📄 উম্মে শারিক গাজিয়া আনসারি
মক্কা মুকাররমায় যারা প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, উম্মে শারিক গাজিয়া আনসারি তাঁদের অন্যতম। তিনি যখন অনুধাবন করতে পারলেন, কাফিররা সংগঠিত হচ্ছে এবং মুসলিমরা দুর্বল। তখন কাফিরদের ইসলামের দাওয়াতের দিকে অনুপ্রাণিত করলেন। এতে তাঁর ইমান আরও মজবুত হলো। তাঁর কাছে প্রতিপালকের শান আরও বড় হয়ে পরিস্ফুটিত হলো। এরপর তিনি কুরাইশি নারীদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া আরম্ভ করলেন এবং প্রতিমাপূজা থেকে দূরে রাখতে সচেষ্ট হলেন। একপর্যায়ে তাঁর বিষয়টি মক্কার কাফিরদের সামনে প্রকাশিত হয়ে গেল। ফলে কাফিররা অনেক রেগে গেল।
কাফিররা উম্মে শারিককে বলল, 'যদি তোমার কওমের লোকেরা আমাদের মিত্র না হতো, তাহলে তোমার সাথে এমন এমন আচরণ করতাম, কিন্তু তোমাকে আমরা মক্কা থেকে বহিষ্কার করে তোমার কওমের কাছে পাঠাচ্ছি।' সুতরাং তারা উম্মে শারিককে শোকোজ করে একটি উটে উঠিয়ে দিলো। তাঁকে কষ্ট দেওয়ার জন্য হাওদার ব্যবস্থাও করল না এবং কোনো প্রকার কাপড়ও দিলো না। এরপর পানাহার ছাড়া সম্পূর্ণ অভুক্ত অবস্থায় লাগাতার তিন দিন তাঁকে সফর করালো। তৃষ্ণা ও ক্ষুধায় তাঁর জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে গিয়েছিল।
তারা উম্মে শারিককে প্রচণ্ড ঘৃণাভরে দেখত। যখন কোনো মনজিলে যাত্রাবিরতি করত, তাকে রোদে বেঁধে রাখত আর নিজেরা গাছের ছায়ায় বসত। একবার পথিমধ্যে যাত্রাবিরতি করল। তাঁকে উট থেকে নামালো এবং রোদের মাঝে বেঁধে রাখল। তখন তিনি তাদের কাছে পানি চাইলেন; কিন্তু তারা পানি দিলো না।
তিনি পিপাসায় কাতরাচ্ছিলেন। হঠাৎ বুকের ওপর কোনো বস্তুর শীতলতা অনুভব করলেন। তিনি হাত দিয়ে সেটি ধরে দেখতে পেলেন, সেটা একটি পানির বালতি। সেখান থেকে তিনি সামান্য পান করলেন। তারপর বালতিটি তাঁর কাছ থেকে টেনে উপরের দিকে নেওয়া হলো। বালতিটি আবার এল। তিনি বালতিটি পেয়ে আবার পান করলেন, তারপর বালতিটি তুলে নেওয়া হলো। আবার বালতিটি এল। তিনি আবারও বালতিটি ধরে পান করলেন। এভাবে কয়েকবার হলো। বর্ণিত আছে, এরপর তিনি সেই পানি দ্বারা গোসল করেছেন এবং কাপড় ধুয়েছেন।
যখন কাফিররা জাগ্রত হলো এবং তাঁর শরীরে পানির চিহ্ন দেখতে পেল এবং তাঁকে দেখতে পেল প্রফুল্ল ও সুন্দর আকৃতিতে। তারা বিস্মিত হলো, এভাবে বাঁধা অবস্থায় কীভাবে তিনি পানির কাছে গেলেন! কাফিররা তাঁকে জিজ্ঞেস করল, 'তুমি কি বাঁধন খুলে আমাদের পানীয় থেকে পান করেছ?'
উম্মে শারিক বললেন, 'আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের পানি থেকে পান করিনি; বরং আমার কাছে আকাশ থেকে একটি বালতি এসেছে। আমি সেখান থেকে পান করেছি।' বর্ণিত আছে, কাফিররা তখন একে অন্যের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল, যদি সে সত্যবাদী হয়, তাহলে অবশ্যই তার দ্বীন আমাদের দ্বীনের চেয়ে উত্তম। তখন কাফিররা তাদের পানপাত্রগুলো খুলে দেখল, সব আপন অবস্থায় রয়েছে। এটা দেখে উম্মে শারিকের সফরসাথি সকল কাফিরই ইসলাম গ্রহণ করল। তারা তাঁকে ছেড়ে দিলো এবং তাঁর সাথে উত্তম আচরণ করল।
তাদের ইসলাম গ্রহণের মূল কারণ হলো উম্মে শারিকের ধৈর্য, তাঁর অবিচলতা এবং ইমানের ওপর তাঁর দৃঢ়তা। উম্মে শারিক এমন অবস্থায় কিয়ামতের মাঠে উপস্থিত হবেন যে, তাঁর আমলনামায় বহু নর-নারীর ইসলাম গ্রহণের সাওয়াব লেখা থাকবে, যারা তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
হ্যাঁ, ইতিহাস উম্মে শারিকের পরিচয় এভাবেই দিয়েছে।
মক্কা মুকাররমায় যারা প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, উম্মে শারিক গাজিয়া আনসারি তাঁদের অন্যতম। তিনি যখন অনুধাবন করতে পারলেন, কাফিররা সংগঠিত হচ্ছে এবং মুসলিমরা দুর্বল। তখন কাফিরদের ইসলামের দাওয়াতের দিকে অনুপ্রাণিত করলেন। এতে তাঁর ইমান আরও মজবুত হলো। তাঁর কাছে প্রতিপালকের শান আরও বড় হয়ে পরিস্ফুটিত হলো। এরপর তিনি কুরাইশি নারীদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া আরম্ভ করলেন এবং প্রতিমাপূজা থেকে দূরে রাখতে সচেষ্ট হলেন। একপর্যায়ে তাঁর বিষয়টি মক্কার কাফিরদের সামনে প্রকাশিত হয়ে গেল। ফলে কাফিররা অনেক রেগে গেল।
কাফিররা উম্মে শারিককে বলল, 'যদি তোমার কওমের লোকেরা আমাদের মিত্র না হতো, তাহলে তোমার সাথে এমন এমন আচরণ করতাম, কিন্তু তোমাকে আমরা মক্কা থেকে বহিষ্কার করে তোমার কওমের কাছে পাঠাচ্ছি।' সুতরাং তারা উম্মে শারিককে শোকোজ করে একটি উটে উঠিয়ে দিলো। তাঁকে কষ্ট দেওয়ার জন্য হাওদার ব্যবস্থাও করল না এবং কোনো প্রকার কাপড়ও দিলো না। এরপর পানাহার ছাড়া সম্পূর্ণ অভুক্ত অবস্থায় লাগাতার তিন দিন তাঁকে সফর করালো। তৃষ্ণা ও ক্ষুধায় তাঁর জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে গিয়েছিল।
তারা উম্মে শারিককে প্রচণ্ড ঘৃণাভরে দেখত। যখন কোনো মনজিলে যাত্রাবিরতি করত, তাকে রোদে বেঁধে রাখত আর নিজেরা গাছের ছায়ায় বসত। একবার পথিমধ্যে যাত্রাবিরতি করল। তাঁকে উট থেকে নামালো এবং রোদের মাঝে বেঁধে রাখল। তখন তিনি তাদের কাছে পানি চাইলেন; কিন্তু তারা পানি দিলো না।
তিনি পিপাসায় কাতরাচ্ছিলেন। হঠাৎ বুকের ওপর কোনো বস্তুর শীতলতা অনুভব করলেন। তিনি হাত দিয়ে সেটি ধরে দেখতে পেলেন, সেটা একটি পানির বালতি। সেখান থেকে তিনি সামান্য পান করলেন। তারপর বালতিটি তাঁর কাছ থেকে টেনে উপরের দিকে নেওয়া হলো। বালতিটি আবার এল। তিনি বালতিটি পেয়ে আবার পান করলেন, তারপর বালতিটি তুলে নেওয়া হলো। আবার বালতিটি এল। তিনি আবারও বালতিটি ধরে পান করলেন। এভাবে কয়েকবার হলো। বর্ণিত আছে, এরপর তিনি সেই পানি দ্বারা গোসল করেছেন এবং কাপড় ধুয়েছেন।
যখন কাফিররা জাগ্রত হলো এবং তাঁর শরীরে পানির চিহ্ন দেখতে পেল এবং তাঁকে দেখতে পেল প্রফুল্ল ও সুন্দর আকৃতিতে। তারা বিস্মিত হলো, এভাবে বাঁধা অবস্থায় কীভাবে তিনি পানির কাছে গেলেন! কাফিররা তাঁকে জিজ্ঞেস করল, 'তুমি কি বাঁধন খুলে আমাদের পানীয় থেকে পান করেছ?'
উম্মে শারিক বললেন, 'আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের পানি থেকে পান করিনি; বরং আমার কাছে আকাশ থেকে একটি বালতি এসেছে। আমি সেখান থেকে পান করেছি।' বর্ণিত আছে, কাফিররা তখন একে অন্যের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল, যদি সে সত্যবাদী হয়, তাহলে অবশ্যই তার দ্বীন আমাদের দ্বীনের চেয়ে উত্তম। তখন কাফিররা তাদের পানপাত্রগুলো খুলে দেখল, সব আপন অবস্থায় রয়েছে। এটা দেখে উম্মে শারিকের সফরসাথি সকল কাফিরই ইসলাম গ্রহণ করল। তারা তাঁকে ছেড়ে দিলো এবং তাঁর সাথে উত্তম আচরণ করল। তাদের ইসলাম গ্রহণের মূল কারণ হলো উম্মে শারিকের ধৈর্য, তাঁর অবিচলতা এবং ইমানের ওপর তাঁর দৃঢ়তা। উম্মে শারিক এমন অবস্থায় কিয়ামতের মাঠে উপস্থিত হবেন যে, তাঁর আমলনামায় বহু নর-নারীর ইসলাম গ্রহণের সাওয়াব লেখা থাকবে, যারা তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
📄 কথা বলা বাঘ
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের শুরু-যুগের ঘটনা। এক-রাখাল মদিনার কোনো উপত্যকায় বকরি চরাত। একদিন একবাঘ বকরি পালের উপর হামলা করে বকরি নিয়ে পালাতে শুরু করে। রাখালও নাছোড়বান্দা, বাঘকে তাড়া করে তার কাছ থেকে বকরি ছিনিয়ে আনে। বাঘ আবার ফিরে এসে ওত পেতে থাকল এবং সুযোগ বুঝে আরেকটি বকরির উপর আক্রমণ করল। রাখাল এবারও তার বকরি ছুটিয়ে নিয়ে আসে। তারপর বাঘটি রাখালের দিকে তাকিয়ে বলল, 'তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? আমার কাছ থেকে আমার রিজিক ছিনিয়ে নাও, অথচ আল্লাহ তাআলাই তা আমাকে দিয়েছেন!'
রাখাল বলল, 'আশ্চর্য বাঘ! আমার বকরিপালের উপর আক্রমণ করে আবার আমার সাথে কথা বলছে!'
বাঘ বলল, 'আমি কি তোমাকে এর চেয়েও বিস্ময়কর কিছু বলব না?'
'এর চেয়েও বিস্ময়কর? কী সেটা?'
'হ্যাঁ, বলছি; দুই মরুভূমির মাঝে খেজুরবাগান-সমৃদ্ধ ভূমিতে একজন লোক আছে। সে তোমাকে অতীত এবং ভবিষ্যতের কথা বলে দেবে।' অর্থাৎ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তারপর বাঘ আপন পথে চলে গেল।
রাখাল তার বকরিগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে চলে এল। অতঃপর মদিনায় এসে বকরিরগুলো একটি গোয়ালে একত্র করল। তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঘটনার বিবরণ জানাল। নবিজি একসাহাবিকে নির্দেশ দিলে তিনি মানুষের মাঝে ঘোষণা করলেন, 'আসসালাতু জামিয়াতুন- (নামাজ আরম্ভ হচ্ছে)।'
লোকজন মসজিদে একত্র হলো। তারা জানে না, কেন নবিজি তাদের ডেকেছেন! নবিজি তাদের সামনে এলেন। তারা সকলেই নবিজির সামনে নীরব হয়ে বসে ছিলেন। গ্রাম্যরাখালও তাদের মাঝে বসে ছিল।
নবিজি রাখালকে বললেন, 'তুমি এদের ঘটনাটি বলো।' রাখাল কথা বলতে লাগল এবং বাঘের ঘটনাটিও বলল। রাখাল বিশেষ ভঙ্গিতে কথা বলছিল আর লোকজন মনোযোগসহ তার কথা শুনছিল। নবিজিও চুপচাপ শুনছিলেন। রাখাল যখন তার কথা শেষ করল, তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'সে সত্যই বলেছে।'
তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُكَلِّمَ السِّبَاعُ الْإِنْسَ ، وَحَتَّى تُكَلَّمَ الرَّجُلَ عَذَبَةُ سَوْطِهِ ، وَشِرَاكُ نَعْلِهِ، وَتُخْبِرَهُ فَخِذُهُ بِمَا أَحْدَثَ أَهْلُهُ مِنْ بَعْدِهِ
'আল্লাহর শপথ, ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ হিংস্র প্রাণী মানুষের সাথে কথা না বলবে, যতক্ষণ মানুষের সাথে তার তাজা চাবুক কথা না বলবে, যতক্ষণ তার জুতার ফিতা তার সাথে কথা না বলবে এবং যতক্ষণ তার উরু তাকে বলে না দেবে যে, তার অবর্তমানে তার পরিবারের মানুষ কী করেছে।
টিকাঃ
২০. তিরমিজি: ৮/৯৫।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের শুরু-যুগের ঘটনা। এক-রাখাল মদিনার কোনো উপত্যকায় বকরি চরাত। একদিন একবাঘ বকরি পালের উপর হামলা করে বকরি নিয়ে পালাতে শুরু করে। রাখালও নাছোড়বান্দা, বাঘকে তাড়া করে তার কাছ থেকে বকরি ছিনিয়ে আনে। বাঘ আবার ফিরে এসে ওত পেতে থাকল এবং সুযোগ বুঝে আরেকটি বকরির উপর আক্রমণ করল। রাখাল এবারও তার বকরি ছুটিয়ে নিয়ে আসে। তারপর বাঘটি রাখালের দিকে তাকিয়ে বলল, 'তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? আমার কাছ থেকে আমার রিজিক ছিনিয়ে নাও, অথচ আল্লাহ তাআলাই তা আমাকে দিয়েছেন!'
রাখাল বলল, 'আশ্চর্য বাঘ! আমার বকরিপালের উপর আক্রমণ করে আবার আমার সাথে কথা বলছে!'
বাঘ বলল, 'আমি কি তোমাকে এর চেয়েও বিস্ময়কর কিছু বলব না?'
'এর চেয়েও বিস্ময়কর? কী সেটা?'
'হ্যাঁ, বলছি; দুই মরুভূমির মাঝে খেজুরবাগান-সমৃদ্ধ ভূমিতে একজন লোক আছে। সে তোমাকে অতীত এবং ভবিষ্যতের কথা বলে দেবে।' অর্থাৎ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তারপর বাঘ আপন পথে চলে গেল।
রাখাল তার বকরিগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে চলে এল। অতঃপর মদিনায় এসে বকরিরগুলো একটি গোয়ালে একত্র করল। তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঘটনার বিবরণ জানাল। নবিজি একসাহাবিকে নির্দেশ দিলে তিনি মানুষের মাঝে ঘোষণা করলেন, 'আসসালাতু জামিয়াতুন- (নামাজ আরম্ভ হচ্ছে)।'
লোকজন মসজিদে একত্র হলো। তারা জানে না, কেন নবিজি তাদের ডেকেছেন! নবিজি তাদের সামনে এলেন। তারা সকলেই নবিজির সামনে নীরব হয়ে বসে ছিলেন। গ্রাম্যরাখালও তাদের মাঝে বসে ছিল। নবিজি রাখালকে বললেন, 'তুমি এদের ঘটনাটি বলো।' রাখাল কথা বলতে লাগল এবং বাঘের ঘটনাটিও বলল। রাখাল বিশেষ ভঙ্গিতে কথা বলছিল আর লোকজন মনোযোগসহ তার কথা শুনছিল। নবিজিও চুপচাপ শুনছিলেন। রাখাল যখন তার কথা শেষ করল, তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'সে সত্যই বলেছে।'
তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُكَلِّمَ السِّبَاعُ الْإِنْسَ ، وَحَتَّى تُكَلَّمَ الرَّجُلَ عَذَبَةُ سَوْطِهِ ، وَشِرَاكُ نَعْلِهِ، وَتُخْبِرَهُ فَخِذُهُ بِمَا أَحْدَثَ أَهْلُهُ مِنْ بَعْدِهِ 'আল্লাহর শপথ, ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ হিংস্র প্রাণী মানুষের সাথে কথা না বলবে, যতক্ষণ মানুষের সাথে তার তাজা চাবুক কথা না বলবে, যতক্ষণ তার জুতার ফিতা তার সাথে কথা না বলবে এবং যতক্ষণ তার উরু তাকে বলে না দেবে যে, তার অবর্তমানে তার পরিবারের মানুষ কী করেছে।
এটা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের প্রমাণগুলোর মধ্য থেকে একটি। অনেক সৃষ্টিই তাঁর নবুওয়াতের সাক্ষ্য প্রদান করেছে।
টিকাঃ
২০. তিরমিজি: ৮/৯৫।
📄 হায় মিসকিন!
দুজন লোক মদিনায় আগমন করে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে প্রবেশ করল। তারা নবিজিকে বলল, 'আমাদের সাথে চলুন, যদি অস্বীকার করেন, তাহলে কিসরা আপনাকে ধ্বংস করে দেবেন, আপনার কওম ধ্বংস করবেন এবং আপনার শহর উজার করে ফেলবেন।'
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের দিকে তাকালেন। তারা উভয়ে দাড়ি মুণ্ডিয়ে মোচ রেখে দিয়েছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের চেহারার দিকে তাকাতে বিরক্তবোধ করছিলেন। তাদের বললেন, 'তোমাদের ধ্বংস হোক! কে তোমাদের এমন কাজের নির্দেশ দিয়েছে?'
তারা বলল, 'আমাদের প্রতিপালক কিসরা আমাদের এই নির্দেশ দিয়েছেন।'
তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন, 'কিন্তু আমার প্রতিপালক আমাকে দাড়ি লম্বা করার এবং মোচ খাটো করার নির্দেশ দিয়েছেন।' এরপর তাদের বললেন, 'তোমরা যাও, বিশ্রাম নাও। আগামী সকালের অপেক্ষায় থাকো। সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ওহি এল, 'আল্লাহ তাআলা কিসরার পুত্রকে তার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন, পুত্র পিতাকে হত্যা করেছে।'
পর দিন সকালে লোক দুজন নবিজির দরবারে এল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বললেন, 'আমার প্রতিপালক তোমাদের প্রতিপালকের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে হত্যা করেছেন। তার রক্ত তার জবাইয়ের স্থলে সময়ের অপেক্ষা করছে। অর্থাৎ এইমাত্র সে মারা গেছে। সেখান থেকে তার তাজা রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে।'
তাদের কাছে বিষয়টি খুব অস্বাভাবিক মনে হলো। তারা জিজ্ঞেস করল, 'আপনি কি জানেন, কী বলছেন আপনি? আমরা কি এটা আপনার কাছ থেকে লিখে নেব এবং এ ব্যাপারে আমাদের সম্রাটকে অবহিত করব?'
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, 'হ্যাঁ, তোমরা অবশ্যই আমার ব্যাপারে তাকে অবহিত করবে। আর তাকে বলবে, আমার দ্বীন এবং আমার রাজত্ব সে পর্যন্ত পৌঁছবে, যে পর্যন্ত কিসরার রাজত্ব পৌঁছেছে। এমনকি মোজা পরিধানকারী এবং নগ্নপদে বিচরণকারীদের শেষসীমা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।
'তাকে আরও বলবে, যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে তার দখলে যা আছে তাকে দান করব এবং তাকে তার দেশবাসীর রাজা বানাব।'
তারা উভয়ে নবিজির দরবার থেকে বের হয়ে ইয়ামেনের উদ্দেশে যাত্রা করল এবং বাজানের কাছে পৌঁছে ঘটনার বিবরণ জানাল। ইয়ামেন থেকে পারস্যের দীর্ঘ দূরত্বের কারণে তাদের কাছে তখনো সম্রাটের মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছেনি। বাজান বলল, 'আল্লাহর শপথ, এটা কোনো বাদশাহর কথা নয়। সে যেভাবে বলেছে তাতে তো তাকে নবিই মনে করছি। সে যা বলেছে, আমরা তা অবশ্যই দেখব। সে যা বলেছে, যদি সত্য হয়, তাহলে তাকে সত্যিই আল্লাহর প্রেরিত রাসুল মানতেই হবে। যদি এমন না হতো, তাহলে তার মতামত আমাদের মতোই হতো।'
খুব বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি, বাজানের কাছে কিসরার পুত্র শিরবিয়ার পত্র এসে পৌঁছল। তাতে জানানো হয়েছে, 'শিরবিয়া হলো বর্তমান বাদশাহ এবং বর্তমান বাদশাহর আনুগত্য করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।' তারপর বাজান কিসরার মৃত্যুর সময় নিয়ে চিন্তা করল। দেখা গেল, সেটি ঠিক সেই মুহূর্ত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ওই দুজনকে তার মৃত্যুর সংবাদ দিয়েছিলেন। সুতরাং বাজান বলল, 'নিশ্চয় তিনি আল্লাহর রাসুল।' এরপর বাজান ইসলাম গ্রহণ করে এবং তাঁর সাথে ইয়ামেনবাসীও ইসলাম গ্রহণ করে।
দুজন লোক মদিনায় আগমন করে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে প্রবেশ করল। তারা নবিজিকে বলল, 'আমাদের সাথে চলুন, যদি অস্বীকার করেন, তাহলে কিসরা আপনাকে ধ্বংস করে দেবেন, আপনার কওম ধ্বংস করবেন এবং আপনার শহর উজার করে ফেলবেন।'
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের দিকে তাকালেন। তারা উভয়ে দাড়ি মুণ্ডিয়ে মোচ রেখে দিয়েছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের চেহারার দিকে তাকাতে বিরক্তবোধ করছিলেন। তাদের বললেন, 'তোমাদের ধ্বংস হোক! কে তোমাদের এমন কাজের নির্দেশ দিয়েছে?' তারা বলল, 'আমাদের প্রতিপালক কিসরা আমাদের এই নির্দেশ দিয়েছেন।'
তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন, 'কিন্তু আমার প্রতিপালক আমাকে দাড়ি লম্বা করার এবং মোচ খাটো করার নির্দেশ দিয়েছেন।' এরপর তাদের বললেন, 'তোমরা যাও, বিশ্রাম নাও। আগামী সকালের অপেক্ষায় থাকো। সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ওহি এল, 'আল্লাহ তাআলা কিসরার পুত্রকে তার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন, পুত্র পিতাকে হত্যা করেছে।'
পর দিন সকালে লোক দুজন নবিজির দরবারে এল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বললেন, 'আমার প্রতিপালক তোমাদের প্রতিপালকের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে হত্যা করেছেন। তার রক্ত তার জবাইয়ের স্থলে সময়ের অপেক্ষা করছে। অর্থাৎ এইমাত্র সে মারা গেছে। সেখান থেকে তার তাজা রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে।'
তাদের কাছে বিষয়টি খুব অস্বাভাবিক মনে হলো। তারা জিজ্ঞেস করল, 'আপনি কি জানেন, কী বলছেন আপনি? আমরা কি এটা আপনার কাছ থেকে লিখে নেব এবং এ ব্যাপারে আমাদের সম্রাটকে অবহিত করব?' নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, 'হ্যাঁ, তোমরা অবশ্যই আমার ব্যাপারে তাকে অবহিত করবে। আর তাকে বলবে, আমার দ্বীন এবং আমার রাজত্ব সে পর্যন্ত পৌঁছবে, যে পর্যন্ত কিসরার রাজত্ব পৌঁছেছে। এমনকি মোজা পরিধানকারী এবং নগ্নপদে বিচরণকারীদের শেষসীমা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। 'তাকে আরও বলবে, যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে তার দখলে যা আছে তাকে দান করব এবং তাকে তার দেশবাসীর রাজা বানাব।'
তারা উভয়ে নবিজির দরবার থেকে বের হয়ে ইয়ামেনের উদ্দেশে যাত্রা করল এবং বাজানের কাছে পৌঁছে ঘটনার বিবরণ জানাল। ইয়ামেন থেকে পারস্যের দীর্ঘ দূরত্বের কারণে তাদের কাছে তখনো সম্রাটের মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছেনি। বাজান বলল, 'আল্লাহর শপথ, এটা কোনো বাদশাহর কথা নয়। সে যেভাবে বলেছে তাতে তো তাকে নবিই মনে করছি। সে যা বলেছে, আমরা তা অবশ্যই দেখব। সে যা বলেছে, যদি সত্য হয়, তাহলে তাকে সত্যিই আল্লাহর প্রেরিত রাসুল মানতেই হবে। যদি এমন না হতো, তাহলে তার মতামত আমাদের মতোই হতো।'
খুব বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি, বাজানের কাছে কিসরার পুত্র শিরবিয়ার পত্র এসে পৌঁছল। তাতে জানানো হয়েছে, 'শিরবিয়া হলো বর্তমান বাদশাহ এবং বর্তমান বাদশাহর আনুগত্য করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।' তারপর বাজান কিসরার মৃত্যুর সময় নিয়ে চিন্তা করল। দেখা গেল, সেটি ঠিক সেই মুহূর্ত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ওই দুজনকে তার মৃত্যুর সংবাদ দিয়েছিলেন। সুতরাং বাজান বলল, 'নিশ্চয় তিনি আল্লাহর রাসুল।' এরপর বাজান ইসলাম গ্রহণ করে এবং তাঁর সাথে ইয়ামেনবাসীও ইসলাম গ্রহণ করে।
📄 খুবাইবের শাহাদাত
উহুদ যুদ্ধের পর হুজাইল এবং কারাহ গোত্রের কয়েকজন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে আবেদন জানাল, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের মাঝে ইসলাম আছে, আমরা মুসলিম। তাই আপনার কিছু সাহাবিকে আমাদের গোত্রে পাঠান, যারা আমাদের দ্বীন শেখাবে, কুরআন পড়াবে এবং শরিয়তের বিধিবিধান শিক্ষা দেবে।'
সুতরাং উঁচু স্তরের ছয়জন সাহাবিকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই উদ্দেশ্যে প্রেরণ করলেন। তাঁরা হলেন মারসাদ বিন আবু মারসাদ গানাবি রাদিয়াল্লাহu আনহু, খালিদ বিন বুকাইর আল-লাইসি রাদিয়াল্লাহu আনহু, আসিম বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহu আনহু, খুবাইব বিন আদি রাদিয়াল্লাহu আনহু, জায়েদ বিন দাসানাহ রাদিয়াল্লাহu আনহু এবং আবদুল্লাহ বিন তারেক রাদিয়াল্লাহu আনহু।
সাহাবিগণ আগমনকারীদের সাথে যাত্রা করলেন এবং লুকিয়ে লুকিয়ে বিভিন্ন কাফিরগোত্র অতিক্রম করতে থাকলেন। এভাবে তাঁরা রজি' নামক এলাকায় পৌঁছলেন। এলাকাটি ছিল হুজাইল গোত্রের কাছাকাছি। হুজাইল গোত্রের লোকজন খবর পেয়ে ১০০ অশ্বারোহী সাহাবিগণের খোঁজে বের হলো। তাঁদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে সন্ধান করতে থাকল। একজায়গায় এসে তারা খেজুরের বিচি দেখতে পেল এবং সেগুলো মদিনার খেজুর হিসেবে চিনতে পারল। ফলে পদচিহ্ন অনুসরণ করে সাহাবিগণকে তারা পেয়ে যায়। সাহাবিগণের উপর তারা আক্রমণ করে। আত্মরক্ষার্থে সাহাবিগণ একটি উঁচু মালভূমিতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
হুজাইল গোত্রের লোকজন তাঁদের ঘেরাও করে ফেলে এবং তাঁদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে; কিন্তু চেষ্টায় তারা সফল হলো না। সাহাবিগণের উদ্দেশে তারা বলল, 'তোমাদের সাথে প্রতিজ্ঞা করছি, যদি নেমে আসো, তোমাদের কাউকে হত্যা করা হবে না।'
তাদের জবাবে আসিম রাদিয়াল্লাহu আনহু বললেন, 'কাফিরদের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তাদের আশ্রয়ে আমি কখনো নামব না।' এরপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'হে আল্লাহ, আমাদের সম্পর্কে নবিজিকে অবহিত করুন।' তারপর হুজাইল গোত্রের কাফিররা সাহাবিগণের সাথে যুদ্ধ শুরু করে দিলো। তারা বৃষ্টির মতো তির বর্ষণ আরম্ভ করল এবং আসিম রাদিয়াল্লাহu আনহুসহ তাঁর সাথিদের শহিদ করে দিলো।
বাকি থাকলেন খুবাইব বিন আদি, জায়েদ বিন দাসানাহ এবং আবদুল্লাহ বিন তারেক রাদিয়াল্লাহu আনহুম। হুজাইলিরা তাঁদের প্রতিশ্রুতি দিলো, 'নেমে এসো, তোমাদের কাউকেই হত্যা করা হবে না।' তাঁরা আত্মসমর্পণ করে নেমে এলেন। কাফিররা যখন তাঁদের নিয়ন্ত্রণ পেল, ধনুকের তারগুলো খুলে তাঁদের বেঁধে ফেলল।
তখন আবদুল্লাহ বিন তারেক রাদিয়াল্লাহu আনহু বললেন, 'এটা তোমাদের প্রথম গাদ্দারি।' এই বলেই বাঁধন থেকে হাত খুলে তলোয়ার হাতে নিয়ে দূরে সরে গেলেন এবং তলোয়ার উঁচিয়ে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হলেন। তিনি শক্তিশালী বীরপুরুষ ছিলেন। ফলে কোনো কাফির তাঁর নিকটে যেতে পারছিল না। বাধ্য হয়ে তারা পাথর নিক্ষেপ শুরু করল। শেষ পর্যন্ত তিনিও শহিদ হয়ে গেলেন। কাফিররা খুবাইব এবং জায়েদকে মক্কায় নিয়ে বিক্রি করে দিলো।
খুবাইব রাদিয়াল্লাহu আনহুকে ক্রয় করল বনু হারেস বিন আমের। বদর যুদ্ধে খুবাইব হারেসকে হত্যা করেছিলেন। আর জায়েদ রাদিয়াল্লাহu আনহুকে ক্রয় করল সাফওয়ান বিন উমাইয়া। বদর যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে তার পিতা নিহত হয়। পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ নিতে আয়োজন শুরু হয়। আবু জায়েদ রাদিয়াল্লাহu আনহুকে হত্যার জন্য নিসতাস নামক একগোলামের হাতে দেওয়া হলো।
নিসতাস আবু জায়েদকে হত্যার জন্য মক্কা থেকে বের হলো। কুরাইশরা তাঁকে দেখার জন্য একত্র হলো। তাদের মধ্যে আবু সুফিয়ান বিন হারবও ছিল। আবু সুফিয়ান জায়েদকে বাঁধা অবস্থায় দেখে বলল, 'হে জায়েদ, তোমাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, তুমি কি এটা পছন্দ করবে যে, এই মুহূর্তে মুহাম্মদ আমাদের কাছে থাকবে এবং তোমার বদলে তার গর্দান কাটব, বদলা হিসেবে তুমি আপন ঘরে চলে যাবে?'
জায়েদ জবাব দিলেন, 'আল্লাহর কসম, আমি এটাও চাই না যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি কাঁটার আঁচড়ও পান আর এর বদলায় আমি নিজ পরিবারের সাথে বসে থাকি।'
আবু সুফিয়ান বলল, 'আমি কোনো মানুষকে এত ভালোবাসতে দেখিনি, যতটা ভালোবাসে মুহাম্মদকে তার সাথিরা।' এরপর নিসতাস তাঁকে শহিদ করে দেয়। রাদিয়াল্লাহu আনহু-আল্লাহ তাআলা জায়েদের প্রতি রাজি হয়েছেন।
খুবাইব রাদিয়াল্লাহu আনহুকে হারেস বিন আমেরের সন্তানরা কিছুদিন বন্দি করে রাখল। অতঃপর তাঁর থেকে বিস্ময়কর কিছু বিষয় প্রত্যক্ষ করল।
দাসী মাবিয়ার বর্ণনা করেন, 'তারা খুবাইবকে আমার ঘরে বন্দি করে রেখেছিল। একদিন আমি তার কাছে গেলাম, তখন তার হাতে মানুষের মাথার ন্যায় বড় বড় আঙুরের থোকা ছিল, তিনি সেখান থেকে খাচ্ছিলেন! আমার জানামতে আল্লাহর জমিনে তখন কোনো আঙুর পাওয়া যেত না। তা-ও আবার কাফিরদের হাতে বন্দি অবস্থায়! কল্পনাই করা যায় না।
'যখন কাফিররা তাকে হত্যার জন্য একত্রিত হলো, তখন তিনি আমাকে একটি চাকু বা ক্ষুরের আবেদন জানিয়ে বললেন, “মৃত্যুর পূর্বে আমি পরিচ্ছন্ন হতে চাই।” তিনি এর মাধ্যমে শরীরের অবাঞ্চিত লোম পরিষ্কার করতে চাচ্ছিলেন।'
দাসী বলেন, 'আমি একটা বাচ্চার নিটক ধারালো একটি চাকু পেলাম। তাকে বললাম, "ভিতরে গিয়ে এই লোককে চাকুটা দাও।” যখন ছেলেটি কয়েদখানার ভিতরে গেল, আমি লজ্জিত হলাম এবং বললেন, "আমি এটা কী করলাম! হায় আল্লাহ! যদি লোকটি এই বাচ্চাকে হত্যা করত, তাহলে কী হতো! একজনের বিনিময়ে একজনের হত্যা হতো!"
'তিনি চাকুটি হাতে নিয়ে বললেন, “যখন তুমি চাকুটি আমার কাছে পাঠিয়েছিলে, তুমি আমার গাদ্দারির ভয় করেছিলে!" এরপর তিনি নিজের কাজে চলে গেলেন।
'কাফিররা খুবাইব রাদিয়াল্লাহu আনহুকে হত্যা করার জন্য বের করে নিয়ে এল। যখন মৃত্যুর সময় নিশ্চিত জানলেন, তাদের বললেন, 'আমাকে দুই রাকাআত নামাজ পড়ার সুযোগ দাও।'
'কাফিররা বলল, “ঠিক আছে, পড়ো।” তিনি খুব সুন্দরভাবে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করলেন। তারপর কাফিরদের সামনে গিয়ে বললেন, “আল্লাহর কসম, যদি তোমরা এই কুচিন্তা না করতে যে, আমি মৃত্যুর ভয়ে নামাজ দীর্ঘায়িত করছি, তাহলে নামাজ আরও দীর্ঘ করতাম।” খুবাইবই প্রথম মুসলিম, যিনি মৃত্যুর পূর্বে দুই রাকাআত নামাজের প্রচলন ঘটিয়েছেন।
'এরপর কাফিররা তাঁকে শূলে চড়ালো। কাফিররা যখন তাঁকে বাঁধল, তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, “হে আল্লাহ, আমরা তোমার রাসুলের বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছি। সুতরাং তাঁকে জানিয়ে দাও যে, আমাদের সাথে কী আচরণ করা হয়েছে!” তারপর কাফিরদের বিরুদ্ধে বদদুআ করলেন, “হে আল্লাহ, তাদের সকলকে গুনে রাখো এবং তাদের অবশ্যই হত্যা করো, তাদের মধ্যে কাউকে ছাড় দেবে না।”
তারপর বললেন
নেই কোনো পরোয়া মোর যখন আমি মরছি হয়ে মুসলমান; যেভাবেই পড়ি না কেন, আল্লাহর জন্যই হচ্ছি কুরবান। এটা হচ্ছে আল্লাহর জন্য যদি তিনি চান, মিলনবেলা দেবেন বরকত দিচ্ছি তারে খণ্ডিত বদন।
তারপর তারা খুবাইব রাদিয়াল্লাহu আনহুকে শহিদ করে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি সংঘটিত হয় মক্কায়, যা ছিল মদিনা থেকে ৪০০ মাইলেরও অধিক দূরে। যখন খুবাইব রাদিয়াল্লাহu আনহু শাহাদাতের পেয়ালা পান করছিলেন, নবিজির ওপর তাঁর প্রভাব প্রকাশ পাচ্ছিল, তখন তিনি সাহাবিগণের মাঝে বসা ছিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই চিন্তাতেই ছিলেন যে, সাহাবিগণ তাঁদের সেই ভাইদের শাহাদাতের সংবাদ দেবেন, যাঁদের দায়ি হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছিল। হঠাৎ নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'ওয়ালাইকুমুস সালাম খুবাইব-ওয়ালাইকুমুস সালাম'। তারপর বললেন, 'খুবাইবকে কুরাইশরা শহিদ করেছে।'
উহুদ যুদ্ধের পর হুজাইল এবং কারাহ গোত্রের কয়েকজন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে আবেদন জানাল, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের মাঝে ইসলাম আছে, আমরা মুসলিম। তাই আপনার কিছু সাহাবিকে আমাদের গোত্রে পাঠান, যারা আমাদের দ্বীন শেখাবে, কুরআন পড়াবে এবং শরিয়তের বিধিবিধান শিক্ষা দেবে।'
সুতরাং উঁচু স্তরের ছয়জন সাহাবিকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই উদ্দেশ্যে প্রেরণ করলেন। তাঁরা হলেন মারসাদ বিন আবু মারসাদ গানাবি রাদিয়াল্লাহু আনহু, খালিদ বিন বুকাইর আল-লাইসি রাদিয়াল্লাহু আনহু, আসিম বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু, খুবাইব বিন আদি রাদিয়াল্লাহু আনহু, জায়েদ বিন দাসানাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং আবদুল্লাহ বিন তারেক রাদিয়াল্লাহু আনহুম।
সাহাবিগণ আগমনকারীদের সাথে যাত্রা করলেন এবং লুকিয়ে লুকিয়ে বিভিন্ন কাফিরগোত্র অতিক্রম করতে থাকলেন। এভাবে তাঁরা রজি' নামক এলাকায় পৌঁছলেন। এলাকাটি ছিল হুজাইল গোত্রের কাছাকাছি। হুজাইল গোত্রের লোকজন খবর পেয়ে ১০০ অশ্বারোহী সাহাবিগণের খোঁজে বের হলো। তাঁদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে সন্ধান করতে থাকল। একজায়গায় এসে তারা খেজুরের বিচি দেখতে পেল এবং সেগুলো মদিনার খেজুর হিসেবে চিনতে পারল। ফলে পদচিহ্ন অনুসরণ করে সাহাবিগণকে তারা পেয়ে যায়। সাহাবিগণের উপর তারা আক্রমণ করে। আত্মরক্ষার্থে সাহাবিগণ একটি উঁচু মালভূমিতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
হুজাইল গোত্রের লোকজন তাঁদের ঘেরাও করে ফেলে এবং তাঁদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে; কিন্তু চেষ্টায় তারা সফল হলো না। সাহাবিগণের উদ্দেশে তারা বলল, 'তোমাদের সাথে প্রতিজ্ঞা করছি, যদি নেমে আসো, তোমাদের কাউকে হত্যা করা হবে না।'
তাদের জবাবে আসিম রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'কাফিরদের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তাদের আশ্রয়ে আমি কখনো নামব না।' এরপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'হে আল্লাহ, আমাদের সম্পর্কে নবিজিকে অবহিত করুন।' তারপর হুজাইল গোত্রের কাফিররা সাহাবিগণের সাথে যুদ্ধ শুরু করে দিলো। তারা বৃষ্টির মতো তির বর্ষণ আরম্ভ করল এবং আসিম রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ তাঁর সাথিদের শহিদ করে দিলো।
বাকি থাকলেন খুবাইব বিন আদি, জায়েদ বিন দাসানাহ এবং আবদুল্লাহ বিন তারেক রাদিয়াল্লাহু আনহুম। হুজাইলিরা তাঁদের প্রতিশ্রুতি দিলো, 'নেমে এসো, তোমাদের কাউকেই হত্যা করা হবে না।' তাঁরা আত্মসমর্পণ করে নেমে এলেন। কাফিররা যখন তাঁদের নিয়ন্ত্রণ পেল, ধনুকের তারগুলো খুলে তাঁদের বেঁধে ফেলল। তখন আবদুল্লাহ বিন তারেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'এটা তোমাদের প্রথম গাদ্দারি।' এই বলেই বাঁধন থেকে হাত খুলে তলোয়ার হাতে নিয়ে দূরে সরে গেলেন এবং তলোয়ার উঁচিয়ে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হলেন। তিনি শক্তিশালী বীরপুরুষ ছিলেন। ফলে কোনো কাফির তাঁর নিকটে যেতে পারছিল না। বাধ্য হয়ে তারা পাথর নিক্ষেপ শুরু করল। শেষ পর্যন্ত তিনিও শহিদ হয়ে গেলেন। কাফিররা খুবাইব এবং জায়েদকে মক্কায় নিয়ে বিক্রি করে দিলো।
খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ক্রয় করল বনু হারেস বিন আমের। বদর যুদ্ধে খুবাইব হারেসকে হত্যা করেছিলেন। আর জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ক্রয় করল সাফওয়ান বিন উমাইয়া। বদর যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে তার পিতা নিহত হয়। পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ নিতে আয়োজন শুরু হয়। আবু জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যার জন্য নিসতাস নামক একগোলামের হাতে দেওয়া হলো। নিসতাস আবু জায়েদকে হত্যার জন্য মক্কা থেকে বের হলো। কুরাইশরা তাঁকে দেখার জন্য একত্র হলো। তাদের মধ্যে আবু সুফিয়ান বিন হারবও ছিল। আবু সুফিয়ান জায়েদকে বাঁধা অবস্থায় দেখে বলল, 'হে জায়েদ, তোমাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, তুমি কি এটা পছন্দ করবে যে, এই মুহূর্তে মুহাম্মদ আমাদের কাছে থাকবে এবং তোমার বদলে তার গর্দান কাটব, বদলা হিসেবে তুমি আপন ঘরে চলে যাবে?'
জায়েদ জবাব দিলেন, 'আল্লাহর কসম, আমি এটাও চাই না যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি কাঁটার আঁচড়ও পান আর এর বদলায় আমি নিজ পরিবারের সাথে বসে থাকি।' আবু সুফিয়ান বলল, 'আমি কোনো মানুষকে এত ভালোবাসতে দেখিনি, যতটা ভালোবাসে মুহাম্মদকে তার সাথিরা।' এরপর নিসতাস তাঁকে শহিদ করে দেয়। রাদিয়াল্লাহু আনহু-আল্লাহ তাআলা জায়েদের প্রতি রাজি হয়েছেন।
খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে হারেস বিন আমেরের সন্তানরা কিছুদিন বন্দি করে রাখল। অতঃপর তাঁর থেকে বিস্ময়কর কিছু বিষয় প্রত্যক্ষ করল। দাসী মাবিয়ার বর্ণনা করেন, 'তারা খুবাইবকে আমার ঘরে বন্দি করে রেখেছিল। একদিন আমি তার কাছে গেলাম, তখন তার হাতে মানুষের মাথার ন্যায় বড় বড় আঙুরের থোকা ছিল, তিনি সেখান থেকে খাচ্ছিলেন! আমার জানামতে আল্লাহর জমিনে তখন কোনো আঙুর পাওয়া যেত না। তা-ও আবার কাফিরদের হাতে বন্দি অবস্থায়! কল্পনাই করা যায় না।
'যখন কাফিররা তাকে হত্যার জন্য একত্রিত হলো, তখন তিনি আমাকে একটি চাকু বা ক্ষুরের আবেদন জানিয়ে বললেন, “মৃত্যুর পূর্বে আমি পরিচ্ছন্ন হতে চাই।” তিনি এর মাধ্যমে শরীরের অবাঞ্চিত লোম পরিষ্কার করতে চাচ্ছিলেন।'
দাসী বলেন, 'আমি একটা বাচ্চার নিটক ধারালো একটি চাকু পেলাম। তাকে বললাম, "ভিতরে গিয়ে এই লোককে চাকুটা দাও।” যখন ছেলেটি কয়েদখানার ভিতরে গেল, আমি লজ্জিত হলাম এবং বললেন, "আমি এটা কী করলাম! হায় আল্লাহ! যদি লোকটি এই বাচ্চাকে হত্যা করত, তাহলে কী হতো! একজনের বিনিময়ে একজনের হত্যা হতো!"
'তিনি চাকুটি হাতে নিয়ে বললেন, “যখন তুমি চাকুটি আমার কাছে পাঠিয়েছিলে, তুমি আমার গাদ্দারির ভয় করেছিলে!" এরপর তিনি নিজের কাজে চলে গেলেন।
'কাফিররা খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যা করার জন্য বের করে নিয়ে এল। যখন মৃত্যুর সময় নিশ্চিত জানলেন, তাদের বললেন, 'আমাকে দুই রাকাআত নামাজ পড়ার সুযোগ দাও।'
'কাফিররা বলল, “ঠিক আছে, পড়ো।” তিনি খুব সুন্দরভাবে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করলেন। তারপর কাফিরদের সামনে গিয়ে বললেন, “আল্লাহর কসম, যদি তোমরা এই কুচিন্তা না করতে যে, আমি মৃত্যুর ভয়ে নামাজ দীর্ঘায়িত করছি, তাহলে নামাজ আরও দীর্ঘ করতাম।” খুবাইবই প্রথম মুসলিম, যিনি মৃত্যুর পূর্বে দুই রাকাআত নামাজের প্রচলন ঘটিয়েছেন।
'এরপর কাফিররা তাঁকে শূলে চড়ালো। কাফিররা যখন তাঁকে বাঁধল, তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, “হে আল্লাহ, আমরা তোমার রাসুলের বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছি। সুতরাং তাঁকে জানিয়ে দাও যে, আমাদের সাথে কী আচরণ করা হয়েছে!” তারপর কাফিরদের বিরুদ্ধে বদদুআ করলেন, “হে আল্লাহ, তাদের সকলকে গুনে রাখো এবং তাদের অবশ্যই হত্যা করো, তাদের মধ্যে কাউকে ছাড় দেবে না।” তারপর বললেন— ‘নেই কোনো পরোয়া মোর যখন আমি মরছি হয়ে মুসলমান; যেভাবেই পড়ি না কেন, আল্লাহর জন্যই হচ্ছি কুরবান। এটা হচ্ছে আল্লাহর জন্য যদি তিনি চান, মিলনবেলা দেবেন বরকত দিচ্ছি তারে খণ্ডিত বদন।’
তারপর তারা খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে শহিদ করে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি সংঘটিত হয় মক্কায়, যা ছিল মদিনা থেকে ৪০০ মাইলেরও অধিক দূরে। যখন খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু শাহাদাতের পেয়ালা পান করছিলেন, নবিজির ওপর তাঁর প্রভাব প্রকাশ পাচ্ছিল, তখন তিনি সাহাবিগণের মাঝে বসা ছিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই চিন্তাতেই ছিলেন যে, সাহাবিগণ তাঁদের সেই ভাইদের শাহাদাতের সংবাদ দেবেন, যাঁদের দায়ি হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছিল। হঠাৎ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'ওয়ালাইকুমুস সালাম খুবাইব-ওয়ালাইকুমুস সালাম'। তারপর বললেন, 'খুবাইবকে কুরাইশরা শহিদ করেছে।'