📄 উম্মুল মুমিনিন খাদিজার গল্প
সহিহ বুখারির বর্ণনায় রয়েছে, নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত পাওয়ার পূর্বে শহরের উপকণ্ঠে হেরা গুহায় যেতেন এবং সেখানে ইবাদত করতেন। একদিন তিনি গুহার একেবারে গভীরে গভীর ধ্যানমগ্ন ছিলেন।
হঠাৎ জিবরাইল আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে আগমন করলেন। অতঃপর বললেন— ইকরা ‘পড়ুন!’ নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটা শুনে ঘাবড়ে গেলেন; বললেন, ‘আমি কখনো কোনো কিতাব পড়িনি। ভালোভাবে পড়তে জানি না এবং লিখতেও পারি না।’
জিবরাইল আলাইহিস সালাম তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন, ফলে নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম কষ্ট পেলেন। ছেড়ে দিয়ে বললেন— ইকরা ‘পড়ুন!’ নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আমি পড়তে জানি না।
’ জিবরাইল আলাইহিস সালাম দ্বিতীয়বার তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন, ফলে তিনি কষ্ট অনুভব করলেন। আবার ছেড়ে দিয়ে বললেন— ইকরা ‘পড়ুন!’ নবিজি আবারও বললেন, ‘আমি পড়তে জানি না।’
জিবরাইল আলাইহিস সালাম তৃতীয়বার তাঁকে বুকের সাথে চাপ দিয়ে ধরলেন, ফলে নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম কষ্ট পেলেন। তারপর ছেড়ে দিয়ে বললেন— ইকরা বিইসমি রব্বিকাল্লাদি খলাক - খলাকাল ইনসানা মিন আলাক - ইকরা ওয়া রব্বুকাল আকরাম - আল্লাদি আল্লামা বিল কলাম - আল্লামাল ইনসানা মা লাম ইয়া’লাম।
'পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন; সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু; যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।' [সুরা আলাক: ১-৫]
যখন নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াতগুলো শুনলেন এবং এই দৃশ্য দেখলেন, মারাত্মক ভয় পেলেন। তাঁর অন্তরে আতঙ্ক সৃষ্টি হলো। তিনি শহরে ফিরে এসেই সর্বপ্রথম উম্মুল মুমিনিন খাদিজা রাদিয়াল্লাহu আনহার কাছে গেলেন। তারপর বললেন, 'আমাকে চাদরে জড়িয়ে নাও! আমাকে চাদরে জড়িয়ে নাও! আমাকে চাদরে জড়িয়ে নাও!' অতঃপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুয়ে পড়লেন। খাদিজা তাঁকে ঢেকে দিলেন। উম্মুল মুমিনিন খাদিজা রাদিয়াল্লাহu আনহা কেবল প্রাণাধিক প্রিয় স্বামীর দিকে তাকিয়ে থাকলেন। তিনি জানেন না যে, স্বামী কেন এত আতঙ্কিত! কিছুক্ষণের মধ্যেই নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভয়ের ভাবটা কেটে গেল।
তারপর নবিজি খাদিজার দিকে মনোনিবেশ করে তাঁকে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বললেন, 'খাদিজা, আমি আমার জীবনের ব্যাপারে শঙ্কিত!'
জবাবে খাদিজা বললেন, 'কখনো এমন হবে না! আল্লাহর কসম, তিনি আপনাকে কখনো লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন, অন্যের বিপদে কষ্ট সহ্য করেন, মানুষের বোঝা বহন করেন, অন্যের অধিকার আদায়ে সহযোগিতা করেন; এগুলোর কল্যাণ বন্ধ হয়নি, এগুলোর প্রভাব শেষ হয়নি।'
খাদিজা রাদিয়াল্লাহu আনহা নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাত ধরলেন এবং তাঁকে নিয়ে চাচাতো ভাই ওয়ারাকা বিন নাওফিলের কাছে গেলেন। তিনি ছিলেন অন্ধ বৃদ্ধ মানুষ। তিনি জাহেলিযুগে খ্রিষ্টান ছিলেন। ইনজিল কিতাব পড়তেন এবং লিখতেন। নবিদের ব্যাপারে খুব ভালোভাবে অবহিত ছিলেন।
খাদিজা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে তার কাছে বসলেন। তারপর বললেন, 'হে আমার চাচাতো ভাই, আপনার ভাতিজার কথা শুনুন।' ওয়ারাকা বিন নাওফিল নবিজিকে জিজ্ঞেস করলেন, 'ভাতিজা, বলো, তুমি কী দেখেছ?' রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া বিষয়টির বিস্তারিত বিবরণ দিলেন এবং কুরআন কারিমের শ্রুত আয়াতগুলোও শোনালেন। ওয়ারাকা বললেন, 'সুব্বুহুন! সুব্বহুন! তুমি সুসংবাদ গ্রহণ করো! তুমি সুসংবাদ গ্রহণ করো! ইনিই সেই ফেরেশতা, যিনি মুসা আলাইহিস সালামের নিকট এসেছিলেন।' তারপর ওয়ারাকা বিন নাওফিল বললেন, 'হায় আফসোস! এর মাঝে কষ্ট রয়েছে! যখন তোমাকে তোমার কওম এলাকা থেকে বের করে দেবে, যদি তখন আমি যুবক হতাম, তোমার সাথে আমিও বেরিয়ে যেতাম এবং তোমাকে সাহায্য করতাম।'
রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম আতঙ্কিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'তারা কি আমাকে বের করে দেবে?' ওয়ারাকা বিন নাওফিল বললেন, 'হ্যাঁ, তোমার পূর্বেও যাঁরা এই দাওয়াত নিয়ে এসেছেন, তাঁদের সাথেও একই রকম আচরণ করা হয়েছে। তবে আমি যদি সে পর্যন্ত জীবিত থাকি, তাহলে তোমাকে জোরালোভাবে সাহায্য করব।'
তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাদিজাকে নিয়ে চলে এলেন। খাদিজা রাদিয়াল্লাহu আনহা নিশ্চিত হয়ে গেলেন, তাঁর ঘুমের সময় শেষ। তাঁকেও স্বামীর সাথে বিপদে আক্রান্ত হতে হবে অতিসত্বর। তাঁকেও বহিষ্কার করা হবে নিজ বাড়ি থেকে। কষ্ট দেওয়া হবে তাঁকেও। অথচ তিনি ছিলেন এমন নারী, যিনি বেড়ে উঠেছেন ঐশ্বর্যের মাঝে, সুখ-সম্ভোগের মাঝে। ছিলেন সম্ভ্রান্ত বংশের সম্মানী নারী। তিনিই কিনা বিপদের মোকাবিলা করবেন!
তিনি কি দ্বীনের সাহায্যে লাঞ্ছনা গ্রহণ করেছেন, নাকি তাঁর বিশ্বাসে চির ধরেছিল? কখনো না; বরং তিনি তাঁর প্রতিপালকের প্রতি ইমান এনেছেন; ধন দিয়ে, মন দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে এবং শ্রম দিয়ে নবিকে সাহায্য করেছেন। তিনি আমৃত্যu এভাবেই চলেছেন এবং ইতিহাসে অনন্য নজির স্থাপন করে তাঁর প্রতিপালকের প্রিয় হয়েছেন।
ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন, জিবরাইল আলাইহিস সালাম নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, এই যে খাদিজা, আপনার কাছে একটি পাত্র নিয়ে আসছে, যাতে তরকারি এবং পানাহারের বস্তু রয়েছে। যখন সে আপনার কাছে আসবে, তাঁকে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম প্রদান করবেন, জান্নাতে বিশেষ ধরনের বেতের তৈরি ঘরের সুসংবাদ দেবেন, যেখানে কোনো প্রকার শ্রম ও কষ্ট থাকবে না।'
এটাই হলো খাদিজা রাদিয়াল্লাহu আনহার সংবাদ, যিনি সর্বপ্রথম ইসলামে প্রবেশ করেছেন, প্রতিমাপূজা পরিহার করেছেন, পুরুষদেরও অতিক্রম করেছেন, বহু খ্যাতি অর্জন করা তারকাকে পিছে ফেলেছেন এবং ইতিহাসে দান-দক্ষিণার দৃষ্টান্ত এঁকেছেন। রাসুলের পথ অনুসরণ করার আহ্বান করেছেন। কোনো কাফিরের তিরস্কার পরোয়া করেননি, কোনো পাপাচারীর অপপ্রচারে সন্দিহান হননি। প্রতিদান হিসেবে আল্লাহ তাআলা তাঁর মেহমানদারির আয়োজন করেছেন। তাঁর জন্য জান্নাতে ঘর বানিয়েছেন।
খাদিজা রাদিয়াল্লাহu আনহা সুসংবাদ শুনে খুশি হলেন। আরও বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে আত্মনিয়োগ করলেন। পরিশেষে এমন অবস্থায় প্রতিপালকের সাথে মিলিত হলেন, যখন প্রতিপালক তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন।
কুরআন কারিমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন— অয়াদাল্লাহুল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাতি জান্নাতিন তাজরি মিন তাহতিহাল আনহারু খলিদিনা ফিহা ওয়া মাসাকিনা তইয়্যিবাতান ফি জান্নাতি আদনিন ওয়া রিদওয়ানুম মিনাল্লাহি আকবারু দালিকা হুয়াল ফাউযুল আজিম।
'আল্লাহ ইমানদার পুরুষ ও নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কানন-কুঞ্জের, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণ। তারা সেগুলোরই মাঝে থাকবে। আর এসব কানন-কুঞ্জে থাকবে পরিচ্ছন্ন থাকার ঘর। বস্তুত এ সমুদ্রের মাঝে সবচেয়ে বড় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটিই হলো মহা সফলতা।' [সুরা নাহল : ৯৭]
আল্লাহ তাআলা উম্মুল মুমিনিন খাদিজা রাদিয়াল্লাহu আনহার প্রতি রাজি হয়েছেন। তাঁর কন্যারা কি তাঁর অনুসরণ করবে না? আপনি কি তার অনুকরণ করবেন না? যেন আপনিও তাঁর মতো জান্নাতে বেতের এমন ঘর পান, যেখানে কোনো প্রকার শ্রম ও কষ্ট থাকবে না?
সহিহ বুখারির বর্ণনায় রয়েছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত পাওয়ার পূর্বে শহরের উপকণ্ঠে হেরা গুহায় যেতেন এবং সেখানে ইবাদত করতেন। একদিন তিনি গুহার একেবারে গভীরে গভীর ধ্যানমগ্ন ছিলেন।
হঠাৎ জিবরাইল আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে আগমন করলেন। অতঃপর বললেন— اقরأ ‘পড়ুন!’ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটা শুনে ঘাবড়ে গেলেন; বললেন, ‘আমি কখনো কোনো কিতাব পড়িনি। ভালোভাবে পড়তে জানি না এবং লিখতেও পারি না।’
জিবরাইল আলাইহিস সালাম তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন, ফলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কষ্ট পেলেন। ছেড়ে দিয়ে বললেন— اقরأ ‘পড়ুন!’ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আমি পড়তে জানি না।’ জিবরাইল আলাইহিস সালাম দ্বিতীয়বার তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন, ফলে তিনি কষ্ট অনুভব করলেন। আবার ছেড়ে দিয়ে বললেন— اقরأ ‘পড়ুন!’ নবিজি আবারও বললেন, ‘আমি পড়তে জানি না।’
জিবরাইল আলাইহিস সালাম তৃতীয়বার তাঁকে বুকের সাথে চাপ দিয়ে ধরলেন, ফলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কষ্ট পেলেন। তারপর ছেড়ে দিয়ে বললেন— ‘পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন; সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু; যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।’ [সুরা আলাক: ১-৫]
যখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াতগুলো শুনলেন এবং এই দৃশ্য দেখলেন, মারাত্মক ভয় পেলেন। তাঁর অন্তরে আতঙ্ক সৃষ্টি হলো। তিনি শহরে ফিরে এসেই সর্বপ্রথম উম্মুল মুমিনিন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে গেলেন। তারপর বললেন, 'আমাকে চাদরে জড়িয়ে নাও! আমাকে চাদরে জড়িয়ে নাও! আমাকে চাদরে জড়িয়ে নাও!' অতঃপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুয়ে পড়লেন। খাদিজা তাঁকে ঢেকে দিলেন। উম্মুল মুমিনিন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা কেবল প্রাণাধিক প্রিয় স্বামীর দিকে তাকিয়ে থাকলেন। তিনি জানেন না যে, স্বামী কেন এত আতঙ্কিত! কিছুক্ষণের মধ্যেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভয়ের ভাবটা কেটে গেল।
তারপর নবিজি খাদিজার দিকে মনোনিবেশ করে তাঁকে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বললেন, 'খাদিজা, আমি আমার জীবনের ব্যাপারে শঙ্কিত!' জবাবে খাদিজা বললেন, 'কখনো এমন হবে না! আল্লাহর কসম, তিনি আপনাকে কখনো লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন, অন্যের বিপদে কষ্ট সহ্য করেন, মানুষের বোঝা বহন করেন, অন্যের অধিকার আদায়ে সহযোগিতা করেন; এগুলোর কল্যাণ বন্ধ হয়নি, এগুলোর প্রভাব শেষ হয়নি।'
খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাত ধরলেন এবং তাঁকে নিয়ে চাচাতো ভাই ওয়ারাকা বিন নাওফিলের কাছে গেলেন। তিনি ছিলেন অন্ধ বৃদ্ধ মানুষ। তিনি জাহেলিযুগে খ্রিষ্টান ছিলেন। ইনজিল কিতাব পড়তেন এবং লিখতেন। নবিদের ব্যাপারে খুব ভালোভাবে অবহিত ছিলেন। খাদিজা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে তার কাছে বসলেন। তারপর বললেন, 'হে আমার চাচাতো ভাই, আপনার ভাতিজার কথা শুনুন।' ওয়ারাকা বিন নাওফিল নবিজিকে জিজ্ঞেস করলেন, 'ভাতিজা, বলো, তুমি কী দেখেছ?' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া বিষয়টির বিস্তারিত বিবরণ দিলেন এবং কুরআন কারিমের শ্রুত আয়াতগুলোও শোনালেন। ওয়ারাকা বললেন, 'সুব্বুহুন! সুব্বহুন! তুমি সুসংবাদ গ্রহণ করো! তুমি সুসংবাদ গ্রহণ করো! ইনিই সেই ফেরেশতা, যিনি মুসা আলাইহিস সালামের নিকট এসেছিলেন।' তারপর ওয়ারাকা বিন নাওফিল বললেন, 'হায় আফসোস! এর মাঝে কষ্ট রয়েছে! যখন তোমাকে তোমার কওম এলাকা থেকে বের করে দেবে, যদি তখন আমি যুবক হতাম, তোমার সাথে আমিও বেরিয়ে যেতাম এবং তোমাকে সাহায্য করতাম।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আতঙ্কিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'তারা কি আমাকে বের করে দেবে?' ওয়ারাকা বিন নাওফিল বললেন, 'হ্যাঁ, তোমার পূর্বেও যাঁরা এই দাওয়াত নিয়ে এসেছেন, তাঁদের সাথেও একই রকম আচরণ করা হয়েছে। তবে আমি যদি সে পর্যন্ত জীবিত থাকি, তাহলে তোমাকে জোরালোভাবে সাহায্য করব।'
তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাদিজাকে নিয়ে চলে এলেন। খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা নিশ্চিত হয়ে গেলেন, তাঁর ঘুমের সময় শেষ। তাঁকেও স্বামীর সাথে বিপদে আক্রান্ত হতে হবে অতিসত্বর। তাঁকেও বহিষ্কার করা হবে নিজ বাড়ি থেকে। কষ্ট দেওয়া হবে তাঁকেও। অথচ তিনি ছিলেন এমন নারী, যিনি বেড়ে উঠেছেন ঐশ্বর্যের মাঝে, সুখ-সম্ভোগের মাঝে। ছিলেন সম্ভ্রান্ত বংশের সম্মানী নারী। তিনিই কিনা বিপদের মোকাবিলা করবেন!
তিনি কি দ্বীনের সাহায্যে লাঞ্ছনা গ্রহণ করেছেন, নাকি তাঁর বিশ্বাসে চির ধরেছিল? কখনো না; বরং তিনি তাঁর প্রতিপালকের প্রতি ইমান এনেছেন; ধন দিয়ে, মন দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে এবং শ্রম দিয়ে নবিকে সাহায্য করেছেন। তিনি আমৃত্যু এভাবেই চলেছেন এবং ইতিহাসে অনন্য নজির স্থাপন করে তাঁর প্রতিপালকের প্রিয় হয়েছেন।
ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন, জিবরাইল আলাইহিস সালাম নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, এই যে খাদিজা, আপনার কাছে একটি পাত্র নিয়ে আসছে, যাতে তরকারি এবং পানাহারের বস্তু রয়েছে। যখন সে আপনার কাছে আসবে, তাঁকে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম প্রদান করবেন, জান্নাতে বিশেষ ধরনের বেতের তৈরি ঘরের সুসংবাদ দেবেন, যেখানে কোনো প্রকার শ্রম ও কষ্ট থাকবে না।'
এটাই হলো খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার সংবাদ, যিনি সর্বপ্রথম ইসলামে প্রবেশ করেছেন, প্রতিমাপূজা পরিহার করেছেন, পুরুষদেরও অতিক্রম করেছেন, বহু খ্যাতি অর্জন করা তারকাকে পিছে ফেলেছেন এবং ইতিহাসে দান-দক্ষিণার দৃষ্টান্ত এঁকেছেন। রাসুলের পথ অনুসরণ করার আহ্বান করেছেন। কোনো কাফিরের তিরস্কার পরোয়া করেননি, কোনো পাপাচারীর অপপ্রচারে সন্দিহান হননি। প্রতিদান হিসেবে আল্লাহ তাআলা তাঁর মেহমানদারির আয়োজন করেছেন। তাঁর জন্য জান্নাতে ঘর বানিয়েছেন।
খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা সুসংবাদ শুনে খুশি হলেন। আরও বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে আত্মনিয়োগ করলেন। পরিশেষে এমন অবস্থায় প্রতিপালকের সাথে মিলিত হলেন, যখন প্রতিপালক তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। কুরআন কারিমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন— ‘আল্লাহ ইমানদার পুরুষ ও নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কানন-কুঞ্জের, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণ। তারা সেগুলোরই মাঝে থাকবে। আর এসব কানন-কুঞ্জে থাকবে পরিচ্ছন্ন থাকার ঘর। বস্তুত এ সমুদ্রের মাঝে সবচেয়ে বড় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটিই হলো মহা সফলতা।’ [সুরা নাহল : ৯৭]
আল্লাহ তাআলা উম্মুল মুমিনিন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার প্রতি রাজি হয়েছেন। তাঁর কন্যারা কি তাঁর অনুসরণ করবে না? আপনি কি তার অনুকরণ করবেন না? যেন আপনিও তাঁর মতো জান্নাতে বেতের এমন ঘর পান, যেখানে কোনো প্রকার শ্রম ও কষ্ট থাকবে না?
📄 সুমাইয়া বিনতে খাইয়াতের বিস্ময়কর গল্প
তিনি নিকৃষ্ট আবু জাহেলের ক্রীতদাসী ছিলেন। আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে ইসলাম প্রেরণ করলে—তিনি, তাঁর স্বামী এবং সন্তান সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন থেকেই তাদের উপর আবু জাহেলের পরীক্ষা শুরু হলো, তাঁদের বিভিন্নভাবে কষ্ট দেওয়া আরম্ভ করল। তাঁদের প্রখর রোদে খোলা প্রান্তরে বেঁধে রাখত, যেন ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় তাঁদের প্রাণবায়ু ওষ্ঠাগত হয়।
একদিন তাঁদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের শরীর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল। পিপাসার তাড়নায় তাঁদের ঠোঁটগুলো ফেটে গেছে। বেত্রাঘাতে তাঁদের শরীরের চামড়াগুলো কয়লার মতো কালো হয়ে গেছে। তদুপরি ওপর থেকে সূর্যের তাপ তাদের প্রজ্জ্বলিত করছিল। তাঁদের এমন অবস্থা দেখে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব ব্যথিত হলেন। বললেন— صَبْرًا يَا آلَ يَاسَر ، فَإِنَّ مَوْعِدَكُمْ الْجَنَّةُ . 'হে ইয়াসিরের পরিবার, ধৈর্যধারণ করো। তোমাদের ঠিকানা জান্নাত।'
নবিজির এই আওয়াজ তাঁদের কানে যাওয়া-মাত্র কলিজাগুলো আনন্দে নেচে উঠল, যেন এই সুসংবাদ শুনে তাঁদের হৃদয়গুলো উড়তে লাগল। ইতোমধ্যেই হঠাৎ করে এই উম্মাতের ফেরাউন আবু জাহেল এল এবং রাগে গজগজ করতে করতে তাঁদের প্রতি জুলুমের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিলো। অত্যাচার করছিল আর বলছিল, 'মুহাম্মদ এবং তার রবকে গালি দাও!' কিন্তু আবু জাহেলের এই অত্যাচার তাঁদের ইমান, অবিচলতা এবং ধৈর্য কেবল বাড়িয়েই চলছিল। ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে এই নরাধম সুমাইয়ার দিকে মনোযোগ দিলো; তাঁর লজ্জাস্থানে বর্শা দ্বারা আঘাত করল! সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহার ক্ষতস্থান থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকল, তাঁর শরীরের মাংস খুলে পড়ল, তিনি তীব্র ব্যথায় চিৎকার করতে থাকলেন, আর্তনাদ করতে থাকলেন, তাঁর স্বামী ও সন্তান পাশেই বাঁধা অবস্থায় এই দৃশ্য দেখছিলেন। আবু জাহেল গালি দিচ্ছিল আর বিভিন্ন কুফরি মন্তব্য করছিল। সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা আবু জাহেলের কথার জবাব দিচ্ছিলেন আর আল্লাহর নামে তাকবির বলছিলেন। আবু জাহেল অস্ত্র দিয়ে তাঁর শরীরের মাংস কাটছিল। একসময় সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা নিথর হয়ে পড়ে গেলেন। শাহাদাতের অমীয় সুধা পানে তিনি ধন্য হলেন।
হ্যাঁ, তিনি শহিদ হয়েছেন! তাঁর মৃত্যুর দৃশ্য কি নান্দনিক ছিল! তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন এমন অবস্থায়, যখন তাঁর প্রতিপালক তাঁর ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি অবিচল থেকেছেন নিজ ধর্মের ওপর। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন; কিন্তু শরীরের চামড়ার পরোয়া করেননি, আত্মসমর্পণ করে এই অত্যাচার বন্ধ করার পরোয়া না করে দ্বীনের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।
আর আজকের যুবতিরা! হায়! কিঞ্চিৎ কষ্ট হলেই অস্থির হয়ে পড়ে। সোজা পথ থেকে ছিটকে পড়ে। অথচ তাদের একটি বেত্রাঘাতও করা হয়নি, কোনো শাস্তির ভয়ও দেখানো হয়নি। তদুপরি নিজেদের কান নষ্ট করছে গান শুনে শুনে, চোখ নষ্ট করছে ফ্লিম ও কৌতুক দেখে, অস্তিত্বকে নষ্ট করছে বেগানা ছেলেদের সাথে আলাপচারিতা করে, ইজ্জত-আব্রুকে বিনষ্ট করছে যৌনাচারিদের সঙ্গ দিয়ে।
হ্যাঁ, একসময় নারীরা কষ্টে ধৈর্যধারণ করত। কঠিন কষ্টেও তারা বিচলিত হতো না। লোহার প্রহার, স্বামী ও সন্তানের বিচ্ছেদ সবকিছুই দ্বীনের মহব্বতে এবং সমগ্র জগতের প্রতিপালকের বড়ত্বের সামনে মেনে নিত। তারা কখনো কোনোভাবেই দ্বীনের কোনো বিষয় থেকে কিঞ্চিৎ পরিমাণ সরে দাঁড়াত না, হিজাব পরিহার করত না, ইজ্জত-আব্রু কলঙ্কিত করত না। প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকত। তারা সর্বদা একটি চিন্তায় সময় অতিবাহিত করত-কীভাবে ইসলামের সেবা করব! দ্বীনের জন্য নিজেদের মাল-সম্পদ, সময় এবং জীবন পর্যন্ত তারা উৎসর্গ করত। সর্বদা দ্বীনের কল্যাণ কামনা এবং ইমান পাকাপোক্ত করত।
টিকাঃ
১৯. সহিহ বুখারি ৩৫৮/১৪:; সহিহ মুসলিম: ১৩৪৯৯/।
তিনি নিকৃষ্ট আবু জাহেলের ক্রীতদাসী ছিলেন। আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে ইসলাম প্রেরণ করলে—তিনি, তাঁর স্বামী এবং সন্তান সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন থেকেই তাদের উপর আবু জাহেলের পরীক্ষা শুরু হলো, তাঁদের বিভিন্নভাবে কষ্ট দেওয়া আরম্ভ করল। তাঁদের প্রখর রোদে খোলা প্রান্তরে বেঁধে রাখত, যেন ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় তাঁদের প্রাণবায়ু ওষ্ঠাগত হয়।
একদিন তাঁদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের শরীর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল। পিপাসার তাড়নায় তাঁদের ঠোঁটগুলো ফেটে গেছে। বেত্রাঘাতে তাঁদের শরীরের চামড়াগুলো কয়লার মতো কালো হয়ে গেছে। তদুপরি ওপর থেকে সূর্যের তাপ তাদের প্রজ্জ্বলিত করছিল। তাঁদের এমন অবস্থা দেখে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব ব্যথিত হলেন। বললেন— صَبْرًا يَا آلَ يَاسَر ، فَإِنَّ مَوْعِدَكُمْ الْجَنَّةُ . 'হে ইয়াসিরের পরিবার, ধৈর্যধারণ করো। তোমাদের ঠিকানা জান্নাত।'
নবিজির এই আওয়াজ তাঁদের কানে যাওয়া-মাত্র কলিজাগুলো আনন্দে নেচে উঠল, যেন এই সুসংবাদ শুনে তাঁদের হৃদয়গুলো উড়তে লাগল। ইতোমধ্যেই হঠাৎ করে এই উম্মাতের ফেরাউন আবু জাহেল এল এবং রাগে গজগজ করতে করতে তাঁদের প্রতি জুলুমের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিলো। অত্যাচার করছিল আর বলছিল, 'মুহাম্মদ এবং তার রবকে গালি দাও!' কিন্তু আবু জাহেলের এই অত্যাচার তাঁদের ইমান, অবিচলতা এবং ধৈর্য কেবল বাড়িয়েই চলছিল। ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে এই নরাধম সুমাইয়ার দিকে মনোযোগ দিলো; তাঁর লজ্জাস্থানে বর্শা দ্বারা আঘাত করল!
সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহার ক্ষতস্থান থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকল, তাঁর শরীরের মাংস খুলে পড়ল, তিনি তীব্র ব্যথায় চিৎকার করতে থাকলেন, আর্তনাদ করতে থাকলেন, তাঁর স্বামী ও সন্তান পাশেই বাঁধা অবস্থায় এই দৃশ্য দেখছিলেন। আবু জাহেল গালি দিচ্ছিল আর বিভিন্ন কুফরি মন্তব্য করছিল। সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা আবু জাহেলের কথার জবাব দিচ্ছিলেন আর আল্লাহর নামে তাকবির বলছিলেন। আবু জাহেল অস্ত্র দিয়ে তাঁর শরীরের মাংস কাটছিল। একসময় সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা নিথর হয়ে পড়ে গেলেন। শাহাদাতের অমীয় সুধা পানে তিনি ধন্য হলেন।
হ্যাঁ, তিনি শহিদ হয়েছেন! তাঁর মৃত্যুর দৃশ্য কি নান্দনিক ছিল! তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন এমন অবস্থায়, যখন তাঁর প্রতিপালক তাঁর ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি অবিচল থেকেছেন নিজ ধর্মের ওপর। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন; কিন্তু শরীরের চামড়ার পরোয়া করেননি, আত্মসমর্পণ করে এই অত্যাচার বন্ধ করার পরোয়া না করে দ্বীনের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।
আর আজকের যুবতিরা! হায়! কিঞ্চিৎ কষ্ট হলেই অস্থির হয়ে পড়ে। সোজা পথ থেকে ছিটকে পড়ে। অথচ তাদের একটি বেত্রাঘাতও করা হয়নি, কোনো শাস্তির ভয়ও দেখানো হয়নি। তদুপরি নিজেদের কান নষ্ট করছে গান শুনে শুনে, চোখ নষ্ট করছে ফ্লিম ও কৌতুক দেখে, অস্তিত্বকে নষ্ট করছে বেগানা ছেলেদের সাথে আলাপচারিতা করে, ইজ্জত-আব্রুকে বিনষ্ট করছে যৌনাচারিদের সঙ্গ দিয়ে।
হ্যাঁ, একসময় নারীরা কষ্টে ধৈর্যধারণ করত। কঠিন কষ্টেও তারা বিচলিত হতো না। লোহার প্রহার, স্বামী ও সন্তানের বিচ্ছেদ সবকিছুই দ্বীনের মহব্বতে এবং সমগ্র জগতের প্রতিপালকের বড়ত্বের সামনে মেনে নিত। তারা কখনো কোনোভাবেই দ্বীনের কোনো বিষয় থেকে কিঞ্চিৎ পরিমাণ সরে দাঁড়াত না, হিজাব পরিহার করত না, ইজ্জত-আব্রু কলঙ্কিত করত না। প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকত। তারা সর্বদা একটি চিন্তায় সময় অতিবাহিত করত-কীভাবে ইসলামের সেবা করব! দ্বীনের জন্য নিজেদের মাল-সম্পদ, সময় এবং জীবন পর্যন্ত তারা উৎসর্গ করত। সর্বদা দ্বীনের কল্যাণ কামনা এবং ইমান পাকাপোক্ত করত।
টিকাঃ
১৯. সহিহ বুখারি ৩৫৮/১৪:; সহিহ মুসলিম: ১৩৪৯৯/।
📄 উম্মে শারিক গাজিয়া আনসারি
মক্কা মুকাররমায় যারা প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, উম্মে শারিক গাজিয়া আনসারি তাঁদের অন্যতম। তিনি যখন অনুধাবন করতে পারলেন, কাফিররা সংগঠিত হচ্ছে এবং মুসলিমরা দুর্বল। তখন কাফিরদের ইসলামের দাওয়াতের দিকে অনুপ্রাণিত করলেন। এতে তাঁর ইমান আরও মজবুত হলো। তাঁর কাছে প্রতিপালকের শান আরও বড় হয়ে পরিস্ফুটিত হলো। এরপর তিনি কুরাইশি নারীদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া আরম্ভ করলেন এবং প্রতিমাপূজা থেকে দূরে রাখতে সচেষ্ট হলেন। একপর্যায়ে তাঁর বিষয়টি মক্কার কাফিরদের সামনে প্রকাশিত হয়ে গেল। ফলে কাফিররা অনেক রেগে গেল।
কাফিররা উম্মে শারিককে বলল, 'যদি তোমার কওমের লোকেরা আমাদের মিত্র না হতো, তাহলে তোমার সাথে এমন এমন আচরণ করতাম, কিন্তু তোমাকে আমরা মক্কা থেকে বহিষ্কার করে তোমার কওমের কাছে পাঠাচ্ছি।' সুতরাং তারা উম্মে শারিককে শোকোজ করে একটি উটে উঠিয়ে দিলো। তাঁকে কষ্ট দেওয়ার জন্য হাওদার ব্যবস্থাও করল না এবং কোনো প্রকার কাপড়ও দিলো না। এরপর পানাহার ছাড়া সম্পূর্ণ অভুক্ত অবস্থায় লাগাতার তিন দিন তাঁকে সফর করালো। তৃষ্ণা ও ক্ষুধায় তাঁর জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে গিয়েছিল।
তারা উম্মে শারিককে প্রচণ্ড ঘৃণাভরে দেখত। যখন কোনো মনজিলে যাত্রাবিরতি করত, তাকে রোদে বেঁধে রাখত আর নিজেরা গাছের ছায়ায় বসত। একবার পথিমধ্যে যাত্রাবিরতি করল। তাঁকে উট থেকে নামালো এবং রোদের মাঝে বেঁধে রাখল। তখন তিনি তাদের কাছে পানি চাইলেন; কিন্তু তারা পানি দিলো না।
তিনি পিপাসায় কাতরাচ্ছিলেন। হঠাৎ বুকের ওপর কোনো বস্তুর শীতলতা অনুভব করলেন। তিনি হাত দিয়ে সেটি ধরে দেখতে পেলেন, সেটা একটি পানির বালতি। সেখান থেকে তিনি সামান্য পান করলেন। তারপর বালতিটি তাঁর কাছ থেকে টেনে উপরের দিকে নেওয়া হলো। বালতিটি আবার এল। তিনি বালতিটি পেয়ে আবার পান করলেন, তারপর বালতিটি তুলে নেওয়া হলো। আবার বালতিটি এল। তিনি আবারও বালতিটি ধরে পান করলেন। এভাবে কয়েকবার হলো। বর্ণিত আছে, এরপর তিনি সেই পানি দ্বারা গোসল করেছেন এবং কাপড় ধুয়েছেন।
যখন কাফিররা জাগ্রত হলো এবং তাঁর শরীরে পানির চিহ্ন দেখতে পেল এবং তাঁকে দেখতে পেল প্রফুল্ল ও সুন্দর আকৃতিতে। তারা বিস্মিত হলো, এভাবে বাঁধা অবস্থায় কীভাবে তিনি পানির কাছে গেলেন! কাফিররা তাঁকে জিজ্ঞেস করল, 'তুমি কি বাঁধন খুলে আমাদের পানীয় থেকে পান করেছ?'
উম্মে শারিক বললেন, 'আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের পানি থেকে পান করিনি; বরং আমার কাছে আকাশ থেকে একটি বালতি এসেছে। আমি সেখান থেকে পান করেছি।' বর্ণিত আছে, কাফিররা তখন একে অন্যের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল, যদি সে সত্যবাদী হয়, তাহলে অবশ্যই তার দ্বীন আমাদের দ্বীনের চেয়ে উত্তম। তখন কাফিররা তাদের পানপাত্রগুলো খুলে দেখল, সব আপন অবস্থায় রয়েছে। এটা দেখে উম্মে শারিকের সফরসাথি সকল কাফিরই ইসলাম গ্রহণ করল। তারা তাঁকে ছেড়ে দিলো এবং তাঁর সাথে উত্তম আচরণ করল।
তাদের ইসলাম গ্রহণের মূল কারণ হলো উম্মে শারিকের ধৈর্য, তাঁর অবিচলতা এবং ইমানের ওপর তাঁর দৃঢ়তা। উম্মে শারিক এমন অবস্থায় কিয়ামতের মাঠে উপস্থিত হবেন যে, তাঁর আমলনামায় বহু নর-নারীর ইসলাম গ্রহণের সাওয়াব লেখা থাকবে, যারা তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
হ্যাঁ, ইতিহাস উম্মে শারিকের পরিচয় এভাবেই দিয়েছে।
মক্কা মুকাররমায় যারা প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, উম্মে শারিক গাজিয়া আনসারি তাঁদের অন্যতম। তিনি যখন অনুধাবন করতে পারলেন, কাফিররা সংগঠিত হচ্ছে এবং মুসলিমরা দুর্বল। তখন কাফিরদের ইসলামের দাওয়াতের দিকে অনুপ্রাণিত করলেন। এতে তাঁর ইমান আরও মজবুত হলো। তাঁর কাছে প্রতিপালকের শান আরও বড় হয়ে পরিস্ফুটিত হলো। এরপর তিনি কুরাইশি নারীদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া আরম্ভ করলেন এবং প্রতিমাপূজা থেকে দূরে রাখতে সচেষ্ট হলেন। একপর্যায়ে তাঁর বিষয়টি মক্কার কাফিরদের সামনে প্রকাশিত হয়ে গেল। ফলে কাফিররা অনেক রেগে গেল।
কাফিররা উম্মে শারিককে বলল, 'যদি তোমার কওমের লোকেরা আমাদের মিত্র না হতো, তাহলে তোমার সাথে এমন এমন আচরণ করতাম, কিন্তু তোমাকে আমরা মক্কা থেকে বহিষ্কার করে তোমার কওমের কাছে পাঠাচ্ছি।' সুতরাং তারা উম্মে শারিককে শোকোজ করে একটি উটে উঠিয়ে দিলো। তাঁকে কষ্ট দেওয়ার জন্য হাওদার ব্যবস্থাও করল না এবং কোনো প্রকার কাপড়ও দিলো না। এরপর পানাহার ছাড়া সম্পূর্ণ অভুক্ত অবস্থায় লাগাতার তিন দিন তাঁকে সফর করালো। তৃষ্ণা ও ক্ষুধায় তাঁর জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে গিয়েছিল।
তারা উম্মে শারিককে প্রচণ্ড ঘৃণাভরে দেখত। যখন কোনো মনজিলে যাত্রাবিরতি করত, তাকে রোদে বেঁধে রাখত আর নিজেরা গাছের ছায়ায় বসত। একবার পথিমধ্যে যাত্রাবিরতি করল। তাঁকে উট থেকে নামালো এবং রোদের মাঝে বেঁধে রাখল। তখন তিনি তাদের কাছে পানি চাইলেন; কিন্তু তারা পানি দিলো না।
তিনি পিপাসায় কাতরাচ্ছিলেন। হঠাৎ বুকের ওপর কোনো বস্তুর শীতলতা অনুভব করলেন। তিনি হাত দিয়ে সেটি ধরে দেখতে পেলেন, সেটা একটি পানির বালতি। সেখান থেকে তিনি সামান্য পান করলেন। তারপর বালতিটি তাঁর কাছ থেকে টেনে উপরের দিকে নেওয়া হলো। বালতিটি আবার এল। তিনি বালতিটি পেয়ে আবার পান করলেন, তারপর বালতিটি তুলে নেওয়া হলো। আবার বালতিটি এল। তিনি আবারও বালতিটি ধরে পান করলেন। এভাবে কয়েকবার হলো। বর্ণিত আছে, এরপর তিনি সেই পানি দ্বারা গোসল করেছেন এবং কাপড় ধুয়েছেন।
যখন কাফিররা জাগ্রত হলো এবং তাঁর শরীরে পানির চিহ্ন দেখতে পেল এবং তাঁকে দেখতে পেল প্রফুল্ল ও সুন্দর আকৃতিতে। তারা বিস্মিত হলো, এভাবে বাঁধা অবস্থায় কীভাবে তিনি পানির কাছে গেলেন! কাফিররা তাঁকে জিজ্ঞেস করল, 'তুমি কি বাঁধন খুলে আমাদের পানীয় থেকে পান করেছ?'
উম্মে শারিক বললেন, 'আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের পানি থেকে পান করিনি; বরং আমার কাছে আকাশ থেকে একটি বালতি এসেছে। আমি সেখান থেকে পান করেছি।' বর্ণিত আছে, কাফিররা তখন একে অন্যের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল, যদি সে সত্যবাদী হয়, তাহলে অবশ্যই তার দ্বীন আমাদের দ্বীনের চেয়ে উত্তম। তখন কাফিররা তাদের পানপাত্রগুলো খুলে দেখল, সব আপন অবস্থায় রয়েছে। এটা দেখে উম্মে শারিকের সফরসাথি সকল কাফিরই ইসলাম গ্রহণ করল। তারা তাঁকে ছেড়ে দিলো এবং তাঁর সাথে উত্তম আচরণ করল। তাদের ইসলাম গ্রহণের মূল কারণ হলো উম্মে শারিকের ধৈর্য, তাঁর অবিচলতা এবং ইমানের ওপর তাঁর দৃঢ়তা। উম্মে শারিক এমন অবস্থায় কিয়ামতের মাঠে উপস্থিত হবেন যে, তাঁর আমলনামায় বহু নর-নারীর ইসলাম গ্রহণের সাওয়াব লেখা থাকবে, যারা তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
📄 কথা বলা বাঘ
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের শুরু-যুগের ঘটনা। এক-রাখাল মদিনার কোনো উপত্যকায় বকরি চরাত। একদিন একবাঘ বকরি পালের উপর হামলা করে বকরি নিয়ে পালাতে শুরু করে। রাখালও নাছোড়বান্দা, বাঘকে তাড়া করে তার কাছ থেকে বকরি ছিনিয়ে আনে। বাঘ আবার ফিরে এসে ওত পেতে থাকল এবং সুযোগ বুঝে আরেকটি বকরির উপর আক্রমণ করল। রাখাল এবারও তার বকরি ছুটিয়ে নিয়ে আসে। তারপর বাঘটি রাখালের দিকে তাকিয়ে বলল, 'তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? আমার কাছ থেকে আমার রিজিক ছিনিয়ে নাও, অথচ আল্লাহ তাআলাই তা আমাকে দিয়েছেন!'
রাখাল বলল, 'আশ্চর্য বাঘ! আমার বকরিপালের উপর আক্রমণ করে আবার আমার সাথে কথা বলছে!'
বাঘ বলল, 'আমি কি তোমাকে এর চেয়েও বিস্ময়কর কিছু বলব না?'
'এর চেয়েও বিস্ময়কর? কী সেটা?'
'হ্যাঁ, বলছি; দুই মরুভূমির মাঝে খেজুরবাগান-সমৃদ্ধ ভূমিতে একজন লোক আছে। সে তোমাকে অতীত এবং ভবিষ্যতের কথা বলে দেবে।' অর্থাৎ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তারপর বাঘ আপন পথে চলে গেল।
রাখাল তার বকরিগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে চলে এল। অতঃপর মদিনায় এসে বকরিরগুলো একটি গোয়ালে একত্র করল। তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঘটনার বিবরণ জানাল। নবিজি একসাহাবিকে নির্দেশ দিলে তিনি মানুষের মাঝে ঘোষণা করলেন, 'আসসালাতু জামিয়াতুন- (নামাজ আরম্ভ হচ্ছে)।'
লোকজন মসজিদে একত্র হলো। তারা জানে না, কেন নবিজি তাদের ডেকেছেন! নবিজি তাদের সামনে এলেন। তারা সকলেই নবিজির সামনে নীরব হয়ে বসে ছিলেন। গ্রাম্যরাখালও তাদের মাঝে বসে ছিল।
নবিজি রাখালকে বললেন, 'তুমি এদের ঘটনাটি বলো।' রাখাল কথা বলতে লাগল এবং বাঘের ঘটনাটিও বলল। রাখাল বিশেষ ভঙ্গিতে কথা বলছিল আর লোকজন মনোযোগসহ তার কথা শুনছিল। নবিজিও চুপচাপ শুনছিলেন। রাখাল যখন তার কথা শেষ করল, তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'সে সত্যই বলেছে।'
তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُكَلِّمَ السِّبَاعُ الْإِنْسَ ، وَحَتَّى تُكَلَّمَ الرَّجُلَ عَذَبَةُ سَوْطِهِ ، وَشِرَاكُ نَعْلِهِ، وَتُخْبِرَهُ فَخِذُهُ بِمَا أَحْدَثَ أَهْلُهُ مِنْ بَعْدِهِ
'আল্লাহর শপথ, ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ হিংস্র প্রাণী মানুষের সাথে কথা না বলবে, যতক্ষণ মানুষের সাথে তার তাজা চাবুক কথা না বলবে, যতক্ষণ তার জুতার ফিতা তার সাথে কথা না বলবে এবং যতক্ষণ তার উরু তাকে বলে না দেবে যে, তার অবর্তমানে তার পরিবারের মানুষ কী করেছে।
টিকাঃ
২০. তিরমিজি: ৮/৯৫।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের শুরু-যুগের ঘটনা। এক-রাখাল মদিনার কোনো উপত্যকায় বকরি চরাত। একদিন একবাঘ বকরি পালের উপর হামলা করে বকরি নিয়ে পালাতে শুরু করে। রাখালও নাছোড়বান্দা, বাঘকে তাড়া করে তার কাছ থেকে বকরি ছিনিয়ে আনে। বাঘ আবার ফিরে এসে ওত পেতে থাকল এবং সুযোগ বুঝে আরেকটি বকরির উপর আক্রমণ করল। রাখাল এবারও তার বকরি ছুটিয়ে নিয়ে আসে। তারপর বাঘটি রাখালের দিকে তাকিয়ে বলল, 'তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? আমার কাছ থেকে আমার রিজিক ছিনিয়ে নাও, অথচ আল্লাহ তাআলাই তা আমাকে দিয়েছেন!'
রাখাল বলল, 'আশ্চর্য বাঘ! আমার বকরিপালের উপর আক্রমণ করে আবার আমার সাথে কথা বলছে!'
বাঘ বলল, 'আমি কি তোমাকে এর চেয়েও বিস্ময়কর কিছু বলব না?'
'এর চেয়েও বিস্ময়কর? কী সেটা?'
'হ্যাঁ, বলছি; দুই মরুভূমির মাঝে খেজুরবাগান-সমৃদ্ধ ভূমিতে একজন লোক আছে। সে তোমাকে অতীত এবং ভবিষ্যতের কথা বলে দেবে।' অর্থাৎ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তারপর বাঘ আপন পথে চলে গেল।
রাখাল তার বকরিগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে চলে এল। অতঃপর মদিনায় এসে বকরিরগুলো একটি গোয়ালে একত্র করল। তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঘটনার বিবরণ জানাল। নবিজি একসাহাবিকে নির্দেশ দিলে তিনি মানুষের মাঝে ঘোষণা করলেন, 'আসসালাতু জামিয়াতুন- (নামাজ আরম্ভ হচ্ছে)।'
লোকজন মসজিদে একত্র হলো। তারা জানে না, কেন নবিজি তাদের ডেকেছেন! নবিজি তাদের সামনে এলেন। তারা সকলেই নবিজির সামনে নীরব হয়ে বসে ছিলেন। গ্রাম্যরাখালও তাদের মাঝে বসে ছিল। নবিজি রাখালকে বললেন, 'তুমি এদের ঘটনাটি বলো।' রাখাল কথা বলতে লাগল এবং বাঘের ঘটনাটিও বলল। রাখাল বিশেষ ভঙ্গিতে কথা বলছিল আর লোকজন মনোযোগসহ তার কথা শুনছিল। নবিজিও চুপচাপ শুনছিলেন। রাখাল যখন তার কথা শেষ করল, তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'সে সত্যই বলেছে।'
তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُكَلِّمَ السِّبَاعُ الْإِنْسَ ، وَحَتَّى تُكَلَّمَ الرَّجُلَ عَذَبَةُ سَوْطِهِ ، وَشِرَاكُ نَعْلِهِ، وَتُخْبِرَهُ فَخِذُهُ بِمَا أَحْدَثَ أَهْلُهُ مِنْ بَعْدِهِ 'আল্লাহর শপথ, ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ হিংস্র প্রাণী মানুষের সাথে কথা না বলবে, যতক্ষণ মানুষের সাথে তার তাজা চাবুক কথা না বলবে, যতক্ষণ তার জুতার ফিতা তার সাথে কথা না বলবে এবং যতক্ষণ তার উরু তাকে বলে না দেবে যে, তার অবর্তমানে তার পরিবারের মানুষ কী করেছে।
এটা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের প্রমাণগুলোর মধ্য থেকে একটি। অনেক সৃষ্টিই তাঁর নবুওয়াতের সাক্ষ্য প্রদান করেছে।
টিকাঃ
২০. তিরমিজি: ৮/৯৫।