📄 ফজিলতের মুহূর্তগুলো যেন হেলায় নষ্ট না হয়
অসীম করুণার আধার আল্লাহ তাআলা তো ইরশাদ করেছেন-
مَا يَفْعَلُ اللَّهُ بِعَذَا بِكُمْ إِنْ شَكَرْتُمْ وَآمَنْتُمْ )
তোমরা যদি কৃতজ্ঞ হয়ে যাও এবং (সত্যিকারভাবে) ঈমান আনো, তবে আল্লাহ তোমাদেরকে শাস্তি দিয়ে কী করবেন?! [সুরা নিসা: ১৪৭]
যে মহান সত্তা ডেকে ডেকে বলছেন তার দরবার হতে নিরাশ না হতে, বান্দা যদি তার রহমত হতে নিরাশ হয়ে যায়, তাহলে কত বড় অবাধ্যতা হবে! কত বড় অকৃতজ্ঞতার বিষয় হবে!
ফজিলতের মুহূর্তগুলো যেন হেলায় নষ্ট না হয় সুতরাং বাকি সময়গুলো আল্লাহর ইবাদতের মাঝে কাটানোর চেষ্টা করা উচিত। আজকের রাত রমজানের উনত্রিশতম রাত। হতে পারে এটি শবে কদরের রাত। হতে পারে এটিই এ বছরের রমজানের শেষ রাত। এ রাত আল্লাহর দরবারে হাজিরির রাত। এ রাত দরবারে ইলাহিতে অনুনয়-বিনয় করার রাত। এ রাত শোকর আদায়ের রাত। এ রাত ইসতেগফার ও ক্ষমাপ্রার্থনার রাত। এ গুরুত্বপূর্ণ রাতকে অর্থহীন-অন্যায় কাজ ও ব্যস্ততার মাঝে কাটানো থেকে যথাসম্ভব বেঁচে থাকুন।
বর্তমান সময়ে তো এই ফিতনার বিস্তার ঘটেছে যে, মানুষ রমজান মাসের এই শেষ রাতগুলোকে ঈদের প্রস্তুতিতে ব্যয় করে। বাজারে, দোকান-পাটে কাটায়। বাজারে তো গুনাহও হয়। রমজানের বরকতপূর্ণ রাত মানুষ কাটিয়ে দেয় গান-বাজনা শুনে! রমজানের মোবারক রজনী মানুষ কাটিয়ে দেয় বাজারে তর্ক-বিতর্ক আর পণ্যের মূল্য নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করে!
ভাই, এ তো এমন নির্বুদ্ধিতা যে, আল্লাহ তাআলা আসমান থেকে স্বর্ণের বারিধারা বর্ষণ করছেন আর আমরা তা এই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছি যে, আমার এর প্রয়োজন নেই। আমি পথে পড়ে থাকা ওই কংকরগুলো কুড়িয়ে নেব, ওগুলো সংগ্রহে সময় ব্যয় করব; ওগুলোর জন্যই তর্ক-বিবাদ, মারামারি করব।
নিঃসন্দেহে ঈদের দিন উত্তম পোশাক পরিধান করা সুন্নাত। আল্লাহর রাসুল ঈদের দিন উত্তম পোশাক পরিধান করতে বলেছেন। কিন্তু উত্তম পোশাকের উদ্দেশ্য কী? আপন সামর্থ্য অনুযায়ী যে পোশাক সর্বোত্তম, তা-ই পরিধান করো—এই হলো বিধান। উদ্দেশ্য এই নয় যে, ধার-কর্জ করে, ঘুষের টাকা দিয়ে, হারাম পন্থায় পয়সা উপার্জন করে তা দিয়ে উত্তম পোশাক কিনতে হবে। আপন স্ত্রী-সন্তানদের হারাম উপার্জনের পোশাকে সজ্জিত করতে হবে।
মাসআলা ছিল সুন্নাতের। ঈদের দিন আল্লাহপ্রদত্ত নিয়ামতের শোকরিয়াস্বরূপ আপন সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করা হলো সুন্নাত। কিন্তু এ উদ্দেশ্যে ধার-কর্জ করা, এ উদ্দেশ্যে মানুষের কাছে হাত পাতা, ঘুষ খাওয়া, ধোঁকা দিয়ে অন্যের অর্থ আত্মসাৎ করা; তারপর সে পয়সা দিয়ে সুন্নাত আদায়ে সচেষ্ট হওয়া—এর কোনো বৈধতা নেই। তদ্রূপ এ উদ্দেশ্যে ফজিলতের মুহূর্তগুলোকে অর্থহীন তর্ক-বিতর্কে ব্যয় করা, বাজারে সময় কাটানো নির্বুদ্ধিতা ছাড়া কিছুই নয়।
নিজের সামান্য উপার্জনে তুষ্ট থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পোশাকের ব্যবস্থা যদি করা হয়, তাতে আল্লাহ এত বরকত দেবেন, শোকরিয়ার বিনিময়ে এমন এমন পুরস্কার দান করবেন, যা শানদার অতি মূল্যবান পোশাকে পাওয়া যাবে না। হালাল অল্প হলেও তাতে আল্লাহ অনেক বরকত দান করেন। হারাম যত বেশিই হোক, তাতে কোনো বরকত নেই। হারামে কেবল অকল্যাণ আর অভিশাপ। হারামের কারণেই আসে অকল্যাণ, আসে রোগ-ব্যাধি, আসে দুর্যোগ-দুর্বিপাক। মানুষ বোঝে না এগুলোর নেপথ্য কারণ।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই সব নসিহতের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। শোকর ও ইসতেগফার, তাওবা ও দোয়ার ইহতেমাম করার তাওফিক দান করুন। জীবনের বাকি অংশটুকু তার সন্তুষ্টি অনুযায়ী কাটানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।