📄 সাইপ্রাসদ্বীপ পর্যন্ত সামুদ্রিক যুদ্ধ
নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ফুফু উম্মে হারাম বিনতে মিলহান রাদিয়াল্লাহu আনহার সাক্ষাতে যেতেন এবং তাঁর ঘরে খাবার খেতেন। তাঁর স্বামী ছিলেন উবাদাহ বিন সামিত রাদিয়াল্লাহu আনহু। তিনি নবিজির সাক্ষাতে আনন্দিত হতেন। এভাবে একদিন নবিজি তাঁর বাড়িতে গেলেন, সেখানে খাবার খেলেন। তারপর তার বাড়িতেই বিশ্রাম করার জন্য শয়ন করলে চোখে নিদ্রা চলে আসে। তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম থেকে জেগে হাসতে থাকেন।
ফুফু বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আপনি হাসছেন কেন?'
নবিজি বললেন- نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَيَّ غُزَاةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَرْكَبُونَ ثَبَجَ هَذَا الْبَحْرِ مُلُوكًا عَلَى الْأَسِرَّةِ أَوْ مِثْلَ الْمُلُوكِ عَلَى الْأَسِرَّةِ .
'আমার উম্মাতের কিছু মানুষকে আল্লাহর পথে যুদ্ধের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তারা এই সমুদ্রের বড় অংশ পর্যন্ত আরোহণ করবে পরিবারের রাজা হয়ে বা রাজার মতো হয়ে।
পরিবারের রাজা হয়ে! উম্মে হারাম উদগ্রীব হয়ে শুনতে চাইলেন, 'তারা কারা হবে?' এরপর নবিজিকে জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।' রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জন্য দুআ করলেন। নবিজি বিছানায় মাথা রেখে আবার ঘুমিয়ে গেলেন। তারপর জেগে উঠে আবারও হাসছিলেন।
উম্মে হারাম জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি হাসছেন কেন, হে আল্লাহর রাসুল?'
রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথমবারের মতোই বললেন-
نَاسُ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَيَّ غُزَاةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَرْكَبُونَ ثَبَجَ هَذَا الْبَحْرِ مُلُوكًا عَلَى الْأَسِرَّةِ أَوْ مِثْلَ الْمُلُوكِ عَلَى الْأَسِرَّةِ .
'আমার উম্মাতের কিছু মানুষকে আল্লাহর পথে যুদ্ধের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তারা এই সমুদ্রের বড় অংশ পর্যন্ত আরোহণ করবে পরিবারের রাজা হয়ে বা রাজার মতো হয়ে।'
উম্মে হারাম নবিজিকে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।'
নবিজি বললেন, 'তুমি আগের দলের অন্তর্ভুক্ত হবে।'
বহুবছর পার হয়ে গেল। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন। অতঃপর চার খলিফা খিলাফতের আসনে অধিষ্ঠিত হলেন এবং দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন। তারপর যখন খলিফা মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহu আনহুর খিলাফতকাল এল, তখন উম্মে হারাম বিনতে মিলহান রাদিয়াল্লাহu আনহা সমুদ্র ভ্রমণে গেলেন। যখন তিনি জাহাজ থেকে নেমে সওয়ারিতে আরোহণ করলেন, তা থেকে পড়ে গেলেন এবং মারা গেলেন। রাদিয়াল্লাহu আনহা ওয়া আনহুম আজমাইন।
টিকাঃ
২৩. সহিহ বুখারি: ৯/৩৫২; সহিহ মুসলিম: ১০/২৩।
২৪. সহিহ বুখারি: ৯/৩৫২; সহিহ মুসলিম: ১০/২৩।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ফুফু উম্মে হারাম বিনতে মিলহান রাদিয়াল্লাহু আনহার সাক্ষাতে যেতেন এবং তাঁর ঘরে খাবার খেতেন। তাঁর স্বামী ছিলেন উবাদাহ বিন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি নবিজির সাক্ষাতে আনন্দিত হতেন। এভাবে একদিন নবিজি তাঁর বাড়িতে গেলেন, সেখানে খাবার খেলেন। তারপর তার বাড়িতেই বিশ্রাম করার জন্য শয়ন করলে চোখে নিদ্রা চলে আসে। তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম থেকে জেগে হাসতে থাকেন।
ফুফু বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আপনি হাসছেন কেন?'
নবিজি বললেন- ‘আমার উম্মাতের কিছু মানুষকে আল্লাহর পথে যুদ্ধের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তারা এই সমুদ্রের বড় অংশ পর্যন্ত আরোহণ করবে পরিবারের রাজা হয়ে বা রাজার মতো হয়ে।’
পরিবারের রাজা হয়ে! উম্মে হারাম উদগ্রীব হয়ে শুনতে চাইলেন, 'তারা কারা হবে?' এরপর নবিজিকে জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জন্য দুআ করলেন। নবিজি বিছানায় মাথা রেখে আবার ঘুমিয়ে গেলেন। তারপর জেগে উঠে আবারও হাসছিলেন।
উম্মে হারাম জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি হাসছেন কেন, হে আল্লাহর রাসুল?'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথমবারের মতোই বললেন- ‘আমার উম্মাতের কিছু মানুষকে আল্লাহর পথে যুদ্ধের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তারা এই সমুদ্রের বড় অংশ পর্যন্ত আরোহণ করবে পরিবারের রাজা হয়ে বা রাজার মতো হয়ে।’
উম্মে হারাম নবিজিকে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।'
নবিজি বললেন, 'তুমি আগের দলের অন্তর্ভুক্ত হবে।'
বহুবছর পার হয়ে গেল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন। অতঃপর চার খলিফা খিলাফতের আসনে অধিষ্ঠিত হলেন এবং দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন। তারপর যখন খলিফা মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকাল এল, তখন উম্মে হারাম বিনতে মিলহান রাদিয়াল্লাহু আনহা সমুদ্র ভ্রমণে গেলেন। যখন তিনি জাহাজ থেকে নেমে সওয়ারিতে আরোহণ করলেন, তা থেকে পড়ে গেলেন এবং মারা গেলেন। রাদিয়াল্লাহু আনহা ওয়া আনহুম আজমাইন।
টিকাঃ
২৩. সহিহ বুখারি: ৯/৩৫২; সহিহ মুসলিম: ১০/২৩।
২৪. সহিহ বুখারি: ৯/৩৫২; সহিহ মুসলিম: ১০/২৩।
📄 চাঁদ দু’ভাগ হয়ে গেল
কাফিরদের ইসলামের প্রতি আহ্বান করার ক্ষেত্রে নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব ধরনের কৌশলই অবলম্বন করলেন। তারা বরাবর নবিজিকে মিথ্যারোপ করতে থাকল এবং নানা প্রকার আপত্তি উত্থাপন করে তর্ক-বিতর্ক করতে থাকল। হঠাৎ একদিন নবিজিকে তারা বলল, 'আমাদের সামনে চাঁদ বিদীর্ণ করে দেখাও!' নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহকে ডাকলেন, সাহায্য চেয়ে দুআ করলেন। হঠাৎ চাঁদ দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেল!
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহu আনহু বলেন, 'আমি নবিজির কাছ থেকে বের হওয়ার পূর্বেই মক্কায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত দেখেছি; এক খণ্ড আবি কুবাইস পাহাড়ে এবং আরেক খণ্ড সুওয়াইদা পাহাড়ে পড়তে দেখেছি।'
কাফিররাও এটা দেখল। তাদের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। কিন্তু শয়তান তাদের ওপর বিজয়ী হলো। তারা বলল, 'এটা জাদু, মুহাম্মদ তোমাদের ওপর জাদু করেছে।' তারা তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে বের হয়ে গেল। তারপর বলল, 'তোমরা সফর ফেরত লোকদের জিজ্ঞেস করো। যদি তারা সেই দেশগুলোতেও চাঁদ তোমাদের মতো বিদীর্ণ হতে দেখে, তাহলে বুঝবে, মুহাম্মদ সত্যই বলেছে। আর যদি এমনটি না হয়ে থাকে, তাহলে বুঝবে, এটা জাদু। কারণ, সব মানুষকে জাদুগ্রস্ত করা সম্ভব নয়।'
তারপর প্রথম পর্যটকদল যখন মক্কায় এসে পৌঁছল, কুরাইশরা তাদের জিজ্ঞেস করল, 'তোমরা কি চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হতে দেখেছ?'
তারা বলল, 'হ্যাঁ, অমুক রাতে আমরা এ রকম হতে দেখেছি।' তারপর অবশিষ্ট পর্যটকদের কাছে গেল, প্রত্যেকেই একই রকম জবাব দিলো। তবুও কুরাইশরা মিথ্যারোপ করল এবং অহংকারবশত বলল, 'মুহাম্মদ সব মানুষকেই জাদু করেছে।'
তৎক্ষণাৎ আল্লাহ তাআলা এই মুজিজাকে কেন্দ্র করে কুরআন কারিমের এই আয়াতগুলো নাজিল করেন—
'কেয়ামত আসন্ন, চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে। তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, “এটা তো চিরাগত জাদু।” তারা মিথ্যারোপ করছে এবং নিজেদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করছে। প্রত্যেক কাজ যথাসময়ে স্থিরকৃত হয়। তাদের কাছে এমন সংবাদ এসে গেছে, যাতে সাবধানবাণী রয়েছে। এটা পরিপূর্ণ জ্ঞান, তবে সতর্ককারীগণ তাদের কোনো উপকারে আসে না। অতএব, আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। যেদিন আহ্বানকারী আহ্বান করবে এক অপ্রিয় পরিণামের দিকে, তারা তখন অবনমিত নেত্রে কবর থেকে বের হবে বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল সদৃশ। তারা আহ্বানকারীর দিকে দৌড়াতে থাকবে। কাফিররা বলবে, “এটা কঠিন দিন।”” [সুরা কামার : ১-৮]
বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, বর্তমান আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা বিশেষভাবে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া নিয়ে গবেষণা করছে। তারা প্রমাণ পেয়েছে যে, ইতোপূর্বে চাঁদ দুই ভাগে বিদীর্ণ হয়েছিল।
টিকাঃ
৩৯. সহিহ বুখারি: ১১/৪৪৭১।
কাফিরদের ইসলামের প্রতি আহ্বান করার ক্ষেত্রে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব ধরনের কৌশলই অবলম্বন করলেন। তারা বরাবর নবিজিকে মিথ্যারোপ করতে থাকল এবং নানা প্রকার আপত্তি উত্থাপন করে তর্ক-বিতর্ক করতে থাকল। হঠাৎ একদিন নবিজিকে তারা বলল, 'আমাদের সামনে চাঁদ বিদীর্ণ করে দেখাও!' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহকে ডাকলেন, সাহায্য চেয়ে দুআ করলেন। হঠাৎ চাঁদ দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেল!
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আমি নবিজির কাছ থেকে বের হওয়ার পূর্বেই মক্কায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত দেখেছি; এক খণ্ড আবি কুবাইস পাহাড়ে এবং আরেক খণ্ড সুওয়াইদা পাহাড়ে পড়তে দেখেছি।'
কাফিররাও এটা দেখল। তাদের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। কিন্তু শয়তান তাদের ওপর বিজয়ী হলো। তারা বলল, 'এটা জাদু, মুহাম্মদ তোমাদের ওপর জাদু করেছে।' তারা তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে বের হয়ে গেল। তারপর বলল, 'তোমরা সফর ফেরত লোকদের জিজ্ঞেস করো। যদি তারা সেই দেশগুলোতেও চাঁদ তোমাদের মতো বিদীর্ণ হতে দেখে, তাহলে বুঝবে, মুহাম্মদ সত্যই বলেছে। আর যদি এমনটি না হয়ে থাকে, তাহলে বুঝবে, এটা জাদু। কারণ, সব মানুষকে জাদুগ্রস্ত করা সম্ভব নয়।'
তারপর প্রথম পর্যটকদল যখন মক্কায় এসে পৌঁছল, কুরাইশরা তাদের জিজ্ঞেস করল, 'তোমরা কি চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হতে দেখেছ?' তারা বলল, 'হ্যাঁ, অমুক রাতে আমরা এ রকম হতে দেখেছি।' তারপর অবশিষ্ট পর্যটকদের কাছে গেল, প্রত্যেকেই একই রকম জবাব দিলো। তবুও কুরাইশরা মিথ্যারোপ করল এবং অহংকারবশত বলল, 'মুহাম্মদ সব মানুষকেই জাদু করেছে।'
তৎক্ষণাৎ আল্লাহ তাআলা এই মুজিজাকে কেন্দ্র করে কুরআন কারিমের এই আয়াতগুলো নাজিল করেন— ‘কেয়ামত আসন্ন, চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে। তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, “এটা তো চিরাগত জাদু।” তারা মিথ্যারোপ করছে এবং নিজেদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করছে। প্রত্যেক কাজ যথাসময়ে স্থিরকৃত হয়। তাদের কাছে এমন সংবাদ এসে গেছে, যাতে সাবধানবাণী রয়েছে। এটা পরিপূর্ণ জ্ঞান, তবে সতর্ককারীগণ তাদের কোনো উপকারে আসে না। অতএব, আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। যেদিন আহ্বানকারী আহ্বান করবে এক অপ্রিয় পরিণামের দিকে, তারা তখন অবনমিত নেত্রে কবর থেকে বের হবে বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল সদৃশ। তারা আহ্বানকারীর দিকে দৌড়াতে থাকবেন। কাফিররা বলবে, “এটা কঠিন দিন।”’ [সুরা কামার : ১-৮]
বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, বর্তমান আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা বিশেষভাবে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া নিয়ে গবেষণা করছে। তারা প্রমাণ পেয়েছে যে, ইতোপূর্বে চাঁদ দুই ভাগে বিদীর্ণ হয়েছিল।
📄 আকাশ চলে তাঁর ইশারায়
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আরেকটি মুজিজা হলো; তিনি যখন আকাশের দিকে ইশারা করলেন আল্লাহর নির্দেশে আকাশ তাঁর অনুকরণ করল। পবিত্র নবুওয়াতের সময়কালেই একবার অনাবৃষ্টি দেখা দিলো, জমিন শুকিয়ে গেল, ফসল নষ্ট হয়ে গেল।
এক-জুমার দিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করে মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ একলোক মসজিদে প্রবেশ করল; নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। লোকটি দাঁড়িয়ে থেকেই নবিজির দৃষ্টি আকর্ষণ করল এবং খুতবার মাঝেই চিৎকার করে বলতে লাগল—‘হে আল্লাহর রাসুল, সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল! সব পথ রুদ্ধ হয়ে গেল! তাই আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন।’ লোকটি উদ্বিগ্ন অবস্থায় কথা বলছিল, সে তার সন্তানদের ক্ষুধার্ত দেখছিল, বকরিগুলো দেখছিল বিধ্বস্ত, পথগুলো দেখছিল রুদ্ধ, জমিনসব দেখছিল শুষ্ক এবং সম্পদগুলো নিঃশেষিত।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবিগণ চিন্তায় পেরেশান ছিলেন। তাই তিনি খুব দ্রুত দুই হাত আকাশপানে তুলে দুআ করতে লাগলেন, বিনয় প্রকাশ করে কাকুতি-মিনতি করে করে আল্লাহকে ডাকলেন— اللَّهُمَّ اسْقِنَا اللَّهُمَّ اسْقِنَا اللَّهُمَّ اسْقِنَا । ‘হে আল্লাহ, আমাদের পানি দাও। হে আল্লাহ, আমাদের পানি দাও। হে আল্লাহ, আমাদের পানি দাও।’
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুও মুসল্লিদের মাঝে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যখন তিনি নবিজিকে অনুনয়-বিনয় করে পানি চাইতে দেখলেন, আকাশের দিকে তাকালেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আল্লাহর কসম, আমি দেখলাম, আকাশে কোনো মেঘ নেই, কোনো ঘনঘটা নেই, আকাশ একেবারে আয়নার মতো পরিষ্কার। আমাদের মাঝে কোনো অন্তরায়ও ছিল না। আল্লাহর কসম, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখনো দুআ করে হাত নামাননি, আকাশে পাহাড়ের মতো মেঘের আনাগোনা শুরু হয়ে গেল। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বার হতে নামার পূর্বেই দেখলাম, তাঁর দাড়ি বেয়ে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছে। আকাশ সাত দিন অনবরত বৃষ্টি বর্ষণ করতেই থাকল। এতে করে জমিন ঊর্বর হয়েছে, প্রাণীগুলো পরিতৃপ্ত হয়েছে।
পরবর্তী জুমায় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ সেই পূর্বের লোকটি বা অন্য আরেকজন ওই দরজা দিয়েই প্রবেশ করল, তখনো নবিজি দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। লোকটি দাঁড়িয়েই নবিজির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে লাগল, 'সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল! পথগুলো রুদ্ধ হয়ে গেল! আল্লাহ তাআলার কাছে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার দুআ করুন।'
রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত তুলে দুআ করলেন- اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا اللَّهُمَّ عَلَى الْآكَامِ وَالْجিবَالِ وَالْآجَامِ وَالظَّرَابِ وَالْأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ । 'হে আল্লাহ, আমাদের আশেপাশে বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়। হে আল্লাহ, উঁচু স্থানে, পাহাড়ে, খাল-বিলে, নদ-নদীতে ও বৃক্ষ উৎপন্নের স্থানে বর্ষণ করুন!' এরপর হাত দ্বারা আকাশে অবস্থিত মেঘের কণার দিকে ইশারা করলেন।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'যখন নবিজি হাত দিয়ে মেঘের কণার দিকে ইশারা করলেন, আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেল। আমি মদিনাকে দেখলাম একটি দ্বীপের মধ্যস্থিত ঘরের মতো।' অর্থাৎ পানি মদিনার চারদিকে চলে গেল। পানি মদিনার আশপাশের এলাকায় প্রায় একমাস যাবৎ গড়িয়ে যেতে থাকল। মদিনার বাইরে থেকে যে কেউ মদিনায় আসলে অত্যধিক বৃষ্টির সংবাদ দিত। এটা নবিজির ওই দুআর বরকত- اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا। ‘হে আল্লাহ, আবহাওয়া আমাদের অনুকূল করো, প্রতিকূল নয়।'
নিশ্চিতভাবে মেঘের ওপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইশারার প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। এটা মূলত ওই শক্তির ফলে যা আল্লাহ তাআলা তাঁর নবিকে দান করেছেন এবং তাঁর চারপাশে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এটা আল্লাহ তাআলার নিদের্শ এবং তাঁর ইচ্ছাতেই হয়েছে। যেমন: ইসা আলাইহিস সালাম কুষ্ঠ ও ধবলরোগী সুস্থ করতেন এবং মৃতকে জীবিত করতেন আল্লাহ তাআলার নির্দেশেই। যদি আল্লাহ তাআলা না চাইতেন দুনিয়ার কাউকেই—চাই সে নবি হোক বা অন্য কেউ; এমন কাজের ক্ষমতা দান করতেন না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা বিশেষ হেকমতে তাদের এমন কিছু বিষয় দান করেন।
টিকাঃ
২৫. সহিহ বুখারি: ৪/১০৪।
২৬. সহিহ বুখারি: ৪/১০৪।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আরেকটি মুজিজা হলো; তিনি যখন আকাশের দিকে ইশারা করলেন আল্লাহর নির্দেশে আকাশ তাঁর অনুকরণ করল। পবিত্র নবুওয়াতের সময়কালেই একবার অনাবৃষ্টি দেখা দিলো, জমিন শুকিয়ে গেল, ফসল নষ্ট হয়ে গেল।
এক-জুমার দিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করে মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ একলোক মসজিদে প্রবেশ করল; নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। লোকটি দাঁড়িয়ে থেকেই নবিজির দৃষ্টি আকর্ষণ করল এবং খুতবার মাঝেই চিৎকার করে বলতে লাগল—‘হে আল্লাহর রাসুল, সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল! সব পথ রুদ্ধ হয়ে গেল! তাই আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন।’ লোকটি উদ্বিগ্ন অবস্থায় কথা বলছিল, সে তার সন্তানদের ক্ষুধার্ত দেখছিল, বকরিগুলো দেখছিল বিধ্বস্ত, পথগুলো দেখছিল রুদ্ধ, জমিনসব দেখছিল শুষ্ক এবং সম্পদগুলো নিঃশেষিত।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবিগণ চিন্তায় পেরেশান ছিলেন। তাই তিনি খুব দ্রুত দুই হাত আকাশপানে তুলে দুআ করতে লাগলেন, বিনয় প্রকাশ করে কাকুতি-মিনতি করে করে আল্লাহকে ডাকলেন— اللَّهُمَّ اسْقِنَا اللَّهُمَّ اسْقِنَا اللَّهُمَّ اسْقِنَا .
‘হে আল্লাহ, আমাদের পানি দাও। হে আল্লাহ, আমাদের পানি দাও। হে আল্লাহ, আমাদের পানি দাও।’
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুও মুসল্লিদের মাঝে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যখন তিনি নবিজিকে অনুনয়-বিনয় করে পানি চাইতে দেখলেন, আকাশের দিকে তাকালেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আল্লাহর কসম, আমি দেখলাম, আকাশে কোনো মেঘ নেই, কোনো ঘনঘটা নেই, আকাশ একেবারে আয়নার মতো পরিষ্কার। আমাদের মাঝে কোনো অন্তরায়ও ছিল না। আল্লাহর কসম, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখনো দুআ করে হাত নামাননি, আকাশে পাহাড়ের মতো মেঘের আনাগোনা শুরু হয়ে গেল। এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বার হতে নামার পূর্বেই দেখলাম, তাঁর দাড়ি বেয়ে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছে। আকাশ সাত দিন অনবরত বৃষ্টি বর্ষণ করতেই থাকল। এতে করে জমিন ঊর্বর হয়েছে, প্রাণীগুলো পরিতৃপ্ত হয়েছে।
পরবর্তী জুমায় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ সেই পূর্বের লোকটি বা অন্য আরেকজন ওই দরজা দিয়েই প্রবেশ করল, তখনো নবিজি দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। লোকটি দাঁড়িয়েই নবিজির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে লাগল, 'সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল! পথগুলো রুদ্ধ হয়ে গেল! আল্লাহ তাআলার কাছে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার দুআ করুন।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত তুলে দুআ করলেন- اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا اللَّهُمَّ عَلَى الْآكَامِ وَالْجِبَالِ وَالْآجَامِ وَالظَّرَابِ وَالْأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ .
'হে আল্লাহ, আমাদের আশেপাশে বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়। হে আল্লাহ, উঁচু স্থানে, পাহাড়ে, খাল-বিলে, নদ-নদীতে ও বৃক্ষ উৎপন্নের স্থানে বর্ষণ করুন!'
এরপর হাত দ্বারা আকাশে অবস্থিত মেঘের কণার দিকে ইশারা করলেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'যখন নবিজি হাত দিয়ে মেঘের কণার দিকে ইশারা করলেন, আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেল। আমি মদিনাকে দেখলাম একটি দ্বীপের মধ্যস্থিত ঘরের মতো।' অর্থাৎ পানি মদিনার চারদিকে চলে গেল। পানি মদিনার আশপাশের এলাকায় প্রায় একমাস যাবৎ গড়িয়ে যেতে থাকল। মদিনার বাইরে থেকে যে কেউ মদিনায় আসলে অত্যধিক বৃষ্টির সংবাদ দিত। এটা নবিজির ওই দুআর বরকত- اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا. ‘হে আল্লাহ, আবহাওয়া আমাদের অনুকূল করো, প্রতিকূল নয়।'
নিশ্চিতভাবে মেঘের ওপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইশারার প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। এটা মূলত ওই শক্তির ফলে যা আল্লাহ তাআলা তাঁর নবিকে দান করেছেন এবং তাঁর চারপাশে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এটা আল্লাহ তাআলার নিদের্শ এবং তাঁর ইচ্ছাতেই হয়েছে। যেমন: ইসা আলাইহিস সালাম কুষ্ঠ ও ধবলরোগী সুস্থ করতেন এবং মৃতকে জীবিত করতেন আল্লাহ তাআলার নির্দেশেই। যদি আল্লাহ তাআলা না চাইতেন দুনিয়ার কাউকেই—চাই সে নবি হোক বা অন্য কেউ; এমন কাজের ক্ষমতা দান করতেন না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা বিশেষ হেকমতে তাদের এমন কিছু বিষয় দান করেন।
টিকাঃ
২৫. সহিহ বুখারি: ৪/১০৪।
২৬. সহিহ বুখারি: ৪/১০৪।
📄 উটও জবাব দিলো
এক-আনসারি পরিবার ছিল। তারা একটি উট দিয়ে চাক্কি চালিয়ে কূপ থেকে পানি উঠাত। একবার উট বিরক্ত হয়ে কাজ করা ছেড়ে দিলো। পিঠে কাউকে উঠতে দিচ্ছিল না। তাদের ওপর আক্রমণ করতে শুরু করল। তারা উটটি ব্যবহার করতে পারছিল না। তার ওপর সওয়ারও হতে পারছিল না। তাই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলো। পরিবারটি ছিল দরিদ্র। যার কারণে অন্য উট ক্রয় করার সামর্থ্যও তাদের ছিল না।
পরিবারের সদস্যরা নবিজির কাছে এসে বলল, 'আমাদের উটটি আমাদের আর চিনছে না। আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত, পিঠে উঠতে দিচ্ছে না। ওদিকে ফসল এবং খেজুরবাগান শুষ্ক হয়ে পড়েছে।'
রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বললেন, 'চলো।' তারা নবিজির সাথে চলল। চলতে চলতে একসময় বাগানে প্রবেশ করলেন। উটটি বাগানের এককোণেই ছিল। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটটির দিকে এগুতে লাগলেন। আনসারগণ উট নবিজিকে কষ্ট দিতে পারে, এই ভয় করতে লাগলেন। তাঁরা বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, উটটি পাগলা কুকুরের মতো হয়ে গেছে। ভয় হচ্ছে, উট হয়তো আপনার ওপর আক্রমণ করবে!'
নবিজি বললেন, 'সে আমার কোনো ক্ষতি করবে না' এই বলে উটের দিকে চলতে লাগলেন। যখন উটটি নবিজিকে দেখল, নবিজির দিকে এগুতে শুরু করল এবং তাঁর সামনে এসে সিজদায় পড়ে গেল। রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটের কপালের চুলগুচ্ছ ধরলেন এবং তার মুখ উঁচু করলেন। উটটি নবিজির সম্পূর্ণ অনুগত হয়ে সামনে সামনে চলছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তার কাজে লাগিয়ে দিলেন এবং লাগাম লাগিয়ে বেঁধে দিলেন।
সাহাবিগণ বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, এরা অবুঝ প্রাণী হয়েও আপনাকে সিজদা করল! অতএব আমরা আপনাকে সিজদা করার অধিক হকদার!' নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- 'কোনো মানুষ অন্য মানুষকে সিজদা করা বৈধ নয়। যদি মানুষের জন্য অন্য মানুষকে সিজদা করার অনুমতি থাকত, তাহলে নারীদের নির্দেশ দিতাম, তারা যেন স্বামীদের সিজদা করে, নারীর ওপর স্বামীর অধিকারের কারণে।'
শেষকথা, প্রাণীদের মাঝে এমন আচরণ আল্লাহর নির্দেশেই হয়ে থাকে। এগুলো তাঁর নির্দেশ এবং ইচ্ছার অধীন। নতুবা নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ইচ্ছা করেননি এবং ইচ্ছা করলেও আল্লাহর অনুমতি ছাড়া হওয়া সম্ভব নয়।
যেমন: হাদিসে বর্ণিত আছে, মক্কা বিজয়ের পূর্বে নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর উটনি কসওয়ায় আরোহণ করে উমরা করতে গেলেন। হঠাৎ উটনিটি নবিজিকে নিয়ে বসে পড়ল। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিয়ে চলতে চাইলেন; কিন্তু উটনিটি যেতে চাইল না। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, 'উটনিটি অবাধ্য হয়ে গেছে!' নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- 'উটনি অবাধ্য হয়নি, তাকে সেভাবে সৃষ্টিও করা হয়নি। কিন্তু তাকে সেই সত্তা আটকে দিয়েছেন, যেই সত্তা হাতিকে আটকে দিয়েছিলেন।'
অর্থাৎ আবরাহা ও তার হস্তীবাহিনীর হাতিগুলোকে যেই আল্লাহ আটকে দিয়েছিলেন, তিনিই আমার উটনিকে আটকে দিয়েছেন।
তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন- ‘আজকে কুরাইশরা আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে যে কোনো দাবি করলে আমি তা অবশ্যই পূরণ করব।'
এরপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরাইশদের মাঝে হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি সম্পাদিত হয় এবং নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় ফিরে আসেন।
টিকাঃ
২৭. মুসনাদে আহমদ: ২৫/১৯৯; আস-সুনানুল কুবরা লিন্নাসায়ি: ৫/৩৬৩।
২৮. সহিহ বুখারি: ৯/২৫৬।
২৯. মুসনাদে আহমদ: ৩৮/৩৭৭।
এক-আনসারি পরিবার ছিল। তারা একটি উট দিয়ে চাক্কি চালিয়ে কূপ থেকে পানি উঠাত। একবার উট বিরক্ত হয়ে কাজ করা ছেড়ে দিলো। পিঠে কাউকে উঠতে দিচ্ছিল না। তাদের ওপর আক্রমণ করতে শুরু করল। তারা উটটি ব্যবহার করতে পারছিল না। তার ওপর সওয়ারও হতে পারছিল না। তাই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলো। পরিবারটি ছিল দরিদ্র। যার কারণে অন্য উট ক্রয় করার সামর্থ্যও তাদের ছিল না।
পরিবারের সদস্যরা নবিজির কাছে এসে বলল, 'আমাদের উটটি আমাদের আর চিনছে না। আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত, পিঠে উঠতে দিচ্ছে না। ওদিকে ফসল এবং খেজুরবাগান শুষ্ক হয়ে পড়েছে।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বললেন, 'চলো।'
তারা নবিজির সাথে চলল। চলতে চলতে একসময় বাগানে প্রবেশ করলেন। উটটি বাগানের এককোণেই ছিল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটটির দিকে এগুতে লাগলেন। আনসারগণ উট নবিজিকে কষ্ট দিতে পারে, এই ভয় করতে লাগলেন। তাঁরা বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, উটটি পাগলা কুকুরের মতো হয়ে গেছে। ভয় হচ্ছে, উট হয়তো আপনার ওপর আক্রমণ করবে!'
নবিজি বললেন, 'সে আমার কোনো ক্ষতি করবে না' এই বলে উটের দিকে চলতে লাগলেন।
যখন উটটি নবিজিকে দেখল, নবিজির দিকে এগুতে শুরু করল এবং তাঁর সামনে এসে সিজদায় পড়ে গেল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটের কপালের চুলগুচ্ছ ধরলেন এবং তার মুখ উঁচু করলেন। উটটি নবিজির সম্পূর্ণ অনুগত হয়ে সামনে সামনে চলছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তার কাজে লাগিয়ে দিলেন এবং লাগাম লাগিয়ে বেঁধে দিলেন।
সাহাবিগণ বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, এরা অবুঝ প্রাণী হয়েও আপনাকে সিজদা করল! অতএব আমরা আপনাকে সিজদা করার অধিক হকদার!' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
لَا يَصْلُحُ لِبَشَرٍ أَنْ يَسْجُدَ لِبَشَرٍ وَلَوْ صَلَحَ لِبَشَرٍ أَنْ يَسْجُدَ لِبَشَرٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَসْجُدَ لِزَوْجِهَا مِنْ عِظَمٍ حَقِّهِ عَلَيْهَا .
'কোনো মানুষ অন্য মানুষকে সিজদা করা বৈধ নয়। যদি মানুষের জন্য অন্য মানুষকে সিজদা করার অনুমতি থাকত, তাহলে নারীদের নির্দেশ দিতাম, তারা যেন স্বামীদের সিজদা করে, নারীর ওপর স্বামীর অধিকারের কারণে।
শেষকথা, প্রাণীদের মাঝে এমন আচরণ আল্লাহর নির্দেশেই হয়ে থাকে। এগুলো তাঁর নির্দেশ এবং ইচ্ছার অধীন। নতুবা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ইচ্ছা করেননি এবং ইচ্ছা করলেও আল্লাহর অনুমতি ছাড়া হওয়া সম্ভব নয়।
যেমন: হাদিসে বর্ণিত আছে, মক্কা বিজয়ের পূর্বে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর উটনি কসওয়ায় আরোহণ করে উমরা করতে গেলেন। হঠাৎ উটনিটি নবিজিকে নিয়ে বসে পড়ল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিয়ে চলতে চাইলেন; কিন্তু উটনিটি যেতে চাইল না।
সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, 'উটনিটি অবাধ্য হয়ে গেছে!' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
مَا خَلَأَتْ الْقَصْوَاءُ وَمَا ذَاكَ لَهَا بِخُلُقٍ وَلَكিনْ حَبَسَهَا حَابِسُ الْفِيلِ.
'উটনি অবাধ্য হয়নি, তাকে সেভাবে সৃষ্টিও করা হয়নি। কিন্তু তাকে সেই সত্তা আটকে দিয়েছেন, যেই সত্তা হাতিকে আটকে দিয়েছিলেন।'
অর্থাৎ আবরাহা ও তার হস্তীবাহিনীর হাতিগুলোকে যেই আল্লাহ আটকে দিয়েছিলেন, তিনিই আমার উটনিকে আটকে দিয়েছেন।
তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন-
لَا تَدْعُونِي قُرَيْشُ الْيَوْمَ إِلَى خُطَةٍ يَسْأَلُونِي فِيهَا صِلَةَ الرَّحِمِ إِلَّا أَعْطَيْتُهُمْ إِيَّاهَا .
‘আজকে কুরাইশরা আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে যে কোনো দাবি করলে আমি তা অবশ্যই পূরণ করব।'
এরপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কুরাইশদের মাঝে হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি সম্পাদিত হয় এবং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় ফিরে আসেন।
টিকাঃ
২৭. মুসনাদে আহমদ: ২৫/১৯৯; আস-সুনানুল কুবরা লিন্নাসায়ি: ৫/৩৬৩।
২৮. সহিহ বুখারি: ৯/২৫৬।
২৯. মুসনাদে আহমদ: ৩৮/৩৭৭।