📄 পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার
একজন আলেম। তিনি কাহমাস বিন আল-হাসান আল-হানাফি আল-বসরি। ইমাম জাহাবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সম্পর্কে বলেন, 'তিনি নির্ভরযোগ্য আলেমদের অন্যতম ছিলেন। মায়ের সাথে সদাচারী ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি হজ করেছেন এবং আমৃত্যু মক্কায় অবস্থান করেছেন।'
মায়ের সাথে সদাচরণের প্রতিফল হিসেবে তিনি কী পেয়েছেন? বর্ণিত আছে, তিনি একবার একটি বিচ্ছু মারতে চাইলে তা গর্তে ঢুকে পড়ে। তিনি বিচ্ছুটিকে মারার জন্য গর্তে হাত ঢুকিয়ে দেন। ফলে বিচ্ছুটি তাঁকে দংশন করে। তিনি কেন গর্তে হাত ঢুকিয়েছেন, এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে বললেন, 'আমি আশঙ্কা করছিলাম, বিচ্ছুটি বের হয়ে আমার মাকে দংশন করবে।' তিনি মায়ের পরিবর্তে নিজেকে বিচ্ছুর দংশন খাওয়ালেন!
পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ নিশ্চয় এমন সৎকাজ, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ হয়। যেমনটি গুহায় বন্দি হওয়া তিন ব্যক্তির ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে। ঘটনাটি সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত আছে। সেখানে বলা হয়েছে; তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, 'হে আল্লাহ, আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা ছিল। আমি প্রত্যেক রাতে তাদের জন্য আমার বকরির দুধ নিয়ে আসতাম। হঠাৎ একদিন বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে যায়। এসে দেখি আমার পিতা-মাতা ঘুমিয়ে পড়েছেন। এ দিকে আমার স্ত্রী ও সন্তান ক্ষুধায় ছটফট করছে। আমার পিতা-মাতাকে তৃপ্তিসহ খাওয়ানোর পূর্বে আমি তাদের খেতে দিইনি।
'তাদের কষ্ট হবে ভেবে ঘুম থেকে তাদের জাগাতেও অস্বস্তি হচ্ছিল। আবার তাদের জন্য রেখে দিয়ে আমরা খেয়ে নেব, এটাও ভালো লাগছিল না। এভাবে তাদের জন্য অপেক্ষা করতে করতে সকাল হয়ে গেল। যদি তুমি জানো যে, এই কাজটি আমি তোমার ভয়েই করেছি, তা হলে আমাদের জন্য গর্তের মুখ খুলে দাও।' তখন পাথর কিছুটা সরে গেল এবং তারা আকাশ দেখতে পেল।
পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ এমন নেককাজ, যার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর কাছে উঁচু মর্যাদার অধিকারী হতে পারে। শুধু তাই নয়; বরং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণকারী এমন মর্যাদায় উত্তীর্ণ হয়, সে যদি আল্লাহর নামে শপথ করে, তা হলে আল্লাহ তাআলা তাকে শপথ থেকে মুক্তি দেন। যেমন: ওয়াইস আল-কারনির ঘটনায় বর্ণিত আছে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ব্যাপারে বলেছেন, 'ইয়ামেনের অন্তর্গত মুরাদ-এর কারন এলাকার কাফেলার সাথে তোমাদের কাছে ওয়াইস বিন আমের আসবে। এক দিরহাম পরিমাণ জায়গা ব্যতিরেকে তার পুরো শরীরে ধবলরোগ থাকবে। তার মা আছেন। তাঁর সাথে সে সদাচরণ করে। যদি আল্লাহর নামে শপথ করে, আল্লাহ তাকে মুক্ত করবেন। যদি সম্ভব হয়, তা হলে তার মাধ্যমে তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইয়ে নিয়ো।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত কথাটি বলেছেন উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে। সহিহ মুসলিমে অন্য বর্ণনায় আছে, 'সর্বশ্রেষ্ঠ তাবেয়ি লোকটির নাম ওয়াইস। তার মা আছেন। তার শরীরে ধবলরোগ আছে। তোমরা তার নিকট যেয়ো এবং তার মাধ্যমে নিজেদের গোনাহ ক্ষমা চাইয়ে নিয়ো।'
নিশ্চয় মায়ের সাথে সদাচরণ একজন ব্যক্তিকে সুউচ্চ মর্যাদায় উত্তীর্ণ করে। ইমাম বুখারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, আনাসের ফুফু রুবাই বিনতে নজর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এলেন। তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর নবি, আমাকে হারেসাহ সম্পর্কে কিছু বলবেন কি? সে বদরে তিরের আঘাতে শহিদ হয়েছে। সে যদি জান্নাতে যায়, তা হলে ধৈর্যধারণ করব। যদি জাহান্নামে যায়, তা হলে তার জন্য খুব বেশি কাঁদব।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'হে উম্মে হারেসাহ, জান্নাতে অনেক বাগান রয়েছে। তোমার ছেলে হারেসাহ ফিরদাউসের সুউচ্চ মাকাম পেয়েছে।'
হারেসাহ বিন নু'মান রাদিয়াল্লাহু আনহু। তাঁকে হারেসাহ বিন সুরাকাও বলা হয়। ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি রহমাতুল্লাহি আলাইহি আল-ইসাবাহ গ্রন্থে দুজনের চরিত উল্লেখ করেছেন। তবে ফাতহুল বারি-তে তিনি একজনের কথাই প্রাধান্য দিয়েছেন, বলেছেন একব্যক্তির দুটি নাম। লোকটিকে পিতা-মাতার সাথে সদাচরণই জান্নাতে পৌঁছিয়েছে।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত আছে; রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'আমি জান্নাতে ঘোরাফেরা করছিলাম। হঠাৎ একজন তিলাওয়াতকারীর আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “কে সে?” ফেরেশতারা বললেন, “হারেসাহ বিন নু'মান।” রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'এভাবে তোমাদেরও পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করা উচিত।' তারপর বলেছেন, 'হারেসাহ বিন নু'মান তাঁর মায়ের সাথে সবচেয়ে বেশি সদাচরণকারী ছিল।'
হাদিসটি ইমাম আহমদ, ইমাম ইবনে হিব্বান, ইমাম হাকিম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, 'হাদিসটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তে বিশুদ্ধ। হাসান বসরিকে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'পিতা-মাতার সাথে সদাচরণটা কী?' তিনি বললেন, 'নিজের সম্পদ থেকে তাদের জন্য ব্যয় করা এবং আল্লাহর অবাধ্যতা না হলে তাদের প্রতিটি কথা মেনে চলা।'
পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করার এই ফজিলতগুলোর জন্য আমাদের পূর্বসূরি আল্লাহওয়ালাগণ পিতা-মাতার সাথে সদাচরণে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতার মৃত্যুর পর পিতার বন্ধুর পুত্রের সাথে সদাচরণ করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে বর্ণিত; আবদুল্লাহ ইবনে উমর মক্কার দিকে যাত্রা করলে গাধায় আরোহণ করে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতেন। মাথায় পাগড়ি বাঁধতেন। এভাবে একদিন তিনি গাধায় চড়ে রওয়ানা হলেন। হঠাৎ এক গ্রাম্যলোক তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি কি অমুকের ছেলে অমুক?' সে বলল, 'হ্যাঁ।' তখন ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে নিজের গাধাটি দিয়ে বললেন, 'এটাতে আরোহণ করো, মাথায় এই পাগড়িটা বাঁধো।'
একসাথি তাঁকে বলল, 'আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনি এই গ্রাম্যলোকটাকে নিজের আরোহণ করার গাধাটাও দিলেন এবং আপনার মাথার পাগড়িটাও দিয়ে দিলেন!' তিনি বললেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি-
ইননা মিন আবররিল বিররি সিলাতার রাজুলি আহলা উদ্দি আবিহি বা’দা আন ইউওয়াল্লিয়া ওয়া ইন্না আবাহু কানা সাদিকান লি-উমার। নিশ্চয় বড় নেককাজ হলো, পিতার মৃত্যুর পর পিতার ভালোবাসার মানুষের সাথে সম্পর্ক জুড়ে রাখা। আর এই লোকটির পিতা ছিল উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বন্ধু।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুও নিজের মায়ের সাথে সর্বাধিক সদাচারী ছিলেন। এসব কারণেই কবিগণ তাদের পিতা-মাতার জন্য বেশি কাঁদতেন, যাতে স্বীয় পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ এবং তাদের প্রতি ইহসান করা হয়। যারা তাদের পিতা-মাতার জন্য ব্যথিত হয়েছেন এবং কেঁদেছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগামী হলেন কবি উমর বাহাউদ্দিন আল-উমায়রি।
আল্লাহ তাআলা পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন; যদিও তারা মুশরিক হয়। কুরআন কারিমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
ওয়া ওয়াসসাউয়াইনাল ইনসানা বিওয়ালিদাইহি হুসনা ওয়া ইন জাহাদাকা লিতুশরিকাবি মা লাইসা লাকা বিহি ইলমুন ফালা তুতি’হুমা ইলাইয়া মারজিউকুম ফাউয়ুনাব্বিউকুম বিমা কুনতুম তা’মালুন। 'আমি মানুষকে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি। যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরিক করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালায়, যার সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য কোরো না। আমারই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর আমি তোমাদের বলে দেব, যা কিছু তোমরা করতে।' [সুরা আনকাবুত : ৮]
এই আয়াতের তাফসিরে ইমাম কুরতুবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, 'আয়াতটি সাআদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।' ইমাম তিরমিজি রহমাতুল্লাহি আলাইহি সাআদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে এভাবে উদ্ধৃত করেছেন; সাআদ বলেন, আমার ব্যাপারে চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর একটি ঘটনা বলেছেন, তা হলো, উম্মে সাআদ বললেন, 'আল্লাহ তাআলা কি মা-বাবার সঙ্গে সদাচারের নির্দেশ দেননি? আল্লাহর শপথ, আমি খানা খাব না, পানীয় পান করব না, এমনকি মারা যাব অথবা তুমি কাফির হয়ে যাবে।' সাআদ বলেন, 'যখনই পরিবারের সদস্যরা তাকে খানা খাওয়াতে চাইত, (কসমের দরুণ মুখ না খোলার কারণে) তার মুখ ফাঁক করে ধরত।'
সাআদ বলেছেন, আমি আমার মায়ের সাথে সদাচারী ছিলাম। অতঃপর আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম। মা বললেন, তুমি ইসলাম ত্যাগ না করলে আমি মরে যাব; তবুও কিছু খাব না ও পান করব না। তখন তোমাকে দোষী সাব্যস্ত করে তিরস্কার করা হবে এবং বলা হবে, 'হে মাকে হত্যাকারী!' এভাবেই দিন কাটতে লাগল। মা পানাহার করছিল না। আমি মাকে বললাম, 'মা, যদি তোমার শত প্রাণ থাকত আর একের পর এক সমস্ত প্রাণ বের হয়ে যেত; তবুও আমি ইসলাম ত্যাগ করতাম না। তুমি চাইলে খাও, না চাইলে না খাও!' মা আমার এমন প্রত্যয় দেখে খানা খেতে লাগল।'
সুতরাং, মনে রাখতে হবে, আল্লাহর অবাধ্যতা করে পিতা-মাতার আনুগত্য করা যাবে না। হাসান বসরি বলেন, যদি তার মা তাকে মমতাবশত এশার নামাজ জামাআতে পড়তে নিষেধ করত, তিনি মায়ের কথা মেনে নিতেন না।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন- ওয়া ওয়াসসাউয়াইনাল ইনসানা বিওয়ালিদাইহি হামালাতহু উম্মুহু ওয়াহনান আলা ওয়াহনিন ওয়া ফিসালুহু ফি আমাইনি আনিশ কুরলি ওয়া লিওয়ালিদাইকা ইলাইয়াল মাসির - ওয়া ইন জাহাদাকা আলা আন তুশরিকা বি মা লাইসা লাকা বিহি ইলমুন ফালা তুতি’হুমা ওয়া সাহিবহুমা ফিদদুনইয়া মা’রুফা। 'আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু-বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে। পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরিক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহাবস্থান করবে।' [সুরা লুকমান: ১৪-১৫]
অতএব, পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের বিষয়ে ভাবতে হবে; যদিও তারা মুশরিক হয়। তারা শিরকের প্রতি আহ্বান করলেও তাদের সাথে সদাচার করতে হবে। আসমা বিনতে আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় একদিন আমার মা আমার কাছে এলেন। তিনি ছিলেন মুশরিক। বিষয়টি নিয়ে আমি রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম-
ইন্না উম্মি কদিমাত ওয়া হিয়া রগিবাতু আ-ফা-আসিলুহা কলা না’য়াম সিলি উম্মাকা। 'আমার মা আমার কাছে আসেন এবং তিনি আশা করেন যে, আমি তার সাথে ভালো আচরণ করব। এমতাবস্থায় আমি কি তাঁর সাথে সদাচার করব?' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'হ্যাঁ, তোমার মায়ের সাথে সদাচার করো।
টিকাঃ
[৭] সহিহ মুসলিম: ১২/৩৭৩।
[৮] প্রাগুক্ত।
[৯] মুসলিম শরিফ: ১২/৪০১।
[১০] সহিহ বুখারি: ৩/৩১।
[১১] সহিহ বুখারি: ১১/২৬২।
একজন আলেম। তিনি কাহমাস বিন আল-হাসান আল-হানাফি আল-বসরি। ইমাম জাহাবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সম্পর্কে বলেন, 'তিনি নির্ভরযোগ্য আলেমদের অন্যতম ছিলেন। মায়ের সাথে সদাচারী ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি হজ করেছেন এবং আমৃত্যু মক্কায় অবস্থান করেছেন।'
মায়ের সাথে সদাচরণের প্রতিফল হিসেবে তিনি কী পেয়েছেন? বর্ণিত আছে, তিনি একবার একটি বিচ্ছু মারতে চাইলে তা গর্তে ঢুকে পড়ে। তিনি বিচ্ছুটিকে মারার জন্য গর্তে হাত ঢুকিয়ে দেন। ফলে বিচ্ছুটি তাঁকে দংশন করে। তিনি কেন গর্তে হাত ঢুকিয়েছেন, এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে বললেন, 'আমি আশঙ্কা করছিলাম, বিচ্ছুটি বের হয়ে আমার মাকে দংশন করবে।' তিনি মায়ের পরিবর্তে নিজেকে বিচ্ছুর দংশন খাওয়ালেন!
পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ নিশ্চয় এমন সৎকাজ, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ হয়। যেমনটি গুহায় বন্দি হওয়া তিন ব্যক্তির ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে। ঘটনাটি সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত আছে। সেখানে বলা হয়েছে; তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, 'হে আল্লাহ, আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা ছিল। আমি প্রত্যেক রাতে তাদের জন্য আমার বকরির দুধ নিয়ে আসতাম। হঠাৎ একদিন বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে যায়। এসে দেখি আমার পিতা-মাতা ঘুমিয়ে পড়েছেন। এ দিকে আমার স্ত্রী ও সন্তান ক্ষুধায় ছটফট করছে। আমার পিতা-মাতাকে তৃপ্তিসহ খাওয়ানোর পূর্বে আমি তাদের খেতে দিইনি। 'তাদের কষ্ট হবে ভেবে ঘুম থেকে তাদের জাগাতেও অস্বস্তি হচ্ছিল। আবার তাদের জন্য রেখে দিয়ে আমরা খেয়ে নেব, এটাও ভালো লাগছিল না। এভাবে তাদের জন্য অপেক্ষা করতে করতে সকাল হয়ে গেল। যদি তুমি জানো যে, এই কাজটি আমি তোমার ভয়েই করেছি, তা হলে আমাদের জন্য গর্তের মুখ খুলে দাও।' তখন পাথর কিছুটা সরে গেল এবং তারা আকাশ দেখতে পেল।
পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ এমন নেককাজ, যার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর কাছে উঁচু মর্যাদার অধিকারী হতে পারে। শুধু তাই নয়; বরং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণকারী এমন মর্যাদায় উত্তীর্ণ হয়, সে যদি আল্লাহর নামে শপথ করে, তা হলে আল্লাহ তাআলা তাকে শপথ থেকে মুক্তি দেন। যেমন: ওয়াইস আল-কারনির ঘটনায় বর্ণিত আছে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ব্যাপারে বলেছেন, 'ইয়ামেনের অন্তর্গত মুরাদ-এর কারন এলাকার কাফেলার সাথে তোমাদের কাছে ওয়াইস বিন আমের আসবে। এক দিরহাম পরিমাণ জায়গা ব্যতিরেকে তার পুরো শরীরে ধবলরোগ থাকবে। তার মা আছেন। তাঁর সাথে সে সদাচরণ করে। যদি আল্লাহর নামে শপথ করে, আল্লাহ তাকে মুক্ত করবেন। যদি সম্ভব হয়, তা হলে তার মাধ্যমে তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইয়ে নিয়ো।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত কথাটি বলেছেন উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে। সহিহ মুসলিমে অন্য বর্ণনায় আছে, 'সর্বশ্রেষ্ঠ তাবেয়ি লোকটির নাম ওয়াইস। তার মা আছেন। তার শরীরে ধবলরোগ আছে। তোমরা তার নিকট যেয়ো এবং তার মাধ্যমে নিজেদের গোনাহ ক্ষমা চাইয়ে নিয়ো।'
নিশ্চয় মায়ের সাথে সদাচরণ একজন ব্যক্তিকে সুউচ্চ মর্যাদায় উত্তীর্ণ করে। ইমাম বুখারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, আনাসের ফুফু রুবাই বিনতে নজর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এলেন। তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর নবি, আমাকে হারেসাহ সম্পর্কে কিছু বলবেন কি? সে বদরে তিরের আঘাতে শহিদ হয়েছে। সে যদি জান্নাতে যায়, তা হলে ধৈর্যধারণ করব। যদি জাহান্নামে যায়, তা হলে তার জন্য খুব বেশি কাঁদব।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'হে উম্মে হারেসাহ, জান্নাতে অনেক বাগান রয়েছে। তোমার ছেলে হারেসাহ ফিরদাউসের সুউচ্চ মাকাম পেয়েছে।'
হারেসাহ বিন নু'মান রাদিয়াল্লাহু আনহু। তাঁকে হারেসাহ বিন সুরাকাও বলা হয়। ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি রহমাতুল্লাহি আলাইহি আল-ইসাবাহ গ্রন্থে দুজনের চরিত উল্লেখ করেছেন। তবে ফাতহুল বারি-তে তিনি একজনের কথাই প্রাধান্য দিয়েছেন, বলেছেন একব্যক্তির দুটি নাম। লোকটিকে পিতা-মাতার সাথে সদাচরণই জান্নাতে পৌঁছিয়েছে।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত আছে; রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'আমি জান্নাতে ঘোরাফেরা করছিলাম। হঠাৎ একজন তিলাওয়াতকারীর আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “কে সে?” ফেরেশতারা বললেন, “হারেসাহ বিন নু'মান।” রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'এভাবে তোমাদেরও পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করা উচিত।' তারপর বলেছেন, 'হারেসাহ বিন নু'মান তাঁর মায়ের সাথে সবচেয়ে বেশি সদাচরণকারী ছিল।'
হাসান বসরিকে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'পিতা-মাতার সাথে সদাচরণটা কী?' তিনি বললেন, 'নিজের সম্পদ থেকে তাদের জন্য ব্যয় করা এবং আল্লাহর অবাধ্যতা না হলে তাদের প্রতিটি কথা মেনে চলা।'
পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করার এই ফজিলতগুলোর জন্য আমাদের পূর্বসূরি আল্লাহওয়ালাগণ পিতা-মাতার সাথে সদাচরণে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতার মৃত্যুর পর পিতার বন্ধুর পুত্রের সাথে সদাচরণ করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে বর্ণিত; আবদুল্লাহ ইবনে উমর মক্কার দিকে যাত্রা করলে গাধায় আরোহণ করে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতেন। মাথায় পাগড়ি বাঁধতেন। এভাবে একদিন তিনি গাধায় চড়ে রওয়ানা হলেন। হঠাৎ এক গ্রাম্যলোক তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি কি অমুকের ছেলে অমুক?' সে বলল, 'হ্যাঁ।' তখন ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে নিজের গাধাটি দিয়ে বললেন, 'এটাতে আরোহণ করো, মাথায় এই পাগড়িটা বাঁধো।'
একসাথি তাঁকে বলল, 'আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনি এই গ্রাম্যলোকটাকে নিজের আরোহণ করার গাধাটাও দিলেন এবং আপনার মাথার পাগড়িটাও দিয়ে দিলেন!' তিনি বললেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি- ‘নিশ্চয় বড় নেককাজ হলো, পিতার মৃত্যুর পর পিতার ভালোবাসার মানুষের সাথে সম্পর্ক জুড়ে রাখা। আর এই লোকটির পিতা ছিল উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বন্ধু।’
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুও নিজের মায়ের সাথে সর্বাধিক সদাচারী ছিলেন। এসব কারণেই কবিগণ তাদের পিতা-মাতার জন্য বেশি কাঁদতেন, যাতে স্বীয় পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ এবং তাদের প্রতি ইহসান করা হয়। যারা তাদের পিতা-মাতার জন্য ব্যথিত হয়েছেন এবং কেঁদেছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগামী হলেন কবি উমর বাহাউদ্দিন আল-উমায়রি।
আল্লাহ তাআলা পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন; যদিও তারা মুশরিক হয়। কুরআন কারিমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- ‘আমি মানুষকে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি। যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরিক করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালায়, যার সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য কোরো না। আমারই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর আমি তোমাদের বলে দেব, যা কিছু তোমরা করতে।’ [সুরা আনকাবুত : ৮]
এই আয়াতের তাফসিরে ইমাম কুরতুবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, 'আয়াতটি সাআদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।' ইমাম তিরমিজি রহমাতুল্লাহি আলাইহি সাআদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে এভাবে উদ্ধৃত করেছেন; সাআদ বলেন, আমার ব্যাপারে চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর একটি ঘটনা বলেছেন, তা হলো, উম্মে সাআদ বললেন, 'আল্লাহ তাআলা কি মা-বাবার সঙ্গে সদাচারের নির্দেশ দেননি? আল্লাহর শপথ, আমি খানা খাব না, পানীয় পান করব না, এমনকি মারা যাব অথবা তুমি কাফির হয়ে যাবে।' সাআদ বলেন, 'যখনই পরিবারের সদস্যরা তাকে খানা খাওয়াতে চাইত, (কসমের দরুণ মুখ না খোলার কারণে) তার মুখ ফাঁক করে ধরত।'
সাআদ বলেছেন, আমি আমার মায়ের সাথে সদাচারী ছিলাম। অতঃপর আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম। মা বললেন, তুমি ইসলাম ত্যাগ না করলে আমি মরে যাব; তবুও কিছু খাব না ও পান করব না। তখন তোমাকে দোষী সাব্যস্ত করে তিরস্কার করা হবে এবং বলা হবে, 'হে মাকে হত্যাকারী!' এভাবেই দিন কাটতে লাগল। মা পানাহার করছিল না। আমি মাকে বললাম, 'মা, যদি তোমার শত প্রাণ থাকত আর একের পর এক সমস্ত প্রাণ বের হয়ে যেত; তবুও আমি ইসলাম ত্যাগ করতাম না। তুমি চাইলে খাও, না চাইলে না খাও!' মা আমার এমন প্রত্যয় দেখে খানা খেতে লাগল।'
সুতরাং, মনে রাখতে হবে, আল্লাহর অবাধ্যতা করে পিতা-মাতার আনুগত্য করা যাবে না। হাসান বসরি বলেন, যদি তার মা তাকে মমতাবশত এশার নামাজ জামাআতে পড়তে নিষেধ করত, তিনি মায়ের কথা মেনে নিতেন না।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন- ‘আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু-বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে। পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরিক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহাবস্থান করবে।’ [সুরা লুকমান: ১৪-১৫]
অতএব, পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের বিষয়ে ভাবতে হবে; যদিও তারা মুশরিক হয়। তারা শিরকের প্রতি আহ্বান করলেও তাদের সাথে সদাচার করতে হবে। আসমা বিনতে আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় একদিন আমার মা আমার কাছে এলেন। তিনি ছিলেন মুশরিক। বিষয়টি নিয়ে আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম- ‘আমার মা আমার কাছে আসেন এবং তিনি আশা করেন যে, আমি তার সাথে ভালো আচরণ করব। এমতাবস্থায় আমি কি তাঁর সাথে সদাচার করব?’ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'হ্যাঁ, তোমার মায়ের সাথে সদাচার করো।
টিকাঃ
৭. সহিহ মুসলিম: ১২/৩৭৩।
৮. প্রাগুক্ত।
৯. মুসলিম শরিফ: ১২/৪০১।
১০. সহিহ বুখারি: ৩/৩১।
📄 জিন-সাপ
ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি হিশাম বিন জাহরার গোলাম আবুস সাইবের সূত্রে সহিহ মুসলিম-এ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন। আবুস-সাইব আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়ি গেলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁকে নামাজরত পেলাম। নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত তাঁর জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। হঠাৎ ঘরের কোণে খেজুরের দুটি শাখার মাঝে নড়াচড়ার শব্দ শুনলাম। সেদিকে তাকিয়েই দেখি সাপ। আমি সাপটি মারতে উদ্যত হলাম। আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে ইশারায় বসতে বললে আমি বসে পড়লাম। নামাজ শেষে আমাকে একটি ঘরের দিকে ইঙ্গিত করে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি ঘরটি দেখছ?' আমি বললাম, হ্যাঁ, সেখানে আমাদের নববিবাহিত একযুবক থাকত।'
আবু সায়িদ খুদরি এরপর বলেন, 'আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে খন্দকের দিকে গেলাম। যুবকটি দুপুরবেলা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পরিবারের কাছে যাওয়ার অনুমতি চাইল। এভাবে আরেকদিন সে অনুমতি চাইল। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “তুমি অস্ত্র সাথে নিয়ে যাও। কেননা, আমি তোমার উপর ইহুদি গোত্র কুরাইজার হামলার আশঙ্কা করছি।”
'যুবকটি অস্ত্রহাতে বাড়ির দিকে চলল। বাড়ি পৌঁছে দেখল, স্ত্রী দরজার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। যুবক কৌতুক করে তার দিকে তির তাক করল। বিষয়টি স্ত্রীর আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত করল। সে বলল, “তির রাখো, ঘরে গিয়ে দেখো, আমি কেন বের হয়েছি!” যুবক ঘরে গিয়ে দেখল, মাথা নিচুকৃত বিশালাকারের একটি সাপ বিছানায় শুয়ে আছে।
যুবক সাপটির দিকে তির তাক করে সেটিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিলো এবং ঘর থেকে বের হয়ে আঙিনায় সাপ নিয়ে খেলা করতে লাগল। হঠাৎ সাপটি যুবককে দংশন করল। জানা গেল না; কে আগে মারা গেল, সাপ নাকি যুবক।'
বর্ণনাকারী বলেন, আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে ঘটনাটির আলোচনা করলাম এবং আরজ করলাম, 'আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন যুবকটিকে জীবিত করে দেন।' রাসুল সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'তোমাদের সাথির জন্য ক্ষমা চাও।' তারপর বললেন, 'মদিনার অনেক জিন ইসলাম গ্রহণ করেছে। অতএব, যখন তোমরা সাপের মতো কিছু দেখবে, তিন বার সেটিকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেবে। এরপরও যদি বের না হয়, তা হলে সেটিকে হত্যা করবে। কেননা, সে শয়তান।'
ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি হিশাম বিন জাহরার গোলাম আবুস সাইবের সূত্রে সহিহ মুসলিম-এ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন। আবুস-সাইব আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়ি গেলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁকে নামাজরত পেলাম। নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত তাঁর জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। হঠাৎ ঘরের কোণে খেজুরের দুটি শাখার মাঝে নড়াচড়ার শব্দ শুনলাম। সেদিকে তাকিয়েই দেখি সাপ। আমি সাপটি মারতে উদ্যত হলাম। আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে ইশারায় বসতে বললে আমি বসে পড়লাম। নামাজ শেষে আমাকে একটি ঘরের দিকে ইঙ্গিত করে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি ঘরটি দেখছ?' আমি বললাম, হ্যাঁ, সেখানে আমাদের নববিবাহিত একযুবক থাকত।'
আবু সায়িদ খুদরি এরপর বলেন, 'আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে খন্দকের দিকে গেলাম। যুবকটি দুপুরবেলা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পরিবারের কাছে যাওয়ার অনুমতি চাইল। এভাবে আরেকদিন সে অনুমতি চাইল। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “তুমি অস্ত্র সাথে নিয়ে যাও। কেননা, আমি তোমার উপর ইহুদি গোত্র কুরাইজার হামলার আশঙ্কা করছি।”
'যুবকটি অস্ত্রহাতে বাড়ির দিকে চলল। বাড়ি পৌঁছে দেখল, স্ত্রী দরজার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। যুবক কৌতুক করে তার দিকে তির তাক করল। বিষয়টি স্ত্রীর আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত করল। সে বলল, “তির রাখো, ঘরে গিয়ে দেখো, আমি কেন বের হয়েছি!” যুবক ঘরে গিয়ে দেখল, মাথা নিচুকৃত বিশালাকারের একটি সাপ বিছানায় শুয়ে আছে। যুবক সাপটির দিকে তির তাক করে সেটিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিলো এবং ঘর থেকে বের হয়ে আঙিনায় সাপ নিয়ে খেলা করতে লাগল। হঠাৎ সাপটি যুবককে দংশন করল। জানা গেল না; কে আগে মারা গেল, সাপ নাকি যুবক।'
বর্ণনাকারী বলেন, আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে ঘটনাটির আলোচনা করলাম এবং আরজ করলাম, 'আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন যুবকটিকে জীবিত করে দেন।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'তোমাদের সাথির জন্য ক্ষমা চাও।' তারপর বললেন, 'মদিনার অনেক জিন ইসলাম গ্রহণ করেছে। অতএব, যখন তোমরা সাপের মতো কিছু দেখবে, তিন বার সেটিকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেবে। এরপরও যদি বের না হয়, তা হলে সেটিকে হত্যা করবে। কেননা, সে শয়তান।'
📄 বহুবিবাহের অশান্তি
সুখী-শান্ত একটি পরিবার। পিতা একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত। বস্তুগত উন্নতি আকাশচুম্বি। পার্থিব সুখ-শান্তি বলতে যা বোঝায়, যা প্রত্যাশা করা যেতে পারে, সবকিছুই তাদের পরিবারে আছে। তারা সকলেই একটি মাত্র গোশতের টুকরার মতো ছিল। একপর্যায়ে এমন করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়:
বড় ভাই হিসেবে মনে করে, বয়সে ছোট একবোন বলল, 'আমার বাবার আচরণ পরিবর্তন হয়ে গেছে, তার চলাফেরা পাল্টে গেছে, যেন তিনি কিছু একটার অপেক্ষা করছেন; কিন্তু আমরা জানি না, কী সেটা!
হঠাৎ আমার মায়ের বিকট চিৎকার। বাবা বলছেন, 'আমি আরেকটি বিয়ে করব! তোমার সমস্ত অহংকার, গোঁড়ামি এবং অন্যায় নিয়ন্ত্রণ করে নেব।'
আমার মা এমন অপ্রত্যাশিত অযাচিত ঢঙের সংবাদ শুনে অন্যান্য নারীর মতো হঠাৎ ভেঙে পড়লেন, যেন তা কোনো কঠিন শাস্তি! যদিও মা কোনো দোষ করেননি, তিনি তো শান্ত, স্থির এবং চমৎকার একজন গৃহিণী। বাবা-মার মাঝে টানাপোড়েন আরম্ভ হলো।
সিরিয়ার একটি সফরের মাধ্যমে বাবার ভয়ানক আচারণের ইতি ঘটে। তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে আরেকজন স্ত্রী নিয়ে এলেন এবং সাথে অনেক সমস্যাও নিয়ে এলেন। দ্বিতীয় স্ত্রী বয়সে ছোট ছিল আর বাবা ছিলেন তার তুলনায় বয়সে অনেক বড়।
আমি এটা গোপন করব না যে, বাবা রাতযাপনে সমতা রক্ষা করতেন। তিনি চরিত্রগতভাবে খুব ভালো ছিলেন, কিন্তু আনন্দের কারণে নতুন দিনগুলোতে তার অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেল।
বর্তমানে তিনি হিংস্র আচরণ করছেন! আমি তার দিকে তাকানোর মতো সাহস রাখি না। তাকে অনেক কথা শুনিয়েছি। আমি বলেছি, আপনি তো নিজের কাছে অল্পবয়স্ক কিশোর, কিন্তু বাস্তবতা কীভাবে অস্বীকার করবেন? আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলাম, তাঁকে ভবিষ্যতে এমন অন্যায় করতে বাধা দিলাম এবং তাঁর ভুল দেখিয়ে দিলাম। তারপর ফিরে গেলাম।
mayer মানসিক অবস্থা খুব খারাপ। আমিও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। এখন শুধু কাঁদি। মানুষের সামনে যেতে পারি না।
আমি একা। আমাকে সাহায্য করার জন্য একজন সাথি খুব জরুরি। যখন আমার প্রতিবেশী ছোটবোনটি সাথে থাকে, আমি কেবল তখন ইউনিভার্সিটিতে যেতে পারি এবং বক্তৃতা রেকর্ডিং করতে পারি। তারপরও ভয় লাগে। অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অবস্থাও খারাপ হচ্ছে। এখন কেবল আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই।
মেঝো ভাই ধুমপান শুরু করেছে। দিনকে দিন তার অবস্থা খারাপের দিকে যেতে শুরু করেছে। শাসন করেও ঘরে রাখা যায় না। তার পড়ালেখার অবস্থাও খারাপ, নিন্মগামী।
বাবা বাড়ি আসামাত্রই বাড়ি জাহান্নামে পরিণত হয়ে যায়। আমরা সকলেই যার-যার কামরায় ঢুকে পড়ি। কেবল মা বাবার কাছে গিয়ে বসেন। আমরা বাবাকে একদম দেখতেই পারি না। বাবাকে ঘৃণা করি আমরা।
এখানে আমি বলব, বহুবিবাহ আল্লাহর নেয়ামত। যার প্রয়োজন আল্লাহ তাকে তার ব্যবস্থা করে দিন। পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা তার অপব্যবহার করছি। এমনকি বলা শুরু হয়েছে যে, বহুবিবাহ অধঃপতনের দিকে নিয়ে যায়, এর পেছনে রয়েছে অনেক অপরাধ ও জুলুম-নির্যাতন।
এই প্রশ্নকর্তা নারীর অবস্থা তার মৌন অবস্থার চেয়ে বেশি খারাপ ছিল। কারণ, তার মা অধিকাংশ সময় তালাক নিয়ে ভাবত। ভাইয়েরা নামাজ পড়ত না, পড়ালেখা করত না, এভাবে তারা আরও অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে।
এটাই কি শরিয়তের বহুবিবাহের উদ্দেশ্য?
এখানে কে আছে, যে তাদের বিবাহের মূল্য জানে? তাদের পিতা? সে তো দ্বিতীয় বিয়ের পর তাদের ত্যাগ করেছে। তাদের ব্যয়ভার পর্যন্ত বহন করেনি।
স্বাভাবিকভাবেই আমি বোনটিকে কিছু বলে বিদায় দিই। তাকে উপকারী কিছু কথা বলেছি। ইনশাআল্লাহ এবার বিষয়টি একটু হলেও সহজ হয়ে আসবে।
অন্যায়ভাবে বহুবিবাহের সিদ্ধান্ত অনেক পরিবার ধ্বংস করেছে। পারিবারিক সম্পর্ক টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। পুরুষের কর্মপরিধি সুন্দর করে, এমন উপকারী বহুবিবাহের চেয়ে ক্ষতিকর বহুবিবাহই বেশি হচ্ছে! আল্লাহই সাহায্যকারী।
এটা একান্ত আমার মতামত। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী? এটা অতীতের সমস্ত ইনসাফপূর্ণ বহুবিবাহগুলোর ন্যায় কি আমাদের যুগের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, নাকি বাহ্যিকভাবে অন্যায় ও জুলুম-নির্যাতনকে উৎসাহিত করছে?
সুখী-শান্ত একটি পরিবার। পিতা একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত। বস্তুগত উন্নতি আকাশচুম্বি। পার্থিব সুখ-শান্তি বলতে যা বোঝায়, যা প্রত্যাশা করা যেতে পারে, সবকিছুই তাদের পরিবারে আছে। তারা সকলেই একটি মাত্র গোশতের টুকরার মতো ছিল। একপর্যায়ে এমন করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়:
বড় ভাই হিসেবে মনে করে, বয়সে ছোট একবোন বলল, 'আমার বাবার আচরণ পরিবর্তন হয়ে গেছে, তার চলাফেরা পাল্টে গেছে, যেন তিনি কিছু একটার অপেক্ষা করছেন; কিন্তু আমরা জানি না, কী সেটা!
হঠাৎ আমার মায়ের বিকট চিৎকার। বাবা বলছেন, 'আমি আরেকটি বিয়ে করব! তোমার সমস্ত অহংকার, গোঁড়ামি এবং অন্যায় নিয়ন্ত্রণ করে নেব।' আমার মা এমন অপ্রত্যাশিত অযাচিত ঢঙের সংবাদ শুনে অন্যান্য নারীর মতো হঠাৎ ভেঙে পড়লেন, যেন তা কোনো কঠিন শাস্তি! যদিও মা কোনো দোষ করেননি, তিনি তো শান্ত, স্থির এবং চমৎকার একজন গৃহিণী। বাবা-মার মাঝে টানাপোড়েন আরম্ভ হলো।
সিরিয়ার একটি সফরের মাধ্যমে বাবার ভয়ানক আচারণের ইতি ঘটে। তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে আরেকজন স্ত্রী নিয়ে এলেন এবং সাথে অনেক সমস্যাও নিয়ে এলেন। দ্বিতীয় স্ত্রী বয়সে ছোট ছিল আর বাবা ছিলেন তার তুলনায় বয়সে অনেক বড়। আমি এটা গোপন করব না যে, বাবা রাতযাপনে সমতা রক্ষা করতেন। তিনি চরিত্রগতভাবে খুব ভালো ছিলেন, কিন্তু আনন্দের কারণে নতুন দিনগুলোতে তার অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেল। বর্তমানে তিনি হিংস্র আচরণ করছেন! আমি তার দিকে তাকানোর মতো সাহস রাখি না। তাকে অনেক কথা শুনিয়েছি। আমি বলেছি, আপনি তো নিজের কাছে অল্পবয়স্ক কিশোর, কিন্তু বাস্তবতা কীভাবে অস্বীকার করবেন? আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলাম, তাঁকে ভবিষ্যতে এমন অন্যায় করতে বাধা দিলাম এবং তাঁর ভুল দেখিয়ে দিলাম। তারপর ফিরে গেলাম।
মায়ের মানসিক অবস্থা খুব খারাপ। আমিও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। এখন শুধু কাঁদি। মানুষের সামনে যেতে পারি না। আমি একা। আমাকে সাহায্য করার জন্য একজন সাথি খুব জরুরি। যখন আমার প্রতিবেশী ছোটবোনটি সাথে থাকে, আমি কেবল তখন ইউনিভার্সিটিতে যেতে পারি এবং বক্তৃতা রেকর্ডিং করতে পারি। তারপরও ভয় লাগে। অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অবস্থাও খারাপ হচ্ছে। এখন কেবল আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই।
মেঝো ভাই ধুমপান শুরু করেছে। দিনকে দিন তার অবস্থা খারাপের দিকে যেতে শুরু করেছে। শাসন করেও ঘরে রাখা যায় না। তার পড়ালেখার অবস্থাও খারাপ, নিন্মগামী। বাবা বাড়ি আসামাত্রই বাড়ি জাহান্নামে পরিণত হয়ে যায়। আমরা সকলেই যার-যার কামরায় ঢুকে পড়ি। কেবল মা বাবার কাছে গিয়ে বসেন। আমরা বাবাকে একদম দেখতেই পারি না। বাবাকে ঘৃণা করি আমরা।
এখানে আমি বলব, বহুবিবাহ আল্লাহর নেয়ামত। যার প্রয়োজন আল্লাহ তাকে তার ব্যবস্থা করে দিন। পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা তার অপব্যবহার করছি। এমনকি বলা শুরু হয়েছে যে, বহুবিবাহ অধঃপতনের দিকে নিয়ে যায়, এর পেছনে রয়েছে অনেক অপরাধ ও জুলুম-নির্যাতন।
এই প্রশ্নকর্তা নারীর অবস্থা তার মৌন অবস্থার চেয়ে বেশি খারাপ ছিল। কারণ, তার মা অধিকাংশ সময় তালাক নিয়ে ভাবত। ভাইয়েরা নামাজ পড়ত না, পড়ালেখা করত না, এভাবে তারা আরও অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এটাই কি শরিয়তের বহুবিবাহের উদ্দেশ্য? এখানে কে আছে, যে তাদের বিবাহের মূল্য জানে? তাদের পিতা? সে তো দ্বিতীয় বিয়ের পর তাদের ত্যাগ করেছে। তাদের ব্যয়ভার পর্যন্ত বহন করেনি।
স্বাভাবিকভাবেই আমি বোনটিকে কিছু বলে বিদায় দিই। তাকে উপকারী কিছু কথা বলেছি। ইনশাআল্লাহ এবার বিষয়টি একটু হলেও সহজ হয়ে আসবে। অন্যায়ভাবে বহুবিবাহের সিদ্ধান্ত অনেক পরিবার ধ্বংস করেছে। পারিবারিক সম্পর্ক টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। পুরুষের কর্মপরিধি সুন্দর করে, এমন উপকারী বহুবিবাহের চেয়ে ক্ষতিকর বহুবিবাহই বেশি হচ্ছে! আল্লাহই সাহায্যকারী।
এটা একান্ত আমার মতামত। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী? এটা অতীতের সমস্ত ইনসাফপূর্ণ বহুবিবাহগুলোর ন্যায় কি আমাদের যুগের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, নাকি বাহ্যিকভাবে অন্যায় ও জুলুম-নির্যাতনকে উৎসাহিত করছে?
📄 সুন্দর চরিত্র
একভাই বলেন, আমি একদিন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলাম। সেখানের ব্যবস্থাপনা, ডাক্তারের সুন্দর আচরণ এবং রোগীর প্রতি তার আন্তরিকতা গভীরভাবে খেয়াল করছিলাম। আমি মনে মনে ভাবলাম, হয়তো তা কোনো দাতব্যসংস্থার প্রতিষ্ঠান হবে। ফলে আমি তাদের কর্মপদ্ধতি বিষয়গুলো পড়লাম এবং শুনলাম।
পরবর্তী সময়ে ভাইটির কথায় আমার ঘোর কেটে গেল। জানালেন, ডাক্তার সাহেব আরবি এবং হাসপাতালটি একটি মুসলিম দেশে। ডাক্তার একজন খ্রিষ্টান। হতে পারে ডাক্তার সাহেব দাতব্যসংস্থার লোক এবং সেই সুবাদেই হাসিখুশি। ভাইটির কথা এখানেই শেষ।
তবে মনে রাখতে হবে, ইমান-আকিদার সাথে সুন্দর চরিত্রের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন- আদ্-দিনু কুল্লুহু খুলুক - ফামান জাদা আলাইকা ফিল খুলুকি জাদা আলাইকা ফিদ দিন। 'দ্বীন পুরোটাই চরিত্র। তোমার কাছে যার চরিত্র বেশি সুন্দর মনে হবে, সে দ্বীনদার হিসেবেও অগ্রণী হবে।'
সিলাতুল আখলাকি বিল-আকিদাতি ওয়াল ইমানি-নামক গ্রন্থের লেখক বলেছেন, 'খুব যত্নসহ মানুষের অবস্থা নিয়ে গবেষণাকারীগণ এই দিকটিতে অধিকাংশ মুসলিমকে গুরুত্বহীন এবং ভাবলেশহীন পেয়েছেন। তারা জানেই না যে, ইমান-আকিদা এবং সুন্দর আখলাকের মাঝে কত দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে।'
কখনো আপনি এমন কাউকে পাবেন, যে তাওহিদ বাস্তবায়ন করছে, ইমান নির্ভেজাল করছে, অথচ চারিত্রিক অনেক ব্যাপারে তাকে উদাসীন পাবেন বা তাকে এমন দোষে আক্রান্ত পাবেন, যা তার আবশ্যিক ইমানে বিঘ্নতা সৃষ্টি করে, অথবা তার ইমানকে পূর্ণতা দানকারী অনেক সুন্দর বিষয় থেকে বঞ্চিত করে, যেমন: অহংকার, হিংসা, কুধারণা, মিথ্যা, নির্লজ্জতা এবং দুনিয়াপ্রীতি ইত্যাদি বিষয়ে সে আক্রান্ত। উপরন্তু এই বিষয়গুলোর ক্ষতির ব্যাপারে তারা অজ্ঞ থাকে, অথবা জীবনের সার্বিক পরিমণ্ডলে ইসলামের ব্যাপকতা সম্পর্কেও উদাসীন থাকে।
আল্লাহ তাআলা কুরআন কারিমে বলেছেন- কুল ইন্না সালাতি ওয়া নুসুউকি ওয়া মাহইয়াইয়া ওয়া মামাতি লিল্লাাহি রব্বিল আলামিন লা শারিকা লাহু ওয়া বিদালিকা উমিরতু ওয়া আনা আউয়ালুল মুসলিমিন। আপনি বলুন, আমার নামাজ, আমার কুরবানি এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব-পালনকর্তা আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি তা-ই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি প্রথম আনুগত্যশীল। [সুরা আনআম : ১৬২-৬৩]
রিসালাতের বাহক নবিজি সাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাওহিদ বাস্তবায়ন করেছেন। কেবল শিরকে আকবার পরিত্যাগ করাই পরিপূর্ণ ইমান নয়; বরং ইমান-আকিদার পরিপন্থী এবং ইমান-আকিদায় বিঘ্নতা সৃষ্টি করে, এমন প্রতিটি কাজই শিরকের পর্যায়ভুক্ত।
মনে রাখতে হবে, আকিদা বারবার মুখে আওড়ানোর মতো বা লিখে হেফাজত করার মতো জিনিস নয়; বরং আমাদের বাস্তব কর্মজীবনে তার প্রয়োগ ঘটাতে হবে, মানুষের মাঝে তার ব্যবহার দেখাতে হবে।
একভাই বলেন, আমি একদিন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলাম। সেখানের ব্যবস্থাপনা, ডাক্তারের সুন্দর আচরণ এবং রোগীর প্রতি তার আন্তরিকতা গভীরভাবে খেয়াল করছিলাম। আমি মনে মনে ভাবলাম, হয়তো তা কোনো দাতব্যসংস্থার প্রতিষ্ঠান হবে। ফলে আমি তাদের কর্মপদ্ধতি বিষয়গুলো পড়লাম এবং শুনলাম।
পরবর্তী সময়ে ভাইটির কথায় আমার ঘোর কেটে গেল। জানালেন, ডাক্তার সাহেব আরবি এবং হাসপাতালটি একটি মুসলিম দেশে। ডাক্তার একজন খ্রিষ্টান। হতে পারে ডাক্তার সাহেব দাতব্যসংস্থার লোক এবং সেই সুবাদেই হাসিখুশি। ভাইটির কথা এখানেই শেষ।
তবে মনে রাখতে হবে, ইমান-আকিদার সাথে সুন্দর চরিত্রের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন- الدِّينُ كُلُّهُ خُلُقُ - فَمَنْ زَادَ عَلَيْكَ فِي الْخُلُقِ زَادَ عَلَيْكَ فِي الدِّينِ. 'দ্বীন পুরোটাই চরিত্র। তোমার কাছে যার চরিত্র বেশি সুন্দর মনে হবে, সে দ্বীনদার হিসেবেও অগ্রণী হবে।'
সিলাতুল আখলাকি বিল-আকিদাতি ওয়াল ইমানি-নামক গ্রন্থের লেখক বলেছেন, 'খুব যত্নসহ মানুষের অবস্থা নিয়ে গবেষণাকারীগণ এই দিকটিতে অধিকাংশ মুসলিমকে গুরুত্বহীন এবং ভাবলেশহীন পেয়েছেন। তারা জানেই না যে, ইমান-আকিদা এবং সুন্দর আখলাকের মাঝে কত দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে।'
কখনো আপনি এমন কাউকে পাবেন, যে তাওহিদ বাস্তবায়ন করছে, ইমান নির্ভেজাল করছে, অথচ চারিত্রিক অনেক ব্যাপারে তাকে উদাসীন পাবেন বা তাকে এমন দোষে আক্রান্ত পাবেন, যা তার আবশ্যিক ইমানে বিঘ্নতা সৃষ্টি করে, অথবা তার ইমানকে পূর্ণতা দানকারী অনেক সুন্দর বিষয় থেকে বঞ্চিত করে, যেমন: অহংকার, হিংসা, কুধারণা, মিথ্যা, নির্লজ্জতা এবং দুনিয়াপ্রীতি ইত্যাদি বিষয়ে সে আক্রান্ত। উপরন্তু এই বিষয়গুলোর ক্ষতির ব্যাপারে তারা অজ্ঞ থাকে, অথবা জীবনের সার্বিক পরিমণ্ডলে ইসলামের ব্যাপকতা সম্পর্কেও উদাসীন থাকে।
আল্লাহ তাআলা কুরআন কারিমে বলেছেন- قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ.
আপনি বলুন, আমার নামাজ, আমার কুরবানি এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব-পালনকর্তা আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি তা-ই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি প্রথম আনুগত্যশীল। [সুরা আনআম : ১৬২-৬৩]
রিসালাতের বাহক নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাওহিদ বাস্তবায়ন করেছেন। কেবল শিরকে আকবার পরিত্যাগ করাই পরিপূর্ণ ইমান নয়; বরং ইমান-আকিদার পরিপন্থী এবং ইমান-আকিদায় বিঘ্নতা সৃষ্টি করে, এমন প্রতিটি কাজই শিরকের পর্যায়ভুক্ত।
মনে রাখতে হবে, আকিদা বারবার মুখে আওড়ানোর মতো বা লিখে হেফাজত করার মতো জিনিস নয়; বরং আমাদের বাস্তব কর্মজীবনে তার প্রয়োগ ঘটাতে হবে, মানুষের মাঝে তার ব্যবহার দেখাতে হবে।