📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 চোখ সুস্থ হয়ে গেল

📄 চোখ সুস্থ হয়ে গেল


নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে নিয়ে খায়বারের যুদ্ধে গেলেন। খায়বার দুর্গের অবরোধ দীর্ঘতর হতে থাকল। দুর্গগুলো বিজয় তাঁদের জন্য সহজ হচ্ছিল না। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে বললেন, 'আগামীকাল পতাকা এমন একজনের হাতে দিব, যাঁর হাতে আল্লাহ তাআলা বিজয় দান করবেন। সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে। আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলও তাঁকে ভালোবাসেন।'

সকালবেলা সবাই নবিজির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন; প্রত্যেকের আকাঙ্ক্ষা ছিল, পতাকা তাকে দেওয়া হোক। সবার অপেক্ষার পালা শেষ করে রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডাকলেন—'আলি বিন আবু তালিব কোথায়?'

সবাই জবাব দিলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আলির উভয় চোখ অসুস্থ। তাঁর চোখে প্রচণ্ড ব্যথা। তাঁর পুরো চোখ ফুলে গেছে, তিনি কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না।' রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলি রাদিয়াল্লাহu আনহুকে ডেকে পাঠালেন। সাহাবিগণ আলির হাত ধরে নবিজির সামনে এনে বসিয়ে দিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উভয় চোখে থুথু মোবারক লাগিয়ে দিলেন এবং দুআ করলেন। মুহূর্তেই আলি রাদিয়াল্লাহu আনহুর উভয় চোখ ভালো হয়ে গেল। মনে হলো কোনো ব্যথাই ছিল না।

অতঃপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাতে যুদ্ধের পতাকা দিলেন। আলি রাদিয়াল্লাহu আনহু বললেন, 'তারা আমাদের মতো হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ করতেই থাকব।'

নবিজি বললেন- 'তাদের এলাকায় প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত খুব ধীরে ধীরে কাজ করবে। তারপর তাদের ইসলামের প্রতি আহ্বান করবে এবং তাদের করণীয় সম্পর্কে অবহিত করবে। আল্লাহর শপথ, যদি আল্লাহ তাআলা তোমার মাধ্যমে কাউকে হেদায়াত দান করেন, তাহলে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও কল্যাণকর হবে।

টিকাঃ
৩০. সহিহ বুখারি: ১০/১৯৮।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে নিয়ে খায়বারের যুদ্ধে গেলেন। খায়বার দুর্গের অবরোধ দীর্ঘতর হতে থাকল। দুর্গগুলো বিজয় তাঁদের জন্য সহজ হচ্ছিল না। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে বললেন, 'আগামীকাল পতাকা এমন একজনের হাতে দিব, যাঁর হাতে আল্লাহ তাআলা বিজয় দান করবেন। সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে। আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলও তাঁকে ভালোবাসেন।' সকালবেলা সবাই নবিজির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন; প্রত্যেকের আকাঙ্ক্ষা ছিল, পতাকা তাকে দেওয়া হোক।

সবার অপেক্ষার পালা শেষ করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডাকলেন—'আলি বিন আবু তালিব কোথায়?' সবাই জবাব দিলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আলির উভয় চোখ অসুস্থ। তাঁর চোখে প্রচণ্ড ব্যথা। তাঁর পুরো চোখ ফুলে গেছে, তিনি কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ডেকে পাঠালেন।

সাহাবিগণ আলির হাত ধরে নবিজির সামনে এনে বসিয়ে দিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উভয় চোখে থুথু মোবারক লাগিয়ে দিলেন এবং দুআ করলেন। মুহূর্তেই আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর উভয় চোখ ভালো হয়ে গেল। মনে হলো কোনো ব্যথাই ছিল না। অতঃপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাতে যুদ্ধের পতাকা দিলেন। আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'তারা আমাদের মতো হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ করতেই থাকব।'

নবিজি বললেন-
انْفُذْ عَلَى رِسْلِكَ حَتَّى تَنْزِلَ بِسَاحَتِهِمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ وَأَخْبِرْهُمْ بِمَا يَجِبُ عَلَيْهِمْ فَوَاللَّهِ لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ .
'তাদের এলাকায় প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত খুব ধীরে ধীরে কাজ করবে। তারপর তাদের ইসলামের প্রতি আহ্বান করবে এবং তাদের করণীয় সম্পর্কে অবহিত করবে। আল্লাহর শপথ, যদি আল্লাহ তাআলা তোমার মাধ্যমে কাউকে হেদায়াত দান করেন, তাহলে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও কল্যাণকর হবে।

টিকাঃ
৩০. সহিহ বুখারি: ১০/১৯৮।

📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 গাছ হেঁটে নবিজির কাছে এল

📄 গাছ হেঁটে নবিজির কাছে এল


নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণের সাথে সফরে ছিলেন। রাস্তায় একগ্রাম্যলোককে দেখলেন। লোকটি নবিজি এবং তাঁর সাহাবিগণের কাছাকাছি হলো। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামের হৃদয়ে সদাসর্বদা মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান করার স্পৃহা জাগ্রত থাকত। গ্রাম্যলোকটিকে দেখামাত্র নবিজি জিজ্ঞেস করলেন, 'কোথায় যাবে তুমি?' লোকটি বলল, 'আমার পরিবারের কাছে।'

নবিজি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার কি কল্যাণের প্রয়োজন আছে?' লোকটি বলল, 'সেটা কী?' নবিজি বললেন, 'এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। মুহাম্মদ আল্লাহ তাআলার বান্দা এবং তাঁর রাসুল।'

লোকটি বলল, 'আপনার দাবির পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে?' নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপত্যকার একটি খেজুরগাছের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'এই গাছটি।' এরপর নবিজি সেই গাছের দিকে তাকালেন এবং তাকে ডাকলেন। জমিনে কম্পন শুরু হলো এবং জমিন ফেটে গাছটি নবিজির সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছটির কাছে তিন বার সাক্ষ্য চাইলেন যে, তিনি আল্লাহর নবি। নবিজির কথামতো গাছটি তিন বার সাক্ষ্য দিলো; তারপর আপন স্থানে ফিরে গেল।

গ্রাম্যলোকটির শেষ প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপচাপ থাকলেন যে, সে ইসলামে প্রবেশ করে কি না। লোকটি সত্য বুঝতে পারল। তাই উৎসাহী হয়ে বাড়ির দিকে ফিরে চলল এবং রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলল, 'যদি তারা আমার অনুকরণ করে তাহলে তাদের নিয়ে আপনার কাছে আসব। আর যদি তারা আমার কথা না মানে, তাহলে আমি একাই আপনার সাথে থাকব।

টিকাঃ
৩১. আল-মুজামুল কাবির লিত-তবরানি :১১/৬২; সুনানে দারিমি: ১/২৮; মুসনাদে আবু ইয়ালা মুসিলি: ১১/৪১৮।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণের সাথে সফরে ছিলেন। রাস্তায় একগ্রাম্যলোককে দেখলেন। লোকটি নবিজি এবং তাঁর সাহাবিগণের কাছাকাছি হলো। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হৃদয়ে সদাসর্বদা মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান করার স্পৃহা জাগ্রত থাকত। গ্রাম্যলোকটিকে দেখামাত্র নবিজি জিজ্ঞেস করলেন, 'কোথায় যাবে তুমি?'
লোকটি বলল, 'আমার পরিবারের কাছে।'
নবিজি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার কি কল্যাণের প্রয়োজন আছে?'
লোকটি বলল, 'সেটা কী?'
নবিজি বললেন, 'এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। মুহাম্মদ আল্লাহ তাআলার বান্দা এবং তাঁর রাসুল।'
লোকটি বলল, 'আপনার দাবির পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে?'
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপত্যকার একটি খেজুরগাছের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'এই গাছটি।' এরপর নবিজি সেই গাছের দিকে তাকালেন এবং তাকে ডাকলেন। জমিনে কম্পন শুরু হলো এবং জমিন ফেটে গাছটি নবিজির সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছটির কাছে তিন বার সাক্ষ্য চাইলেন যে, তিনি আল্লাহর নবি। নবিজির কথামতো গাছটি তিন বার সাক্ষ্য দিলো; তারপর আপন স্থানে ফিরে গেল।

গ্রাম্যলোকটির শেষ প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপচাপ থাকলেন যে, সে ইসলামে প্রবেশ করে কি না। লোকটি সত্য বুঝতে পারল। তাই উৎসাহী হয়ে বাড়ির দিকে ফিরে চলল এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলল, 'যদি তারা আমার অনুকরণ করে তাহলে তাদের নিয়ে আপনার কাছে আসব। আর যদি তারা আমার কথা না মানে, তাহলে আমি একাই আপনার সাথে থাকব।

টিকাঃ
৩১. আল-মুজামুল কাবির লিত-তবরানি :১১/৬২; সুনানে দারিমি: ১/২৮; মুসনাদে আবু ইয়ালা মুসিলি: ১১/৪১৮।

📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 অনুগল গাছ

📄 অনুগল গাছ


নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামের হজের বর্ণনায় জাবের রাদিয়াল্লাহu আনহু থেকে সুদীর্ঘ একটি ঘটনা উদ্ধৃত আছে। জাবের রাদিয়াল্লাহu আনহু বলেন, 'আমরা নবিজির সাথে যাত্রা করলাম। যখন আফআহ উপত্যকায় পৌঁছলাম, নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য বাহিরে গেলেন। আমি একটি পানির পাত্র নিয়ে তাঁর অনুসরণ করলাম।

নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম চারদিকে তাকিয়ে আড়াল হওয়ার মতো কিছু দেখতে পেলেন না। উপত্যকার কোণে থাকা দুটি গাছের প্রতি তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো। নবিজি একটির কাছে গিয়ে তার একটি ডাল ধরলেন এবং বললেন, 'আল্লাহর নির্দেশে আমার সাথে চলো, আমার অনুকরণ করো।' ঠিক বাধ্য উটের মতো গাছটি নবিজির সাথে চলতে লাগল।

নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছটিকে টেনে আরেকটি গাছের নিকট নিয়ে এলেন। যখন দুই গাছের দূরত্ব উভয় দিকে সমান হলো, তখন ঠিক পূর্বের ন্যায় এই গাছটিরও ডাল ধরে দুটি গাছকে কাছাকাছি করলেন। তারপর বললেন, 'আল্লাহর নির্দেশে দুজন মিলিত হয়ে আমাকে আড়াল করো।'

জাবের রাদিয়াল্লাহu আনহু বলেন, 'আমি ভয়ে ভয়েই এগুচ্ছিলাম যে, রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার আগমন টের পেয়ে আরও দূরে যাবেন। আমি মনে মনে এমনটি ভাবছিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তে আমার শরীর কেমন যেন নড়েচড়ে উঠল। হঠাৎ দেখি আমি নবিজির সামনে, গাছ দুটি আলাদা হয়ে গেছে এবং উভয়েই আপন আপন শেকড়ে দাঁড়িয়ে গেছে।

টিকাঃ
৩২. সহিহ মুসলিম: ১৪/২৯৫; দালাইলুন-নবুওয়‍্যাহ লিলবাইহাকি: ৬/১৩৩; ইবনে হিব্বান: ২৭/৮১; মিশকাত: ৩/২৮০; আস-সুনানুল কুবরা লিলবাইহাকি: ১/৯৪।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হজের বর্ণনায় জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সুদীর্ঘ একটি ঘটনা উদ্ধৃত আছে। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আমরা নবিজির সাথে যাত্রা করলাম। যখন আফআহ উপত্যকায় পৌঁছলাম, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য বাহিরে গেলেন। আমি একটি পানির পাত্র নিয়ে তাঁর অনুসরণ করলাম।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চারদিকে তাকিয়ে আড়াল হওয়ার মতো কিছু দেখতে পেলেন না। উপত্যকার কোণে থাকা দুটি গাছের প্রতি তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো। নবিজি একটির কাছে গিয়ে তার একটি ডাল ধরলেন এবং বললেন, 'আল্লাহর নির্দেশে আমার সাথে চলো, আমার অনুকরণ করো।' ঠিক বাধ্য উটের মতো গাছটি নবিজির সাথে চলতে লাগল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছটিকে টেনে আরেকটি গাছের নিকট নিয়ে এলেন। যখন দুই গাছের দূরত্ব উভয় দিকে সমান হলো, তখন ঠিক পূর্বের ন্যায় এই গাছটিরও ডাল ধরে দুটি গাছকে কাছাকাছি করলেন। তারপর বললেন, 'আল্লাহর নির্দেশে দুজন মিলিত হয়ে আমাকে আড়াল করো।'

জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আমি ভয়ে ভয়েই এগুচ্ছিলাম যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার আগমন টের পেয়ে আরও দূরে যাবেন। আমি মনে মনে এমনটি ভাবছিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তে আমার শরীর কেমন যেন নড়েচড়ে উঠল। হঠাৎ দেখি আমি নবিজির সামনে, গাছ দুটি আলাদা হয়ে গেছে এবং উভয়েই আপন আপন শেকড়ে দাঁড়িয়ে গেছে।

টিকাঃ
৩২. সহিহ মুসলিম: ১৪/২৯৫; দালাইলুন-নবুওয়‍্যাহ লিলবাইহাকি: ৬/১৩৩; ইবনে হিব্বান: ২৭/৮১; মিশকাত: ৩/২৮০; আস-সুনানুল কুবরা লিলবাইহাকি: ১/৯৪।

📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 পানি

📄 পানি


প্রচণ্ড রোদ এবং তাপদাহের সময় রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে সঙ্গে নিয়ে সফরে বের হলেন। সফর ছিল দীর্ঘ। কিন্তু পথে কোথাও পানি ও কূপ ছিল না। সাহাবিগণ নবিজির নিকট পিপাসার কথা জানালেন। এর সমাধান করা ছাড়া কোনো পথও ছিল না।

একজায়গায় যাত্রাবিরতি করলেন। অতঃপর আলি রাদিয়াল্লাহu আনহু-সহ আরেকজন সাহাবিকে ডাকলেন। তারপর বললেন, 'দুজনে পানির খোঁজে যাও।' আলি এবং তাঁর সাথি পানির খোঁজে গেলেন। খুঁজতে খুঁজতে দুই টিলার মাঝে তাঁরা একজন মহিলাকে পেলেন। তার উটের ওপর পানি ছিল। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, 'পানি কোথায় আছে?' মহিলা জবাব দিলো, 'পানি এবং তাদের মাঝের দূরত্ব এক দিন ও এক রাতের পথ।'

তাঁরা বললেন, 'আমাদের সাথে চলুন।' মহিলা জিজ্ঞেস করল, 'কোথায়?' তাঁরা বললেন, 'আল্লাহর রাসুলের কাছে।' মহিলা বলল, 'যাকে সাবিয়ি তথা বিধর্মী বলা হয়?' মুশরিকরা নবিজিকে এই নামেই ডাকত। আস-সাবিয়ি অর্থাৎ তাদের ধর্মকে পরিবর্তনকারী। সাহাবিগণ তার সাথে কথা দীর্ঘ না করে বললেন, 'আপনারা যা বোঝেন তিনি সে-ই, চলুন।'

মহিলাটি উটে বসেই তাদের সাথে চলল। সাহাবিগণ তাকে নিয়ে নবিজির কাছে এলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে পানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। মহিলা বলল, ‘পানি অনেক দূরে।’ সাথে এ কথাও বলল, ‘সে দুর্বল এবং এতিমের মা।’ নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানিভর্তি দুটি বোতল নিলেন এবং তাঁর দুই হাত বুলিয়ে দিলেন। তারপর পানি রাখার বাসন আনতে বললেন, তখন দুই বোতলের মুখ দিয়ে পানির ফোয়ারা ছুটল। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবাইকে বললেন— 'পানি পান করো এবং সংগ্রহ করো।'

সাহাবিগণ পাত্র নিয়ে এলেন এবং কেউ পান করলেন আর কেউ পাত্র পূর্ণ করলেন, যাঁর যেটা মন চাইল সেটাই করলেন। মহিলাটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল যে, তার পানি দিয়ে এ কী করা হচ্ছে! সাহাবিগণ দেখলেন যে, তাদের সমস্ত পাত্র পূর্ণ হয়ে গেছে, কিন্তু মহিলার পানপাত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি, পানি কমেওনি, বাড়েওনি।

নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাটি প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলেন, যদিও তার পানি একটুও কমেনি। সুতরাং সাহাবিগণকে বললেন, ‘তার জন্য কিছু জমা করো।’ সাহাবিগণ শুকনো খেজুর, আজওয়া খেজুর, ময়দা এবং রুটি জমা করলেন। এভাবে তার জন্য অনেক খাবার জমা করে একটি কাপড়ে বেঁধে তার উটে তুলে দিলেন এবং মহিলার সামনে রেখে দিলেন।

তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাকে বললেন, ‘মনে রেখো, তোমার পানি থেকে আমরা পান করিনি, আল্লাহ তাআলাই আমাদের পান করিয়েছেন।’ মহিলা তার পরিবারের নিকট পৌঁছতে কিছু সময় বিলম্ব হলো। তারা জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি বিলম্ব করলে কেন?’ মহিলা বলল, ‘সে একবিস্ময়কর ঘটনা। আমার সাথে দুজন লোকের সাক্ষাৎ হলো। তাঁরা আমাকে ওই লোকটির নিকট নিয়ে গেল, যাকে সাবিয়ি বলা হয়। তারপর সে এমন এমন করল। আল্লাহর কসম, সে হয়তো আকাশ ও জমিনের সবচেয়ে বড় জাদুকর অথবা সে সত্যিই আল্লাহর রাসুল।’

পরবর্তী সময়ে ওই মহিলা এবং তার পরিবার ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হয়েছে।

টিকাঃ
৩৩. সহিহ বুখারি: ২/৭১।

প্রচণ্ড রোদ এবং তাপদাহের সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে সঙ্গে নিয়ে সফরে বের হলেন। সফর ছিল দীর্ঘ। কিন্তু পথে কোথাও পানি ও কূপ ছিল না। সাহাবিগণ নবিজির নিকট পিপাসার কথা জানালেন। এর সমাধান করা ছাড়া কোনো পথও ছিল না।

একজায়গায় যাত্রাবিরতি করলেন। অতঃপর আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু-সহ আরেকজন সাহাবিকে ডাকলেন। তারপর বললেন, 'দুজনে পানির খোঁজে যাও।' আলি এবং তাঁর সাথি পানির খোঁজে গেলেন। খুঁজতে খুঁজতে দুই টিলার মাঝে তাঁরা একজন মহিলাকে পেলেন। তার উটের ওপর পানি ছিল।
তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, 'পানি কোথায় আছে?'
মহিলা জবাব দিলো, 'পানি এবং তাদের মাঝের দূরত্ব এক দিন ও এক রাতের পথ।'
তাঁরা বললেন, 'আমাদের সাথে চলুন।'
মহিলা জিজ্ঞেস করল, 'কোথায়?'
তাঁরা বললেন, 'আল্লাহর রাসুলের কাছে।'
মহিলা বলল, 'যাকে সাবিয়ি তথা বিধর্মী বলা হয়?'
মুশরিকরা নবিজিকে এই নামেই ডাকত। আস-সাবিয়ি অর্থাৎ তাদের ধর্মকে পরিবর্তনকারী। সাহাবিগণ তার সাথে কথা দীর্ঘ না করে বললেন, 'আপনারা যা বোঝেন তিনি সে-ই, চলুন।'

মহিলাটি উটে বসেই তাদের সাথে চলল। সাহাবিগণ তাকে নিয়ে নবিজির কাছে এলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে পানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। মহিলা বলল, ‘পানি অনেক দূরে।’ সাথে এ কথাও বলল, ‘সে দুর্বল এবং এতিমের মা।’

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানিভর্তি দুটি বোতল নিলেন এবং তাঁর দুই হাত বুলিয়ে দিলেন। তারপর পানি রাখার বাসন আনতে বললেন, তখন দুই বোতলের মুখ দিয়ে পানির ফোয়ারা ছুটল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবাইকে বললেন—
اسْقُوْا وَاسْتَقُوْا
‘পানি পান করো এবং সংগ্রহ করো।’

সাহাবিগণ পাত্র নিয়ে এলেন এবং কেউ পান করলেন আর কেউ পাত্র পূর্ণ করলেন, যাঁর যেটা মন চাইল সেটাই করলেন। মহিলাটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল যে, তার পানি দিয়ে এ কী করা হচ্ছে! সাহাবিগণ দেখলেন যে, তাদের সমস্ত পাত্র পূর্ণ হয়ে গেছে, কিন্তু মহিলার পানপাত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি, পানি কমেওনি, বাড়েওনি।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাটি প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলেন, যদিও তার পানি একটুও কমেনি। সুতরাং সাহাবিগণকে বললেন, ‘তার জন্য কিছু জমা করো।’ সাহাবিগণ শুকনো খেজুর, আজওয়া খেজুর, ময়দা এবং রুটি জমা করলেন। এভাবে তার জন্য অনেক খাবার জমা করে একটি কাপড়ে বেঁধে তার উটে তুলে দিলেন এবং মহিলার সামনে রেখে দিলেন।

তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাকে বললেন, ‘মনে রেখো, তোমার পানি থেকে আমরা পান করিনি, আল্লাহ তাআলাই আমাদের পান করিয়েছেন।’ মহিলা তার পরিবারের নিকট পৌঁছতে কিছু সময় বিলম্ব হলো। তারা জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি বিলম্ব করলে কেন?’ মহিলা বলল, ‘সে একবিস্ময়কর ঘটনা। আমার সাথে দুজন লোকের সাক্ষাৎ হলো। তাঁরা আমাকে ওই লোকটির নিকট নিয়ে গেল, যাকে সাবিয়ি বলা হয়। তারপর সে এমন এমন করল। আল্লাহর কসম, সে হয়তো আকাশ ও জমিনের সবচেয়ে বড় জাদুকর অথবা সে সত্যিই আল্লাহর রাসুল।’

পরবর্তী সময়ে ওই মহিলা এবং তার পরিবার ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হয়েছে।

টিকাঃ
৩৩. সহিহ বুখারি: ২/৭১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px