📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 ইবাদতের তাওফিক একমাত্র আল্লাহর দান

📄 ইবাদতের তাওফিক একমাত্র আল্লাহর দান


শোকরের দ্বিতীয় দিক হলো আল্লাহ পাক এ রমজান মাসে আমাদেরকে আপন আপন সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু ইবাদত করার তাওফিক দিয়েছেন; রোজা রাখার, তারাবি পড়ার, কিছু নফল ইবাদত, জিকির-আজকার ও কুরআন তিলাওয়াতের তাওফিক দান করেছেন। আমাদের পরিচিত-অপরিচিত কত ব্যক্তি ও পরিবার এমন আছে যারা কল্যাণের মাস রমজান কবে এসেছে আর কীভাবে গত হয়ে গেছে—বলতেই পারবে না। রমজানের আগমন ও প্রস্থান, রহমত ও বরকতের ঘোষণা, মাগফিরাত ও নাজাতের পরোয়ানা তাদের হৃদয়জগতে কোনো আবেদন সৃষ্টি করেনি। আল্লাহ পাক যে আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেননি, রমজানের মহা ফজিলতপূর্ণ ইবাদত হতে মাহরূম করেননি, এটা আমাদের যোগ্যতাবলে উপার্জিত নয়; বরং দয়াময় আল্লাহর অনুগ্রহ-দান। তাই এর জন্যও আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করা কর্তব্য। এক শোকর রমজান নসিব হওয়ায়, আরেক শোকর রমজানে কিছু ইবাদত করার তাওফিক হওয়ায়। আমাদের কর্তব্য অন্তরের অন্তস্তল হতে আল্লাহর শোকর করা এবং জবানেও শোকরের কালিমা উচ্চারণ করা।

“হে আল্লাহ, এই রমজান নসিব হয়েছে আপনারই দয়া ও অনুগ্রহে, যা কিছু ইবাদতের তাওফিক হয়েছে তাও আপনার ফজল ও করমে। হে আল্লাহ, আপনি তাওফিক না দিলে কিছুই সম্ভব হতো না। আপনি হুকুম না করলে তো গাছের পাতাও নড়ে না; আপনার রেজা থাকলে কেউ ঠেকাতে পারে না। তাই হৃদয়ের গভীর থেকে, অন্তরের অন্তস্তল থেকে আপনার প্রদত্ত তাওফিকের শোকর আদায় করছি। হে আল্লাহ, আপনার এই অসীম রহমতের শোকর আদায়ের সামর্থ্য আমাদের নেই; আপনার শান অনুযায়ী শোকরের ভাষাও আমাদের জানা নেই। আমাদের এই টুটাফাটা ও ত্রুটিযুক্ত শোকরকেই আপনি দয়া করে কবুল করে নিন।”

📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 বন্দেগির হক কীভাবে আদায় করবে বান্দা?!

📄 বন্দেগির হক কীভাবে আদায় করবে বান্দা?!


তবে ভাই, বাস্তব কথা হচ্ছে, যত ইবাদতই করা হোক, বান্দার পক্ষে ইবাদতের হক আদায় করা কখনোই সম্ভব নয়। এক শোকরের ইবাদতের কথাই চিন্তা করুন। শোকরের হক আদায় করা কী সম্ভব? প্রতি মুহূর্তে আমরা শ্বাস নিচ্ছি, নিশ্বাস ফেলছি। অর্থাৎ প্রতি মুহূর্তের শ্বাস গ্রহণ ও নিশ্বাস ত্যাগের মাঝেই দুটি নিয়ামত। শুধু যদি শ্বাসের নিয়ামতের শোকর আদায় করা শুরু করি, আমার জীবনের সবগুলো শ্বাস-নিশ্বাসের শোকর ও কৃতজ্ঞতা আদায় করা সম্ভব হবে? আরও কত লক্ষ-কোটি বরং অগণিত নিয়ামত আল্লাহ আমাদের দান করেছেন। সেগুলোর শোকর কখন-কীভাবে আদায় করব?

📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 আমাদের শোকর তো ‘প্রতীকী কৃতজ্ঞতা’!

📄 আমাদের শোকর তো ‘প্রতীকী কৃতজ্ঞতা’!


কাজেই শোকর তো বাস্তব অর্থে আদায় করা সম্ভব নয়। হ্যাঁ, আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা ও কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতিস্বরূপ কিছু প্রতীকী কৃতজ্ঞতা পেশ করে থাকি। দুনিয়াতে আমরা দেখি, বড়দের সম্মাননায় ক্রেস্ট বা বিভিন্ন উপঢৌকন প্রদান করা হয়। এরপর বিনয়ের সঙ্গে বলা হয়, এ উপহার তো আপনার শান ও মর্যাদা হিসেবে কিছুই নয়; এ শুধু আমাদের পক্ষ হতে আপনার মর্যাদার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতীকী উপহার! ঠিক তেমনই আমাদের শোকরও আল্লাহর নিয়ামত ভোগের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতীকী কৃতজ্ঞতা-মাত্র। অন্যথায় শোকরের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত মহান আল্লাহ তাআলার শান অনুযায়ী কীভাবে আদায় করা সম্ভব?!

তো এ কথা আরজ করছিলাম যে, রমজানের এই শেষ দশকে আমাদের প্রথম কর্তব্য হলো রমজান নসিব হওয়ার এবং কিছু ইবাদতের তাওফিক হওয়ার কারণে বেশি বেশি আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করা।

📘 আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান 📄 ইবাদতের পরও তাওবা করা কর্তব্য

📄 ইবাদতের পরও তাওবা করা কর্তব্য


শোকরের পর এ সময়ের দ্বিতীয় বিশেষ কর্তব্য হচ্ছে অধিক পরিমাণে তাওবা ও ইসতেগফার করা।

তাওবা ও ইসতেগফার কেন করব?! তাওবা এজন্য করব যে, আমরা তো রমজানের হক ও দাবি রক্ষা করতে পারিনি। রোজা ও তারাবির যথাযথ হক আদায় করতে পারিনি। যে রোজার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাকওয়ার মহাসম্পদ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তেমন জানদার রোজা রাখতে পারিনি। যে তারাবির বদলায় গুনাহ মাফের খোশখবরি এসেছে, তেমন প্রাণবন্ত তারাবি আদায় করতে পারিনি। টুটাফাটা কিছু ইবাদত হয়তো করেছি; কিন্তু বন্দেগির শান আদায় করতে পারিনি। তাই, আল্লাহর দরবারে অনুনয়-বিনয় করে তাওবা-ইসতেগফার করতে হবে।

“হে আল্লাহ, আপনার দান করা এই মহা মূল্যবান মুহূর্তগুলোকে আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। আপনি যে নিয়ামত দান করেছিলেন, তার কদর করতে পারিনি। রোজার হক আদায় করতে পারিনি, রোজার আদাবের প্রতি যত্নবান হতে পারিনি। তারাবির হক আদায় করতে পারিনি, খুশু-খুজুর সঙ্গে আপনার মর্জিমতো তারাবি পড়তে পারিনি। কুরআন তিলাওয়াতের হক আদায় করতে পারিনি, আপনার কালামের যে শান; তা রক্ষা করে তিলাওয়াত করতে পারিনি।

﴿جِئْنَا بِبِضَاعَةٍ مُزْجَةً فَأَوْفِ لَنَا الْكَيْلَ وَ تَصَدَّقُ عَلَيْنَا﴾

আমরা সামান্য কিছু পুঁজি নিয়ে এসেছি। আপনি আমাদেরকে পরিপূর্ণ রসদ দান করুন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন।²⁸

হে আল্লাহ, অতি সামান্য এই সামানা নিয়ে উপস্থিত হয়েছি আপনার দরবারে; আমাদের পুঁজি যদিও সীমিত, আপনার দয়ার ভান্ডার তো অফুরান! আমাদের তুচ্ছ এই সামানার প্রতি দৃষ্টিপাত না করে আপনার অফুরন্ত দয়ার প্রতি দৃষ্টি দিয়ে আপনার প্রতি দয়ার আচরণ করুন। রোজা রাখার জন্য আপনি যে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন, তারাবি আদায়ের যে ফজিলত আপনি নির্ধারিত করেছেন, মাহে রমজানের ইবাদতের জন্য আপনি যে বিশেষ দানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; আয় আল্লাহ, তার সবকিছুই আমাদের প্রয়োজন। সবকিছু আপনি আমাদের দান করুন। আমরা তুচ্ছ পুঁজি নিয়ে এসেছি, আপনি আমাদের রসদ পূর্ণ মাত্রায় দিন এবং আমাদেরকে আরও দান করুন। হে আল্লাহ, আমরা আপনার প্রতিশ্রুত পুরস্কার লাভের হকদার ও উপযুক্ত তো নই; কিন্তু আপনার পুরস্কার লাভের মোহতাজ ও মুখাপেক্ষী তো অবশ্যই। আমাদের মাগফিরাত ও ক্ষমা প্রয়োজন, নাজাত ও মুক্তির পরোয়ানা প্রয়োজন; আমাদের প্রাপ্য ও উপযুক্ততার প্রতি দৃষ্টিপাত না করে আমাদের মুখাপেক্ষিতার প্রতি দৃষ্টি দিন। মাহে রমজানে যত রহমত ও বরকত আপনি রেখেছেন, যত পুরস্কার ও দানের ওয়াদা আপনি করেছেন, সব আমাদের দান করুন।

আয় আল্লাহ, আপনি রমজান দান করেছেন তাকওয়া অর্জনের জন্য। আমাদের ত্রুটিপূর্ণ এই রোজার বিনিময়েই আমাদের তাকওয়ার দৌলত দান করুন। গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন।”

এভাবে আমরা ইবাদতের তাওফিকের জন্য শোকরও করব, ইবাদতের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য তাওবা-ইসতেগফারও করব। যদি শোকরও আদায় করি, তাওবা-ইসতেগফারও করি-তাহলে পরম করুণাময় সত্তা আল্লাহ এত কারিম ও দয়াময় যে, তিনি আমাদের মাহরুম করবেন না। অসীম দয়াময় আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করে আমাদের সামান্য টুটাফাটা ইবাদতই কবুল করে নেবেন এবং অসামান্য আজর ও সাওয়াব দান করবেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px