📄 আকাশ চলে তাঁর ইশারায়
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আরেকটি মুজিজা হলো; তিনি যখন আকাশের দিকে ইশারা করলেন আল্লাহর নির্দেশে আকাশ তাঁর অনুকরণ করল। পবিত্র নবুওয়াতের সময়কালেই একবার অনাবৃষ্টি দেখা দিলো, জমিন শুকিয়ে গেল, ফসল নষ্ট হয়ে গেল।
এক-জুমার দিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করে মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ একলোক মসজিদে প্রবেশ করল; নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। লোকটি দাঁড়িয়ে থেকেই নবিজির দৃষ্টি আকর্ষণ করল এবং খুতবার মাঝেই চিৎকার করে বলতে লাগল—‘হে আল্লাহর রাসুল, সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল! সব পথ রুদ্ধ হয়ে গেল! তাই আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন।’ লোকটি উদ্বিগ্ন অবস্থায় কথা বলছিল, সে তার সন্তানদের ক্ষুধার্ত দেখছিল, বকরিগুলো দেখছিল বিধ্বস্ত, পথগুলো দেখছিল রুদ্ধ, জমিনসব দেখছিল শুষ্ক এবং সম্পদগুলো নিঃশেষিত।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবিগণ চিন্তায় পেরেশান ছিলেন। তাই তিনি খুব দ্রুত দুই হাত আকাশপানে তুলে দুআ করতে লাগলেন, বিনয় প্রকাশ করে কাকুতি-মিনতি করে করে আল্লাহকে ডাকলেন— اللَّهُمَّ اسْقِنَا اللَّهُمَّ اسْقِنَا اللَّهُمَّ اسْقِنَا । ‘হে আল্লাহ, আমাদের পানি দাও। হে আল্লাহ, আমাদের পানি দাও। হে আল্লাহ, আমাদের পানি দাও।’
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুও মুসল্লিদের মাঝে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যখন তিনি নবিজিকে অনুনয়-বিনয় করে পানি চাইতে দেখলেন, আকাশের দিকে তাকালেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আল্লাহর কসম, আমি দেখলাম, আকাশে কোনো মেঘ নেই, কোনো ঘনঘটা নেই, আকাশ একেবারে আয়নার মতো পরিষ্কার। আমাদের মাঝে কোনো অন্তরায়ও ছিল না। আল্লাহর কসম, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখনো দুআ করে হাত নামাননি, আকাশে পাহাড়ের মতো মেঘের আনাগোনা শুরু হয়ে গেল। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বার হতে নামার পূর্বেই দেখলাম, তাঁর দাড়ি বেয়ে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছে। আকাশ সাত দিন অনবরত বৃষ্টি বর্ষণ করতেই থাকল। এতে করে জমিন ঊর্বর হয়েছে, প্রাণীগুলো পরিতৃপ্ত হয়েছে।
পরবর্তী জুমায় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ সেই পূর্বের লোকটি বা অন্য আরেকজন ওই দরজা দিয়েই প্রবেশ করল, তখনো নবিজি দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। লোকটি দাঁড়িয়েই নবিজির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে লাগল, 'সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল! পথগুলো রুদ্ধ হয়ে গেল! আল্লাহ তাআলার কাছে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার দুআ করুন।'
রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত তুলে দুআ করলেন- اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا اللَّهُمَّ عَلَى الْآكَامِ وَالْجিবَالِ وَالْآجَامِ وَالظَّرَابِ وَالْأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ । 'হে আল্লাহ, আমাদের আশেপাশে বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়। হে আল্লাহ, উঁচু স্থানে, পাহাড়ে, খাল-বিলে, নদ-নদীতে ও বৃক্ষ উৎপন্নের স্থানে বর্ষণ করুন!' এরপর হাত দ্বারা আকাশে অবস্থিত মেঘের কণার দিকে ইশারা করলেন।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'যখন নবিজি হাত দিয়ে মেঘের কণার দিকে ইশারা করলেন, আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেল। আমি মদিনাকে দেখলাম একটি দ্বীপের মধ্যস্থিত ঘরের মতো।' অর্থাৎ পানি মদিনার চারদিকে চলে গেল। পানি মদিনার আশপাশের এলাকায় প্রায় একমাস যাবৎ গড়িয়ে যেতে থাকল। মদিনার বাইরে থেকে যে কেউ মদিনায় আসলে অত্যধিক বৃষ্টির সংবাদ দিত। এটা নবিজির ওই দুআর বরকত- اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا। ‘হে আল্লাহ, আবহাওয়া আমাদের অনুকূল করো, প্রতিকূল নয়।'
নিশ্চিতভাবে মেঘের ওপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইশারার প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। এটা মূলত ওই শক্তির ফলে যা আল্লাহ তাআলা তাঁর নবিকে দান করেছেন এবং তাঁর চারপাশে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এটা আল্লাহ তাআলার নিদের্শ এবং তাঁর ইচ্ছাতেই হয়েছে। যেমন: ইসা আলাইহিস সালাম কুষ্ঠ ও ধবলরোগী সুস্থ করতেন এবং মৃতকে জীবিত করতেন আল্লাহ তাআলার নির্দেশেই। যদি আল্লাহ তাআলা না চাইতেন দুনিয়ার কাউকেই—চাই সে নবি হোক বা অন্য কেউ; এমন কাজের ক্ষমতা দান করতেন না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা বিশেষ হেকমতে তাদের এমন কিছু বিষয় দান করেন।
টিকাঃ
২৫. সহিহ বুখারি: ৪/১০৪।
২৬. সহিহ বুখারি: ৪/১০৪।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আরেকটি মুজিজা হলো; তিনি যখন আকাশের দিকে ইশারা করলেন আল্লাহর নির্দেশে আকাশ তাঁর অনুকরণ করল। পবিত্র নবুওয়াতের সময়কালেই একবার অনাবৃষ্টি দেখা দিলো, জমিন শুকিয়ে গেল, ফসল নষ্ট হয়ে গেল।
এক-জুমার দিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করে মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ একলোক মসজিদে প্রবেশ করল; নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। লোকটি দাঁড়িয়ে থেকেই নবিজির দৃষ্টি আকর্ষণ করল এবং খুতবার মাঝেই চিৎকার করে বলতে লাগল—‘হে আল্লাহর রাসুল, সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল! সব পথ রুদ্ধ হয়ে গেল! তাই আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন।’ লোকটি উদ্বিগ্ন অবস্থায় কথা বলছিল, সে তার সন্তানদের ক্ষুধার্ত দেখছিল, বকরিগুলো দেখছিল বিধ্বস্ত, পথগুলো দেখছিল রুদ্ধ, জমিনসব দেখছিল শুষ্ক এবং সম্পদগুলো নিঃশেষিত।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবিগণ চিন্তায় পেরেশান ছিলেন। তাই তিনি খুব দ্রুত দুই হাত আকাশপানে তুলে দুআ করতে লাগলেন, বিনয় প্রকাশ করে কাকুতি-মিনতি করে করে আল্লাহকে ডাকলেন— اللَّهُمَّ اسْقِنَا اللَّهُمَّ اسْقِنَا اللَّهُمَّ اسْقِنَا .
‘হে আল্লাহ, আমাদের পানি দাও। হে আল্লাহ, আমাদের পানি দাও। হে আল্লাহ, আমাদের পানি দাও।’
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুও মুসল্লিদের মাঝে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যখন তিনি নবিজিকে অনুনয়-বিনয় করে পানি চাইতে দেখলেন, আকাশের দিকে তাকালেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আল্লাহর কসম, আমি দেখলাম, আকাশে কোনো মেঘ নেই, কোনো ঘনঘটা নেই, আকাশ একেবারে আয়নার মতো পরিষ্কার। আমাদের মাঝে কোনো অন্তরায়ও ছিল না। আল্লাহর কসম, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখনো দুআ করে হাত নামাননি, আকাশে পাহাড়ের মতো মেঘের আনাগোনা শুরু হয়ে গেল। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বার হতে নামার পূর্বেই দেখলাম, তাঁর দাড়ি বেয়ে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছে। আকাশ সাত দিন অনবরত বৃষ্টি বর্ষণ করতেই থাকল। এতে করে জমিন ঊর্বর হয়েছে, প্রাণীগুলো পরিতৃপ্ত হয়েছে।
পরবর্তী জুমায় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ সেই পূর্বের লোকটি বা অন্য আরেকজন ওই দরজা দিয়েই প্রবেশ করল, তখনো নবিজি দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। লোকটি দাঁড়িয়েই নবিজির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে লাগল, 'সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল! পথগুলো রুদ্ধ হয়ে গেল! আল্লাহ তাআলার কাছে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার দুআ করুন।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত তুলে দুআ করলেন- اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا اللَّهُمَّ عَلَى الْآكَامِ وَالْجِبَالِ وَالْآجَامِ وَالظَّرَابِ وَالْأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ .
'হে আল্লাহ, আমাদের আশেপাশে বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়। হে আল্লাহ, উঁচু স্থানে, পাহাড়ে, খাল-বিলে, নদ-নদীতে ও বৃক্ষ উৎপন্নের স্থানে বর্ষণ করুন!'
এরপর হাত দ্বারা আকাশে অবস্থিত মেঘের কণার দিকে ইশারা করলেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'যখন নবিজি হাত দিয়ে মেঘের কণার দিকে ইশারা করলেন, আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেল। আমি মদিনাকে দেখলাম একটি দ্বীপের মধ্যস্থিত ঘরের মতো।' অর্থাৎ পানি মদিনার চারদিকে চলে গেল। পানি মদিনার আশপাশের এলাকায় প্রায় একমাস যাবৎ গড়িয়ে যেতে থাকল। মদিনার বাইরে থেকে যে কেউ মদিনায় আসলে অত্যধিক বৃষ্টির সংবাদ দিত। এটা নবিজির ওই দুআর বরকত- اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا. ‘হে আল্লাহ, আবহাওয়া আমাদের অনুকূল করো, প্রতিকূল নয়।'
নিশ্চিতভাবে মেঘের ওপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইশারার প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। এটা মূলত ওই শক্তির ফলে যা আল্লাহ তাআলা তাঁর নবিকে দান করেছেন এবং তাঁর চারপাশে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এটা আল্লাহ তাআলার নিদের্শ এবং তাঁর ইচ্ছাতেই হয়েছে। যেমন: ইসা আলাইহিস সালাম কুষ্ঠ ও ধবলরোগী সুস্থ করতেন এবং মৃতকে জীবিত করতেন আল্লাহ তাআলার নির্দেশেই। যদি আল্লাহ তাআলা না চাইতেন দুনিয়ার কাউকেই—চাই সে নবি হোক বা অন্য কেউ; এমন কাজের ক্ষমতা দান করতেন না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা বিশেষ হেকমতে তাদের এমন কিছু বিষয় দান করেন।
টিকাঃ
২৫. সহিহ বুখারি: ৪/১০৪।
২৬. সহিহ বুখারি: ৪/১০৪।
📄 উটও জবাব দিলো
এক-আনসারি পরিবার ছিল। তারা একটি উট দিয়ে চাক্কি চালিয়ে কূপ থেকে পানি উঠাত। একবার উট বিরক্ত হয়ে কাজ করা ছেড়ে দিলো। পিঠে কাউকে উঠতে দিচ্ছিল না। তাদের ওপর আক্রমণ করতে শুরু করল। তারা উটটি ব্যবহার করতে পারছিল না। তার ওপর সওয়ারও হতে পারছিল না। তাই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলো। পরিবারটি ছিল দরিদ্র। যার কারণে অন্য উট ক্রয় করার সামর্থ্যও তাদের ছিল না।
পরিবারের সদস্যরা নবিজির কাছে এসে বলল, 'আমাদের উটটি আমাদের আর চিনছে না। আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত, পিঠে উঠতে দিচ্ছে না। ওদিকে ফসল এবং খেজুরবাগান শুষ্ক হয়ে পড়েছে।'
রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বললেন, 'চলো।' তারা নবিজির সাথে চলল। চলতে চলতে একসময় বাগানে প্রবেশ করলেন। উটটি বাগানের এককোণেই ছিল। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটটির দিকে এগুতে লাগলেন। আনসারগণ উট নবিজিকে কষ্ট দিতে পারে, এই ভয় করতে লাগলেন। তাঁরা বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, উটটি পাগলা কুকুরের মতো হয়ে গেছে। ভয় হচ্ছে, উট হয়তো আপনার ওপর আক্রমণ করবে!'
নবিজি বললেন, 'সে আমার কোনো ক্ষতি করবে না' এই বলে উটের দিকে চলতে লাগলেন। যখন উটটি নবিজিকে দেখল, নবিজির দিকে এগুতে শুরু করল এবং তাঁর সামনে এসে সিজদায় পড়ে গেল। রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটের কপালের চুলগুচ্ছ ধরলেন এবং তার মুখ উঁচু করলেন। উটটি নবিজির সম্পূর্ণ অনুগত হয়ে সামনে সামনে চলছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তার কাজে লাগিয়ে দিলেন এবং লাগাম লাগিয়ে বেঁধে দিলেন।
সাহাবিগণ বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, এরা অবুঝ প্রাণী হয়েও আপনাকে সিজদা করল! অতএব আমরা আপনাকে সিজদা করার অধিক হকদার!' নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- 'কোনো মানুষ অন্য মানুষকে সিজদা করা বৈধ নয়। যদি মানুষের জন্য অন্য মানুষকে সিজদা করার অনুমতি থাকত, তাহলে নারীদের নির্দেশ দিতাম, তারা যেন স্বামীদের সিজদা করে, নারীর ওপর স্বামীর অধিকারের কারণে।'
শেষকথা, প্রাণীদের মাঝে এমন আচরণ আল্লাহর নির্দেশেই হয়ে থাকে। এগুলো তাঁর নির্দেশ এবং ইচ্ছার অধীন। নতুবা নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ইচ্ছা করেননি এবং ইচ্ছা করলেও আল্লাহর অনুমতি ছাড়া হওয়া সম্ভব নয়।
যেমন: হাদিসে বর্ণিত আছে, মক্কা বিজয়ের পূর্বে নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর উটনি কসওয়ায় আরোহণ করে উমরা করতে গেলেন। হঠাৎ উটনিটি নবিজিকে নিয়ে বসে পড়ল। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিয়ে চলতে চাইলেন; কিন্তু উটনিটি যেতে চাইল না। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, 'উটনিটি অবাধ্য হয়ে গেছে!' নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- 'উটনি অবাধ্য হয়নি, তাকে সেভাবে সৃষ্টিও করা হয়নি। কিন্তু তাকে সেই সত্তা আটকে দিয়েছেন, যেই সত্তা হাতিকে আটকে দিয়েছিলেন।'
অর্থাৎ আবরাহা ও তার হস্তীবাহিনীর হাতিগুলোকে যেই আল্লাহ আটকে দিয়েছিলেন, তিনিই আমার উটনিকে আটকে দিয়েছেন।
তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন- ‘আজকে কুরাইশরা আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে যে কোনো দাবি করলে আমি তা অবশ্যই পূরণ করব।'
এরপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরাইশদের মাঝে হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি সম্পাদিত হয় এবং নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় ফিরে আসেন।
টিকাঃ
২৭. মুসনাদে আহমদ: ২৫/১৯৯; আস-সুনানুল কুবরা লিন্নাসায়ি: ৫/৩৬৩।
২৮. সহিহ বুখারি: ৯/২৫৬।
২৯. মুসনাদে আহমদ: ৩৮/৩৭৭।
এক-আনসারি পরিবার ছিল। তারা একটি উট দিয়ে চাক্কি চালিয়ে কূপ থেকে পানি উঠাত। একবার উট বিরক্ত হয়ে কাজ করা ছেড়ে দিলো। পিঠে কাউকে উঠতে দিচ্ছিল না। তাদের ওপর আক্রমণ করতে শুরু করল। তারা উটটি ব্যবহার করতে পারছিল না। তার ওপর সওয়ারও হতে পারছিল না। তাই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলো। পরিবারটি ছিল দরিদ্র। যার কারণে অন্য উট ক্রয় করার সামর্থ্যও তাদের ছিল না।
পরিবারের সদস্যরা নবিজির কাছে এসে বলল, 'আমাদের উটটি আমাদের আর চিনছে না। আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত, পিঠে উঠতে দিচ্ছে না। ওদিকে ফসল এবং খেজুরবাগান শুষ্ক হয়ে পড়েছে।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বললেন, 'চলো।'
তারা নবিজির সাথে চলল। চলতে চলতে একসময় বাগানে প্রবেশ করলেন। উটটি বাগানের এককোণেই ছিল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটটির দিকে এগুতে লাগলেন। আনসারগণ উট নবিজিকে কষ্ট দিতে পারে, এই ভয় করতে লাগলেন। তাঁরা বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, উটটি পাগলা কুকুরের মতো হয়ে গেছে। ভয় হচ্ছে, উট হয়তো আপনার ওপর আক্রমণ করবে!'
নবিজি বললেন, 'সে আমার কোনো ক্ষতি করবে না' এই বলে উটের দিকে চলতে লাগলেন।
যখন উটটি নবিজিকে দেখল, নবিজির দিকে এগুতে শুরু করল এবং তাঁর সামনে এসে সিজদায় পড়ে গেল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটের কপালের চুলগুচ্ছ ধরলেন এবং তার মুখ উঁচু করলেন। উটটি নবিজির সম্পূর্ণ অনুগত হয়ে সামনে সামনে চলছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তার কাজে লাগিয়ে দিলেন এবং লাগাম লাগিয়ে বেঁধে দিলেন।
সাহাবিগণ বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, এরা অবুঝ প্রাণী হয়েও আপনাকে সিজদা করল! অতএব আমরা আপনাকে সিজদা করার অধিক হকদার!' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
لَا يَصْلُحُ لِبَشَرٍ أَنْ يَسْجُدَ لِبَشَرٍ وَلَوْ صَلَحَ لِبَشَرٍ أَنْ يَسْجُدَ لِبَشَرٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَসْجُدَ لِزَوْجِهَا مِنْ عِظَمٍ حَقِّهِ عَلَيْهَا .
'কোনো মানুষ অন্য মানুষকে সিজদা করা বৈধ নয়। যদি মানুষের জন্য অন্য মানুষকে সিজদা করার অনুমতি থাকত, তাহলে নারীদের নির্দেশ দিতাম, তারা যেন স্বামীদের সিজদা করে, নারীর ওপর স্বামীর অধিকারের কারণে।
শেষকথা, প্রাণীদের মাঝে এমন আচরণ আল্লাহর নির্দেশেই হয়ে থাকে। এগুলো তাঁর নির্দেশ এবং ইচ্ছার অধীন। নতুবা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ইচ্ছা করেননি এবং ইচ্ছা করলেও আল্লাহর অনুমতি ছাড়া হওয়া সম্ভব নয়।
যেমন: হাদিসে বর্ণিত আছে, মক্কা বিজয়ের পূর্বে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর উটনি কসওয়ায় আরোহণ করে উমরা করতে গেলেন। হঠাৎ উটনিটি নবিজিকে নিয়ে বসে পড়ল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিয়ে চলতে চাইলেন; কিন্তু উটনিটি যেতে চাইল না।
সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, 'উটনিটি অবাধ্য হয়ে গেছে!' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
مَا خَلَأَتْ الْقَصْوَاءُ وَمَا ذَاكَ لَهَا بِخُلُقٍ وَلَكিনْ حَبَسَهَا حَابِسُ الْفِيلِ.
'উটনি অবাধ্য হয়নি, তাকে সেভাবে সৃষ্টিও করা হয়নি। কিন্তু তাকে সেই সত্তা আটকে দিয়েছেন, যেই সত্তা হাতিকে আটকে দিয়েছিলেন।'
অর্থাৎ আবরাহা ও তার হস্তীবাহিনীর হাতিগুলোকে যেই আল্লাহ আটকে দিয়েছিলেন, তিনিই আমার উটনিকে আটকে দিয়েছেন।
তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন-
لَا تَدْعُونِي قُرَيْشُ الْيَوْمَ إِلَى خُطَةٍ يَسْأَلُونِي فِيهَا صِلَةَ الرَّحِمِ إِلَّا أَعْطَيْتُهُمْ إِيَّاهَا .
‘আজকে কুরাইশরা আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে যে কোনো দাবি করলে আমি তা অবশ্যই পূরণ করব।'
এরপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরাইশদের মাঝে হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি সম্পাদিত হয় এবং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় ফিরে আসেন।
টিকাঃ
২৭. মুসনাদে আহমদ: ২৫/১৯৯; আস-সুনানুল কুবরা লিন্নাসায়ি: ৫/৩৬৩।
২৮. সহিহ বুখারি: ৯/২৫৬।
২৯. মুসনাদে আহমদ: ৩৮/৩৭৭।
📄 চোখ সুস্থ হয়ে গেল
নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে নিয়ে খায়বারের যুদ্ধে গেলেন। খায়বার দুর্গের অবরোধ দীর্ঘতর হতে থাকল। দুর্গগুলো বিজয় তাঁদের জন্য সহজ হচ্ছিল না। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে বললেন, 'আগামীকাল পতাকা এমন একজনের হাতে দিব, যাঁর হাতে আল্লাহ তাআলা বিজয় দান করবেন। সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে। আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলও তাঁকে ভালোবাসেন।'
সকালবেলা সবাই নবিজির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন; প্রত্যেকের আকাঙ্ক্ষা ছিল, পতাকা তাকে দেওয়া হোক। সবার অপেক্ষার পালা শেষ করে রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডাকলেন—'আলি বিন আবু তালিব কোথায়?'
সবাই জবাব দিলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আলির উভয় চোখ অসুস্থ। তাঁর চোখে প্রচণ্ড ব্যথা। তাঁর পুরো চোখ ফুলে গেছে, তিনি কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না।' রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলি রাদিয়াল্লাহu আনহুকে ডেকে পাঠালেন। সাহাবিগণ আলির হাত ধরে নবিজির সামনে এনে বসিয়ে দিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উভয় চোখে থুথু মোবারক লাগিয়ে দিলেন এবং দুআ করলেন। মুহূর্তেই আলি রাদিয়াল্লাহu আনহুর উভয় চোখ ভালো হয়ে গেল। মনে হলো কোনো ব্যথাই ছিল না।
অতঃপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাতে যুদ্ধের পতাকা দিলেন। আলি রাদিয়াল্লাহu আনহু বললেন, 'তারা আমাদের মতো হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ করতেই থাকব।'
নবিজি বললেন- 'তাদের এলাকায় প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত খুব ধীরে ধীরে কাজ করবে। তারপর তাদের ইসলামের প্রতি আহ্বান করবে এবং তাদের করণীয় সম্পর্কে অবহিত করবে। আল্লাহর শপথ, যদি আল্লাহ তাআলা তোমার মাধ্যমে কাউকে হেদায়াত দান করেন, তাহলে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও কল্যাণকর হবে।
টিকাঃ
৩০. সহিহ বুখারি: ১০/১৯৮।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে নিয়ে খায়বারের যুদ্ধে গেলেন। খায়বার দুর্গের অবরোধ দীর্ঘতর হতে থাকল। দুর্গগুলো বিজয় তাঁদের জন্য সহজ হচ্ছিল না। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে বললেন, 'আগামীকাল পতাকা এমন একজনের হাতে দিব, যাঁর হাতে আল্লাহ তাআলা বিজয় দান করবেন। সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে। আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলও তাঁকে ভালোবাসেন।' সকালবেলা সবাই নবিজির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন; প্রত্যেকের আকাঙ্ক্ষা ছিল, পতাকা তাকে দেওয়া হোক।
সবার অপেক্ষার পালা শেষ করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডাকলেন—'আলি বিন আবু তালিব কোথায়?' সবাই জবাব দিলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আলির উভয় চোখ অসুস্থ। তাঁর চোখে প্রচণ্ড ব্যথা। তাঁর পুরো চোখ ফুলে গেছে, তিনি কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ডেকে পাঠালেন।
সাহাবিগণ আলির হাত ধরে নবিজির সামনে এনে বসিয়ে দিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উভয় চোখে থুথু মোবারক লাগিয়ে দিলেন এবং দুআ করলেন। মুহূর্তেই আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর উভয় চোখ ভালো হয়ে গেল। মনে হলো কোনো ব্যথাই ছিল না। অতঃপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাতে যুদ্ধের পতাকা দিলেন। আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'তারা আমাদের মতো হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ করতেই থাকব।'
নবিজি বললেন-
انْفُذْ عَلَى رِسْلِكَ حَتَّى تَنْزِلَ بِسَاحَتِهِمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ وَأَخْبِرْهُمْ بِمَا يَجِبُ عَلَيْهِمْ فَوَاللَّهِ لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ .
'তাদের এলাকায় প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত খুব ধীরে ধীরে কাজ করবে। তারপর তাদের ইসলামের প্রতি আহ্বান করবে এবং তাদের করণীয় সম্পর্কে অবহিত করবে। আল্লাহর শপথ, যদি আল্লাহ তাআলা তোমার মাধ্যমে কাউকে হেদায়াত দান করেন, তাহলে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও কল্যাণকর হবে।
টিকাঃ
৩০. সহিহ বুখারি: ১০/১৯৮।
📄 গাছ হেঁটে নবিজির কাছে এল
নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণের সাথে সফরে ছিলেন। রাস্তায় একগ্রাম্যলোককে দেখলেন। লোকটি নবিজি এবং তাঁর সাহাবিগণের কাছাকাছি হলো। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামের হৃদয়ে সদাসর্বদা মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান করার স্পৃহা জাগ্রত থাকত। গ্রাম্যলোকটিকে দেখামাত্র নবিজি জিজ্ঞেস করলেন, 'কোথায় যাবে তুমি?' লোকটি বলল, 'আমার পরিবারের কাছে।'
নবিজি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার কি কল্যাণের প্রয়োজন আছে?' লোকটি বলল, 'সেটা কী?' নবিজি বললেন, 'এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। মুহাম্মদ আল্লাহ তাআলার বান্দা এবং তাঁর রাসুল।'
লোকটি বলল, 'আপনার দাবির পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে?' নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপত্যকার একটি খেজুরগাছের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'এই গাছটি।' এরপর নবিজি সেই গাছের দিকে তাকালেন এবং তাকে ডাকলেন। জমিনে কম্পন শুরু হলো এবং জমিন ফেটে গাছটি নবিজির সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছটির কাছে তিন বার সাক্ষ্য চাইলেন যে, তিনি আল্লাহর নবি। নবিজির কথামতো গাছটি তিন বার সাক্ষ্য দিলো; তারপর আপন স্থানে ফিরে গেল।
গ্রাম্যলোকটির শেষ প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপচাপ থাকলেন যে, সে ইসলামে প্রবেশ করে কি না। লোকটি সত্য বুঝতে পারল। তাই উৎসাহী হয়ে বাড়ির দিকে ফিরে চলল এবং রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলল, 'যদি তারা আমার অনুকরণ করে তাহলে তাদের নিয়ে আপনার কাছে আসব। আর যদি তারা আমার কথা না মানে, তাহলে আমি একাই আপনার সাথে থাকব।
টিকাঃ
৩১. আল-মুজামুল কাবির লিত-তবরানি :১১/৬২; সুনানে দারিমি: ১/২৮; মুসনাদে আবু ইয়ালা মুসিলি: ১১/৪১৮।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণের সাথে সফরে ছিলেন। রাস্তায় একগ্রাম্যলোককে দেখলেন। লোকটি নবিজি এবং তাঁর সাহাবিগণের কাছাকাছি হলো। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হৃদয়ে সদাসর্বদা মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান করার স্পৃহা জাগ্রত থাকত। গ্রাম্যলোকটিকে দেখামাত্র নবিজি জিজ্ঞেস করলেন, 'কোথায় যাবে তুমি?'
লোকটি বলল, 'আমার পরিবারের কাছে।'
নবিজি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার কি কল্যাণের প্রয়োজন আছে?'
লোকটি বলল, 'সেটা কী?'
নবিজি বললেন, 'এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। মুহাম্মদ আল্লাহ তাআলার বান্দা এবং তাঁর রাসুল।'
লোকটি বলল, 'আপনার দাবির পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে?'
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপত্যকার একটি খেজুরগাছের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'এই গাছটি।' এরপর নবিজি সেই গাছের দিকে তাকালেন এবং তাকে ডাকলেন। জমিনে কম্পন শুরু হলো এবং জমিন ফেটে গাছটি নবিজির সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছটির কাছে তিন বার সাক্ষ্য চাইলেন যে, তিনি আল্লাহর নবি। নবিজির কথামতো গাছটি তিন বার সাক্ষ্য দিলো; তারপর আপন স্থানে ফিরে গেল।
গ্রাম্যলোকটির শেষ প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপচাপ থাকলেন যে, সে ইসলামে প্রবেশ করে কি না। লোকটি সত্য বুঝতে পারল। তাই উৎসাহী হয়ে বাড়ির দিকে ফিরে চলল এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলল, 'যদি তারা আমার অনুকরণ করে তাহলে তাদের নিয়ে আপনার কাছে আসব। আর যদি তারা আমার কথা না মানে, তাহলে আমি একাই আপনার সাথে থাকব।
টিকাঃ
৩১. আল-মুজামুল কাবির লিত-তবরানি :১১/৬২; সুনানে দারিমি: ১/২৮; মুসনাদে আবু ইয়ালা মুসিলি: ১১/৪১৮।