিক হকদার, যেন তা পান করে একটু শক্তি সঞ্চয় করব। যখন আহলে সুফফা আসবে, নবিজি আমাকে নির্দেশ করবেন সকলকে পান করাতে। আমি তাঁদের পান করাব। আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে, দুধ আমার পর্যন্ত পৌঁছবে!

কিন্তু আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের আনুগত্য না করেও কোনো উপায় ছিল না। আমি তাঁদের ডাকলাম। তাঁরা এলেন। নবিজি অনুমতি দিলে তাঁরা ঘরে আপন আপন স্থান গ্রহণ করলেন। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'আবু হুরাইরা,' আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমি হাজির।' নবিজি বললেন, 'ধরো এবং সকলকে পান করাও।' সুতরাং আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং সকলের সামনে উপস্থাপন করতে থাকলাম। একজন পরিতৃপ্ত হয়ে পান করল। আমি পেয়ালাটি আরেকজনকে দিলাম, সে-ও পরিতৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলো। আমি আরেকজনকে পেয়ালাটি দিলাম। সে-ও পরিতৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলো। পরিশেষে নবিজির কাছে আসলাম। কওমের সকলেই পরিতৃপ্ত হয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাত্রটি নিয়ে নিজ হাতে রাখলেন, তারপর আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, 'আবু হুরাইরা' আমি বললাম, 'হাজির, হে আল্লাহর রাসুল।' নবিজি বললেন, 'আমি আর তুমি রয়ে গেছি।' বললাম, 'সত্যিই বলেছেন, হে আল্লাহর রাসুল।' নবিজি বললেন, 'বসে পান করা শুরু করো।' সুতরাং আমি বসে পান করলাম। নবিজি বললেন, 'আরও পান করো।' আমি আরও পান করলাম। নবিজি বলতে থাকলেন, 'আরও পান করো।' আমি পান করতে থাকলাম। শেষপর্যন্ত বলতে বাধ্য হলাম, 'ওই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আর পারছি না!'

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ওই আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি ক্ষুধার জ্বালায় মাটিতে ভর করে চলতাম। ক্ষুধার তাড়নায় পেটে অনেক বড় পাথর বেঁধে রেখেছিলাম। আমি একদিন ক্ষুধার তাড়নায় সাহাবিগণের চলার পথে বসে থাকলাম। আমার পাশ দিয়ে আবু বকর যেতে লাগলেন। আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমি তাঁকে কেবল এ জন্যই জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তিনি আমার অবস্থা জিজ্ঞেস করবেন; কিন্তু তিনি এমন কিছুই করলেন না।

এরপর আমার পাশ দিয়ে উমর যেতে লাগলেন। আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমি তাঁকে কেবল এ জন্যই জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তিনি আমার অবস্থা জিজ্ঞেস করবেন; কিন্তু তিনিও এমন কিছু করলেন না।

এরপর আমার পাশ দিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাচ্ছিলেন। আমাকে দেখে তিনি মুচকি হাসলেন এবং আমার চেহারার ও মনের ভাব বুঝে ফেললেন। তারপর বললেন, ‘হে আবু হুরাইরা,’ আমি বললাম, ‘জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি হাজির।’ নবিজি বললেন, ‘চলো আমার সাথে।’

নবিজি চলতে লাগলেন। আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। নবিজি বাড়িতে প্রবেশ করলেন, আমাকে প্রবেশের অনুমতি দিলে আমিও প্রবেশ করলাম। বাটিতে কিছু দুধ পেলেন। নবিজি পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘দুধ কোথা থেকে এসেছে?’ বাড়ির লোকজন বলল, ‘অমুক আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছে।’ নবিজি বললেন, ‘হে আবু হুরাইরা,’ আমি বললাম, ‘জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ,’ নবিজি বললেন, 'আহলুস-সুফফাদের কাছে গিয়ে তাঁদের ডেকে আনো।'

আবু হুরাইরা বলেন, আহলুস-সুফফা হলো ইসলামের মেহমান। তাঁরা পরিবার বা সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। যখন তাঁদের কাছে সদকার কিছু আসে, তখন সেখান থেকে আহার করেন। যখন নবিজির কাছে কোনো হাদিয়া আসে তাঁদের জন্য পাঠিয়ে দেন এবং তাঁদের হাদিয়ার মধ্যে শরিক করেন। যখন নবিজি তাঁদের ডাকতে পাঠালেন, আমার কাছে খারাপ লাগল। মনে মনে বললাম, এই অল্প দুধে আহলে সুফফার কী হবে! আমি এই দুধের অধিক হকদার, যেন তা পান করে একট শক্তি সঞ্চয় করব। যখন আহলে সুফফা আসবে, নবিজি আমাকে নির্দেশ করবেন সকলকে পান করাতে। আমি তাঁদের পান করাব। আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে, দুধ আমার পর্যন্ত পৌঁছবে!

কিন্তু আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের আনুগত্য না করেও কোনো উপায় ছিল না। আমি তাঁদের ডাকলাম। তাঁরা এলেন। নবিজি অনুমতি দিলে তাঁরা ঘরে আপন আপন স্থান গ্রহণ করলেন। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'আবু হুরাইরা,' আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমি হাজির।' নবিজি বললেন, 'ধরো এবং সকলকে পান করাও।'

সুতরাং আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং সকলের সামনে উপস্থাপন করতে থাকলাম। একজন পরিতৃপ্ত হয়ে পান করল। আমি পেয়ালাটি আরেকজনকে দিলাম, সে-ও পরিতৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলো। আমি আরেকজনকে পেয়ালাটি দিলাম। সে-ও পরিতৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলো।

পরিশেষে নবিজির কাছে আসলাম। কওমের সকলেই পরিতৃপ্ত হয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাত্রটি নিয়ে নিজ হাতে রাখলেন, তারপর আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, 'আবু হুরাইরা' আমি বললাম, 'হাজির, হে আল্লাহর রাসুল।' নবিজি বললেন, 'আমি আর তুমি রয়ে গেছি।' বললাম, 'সত্যিই বলেছেন, হে আল্লাহর রাসুল।' নবিজি বললেন, 'বসে পান করা শুরু করো।' সুতরাং আমি বসে পান করলাম। নবিজি বললেন, 'আরও পান করো।' আমি আরও পান করলাম। নবিজি বলতে থাকলেন, 'আরও পান করো।' আমি পান করতে থাকলাম। শেষপর্যন্ত বলতে বাধ্য হলাম, 'ওই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আর পারছি না!'

📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 তাবুকে আরেকবার

📄 তাবুকে আরেকবার


তাবুক যুদ্ধে মুসলিমরা কঠিন ক্ষিধা ও পিপাসায় আক্রান্ত হলেন। তাই সাহাবিগণ উট জবাই করে খাওয়ার চিন্তা করলেন। তাঁরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অনুমতি চেয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আপনি অনুমতি দিলে আমরা উট জবাই করব। সেটির মাংস খাব এবং চর্বি ব্যবহার করব।' তাঁরা প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত ছিলেন। তীব্র রোদের কারণে পিপাসা তাঁদের অবস্থা নাজুক করে ফেলছিল। তাঁরা সব উটও জবাই করছিলেন না; বরং ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য কিছু উট। নবিজি বললেন, 'ঠিক আছে, তোমরা কাজে লেগে যাও।' সাহাবিগণ কয়েকটি উট জবাই করার মনস্থ করলেন।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণের প্রতি ছিলেন দয়াপরবশ; কিন্তু তিনি সকলের মতামত জানার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন, যেন সকলের অভিব্যক্তি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবিজির কাছে এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, যদি এমন করেন, তাহলে বাহন কমে যাবে।' অর্থাৎ এভাবে তাঁরা উট জবাই করা শুরু করলে সফর পূর্ণ করার জন্য বাহন পাওয়া যাবে না। 'তাই তাঁদের বলুন, যার কাছে যে পরিমাণ অতিরিক্ত খেজুর বা রুটি আছে, জমা করুক। তারপর হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি তাতে বরকত দান করেন।' নবিজি বললেন, 'হ্যাঁ, ঠিক আছে।'

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চামড়ার দস্তরখান মাটিতে বিছিয়ে সবাইকে তাঁদের কাছে থাকা খাবারগুলো জমা করতে বললেন। সুতরাং কেউ এক মুঠো ভুট্টা নিয়ে এল, কেউ এক মুঠো খেজুর নিয়ে এল, কেউ রুটির টুকরো নিয়ে এল; সব মিলিয়ে দস্তরখানে কিছু খাবার জমা হলো। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাবারগুলোতে বরকতের দুআ করলেন এবং বললেন, 'তোমরা পাত্রে খাবার নিয়ে নাও।' সবাই নিজ নিজ পাত্রে খাবার নিতে থাকলেন। যুদ্ধে আসা সকলেই পাত্র পুরো করে খাবার নিলেন। সকলেই খেয়ে পরিতৃপ্ত হলেন। তারপরও দস্তরখানে খাবার থেকেই গেল! তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন— أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّه وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ لَا يَلْقَى اللَّهُ بِهِمَا عَبْدُ غَيْرَ شَاكٍ فَيُحْجَبَ عَنْ الْجَنَّةِ. 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি তাঁর রাসুল। যে ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে এই দুটি কথা বলবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।

টিকাঃ
৩৮. সহিহ বুখারি: ২০/৮৭।

তাবুক যুদ্ধে মুসলিমরা কঠিন ক্ষিধা ও পিপাসায় আক্রান্ত হলেন। তাই সাহাবিগণ উট জবাই করে খাওয়ার চিন্তা করলেন। তাঁরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অনুমতি চেয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আপনি অনুমতি দিলে আমরা উট জবাই করব। সেটির মাংস খাব এবং চর্বি ব্যবহার করব।' তাঁরা প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত ছিলেন। তীব্র রোদের কারণে পিপাসা তাঁদের অবস্থা নাজুক করে ফেলছিল। তাঁরা সব উটও জবাই করছিলেন না; বরং ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য কিছু উট। নবিজি বললেন, 'ঠিক আছে, তোমরা কাজে লেগে যাও।' সাহাবিগণ কয়েকটি উট জবাই করার মনস্থ করলেন।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণের প্রতি ছিলেন দয়াপরবশ; কিন্তু তিনি সকলের মতামত জানার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন, যেন সকলের অভিব্যক্তি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবিজির কাছে এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, যদি এমন করেন, তাহলে বাহন কমে যাবে।' অর্থাৎ এভাবে তাঁরা উট জবাই করা শুরু করলে সফর পূর্ণ করার জন্য বাহন পাওয়া যাবে না। 'তাই তাঁদের বলুন, যার কাছে যে পরিমাণ অতিরিক্ত খেজুর বা রুটি আছে, জমা করুক। তারপর হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি তাতে বরকত দান করেন।' নবিজি বললেন, 'হ্যাঁ, ঠিক আছে।'

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চামড়ার দস্তরখান মাটিতে বিছিয়ে সবাইকে তাঁদের কাছে থাকা খাবারগুলো জমা করতে বললেন। সুতরাং কেউ এক মুঠো ভুট্টা নিয়ে এল, কেউ এক মুঠো খেজুর নিয়ে এল, কেউ রুটির টুকরো নিয়ে এল; সব মিলিয়ে দস্তরখানে কিছু খাবার জমা হলো। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাবারগুলোতে বরকতের দুআ করলেন এবং বললেন, 'তোমরা পাত্রে খাবার নিয়ে নাও।' সবাই নিজ নিজ পাত্রে খাবার নিতে থাকলেন। যুদ্ধে আসা সকলেই পাত্র পুরো করে খাবার নিলেন। সকলেই খেয়ে পরিতৃপ্ত হলেন। তারপরও দস্তরখানে খাবার থেকেই গেল! তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন— أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّه وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ لَا يَلْقَى اللَّهُ بِهِمَا عَبْدُ غَيْرَ شَاكٍ فَيُحْجَبَ عَنْ الْجَنَّةِ. 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি তাঁর রাসুল। যে ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে এই দুটি কথা বলবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।

টিকাঃ
৩৮. সহিহ বুখারি: ২০/৮৭।

তাবুক যুদ্ধে মুসলিমরা কঠিন ক্ষিধা ও পিপাসায় আক্রান্ত হলেন। তাই সাহাবিগণ উট জবাই করে খাওয়ার চিন্তা করলেন। তাঁরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অনুমতি চেয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আপনি অনুমতি দিলে আমরা উট জবাই করব। সেটির মাংস খাব এবং চর্বি ব্যবহার করব।' তাঁরা প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত ছিলেন। তীব্র রোদের কারণে পিপাসা তাঁদের অবস্থা নাজুক করে ফেলছিল। তাঁরা সব উটও জবাই করছিলেন না; বরং ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য কিছু উট। নবিজি বললেন, 'ঠিক আছে, তোমরা কাজে লেগে যাও।' সাহাবিগণ কয়েকটি উট জবাই করার মনস্থ করলেন।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণের প্রতি ছিলেন দয়াপরবশ; কিন্তু তিনি সকলের মতামত জানার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন, যেন সকলের অভিব্যক্তি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবিজির কাছে এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, যদি এমন করেন, তাহলে বাহন কমে যাবে।' অর্থাৎ এভাবে তাঁরা উট জবাই করা শুরু করলে সফর পূর্ণ করার জন্য বাহন পাওয়া যাবে না। 'তাই তাঁদের বলুন, যার কাছে যে পরিমাণ অতিরিক্ত খেজুর বা রুটি আছে, জমা করুক। তারপর হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি তাতে বরকত দান করেন।'

নবিজি বললেন, 'হ্যাঁ, ঠিক আছে।' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চামড়ার দস্তরখান মাটিতে বিছিয়ে সবাইকে তাঁদের কাছে থাকা খাবারগুলো জমা করতে বললেন। সুতরাং কেউ এক মুঠো ভুট্টা নিয়ে এল, কেউ এক মুঠো খেজুর নিয়ে এল, কেউ রুটির টুকরো নিয়ে এল; সব মিলিয়ে দস্তরখানে কিছু খাবার জমা হলো।

তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাবারগুলোতে বরকতের দুআ করলেন এবং বললেন, 'তোমরা পাত্রে খাবার নিয়ে নাও।' সবাই নিজ নিজ পাত্রে খাবার নিতে থাকলেন। যুদ্ধে আসা সকলেই পাত্র পুরো করে খাবার নিলেন। সকলেই খেয়ে পরিতৃপ্ত হলেন। তারপরও দস্তরখানে খাবার থেকেই গেল!

তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّه وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ لَا يَلْقَى اللَّهُ بِهِمَا عَبْدُ غَيْرَ شَاكٍ فَيُحْجَبَ عَنْ الْجَنَّةِ.
'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি তাঁর রাসুল। যে ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে এই দুটি কথা বলবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।

টিকাঃ
৩৮. সহিহ বুখারি: ২০/৮৭।

📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 আবু জাহেলের সাথে

📄 আবু জাহেলের সাথে


আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন— فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ - إِنَّا كَفَيْنَاكَ الْمُسْتَهْজِئِينَ . الَّذِينَ يَجْعَلُونَ মَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ . 'অতএব আপনি প্রকাশ্যে শুনিয়ে দিন যা আপনাকে আদেশ করা হয় এবং মুশরিকদের পরোয়া করবেন না। বিদ্রুপকারীদের জন্য আমি আপনার পক্ষ থেকে যথেষ্ট, যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহ সাব্যস্ত করে। অতএব অতিসত্বর তারা জেনে নেবে।' [সুরা হিজর : ৯৪-৯৬]

এই উম্মাতের ফেরাউন আবু জাহেলের সাথে যা ঘটেছে তার কিছু উদাহরণ— আবু জাহেল ছিল চরম পর্যায়ের অহংকারী। একদিন সে কাবাচত্বরে তার সাথিদের কাছে গিয়ে বলল, 'মুহাম্মদ কি তোমাদের সামনে নিজের দাপট প্রতিষ্ঠিত করবে?' তারা বলল, 'হ্যাঁ।' আবু জাহেল রাগান্বিত হয়ে বলল, 'লাত ও উজ্জার শপথ, যদি মুহাম্মদকে এমন করতে দেখি, তাহলে তার ঘাড়ে পা দিয়ে চাপা দেব।' আবু জাহেল ধ্বংস হোক! তার চরিত্র কতই না নিকৃষ্ট!

কিছুদিন পর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রশান্ত চিত্তে হেঁটে হেঁটে কাবাচত্বরের দিকে এগিয়ে গেলেন। তাকবির বলে নামাজ আরম্ভ করলেন। এরপর সিজদাবনত হয়ে অনুনয়-বিনয় করে স্বীয় রবকে ডাকতে লাগলেন। এই দৃশ্যটি অন্যদের তুলনায় আবু জাহেলের বীরত্বের জন্য আকস্মিক চ্যালেঞ্জ ছিল। আবু জাহেল দম্ভভরে মাটিতে পা ফেলে এগিয়ে চলল। সে চিন্তা করল, অবশ্যই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাঁধে পা দিয়ে মাড়াতে সফল হবে! আবু জাহেল নবিজির দিকে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ চিৎকার করে পেছনের দিকে সরে এল এবং দু-হাত দিয়ে সামনের দিক থেকে আসা কি যেন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। মনে হচ্ছিল আগুন বা কষ্টদায়ক কিছু তাকে আঘাত করছে।

সে মাথা নিচু করে সাথিদের কাছে গেল। চেহারা ছিল বিবর্ণ। সাথিরা তার দিকে তাকিয়ে বলল, 'কী হয়েছে তোমার?' আবু জাহেল ঘাবড়ানো অবস্থায় বলল, 'আমার ও মুহাম্মদের মাঝে আগুনের গর্ত ছিল, তার সুড়ঙ্গ এবং শাখা-প্রশাখা ছিল।' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ শেষ করে বললেন, 'আবু জাহেল যদি আমার কাছে আসত, ফেরেশতাগণ তার একেকটা অঙ্গ ছিঁড়ে ফেলত।'

তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেছেন- أَرَأَيْتَ الَّذِي يَنْهَى - عَبْدًا إِذَا صَلَّى - أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ عَلَى الْهُدَى - أَوْ أَمَرَ بِالتَّقْوَى - أَرَأَيْتَ إِنْ كَدَّبَ وَتَوَلَّى - أَلَمْ يَعْلَمُ بِأَنَّ اللَّهَ يَرَى - كَلَّا لَئِنْ لَمْ يَنْتَهِ لَنَسْفَعَنْ بِالنَّاصِيَةِ - نَاصِيَةٍ كَاذِبَةٍ خَاطِئَةٍ - فَلْيَدْعُ نَادِيَة - সَنَدْعُ الزَّبَانِيَةَ - كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبُ . 'আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে নিষেধ করে এক বান্দাকে, যখন সে নামাজ পড়ে? আপনি কি দেখেছেন, যদি সে সৎপথে থাকে অথবা আল্লাহভীতি শিক্ষা দেয়? আপনি কি দেখেছেন, যদি সে মিথ্যারোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়? সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন? কখনোই নয়, যদি সে বিরত না হয়, তবে আমি মস্তকের সামনের কেশগুচ্ছ ধরে হেঁচড়াবই, মিথ্যাচারী, পাপীর কেশগুচ্ছ। অতএব, সে তার সভাসদদের আহ্বান করুক, আমিও আহ্বান করব জাহান্নামের প্রহরীদের, কখনোই নয়; আপনি তার আনুগত্য করবেন না, আপনি সেজদা করুন ও আমার নৈকট্য অর্জন করুন।' [সুরা আলাক : ৯-১৯]

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন— فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ - إِنَّا كَفَيْنَاكَ الْمُسْتَهْজِئِينَ . الَّذِينَ يَجْعَلُونَ মَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ . 'অতএব আপনি প্রকাশ্যে শুনিয়ে দিন যা আপনাকে আদেশ করা হয় এবং মুশরিকদের পরোয়া করবেন না। বিদ্রুপকারীদের জন্য আমি আপনার পক্ষ থেকে যথেষ্ট, যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহ সাব্যস্ত করে। অতএব অতিসত্বর তারা জেনে নেবে।' [সুরা হিজর : ৯৪-৯৬]

এই উম্মাতের ফেরাউন আবু জাহেলের সাথে যা ঘটেছে তার কিছু উদাহরণ— আবু জাহেল ছিল চরম পর্যায়ের অহংকারী। একদিন সে কাবাচত্বরে তার সাথিদের কাছে গিয়ে বলল, 'মুহাম্মদ কি তোমাদের সামনে নিজের দাপট প্রতিষ্ঠিত করবে?' তারা বলল, 'হ্যাঁ।' আবু জাহেল রাগান্বিত হয়ে বলল, 'লাত ও উজ্জার শপথ, যদি মুহাম্মদকে এমন করতে দেখি, তাহলে তার ঘাড়ে পা দিয়ে চাপা দেব।' আবু জাহেল ধ্বংস হোক! তার চরিত্র কতই না নিকৃষ্ট!

কিছুদিন পর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রশান্ত চিত্তে হেঁটে হেঁটে কাবাচত্বরের দিকে এগিয়ে গেলেন। তাকবির বলে নামাজ আরম্ভ করলেন। এরপর সিজদাবনত হয়ে অনুনয়-বিনয় করে স্বীয় রবকে ডাকতে লাগলেন। এই দৃশ্যটি অন্যদের তুলনায় আবু জাহেলের বীরত্বের জন্য আকস্মিক চ্যালেঞ্জ ছিল। আবু জাহেল দম্ভভরে মাটিতে পা ফেলে এগিয়ে চলল। সে চিন্তা করল, অবশ্যই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাঁধে পা দিয়ে মাড়াতে সফল হবে! আবু জাহেল নবিজির দিকে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ চিৎকার করে পেছনের দিকে সরে এল এবং দু-হাত দিয়ে সামনের দিক থেকে আসা কি যেন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। মনে হচ্ছিল আগুন বা কষ্টদায়ক কিছু তাকে আঘাত করছে।

সে মাথা নিচু করে সাথিদের কাছে গেল। চেহারা ছিল বিবর্ণ। সাথিরা তার দিকে তাকিয়ে বলল, 'কী হয়েছে তোমার?' আবু জাহেল ঘাবড়ানো অবস্থায় বলল, 'আমার ও মুহাম্মদের মাঝে আগুনের গর্ত ছিল, তার সুড়ঙ্গ এবং শাখা-প্রশাখা ছিল।' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ শেষ করে বললেন, 'আবু জাহেল যদি আমার কাছে আসত, ফেরেশতাগণ তার একেকটা অঙ্গ ছিঁড়ে ফেলত।'

তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেছেন- أَرَأَيْتَ الَّذِي يَنْهَى - عَبْدًا إِذَا صَلَّى - أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ عَلَى الْهُدَى - أَوْ أَمَرَ بِالتَّقْوَى - أَرَأَيْتَ إِنْ كَدَّبَ وَتَوَلَّى - أَلَمْ يَعْلَمُ بِأَنَّ اللَّهَ يَرَى - كَلَّا لَئِنْ لَمْ يَنْتَهِ لَنَسْفَعَنْ بِالنَّاصِيَةِ - نَاصِيَةٍ كَاذِبَةٍ خَاطِئَةٍ - فَلْيَدْعُ نَادِيَة - সَنَدْعُ الزَّبَانِيَةَ - كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبُ . 'আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে নিষেধ করে এক বান্দাকে, যখন সে নামাজ পড়ে? আপনি কি দেখেছেন, যদি সে সৎপথে থাকে অথবা আল্লাহভীতি শিক্ষা দেয়? আপনি কি দেখেছেন, যদি সে মিথ্যারোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়? সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন? কখনোই নয়, যদি সে বিরত না হয়, তবে আমি মস্তকের সামনের কেশগুচ্ছ ধরে হেঁচড়াবই, মিথ্যাচারী, পাপীর কেশগুচ্ছ। অতএব, সে তার সভাসদদের আহ্বান করুক, আমিও আহ্বান করব জাহান্নামের প্রহরীদের, কখনোই নয়; আপনি তার আনুগত্য করবেন না, আপনি সেজদা করুন ও আমার নৈকট্য অর্জন করুন।' [সুরা আলাক : ৯-১৯]

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন— فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ - إِنَّا كَفَيْنَاكَ الْمُسْتَهْزِئِينَ . الَّذِينَ يَجْعَلُونَ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ .
'অতএব আপনি প্রকাশ্যে শুনিয়ে দিন যা আপনাকে আদেশ করা হয় এবং মুশরিকদের পরোয়া করবেন না। বিদ্রুপকারীদের জন্য আমি আপনার পক্ষ থেকে যথেষ্ট, যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহ সাব্যস্ত করে। অতএব অতিসত্বর তারা জেনে নেবে।' [সুরা হিজর : ৯৪-৯৬]

এই উম্মাতের ফেরাউন আবু জাহেলের সাথে যা ঘটেছে তার কিছু উদাহরণ— আবু জাহেল ছিল চরম পর্যায়ের অহংকারী। একদিন সে কাবাচত্বরে তার সাথিদের কাছে গিয়ে বলল, 'মুহাম্মদ কি তোমাদের সামনে নিজের দাপট প্রতিষ্ঠিত করবে?' তারা বলল, 'হ্যাঁ।' আবু জাহেল রাগান্বিত হয়ে বলল, 'লাত ও উজ্জার শপথ, যদি মুহাম্মদকে এমন করতে দেখি, তাহলে তার ঘাড়ে পা দিয়ে চাপা দেব।'

আবু জাহেল ধ্বংস হোক! তার চরিত্র কতই না নিকৃষ্ট! কিছুদিন পর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রশান্ত চিত্তে হেঁটে হেঁটে কাবাচত্বরের দিকে এগিয়ে গেলেন। তাকবির বলে নামাজ আরম্ভ করলেন। এরপর সিজদাবনত হয়ে অনুনয়-বিনয় করে স্বীয় রবকে ডাকতে লাগলেন। এই দৃশ্যটি অন্যদের তুলনায় আবু জাহেলের বীরত্বের জন্য আকস্মিক চ্যালেঞ্জ ছিল।

আবু জাহেল দম্ভভরে মাটিতে পা ফেলে এগিয়ে চলল। সে চিন্তা করল, অবশ্যই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাঁধে পা দিয়ে মাড়াতে সফল হবে! আবু জাহেল নবিজির দিকে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ চিৎকার করে পেছনের দিকে সরে এল এবং দু-হাত দিয়ে সামনের দিক থেকে আসা কি যেন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। মনে হচ্ছিল আগুন বা কষ্টদায়ক কিছু তাকে আঘাত করছে। সে মাথা নিচু করে সাথিদের কাছে গেল। চেহারা ছিল বিবর্ণ। সাথিরা তার দিকে তাকিয়ে বলল, 'কী হয়েছে তোমার?'

আবু জাহেল ঘাবড়ানো অবস্থায় বলল, 'আমার ও মুহাম্মদের মাঝে আগুনের গর্ত ছিল, তার সুড়ঙ্গ এবং শাখা-প্রশাখা ছিল।' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ শেষ করে বললেন, 'আবু জাহেল যদি আমার কাছে আসত, ফেরেশতাগণ তার একেকটা অঙ্গ ছিঁড়ে ফেলত।'

তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেছেন- أَرَأَيْتَ الَّذِي يَنْهَى - عَبْدًا إِذَا صَلَّى - أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ عَلَى الْهُدَى - أَوْ أَمَرَ بِالتَّقْوَى - أَرَأَيْتَ إِنْ كَذَّبَ وَتَوَلَّى - أَلَمْ يَعْلَمُ بِأَنَّ اللَّهَ يَرَى - كَلَّا لَئِنْ لَمْ يَنْتَهِ لَنَسْفَعَنْ بِالنَّاصِيَةِ - نَاصِيَةٍ كَاذِبَةٍ خَاطِئَةٍ - فَلْيَدْعُ نَادِيَة - سَنَدْعُ الزَّبَانِيَةَ - كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبُ .
'আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে নিষেধ করে এক বান্দাকে, যখন সে নামাজ পড়ে? আপনি কি দেখেছেন, যদি সে সৎপথে থাকে অথবা আল্লাহভীতি শিক্ষা দেয়? আপনি কি দেখেছেন, যদি সে মিথ্যারোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়? সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন? কখনোই নয়, যদি সে বিরত না হয়, তবে আমি মস্তকের সামনের কেশগুচ্ছ ধরে হেঁচড়াবই, মিথ্যাচারী, পাপীর কেশগুচ্ছ। অতএব, সে তার সভাসদদের আহ্বান করুক, আমিও আহ্বান করব জাহান্নামের প্রহরীদের, কখনোই নয়; আপনি তার আনুগত্য করবেন না, আপনি সেজদা করুন ও আমার নৈকট্য অর্জন করুন।' [সুরা আলাক : ৯-১৯]

📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 সুরাকা বিন মালেকের ঘটনা

📄 সুরাকা বিন মালেকের ঘটনা


কুরাইশরা ঘোষণা করল, যে ব্যক্তি মুহাম্মদ বা তার সাথি আবু বকরকে পাকড়াও করে আনতে পারবে, তাকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হবে। মানুষের মন পুরস্কার পাওয়ার লোভে উতলা হয়ে উঠল। যারা পুরস্কারের লোভে নবিজির পিছুধাওয়া করেছে, সুরাকা বিন মালেকও তাদের একজন। সুরাকা বিন মালেক নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আবু বকরের নাগাল পেতে সফল হয়। ধীরে ধীরে তাঁদের নিকটবর্তী হতে থাকে। সে ছিল ঘোড় সওয়ারি। আবু বকর নবিজিকে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের কাছকাছি চলে এসেছে।' নবিজি বললেন, 'চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন।' এরপর নবিজি সুরাকার বিরুদ্ধে বদদুআ করলেন। ফলে সুরাকার ঘোড়ার পা দুটি মাটিতে দেবে গেল। এমনকি ঘোড়া পেট পর্যন্ত জমিনে ঢুকে পড়ল। সুরাকা মুক্তি পাওয়ার জন্য খুব চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না।

সুরাকা চিৎকার করে নবিজিকে ডেকে বলল, 'আমি নিশ্চিত, তোমরা দুজন আমার বিরুদ্ধে বদদুআ করেছ। এবার আমার মুক্তির জন্য দুআ করো। অন্য কেউ তোমাদের খোঁজে এলে আমি তাদের ফিরিয়ে দেব।' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মুক্তির জন্য দুআ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেল। সুরাকা মক্কার দিকে ফিরে গেল। কুরাইশ গোত্রের যাকেই নবিজির খোঁজে যেতে দেখত তাকেই বলত, 'এ দিকে অনেক হয়েছে, অন্যদিকে যাও।' আল্লাহ তাআলা তাঁর নবিকে মুক্তি দিলেন এবং তাঁর ওয়াদা সত্য প্রমাণিত করলেন- وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ 'আল্লাহ তাআলা তোমাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন।' [সুরা মায়েদা : ৩৭]

টিকাঃ
৩৯. সহিহ বুখারি: ১১/৪৪৭১।

কুরাইশরা ঘোষণা করল, যে ব্যক্তি মুহাম্মদ বা তার সাথি আবু বকরকে পাকড়াও করে আনতে পারবে, তাকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হবে। মানুষের মন পুরস্কার পাওয়ার লোভে উতলা হয়ে উঠল। যারা পুরস্কারের লোভে নবিজির পিছুধাওয়া করেছে, সুরাকা বিন মালেকও তাদের একজন। সুরাকা বিন মালেক নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আবু বকরের নাগাল পেতে সফল হয়। ধীরে ধীরে তাঁদের নিকটবর্তী হতে থাকে। সে ছিল ঘোড় সওয়ারি। আবু বকর নবিজিকে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের কাছকাছি চলে এসেছে।' নবিজি বললেন, 'চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন।' এরপর নবিজি সুরাকার বিরুদ্ধে বদদুআ করলেন। ফলে সুরাকার ঘোড়ার পা দুটি মাটিতে দেবে গেল। এমনকি ঘোড়া পেট পর্যন্ত জমিনে ঢুকে পড়ল। সুরাকা মুক্তি পাওয়ার জন্য খুব চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না।

সুরাকা চিৎকার করে নবিজিকে ডেকে বলল, 'আমি নিশ্চিত, তোমরা দুজন আমার বিরুদ্ধে বদদুআ করেছ। এবার আমার মুক্তির জন্য দুআ করো। অন্য কেউ তোমাদের খোঁজে এলে আমি তাদের ফিরিয়ে দেব।' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মুক্তির জন্য দুআ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেল। সুরাকা মক্কার দিকে ফিরে গেল। কুরাইশ গোত্রের যাকেই নবিজির খোঁজে যেতে দেখত তাকেই বলত, 'এ দিকে অনেক হয়েছে, অন্যদিকে যাও।' আল্লাহ তাআলা তাঁর নবিকে মুক্তি দিলেন এবং তাঁর ওয়াদা সত্য প্রমাণিত করলেন- وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ 'আল্লাহ তাআলা তোমাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন।' [সুরা মায়েদা : ৩৭]

টিকাঃ
৩৯. সহিহ বুখারি: ১১/৪৪৭১।

কুরাইশরা ঘোষণা করল, যে ব্যক্তি মুহাম্মদ বা তার সাথি আবু বকরকে পাকড়াও করে আনতে পারবে, তাকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হবে। মানুষের মন পুরস্কার পাওয়ার লোভে উতলা হয়ে উঠল। যারা পুরস্কারের লোভে নবিজির পিছুধাওয়া করেছে, সুরাকা বিন মালেকও তাদের একজন।

সুরাকা বিন মালেক নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আবু বকরের নাগাল পেতে সফল হয়। ধীরে ধীরে তাঁদের নিকটবর্তী হতে থাকে। সে ছিল ঘোড় সওয়ারি। আবু বকর নবিজিকে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের কাছকাছি চলে এসেছে।' নবিজি বললেন, 'চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন।' এরপর নবিজি সুরাকার বিরুদ্ধে বদদুআ করলেন। ফলে সুরাকার ঘোড়ার পা দুটি মাটিতে দেবে গেল। এমনকি ঘোড়া পেট পর্যন্ত জমিনে ঢুকে পড়ল। সুরাকা মুক্তি পাওয়ার জন্য খুব চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না।

সুরাকা চিৎকার করে নবিজিকে ডেকে বলল, 'আমি নিশ্চিত, তোমরা দুজন আমার বিরুদ্ধে বদদুআ করেছ। এবার আমার মুক্তির জন্য দুআ করো। অন্য কেউ তোমাদের খোঁজে এলে আমি তাদের ফিরিয়ে দেব।' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মুক্তির জন্য দুআ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেল। সুরাকা মক্কার দিকে ফিরে গেল। কুরাইশ গোত্রের যাকেই নবিজির খোঁজে যেতে দেখত তাকেই বলত, 'এ দিকে অনেক হয়েছে, অন্যদিকে যাও।

আল্লাহ তাআলা তাঁর নবিকে মুক্তি দিলেন এবং তাঁর ওয়াদা সত্য প্রমাণিত করলেন- وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ 'আল্লাহ তাআলা তোমাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন।' [সুরা মায়েদা : ৩৭]

টিকাঃ
৩৯. সহিহ বুখারি: ১১/৪৪৭১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px