📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 উটও জবাব দিলো

📄 উটও জবাব দিলো


এক-আনসারি পরিবার ছিল। তারা একটি উট দিয়ে চাক্কি চালিয়ে কূপ থেকে পানি উঠাত। একবার উট বিরক্ত হয়ে কাজ করা ছেড়ে দিলো। পিঠে কাউকে উঠতে দিচ্ছিল না। তাদের ওপর আক্রমণ করতে শুরু করল। তারা উটটি ব্যবহার করতে পারছিল না। তার ওপর সওয়ারও হতে পারছিল না। তাই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলো। পরিবারটি ছিল দরিদ্র। যার কারণে অন্য উট ক্রয় করার সামর্থ্যও তাদের ছিল না।

পরিবারের সদস্যরা নবিজির কাছে এসে বলল, 'আমাদের উটটি আমাদের আর চিনছে না। আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত, পিঠে উঠতে দিচ্ছে না। ওদিকে ফসল এবং খেজুরবাগান শুষ্ক হয়ে পড়েছে।'

রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বললেন, 'চলো।' তারা নবিজির সাথে চলল। চলতে চলতে একসময় বাগানে প্রবেশ করলেন। উটটি বাগানের এককোণেই ছিল। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটটির দিকে এগুতে লাগলেন। আনসারগণ উট নবিজিকে কষ্ট দিতে পারে, এই ভয় করতে লাগলেন। তাঁরা বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, উটটি পাগলা কুকুরের মতো হয়ে গেছে। ভয় হচ্ছে, উট হয়তো আপনার ওপর আক্রমণ করবে!'

নবিজি বললেন, 'সে আমার কোনো ক্ষতি করবে না' এই বলে উটের দিকে চলতে লাগলেন। যখন উটটি নবিজিকে দেখল, নবিজির দিকে এগুতে শুরু করল এবং তাঁর সামনে এসে সিজদায় পড়ে গেল। রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটের কপালের চুলগুচ্ছ ধরলেন এবং তার মুখ উঁচু করলেন। উটটি নবিজির সম্পূর্ণ অনুগত হয়ে সামনে সামনে চলছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তার কাজে লাগিয়ে দিলেন এবং লাগাম লাগিয়ে বেঁধে দিলেন।

সাহাবিগণ বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, এরা অবুঝ প্রাণী হয়েও আপনাকে সিজদা করল! অতএব আমরা আপনাকে সিজদা করার অধিক হকদার!' নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- 'কোনো মানুষ অন্য মানুষকে সিজদা করা বৈধ নয়। যদি মানুষের জন্য অন্য মানুষকে সিজদা করার অনুমতি থাকত, তাহলে নারীদের নির্দেশ দিতাম, তারা যেন স্বামীদের সিজদা করে, নারীর ওপর স্বামীর অধিকারের কারণে।'

শেষকথা, প্রাণীদের মাঝে এমন আচরণ আল্লাহর নির্দেশেই হয়ে থাকে। এগুলো তাঁর নির্দেশ এবং ইচ্ছার অধীন। নতুবা নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ইচ্ছা করেননি এবং ইচ্ছা করলেও আল্লাহর অনুমতি ছাড়া হওয়া সম্ভব নয়।

যেমন: হাদিসে বর্ণিত আছে, মক্কা বিজয়ের পূর্বে নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর উটনি কসওয়ায় আরোহণ করে উমরা করতে গেলেন। হঠাৎ উটনিটি নবিজিকে নিয়ে বসে পড়ল। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিয়ে চলতে চাইলেন; কিন্তু উটনিটি যেতে চাইল না। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, 'উটনিটি অবাধ্য হয়ে গেছে!' নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- 'উটনি অবাধ্য হয়নি, তাকে সেভাবে সৃষ্টিও করা হয়নি। কিন্তু তাকে সেই সত্তা আটকে দিয়েছেন, যেই সত্তা হাতিকে আটকে দিয়েছিলেন।'

অর্থাৎ আবরাহা ও তার হস্তীবাহিনীর হাতিগুলোকে যেই আল্লাহ আটকে দিয়েছিলেন, তিনিই আমার উটনিকে আটকে দিয়েছেন।

তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন- ‘আজকে কুরাইশরা আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে যে কোনো দাবি করলে আমি তা অবশ্যই পূরণ করব।'

এরপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরাইশদের মাঝে হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি সম্পাদিত হয় এবং নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় ফিরে আসেন।

টিকাঃ
২৭. মুসনাদে আহমদ: ২৫/১৯৯; আস-সুনানুল কুবরা লিন্নাসায়ি: ৫/৩৬৩।
২৮. সহিহ বুখারি: ৯/২৫৬।
২৯. মুসনাদে আহমদ: ৩৮/৩৭৭।

এক-আনসারি পরিবার ছিল। তারা একটি উট দিয়ে চাক্কি চালিয়ে কূপ থেকে পানি উঠাত। একবার উট বিরক্ত হয়ে কাজ করা ছেড়ে দিলো। পিঠে কাউকে উঠতে দিচ্ছিল না। তাদের ওপর আক্রমণ করতে শুরু করল। তারা উটটি ব্যবহার করতে পারছিল না। তার ওপর সওয়ারও হতে পারছিল না। তাই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলো। পরিবারটি ছিল দরিদ্র। যার কারণে অন্য উট ক্রয় করার সামর্থ্যও তাদের ছিল না।

পরিবারের সদস্যরা নবিজির কাছে এসে বলল, 'আমাদের উটটি আমাদের আর চিনছে না। আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত, পিঠে উঠতে দিচ্ছে না। ওদিকে ফসল এবং খেজুরবাগান শুষ্ক হয়ে পড়েছে।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বললেন, 'চলো।'
তারা নবিজির সাথে চলল। চলতে চলতে একসময় বাগানে প্রবেশ করলেন। উটটি বাগানের এককোণেই ছিল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটটির দিকে এগুতে লাগলেন। আনসারগণ উট নবিজিকে কষ্ট দিতে পারে, এই ভয় করতে লাগলেন। তাঁরা বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, উটটি পাগলা কুকুরের মতো হয়ে গেছে। ভয় হচ্ছে, উট হয়তো আপনার ওপর আক্রমণ করবে!'
নবিজি বললেন, 'সে আমার কোনো ক্ষতি করবে না' এই বলে উটের দিকে চলতে লাগলেন।

যখন উটটি নবিজিকে দেখল, নবিজির দিকে এগুতে শুরু করল এবং তাঁর সামনে এসে সিজদায় পড়ে গেল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটের কপালের চুলগুচ্ছ ধরলেন এবং তার মুখ উঁচু করলেন। উটটি নবিজির সম্পূর্ণ অনুগত হয়ে সামনে সামনে চলছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তার কাজে লাগিয়ে দিলেন এবং লাগাম লাগিয়ে বেঁধে দিলেন।

সাহাবিগণ বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, এরা অবুঝ প্রাণী হয়েও আপনাকে সিজদা করল! অতএব আমরা আপনাকে সিজদা করার অধিক হকদার!' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
لَا يَصْلُحُ لِبَشَرٍ أَنْ يَسْجُدَ لِبَشَرٍ وَلَوْ صَلَحَ لِبَشَرٍ أَنْ يَسْجُدَ لِبَشَرٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَসْجُدَ لِزَوْجِهَا مِنْ عِظَمٍ حَقِّهِ عَلَيْهَا .
'কোনো মানুষ অন্য মানুষকে সিজদা করা বৈধ নয়। যদি মানুষের জন্য অন্য মানুষকে সিজদা করার অনুমতি থাকত, তাহলে নারীদের নির্দেশ দিতাম, তারা যেন স্বামীদের সিজদা করে, নারীর ওপর স্বামীর অধিকারের কারণে।

শেষকথা, প্রাণীদের মাঝে এমন আচরণ আল্লাহর নির্দেশেই হয়ে থাকে। এগুলো তাঁর নির্দেশ এবং ইচ্ছার অধীন। নতুবা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ইচ্ছা করেননি এবং ইচ্ছা করলেও আল্লাহর অনুমতি ছাড়া হওয়া সম্ভব নয়।

যেমন: হাদিসে বর্ণিত আছে, মক্কা বিজয়ের পূর্বে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর উটনি কসওয়ায় আরোহণ করে উমরা করতে গেলেন। হঠাৎ উটনিটি নবিজিকে নিয়ে বসে পড়ল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিয়ে চলতে চাইলেন; কিন্তু উটনিটি যেতে চাইল না।
সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, 'উটনিটি অবাধ্য হয়ে গেছে!' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
مَا خَلَأَتْ الْقَصْوَاءُ وَمَا ذَاكَ لَهَا بِخُلُقٍ وَلَكিনْ حَبَسَهَا حَابِسُ الْفِيلِ.
'উটনি অবাধ্য হয়নি, তাকে সেভাবে সৃষ্টিও করা হয়নি। কিন্তু তাকে সেই সত্তা আটকে দিয়েছেন, যেই সত্তা হাতিকে আটকে দিয়েছিলেন।'

অর্থাৎ আবরাহা ও তার হস্তীবাহিনীর হাতিগুলোকে যেই আল্লাহ আটকে দিয়েছিলেন, তিনিই আমার উটনিকে আটকে দিয়েছেন।

তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন-
لَا تَدْعُونِي قُرَيْشُ الْيَوْمَ إِلَى خُطَةٍ يَسْأَلُونِي فِيهَا صِلَةَ الرَّحِمِ إِلَّا أَعْطَيْتُهُمْ إِيَّاهَا .
‘আজকে কুরাইশরা আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে যে কোনো দাবি করলে আমি তা অবশ্যই পূরণ করব।'

এরপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরাইশদের মাঝে হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি সম্পাদিত হয় এবং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় ফিরে আসেন।

টিকাঃ
২৭. মুসনাদে আহমদ: ২৫/১৯৯; আস-সুনানুল কুবরা লিন্নাসায়ি: ৫/৩৬৩।
২৮. সহিহ বুখারি: ৯/২৫৬।
২৯. মুসনাদে আহমদ: ৩৮/৩৭৭।

📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 চোখ সুস্থ হয়ে গেল

📄 চোখ সুস্থ হয়ে গেল


নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে নিয়ে খায়বারের যুদ্ধে গেলেন। খায়বার দুর্গের অবরোধ দীর্ঘতর হতে থাকল। দুর্গগুলো বিজয় তাঁদের জন্য সহজ হচ্ছিল না। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে বললেন, 'আগামীকাল পতাকা এমন একজনের হাতে দিব, যাঁর হাতে আল্লাহ তাআলা বিজয় দান করবেন। সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে। আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলও তাঁকে ভালোবাসেন।'

সকালবেলা সবাই নবিজির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন; প্রত্যেকের আকাঙ্ক্ষা ছিল, পতাকা তাকে দেওয়া হোক। সবার অপেক্ষার পালা শেষ করে রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডাকলেন—'আলি বিন আবু তালিব কোথায়?'

সবাই জবাব দিলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আলির উভয় চোখ অসুস্থ। তাঁর চোখে প্রচণ্ড ব্যথা। তাঁর পুরো চোখ ফুলে গেছে, তিনি কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না।' রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলি রাদিয়াল্লাহu আনহুকে ডেকে পাঠালেন। সাহাবিগণ আলির হাত ধরে নবিজির সামনে এনে বসিয়ে দিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উভয় চোখে থুথু মোবারক লাগিয়ে দিলেন এবং দুআ করলেন। মুহূর্তেই আলি রাদিয়াল্লাহu আনহুর উভয় চোখ ভালো হয়ে গেল। মনে হলো কোনো ব্যথাই ছিল না।

অতঃপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাতে যুদ্ধের পতাকা দিলেন। আলি রাদিয়াল্লাহu আনহু বললেন, 'তারা আমাদের মতো হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ করতেই থাকব।'

নবিজি বললেন- 'তাদের এলাকায় প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত খুব ধীরে ধীরে কাজ করবে। তারপর তাদের ইসলামের প্রতি আহ্বান করবে এবং তাদের করণীয় সম্পর্কে অবহিত করবে। আল্লাহর শপথ, যদি আল্লাহ তাআলা তোমার মাধ্যমে কাউকে হেদায়াত দান করেন, তাহলে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও কল্যাণকর হবে।

টিকাঃ
৩০. সহিহ বুখারি: ১০/১৯৮।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে নিয়ে খায়বারের যুদ্ধে গেলেন। খায়বার দুর্গের অবরোধ দীর্ঘতর হতে থাকল। দুর্গগুলো বিজয় তাঁদের জন্য সহজ হচ্ছিল না। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে বললেন, 'আগামীকাল পতাকা এমন একজনের হাতে দিব, যাঁর হাতে আল্লাহ তাআলা বিজয় দান করবেন। সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে। আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলও তাঁকে ভালোবাসেন।' সকালবেলা সবাই নবিজির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন; প্রত্যেকের আকাঙ্ক্ষা ছিল, পতাকা তাকে দেওয়া হোক।

সবার অপেক্ষার পালা শেষ করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডাকলেন—'আলি বিন আবু তালিব কোথায়?' সবাই জবাব দিলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আলির উভয় চোখ অসুস্থ। তাঁর চোখে প্রচণ্ড ব্যথা। তাঁর পুরো চোখ ফুলে গেছে, তিনি কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ডেকে পাঠালেন।

সাহাবিগণ আলির হাত ধরে নবিজির সামনে এনে বসিয়ে দিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উভয় চোখে থুথু মোবারক লাগিয়ে দিলেন এবং দুআ করলেন। মুহূর্তেই আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর উভয় চোখ ভালো হয়ে গেল। মনে হলো কোনো ব্যথাই ছিল না। অতঃপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাতে যুদ্ধের পতাকা দিলেন। আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'তারা আমাদের মতো হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ করতেই থাকব।'

নবিজি বললেন-
انْفُذْ عَلَى رِسْلِكَ حَتَّى تَنْزِلَ بِسَاحَتِهِمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ وَأَخْبِرْهُمْ بِمَا يَجِبُ عَلَيْهِمْ فَوَاللَّهِ لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ .
'তাদের এলাকায় প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত খুব ধীরে ধীরে কাজ করবে। তারপর তাদের ইসলামের প্রতি আহ্বান করবে এবং তাদের করণীয় সম্পর্কে অবহিত করবে। আল্লাহর শপথ, যদি আল্লাহ তাআলা তোমার মাধ্যমে কাউকে হেদায়াত দান করেন, তাহলে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও কল্যাণকর হবে।

টিকাঃ
৩০. সহিহ বুখারি: ১০/১৯৮।

📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 গাছ হেঁটে নবিজির কাছে এল

📄 গাছ হেঁটে নবিজির কাছে এল


নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণের সাথে সফরে ছিলেন। রাস্তায় একগ্রাম্যলোককে দেখলেন। লোকটি নবিজি এবং তাঁর সাহাবিগণের কাছাকাছি হলো। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামের হৃদয়ে সদাসর্বদা মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান করার স্পৃহা জাগ্রত থাকত। গ্রাম্যলোকটিকে দেখামাত্র নবিজি জিজ্ঞেস করলেন, 'কোথায় যাবে তুমি?' লোকটি বলল, 'আমার পরিবারের কাছে।'

নবিজি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার কি কল্যাণের প্রয়োজন আছে?' লোকটি বলল, 'সেটা কী?' নবিজি বললেন, 'এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। মুহাম্মদ আল্লাহ তাআলার বান্দা এবং তাঁর রাসুল।'

লোকটি বলল, 'আপনার দাবির পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে?' নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপত্যকার একটি খেজুরগাছের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'এই গাছটি।' এরপর নবিজি সেই গাছের দিকে তাকালেন এবং তাকে ডাকলেন। জমিনে কম্পন শুরু হলো এবং জমিন ফেটে গাছটি নবিজির সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছটির কাছে তিন বার সাক্ষ্য চাইলেন যে, তিনি আল্লাহর নবি। নবিজির কথামতো গাছটি তিন বার সাক্ষ্য দিলো; তারপর আপন স্থানে ফিরে গেল।

গ্রাম্যলোকটির শেষ প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপচাপ থাকলেন যে, সে ইসলামে প্রবেশ করে কি না। লোকটি সত্য বুঝতে পারল। তাই উৎসাহী হয়ে বাড়ির দিকে ফিরে চলল এবং রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলল, 'যদি তারা আমার অনুকরণ করে তাহলে তাদের নিয়ে আপনার কাছে আসব। আর যদি তারা আমার কথা না মানে, তাহলে আমি একাই আপনার সাথে থাকব।

টিকাঃ
৩১. আল-মুজামুল কাবির লিত-তবরানি :১১/৬২; সুনানে দারিমি: ১/২৮; মুসনাদে আবু ইয়ালা মুসিলি: ১১/৪১৮।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণের সাথে সফরে ছিলেন। রাস্তায় একগ্রাম্যলোককে দেখলেন। লোকটি নবিজি এবং তাঁর সাহাবিগণের কাছাকাছি হলো। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হৃদয়ে সদাসর্বদা মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান করার স্পৃহা জাগ্রত থাকত। গ্রাম্যলোকটিকে দেখামাত্র নবিজি জিজ্ঞেস করলেন, 'কোথায় যাবে তুমি?'
লোকটি বলল, 'আমার পরিবারের কাছে।'
নবিজি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার কি কল্যাণের প্রয়োজন আছে?'
লোকটি বলল, 'সেটা কী?'
নবিজি বললেন, 'এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। মুহাম্মদ আল্লাহ তাআলার বান্দা এবং তাঁর রাসুল।'
লোকটি বলল, 'আপনার দাবির পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে?'
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপত্যকার একটি খেজুরগাছের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'এই গাছটি।' এরপর নবিজি সেই গাছের দিকে তাকালেন এবং তাকে ডাকলেন। জমিনে কম্পন শুরু হলো এবং জমিন ফেটে গাছটি নবিজির সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছটির কাছে তিন বার সাক্ষ্য চাইলেন যে, তিনি আল্লাহর নবি। নবিজির কথামতো গাছটি তিন বার সাক্ষ্য দিলো; তারপর আপন স্থানে ফিরে গেল।

গ্রাম্যলোকটির শেষ প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপচাপ থাকলেন যে, সে ইসলামে প্রবেশ করে কি না। লোকটি সত্য বুঝতে পারল। তাই উৎসাহী হয়ে বাড়ির দিকে ফিরে চলল এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলল, 'যদি তারা আমার অনুকরণ করে তাহলে তাদের নিয়ে আপনার কাছে আসব। আর যদি তারা আমার কথা না মানে, তাহলে আমি একাই আপনার সাথে থাকব।

টিকাঃ
৩১. আল-মুজামুল কাবির লিত-তবরানি :১১/৬২; সুনানে দারিমি: ১/২৮; মুসনাদে আবু ইয়ালা মুসিলি: ১১/৪১৮।

📘 আমাদের সোনালী অতীত 📄 অনুগল গাছ

📄 অনুগল গাছ


নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামের হজের বর্ণনায় জাবের রাদিয়াল্লাহu আনহু থেকে সুদীর্ঘ একটি ঘটনা উদ্ধৃত আছে। জাবের রাদিয়াল্লাহu আনহু বলেন, 'আমরা নবিজির সাথে যাত্রা করলাম। যখন আফআহ উপত্যকায় পৌঁছলাম, নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য বাহিরে গেলেন। আমি একটি পানির পাত্র নিয়ে তাঁর অনুসরণ করলাম।

নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম চারদিকে তাকিয়ে আড়াল হওয়ার মতো কিছু দেখতে পেলেন না। উপত্যকার কোণে থাকা দুটি গাছের প্রতি তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো। নবিজি একটির কাছে গিয়ে তার একটি ডাল ধরলেন এবং বললেন, 'আল্লাহর নির্দেশে আমার সাথে চলো, আমার অনুকরণ করো।' ঠিক বাধ্য উটের মতো গাছটি নবিজির সাথে চলতে লাগল।

নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছটিকে টেনে আরেকটি গাছের নিকট নিয়ে এলেন। যখন দুই গাছের দূরত্ব উভয় দিকে সমান হলো, তখন ঠিক পূর্বের ন্যায় এই গাছটিরও ডাল ধরে দুটি গাছকে কাছাকাছি করলেন। তারপর বললেন, 'আল্লাহর নির্দেশে দুজন মিলিত হয়ে আমাকে আড়াল করো।'

জাবের রাদিয়াল্লাহu আনহু বলেন, 'আমি ভয়ে ভয়েই এগুচ্ছিলাম যে, রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার আগমন টের পেয়ে আরও দূরে যাবেন। আমি মনে মনে এমনটি ভাবছিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তে আমার শরীর কেমন যেন নড়েচড়ে উঠল। হঠাৎ দেখি আমি নবিজির সামনে, গাছ দুটি আলাদা হয়ে গেছে এবং উভয়েই আপন আপন শেকড়ে দাঁড়িয়ে গেছে।

টিকাঃ
৩২. সহিহ মুসলিম: ১৪/২৯৫; দালাইলুন-নবুওয়‍্যাহ লিলবাইহাকি: ৬/১৩৩; ইবনে হিব্বান: ২৭/৮১; মিশকাত: ৩/২৮০; আস-সুনানুল কুবরা লিলবাইহাকি: ১/৯৪।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হজের বর্ণনায় জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সুদীর্ঘ একটি ঘটনা উদ্ধৃত আছে। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আমরা নবিজির সাথে যাত্রা করলাম। যখন আফআহ উপত্যকায় পৌঁছলাম, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য বাহিরে গেলেন। আমি একটি পানির পাত্র নিয়ে তাঁর অনুসরণ করলাম।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চারদিকে তাকিয়ে আড়াল হওয়ার মতো কিছু দেখতে পেলেন না। উপত্যকার কোণে থাকা দুটি গাছের প্রতি তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো। নবিজি একটির কাছে গিয়ে তার একটি ডাল ধরলেন এবং বললেন, 'আল্লাহর নির্দেশে আমার সাথে চলো, আমার অনুকরণ করো।' ঠিক বাধ্য উটের মতো গাছটি নবিজির সাথে চলতে লাগল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছটিকে টেনে আরেকটি গাছের নিকট নিয়ে এলেন। যখন দুই গাছের দূরত্ব উভয় দিকে সমান হলো, তখন ঠিক পূর্বের ন্যায় এই গাছটিরও ডাল ধরে দুটি গাছকে কাছাকাছি করলেন। তারপর বললেন, 'আল্লাহর নির্দেশে দুজন মিলিত হয়ে আমাকে আড়াল করো।'

জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আমি ভয়ে ভয়েই এগুচ্ছিলাম যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার আগমন টের পেয়ে আরও দূরে যাবেন। আমি মনে মনে এমনটি ভাবছিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তে আমার শরীর কেমন যেন নড়েচড়ে উঠল। হঠাৎ দেখি আমি নবিজির সামনে, গাছ দুটি আলাদা হয়ে গেছে এবং উভয়েই আপন আপন শেকড়ে দাঁড়িয়ে গেছে।

টিকাঃ
৩২. সহিহ মুসলিম: ১৪/২৯৫; দালাইলুন-নবুওয়‍্যাহ লিলবাইহাকি: ৬/১৩৩; ইবনে হিব্বান: ২৭/৮১; মিশকাত: ৩/২৮০; আস-সুনানুল কুবরা লিলবাইহাকি: ১/৯৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px