📄 রাসুলের প্রতি জমিনের ভালোবাসা
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগের এক খ্রিষ্টান। সে ইসলাম গ্রহণ করে সুরা বাকারা ও সুরা আলে-ইমরান পাঠ করল। লোকটি পড়ালেখা জানত। ফলে কখনো কখনো সে রাসুলের লেখার দায়িত্ব পালন করত। হঠাৎ একদিন সে খ্রিষ্টধর্মে ফিরে যায় এবং খ্রিষ্টানদের সাথে মিলিত হয়। তারপর থেকে সে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানে অসৌজন্যমূলক কথা বলতে লাগল এবং কুরআন কারিমের ব্যাপারে কথা উঠাল— ‘মুহাম্মদ কেবল তা-ই জানে, যা আমি লিখে দিয়েছি’।
তার এসব জঘন্য কাজে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসন্তুষ্ট হয়ে বদদুআ করলেন— اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ آيَةً। হে আল্লাহ, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও।
এর কিছুদিন পরই আল্লাহ তাআলা তাকে মৃত্যুর ঘাটে পৌঁছে দেন। তার সাথিরা তাকে দাফন করল; কিন্তু ভোরে দেখা গেল এক বিস্ময়কর ঘটনা। তারা দেখল, জমিন (কবর) তাকে বাইরে ছুঁড়ে ফেলেছে!
তার সাথিরা বলাবলি করতে লাগল, ‘এটা মুহাম্মদ এবং তার সাথিদের কাজ। তাদের দল ত্যাগ করার কারণে আমাদের সাথিকে কবর থেকে বাইরে ফেলে রেখেছে!’ তারা আরও গভীর করে পুনরায় কবর খনন করে তাকে দাফন করল। পরদিন সকালবেলা কবরের কাছে গিয়ে দেখল, বিস্ময়করভাবে আবারও জমিন তাকে বাইরে ফেলে রেখেছে!
এবারও তারা বলতে লাগল, 'এটা নিশ্চয় মুহাম্মদ ও তার সাথিদের কাজ। তাদের দল ত্যাগ করার কারণে আমাদের সাথিকে কবর থেকে বাইরে ফেলে রেখেছে!' শেষবারের মতো তারা অনেক মেহনত করল। আরও গভীর করে কবর খনন করে তাকে দাফন করল; কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার! সকালবেলা দেখল, আবারও জমিন তাকে বাইরে ছুড়ে ফেলেছে!
একপর্যায়ে তারা নিশ্চিত হলো, এটা কোনো মানুষের কাজ নয়। ফলে তারা ওই হতভাগার লাশ ওভাবেই ফেলে চলে যায়। লাশ জমিনে পড়ে থাকল। কুকুর পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তাতে পেশাব করত। লাশের উপর মাছি ভনভন করত। বিভিন্ন ধরনের পাখি লাশ ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছিল।
সেই লোকের মতো বিদ্রুপকারীদের ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সান্ত্বনা ও সাহস দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন- إِنَّا كَفَيْنَاكَ الْمُسْتَهْزِئِينَ। বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে আমিই আপনার জন্য যথেষ্ট। [সুরা হিজর : ৯৫]
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগের এক খ্রিস্টান। সে ইসলাম গ্রহণ করে সুরা বাকারা ও সুরা আলে-ইমরান পাঠ করল। লোকটি পড়ালেখা জানত। ফলে কখনো কখনো সে রাসুলের লেখার দায়িত্ব পালন করত। হঠাৎ একদিন সে খ্রিষ্টধর্মে ফিরে যায় এবং খ্রিষ্টানদের সাথে মিলিত হয়। তারপর থেকে সে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানে অসৌজন্যমূলক কথা বলতে লাগল এবং কুরআন কারিমের ব্যাপারে কথা উঠাল— ‘মুহাম্মদ কেবল তা-ই জানে, যা আমি লিখে দিয়েছি’।
তার এসব জঘন্য কাজে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসন্তুষ্ট হয়ে বদদুআ করলেন— اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ آيَةً . হে আল্লাহ, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও।
এর কিছুদিন পরই আল্লাহ তাআলা তাকে মৃত্যুর ঘাটে পৌঁছে দেন। তার সাথিরা তাকে দাফন করল; কিন্তু ভোরে দেখা গেল এক বিস্ময়কর ঘটনা। তারা দেখল, জমিন (কবর) তাকে বাইরে ছুঁড়ে ফেলেছে!
তার সাথিরা বলাবলি করতে লাগল, ‘এটা মুহাম্মদ এবং তার সাথিদের কাজ। তাদের দল ত্যাগ করার কারণে আমাদের সাথিকে কবর থেকে বাইরে ফেলে রেখেছে!’ তারা আরও গভীর করে পুনরায় কবর খনন করে তাকে দাফন করল। পরদিন সকালবেলা কবরের কাছে গিয়ে দেখল, বিস্ময়করভাবে আবারও জমিন তাকে বাইরে ফেলে রেখেছে!
এবারও তারা বলতে লাগল, 'এটা নিশ্চয় মুহাম্মদ ও তার সাথিদের কাজ। তাদের দল ত্যাগ করার কারণে আমাদের সাথিকে কবর থেকে বাইরে ফেলে রেখেছে!'
শেষবারের মতো তারা অনেক মেহনত করল। আরও গভীর করে কবর খনন করে তাকে দাফন করল; কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার! সকালবেলা দেখল, আবারও জমিন তাকে বাইরে ছুড়ে ফেলেছে!
একপর্যায়ে তারা নিশ্চিত হলো, এটা কোনো মানুষের কাজ নয়। ফলে তারা ওই হতভাগার লাশ ওভাবেই ফেলে চলে যায়। লাশ জমিনে পড়ে থাকল। কুকুর পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তাতে পেশাব করত। লাশের উপর মাছি ভনভন করত। বিভিন্ন ধরনের পাখি লাশ ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছিল।
সেই লোকের মতো বিদ্রুপকারীদের ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সান্ত্বনা ও সাহস দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন- إِنَّا كَفَيْنَاكَ الْمُسْتَهْزِئِينَ. বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে আমিই আপনার জন্য যথেষ্ট। [সুরা হিজর : ৯৫]
📄 বনু নাজিরের গাদ্দারি
মদিনায় তিনটি ইহুদি গোত্র ছিল—বনু কুরাইজাহ, বনু নাজির ও বনু কাইনুকা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাদের মাঝে চুক্তি হয়েছিল, 'দিয়্যতসহ (রক্তপণসহ) বিভিন্ন বিষয়ে পরস্পরকে সাহায্য করবে।'
উক্ত চুক্তির কারণে একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকজন সাহাবিকে নিয়ে ইহুদিগোত্র বনু নাজিরের নিকট গেলেন। তাদের নিকট গিয়েছেন বনু আমের গোত্রের দুজন নিহত ব্যক্তির রক্তপণ আদায়ে সাহায্য চাওয়ার জন্য। রাসুলের সাহাবি আমর বিন উমাইয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু দুজন ব্যক্তিকে ভুলবশত হত্যা করেছিলেন।
এ দিকে নিহত দুই ব্যক্তির গোত্র এবং মুসলমানদের মাঝে মৈত্রিচুক্তি ছিল। তাই এই রক্তপণের বিকল্প কোনো পথও ছিল না। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনু নাজিরের নিকট রক্তপণ আদায়ে সহযোগিতার প্রস্তাব পেশ করলে ইহুদিরা বলল, 'হে আবুল কাসিম, অবশ্যই আপনাকে আমরা সাহায্য করব।'
কিন্তু ইহুদিরা ছিল স্বভাবতই গাদ্দার। তারা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একটি দেয়ালের ছায়ায় বসিয়ে কোথাও চলে গেল। মনে হচ্ছিল, তারা সাহায্যের অর্থ সংগ্রহ করতে কোথাও গিয়েছে। কিন্তু না, তারা দূরে গিয়ে গোপন ফন্দি আঁটল, 'তোমরা মুহাম্মদকে হত্যা করার জন্য এমন সুন্দর অবস্থায় আর কখনো পাবে না; কে আছ, যে দেয়ালে উঠে সেখান থেকে তার উপর পাথর ছুড়ে ফেলবে এবং তার থেকে আমাদের মুক্তি দেবে?'
এই জঘন্য কাজের জন্য আমর বিন জাহহাশ নামের একব্যক্তি নিজেকে উপস্থাপন করে বলল, 'আমি প্রস্তুত।' সে পাথর নিক্ষেপ করে নবিজিকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেয়ালের উপর উঠল। এ দিকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের নিয়ে দেয়ালের ছায়ায় বসে আছেন।
এরই মধ্যে আসমানি সংবাদ চলে এল। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বন্ধুকে বনু নাজিরের ইহুদিদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানিয়ে দিলেন। ফলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব দ্রুত সেখান থেকে উঠে মদিনার দিকে ফিরে যান। সাহাবিগণ ইহুদিদের অপেক্ষায় সেখানেই বসে রইলেন। তাঁরা ভাবলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রয়োজন সারতে গেছেন, হয়ত এখনই ফিরে আসবেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আসতে অনেক বিলম্ব দেখে সাহাবিগণ নবিজিকে খুঁজতে লাগলেন। তখন মদিনা থেকে আগত একলোকের সাথে তাঁদের সাক্ষাৎ হলো। সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি কি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছ?' লোকটি বলল, 'আমি তাঁকে মদিনায় প্রবেশ করতে দেখেছি।'
এভাবে নবিজির ফিরে যাওয়ায় সাহাবিগণ খুব বিস্মিত হলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে জিজ্ঞাসা করলেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, এভাবে হঠাৎ ফিরে আসার কারণ কী ছিল?' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐশী সংবাদ, ইহুদিদের গাদ্দারি ও ষড়যন্ত্রের কথা সাহাবিদের বিস্তারিত বললেন।
পরবর্তী সময়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও বনু নাজিরের মাঝে যেসব যুদ্ধ হওয়ার তা হয়েছে। একপর্যায়ে তাদের অবরোধ করা হয় এবং মদিনা থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মদিনায় তিনটি ইহুদি গোত্র ছিল—বনু কুরাইজাহ, বনু নাজির ও বনু কাইনুকা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাদের মাঝে চুক্তি হয়েছিল, 'দিয়্যতসহ (রক্তপণসহ) বিভিন্ন বিষয়ে পরস্পরকে সাহায্য করবে।'
উক্ত চুক্তির কারণে একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকজন সাহাবিকে নিয়ে ইহুদিগোত্র বনু নাজিরের নিকট গেলেন। তাদের নিকট গিয়েছেন বনু আমের গোত্রের দুজন নিহত ব্যক্তির রক্তপণ আদায়ে সাহায্য চাওয়ার জন্য। রাসুলের সাহাবি আমর বিন উমাইয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু দুজন ব্যক্তিকে ভুলবশত হত্যা করেছিলেন।
এ দিকে নিহত দুই ব্যক্তির গোত্র এবং মুসলমানদের মাঝে মৈত্রীচুক্তি ছিল। তাই এই রক্তপণের বিকল্প কোনো পথও ছিল না। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনু নাজিরের নিকট রক্তপণ আদায়ে সহযোগিতার প্রস্তাব পেশ করলে ইহুদিরা বলল, 'হে আবুল কাসিম, অবশ্যই আপনাকে আমরা সাহায্য করব।'
কিন্তু ইহুদিরা ছিল স্বভাবতই গাদ্দার। তারা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একটি দেয়ালের ছায়ায় বসিয়ে কোথাও চলে গেল। মনে হচ্ছিল, তারা সাহায্যের অর্থ সংগ্রহ করতে কোথাও গিয়েছে। কিন্তু না, তারা দূরে গিয়ে গোপন ফন্দি আঁটল, 'তোমরা মুহাম্মদকে হত্যা করার জন্য এমন সুন্দর অবস্থায় আর কখনো পাবে না; কে আছ, যে দেয়ালে উঠে সেখান থেকে তার উপর পাথর ছুড়ে ফেলবে এবং তার থেকে আমাদের মুক্তি দেবে?'
এই জঘন্য কাজের জন্য আমর বিন জাহহাশ নামের একব্যক্তি নিজেকে উপস্থাপন করে বলল, 'আমি প্রস্তুত।' সে পাথর নিক্ষেপ করে নবিজিকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেয়ালের উপর উঠল। এ দিকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের নিয়ে দেয়ালের ছায়ায় বসে আছেন।
এরই মধ্যে আসমানি সংবাদ চলে এল। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বন্ধুকে বনু নাজিরের ইহুদিদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানিয়ে দিলেন। ফলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব দ্রুত সেখান থেকে উঠে মদিনার দিকে ফিরে যান। সাহাবিগণ ইহুদিদের অপেক্ষায় সেখানেই বসে রইলেন। তাঁরা ভাবলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রয়োজন সারতে গেছেন, হয়ত এখনই ফিরে আসবেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আসতে অনেক বিলম্ব দেখে সাহাবিগণ নবিজিকে খুঁজতে লাগলেন। তখন মদিনা থেকে আগত একলোকের সাথে তাঁদের সাক্ষাৎ হলো। সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি কি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছ?' লোকটি বলল, 'আমি তাঁকে মদিনায় প্রবেশ করতে দেখেছি।'
এভাবে নবিজির ফিরে যাওয়ায় সাহাবিগণ খুব বিস্মিত হলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে জিজ্ঞাসা করলেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, এভাবে হঠাৎ ফিরে আসার কারণ কী ছিল?' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐশী সংবাদ, ইহুদিদের গাদ্দারি ও ষড়যন্ত্রের কথা সাহাবিদের বিস্তারিত বললেন।
পরবর্তী সময়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও বনু নাজিরের মাঝে যেসব যুদ্ধ হওয়ার তা হয়েছে। একপর্যায়ে তাদের অবরোধ করা হয় এবং মদিনা থেকে বহিষ্কার করা হয়।
📄 আবু হুরায়রার মা
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় সাহাবি। তাঁর মা ছিলেন প্রতিমা পূজারি। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সর্বদা তাঁর মাকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহ্বান করতেন আর তাঁর মা অস্বীকৃতি জানাতেন।
একদিন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর মাকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহ্বান করলেন। মা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলেন না; বরং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে এমন কিছু কথা শুনালেন, যা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে খুব অপ্রিয় ছিল।
মায়ের মুখে নবিজির ব্যাপারে অপ্রীতিকর কথা শুনে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কান্না শুরু করলেন। কাঁদতে কাঁদতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি আমার মাকে প্রতিনিয়ত ইসলামের প্রতি আহ্বান করতাম আর তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানাতেন। আজও যখন তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলাম, তখন তিনি আপনার ব্যাপারে খুব বাজে কথা বলেছেন, এর জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে। আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আমার মাকে হেদায়াত দান করেন।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআ করলেন- اللَّهُمَّ اهْدِ أُمَّ أَبِي هُرَيْرَةً। হে আল্লাহ, আবু হুরায়রার মাকে হেদায়াত দাও।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুআর সুসংবাদ নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। বাড়ি পৌঁছে ঘরে ঢুকার জন্য দরজায় নক করলে তাঁর মা বললেন, 'আবু হুরায়রা, একটু অপেক্ষা করো।' বাহির থেকে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু পানির কলকলে আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, তাঁর মা গোসল করছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু দরজার বাইরে অপেক্ষা করতে লাগলেন।
তাঁর মা গোসল সেরে কাপড় পরিধান করে দরজা খুলে দিয়ে বললেন, 'হে আবু হুরায়রা, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।'
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং খুশিতে কেঁদে ফেললেন। সাথে সাথে এই সুসংবাদ নিয়ে নবিজির নিকট গিয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, সুসংবাদ গ্রহণ করুন, আল্লাহ আপনার দুআ কবুল করেছেন এবং আমার মাকে হেদায়াত দান করেছেন।'
এই সংবাদে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও খুশি হলেন। তিনি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন। তারপর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন। আবু হুরায়রা আরও বেশি কল্যাণের প্রতি আগ্রহী হলেন। তাই তিনি বললেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে এবং আমার মাকে মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয় বানিয়ে দেন এবং আমাদের নিকট তাদের প্রিয় বানিয়ে দেন।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআ করলেন- اللَّهُمَّ حَبَّبْ عُبَيْدَكَ هَذَا يَعْنِي أَبَا هُرَيْرَةَ وَأُمَّهُ إِلَى عِبَادِكَ الْمُؤْمِنِينَ وَحَبِّبْ إِلَيْهِمُ الْمُؤْمِنِينَ। হে আল্লাহ, তোমার এই বান্দা (আবু হুরায়রা) এবং তার মাকে মুমিনদের কাছে প্রিয় বানিয়ে দাও এবং তাদের কাছে মুমিনদের প্রিয় বানিয়ে দাও।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'এরপর থেকে এমন কোনো মুমিন ছিল না, যে আমার কথা শুনেছে বা আমাকে দেখেছে অথচ আমাকে ভালোবাসেনি।'
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় সাহাবি। তাঁর মা ছিলেন প্রতিমা পূজারি। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সর্বদা তাঁর মাকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহ্বান করতেন আর তাঁর মা অস্বীকৃতি জানাতেন।
একদিন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর মাকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহ্বান করলেন। মা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলেন না; বরং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে এমন কিছু কথা শুনালেন, যা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে খুব অপ্রিয় ছিল।
মায়ের মুখে নবিজির ব্যাপারে অপ্রীতিকর কথা শুনে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কান্না শুরু করলেন। কাঁদতে কাঁদতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি আমার মাকে প্রতিনিয়ত ইসলামের প্রতি আহ্বান করতাম আর তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানাতেন। আজও যখন তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলাম, তখন তিনি আপনার ব্যাপারে খুব বাজে কথা বলেছেন, এর জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে। আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আমার মাকে হেদায়াত দান করেন।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআ করলেন- اللَّهُمَّ اهْدِ أُمَّ أَبِي هُرَيْرَةً. হে আল্লাহ, আবু হুরায়রার মাকে হেদায়াত দাও।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুআর সুসংবাদ নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। বাড়ি পৌঁছে ঘরে ঢুকার জন্য দরজায় নক করলে তাঁর মা বললেন, 'আবু হুরায়রা, একটু অপেক্ষা করো।' বাহির থেকে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু পানির কলকলে আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, তাঁর মা গোসল করছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু দরজার বাইরে অপেক্ষা করতে লাগলেন।
তাঁর মা গোসল সেরে কাপড় পরিধান করে দরজা খুলে দিয়ে বললেন, 'হে আবু হুরায়রা, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।'
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং খুশিতে কেঁদে ফেললেন। সাথে সাথে এই সুসংবাদ নিয়ে নবিজির নিকট গিয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, সুসংবাদ গ্রহণ করুন, আল্লাহ আপনার দুআ কবুল করেছেন এবং আমার মাকে হেদায়াত দান করেছেন।'
এই সংবাদে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও খুশি হলেন। তিনি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন। তারপর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন। আবু হুরায়রা আরও বেশি কল্যাণের প্রতি আগ্রহী হলেন। তাই তিনি বললেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে এবং আমার মাকে মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয় বানিয়ে দেন এবং আমাদের নিকট তাদের প্রিয় বানিয়ে দেন।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআ করলেন- اللَّهُمَّ حَبَّبْ عُবিَدَكَ هَذَا يَعْنِي أَبَا هُرَيْرَةَ وَأُمَّهُ إِلَى عِبَادِكَ الْمُؤْمِنِينَ وَحَبِّبْ إِلَيْهِمُ الْمُؤْمِنِينَ. হে আল্লাহ, তোমার এই বান্দা (আবু হুরায়রা) এবং তার মাকে মুমিনদের কাছে প্রিয় বানিয়ে দাও এবং তাদের কাছে মুমিনদের প্রিয় বানিয়ে দাও।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'এরপর থেকে এমন কোনো মুমিন ছিল না, যে আমার কথা শুনেছে বা আমাকে দেখেছে অথচ আমাকে ভালোবাসেনি।'
📄 আবু তালহা এবং তাঁর স্ত্রী
উম্মে সালামা আবু তালহাকে বিয়ে করেন। আল্লাহ তাদের একজন পুত্রসন্তান দান করেন। তার নাম ছিল আবু উমাইর। আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু পুত্রকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও আবু উমাইরকে ভালোবাসতেন।
একদিনের ঘটনা। শিশুরা খেলা করছিল। তাদের সাথে আবু উমাইরও ছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। হঠাৎ নবিজি আবু উমাইরকে দেখলেন। তিনি দেখলেন, আবু উমাইর তার সঙ্গে থাকা একটি পাখি নিয়ে খেলছে। পাখিটির নাম ছিল নুগাইর। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাথে কৌতুক করে বললেন- يَا أَبَا عُمَيْر مَا فَعَلَ النُّغَيْرِ। হে আবু উমাইর, কী করছে নুগাইর?
কিছুদিন পরের ঘটনা। আবু উমাইর খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত বিচলিত হয়ে যান। অসুখ একসময় তীব্র আকার ধারণ করে। এ দিকে আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো প্রয়োজনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গিয়েছেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় ছিলেন। একপর্যায়ে আবু উমাইরের অসুস্থতা আরও বৃদ্ধি পায় এবং তার মায়ের সামনেই সে মারা যায়।
পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি করছিল। উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাদের বললেন, 'আমি কথা বলার আগে আবু উমাইর সম্পর্কে আবু তালহার সাথে কেউ কিছু বলবেন না।' উম্মে সালামা মৃত সন্তানকে ঘরের এককোণে ঢেকে রাখলেন এবং স্বামীর জন্য খাবার তৈরি করলেন।
আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'বাবুর কী অবস্থা? কেমন আছে ও?' স্ত্রী জবাব দিলেন, 'তার শ্বাস-প্রশ্বাস শান্ত। আশা করছি, আরামেই আছে।'
আবু তালহা ছেলেকে দেখার জন্য তার দিকে যেতে চাইলেন। স্ত্রী নিষেধ করলেন এবং বললেন, 'বাবু চুপ করে আছে, তাই নড়াবেন না।' উম্মে সালামা তাঁর সামনে রাতের খাবার পরিবেশন করলেন। আবু তালহা আহারপর্ব শেষ করে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হলেন। স্বামী-স্ত্রী যা করে তারা তাই করলেন।
উম্মে সালামা যখন বুঝতে পারলেন, স্বামী পরিতৃপ্ত ও প্রশান্ত হয়েছেন, তখন বললেন, 'হে আবু তালহা, কেউ যদি কিছু সময়ের জন্য কাউকে কোনো জিনিস ব্যবহার করতে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে তা ফেরত চায়, তাহলে ওই ব্যক্তির কি উচিত নয়, মূল মালিককে তা ফিরিয়ে দেওয়া?'
আবু তালহা বললেন, 'অবশ্যই মূল মালিককে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।' স্ত্রী বললেন, 'আপনি আমাদের প্রতিবেশীর ব্যাপারে আশ্চর্য হবেন!' আবু তালহা বললেন, 'কী হয়েছে তাদের?'
স্ত্রী বললেন, 'কেউ তাদের কোনো বস্তু ব্যবহার করার জন্য দিয়েছিল। জিনিসটি অনেক দিন তাদের কাছে ছিল। এখন তারা মনে করছে যে, জিনিসটির মালিক তারাই। মূল মালিক জিনিসটি ফেরত চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকার করছে।'
আবু তালহা বললেন, 'তাদের আচরণ কতই-না নিকৃষ্ট!'
এরপর উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা মৃত সন্তানকে বের করে আনলেন এবং আবু তালহার সামনে রেখে বললেন, 'এই আপনার পুত্রসন্তান, আল্লাহর পক্ষ থেকে কিছু সময়ের জন্য আপনাকে দেওয়া হয়েছিল। কিছুক্ষণ পূর্বে তিনি তাঁর জিনিসটি নিয়ে গেছেন। সুতরাং আপনার ছেলে আল্লাহর কাছে (জীবনের বরাদ্দ সময়টুকু বুঝে নিয়ে) পৌঁছে গেছে।'
এ কথা শুনে আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু আঁতকে উঠলেন। বললেন, 'আল্লাহর কসম, এই রাতের ধৈর্যে তুমি আমার চেয়ে মর্যাদাবান হয়েছ।' তারপর তিনি উঠে গিয়ে সন্তানকে গোসল করিয়ে কাফন-দাফন সম্পন্ন করলেন। সকালবেলা বিষয়টি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানালে তিনি তাদের উভয়ের জন্য বরকতের দুআ করেন। সে রাতের মিলনে আল্লাহ তাআলা তাদের এমন বরকত দান করেন যে, উম্মে সালামার গর্ভে আবু তালহার আরেকজন পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নাম রাখলেন 'আবদুল্লাহ'। এই আবদুল্লাহর ঔরসে নয় জন সন্তান জন্মগ্রহণ করেন, তাদের প্রত্যেকেই কুরআন কারিমের হাফিজ হয়েছিলেন।
উম্মে সালামা আবু তালহাকে বিয়ে করেন। আল্লাহ তাদের একজন পুত্রসন্তান দান করেন। তার নাম ছিল আবু উমাইর। আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু পুত্রকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও আবু উমাইরকে ভালোবাসতেন।
একদিনের ঘটনা। শিশুরা খেলা করছিল। তাদের সাথে আবু উমাইরও ছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। হঠাৎ নবিজি আবু উমাইরকে দেখলেন। তিনি দেখলেন, আবু উমাইর তার সঙ্গে থাকা একটি পাখি নিয়ে খেলছে। পাখিটির নাম ছিল নুগাইর। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাথে কৌতুক করে বললেন- يَا أَبَا عُمَيْر مَا فَعَلَ النُّغَيْرِ. হে আবু উমাইর, কী করছে নুগাইর?
কিছুদিন পরের ঘটনা। আবু উমাইর খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত বিচলিত হয়ে যান। অসুখ একসময় তীব্র আকার ধারণ করে। এ দিকে আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো প্রয়োজনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গিয়েছেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় ছিলেন। একপর্যায়ে আবু উমাইরের অসুস্থতা আরও বৃদ্ধি পায় এবং তার মায়ের সামনেই সে মারা যায়।
পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি করছিল। উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাদের বললেন, 'আমি কথা বলার আগে আবু উমাইর সম্পর্কে আবু তালহার সাথে কেউ কিছু বলবেন না।' উম্মে সালামা মৃত সন্তানকে ঘরের এককোণে ঢেকে রাখলেন এবং স্বামীর জন্য খাবার তৈরি করলেন।
আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'বাবুর কী অবস্থা? কেমন আছে ও?' স্ত্রী জবাব দিলেন, 'তার শ্বাস-প্রশ্বাস শান্ত। আশা করছি, আরামেই আছে।'
আবু তালহা ছেলেকে দেখার জন্য তার দিকে যেতে চাইলেন। স্ত্রী নিষেধ করলেন এবং বললেন, 'বাবু চুপ করে আছে, তাই নড়াবেন না।' উম্মে সালামা তাঁর সামনে রাতের খাবার পরিবেশন করলেন। আবু তালহা আহারপর্ব শেষ করে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হলেন। স্বামী-স্ত্রী যা করে তারা তাই করলেন।
উম্মে সালামা যখন বুঝতে পারলেন, স্বামী পরিতৃপ্ত ও প্রশান্ত হয়েছেন, তখন বললেন, 'হে আবু তালহা, কেউ যদি কিছু সময়ের জন্য কাউকে কোনো জিনিস ব্যবহার করতে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে তা ফেরত চায়, তাহলে ওই ব্যক্তির কি উচিত নয়, মূল মালিককে তা ফিরিয়ে দেওয়া?'
আবু তালহা বললেন, 'অবশ্যই মূল মালিককে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।' স্ত্রী বললেন, 'আপনি আমাদের প্রতিবেশীর ব্যাপারে আশ্চর্য হবেন!' আবু তালহা বললেন, 'কী হয়েছে তাদের?'
স্ত্রী বললেন, 'কেউ তাদের কোনো বস্তু ব্যবহার করার জন্য দিয়েছিল। জিনিসটি অনেক দিন তাদের কাছে ছিল। এখন তারা মনে করছে যে, জিনিসটির মালিক তারাই। মূল মালিক জিনিসটি ফেরত চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকার করছে।' আবু তালহা বললেন, 'তাদের আচরণ কতই-না নিকৃষ্ট!'
এরপর উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা মৃত সন্তানকে বের করে আনলেন এবং আবু তালহার সামনে রেখে বললেন, 'এই আপনার পুত্রসন্তান, আল্লাহর পক্ষ থেকে কিছু সময়ের জন্য আপনাকে দেওয়া হয়েছিল। কিছুক্ষণ পূর্বে তিনি তাঁর জিনিসটি নিয়ে গেছেন। সুতরাং আপনার ছেলে আল্লাহর কাছে (জীবনের বরাদ্দ সময়টুকু বুঝে নিয়ে) পৌঁছে গেছে।'
এ কথা শুনে আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু আঁতকে উঠলেন। বললেন, 'আল্লাহর কসম, এই রাতের ধৈর্যে তুমি আমার চেয়ে মর্যাদাবান হয়েছ।' তারপর তিনি উঠে গিয়ে সন্তানকে গোসল করিয়ে কাফন-দাফন সম্পন্ন করলেন। সকালবেলা বিষয়টি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানালে তিনি তাদের উভয়ের জন্য বরকতের দুআ করেন। সে রাতের মিলনে আল্লাহ তাআলা তাদের এমন বরকত দান করেন যে, উম্মে সালামার গর্ভে আবু তালহার আরেকজন পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নাম রাখলেন 'আবদুল্লাহ'। এই আবদুল্লাহর ঔরসে নয় জন সন্তান জন্মগ্রহণ করেন, তাদের প্রত্যেকেই কুরআন কারিমের হাফিজ হয়েছিলেন।