📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 প্রতিটি মুসলমানের প্রতি আল-কুরআনের তিনটি দাবি

📄 প্রতিটি মুসলমানের প্রতি আল-কুরআনের তিনটি দাবি


প্রতিটি মুসলমানের প্রতি কুরআন মাজিদের তিনটি হক ও দাবি রয়েছে।

এক. কুরআন তিলাওয়াত। তিলাওয়াত একটি স্বতন্ত্র ইবাদত, স্বতন্ত্র নেকি ও সাওয়াবের মাধ্যম এবং স্বতন্ত্র বরকতের উসিলা। প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য, প্রতিদিন সকালে কিছুক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত করে এরপর দৈনন্দিন কাজ শুরু করা। প্রতিদিন সামান্য হলেও তিলাওয়াত করা—এক পারা, আধা পারা, সোয়া পারা যতটুকু তাওফিক হয় তিলাওয়াতের মামুল ও নিয়ম বানিয়ে নিন।

কুরআনুল কারিমের দ্বিতীয় হক হচ্ছে কুরআন বোঝার চেষ্টা করা। আলহামদুলিল্লাহ, নির্ভরযোগ্য উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে কুরআনের বিভিন্ন তরজমা ও তাফসির-গ্রন্থ ইতিমধ্যে ছেপে প্রকাশিত হয়েছে। সম্ভব হলে কোনো নির্ভরযোগ্য আলিমের কাছে পড়ুন। সম্ভব না হলে নির্ভরযোগ্য কোনো তাফসিরগ্রন্থ ঘরে রেখে প্রতিদিন কিছু কিছু অধ্যয়ন করুন। আল্লাহ শোকর, আমার মুহতারাম আব্বাজানের হাতে আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত সহজবোধ্য তাফসির 'তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন' সংকলন করিয়েছেন। বেশ দীর্ঘ কলেবরের তাফসিরগ্রন্থ। অন্যান্য নির্ভরযোগ্য উলামায়ে কেরামেরও বিভিন্ন কিতাব প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিদিন এসব তাফসিরগ্রন্থ হতে কিছু কিছু অধ্যয়ন করুন।

এমন যেন না হয় যে, একটি কুরআন তরজমা কিনে বইয়ের তাকে রেখে দিলাম কিংবা মাঝে মধ্যে বিশেষ কোনো বিষয় জানার জন্য তা খুলে দেখলাম। বরং আমরা প্রতিদিন কিছু অংশ অধ্যয়নের অভ্যাস গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।

কুরআনুল কারিমের তৃতীয় হক হলো কুরআনের বিধান অনুযায়ী আমল করা। নিজে আমল সংশোধনের জন্য চেষ্টা করা, আল্লাহর কাছে তাওফিকও প্রার্থনা করা।

এই হলো মুসলমানের প্রতি কুরআনের তিনটি হক।

📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 প্রতিটি বিপদ এক একটি গায়বি সতর্কবাণী

📄 প্রতিটি বিপদ এক একটি গায়বি সতর্কবাণী


ভাই, প্রতিটি দুর্যোগ ও বিপদ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে গায়বি সতর্কবাণী। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—

﴿ وَهُمْ يَصْطَرِخُونَ فِيهَا رَبَّنَا أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ أَوَ لَمْ نُعَمِّرُكُمْ مَّا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَاءَكُمُ النَّذِيرُ فَذُوقُوا فَمَا لِلظَّلِمِينَ مِنْ نَّصِيرٍ ﴾

তারা তাতে (কেয়ামতের দিন) আর্তনাদ করে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে মুক্তি দান করুন, আমরা পূর্বে যে কাজ করতাম তা ছেড়ে ভালো কাজ করব। (উত্তরে তাদেরকে বলা হবে) আমি কী তোমাদেরকে এমন দীর্ঘ আয়ু দান করিনি যে, তখন কেউ সতর্ক হতে চাইলে সতর্ক হতে পারতে? এবং তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিল। সুতরাং এখন মজা ভোগ করো! কেননা, জালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই। [সুরা ফাতির: ৩৭]

নবীগণ আগমন করেছিলেন, নবীদের ওয়ারিসগণ এসেছিলেন। বুজুর্গানে দ্বীন ও দ্বীনের প্রচারকগণ তোমাদের কাছে এসে তোমাদের বুঝিয়েছিলেন। কিন্তু তোমরা সতর্ক হওনি। গাফলতের মাঝেই জীবন কাটিয়ে দিয়েছ। এখন সতর্ক হওয়ার সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। এখন ভোগ করো জাহান্নামের মর্মন্তুদ শাস্তি।

📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 রমজানের আলোকেই গড়ে তুলি আগামীর জীবন

📄 রমজানের আলোকেই গড়ে তুলি আগামীর জীবন


দ্বিতীয় নিবেদন এই যে, আসুন প্রতিজ্ঞা করি আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বিধি-বিধানের আলোকে গড়ে তুলব। আল্লাহ তাআলার দয়া ও অনুগ্রহে রমজান মাসে প্রত্যেকেরই কিছু ইবাদত করার তাওফিক হয়, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক হয়। এখন আরেকটু অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করি। আল্লাহ মাফ করুন, এমন যেন না হয় যে, রমজানও শেষ হলো, ঈমানও বিদায় নিল। এমন যেন না হয় যে, রমজানও শেষ হলো, নেক আমলের জজবা ও স্পৃহাও বিদায় নিল। রমজানের পরও যেন নেক আমলের এই স্পৃহা, গুনাহ পরিত্যাগের এই জজবা বাকি থাকে এই প্রতিজ্ঞা করে আমরা এ মজলিস ত্যাগ করব।

📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 আমার দৃষ্টিতে এই অধঃপতনের কারণ

📄 আমার দৃষ্টিতে এই অধঃপতনের কারণ


আজ আমরা মুসলমানরা যে বিপদ ও দুর্যোগে আক্রান্ত, আমার দৃষ্টিতে তার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে হারাম সম্পদ ভক্ষণ। ঘুষ, সুদ, অন্যায় পন্থায় অর্জিত সম্পদ, ধোঁকার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ। যে যেভাবে পারছে, অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করছে। এই হারাম ভক্ষণের শাস্তি আল্লাহ আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। আজ শবে কদরের এই মোবারক ক্ষণে আসুন সকলে প্রতিজ্ঞা করি, কখনো কোনো হারাম লোকমা মুখে দেবো না। সততার সঙ্গে হালাল পন্থায় যা অর্জিত হয়, তাতেই তুষ্ট ও সন্তুষ্ট থাকব। হারামের পথ যতই আকর্ষণীয় হোক, সম্পদ যত অধিকই হোক, নির্দ্বিধায় তা প্রত্যাখ্যান করব। আজ রাতে আল্লাহর কাছে তাওফিকও চাইব, তিনি যেন আমাদেরকে হারাম থেকে বেঁচে থাকার এবং হালালে তুষ্ট থাকার শক্তি দান করেন।

যদি আমরা এ কাজগুলো করতে পারি, তাহলে আমরা রমজানের ফায়েদা ও কল্যাণ, বরকত ও ফয়জান এবং নুর ও আলোকচ্ছটা লাভ করতে পারব, ইনশাআল্লাহ। আর যদি এভাবেই রমজান কেটে যায়, সাতাশ রমজান চলে গেল, কুরআন খতম হলো, দোয়া হলো, এরপর জীবনের সেই পূর্বের গতিধারা, আগের মতো হারাম কামাই, আগের মতো দ্বীনি বিষয়ে গাফলত, তাহলে তা হবে আল্লাহর সঙ্গে প্রতারণা। আল্লাহ মাফ করুন, এমন ভুল করবেন না। আসুন, আল্লাহর দরবারে হাজির হয়ে নিষ্ঠাপূর্ণ অন্তরে তাওবা করি এবং ভবিষ্যৎ জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালিত করার প্রতিজ্ঞা করে এ মজলিস থেকে উঠি। তাহলে ইনশাআল্লাহ, বাস্তবে এ রাত কল্যাণ, রহমত ও বরকতের রাতে পরিণত হবে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px