📄 পানি
প্রচণ্ড রোদ এবং তাপদাহের সময় রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে সঙ্গে নিয়ে সফরে বের হলেন। সফর ছিল দীর্ঘ। কিন্তু পথে কোথাও পানি ও কূপ ছিল না। সাহাবিগণ নবিজির নিকট পিপাসার কথা জানালেন। এর সমাধান করা ছাড়া কোনো পথও ছিল না।
একজায়গায় যাত্রাবিরতি করলেন। অতঃপর আলি রাদিয়াল্লাহu আনহু-সহ আরেকজন সাহাবিকে ডাকলেন। তারপর বললেন, 'দুজনে পানির খোঁজে যাও।' আলি এবং তাঁর সাথি পানির খোঁজে গেলেন। খুঁজতে খুঁজতে দুই টিলার মাঝে তাঁরা একজন মহিলাকে পেলেন। তার উটের ওপর পানি ছিল। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, 'পানি কোথায় আছে?' মহিলা জবাব দিলো, 'পানি এবং তাদের মাঝের দূরত্ব এক দিন ও এক রাতের পথ।'
তাঁরা বললেন, 'আমাদের সাথে চলুন।' মহিলা জিজ্ঞেস করল, 'কোথায়?' তাঁরা বললেন, 'আল্লাহর রাসুলের কাছে।' মহিলা বলল, 'যাকে সাবিয়ি তথা বিধর্মী বলা হয়?' মুশরিকরা নবিজিকে এই নামেই ডাকত। আস-সাবিয়ি অর্থাৎ তাদের ধর্মকে পরিবর্তনকারী। সাহাবিগণ তার সাথে কথা দীর্ঘ না করে বললেন, 'আপনারা যা বোঝেন তিনি সে-ই, চলুন।'
মহিলাটি উটে বসেই তাদের সাথে চলল। সাহাবিগণ তাকে নিয়ে নবিজির কাছে এলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে পানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। মহিলা বলল, ‘পানি অনেক দূরে।’ সাথে এ কথাও বলল, ‘সে দুর্বল এবং এতিমের মা।’ নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানিভর্তি দুটি বোতল নিলেন এবং তাঁর দুই হাত বুলিয়ে দিলেন। তারপর পানি রাখার বাসন আনতে বললেন, তখন দুই বোতলের মুখ দিয়ে পানির ফোয়ারা ছুটল। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবাইকে বললেন— 'পানি পান করো এবং সংগ্রহ করো।'
সাহাবিগণ পাত্র নিয়ে এলেন এবং কেউ পান করলেন আর কেউ পাত্র পূর্ণ করলেন, যাঁর যেটা মন চাইল সেটাই করলেন। মহিলাটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল যে, তার পানি দিয়ে এ কী করা হচ্ছে! সাহাবিগণ দেখলেন যে, তাদের সমস্ত পাত্র পূর্ণ হয়ে গেছে, কিন্তু মহিলার পানপাত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি, পানি কমেওনি, বাড়েওনি।
নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাটি প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলেন, যদিও তার পানি একটুও কমেনি। সুতরাং সাহাবিগণকে বললেন, ‘তার জন্য কিছু জমা করো।’ সাহাবিগণ শুকনো খেজুর, আজওয়া খেজুর, ময়দা এবং রুটি জমা করলেন। এভাবে তার জন্য অনেক খাবার জমা করে একটি কাপড়ে বেঁধে তার উটে তুলে দিলেন এবং মহিলার সামনে রেখে দিলেন।
তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাকে বললেন, ‘মনে রেখো, তোমার পানি থেকে আমরা পান করিনি, আল্লাহ তাআলাই আমাদের পান করিয়েছেন।’ মহিলা তার পরিবারের নিকট পৌঁছতে কিছু সময় বিলম্ব হলো। তারা জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি বিলম্ব করলে কেন?’ মহিলা বলল, ‘সে একবিস্ময়কর ঘটনা। আমার সাথে দুজন লোকের সাক্ষাৎ হলো। তাঁরা আমাকে ওই লোকটির নিকট নিয়ে গেল, যাকে সাবিয়ি বলা হয়। তারপর সে এমন এমন করল। আল্লাহর কসম, সে হয়তো আকাশ ও জমিনের সবচেয়ে বড় জাদুকর অথবা সে সত্যিই আল্লাহর রাসুল।’
পরবর্তী সময়ে ওই মহিলা এবং তার পরিবার ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হয়েছে।
টিকাঃ
৩৩. সহিহ বুখারি: ২/৭১।
প্রচণ্ড রোদ এবং তাপদাহের সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে সঙ্গে নিয়ে সফরে বের হলেন। সফর ছিল দীর্ঘ। কিন্তু পথে কোথাও পানি ও কূপ ছিল না। সাহাবিগণ নবিজির নিকট পিপাসার কথা জানালেন। এর সমাধান করা ছাড়া কোনো পথও ছিল না।
একজায়গায় যাত্রাবিরতি করলেন। অতঃপর আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু-সহ আরেকজন সাহাবিকে ডাকলেন। তারপর বললেন, 'দুজনে পানির খোঁজে যাও।' আলি এবং তাঁর সাথি পানির খোঁজে গেলেন। খুঁজতে খুঁজতে দুই টিলার মাঝে তাঁরা একজন মহিলাকে পেলেন। তার উটের ওপর পানি ছিল।
তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, 'পানি কোথায় আছে?'
মহিলা জবাব দিলো, 'পানি এবং তাদের মাঝের দূরত্ব এক দিন ও এক রাতের পথ।'
তাঁরা বললেন, 'আমাদের সাথে চলুন।'
মহিলা জিজ্ঞেস করল, 'কোথায়?'
তাঁরা বললেন, 'আল্লাহর রাসুলের কাছে।'
মহিলা বলল, 'যাকে সাবিয়ি তথা বিধর্মী বলা হয়?'
মুশরিকরা নবিজিকে এই নামেই ডাকত। আস-সাবিয়ি অর্থাৎ তাদের ধর্মকে পরিবর্তনকারী। সাহাবিগণ তার সাথে কথা দীর্ঘ না করে বললেন, 'আপনারা যা বোঝেন তিনি সে-ই, চলুন।'
মহিলাটি উটে বসেই তাদের সাথে চলল। সাহাবিগণ তাকে নিয়ে নবিজির কাছে এলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে পানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। মহিলা বলল, ‘পানি অনেক দূরে।’ সাথে এ কথাও বলল, ‘সে দুর্বল এবং এতিমের মা।’
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানিভর্তি দুটি বোতল নিলেন এবং তাঁর দুই হাত বুলিয়ে দিলেন। তারপর পানি রাখার বাসন আনতে বললেন, তখন দুই বোতলের মুখ দিয়ে পানির ফোয়ারা ছুটল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবাইকে বললেন—
اسْقُوْا وَاسْتَقُوْا
‘পানি পান করো এবং সংগ্রহ করো।’
সাহাবিগণ পাত্র নিয়ে এলেন এবং কেউ পান করলেন আর কেউ পাত্র পূর্ণ করলেন, যাঁর যেটা মন চাইল সেটাই করলেন। মহিলাটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল যে, তার পানি দিয়ে এ কী করা হচ্ছে! সাহাবিগণ দেখলেন যে, তাদের সমস্ত পাত্র পূর্ণ হয়ে গেছে, কিন্তু মহিলার পানপাত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি, পানি কমেওনি, বাড়েওনি।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাটি প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলেন, যদিও তার পানি একটুও কমেনি। সুতরাং সাহাবিগণকে বললেন, ‘তার জন্য কিছু জমা করো।’ সাহাবিগণ শুকনো খেজুর, আজওয়া খেজুর, ময়দা এবং রুটি জমা করলেন। এভাবে তার জন্য অনেক খাবার জমা করে একটি কাপড়ে বেঁধে তার উটে তুলে দিলেন এবং মহিলার সামনে রেখে দিলেন।
তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাকে বললেন, ‘মনে রেখো, তোমার পানি থেকে আমরা পান করিনি, আল্লাহ তাআলাই আমাদের পান করিয়েছেন।’ মহিলা তার পরিবারের নিকট পৌঁছতে কিছু সময় বিলম্ব হলো। তারা জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি বিলম্ব করলে কেন?’ মহিলা বলল, ‘সে একবিস্ময়কর ঘটনা। আমার সাথে দুজন লোকের সাক্ষাৎ হলো। তাঁরা আমাকে ওই লোকটির নিকট নিয়ে গেল, যাকে সাবিয়ি বলা হয়। তারপর সে এমন এমন করল। আল্লাহর কসম, সে হয়তো আকাশ ও জমিনের সবচেয়ে বড় জাদুকর অথবা সে সত্যিই আল্লাহর রাসুল।’
পরবর্তী সময়ে ওই মহিলা এবং তার পরিবার ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হয়েছে।
টিকাঃ
৩৩. সহিহ বুখারি: ২/৭১।
📄 আবু কাতাদার পানপাত্র
নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে সঙ্গে নিয়ে সফরে যাত্রা করলেন। তাঁদের সাথে পানি ছিল খুব কম। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের সামনে ভাষণ দিয়ে বললেন— 'তোমরা দিনরাত চলতে থাকবে। আল্লাহ চাহেন তো আগামীকাল পানির কাছে পৌঁছবে।'
সাহাবিগণ চলতে আরম্ভ করলেন। তাঁদের সফর ছিল সুদীর্ঘ। তীব্র পিপাসা লাগল। অজু করার মতো পানিও তাঁরা পেলেন না। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু কাতাদার ছোট পানপাত্রটি চাইলেন। আবু কাতাদা সেটি নবিজির সামনে হাজির করলেন। তাতে অল্প কিছু পানি ছিল। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখান থেকে সামান্য পানি দিয়ে অজু করলেন এবং কিছু পানি রেখে দিলেন। তারপর বললেন, ‘আবু কাতাদা, আমাদের জন্য তোমার পানপাত্রটি সংরক্ষণ করে রেখো, এর কাজ আছে।’
এরপর তাঁরা আবার সফর শুরু করলেন। সূর্য বাড়তে লাগল। প্রতিটি বস্তু গরম হয়ে উঠেছে। সাহাবিগণ বলতে আরম্ভ করেছেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমরা পিপাসায় কাতর হয়ে পড়েছি, আমরা ধ্বংস হয়ে যাব।’ নবিজি বললেন, 'তোমরা ধ্বংস হবে না।' তারপর বললেন, 'আমার অজুর পাত্রটি দাও।' এরপর আবু কাতাদার পানপাত্রটি চাইলেন।
আবু কাতাদা সেটা উপস্থিত করলেন। ছোট পাত্র। সামান্য পানিই তাতে অবশিষ্ট আছে। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেটি নিলেন। তারপর মুখ খুলে উবু করে ধরতেই পানি প্রবাহিত হতে শুরু করল। সাহাবিগণ যখন পানি দেখলেন, ঠেলাঠেলি করে সেদিকে এগিয়ে গেলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- 'সকলেই সুন্দরভাবে নাও, প্রত্যেকেই পরিতৃপ্ত হবে।'
তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাত্রে পানি ঢালছিলেন আর আবু কাতাদা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পান করাচ্ছিলেন। এমনকি তাঁরা দেখলেন যে, সকলে তাঁদের পাত্রগুলোও পূর্ণ করে নিয়েছেন। শেষপর্যন্ত আবু কাতাদা এবং রাসুলুল্লাহ ছাড়া কেউ বাকি থাকলেন না। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানি ঢালা আরম্ভ করলেন এবং আবু কাতাদাকে বললেন, 'তুমি পান করো।'
তিনি বললেন, 'আপনি পান না-করা পর্যন্ত আমি পান করব না, হে আল্লাহর রাসুল।' নবিজি বললেন, '社会的 সাকি (পানি বণ্টনকারী) সকলের পরেই পান করে।'
আবু কাতাদা বলেন, 'বাধ্য হয়ে আমি পান করলাম, নবিজিও পান করলেন এবং ৩০০ মানুষের সকলেই পান করলেন।' এটা নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামের বরকত এবং প্রকাশ্য মুজিজা।
টিকাঃ
৩৪. সহিহ মুসলিম: ৩/৪৫১।
৩৫. সহিহ মুসলিম: ৩/৪৫১।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে সঙ্গে নিয়ে সফরে যাত্রা করলেন। তাঁদের সাথে পানি ছিল খুব কম। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের সামনে ভাষণ দিয়ে বললেন—
إِنَّكُمْ تَسِيرُونَ عَشِيَّتَكُمْ وَلَيْلَتَكُمْ وَتَأْتُونَ الْمَاءَ إِنْ شَاءَ اللهُ غَدًا .
'তোমরা দিনরাত চলতে থাকবে। আল্লাহ চাহেন তো আগামীকাল পানির কাছে পৌঁছবে।
সাহাবিগণ চলতে আরম্ভ করলেন। তাঁদের সফর ছিল সুদীর্ঘ। তীব্র পিপাসা লাগল। অজু করার মতো পানিও তাঁরা পেলেন না। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু কাতাদার ছোট পানপাত্রটি চাইলেন। আবু কাতাদা সেটি নবিজির সামনে হাজির করলেন। তাতে অল্প কিছু পানি ছিল। নবিজি সাল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখান থেকে সামান্য পানি দিয়ে অজু করলেন এবং কিছু পানি রেখে দিলেন। তারপর বললেন, ‘আবু কাতাদা, আমাদের জন্য তোমার পানপাত্রটি সংরক্ষণ করে রেখো, এর কাজ আছে।’
এরপর তাঁরা আবার সফর শুরু করলেন। সূর্য বাড়তে লাগল। প্রতিটি বস্তু গরম হয়ে উঠেছে। সাহাবিগণ বলতে আরম্ভ করেছেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমরা পিপাসায় কাতর হয়ে পড়েছি, আমরা ধ্বংস হয়ে যাব।’ নবিজি বললেন, 'তোমরা ধ্বংস হবে না।' তারপর বললেন, 'আমার অজুর পাত্রটি দাও।' এরপর আবু কাতাদার পানপাত্রটি চাইলেন। আবু কাতাদা সেটা উপস্থিত করলেন। ছোট পাত্র। সামান্য পানিই তাতে অবশিষ্ট আছে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেটি নিলেন। তারপর মুখ খুলে উবু করে ধরতেই পানি প্রবাহিত হতে শুরু করল। সাহাবিগণ যখন পানি দেখলেন, ঠেলাঠেলি করে সেদিকে এগিয়ে গেলেন।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- أَحْسِنُوا الْمَلَأَ كُلُّكُمْ سَيَرْوَى. 'সকলেই সুন্দরভাবে নাও, প্রত্যেকেই পরিতৃপ্ত হবে।'
তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাত্রে পানি ঢালছিলেন আর আবু কাতাদা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পান করাচ্ছিলেন। এমনকি তাঁরা দেখলেন যে, সকলে তাঁদের পাত্রগুলোও পূর্ণ করে নিয়েছেন। শেষপর্যন্ত আবু কাতাদা এবং রাসুলুল্লাহ ছাড়া কেউ বাকি থাকলেন না। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানি ঢালা আরম্ভ করলেন এবং আবু কাতাদাকে বললেন, 'তুমি পান করো।'
তিনি বললেন, 'আপনি পান না-করা পর্যন্ত আমি পান করব না, হে আল্লাহর রাসুল।'
নবিজি বললেন, 'সমাজের সাকি (পানি বণ্টনকারী) সকলের পরেই পান করে।'
আবু কাতাদা বলেন, 'বাধ্য হয়ে আমি পান করলাম, নবিজিও পান করলেন এবং ৩০০ মানুষের সকলেই পান করলেন।'
এটা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বরকত এবং প্রকাশ্য মুজিজা।
টিকাঃ
৩৪. সহিহ মুসলিম: ৩/৪৫১।
৩৫. সহিহ মুসলিম: ৩/৪৫১।
📄 তাবুক যুদ্ধ—বিস্ময়ের আধার
এই যুদ্ধে মুসলিমরা কঠিন ক্ষুধা, পিপাসা এবং কষ্টের মুখোমুখি হয়। পথ ছিল সুদীর্ঘ, যোদ্ধাসংখ্যা ছিল অনেক বেশি। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সফরে জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করেছেন এবং মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করেছেন। এরপর সাহাবিগণকে বললেন-
'তোমরা আগামীকাল ইনশাআল্লাহ আইনে তাবুকে পৌঁছবে। তোমরা দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত সেখানে যাবে না। আর যদি কেউ আগেই সেখানে পৌঁছে যায়, সে যেন আমি আসার আগ পর্যন্ত সেখান থেকে কিছুই স্পর্শ না করে।'
সৈন্যদল কিছু দূর অগ্রসর হয়েছেন। যখন নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের সাথে মিলিত হলেন, ততক্ষণে দুজন মানুষ আইনুলমা-ঝরনা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ঝরনাতে পানি ছিল খুব কম। সেখান থেকে পানিও আসছিল খুব কম। নবিজি সাল্লাল্লাহu এ অবস্থা দেখে তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কি পানিতে হাত দিয়েছিলে?' তাঁরা বললেন, 'হ্যাঁ'।
নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাগান্বিত হয়ে বললেন, 'নিষেধ করার পরও তোমরা কীভাবে এখানে হাত দিলে?' এরপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকলের মাঝে পানি স্পর্শ না করার ঘোষণা দিলেন এবং ওই দুজনকে তিরস্কার করলেন ও উত্তম-মাধ্যম কিছু কথা বললেন। সাহাবিগণ পিপাসার্ত ছিলেন। তাই নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিলে সকলেই আঁজলা দিয়ে অল্প উল্লেখ পানি আনলেন এবং ছোট একটি পাত্রে রাখলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাতে হাত-মুখ ধুলেন। তারপর এই ব্যবহৃত পানি ঝরনায় ফেলে দিলেন। নবিজির ব্যবহৃত পানি ঝরনার পানিতে পড়ামাত্রই প্রবলবেগে ঝরনা প্রবাহ হতে লাগল।
সাহাবিগণ পানি সংগ্রহ করলেন, পান করলেন, পরিতৃপ্ত হলেন এবং অজু করলেন। এরপর নবিজি মুয়াজকে সম্বোধন করে বললেন, 'হে মুয়াজ, যদি তুমি দীর্ঘ হায়াত পাও, তাহলে এই স্থানটাকে ফসল এবং বাগানে ভরপুর দেখবে।'
টিকাঃ
৩৬. সহিহ মুসলিম: ১১/৩৯০।
এই যুদ্ধে মুসলিমরা কঠিন ক্ষুধা, পিপাসা এবং কষ্টের মুখোমুখি হয়। পথ ছিল সুদীর্ঘ, যোদ্ধাসংখ্যা ছিল অনেক বেশি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সফরে জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করেছেন এবং মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করেছেন। এরপর সাহাবিগণকে বললেন-
إِنَّكُمْ سَتَأْتُونَ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ عَيْنَ تَبُوكَ وَإِنَّكُمْ لَنْ تَأْتُوهَا حَتَّى يُضْحِيَ النَّهَارُ فَمَنْ جَاءَهَا مِنْكُمْ فَلَا يَمَسَّ مِنْ مَائِهَا شَيْئًا حَتَّى آتِيَ .
'তোমরা আগামীকাল ইনশাআল্লাহ আইনে তাবুকে পৌঁছবে। তোমরা দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত সেখানে যাবে না। আর যদি কেউ আগেই সেখানে পৌঁছে যায়, সে যেন আমি আসার আগ পর্যন্ত সেখান থেকে কিছুই স্পর্শ না করে।
সৈন্যদল কিছু দূর অগ্রসর হয়েছেন। যখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের সাথে মিলিত হলেন, ততক্ষণে দুজন মানুষ আইনুলমা-ঝরনা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ঝরনাতে পানি ছিল খুব কম। সেখান থেকে পানিও আসছিল খুব কম। নবিজি সাল্লাল্লাহু এ অবস্থা দেখে তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কি পানিতে হাত দিয়েছিলে?' তাঁরা বললেন, 'হ্যাঁ'।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাগান্বিত হয়ে বললেন, 'নিষেধ করার পরও তোমরা কীভাবে এখানে হাত দিলে?' এরপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকলের মাঝে পানি স্পর্শ না করার ঘোষণা দিলেন এবং ওই দুজনকে তিরস্কার করলেন ও উত্তম-মাধ্যম কিছু কথা বললেন। সাহাবিগণ পিপাসার্ত ছিলেন। তাই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিলে সকলেই আঁজলা দিয়ে অল্প উল্লেখ পানি আনলেন এবং ছোট একটি পাত্রে রাখলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাতে হাত-মুখ ধুলেন। তারপর এই ব্যবহৃত পানি ঝরনায় ফেলে দিলেন। নবিজির ব্যবহৃত পানি ঝরনার পানিতে পড়ামাত্রই প্রবলবেগে ঝরনা প্রবাহ হতে লাগল। সাহাবিগণ পানি সংগ্রহ করলেন, পান করলেন, পরিতৃপ্ত হলেন এবং অজু করলেন। এরপর নবিজি মুয়াজকে সম্বোধন করে বললেন, 'হে মুয়াজ, যদি তুমি দীর্ঘ হায়াত পাও, তাহলে এই স্থানটাকে ফসল এবং বাগানে ভরপুর দেখবে।
টিকাঃ
৩৬. সহিহ মুসলিম: ১১/৩৯০।
📄 এত খাবার!
জাবের রাদিয়াল্লাহu আনহু বলেন, আমরা খন্দক যুদ্ধের সময় পরিখা খনন করছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড শক্ত একটি পাথর বের হলো। সাহাবিগণ নবিজির নিকট গিয়ে বললেন, 'প্রচণ্ড শক্ত একটি পাথরের সম্মুখীন হয়েছি।' নবিজি বললেন, 'আমি আসছি।' নবিজি রওয়ানা হলেন, তখন তাঁর পেটে ক্ষুধার তাড়নায় পাথর বাঁধা ছিল, আমরাও তিন দিন যাবৎ কোনো খাবারের স্বাদ আস্বাদন করতে পারিনি।
'নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাতিয়ার নিয়ে খুব জোরে আঘাত করলে পাথরটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, অনুমতি হলে আমি একটু বাড়ি যাব।'
জাবের রাদিয়াল্লাহu আনহু বলেন, আমি স্ত্রীকে বললাম, 'নবিজির ক্ষুধার জ্বালা আমি আর সহ্য করতে পারছি না।' স্ত্রী বললেন, 'আমার কাছে কিছু জব এবং ছোট বকরির বাচ্চা আছে।'
সুতরাং আমি বকরির বাচ্চাটি জবাই করলাম এবং জব দিয়ে রুটি তৈরি করলাম। এরপর গোশতের টুকরোগুলো পাতিলে তুলে দিয়ে নবিজির কাছে ফিরে চললাম। স্ত্রী বলল, 'তুমি আবার নবিজির সাথে সাহাবিগণকে নিয়ে এসে আমাকে অপমান করো না যেন।'
জাবের বলেন, আমি গিয়ে নবিজিকে গোপনে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, কিছু খাবারের আয়োজন করেছি, আপনি এবং সাথে দু-একজনকে নিয়ে তাশরিফ রাখুন।'
নবিজি বললেন, 'কতটুকু খাবার রান্না করেছ? আমি তাঁকে বকরির বাচ্চা এবং সামান্য রুটির কথা বললাম। নবিজি বললেন, 'ভালো! অনেক খাবার তো!' এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম উচ্চৈঃস্বরে বললেন, 'হে পরিখাবাসীরা, জাবের তোমাদের জন্য খাবার তৈরি করেছে, তোমরা চলো।'
তারপর নবিজি বললেন, 'আমি আসার আগ পর্যন্ত পাতিল ও রুটি চুলা থেকে নামাবে না।' মুহাজির এবং আনসারগণ রওয়ানা হলেন। জাবের যখন স্ত্রীর কাছে গিয়ে বললেন, 'সর্বনাশ! নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল মুহাজির ও আনসারকে সাথে নিয়ে আসছেন।'
স্ত্রী বললেন, 'আমি আপনাকে যেভাবে বলতে বলেছি, আপনি সেভাবে বলেননি?' জাবের বললেন, 'আমি তোমার কথামতোই কাজ করেছি।'
জাবের বললেন, 'আমি নবিজির সামনে আটার খামিরা পেশ করলাম। নবিজি তাতে থুথু মোবারক দিলেন এবং বরকতের দুআ করলেন। এরপর পাতিলের কাছে এসে তাতেও থুথu মোবারক দিলেন এবং বরকতের দুআ করলেন।'
নবিজি বললেন, একজনকে ডাকো, সে যেন আমার সাথে থেকে রুটি বণ্টন করে আর তুমি পাতিল থেকেই গোশত বণ্টন করো; কিন্তু সেটা চুলা থেকে নামাবে না। পরিখা খননকারী সাহাবি ছিলেন ১ হাজার। জাবের আল্লাহর কসম খেয়ে বলেন, 'সকলেই তৃপ্তিসহ খেলেন, খাবার বেঁচে গেল এবং তাঁরা ফিরে গেলেন। আমাদের পাতিল পূর্বের ন্যায় ঢাকাই ছিল এবং আমাদের আটার খামিরা রুটি তৈরির যোগ্যই ছিল সেই আগের মতোই।
টিকাঃ
৩৭. সহিহ বুখারি: ১৩/৫।
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা খন্দক যুদ্ধের সময় পরিখা খনন করছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড শক্ত একটি পাথর বের হলো। সাহাবিগণ নবিজির নিকট গিয়ে বললেন, 'প্রচণ্ড শক্ত একটি পাথরের সম্মুখীন হয়েছি।' নবিজি বললেন, 'আমি আসছি।' নবিজি রওয়ানা হলেন, তখন তাঁর পেটে ক্ষুধার তাড়নায় পাথর বাঁধা ছিল, আমরাও তিন দিন যাবৎ কোনো খাবারের স্বাদ আস্বাদন করতে পারিনি।
'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাতিয়ার নিয়ে খুব জোরে আঘাত করলে পাথরটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, অনুমতি হলে আমি একটু বাড়ি যাব।'
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি স্ত্রীকে বললাম, 'নবিজির ক্ষুধার জ্বালা আমি আর সহ্য করতে পারছি না।' স্ত্রী বললেন, 'আমার কাছে কিছু জব এবং ছোট বকরির বাচ্চা আছে।' সুতরাং আমি বকরির বাচ্চাটি জবাই করলাম এবং জব দিয়ে রুটি তৈরি করলাম। এরপর গোশতের টুকরোগুলো পাতিলে তুলে দিয়ে নবিজির কাছে ফিরে চললাম। স্ত্রী বলল, 'তুমি আবার নবিজির সাথে সাহাবিগণকে নিয়ে এসে আমাকে অপমান করো না যেন।'
জাবের বলেন, আমি গিয়ে নবিজিকে গোপনে বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, কিছু খাবারের আয়োজন করেছি, আপনি এবং সাথে দু-একজনকে নিয়ে তাশরিফ রাখুন।' নবিজি বললেন, 'কতটুকু খাবার রান্না করেছ? আমি তাঁকে বকরির বাচ্চা এবং সামান্য রুটির কথা বললাম। নবিজি বললেন, 'ভালো! অনেক খাবার তো!' এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উচ্চৈঃস্বরে বললেন, 'হে পরিখাবাসীরা, জাবের তোমাদের জন্য খাবার তৈরি করেছে, তোমরা চলো।'
তারপর নবিজি বললেন, 'আমি আসার আগ পর্যন্ত পাতিল ও রুটি চুলা থেকে নামাবে না।' এরপর মুহাজির এবং আনসারগণ রওয়ানা হলেন। জাবের যখন স্ত্রীর কাছে গিয়ে বললেন, 'সর্বনাশ! নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল মুহাজির ও আনসারকে সাথে নিয়ে আসছেন।'
স্ত্রী বললেন, 'আমি আপনাকে যেভাবে বলতে বলেছি, আপনি সেভাবে বলেননি?' জাবের বললেন, 'আমি তোমার কথামতোই কাজ করেছি।' জাবের বলেন, 'আমি নবিজির সামনে আটার খামিরা পেশ করলাম। নবিজি তাতে থুথু মোবারক দিলেন এবং বরকতের দুআ করলেন। এরপর পাতিলের কাছে এসে তাতেও থুথু মোবারক দিলেন এবং বরকতের দুআ করলেন।'
নবিজি বললেন, একজনের ডাকো, সে যেন আমার সাথে থেকে রুটি বণ্টন করে আর তুমি পাতিল থেকেই গোশত বণ্টন করো; কিন্তু সেটা চুলা থেকে নামাবে না। পরিখা খননকারী সাহাবি ছিলেন ১ হাজার। জাবের আল্লাহর কসম খেয়ে বলেন, 'সকলেই তৃপ্তিসহ খেলেন, খাবার বেঁচে গেল এবং তাঁরা ফিরে গেলেন। আমাদের পাতিল পূর্বের ন্যায় ঢাকাই ছিল এবং আমাদের আটার খামিরা রুটি তৈরির যোগ্যই ছিল সেই আগের মতোই।
টিকাঃ
৩৭. সহিহ বুখারি: ১৩/৫।