📄 তাবুক যুদ্ধ—বিস্ময়ের আধার
এই যুদ্ধে মুসলিমরা কঠিন ক্ষুধা, পিপাসা এবং কষ্টের মুখোমুখি হয়। পথ ছিল সুদীর্ঘ, যোদ্ধাসংখ্যা ছিল অনেক বেশি। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সফরে জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করেছেন এবং মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করেছেন। এরপর সাহাবিগণকে বললেন-
'তোমরা আগামীকাল ইনশাআল্লাহ আইনে তাবুকে পৌঁছবে। তোমরা দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত সেখানে যাবে না। আর যদি কেউ আগেই সেখানে পৌঁছে যায়, সে যেন আমি আসার আগ পর্যন্ত সেখান থেকে কিছুই স্পর্শ না করে।'
সৈন্যদল কিছু দূর অগ্রসর হয়েছেন। যখন নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের সাথে মিলিত হলেন, ততক্ষণে দুজন মানুষ আইনুলমা-ঝরনা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ঝরনাতে পানি ছিল খুব কম। সেখান থেকে পানিও আসছিল খুব কম। নবিজি সাল্লাল্লাহu এ অবস্থা দেখে তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কি পানিতে হাত দিয়েছিলে?' তাঁরা বললেন, 'হ্যাঁ'।
নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাগান্বিত হয়ে বললেন, 'নিষেধ করার পরও তোমরা কীভাবে এখানে হাত দিলে?' এরপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকলের মাঝে পানি স্পর্শ না করার ঘোষণা দিলেন এবং ওই দুজনকে তিরস্কার করলেন ও উত্তম-মাধ্যম কিছু কথা বললেন। সাহাবিগণ পিপাসার্ত ছিলেন। তাই নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিলে সকলেই আঁজলা দিয়ে অল্প উল্লেখ পানি আনলেন এবং ছোট একটি পাত্রে রাখলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাতে হাত-মুখ ধুলেন। তারপর এই ব্যবহৃত পানি ঝরনায় ফেলে দিলেন। নবিজির ব্যবহৃত পানি ঝরনার পানিতে পড়ামাত্রই প্রবলবেগে ঝরনা প্রবাহ হতে লাগল।
সাহাবিগণ পানি সংগ্রহ করলেন, পান করলেন, পরিতৃপ্ত হলেন এবং অজু করলেন। এরপর নবিজি মুয়াজকে সম্বোধন করে বললেন, 'হে মুয়াজ, যদি তুমি দীর্ঘ হায়াত পাও, তাহলে এই স্থানটাকে ফসল এবং বাগানে ভরপুর দেখবে।'
টিকাঃ
৩৬. সহিহ মুসলিম: ১১/৩৯০।
এই যুদ্ধে মুসলিমরা কঠিন ক্ষুধা, পিপাসা এবং কষ্টের মুখোমুখি হয়। পথ ছিল সুদীর্ঘ, যোদ্ধাসংখ্যা ছিল অনেক বেশি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সফরে জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করেছেন এবং মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করেছেন। এরপর সাহাবিগণকে বললেন-
إِنَّكُمْ سَتَأْتُونَ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ عَيْنَ تَبُوكَ وَإِنَّكُمْ لَنْ تَأْتُوهَا حَتَّى يُضْحِيَ النَّهَارُ فَمَنْ جَاءَهَا مِنْكُمْ فَلَا يَمَسَّ مِنْ مَائِهَا شَيْئًا حَتَّى آتِيَ .
'তোমরা আগামীকাল ইনশাআল্লাহ আইনে তাবুকে পৌঁছবে। তোমরা দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত সেখানে যাবে না। আর যদি কেউ আগেই সেখানে পৌঁছে যায়, সে যেন আমি আসার আগ পর্যন্ত সেখান থেকে কিছুই স্পর্শ না করে।
সৈন্যদল কিছু দূর অগ্রসর হয়েছেন। যখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের সাথে মিলিত হলেন, ততক্ষণে দুজন মানুষ আইনুলমা-ঝরনা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ঝরনাতে পানি ছিল খুব কম। সেখান থেকে পানিও আসছিল খুব কম। নবিজি সাল্লাল্লাহু এ অবস্থা দেখে তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কি পানিতে হাত দিয়েছিলে?' তাঁরা বললেন, 'হ্যাঁ'।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাগান্বিত হয়ে বললেন, 'নিষেধ করার পরও তোমরা কীভাবে এখানে হাত দিলে?' এরপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকলের মাঝে পানি স্পর্শ না করার ঘোষণা দিলেন এবং ওই দুজনকে তিরস্কার করলেন ও উত্তম-মাধ্যম কিছু কথা বললেন। সাহাবিগণ পিপাসার্ত ছিলেন। তাই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিলে সকলেই আঁজলা দিয়ে অল্প উল্লেখ পানি আনলেন এবং ছোট একটি পাত্রে রাখলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাতে হাত-মুখ ধুলেন। তারপর এই ব্যবহৃত পানি ঝরনায় ফেলে দিলেন। নবিজির ব্যবহৃত পানি ঝরনার পানিতে পড়ামাত্রই প্রবলবেগে ঝরনা প্রবাহ হতে লাগল। সাহাবিগণ পানি সংগ্রহ করলেন, পান করলেন, পরিতৃপ্ত হলেন এবং অজু করলেন। এরপর নবিজি মুয়াজকে সম্বোধন করে বললেন, 'হে মুয়াজ, যদি তুমি দীর্ঘ হায়াত পাও, তাহলে এই স্থানটাকে ফসল এবং বাগানে ভরপুর দেখবে।
টিকাঃ
৩৬. সহিহ মুসলিম: ১১/৩৯০।
📄 এত খাবার!
জাবের রাদিয়াল্লাহu আনহু বলেন, আমরা খন্দক যুদ্ধের সময় পরিখা খনন করছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড শক্ত একটি পাথর বের হলো। সাহাবিগণ নবিজির নিকট গিয়ে বললেন, 'প্রচণ্ড শক্ত একটি পাথরের সম্মুখীন হয়েছি।' নবিজি বললেন, 'আমি আসছি।' নবিজি রওয়ানা হলেন, তখন তাঁর পেটে ক্ষুধার তাড়নায় পাথর বাঁধা ছিল, আমরাও তিন দিন যাবৎ কোনো খাবারের স্বাদ আস্বাদন করতে পারিনি।
'নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাতিয়ার নিয়ে খুব জোরে আঘাত করলে পাথরটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, অনুমতি হলে আমি একটু বাড়ি যাব।'
জাবের রাদিয়াল্লাহu আনহু বলেন, আমি স্ত্রীকে বললাম, 'নবিজির ক্ষুধার জ্বালা আমি আর সহ্য করতে পারছি না।' স্ত্রী বললেন, 'আমার কাছে কিছু জব এবং ছোট বকরির বাচ্চা আছে।'
সুতরাং আমি বকরির বাচ্চাটি জবাই করলাম এবং জব দিয়ে রুটি তৈরি করলাম। এরপর গোশতের টুকরোগুলো পাতিলে তুলে দিয়ে নবিজির কাছে ফিরে চললাম। স্ত্রী বলল, 'তুমি আবার নবিজির সাথে সাহাবিগণকে নিয়ে এসে আমাকে অপমান করো না যেন।'
জাবের বলেন, আমি গিয়ে নবিজিকে গোপনে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, কিছু খাবারের আয়োজন করেছি, আপনি এবং সাথে দু-একজনকে নিয়ে তাশরিফ রাখুন।'
নবিজি বললেন, 'কতটুকু খাবার রান্না করেছ? আমি তাঁকে বকরির বাচ্চা এবং সামান্য রুটির কথা বললাম। নবিজি বললেন, 'ভালো! অনেক খাবার তো!' এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম উচ্চৈঃস্বরে বললেন, 'হে পরিখাবাসীরা, জাবের তোমাদের জন্য খাবার তৈরি করেছে, তোমরা চলো।'
তারপর নবিজি বললেন, 'আমি আসার আগ পর্যন্ত পাতিল ও রুটি চুলা থেকে নামাবে না।' মুহাজির এবং আনসারগণ রওয়ানা হলেন। জাবের যখন স্ত্রীর কাছে গিয়ে বললেন, 'সর্বনাশ! নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল মুহাজির ও আনসারকে সাথে নিয়ে আসছেন।'
স্ত্রী বললেন, 'আমি আপনাকে যেভাবে বলতে বলেছি, আপনি সেভাবে বলেননি?' জাবের বললেন, 'আমি তোমার কথামতোই কাজ করেছি।'
জাবের বললেন, 'আমি নবিজির সামনে আটার খামিরা পেশ করলাম। নবিজি তাতে থুথু মোবারক দিলেন এবং বরকতের দুআ করলেন। এরপর পাতিলের কাছে এসে তাতেও থুথu মোবারক দিলেন এবং বরকতের দুআ করলেন।'
নবিজি বললেন, একজনকে ডাকো, সে যেন আমার সাথে থেকে রুটি বণ্টন করে আর তুমি পাতিল থেকেই গোশত বণ্টন করো; কিন্তু সেটা চুলা থেকে নামাবে না। পরিখা খননকারী সাহাবি ছিলেন ১ হাজার। জাবের আল্লাহর কসম খেয়ে বলেন, 'সকলেই তৃপ্তিসহ খেলেন, খাবার বেঁচে গেল এবং তাঁরা ফিরে গেলেন। আমাদের পাতিল পূর্বের ন্যায় ঢাকাই ছিল এবং আমাদের আটার খামিরা রুটি তৈরির যোগ্যই ছিল সেই আগের মতোই।
টিকাঃ
৩৭. সহিহ বুখারি: ১৩/৫।
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা খন্দক যুদ্ধের সময় পরিখা খনন করছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড শক্ত একটি পাথর বের হলো। সাহাবিগণ নবিজির নিকট গিয়ে বললেন, 'প্রচণ্ড শক্ত একটি পাথরের সম্মুখীন হয়েছি।' নবিজি বললেন, 'আমি আসছি।' নবিজি রওয়ানা হলেন, তখন তাঁর পেটে ক্ষুধার তাড়নায় পাথর বাঁধা ছিল, আমরাও তিন দিন যাবৎ কোনো খাবারের স্বাদ আস্বাদন করতে পারিনি।
'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাতিয়ার নিয়ে খুব জোরে আঘাত করলে পাথরটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, অনুমতি হলে আমি একটু বাড়ি যাব।'
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি স্ত্রীকে বললাম, 'নবিজির ক্ষুধার জ্বালা আমি আর সহ্য করতে পারছি না।' স্ত্রী বললেন, 'আমার কাছে কিছু জব এবং ছোট বকরির বাচ্চা আছে।' সুতরাং আমি বকরির বাচ্চাটি জবাই করলাম এবং জব দিয়ে রুটি তৈরি করলাম। এরপর গোশতের টুকরোগুলো পাতিলে তুলে দিয়ে নবিজির কাছে ফিরে চললাম। স্ত্রী বলল, 'তুমি আবার নবিজির সাথে সাহাবিগণকে নিয়ে এসে আমাকে অপমান করো না যেন।'
জাবের বলেন, আমি গিয়ে নবিজিকে গোপনে বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, কিছু খাবারের আয়োজন করেছি, আপনি এবং সাথে দু-একজনকে নিয়ে তাশরিফ রাখুন।' নবিজি বললেন, 'কতটুকু খাবার রান্না করেছ? আমি তাঁকে বকরির বাচ্চা এবং সামান্য রুটির কথা বললাম। নবিজি বললেন, 'ভালো! অনেক খাবার তো!' এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উচ্চৈঃস্বরে বললেন, 'হে পরিখাবাসীরা, জাবের তোমাদের জন্য খাবার তৈরি করেছে, তোমরা চলো।'
তারপর নবিজি বললেন, 'আমি আসার আগ পর্যন্ত পাতিল ও রুটি চুলা থেকে নামাবে না।' এরপর মুহাজির এবং আনসারগণ রওয়ানা হলেন। জাবের যখন স্ত্রীর কাছে গিয়ে বললেন, 'সর্বনাশ! নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল মুহাজির ও আনসারকে সাথে নিয়ে আসছেন।'
স্ত্রী বললেন, 'আমি আপনাকে যেভাবে বলতে বলেছি, আপনি সেভাবে বলেননি?' জাবের বললেন, 'আমি তোমার কথামতোই কাজ করেছি।' জাবের বলেন, 'আমি নবিজির সামনে আটার খামিরা পেশ করলাম। নবিজি তাতে থুথু মোবারক দিলেন এবং বরকতের দুআ করলেন। এরপর পাতিলের কাছে এসে তাতেও থুথু মোবারক দিলেন এবং বরকতের দুআ করলেন।'
নবিজি বললেন, একজনের ডাকো, সে যেন আমার সাথে থেকে রুটি বণ্টন করে আর তুমি পাতিল থেকেই গোশত বণ্টন করো; কিন্তু সেটা চুলা থেকে নামাবে না। পরিখা খননকারী সাহাবি ছিলেন ১ হাজার। জাবের আল্লাহর কসম খেয়ে বলেন, 'সকলেই তৃপ্তিসহ খেলেন, খাবার বেঁচে গেল এবং তাঁরা ফিরে গেলেন। আমাদের পাতিল পূর্বের ন্যায় ঢাকাই ছিল এবং আমাদের আটার খামিরা রুটি তৈরির যোগ্যই ছিল সেই আগের মতোই।
টিকাঃ
৩৭. সহিহ বুখারি: ১৩/৫।
📄 এত দুধ!
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ওই আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি ক্ষুধার জ্বালায় মাটিতে ভর করে চলতাম। ক্ষুধার তাড়নায় পেটে অনেক বড় পাথর বেঁধে রেখেছিলাম। আমি একদিন ক্ষুধার তাড়নায় সাহাবিগণের চলার পথে বসে থাকলাম। আমার পাশ দিয়ে আবু বকর যেতে লাগলেন। আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমি তাঁকে কেবল এ জন্যই জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তিনি আমার অবস্থা জিজ্ঞেস করবেন; কিন্তু তিনি এমন কিছুই করলেন না। এরপর আমার পাশ দিয়ে উমর যেতে লাগলেন। আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমি তাঁকে কেবল এ জন্যই জিজ্ঞেস করছিলাম যে, তিনি আমার অবস্থা জিজ্ঞেস করবেন; কিন্তু তিনিও এমন কিছু করলেন না।
এরপর আমার পাশ দিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাচ্ছিলেন। আমাকে দেখে তিনি মুচকি হাসলেন এবং আমার চেহারার ও মনের ভাব বুঝে ফেললেন। তারপর বললেন, ‘হে আবু হুরাইরা,’ আমি বললাম, ‘জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি হাজির।’ নবিজি বললেন, ‘চলো আমার সাথে।’ নবিজি চলতে লাগলেন। আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। নবিজি বাড়িতে প্রবেশ করলেন, আমাকে প্রবেশের অনুমতি দিলে আমিও প্রবেশ করলাম। বাটিতে কিছু দুধ পেলেন। নবিজি পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘দুধ কোথা থেকে এসেছে?’ বাড়ির লোকজন বলল, ‘অমুক আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছে।’ নবিজি বললেন, ‘হে আবু হুরাইরা,’ আমি বললাম, ‘জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ,’ নবিজি বললেন, ‘আহলুস-সুফফাদের কাছে গিয়ে তাঁদের ডেকে আনো।’
আবু হুরাইরা বলেন, আহলুস-সুফফা হলো ইসলামের মেহমান। তাঁরা পরিবার বা সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। যখন তাঁদের কাছে সদকার কিছু আসে, তখন সেখান থেকে আহার করেন। যখন নবিজির কাছে কোনো হাদিয়া আসে তাঁদের জন্য পাঠিয়ে দেন এবং তাঁদের হাদিয়ার মধ্যে শরিক করেন। যখন নবিজি তাঁদের ডাকতে পাঠালেন, আমার কাছে খারাপ লাগল। মনে মনে বললাম, এই অল্প দুধে আহলে সুফফার কী হবে! আমি এই দুধের অধিক হকদার, যেন তা পান করে একটু শক্তি সঞ্চয় করব। যখন আহলে সুফফা আসবে, নবিজি আমাকে নির্দেশ করবেন সকলকে পান করাতে। আমি তাঁদের পান করাব। আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে, দুধ আমার পর্যন্ত পৌঁছবে!
কিন্তু আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের আনুগত্য না করেও কোনো উপায় ছিল না। আমি তাঁদের ডাকলাম। তাঁরা এলেন। নবিজি অনুমতি দিলে তাঁরা ঘরে আপন আপন স্থান গ্রহণ করলেন। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'আবু হুরাইরা,' আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমি হাজির।' নবিজি বললেন, 'ধরো এবং সকলকে পান করাও।' সুতরাং আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং সকলের সামনে উপস্থাপন করতে থাকলাম। একজন পরিতৃপ্ত হয়ে পান করল। আমি পেয়ালাটি আরেকজনকে দিলাম, সে-ও পরিতৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলো। আমি আরেকজনকে পেয়ালাটি দিলাম। সে-ও পরিতৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলো। পরিশেষে নবিজির কাছে আসলাম। কওমের সকলেই পরিতৃপ্ত হয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাত্রটি নিয়ে নিজ হাতে রাখলেন, তারপর আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, 'আবু হুরাইরা' আমি বললাম, 'হাজির, হে আল্লাহর রাসুল।' নবিজি বললেন, 'আমি আর তুমি রয়ে গেছি।' বললাম, 'সত্যিই বলেছেন, হে আল্লাহর রাসুল।' নবিজি বললেন, 'বসে পান করা শুরু করো।' সুতরাং আমি বসে পান করলাম। নবিজি বললেন, 'আরও পান করো।' আমি আরও পান করলাম। নবিজি বলতে থাকলেন, 'আরও পান করো।' আমি পান করতে থাকলাম। শেষপর্যন্ত বলতে বাধ্য হলাম, 'ওই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আর পারছি না!'
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ওই আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি ক্ষুধার জ্বালায় মাটিতে ভর করে চলতাম। ক্ষুধার তাড়নায় পেটে অনেক বড় পাথর বেঁধে রেখেছিলাম। আমি একদিন ক্ষুধার তাড়নায় সাহাবিগণের চলার পথে বসে থাকলাম। আমার পাশ দিয়ে আবু বকর যেতে লাগলেন। আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমি তাঁকে কেবল এ জন্যই জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তিনি আমার অবস্থা জিজ্ঞেস করবেন; কিন্তু তিনি এমন কিছুই করলেন না। এরপর আমার পাশ দিয়ে উমর যেতে লাগলেন। আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমি তাঁকে কেবল এ জন্যই জিজ্ঞেস করছিলাম যে, তিনি আমার অবস্থা জিজ্ঞেস করবেন; কিন্তু তিনিও এমন কিছু করলেন না।
এরপর আমার পাশ দিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাচ্ছিলেন। আমাকে দেখে তিনি মুচকি হাসলেন এবং আমার চেহারার ও মনের ভাব বুঝে ফেললেন। তারপর বললেন, ‘হে আবু হুরাইরা,’ আমি বললাম, ‘জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি হাজির।’ নবিজি বললেন, ‘চলো আমার সাথে।’ নবিজি চলতে লাগলেন। আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। নবিজি বাড়িতে প্রবেশ করলেন, আমাকে প্রবেশের অনুমতি দিলে আমিও প্রবেশ করলাম। বাটিতে কিছু দুধ পেলেন। নবিজি পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘দুধ কোথা থেকে এসেছে?’ বাড়ির লোকজন বলল, ‘অমুক আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছে।’ নবিজি বললেন, ‘হে আবু হুরাইরা,’ আমি বললাম, ‘জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ,’ নবিজি বললেন, ‘আহলুস-সুফফাদের কাছে গিয়ে তাঁদের ডেকে আনো।’
আবু হুরাইরা বলেন, আহলুস-সুফফা হলো ইসলামের মেহমান। তাঁরা পরিবার বা সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। যখন তাঁদের কাছে সদকার কিছু আসে, তখন সেখান থেকে আহার করেন। যখন নবিজির কাছে কোনো হাদিয়া আসে তাঁদের জন্য পাঠিয়ে দেন এবং তাঁদের হাদিয়ার মধ্যে শরিক করেন। যখন নবিজি তাঁদের ডাকতে পাঠালেন, আমার কাছে খারাপ লাগল। মনে মনে বললাম, এই অল্প দুধে আহলে সুফফার কী হবে! আমি এই দুধের অধিক হকদার, যেন তা পান করে একটু শক্তি সঞ্চয় করব। যখন আহলে সুফফা আসবে, নবিজি আমাকে নির্দেশ করবেন সকলকে পান করাতে। আমি তাঁদের পান করাব। আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে, দুধ আমার পর্যন্ত পৌঁছবে!
কিন্তু আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের আনুগত্য না করেও কোনো উপায় ছিল না। আমি তাঁদের ডাকলাম। তাঁরা এলেন। নবিজি অনুমতি দিলে তাঁরা ঘরে আপন আপন স্থান গ্রহণ করলেন। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'আবু হুরাইরা,' আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমি হাজির।' নবিজি বললেন, 'ধরো এবং সকলকে পান করাও।' সুতরাং আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং সকলের সামনে উপস্থাপন করতে থাকলাম। একজন পরিতৃপ্ত হয়ে পান করল। আমি পেয়ালাটি আরেকজনকে দিলাম, সে-ও পরিতৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলো। আমি আরেকজনকে পেয়ালাটি দিলাম। সে-ও পরিতৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলো। পরিশেষে নবিজির কাছে আসলাম। কওমের সকলেই পরিতৃপ্ত হয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাত্রটি নিয়ে নিজ হাতে রাখলেন, তারপর আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, 'আবু হুরাইরা' আমি বললাম, 'হাজির, হে আল্লাহর রাসুল।' নবিজি বললেন, 'আমি আর তুমি রয়ে গেছি।' বললাম, 'সত্যিই বলেছেন, হে আল্লাহর রাসুল।' নবিজি বললেন, 'বসে পান করা শুরু করো।' সুতরাং আমি বসে পান করলাম। নবিজি বললেন, 'আরও পান করো।' আমি আরও পান করলাম। নবিজি বলতে থাকলেন, 'আরও পান করো।' আমি পান করতে থাকলাম। শেষপর্যন্ত বলতে বাধ্য হলাম, 'ওই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আর পারছি না!'
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ওই আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি ক্ষুধার জ্বালায় মাটিতে ভর করে চলতাম। ক্ষুধার তাড়নায় পেটে অনেক বড় পাথর বেঁধে রেখেছিলাম। আমি একদিন ক্ষুধার তাড়নায় সাহাবিগণের চলার পথে বসে থাকলাম। আমার পাশ দিয়ে আবু বকর যেতে লাগলেন। আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমি তাঁকে কেবল এ জন্যই জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তিনি আমার অবস্থা জিজ্ঞেস করবেন; কিন্তু তিনি এমন কিছুই করলেন না।
এরপর আমার পাশ দিয়ে উমর যেতে লাগলেন। আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমি তাঁকে কেবল এ জন্যই জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তিনি আমার অবস্থা জিজ্ঞেস করবেন; কিন্তু তিনিও এমন কিছু করলেন না।
এরপর আমার পাশ দিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাচ্ছিলেন। আমাকে দেখে তিনি মুচকি হাসলেন এবং আমার চেহারার ও মনের ভাব বুঝে ফেললেন। তারপর বললেন, ‘হে আবু হুরাইরা,’ আমি বললাম, ‘জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি হাজির।’ নবিজি বললেন, ‘চলো আমার সাথে।’
নবিজি চলতে লাগলেন। আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। নবিজি বাড়িতে প্রবেশ করলেন, আমাকে প্রবেশের অনুমতি দিলে আমিও প্রবেশ করলাম। বাটিতে কিছু দুধ পেলেন। নবিজি পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘দুধ কোথা থেকে এসেছে?’ বাড়ির লোকজন বলল, ‘অমুক আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছে।’ নবিজি বললেন, ‘হে আবু হুরাইরা,’ আমি বললাম, ‘জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ,’ নবিজি বললেন, 'আহলুস-সুফফাদের কাছে গিয়ে তাঁদের ডেকে আনো।'
আবু হুরাইরা বলেন, আহলুস-সুফফা হলো ইসলামের মেহমান। তাঁরা পরিবার বা সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। যখন তাঁদের কাছে সদকার কিছু আসে, তখন সেখান থেকে আহার করেন। যখন নবিজির কাছে কোনো হাদিয়া আসে তাঁদের জন্য পাঠিয়ে দেন এবং তাঁদের হাদিয়ার মধ্যে শরিক করেন। যখন নবিজি তাঁদের ডাকতে পাঠালেন, আমার কাছে খারাপ লাগল। মনে মনে বললাম, এই অল্প দুধে আহলে সুফফার কী হবে! আমি এই দুধের অধিক হকদার, যেন তা পান করে একট শক্তি সঞ্চয় করব। যখন আহলে সুফফা আসবে, নবিজি আমাকে নির্দেশ করবেন সকলকে পান করাতে। আমি তাঁদের পান করাব। আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে, দুধ আমার পর্যন্ত পৌঁছবে!
কিন্তু আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের আনুগত্য না করেও কোনো উপায় ছিল না। আমি তাঁদের ডাকলাম। তাঁরা এলেন। নবিজি অনুমতি দিলে তাঁরা ঘরে আপন আপন স্থান গ্রহণ করলেন। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'আবু হুরাইরা,' আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমি হাজির।' নবিজি বললেন, 'ধরো এবং সকলকে পান করাও।'
সুতরাং আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং সকলের সামনে উপস্থাপন করতে থাকলাম। একজন পরিতৃপ্ত হয়ে পান করল। আমি পেয়ালাটি আরেকজনকে দিলাম, সে-ও পরিতৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলো। আমি আরেকজনকে পেয়ালাটি দিলাম। সে-ও পরিতৃপ্ত হয়ে পান করে পেয়ালাটি আমাকে ফিরিয়ে দিলো।
পরিশেষে নবিজির কাছে আসলাম। কওমের সকলেই পরিতৃপ্ত হয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাত্রটি নিয়ে নিজ হাতে রাখলেন, তারপর আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, 'আবু হুরাইরা' আমি বললাম, 'হাজির, হে আল্লাহর রাসুল।' নবিজি বললেন, 'আমি আর তুমি রয়ে গেছি।' বললাম, 'সত্যিই বলেছেন, হে আল্লাহর রাসুল।' নবিজি বললেন, 'বসে পান করা শুরু করো।' সুতরাং আমি বসে পান করলাম। নবিজি বললেন, 'আরও পান করো।' আমি আরও পান করলাম। নবিজি বলতে থাকলেন, 'আরও পান করো।' আমি পান করতে থাকলাম। শেষপর্যন্ত বলতে বাধ্য হলাম, 'ওই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আর পারছি না!'
📄 তাবুকে আরেকবার
তাবুক যুদ্ধে মুসলিমরা কঠিন ক্ষিধা ও পিপাসায় আক্রান্ত হলেন। তাই সাহাবিগণ উট জবাই করে খাওয়ার চিন্তা করলেন। তাঁরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অনুমতি চেয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আপনি অনুমতি দিলে আমরা উট জবাই করব। সেটির মাংস খাব এবং চর্বি ব্যবহার করব।' তাঁরা প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত ছিলেন। তীব্র রোদের কারণে পিপাসা তাঁদের অবস্থা নাজুক করে ফেলছিল। তাঁরা সব উটও জবাই করছিলেন না; বরং ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য কিছু উট। নবিজি বললেন, 'ঠিক আছে, তোমরা কাজে লেগে যাও।' সাহাবিগণ কয়েকটি উট জবাই করার মনস্থ করলেন।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণের প্রতি ছিলেন দয়াপরবশ; কিন্তু তিনি সকলের মতামত জানার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন, যেন সকলের অভিব্যক্তি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবিজির কাছে এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, যদি এমন করেন, তাহলে বাহন কমে যাবে।' অর্থাৎ এভাবে তাঁরা উট জবাই করা শুরু করলে সফর পূর্ণ করার জন্য বাহন পাওয়া যাবে না। 'তাই তাঁদের বলুন, যার কাছে যে পরিমাণ অতিরিক্ত খেজুর বা রুটি আছে, জমা করুক। তারপর হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি তাতে বরকত দান করেন।' নবিজি বললেন, 'হ্যাঁ, ঠিক আছে।'
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চামড়ার দস্তরখান মাটিতে বিছিয়ে সবাইকে তাঁদের কাছে থাকা খাবারগুলো জমা করতে বললেন। সুতরাং কেউ এক মুঠো ভুট্টা নিয়ে এল, কেউ এক মুঠো খেজুর নিয়ে এল, কেউ রুটির টুকরো নিয়ে এল; সব মিলিয়ে দস্তরখানে কিছু খাবার জমা হলো। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাবারগুলোতে বরকতের দুআ করলেন এবং বললেন, 'তোমরা পাত্রে খাবার নিয়ে নাও।' সবাই নিজ নিজ পাত্রে খাবার নিতে থাকলেন। যুদ্ধে আসা সকলেই পাত্র পুরো করে খাবার নিলেন। সকলেই খেয়ে পরিতৃপ্ত হলেন। তারপরও দস্তরখানে খাবার থেকেই গেল! তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন— أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّه وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ لَا يَلْقَى اللَّهُ بِهِمَا عَبْدُ غَيْرَ شَاكٍ فَيُحْجَبَ عَنْ الْجَنَّةِ. 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি তাঁর রাসুল। যে ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে এই দুটি কথা বলবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।
টিকাঃ
৩৮. সহিহ বুখারি: ২০/৮৭।
তাবুক যুদ্ধে মুসলিমরা কঠিন ক্ষিধা ও পিপাসায় আক্রান্ত হলেন। তাই সাহাবিগণ উট জবাই করে খাওয়ার চিন্তা করলেন। তাঁরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অনুমতি চেয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আপনি অনুমতি দিলে আমরা উট জবাই করব। সেটির মাংস খাব এবং চর্বি ব্যবহার করব।' তাঁরা প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত ছিলেন। তীব্র রোদের কারণে পিপাসা তাঁদের অবস্থা নাজুক করে ফেলছিল। তাঁরা সব উটও জবাই করছিলেন না; বরং ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য কিছু উট। নবিজি বললেন, 'ঠিক আছে, তোমরা কাজে লেগে যাও।' সাহাবিগণ কয়েকটি উট জবাই করার মনস্থ করলেন।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণের প্রতি ছিলেন দয়াপরবশ; কিন্তু তিনি সকলের মতামত জানার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন, যেন সকলের অভিব্যক্তি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবিজির কাছে এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, যদি এমন করেন, তাহলে বাহন কমে যাবে।' অর্থাৎ এভাবে তাঁরা উট জবাই করা শুরু করলে সফর পূর্ণ করার জন্য বাহন পাওয়া যাবে না। 'তাই তাঁদের বলুন, যার কাছে যে পরিমাণ অতিরিক্ত খেজুর বা রুটি আছে, জমা করুক। তারপর হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি তাতে বরকত দান করেন।' নবিজি বললেন, 'হ্যাঁ, ঠিক আছে।'
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চামড়ার দস্তরখান মাটিতে বিছিয়ে সবাইকে তাঁদের কাছে থাকা খাবারগুলো জমা করতে বললেন। সুতরাং কেউ এক মুঠো ভুট্টা নিয়ে এল, কেউ এক মুঠো খেজুর নিয়ে এল, কেউ রুটির টুকরো নিয়ে এল; সব মিলিয়ে দস্তরখানে কিছু খাবার জমা হলো। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাবারগুলোতে বরকতের দুআ করলেন এবং বললেন, 'তোমরা পাত্রে খাবার নিয়ে নাও।' সবাই নিজ নিজ পাত্রে খাবার নিতে থাকলেন। যুদ্ধে আসা সকলেই পাত্র পুরো করে খাবার নিলেন। সকলেই খেয়ে পরিতৃপ্ত হলেন। তারপরও দস্তরখানে খাবার থেকেই গেল! তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন— أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّه وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ لَا يَلْقَى اللَّهُ بِهِمَا عَبْدُ غَيْرَ شَاكٍ فَيُحْجَبَ عَنْ الْجَنَّةِ. 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি তাঁর রাসুল। যে ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে এই দুটি কথা বলবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।
টিকাঃ
৩৮. সহিহ বুখারি: ২০/৮৭।
তাবুক যুদ্ধে মুসলিমরা কঠিন ক্ষিধা ও পিপাসায় আক্রান্ত হলেন। তাই সাহাবিগণ উট জবাই করে খাওয়ার চিন্তা করলেন। তাঁরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অনুমতি চেয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আপনি অনুমতি দিলে আমরা উট জবাই করব। সেটির মাংস খাব এবং চর্বি ব্যবহার করব।' তাঁরা প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত ছিলেন। তীব্র রোদের কারণে পিপাসা তাঁদের অবস্থা নাজুক করে ফেলছিল। তাঁরা সব উটও জবাই করছিলেন না; বরং ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য কিছু উট। নবিজি বললেন, 'ঠিক আছে, তোমরা কাজে লেগে যাও।' সাহাবিগণ কয়েকটি উট জবাই করার মনস্থ করলেন।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণের প্রতি ছিলেন দয়াপরবশ; কিন্তু তিনি সকলের মতামত জানার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন, যেন সকলের অভিব্যক্তি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবিজির কাছে এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, যদি এমন করেন, তাহলে বাহন কমে যাবে।' অর্থাৎ এভাবে তাঁরা উট জবাই করা শুরু করলে সফর পূর্ণ করার জন্য বাহন পাওয়া যাবে না। 'তাই তাঁদের বলুন, যার কাছে যে পরিমাণ অতিরিক্ত খেজুর বা রুটি আছে, জমা করুক। তারপর হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি তাতে বরকত দান করেন।'
নবিজি বললেন, 'হ্যাঁ, ঠিক আছে।' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চামড়ার দস্তরখান মাটিতে বিছিয়ে সবাইকে তাঁদের কাছে থাকা খাবারগুলো জমা করতে বললেন। সুতরাং কেউ এক মুঠো ভুট্টা নিয়ে এল, কেউ এক মুঠো খেজুর নিয়ে এল, কেউ রুটির টুকরো নিয়ে এল; সব মিলিয়ে দস্তরখানে কিছু খাবার জমা হলো।
তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাবারগুলোতে বরকতের দুআ করলেন এবং বললেন, 'তোমরা পাত্রে খাবার নিয়ে নাও।' সবাই নিজ নিজ পাত্রে খাবার নিতে থাকলেন। যুদ্ধে আসা সকলেই পাত্র পুরো করে খাবার নিলেন। সকলেই খেয়ে পরিতৃপ্ত হলেন। তারপরও দস্তরখানে খাবার থেকেই গেল!
তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّه وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ لَا يَلْقَى اللَّهُ بِهِمَا عَبْدُ غَيْرَ شَاكٍ فَيُحْجَبَ عَنْ الْجَنَّةِ.
'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি তাঁর রাসুল। যে ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে এই দুটি কথা বলবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।
টিকাঃ
৩৮. সহিহ বুখারি: ২০/৮৭।