📄 তাওবা আজাবকে অপসারণ করে
সুতরাং আমাদের কর্তব্য খালিস দিলে তাওবা করা। দরবারে ইলাহিতে হাজির হয়ে অনুতপ্ত চিত্তে বলা,
“হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা নিজ সত্তার ওপর জুলুম করে ফেলেছি। আপনি যদি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি রহম না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অকৃতকার্যদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।³¹
হে আল্লাহ, হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা আপন নফস ও আত্মার ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন, আমাদের প্রতি দয়ার আচরণ না করেন, তাহলে তো নিঃসন্দেহে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব। আমরা অতীতে কৃত সকল গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ইসতেগফার করছি, আপনার দরবারে ক্ষমা ভিক্ষা চাইছি। আমরা প্রতিজ্ঞা করছি-ভবিষ্যতে আর কখনো আপনার অবাধ্য হব না, ভবিষ্যতে আর কখনো গুনাহ করব না। আপনি দয়া করে আমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ, আমাদের 'টুটাফাটা' রোজার বিনিময়েই আপনি আমাদের আপনার প্রতিশ্রুত 'তাকওয়া' দান করুন। হে আল্লাহ, আপনি তাওফিক দিন তাওবার ওপর অটল থাকার এবং তাকওয়ার জীবন গড়ার।”
এভাবে নিজের জন্য ও পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য তাওবা-ইসতেগফার করতে হবে। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সুন্নাত হলো, যদি সকলে মিলে অনুতপ্ত হয়ে সমবেতভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়, তাহলে তিনি আসন্ন আজাব ও শাস্তি প্রত্যাহার করে নেন। ইজতেমায়ি তাওবা ও রোনাজারির কারণে আজাব-গজব ফিরিয়ে নেওয়া সুন্নাতে ইলাহি ও রাব্বে কারিমের শাশ্বত নীতি। পবিত্র কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
﴿ فَلَوْلَا إِذْ جَاءَهُمْ بَأْسُنَا تَضَرَّعُوا )
অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার (পক্ষ হতে) আজাব এলো, তখন তারা কেন অনুনয়-বিনয় করল না? [সুরা আনআম: ৪৩]
অন্য এক আয়াতে হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের কওমের বিবরণে এসেছে,
﴿ فَلَوْلَا كَانَتْ قَرْيَةٌ آمَنَتْ فَنَفَعَهَا إِيْمَانُهَا إِلَّا قَوْمَ يُونُسَ لَمَّا آمَنُوا كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِي الْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَمَتَّعْنَهُمْ إِلَى حِينٍ )
তবে কোনো জনপদ কেন এমন হলো না যে, তারা এমন এক সময় ঈমান আনত, যখন ঈমান তাদের উপকার করতে পারত? অবশ্য ইউনুসের কওম এ রকম ছিল। তারা যখন ঈমান আনল, তখন আমি পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনাকর শাস্তি তাদের থেকে তুলে নিলাম এবং তাদেরকে কিছুকাল পর্যন্ত জীবন ভোগ করতে দিলাম। [সুরা ইউনুস: ৯৮]
তো ভাই, মাহে রমজানের আরও কয়েকটি দিন বাকি আছে, রহমত ও বরকতের অমূল্য কিছু মুহূর্ত এখনও কাজে লাগানোর সুযোগ আছে, কদরের রাত এখনও বাকি আছে। সামনের যেকোনো রাতই শবে কদর হতে পারে। এজন্য প্রতিটি মুহূর্তের সর্বোচ্চ কদর করা উচিত। শবে কদরের তালাশ করা উচিত। আর শবে কদর না পেলাম তো কী হয়েছে! জনৈক অন্তজ্ঞানীর ভাষায়-
হর শব শবে কদর অস্ত অগর কদর বেদানি
মুমিনের জন্য প্রতিটি রজনী-ই শবে কদর, যদি কদর ও গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে।
টিকাঃ
৩১. সুরা আ'রাফ: ২৩।