📄 বনু নাজিরের গাদ্দারি
মদিনায় তিনটি ইহুদি গোত্র ছিল—বনু কুরাইজাহ, বনু নাজির ও বনু কাইনুকা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাদের মাঝে চুক্তি হয়েছিল, 'দিয়্যতসহ (রক্তপণসহ) বিভিন্ন বিষয়ে পরস্পরকে সাহায্য করবে।'
উক্ত চুক্তির কারণে একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকজন সাহাবিকে নিয়ে ইহুদিগোত্র বনু নাজিরের নিকট গেলেন। তাদের নিকট গিয়েছেন বনু আমের গোত্রের দুজন নিহত ব্যক্তির রক্তপণ আদায়ে সাহায্য চাওয়ার জন্য। রাসুলের সাহাবি আমর বিন উমাইয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু দুজন ব্যক্তিকে ভুলবশত হত্যা করেছিলেন।
এ দিকে নিহত দুই ব্যক্তির গোত্র এবং মুসলমানদের মাঝে মৈত্রিচুক্তি ছিল। তাই এই রক্তপণের বিকল্প কোনো পথও ছিল না। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনু নাজিরের নিকট রক্তপণ আদায়ে সহযোগিতার প্রস্তাব পেশ করলে ইহুদিরা বলল, 'হে আবুল কাসিম, অবশ্যই আপনাকে আমরা সাহায্য করব।'
কিন্তু ইহুদিরা ছিল স্বভাবতই গাদ্দার। তারা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একটি দেয়ালের ছায়ায় বসিয়ে কোথাও চলে গেল। মনে হচ্ছিল, তারা সাহায্যের অর্থ সংগ্রহ করতে কোথাও গিয়েছে। কিন্তু না, তারা দূরে গিয়ে গোপন ফন্দি আঁটল, 'তোমরা মুহাম্মদকে হত্যা করার জন্য এমন সুন্দর অবস্থায় আর কখনো পাবে না; কে আছ, যে দেয়ালে উঠে সেখান থেকে তার উপর পাথর ছুড়ে ফেলবে এবং তার থেকে আমাদের মুক্তি দেবে?'
এই জঘন্য কাজের জন্য আমর বিন জাহহাশ নামের একব্যক্তি নিজেকে উপস্থাপন করে বলল, 'আমি প্রস্তুত।' সে পাথর নিক্ষেপ করে নবিজিকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেয়ালের উপর উঠল। এ দিকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের নিয়ে দেয়ালের ছায়ায় বসে আছেন।
এরই মধ্যে আসমানি সংবাদ চলে এল। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বন্ধুকে বনু নাজিরের ইহুদিদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানিয়ে দিলেন। ফলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব দ্রুত সেখান থেকে উঠে মদিনার দিকে ফিরে যান। সাহাবিগণ ইহুদিদের অপেক্ষায় সেখানেই বসে রইলেন। তাঁরা ভাবলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রয়োজন সারতে গেছেন, হয়ত এখনই ফিরে আসবেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আসতে অনেক বিলম্ব দেখে সাহাবিগণ নবিজিকে খুঁজতে লাগলেন। তখন মদিনা থেকে আগত একলোকের সাথে তাঁদের সাক্ষাৎ হলো। সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি কি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছ?' লোকটি বলল, 'আমি তাঁকে মদিনায় প্রবেশ করতে দেখেছি।'
এভাবে নবিজির ফিরে যাওয়ায় সাহাবিগণ খুব বিস্মিত হলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে জিজ্ঞাসা করলেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, এভাবে হঠাৎ ফিরে আসার কারণ কী ছিল?' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐশী সংবাদ, ইহুদিদের গাদ্দারি ও ষড়যন্ত্রের কথা সাহাবিদের বিস্তারিত বললেন।
পরবর্তী সময়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও বনু নাজিরের মাঝে যেসব যুদ্ধ হওয়ার তা হয়েছে। একপর্যায়ে তাদের অবরোধ করা হয় এবং মদিনা থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মদিনায় তিনটি ইহুদি গোত্র ছিল—বনু কুরাইজাহ, বনু নাজির ও বনু কাইনুকা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাদের মাঝে চুক্তি হয়েছিল, 'দিয়্যতসহ (রক্তপণসহ) বিভিন্ন বিষয়ে পরস্পরকে সাহায্য করবে।'
উক্ত চুক্তির কারণে একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকজন সাহাবিকে নিয়ে ইহুদিগোত্র বনু নাজিরের নিকট গেলেন। তাদের নিকট গিয়েছেন বনু আমের গোত্রের দুজন নিহত ব্যক্তির রক্তপণ আদায়ে সাহায্য চাওয়ার জন্য। রাসুলের সাহাবি আমর বিন উমাইয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু দুজন ব্যক্তিকে ভুলবশত হত্যা করেছিলেন।
এ দিকে নিহত দুই ব্যক্তির গোত্র এবং মুসলমানদের মাঝে মৈত্রীচুক্তি ছিল। তাই এই রক্তপণের বিকল্প কোনো পথও ছিল না। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনু নাজিরের নিকট রক্তপণ আদায়ে সহযোগিতার প্রস্তাব পেশ করলে ইহুদিরা বলল, 'হে আবুল কাসিম, অবশ্যই আপনাকে আমরা সাহায্য করব।'
কিন্তু ইহুদিরা ছিল স্বভাবতই গাদ্দার। তারা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একটি দেয়ালের ছায়ায় বসিয়ে কোথাও চলে গেল। মনে হচ্ছিল, তারা সাহায্যের অর্থ সংগ্রহ করতে কোথাও গিয়েছে। কিন্তু না, তারা দূরে গিয়ে গোপন ফন্দি আঁটল, 'তোমরা মুহাম্মদকে হত্যা করার জন্য এমন সুন্দর অবস্থায় আর কখনো পাবে না; কে আছ, যে দেয়ালে উঠে সেখান থেকে তার উপর পাথর ছুড়ে ফেলবে এবং তার থেকে আমাদের মুক্তি দেবে?'
এই জঘন্য কাজের জন্য আমর বিন জাহহাশ নামের একব্যক্তি নিজেকে উপস্থাপন করে বলল, 'আমি প্রস্তুত।' সে পাথর নিক্ষেপ করে নবিজিকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেয়ালের উপর উঠল। এ দিকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের নিয়ে দেয়ালের ছায়ায় বসে আছেন।
এরই মধ্যে আসমানি সংবাদ চলে এল। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বন্ধুকে বনু নাজিরের ইহুদিদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানিয়ে দিলেন। ফলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব দ্রুত সেখান থেকে উঠে মদিনার দিকে ফিরে যান। সাহাবিগণ ইহুদিদের অপেক্ষায় সেখানেই বসে রইলেন। তাঁরা ভাবলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রয়োজন সারতে গেছেন, হয়ত এখনই ফিরে আসবেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আসতে অনেক বিলম্ব দেখে সাহাবিগণ নবিজিকে খুঁজতে লাগলেন। তখন মদিনা থেকে আগত একলোকের সাথে তাঁদের সাক্ষাৎ হলো। সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি কি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছ?' লোকটি বলল, 'আমি তাঁকে মদিনায় প্রবেশ করতে দেখেছি।'
এভাবে নবিজির ফিরে যাওয়ায় সাহাবিগণ খুব বিস্মিত হলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে জিজ্ঞাসা করলেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, এভাবে হঠাৎ ফিরে আসার কারণ কী ছিল?' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐশী সংবাদ, ইহুদিদের গাদ্দারি ও ষড়যন্ত্রের কথা সাহাবিদের বিস্তারিত বললেন।
পরবর্তী সময়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও বনু নাজিরের মাঝে যেসব যুদ্ধ হওয়ার তা হয়েছে। একপর্যায়ে তাদের অবরোধ করা হয় এবং মদিনা থেকে বহিষ্কার করা হয়।
📄 আবু হুরায়রার মা
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় সাহাবি। তাঁর মা ছিলেন প্রতিমা পূজারি। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সর্বদা তাঁর মাকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহ্বান করতেন আর তাঁর মা অস্বীকৃতি জানাতেন।
একদিন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর মাকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহ্বান করলেন। মা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলেন না; বরং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে এমন কিছু কথা শুনালেন, যা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে খুব অপ্রিয় ছিল।
মায়ের মুখে নবিজির ব্যাপারে অপ্রীতিকর কথা শুনে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কান্না শুরু করলেন। কাঁদতে কাঁদতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি আমার মাকে প্রতিনিয়ত ইসলামের প্রতি আহ্বান করতাম আর তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানাতেন। আজও যখন তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলাম, তখন তিনি আপনার ব্যাপারে খুব বাজে কথা বলেছেন, এর জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে। আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আমার মাকে হেদায়াত দান করেন।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআ করলেন- اللَّهُمَّ اهْدِ أُمَّ أَبِي هُرَيْرَةً। হে আল্লাহ, আবু হুরায়রার মাকে হেদায়াত দাও।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুআর সুসংবাদ নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। বাড়ি পৌঁছে ঘরে ঢুকার জন্য দরজায় নক করলে তাঁর মা বললেন, 'আবু হুরায়রা, একটু অপেক্ষা করো।' বাহির থেকে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু পানির কলকলে আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, তাঁর মা গোসল করছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু দরজার বাইরে অপেক্ষা করতে লাগলেন।
তাঁর মা গোসল সেরে কাপড় পরিধান করে দরজা খুলে দিয়ে বললেন, 'হে আবু হুরায়রা, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।'
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং খুশিতে কেঁদে ফেললেন। সাথে সাথে এই সুসংবাদ নিয়ে নবিজির নিকট গিয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, সুসংবাদ গ্রহণ করুন, আল্লাহ আপনার দুআ কবুল করেছেন এবং আমার মাকে হেদায়াত দান করেছেন।'
এই সংবাদে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও খুশি হলেন। তিনি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন। তারপর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন। আবু হুরায়রা আরও বেশি কল্যাণের প্রতি আগ্রহী হলেন। তাই তিনি বললেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে এবং আমার মাকে মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয় বানিয়ে দেন এবং আমাদের নিকট তাদের প্রিয় বানিয়ে দেন।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআ করলেন- اللَّهُمَّ حَبَّبْ عُبَيْدَكَ هَذَا يَعْنِي أَبَا هُرَيْرَةَ وَأُمَّهُ إِلَى عِبَادِكَ الْمُؤْمِنِينَ وَحَبِّبْ إِلَيْهِمُ الْمُؤْمِنِينَ। হে আল্লাহ, তোমার এই বান্দা (আবু হুরায়রা) এবং তার মাকে মুমিনদের কাছে প্রিয় বানিয়ে দাও এবং তাদের কাছে মুমিনদের প্রিয় বানিয়ে দাও।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'এরপর থেকে এমন কোনো মুমিন ছিল না, যে আমার কথা শুনেছে বা আমাকে দেখেছে অথচ আমাকে ভালোবাসেনি।'
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় সাহাবি। তাঁর মা ছিলেন প্রতিমা পূজারি। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সর্বদা তাঁর মাকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহ্বান করতেন আর তাঁর মা অস্বীকৃতি জানাতেন।
একদিন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর মাকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহ্বান করলেন। মা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলেন না; বরং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে এমন কিছু কথা শুনালেন, যা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে খুব অপ্রিয় ছিল।
মায়ের মুখে নবিজির ব্যাপারে অপ্রীতিকর কথা শুনে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কান্না শুরু করলেন। কাঁদতে কাঁদতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি আমার মাকে প্রতিনিয়ত ইসলামের প্রতি আহ্বান করতাম আর তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানাতেন। আজও যখন তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলাম, তখন তিনি আপনার ব্যাপারে খুব বাজে কথা বলেছেন, এর জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে। আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আমার মাকে হেদায়াত দান করেন।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআ করলেন- اللَّهُمَّ اهْدِ أُمَّ أَبِي هُرَيْرَةً. হে আল্লাহ, আবু হুরায়রার মাকে হেদায়াত দাও।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুআর সুসংবাদ নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। বাড়ি পৌঁছে ঘরে ঢুকার জন্য দরজায় নক করলে তাঁর মা বললেন, 'আবু হুরায়রা, একটু অপেক্ষা করো।' বাহির থেকে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু পানির কলকলে আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, তাঁর মা গোসল করছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু দরজার বাইরে অপেক্ষা করতে লাগলেন।
তাঁর মা গোসল সেরে কাপড় পরিধান করে দরজা খুলে দিয়ে বললেন, 'হে আবু হুরায়রা, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।'
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং খুশিতে কেঁদে ফেললেন। সাথে সাথে এই সুসংবাদ নিয়ে নবিজির নিকট গিয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, সুসংবাদ গ্রহণ করুন, আল্লাহ আপনার দুআ কবুল করেছেন এবং আমার মাকে হেদায়াত দান করেছেন।'
এই সংবাদে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও খুশি হলেন। তিনি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন। তারপর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন। আবু হুরায়রা আরও বেশি কল্যাণের প্রতি আগ্রহী হলেন। তাই তিনি বললেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে এবং আমার মাকে মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয় বানিয়ে দেন এবং আমাদের নিকট তাদের প্রিয় বানিয়ে দেন।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআ করলেন- اللَّهُمَّ حَبَّبْ عُবিَدَكَ هَذَا يَعْنِي أَبَا هُرَيْرَةَ وَأُمَّهُ إِلَى عِبَادِكَ الْمُؤْمِنِينَ وَحَبِّبْ إِلَيْهِمُ الْمُؤْمِنِينَ. হে আল্লাহ, তোমার এই বান্দা (আবু হুরায়রা) এবং তার মাকে মুমিনদের কাছে প্রিয় বানিয়ে দাও এবং তাদের কাছে মুমিনদের প্রিয় বানিয়ে দাও।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'এরপর থেকে এমন কোনো মুমিন ছিল না, যে আমার কথা শুনেছে বা আমাকে দেখেছে অথচ আমাকে ভালোবাসেনি।'
📄 আবু তালহা এবং তাঁর স্ত্রী
উম্মে সালামা আবু তালহাকে বিয়ে করেন। আল্লাহ তাদের একজন পুত্রসন্তান দান করেন। তার নাম ছিল আবু উমাইর। আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু পুত্রকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও আবু উমাইরকে ভালোবাসতেন।
একদিনের ঘটনা। শিশুরা খেলা করছিল। তাদের সাথে আবু উমাইরও ছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। হঠাৎ নবিজি আবু উমাইরকে দেখলেন। তিনি দেখলেন, আবু উমাইর তার সঙ্গে থাকা একটি পাখি নিয়ে খেলছে। পাখিটির নাম ছিল নুগাইর। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাথে কৌতুক করে বললেন- يَا أَبَا عُمَيْر مَا فَعَلَ النُّغَيْرِ। হে আবু উমাইর, কী করছে নুগাইর?
কিছুদিন পরের ঘটনা। আবু উমাইর খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত বিচলিত হয়ে যান। অসুখ একসময় তীব্র আকার ধারণ করে। এ দিকে আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো প্রয়োজনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গিয়েছেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় ছিলেন। একপর্যায়ে আবু উমাইরের অসুস্থতা আরও বৃদ্ধি পায় এবং তার মায়ের সামনেই সে মারা যায়।
পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি করছিল। উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাদের বললেন, 'আমি কথা বলার আগে আবু উমাইর সম্পর্কে আবু তালহার সাথে কেউ কিছু বলবেন না।' উম্মে সালামা মৃত সন্তানকে ঘরের এককোণে ঢেকে রাখলেন এবং স্বামীর জন্য খাবার তৈরি করলেন।
আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'বাবুর কী অবস্থা? কেমন আছে ও?' স্ত্রী জবাব দিলেন, 'তার শ্বাস-প্রশ্বাস শান্ত। আশা করছি, আরামেই আছে।'
আবু তালহা ছেলেকে দেখার জন্য তার দিকে যেতে চাইলেন। স্ত্রী নিষেধ করলেন এবং বললেন, 'বাবু চুপ করে আছে, তাই নড়াবেন না।' উম্মে সালামা তাঁর সামনে রাতের খাবার পরিবেশন করলেন। আবু তালহা আহারপর্ব শেষ করে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হলেন। স্বামী-স্ত্রী যা করে তারা তাই করলেন।
উম্মে সালামা যখন বুঝতে পারলেন, স্বামী পরিতৃপ্ত ও প্রশান্ত হয়েছেন, তখন বললেন, 'হে আবু তালহা, কেউ যদি কিছু সময়ের জন্য কাউকে কোনো জিনিস ব্যবহার করতে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে তা ফেরত চায়, তাহলে ওই ব্যক্তির কি উচিত নয়, মূল মালিককে তা ফিরিয়ে দেওয়া?'
আবু তালহা বললেন, 'অবশ্যই মূল মালিককে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।' স্ত্রী বললেন, 'আপনি আমাদের প্রতিবেশীর ব্যাপারে আশ্চর্য হবেন!' আবু তালহা বললেন, 'কী হয়েছে তাদের?'
স্ত্রী বললেন, 'কেউ তাদের কোনো বস্তু ব্যবহার করার জন্য দিয়েছিল। জিনিসটি অনেক দিন তাদের কাছে ছিল। এখন তারা মনে করছে যে, জিনিসটির মালিক তারাই। মূল মালিক জিনিসটি ফেরত চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকার করছে।'
আবু তালহা বললেন, 'তাদের আচরণ কতই-না নিকৃষ্ট!'
এরপর উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা মৃত সন্তানকে বের করে আনলেন এবং আবু তালহার সামনে রেখে বললেন, 'এই আপনার পুত্রসন্তান, আল্লাহর পক্ষ থেকে কিছু সময়ের জন্য আপনাকে দেওয়া হয়েছিল। কিছুক্ষণ পূর্বে তিনি তাঁর জিনিসটি নিয়ে গেছেন। সুতরাং আপনার ছেলে আল্লাহর কাছে (জীবনের বরাদ্দ সময়টুকু বুঝে নিয়ে) পৌঁছে গেছে।'
এ কথা শুনে আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু আঁতকে উঠলেন। বললেন, 'আল্লাহর কসম, এই রাতের ধৈর্যে তুমি আমার চেয়ে মর্যাদাবান হয়েছ।' তারপর তিনি উঠে গিয়ে সন্তানকে গোসল করিয়ে কাফন-দাফন সম্পন্ন করলেন। সকালবেলা বিষয়টি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানালে তিনি তাদের উভয়ের জন্য বরকতের দুআ করেন। সে রাতের মিলনে আল্লাহ তাআলা তাদের এমন বরকত দান করেন যে, উম্মে সালামার গর্ভে আবু তালহার আরেকজন পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নাম রাখলেন 'আবদুল্লাহ'। এই আবদুল্লাহর ঔরসে নয় জন সন্তান জন্মগ্রহণ করেন, তাদের প্রত্যেকেই কুরআন কারিমের হাফিজ হয়েছিলেন।
উম্মে সালামা আবু তালহাকে বিয়ে করেন। আল্লাহ তাদের একজন পুত্রসন্তান দান করেন। তার নাম ছিল আবু উমাইর। আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু পুত্রকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও আবু উমাইরকে ভালোবাসতেন।
একদিনের ঘটনা। শিশুরা খেলা করছিল। তাদের সাথে আবু উমাইরও ছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। হঠাৎ নবিজি আবু উমাইরকে দেখলেন। তিনি দেখলেন, আবু উমাইর তার সঙ্গে থাকা একটি পাখি নিয়ে খেলছে। পাখিটির নাম ছিল নুগাইর। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাথে কৌতুক করে বললেন- يَا أَبَا عُمَيْر مَا فَعَلَ النُّغَيْرِ. হে আবু উমাইর, কী করছে নুগাইর?
কিছুদিন পরের ঘটনা। আবু উমাইর খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত বিচলিত হয়ে যান। অসুখ একসময় তীব্র আকার ধারণ করে। এ দিকে আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো প্রয়োজনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গিয়েছেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় ছিলেন। একপর্যায়ে আবু উমাইরের অসুস্থতা আরও বৃদ্ধি পায় এবং তার মায়ের সামনেই সে মারা যায়।
পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি করছিল। উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাদের বললেন, 'আমি কথা বলার আগে আবু উমাইর সম্পর্কে আবু তালহার সাথে কেউ কিছু বলবেন না।' উম্মে সালামা মৃত সন্তানকে ঘরের এককোণে ঢেকে রাখলেন এবং স্বামীর জন্য খাবার তৈরি করলেন।
আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'বাবুর কী অবস্থা? কেমন আছে ও?' স্ত্রী জবাব দিলেন, 'তার শ্বাস-প্রশ্বাস শান্ত। আশা করছি, আরামেই আছে।'
আবু তালহা ছেলেকে দেখার জন্য তার দিকে যেতে চাইলেন। স্ত্রী নিষেধ করলেন এবং বললেন, 'বাবু চুপ করে আছে, তাই নড়াবেন না।' উম্মে সালামা তাঁর সামনে রাতের খাবার পরিবেশন করলেন। আবু তালহা আহারপর্ব শেষ করে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হলেন। স্বামী-স্ত্রী যা করে তারা তাই করলেন।
উম্মে সালামা যখন বুঝতে পারলেন, স্বামী পরিতৃপ্ত ও প্রশান্ত হয়েছেন, তখন বললেন, 'হে আবু তালহা, কেউ যদি কিছু সময়ের জন্য কাউকে কোনো জিনিস ব্যবহার করতে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে তা ফেরত চায়, তাহলে ওই ব্যক্তির কি উচিত নয়, মূল মালিককে তা ফিরিয়ে দেওয়া?'
আবু তালহা বললেন, 'অবশ্যই মূল মালিককে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।' স্ত্রী বললেন, 'আপনি আমাদের প্রতিবেশীর ব্যাপারে আশ্চর্য হবেন!' আবু তালহা বললেন, 'কী হয়েছে তাদের?'
স্ত্রী বললেন, 'কেউ তাদের কোনো বস্তু ব্যবহার করার জন্য দিয়েছিল। জিনিসটি অনেক দিন তাদের কাছে ছিল। এখন তারা মনে করছে যে, জিনিসটির মালিক তারাই। মূল মালিক জিনিসটি ফেরত চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকার করছে।' আবু তালহা বললেন, 'তাদের আচরণ কতই-না নিকৃষ্ট!'
এরপর উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা মৃত সন্তানকে বের করে আনলেন এবং আবু তালহার সামনে রেখে বললেন, 'এই আপনার পুত্রসন্তান, আল্লাহর পক্ষ থেকে কিছু সময়ের জন্য আপনাকে দেওয়া হয়েছিল। কিছুক্ষণ পূর্বে তিনি তাঁর জিনিসটি নিয়ে গেছেন। সুতরাং আপনার ছেলে আল্লাহর কাছে (জীবনের বরাদ্দ সময়টুকু বুঝে নিয়ে) পৌঁছে গেছে।'
এ কথা শুনে আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু আঁতকে উঠলেন। বললেন, 'আল্লাহর কসম, এই রাতের ধৈর্যে তুমি আমার চেয়ে মর্যাদাবান হয়েছ।' তারপর তিনি উঠে গিয়ে সন্তানকে গোসল করিয়ে কাফন-দাফন সম্পন্ন করলেন। সকালবেলা বিষয়টি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানালে তিনি তাদের উভয়ের জন্য বরকতের দুআ করেন। সে রাতের মিলনে আল্লাহ তাআলা তাদের এমন বরকত দান করেন যে, উম্মে সালামার গর্ভে আবু তালহার আরেকজন পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নাম রাখলেন 'আবদুল্লাহ'। এই আবদুল্লাহর ঔরসে নয় জন সন্তান জন্মগ্রহণ করেন, তাদের প্রত্যেকেই কুরআন কারিমের হাফিজ হয়েছিলেন।
📄 দাওস গোত্র
তুফাইল বিন আমর। দাওস গোত্রের সম্মানিত নেতা। দাওস গোত্রের সবাই ছিল তাঁর অনুগত। বিশেষ প্রয়োজনে একদিন তিনি মক্কায় গেলেন। কুরাইশ নেতৃবৃন্দ তাঁকে দেখে জিজ্ঞাসা করল, 'কে তুমি?' তিনি বললেন, 'আমি দাওস গোত্রের নেতা তুফাইল বিন আমর।'
তারা বলল, 'এখানে একজন লোক আছে, সে নিজেকে নবি দাবি করে। আপনি তার সাথে বসা এবং তার কথা শোনা থেকে দূরে থাকবেন। কেননা, সে জাদুকর। যদি তার কথা শুনেন, তাহলে আপনি নির্বুদ্ধি হয়ে যাবেন।
ইসলামগ্রহণের পর এ ঘটনা সম্পর্কে তুফাইল বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আল্লাহর কসম, তারা আমাকে লোকটি সম্পর্কে ভয় দেখাতেই থাকল। ফলে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, তার কথা শুনব না, তার সাথে কথা বলব না। তার কথা যেন আমার কানে না আসে, সে জন্য আমি কানে তুলার ঢিপি দিয়েছিলাম। এভাবেই কিছুদিন গেল। একদিন আমি কাবার দিকে গেলাম। দেখলাম, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবার পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছেন। আমি তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিছু কথা আমাকে শুনিয়ে দিলেন। সেই কথাগুলো এতটাই সুন্দর ও হৃদয়কাড়া ছিল যে, আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমি মনে মনে বললাম, 'এটা কেমন ব্যাপার! আল্লাহর কসম, আমি তো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন একজন মানুষ। সুন্দরের উপর কোনো অসুন্দর লুকিয়ে থাকে না। সুতরাং লোকটি কী বলে, তা শুনতে আমাকে কেউ বাধা দিতে পারবে না। যদি তাঁর মাঝে কোনো কল্যাণ থাকে, তা হলে সেগুলো গ্রহণ করব। আর যদি অকল্যাণ থাকে, তা হলে সেগুলো পরিহার করব।'
তারপর আমি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। ইতোমধ্যে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ শেষ করলেন। তিনি বাড়ির দিকে ফিরে যাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে অনুসরণ করে চললাম। যখন তিনি বাড়িতে প্রবেশ করলেন, আমিও তাঁর সাথে প্রবেশ করলাম এবং বললেন, 'হে মুহাম্মদ, আপনার কওম আমাকে এই ধরনের কথাবার্তা বলেছে। আল্লাহর কসম, তারা আমাকে আপনার ব্যাপারে এমনভাবে ভয় দেখিয়েছে যে, আমি তুলা দিয়ে কান বন্ধ করে রেখেছি, যাতে আপনার কথা না শুনতে পাই। কিন্তু যেভাবেই হোক, আমি আপনার সুন্দর কিছু কথা শুনেছি। এবার আপনি আপনার ব্যাপারটা খুলে বলুন।'
তাঁর কথা শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব খুশি হলেন। নবিজি তাঁর সামনে ইসলাম উপস্থাপন করলেন। তারপর পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করে শোনালেন। ফলে তুফাইল নিজের অবস্থা সম্পর্কে ভাবতে লাগলেন। প্রতিদিন তো এমনভাবে দিন অতিবাহিত হচ্ছে, যা আল্লাহ থেকে তাকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। সে তো পাথরের পূজা করছে, যাকে আহ্বান করলে সে শোনে না, ডাকলে সাড়া দেয় না; একপর্যায়ে তাঁর নিকট সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেল।
তুফাইল ইসলামগ্রহণের পরিণাম নিয়ে ভাবতে লাগলেন। কীভাবে তিনি নিজের দ্বীন পরিবর্তন করবেন! পূর্বপুরুষদের দ্বীন কীভাবে ছেড়ে দেবেন! লোকজন তাঁকে কী বলবে! তাঁর অতীতজীবন, অর্জিত সম্পদ, পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব সবকিছু তছনছ হয়ে যাবে। তুফাইল চুপচাপ ভাবতে লাগলেন। তুলনা করতে থাকলেন তাঁর ইহকাল ও পরকালের মাঝে। একপর্যায়ে পার্থিব মোহ ছুড়ে ফেলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন, আমি শিগগিরই সত্য দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত হব; যার খুশি হওয়ার সে খুশি হবে, যার নাখোশ হওয়ার সে নাখোশ হবে। যদি সৃষ্টিকর্তা সন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে পৃথিবীবাসীর নাখোশি দিয়ে কীইবা হবে! বেশকিছু সময় চিন্তাভাবনার পর তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং সত্য দ্বীনের পক্ষে সাক্ষ্য দিলেন। তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমি আমার গোত্রের সম্মানী ও অনুসরণীয় ব্যক্তি। আমি নিজ গোত্রে ফিরে যাব এবং তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহ্বান করব।'
তুফাইল বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মক্কা থেকে বের হলেন এবং ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে খুব দ্রুত গোত্রের উদ্দেশে রওয়ানা হলেন। গোত্রের নিকট পৌঁছালে তার বৃদ্ধ পিতা এগিয়ে এলেন। তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'বাবা, এখন থেকে আমি আপনার সাথে নেই, আপনি আমার সাথে নেই।' পিতা বললেন, 'কেন বাবা?' তিনি বললেন, 'আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনের অনুসারী হয়ে গেছি।'
পিতা বললেন, 'বেটা, আমার দ্বীন তো সেটিই যা তোমার দ্বীন।' তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু পিতার এমন অপ্রত্যাশিত বক্তব্যে খুবই আপ্লুত হলেন, যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। তিনি বললেন, 'তা হলে যান, গোসল করে পবিত্র কাপড় পরিধান করে আমার কাছে আসুন। আমি যা শিখেছি তা আপনাকে শিখাব।'
তাঁর পিতা গোসল করে পবিত্র কাপড় পরিধান করে এলেন। তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাধ্যমে তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর বাড়ির দিকে গেলে তার স্ত্রী তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বরণ করে নিলেন। তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'এখন আমার কাছ থেকে দূরে থাকো। আমার সাথে তোমার এবং তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।' স্ত্রী বলল, 'আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক! কেন? কী হয়েছে?' তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'ইসলাম আমার ও তোমার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেছে। কেননা, আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনের অনুসারী হয়ে গেছি।' স্ত্রী বলল, 'তবে তো আমার দ্বীন সেটিই যা আপনার দ্বীন।'
তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'তা হলে যাও, পবিত্র হয়ে আমার কাছে ফিরে এসো।' স্ত্রী চলে গেলেন, কিন্তু তার অন্তরে ভয় চেপে বসল; প্রতিমা-পূজা ত্যাগ করলে দেবদেবি সন্তানদের কোনো ক্ষতি করে বসে কিনা! তিনি স্বামীর কাছে ফিরে এসে বললেন, 'আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক! আপনি কি সন্তানদের ব্যাপারে প্রতিমা “জুশ-শিরা”কে ভয় করছেন?' তারা এই জুশ-শিরা প্রতিমার পূজা করত। তারা বিশ্বাস করত, জুশ-শিরার পূজা ছেড়ে দিলে নিজে বা সন্তান-সন্ততি বিপদে আক্রান্ত হবে।
তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আমি এই দায়িত্ব নিচ্ছি, জুশ-শিরা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।' সুতরাং সে চলে গেল এবং গোসল করে ফিরে এল। এরপর স্বামীর হাতে তিনিও ইসলাম গ্রহণ করলেন। এরপর তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর গোত্রে ঘুরে ঘুরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকলেন। তাদের বৈঠকখানাগুলোতে যেতেন, রাস্তায় দাঁড়াতেন। কিন্তু তারা প্রতিমাপূজা ত্যাগ করতে অস্বীকার করল। ফলে তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু ক্রোধান্বিত হয়ে আবারও মক্কায় গেলেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে হাজির হয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, দাওস গোত্র অবাধ্যতা করেছে, অস্বীকার করেছে। হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আল্লাহর কাছে তাদের বিরুদ্ধে বদদুআ করুন।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি তাঁর দু-হাত আকাশের দিকে উঠালেন। তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু মনে মনে ভাবলেন, দাওস গোত্র ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মায়া ভরা জবানে উচ্চারিত হলো- اللَّهُمَّ اهْدِ دَوْسًا اللَّهُمَّ اهْدِ دَوْসًا। হে আল্লাহ, দাওস গোত্রকে হেদায়াত দাও। হে আল্লাহ, দাওস গোত্রকে হেদায়াত দাও।
তারপর তুফাইল বিন আমরের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'তোমার জাতির কাছে ফিরে যাও। তাদের ইসলামের দিকে ডাকো, তাদের সাথে নম্র আচরণ করো।' তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু ফিরে গেলেন। তারপর খুব অল্পদিনেই দাওস গোত্রের প্রায় সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেন।
তুফাইল বিন আমর। দাওস গোত্রের সম্মানিত নেতা। দাওস গোত্রের সবাই ছিল তাঁর অনুগত। বিশেষ প্রয়োজনে একদিন তিনি মক্কায় গেলেন। কুরাইশ নেতৃবৃন্দ তাঁকে দেখে জিজ্ঞাসা করল, 'কে তুমি?'
তিনি বললেন, 'আমি দাওস গোত্রের নেতা তুফাইল বিন আমর।'
তারা বলল, 'এখানে একজন লোক আছে, সে নিজেকে নবি দাবি করে। আপনি তার সাথে বসা এবং তার কথা শোনা থেকে দূরে থাকবেন। কেননা, সে জাদুকর। যদি তার কথা শুনেন, তাহলে আপনি নির্বুদ্ধি হয়ে যাবেন।
ইসলামগ্রহণের পর এ ঘটনা সম্পর্কে তুফাইল বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আল্লাহর কসম, তারা আমাকে লোকটি সম্পর্কে ভয় দেখাতেই থাকল। ফলে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, তার কথা শুনব না, তার সাথে কথা বলব না। তার কথা যেন আমার কানে না আসে, সে জন্য আমি কানে তুলার ঢিপি দিয়েছিলাম। এভাবেই কিছুদিন গেল। একদিন আমি কাবার দিকে গেলাম। দেখলাম, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবার পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছেন। আমি তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিছু কথা আমাকে শুনিয়ে দিলেন। সেই কথাগুলো এতটাই সুন্দর ও হৃদয়কাড়া ছিল যে, আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমি মনে মনে বললাম, 'এটা কেমন ব্যাপার! আল্লাহর কসম, আমি তো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন একজন মানুষ। সুন্দরের উপর কোনো অসুন্দর লুকিয়ে থাকে না। সুতরাং লোকটি কী বলে, তা শুনতে আমাকে কেউ বাধা দিতে পারবে না। যদি তাঁর মাঝে কোনো কল্যাণ থাকে, তা হলে সেগুলো গ্রহণ করব। আর যদি অকল্যাণ থাকে, তা হলে সেগুলো পরিহার করব।'
তারপর আমি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। ইতোমধ্যে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ শেষ করলেন। তিনি বাড়ির দিকে ফিরে যাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে অনুসরণ করে চললাম। যখন তিনি বাড়িতে প্রবেশ করলেন, আমিও তাঁর সাথে প্রবেশ করলাম এবং বললেন, 'হে মুহাম্মদ, আপনার কওম আমাকে এই ধরনের কথাবার্তা বলেছে। আল্লাহর কসম, তারা আমাকে আপনার ব্যাপারে এমনভাবে ভয় দেখিয়েছে যে, আমি তুলা দিয়ে কান বন্ধ করে রেখেছি, যাতে আপনার কথা না শুনতে পাই। কিন্তু যেভাবেই হোক, আমি আপনার সুন্দর কিছু কথা শুনেছি। এবার আপনি আপনার ব্যাপারটা খুলে বলুন।'
তাঁর কথা শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব খুশি হলেন। নবিজি তাঁর সামনে ইসলাম উপস্থাপন করলেন। তারপর পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করে শোনালেন। ফলে তুফাইল নিজের অবস্থা সম্পর্কে ভাবতে লাগলেন। প্রতিদিন তো এমনভাবে দিন অতিবাহিত হচ্ছে, যা আল্লাহ থেকে তাকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। সে তো পাথরের পূজা করছে, যাকে আহ্বান করলে সে শোনে না, ডাকলে সাড়া দেয় না; একপর্যায়ে তাঁর নিকট সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেল।
তুফাইল ইসলামগ্রহণের পরিণাম নিয়ে ভাবতে লাগলেন। কীভাবে তিনি নিজের দ্বীন পরিবর্তন করবেন! পূর্বপুরুষদের দ্বীন কীভাবে ছেড়ে দেবেন! লোকজন তাঁকে কী বলবে! তাঁর অতীতজীবন, অর্জিত সম্পদ, পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব সবকিছু তছতছ হয়ে যাবে। তুফাইল চুপচাপ ভাবতে লাগলেন। তুলনা করতে থাকলেন তাঁর ইহকাল ও পরকালের মাঝে। একপর্যায়ে পার্থিব মোহ ছুড়ে ফেলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন, আমি শিগগিরই সত্য দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত হব; যার খুশি হওয়ার সে খুশি হবে, যার নাখোশ হওয়ার সে নাখোশ হবে। যদি সৃষ্টিকর্তা সন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে পৃথিবীবাসীর নাখোশি দিয়ে কীইবা হবে!
বান্দার সম্পদ ও রিজিক, সুস্থতা ও অসুস্থতা, পদপদবি ও মানমর্যাদা, এমনকি জীবন-মরণও উপরওয়ালার হাতে। তাই উপরওয়ালা খুশি থাকলে পার্থিব ক্ষতির কোনো পরোয়া নেই। আল্লাহ তাআলা যাকে ভালোবাসেন, তার উপর কেউ ক্রোধান্বিত হোক, তার থেকে দূরে সরে থাকুক অথবা তাকে নিয়ে কেউ উপহাস করুক, তাতে কোনো কিছু যায়-আসে না।
বেশকিছু সময় চিন্তাভাবনার পর তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং সত্য দ্বীনের পক্ষে সাক্ষ্য দিলেন। তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমি আমার গোত্রের সম্মানী ও অনুসরণীয় ব্যক্তি। আমি নিজ গোত্রে ফিরে যাব এবং তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহ্বান করব।'
তুফাইল বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মক্কা থেকে বের হলেন এবং ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে খুব দ্রুত গোত্রের উদ্দেশে রওয়ানা হলেন। গোত্রের নিকট পৌঁছালে তার বৃদ্ধ পিতা এগিয়ে এলেন।
তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'বাবা, এখন থেকে আমি আপনার সাথে নেই, আপনি আমার সাথে নেই।'
পিতা বললেন, 'কেন বাবা?'
তিনি বললেন, 'আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনের অনুসারী হয়ে গেছি।'
পিতা বললেন, 'বেটা, আমার দ্বীন তো সেটিই যা তোমার দ্বীন।'
তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু পিতার এমন অপ্রত্যাশিত বক্তব্যে খুবই আপ্লুত হলেন, যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। তিনি বললেন, 'তা হলে যান, গোসল করে পবিত্র কাপড় পরিধান করে আমার কাছে আসুন। আমি যা শিখেছি তা আপনাকে শিখাব।'
তাঁর পিতা গোসল করে পবিত্র কাপড় পরিধান করে এলেন। তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাধ্যমে তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর বাড়ির দিকে গেলে তার স্ত্রী তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বরণ করে নিলেন।
তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'এখন আমার কাছ থেকে দূরে থাকো। আমার সাথে তোমার এবং তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।'
স্ত্রী বলল, 'আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক! কেন? কী হয়েছে?'
তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'ইসলাম আমার ও তোমার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেছে। কেননা, আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনের অনুসারী হয়ে গেছি।'
স্ত্রী বলল, 'তবে তো আমার দ্বীন সেটিই যা আপনার দ্বীন।'
তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'তা হলে যাও, পবিত্র হয়ে আমার কাছে ফিরে এসো।'
স্ত্রী চলে গেলেন, কিন্তু তার অন্তরে ভয় চেপে বসল; প্রতিমা-পূজা ত্যাগ করলে দেবদেবি সন্তানদের কোনো ক্ষতি করে বসে কিনা! তিনি স্বামীর কাছে ফিরে এসে বললেন, 'আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক! আপনি কি সন্তানদের ব্যাপারে প্রতিমা “জুশ-শিরা”কে ভয় করছেন?' তারা এই জুশ-শিরা প্রতিমার পূজা করত। তারা বিশ্বাস করত, জুশ-শিরার পূজা ছেড়ে দিলে নিজে বা সন্তান-সন্ততি বিপদে আক্রান্ত হবে।
তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আমি এই দায়িত্ব নিচ্ছি, জুশ-শিরা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।' সুতরাং সে চলে গেল এবং গোসল করে ফিরে এল। এরপর স্বামীর হাতে তিনিও ইসলাম গ্রহণ করলেন।
এরপর তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর গোত্রে ঘুরে ঘুরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকলেন। তাদের বৈঠকখানাগুলোতে যেতেন, রাস্তায় দাঁড়াতেন। কিন্তু তারা প্রতিমাপূজা ত্যাগ করতে অস্বীকার করল। ফলে তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু ক্রোধান্বিত হয়ে আবারও মক্কায় গেলেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে হাজির হয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, দাওস গোত্র অবাধ্যতা করেছে, অস্বীকার করেছে। হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আল্লাহর কাছে তাদের বিরুদ্ধে বদদুআ করুন।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি তাঁর দু-হাত আকাশের দিকে উঠালেন। তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু মনে মনে ভাবলেন, দাওস গোত্র ধ্বংস হয়েছে।
কিন্তু মেঘ না চাইতে বৃষ্টিপাতের মতো নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মায়া ভরা জবানে উচ্চারিত হলো- اللَّهُمَّ اهْدِ دَوْسًا اللَّهُمَّ اهْدِ دَوْسًا . হে আল্লাহ, দাওস গোত্রকে হেদায়াত দাও। হে আল্লাহ, দাওস গোত্রকে হেদায়াত দাও। তারপর তুফাইল বিন আমরের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'তোমার জাতির কাছে ফিরে যাও। তাদের ইসলামের দিকে ডাকো, তাদের সাথে নম্র আচরণ করো।' তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু ফিরে গেলেন। তারপর খুব অল্পদিনেই দাওস গোত্রের প্রায় সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেন।